ফন্ট সাইজ:
থিম:
মাফিয়া বাঁধন দ্যা সিআইডি অফিসার

৪০তম পর্ব

লেখক: Ahmed Badhon
​কলমে: আহমেদ বাঁধন
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)
​[৪০তম খণ্ড —
​রাত তখন আনুমানিক বারোটা। আকাশে কোনো চাঁদের দেখা নেই, কিন্তু মেঘমুক্ত নীলচে-কালো ক্যানভাসে অজস্র তারা জোনাকির মতো মিটিমিটি করে জ্বলছে। হিমেল ফুরফুরে বাতাস ধীর গতিতে বয়ে গিয়ে আশপাশের সবুজ গাছপালাকে এক মায়াবী সুরে দুলিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। চারপাশের এই চমৎকার ও স্নিগ্ধ পরিবেশ যে কারও মন ছুঁয়ে যাওয়ার কথা!
​কিন্তু রিয়ার মন আজ বড্ড অশান্ত, ভীষণ দিশেহারা।
​রিয়াদের বাড়িটি খুব বেশি বিশাল কোনো প্রাসাদ বা আলিশান ভিলা নয়, আবার খুব ছোটও নয়। শহরের এক নিরিবিলি মোড়ে সুদৃশ্য তিন তলা বাড়ি—একটি পরিপাটি মধ্যবিত্ত পরিবারের শান্ত নীড়। রিয়া এখন তার নিজের ঘরের অন্ধকার বারান্দায় নিঃশব্দে একাকী দাঁড়িয়ে আছে। তার দুটি চোখের কোণ বেয়ে অবিরত জল গড়িয়ে পড়ছে। নোনা জলে রিয়ার পুরো মুখ ভিজে একাকার!
​ভেতরের জমানো নীরব যন্ত্রণা আর চেপে রাখা কান্নার বেগ আজ রিয়া আর কিছুতেই সামলাতে পারছে না। নিজেকে আটকে রাখার হাজারো চেষ্টা সত্ত্বেও তার গলা চিরে চাপা ডুকরে ওঠার শব্দ বেরিয়ে আসতে চাইল।
​মনটা আজ কেন যে এত ব্যাকুল হয়ে উঠছে অন্য এক পুরুষের জন্য, তা রিয়া নিজেও ভেবে কুলিয়ে উঠতে পারছে না! ভাগ্যের কী চরম নির্মম পরিহাস—মেয়েটি ভালোবেসেছিল একজনকে, অথচ অনুভূতির ছলে খেলা হয়ে গেল অন্য কারও সাথে!
​রিয়ার সমস্ত স্মৃতি এক মুহূর্তেই ফিরে গেল পেছনের দিনগুলোতে। এতদিন রিয়া যার সাথে ফোনে, মেসেজে জীবনের হাজারো রঙিন গল্প শেয়ার করত, তাকে সে জানত 'আরিফ' নামে। সাদিকের বন্ধু আরিফ! রিয়ার সরল মনে দৃঢ় বিশ্বাস ছিল—সেই হয়তো আরিফ, সেই পুরুষটি যাকে রিয়া মনের অজান্তে ভালোবাসার আসনে বসিয়ে ফেলেছে!
​কিন্তু রিয়ার সেই রঙিন ভুল ভেঙে চুরমার হয়ে যায় সেদিন, যখন সে প্রথমবারের মতো সেই মানুষটির সরাসরি মুখোমুখি হয়! রিয়া স্তম্ভিত হয়ে আবিষ্কার করে—
আরিফ নামে যাকে সে ভালোবেসেছে, সে আসলে অন্য কেউ নয়! সে হলো সিআইডি ডিপার্টমেন্টের ভয়ংকর তেজস্বী ও কঠোর সিনিয়র ইন্সপেক্টর সাদিক!
​দুই বন্ধুর মধ্যে মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং নাকি রিয়ার অবুঝ মন—কোনটা এই জটিল গোলকধাঁধার জন্য দায়ী, তা কেউ জানে না! জীবনের প্রতিটা বাঁকেই মানুষ না বুঝে ভুল করে বসে, কিন্তু সেই ভুলের মাশুল যে এত ভারী আর বেদনাময় হবে—তা রিয়া স্বপ্নেও ভাবেনি।
​রিয়ার পুরো পরিবার বহু আগে থেকেই সাদিককে অত্যন্ত ভালোবাসে ও শ্রদ্ধা করে। সাদিককে তারা নিজেদের ছেলের মতো, হবু জামাইয়ের মতো স্নেহ করে অবাধে তাদের পরিবারে যাতায়াত করতে দিয়েছে। অথচ রিয়া যখন জানল সাদিকই সেই মানুষ—
তখন থেকেই অপরাধবোধ ও অভিমানের এক তীব্র আগুনে পুড়ে রিয়া সাদিকের থেকে নিজেকে পুরো গুটিয়ে নিয়েছে, সাদিককে ইগনোর করা শুরু করেছে!
​বারান্দায় দাঁড়িয়ে রিয়া কান্না সামলানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছিল। হঠাৎ সে অনুভব করল—তার ঠিক পেছনে কেউ একজন ছায়ার মতো গম্ভীর ভঙ্গিতে এসে দাঁড়িয়েছে! নিস্তব্ধ রাতের বাতাসে সেই চেনা পারফিউমের তীব্র মিষ্টি সুবাস ভেসে আসতেই রিয়ার হৃদস্পন্দন থমকে গেল!
​পেছনে ফিরে তাকানোর আগেই রিয়ার কান ঘেঁষে ভেসে এল এক অভিমানী, কড়া ও খাঁটি গলার শব্দ—
​"জি... কিছু বলবেন মিস রিয়া?!"
​রিয়া চমকে উঠে জলভরা চোখে দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে পেছনে ঘুরে তাকাল। সামনে গম্ভীর অবয়বে দাঁড়িয়ে আছেন সিআইডি সিনিয়র ইন্সপেক্টর সাদিক! রাতের অন্ধকারে সাদিকের চোখের ভেতরের জমাট বাঁধা রাগ, তীব্র কষ্ট আর অপমানের কাটা কাটা চাহনি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
​সাদিকের এই রাগ ও ক্ষোভ কিসের জন্য, তা বুঝতে রিয়ার বিন্দুমাত্র বাকি রইল না। কিন্তু রিয়া নিজেকে কঠোর প্রমাণের ব্যর্থ চেষ্টা করে রুক্ষ কন্ঠে বলে উঠল—
​"তা সব সময় কি কথা বলেই আপনার সামনে আসতে হবে নাকি?! এমনি এমনি আসা যাবে না... নাকি কোনো পারমিশন নিতে হবে?!"
​সাদিক এক চিলতে তেতো হাসল। তার গলার স্বর এবার আরও বিষাক্ত ও অভিমানী হয়ে উঠল—
​"তা কেন হবে বলুন?! আপনি তো মহীয়সী নারী! আপনার যা খুশি আপনি করবেন! আমার তো আপনার সামনে আসারই দরকার ছিল না... আমি আপনার সামনে না আসলেই তো আপনি সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন, তাই না?!"
​সাদিকের এই খোঁচা মারা কথা শুনে রিয়া ভেতর থেকে মারাত্মক কেঁপে উঠল। সে কোনো কথা না বাড়িয়ে একপ্রকার অপরাধী চোরের মতো সাদিকের পাশ কাটিয়ে রুমের দিকে ঢুকে যেতে চাইল।
​কিন্তু সাদিক কি এত সহজে তাকে ছেড়ে দেবে?!
​রিয়া পাশ কেটে যাওয়ার মুহূর্তেই সাদিক বাজপাখির মতো দ্রুততায় হাত বাড়িয়ে রিয়ার কোমল ফর্সা বাহুটা শক্ত করে নিজের দিকে হিঁচড়ে টেনে আনল! রিয়া এক ঝটকায় এসে সোজা আছড়ে পড়ল সাদিকের শক্ত চওড়া বুকের ওপর!
​সাদিকের পেশীবহুল হাতের বাঁধনে আবদ্ধ হয়ে রিয়া চটপট করে রেগে চিৎকার করে উঠল—
​"এটা কেমন ধরনের অসভ্যতা মিস্টার সিআইডি অফিসার?! অন-ডিউটি একজন অফিসার হয়ে আপনি একটা মেয়ের ওপর এভাবে শক্তি খাটাচ্ছেন?! ছাড়ুন বলছি... হাত ছাড়ুন আমার!"
​সাদিকের বুকের ভেতরটা রাগে আর চরম অভিমানে ধড়ফড় করে উঠল। সে রিয়ার মুখোমুখি এসে চোখের তারা দুটো দিয়ে রিয়ার দিকে স্থির নজরে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠল—
​"আমি অসভ্য?! বাহ্! খুব সুন্দর উপাধি দিলেন তো মিস রিয়া! আমি অসভ্য, আমি খারাপ, আমি বাজে! আর সেখানে আপনি কী?! আপনি তো আমাকে সভ্যতা আর ভদ্রতা শেখাবেন, তাই না?! কীভাবে একজনের বুকে মিথ্যে মায়াজাল বুনে তার সাথে নিখুঁত বেইমানি করতে হয়—তা তো আপনার চেয়ে ভালো কেউ জানে না! আপনারা ভালো মানুষ বোঝেন... আর আমাদের মতো খারাপ জাতের বলদদের মন নিয়ে ছ্যাঁক মারতে ভালোবাসেন, তাই তো?!"
​সাদিকের মুখের এই বিষাক্ত খোঁচা শোনামাত্রই রিয়ার ভেতরের আত্মসম্মানে আঘাত লাগল। সে নিজের হাত ছাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে রেগে গর্জে উঠল—
​"আমার হাত ছাড়ুন সাদিক সাহেব! আপনি কিন্তু এখন মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করছেন! আপনি একজন সিআইডি অফিসার হয়ে একটা অপরিচিত মেয়ের গায়ে এভাবে হাত দেওয়ার সাহস পান কোথায়?! লেভ ইয়োর হ্যান্ড অফ মি!"
​সাদিক এবার ক্ষোভে উন্মাদ হয়ে উঠল। সে রিয়ার বাহু দুটো আরও শক্ত করে আঁকড়ে ধরে নিজের মুখের একদম ইঞ্চিখানেক দূরত্বে রিয়াকে টেনে এনে হুংকার দিয়ে বলে উঠল—
​"কেন যেতে দেব আপনাকে?! শুনি?! আমার কথা তো এখনো শেষ হয়নি মিস রিয়া! বিগত কয়েক মাস ধরে আপনার অনবরত কলের উত্তর পেতে আমাকে যেভাবে কুকুর-বিড়ালের মতো ধরণা দিতে হয়েছে, তার জবাব কে দেবে?! আমি তো আপনাকে কত শত কল দিলাম... একটা কলও কেন রিসিভ করার প্রয়োজন মনে করেননি আপনি?! শুনি আপনার উত্তর?!"
​রিয়া নিজের কান্না চেপে মাথা উঁচু করে চিৎকার করে বলল—
​"আমার ইচ্ছা! আমি আপনার ফোন ধরব কি ধরব না—সেটা সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার! আপনি আমাকে জবাবদিহি চাওয়ার কে?! আপনি আমার কে হন যে সারাক্ষণ আপনার ফোন রিসিভ করে গদগদ করে কথা বলতে হবে আমার?!"
​'আপনি আমার কে হন'—এই চারটে শব্দ যেন সাদিকের বুকে ধারালো তলোয়ারের মতো গিয়ে বিঁধল।
​সাদিকের চোখ দুটো মুহূর্তে রক্তবর্ণ হয়ে উঠল। সে আর নিজের ভেতরে জমে থাকা হাজারো আবেগ আর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারল না। সে রিয়াকে এক ঝটকায় বারান্দার গ্রিলের সাথে চেপে ধরে শক্ত গলায় গর্জে উঠল—
​"ইচ্ছা হয় না তাই ধরেন না, তাই তো?! আপনি তো তা-ই বলবেন! তাহলে বিগত চার-পাঁচ মাস ধরে প্রতিদিন মাঝরাতে আপনার সাথে আমার যে হাজারো ঘণ্টার কথাবাক্স চলেছে, যে হাসি-কান্না আর ফিলিংস শেয়ারিং হয়েছে—সেগুলো কী ছিল রিয়া?! আমি কি আপনার কোনো ক্ষতি করেছিলাম?! আমি কি কোনো বাজে উদ্দেশ্যে আপনার সাথে কথা বলতাম?! তখন আপনার মনে হয়নি—আমি কে আপনার?! তখন আপনার মনে হয়নি আমাদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী?! আজ হুট করে অপরিচিত সাজছেন কোন মুখে, বলুন?!"
​রিয়া চোখ বন্ধ করে জল ফেলতে ফেলতে চিৎকার করে জবাব দিল—
​"আমি ইচ্ছা করে কোনো কিছু করিনি! আমি যাকে ভালোবেসেছিলাম, যার কণ্ঠের মায়ায় পড়েছিলাম—সে তো আপনি ছিলেন না সাদিক সাহেব! সে ছিল আপনার বন্ধু আরিফ! আমাদের মাঝে এক মারাত্মক মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়েছিল! আর আমি সেই ভুল বুঝতে পেরে সেই মিথ্যে সম্পর্কের ইতি টেনে দিয়েছি!"
​"হু দ্য হেল আর ইউ?!"
—সাদিকের কণ্ঠের গর্জনে বারান্দার বাতাস যেন কেঁপে উঠল!
​সাদিক রিয়ার থুতনি ধরে নিজের দিকে মুখ তুলে কঠোর গলায় বলল—
​"সম্পর্ক একা শেষ করার পারমিশন আপনাকে কে দিয়েছে রিয়া?! সম্পর্কটা কি কেবল আপনার একার ছিল?! এতে কি আমার কোনো মতামত বা অনুভূতি ছিল না?! ভালোবাসার আদান-প্রদান তো দুজনের মাঝেই হচ্ছিল! ভুল বোঝাবুঝি শুধু আপনার একার পক্ষে হচ্ছিল? আপনি কি জানতেন না আমি কে?! শুরু থেকেই তো আপনি আমার সাথেই কথা বলছিলেন, আমার ভালোবাসাতেই সাড়া দিচ্ছিলেন! তবে আজ কেন আমাকে পর করে দিয়ে অন্য কারও অজুহাত তুলে ধরে আমার বুকটা এভাবে কুপিয়ে কাটছেন?!"
​রিয়া ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে মাথা নেড়ে বলল—
"আমি বললাম তো... সবটা একটা ভুল ছিল! আমি আপনাকে ভালোবাসি না সাদিক সাহেব! আমি আপনাকে ভালোবাসি না! দ্যাটস দ্য ফাইনাল ট্রুথ!"
​'ভালোবাসি না'
শব্দ দুটো শোনামাত্রই সাদিকের চওড়া বুকের ভেতরে এক অসম্ভব যন্ত্রণাদায়ক চিলচিল ব্যথা শুরু হলো। এক লহমায় তার চোখের তারা থেকে রাজকীয় তেজ গায়েব হয়ে এক গভীর হাহাকার ভেসে উঠল!
​সাদিক এক মুহূর্ত চুপ থেকে, নিজের বুকের যন্ত্রণা চেপে ধরে রিয়ার চোখের পানে তাকিয়ে একদম নিচু, ভাঙা ও কান্নায় ভারী হয়ে যাওয়া গলায় ফিসফিসিয়ে বলে উঠল—
​"সাদিককে ভালোবাসেন না... তাই তো রিয়া?! আপনি ভালোবাসেন সেই আরিফকে?! আমার বন্ধু আরিফকে... তাই না?! যে আরিফের সাথে আপনি সাকুল্যে মাত্র দুই থেকে তিনবার সরাসরি দেখে কথা বলেছিলেন, সেই আরিফকে নাকি আপনি এক দেখাতেই ভালোবেসে ফেলেছেন?! আর এই দীর্ঘ চার-পাঁচ মাস ধরে যে সাদিক তার মনের প্রতিটি সত্য, প্রতিটি ফিলিংস, প্রতিটি স্বপ্ন আপনার সাথে ভাগ করে নিল, তার ভালোবাসার কোনো দাম নেই আপনার কাছে?!"
​সাদিক এক হাত দিয়ে নিজের বুক চেপে ধরে বিষাদময় এক হাসির সাথে বলতে লাগল—
​"যে সাদিকের অনুভূতির সাথে আপনি প্রতিদিন রাত জেগে নিজের ভালো লাগা আদান-প্রদান করেছিলেন, তাকে আপনি এত সহজে এক বাক্যে আতিথ্য থেকে বাদ দিয়ে দিলেন?! স্মৃতিগুলো তো আমার সাথে তৈরি হয়েছিল রিয়া! আরিফের সাথে তো আপনার কোনো অনুভূতি বা স্মৃতির লেনদেন ছিল না! তবে কীভাবে আপনি বললেন আরিফকে ভালোবাসেন আর সাদিক কেউ না?!"
​সাদিক রিয়ার গালে হাত রেখে ভিজে যাওয়া কন্ঠে কেঁপে কেঁপে বলে উঠল—
​"আসলে কী জানেন মিস রিয়া... আমি তো আরিফের মতো অত হ্যান্ডসাম নই, অত সুন্দর চকচকে গায়ের রং আমার নেই! আমি রোদে পুড়ে, সিআইডি ডিউটি করে চলা এক কালো, সাধারণ চাকুরিজীবী মানুষ! হয়তো আমার এই কালচে চেহারার সিআইডি পুলিশটাই আপনার পছন্দ হয়নি... সেই জন্যই কি আরিফের চটকদার চেহারার পেছনে ছুটে আমাকে ভালোবাসার যোগ্য মনে করলেন না, বলুন রিয়া?!"
​সাদিকের এই আত্মসম্মানে আঘাত লাগা করুণ ও নিঃস্ব স্বীকারোক্তি শুনে রিয়ার বুকটা যেন খাঁ খাঁ করে কেঁপে উঠল! রিয়া এক মুহূর্তের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। সাদিক তাকে এতটা ভালোবাসে, তার জন্য এতটা নিঃস্ব বোধ করছে
—তা রিয়ার কল্পনারও বাইরে ছিল!
​রিয়া নিজের গালের ওপর থেকে সাদিকের হাতটা সরিয়ে দিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে কাঁপা গলায় বলল—
​"এমন কিছুই নয় সাদিক সাহেব! আপনি অযথা কথা বাড়াচ্ছেন... আমার হাতটা ছাড়ুন! আমি আর আপনার কোনো কথার উত্তর দিতে প্রস্তুত নই... আমার আর ইচ্ছা নেই আপনার সাথে কথা বলার!"
​সাদিক রিয়ার হাত ছাড়লো না দিয়ে এক কদম পেছনে সরে দাঁড়াল। তার চোখে তখন ভালোবাসার বদলে ভেসে উঠেছে এক নির্মম, পাথর হয়ে যাওয়া অভিমান ও কষ্ট...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন