ফন্ট সাইজ:
থিম:
মাফিয়া বাঁধন দ্যা সিআইডি অফিসার

৪১তম পর্ব

লেখক: Ahmed Badhon
​কলমে: আহমেদ বাঁধন
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)
​[৪১তম খণ্ড —
​রাত তখন গভীর। বারান্দার হিমেল বাতাস আরও কিছুটা জোরালো হয়েছে। কান্নাভেজা শব্দে রিয়ার ভেতরের জমানো আকুতি বারান্দার নিস্তব্ধতা ছিঁড়ে বের হতে চাইলেও সে আপ্রাণ চেষ্টায় তা আটকে রাখে। কান্না করতে করতেই রিয়ার চোখ দুটো লালাভ হয়ে ওঠে। তার দিকে নিষ্পলক তাকিয়ে থাকা সিআইডি অফিসার সাদিক রিয়ার দিকে তাকিয়ে এবার নিজেকে সামলাতে না পেরে কিছুটা ক্ষোভ ও অভিমানী সুরে বলে উঠল—
​"আপনি যে নিজেকে এত বড় ভাবেন, বলুন তো আমার কাছে এমন কী নেই?! আমার কাছে তো সবই আছে! অফুরন্ত টাকা-পয়সা, পদমর্যাদা, ক্যারিয়ার—আমি তো একজন সফল সিআইডি অফিসার, বিজনেসম্যান! আর সেখানে আপনি আরিফকে পছন্দ করছেন কেন?! আপনি তো তার ব্যাপারে কিছুই জানেন না! সে আমার ফ্রেন্ড ঠিকই, কিন্তু আপনি তো জানেন না সে একটা সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে! তার তো একটা গার্লফ্রেন্ডও আছে—বৃষ্টি নাম মেয়েটার! সে একজন বেকার ছেলে, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। সে লড়াই করছে জীবনের সাথে! আর যদি বাঁধন মির্জার কথা বলেন, সে একজন প্রতিষ্ঠিত ও প্রভাবশালী মাফিয়া ডন, বিবাহিত মানুষ। কিন্তু আমার কথা যদি বলি, আপনাকে কেন আমাকে আপনার কাছে অবহেলিত মনে হবে?!"
​সাদিকের মুখে আত্মসম্মানে আঘাত লাগার দৃশ্য এবং তার যুক্তিগুলো শুনে রিয়ার হঠাৎ মনে হলো সে হয়তো নিজেকে খুব বেশি লোভি ও বিবেকহীন হিসেবে জাহির করে ফেলল। নিজের এই হীনমন্যতায় রিয়া কষ্ট পেয়ে আবার চোখ দিয়ে জল নামাল। সে ভেজা চোখে সাদিকের উদ্দেশ্যে কঠিন গলায় বলে উঠল—
​"আপনি... আপনি আসলে একজন বিকৃত চরিত্রের মানুষ! আপনি কখনো কারো মন বুঝবেন না, বুঝতেই পারবেন না!"
​কথাটি বলেই রিয়া আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না। কান্নায় ভেঙে পড়ে দ্রুত নিজের রুমের দিকে দৌড়ে চলে গেল। আর সাদিক নিস্তব্ধ রাতের অন্ধকারে বারান্দার এক কোণে যেন এক জীবন্ত পাথরের মূর্তির মতো নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইল। তার চোখ দুটি তখন এক অদ্ভুত নীরবতায় আচ্ছন্ন।
​পরদিন সকাল। কেরানীগঞ্জের 'নূর প্যালেসে' যথারীতি প্রতিদিনের মতো চেঁচামেচি আর ঝগড়ার শব্দেই সকালটার সূচনা হলো। প্রতিদিনের সেই চেনা নাটক—একপাশে রাগী, বেপরোয়া মাফিয়া সম্রাট বাঁধন মির্জা, আর অন্যপাশে তেজস্বী সিআইডি অফিসার নূর!
​তবে আজ নূর একটু ভিন্ন পথ অবলম্বন করল। সে জানে, এই গরম মেজাজের মাফিয়ার সাথে গরম দেখিয়ে কাজ হয় না। নরম আবদার ছাড়া এই শয়তান লোকটাকে বাগে আনা অসম্ভব। তাই নূর একটু নিজের রাগ চেপে রেখে বাঁধনের দিকে এগিয়ে গেল।
​বাঁধন তখন ড্রেসিং টেবিলের বিশাল আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শার্টের বোতাম লাগাচ্ছিল। তার বিশাল আলমারিটা ভরা প্রায় বিশ হাজারের বেশি শুধু কালো রঙের শার্ট দিয়ে! কেউ বিশ্বাস করবে কি না জানে না, কিন্তু বাঁধনের সবচেয়ে প্রিয় রঙ এই 'ব্ল্যাক'। আর তার সবচেয়ে অপছন্দের রঙ হলো 'রেড'। কারণ এই লাল রঙের পেছনে তার অতীতের এক চরম রক্তাক্ত ও ভয়ংকর ট্র্যাজেডি লুকিয়ে আছে।
 নুর নরম স্বরে বলে উঠলো,,,
,, আমি একটু নিজের বাড়ি যেতে চাই...!!
​বাঁধন নিজের কালো শার্ট ও কোটের কলার ঠিক করছিল। নূরের পায়ের আওয়াজ ও নরম সুর শুনে সে আয়নার মধ্য দিয়েই নূরের দিকে না তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলে উঠল—
​"কেন?! আমার সাথে থাকতে ভালো লাগে না তোর? সারাদিন বাপের বাড়ি বাপের বাড়ি করিস কেন খালি?!"
​নূর নিজের বিরক্তি চেপে মুখে একটা কৃত্রিম মিষ্টি ভাব এনে বলল—
"আরে না! তা কেন হতে যাবে?! আমি তো শুধু কয়েকদিনের জন্যই যেতে চাচ্ছি... তারপর আবার চলে আসব।"
​বাঁধন এবার হাতের ঘড়ির বেল্টটা আঁটসাঁট করে বাঁধল। তারপর ধীরে ধীরে নূরের দিকে ঘুরে দাঁড়াল। তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক বিষাক্ত অথচ নরম একটা মিশ্র হাসি, যাতে কোনো প্রত্যক্ষ রাগের আভাস নেই। সে একদম শান্ত কন্ঠে বলল—
​"ঠিক আছে, সমস্যা নেই। তবে আমি নিজে তোকে ড্রপ করে আসব। আর এবার আমার তোর বাবা-মায়ের সাথে কিছু জরুরি কথা আছে।"
​এ কথা শোনামাত্রই নূরের মাথার চুল চুলকানোর দশা হলো! ভেতরে ভেতরে তার হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে আসার উপক্রম। নূরের বাবা-মা এমনিতেই বাঁধনকে সহ্য করতে পারে না! মাফিয়া হওয়ার কারণে তারা বাঁধনকে প্রচণ্ড ভয় পায়। উপরন্তু, নূরকে বিয়ে করার জন্য এই বাঁধন মির্জা যা করেছিল—নূরের বাবা-মাকে সরাসরি কিডন্যাপ করে বাধ্য করেছিল নূরকে তার হাতে তুলে দিতে! সেই ভয়াবহ স্মৃতির পর আজ আবার বাঁধন তাদের সামনে যাবে শুনলেই নূরের গায়ে জ্বর আসার জোগাড়!
​নূর ভয় পেয়ে তড়িঘড়ি করে বলে উঠল—
"না না! আপনি গিয়ে কী করবেন?! আমি নিজেই যেতে পারব, আমার কোনো সমস্যা হবে না!"
​বাঁধনের চতুর ও তীক্ষ্ণ চোখ দুটো নূরের চেহারার এই আতঙ্ক ও ভয় ঠিকই আন্দাজ করে নিল। সে বাঁকা হেসে বলল—
"আমি একবার যখন বলেছি আমি যাব, তার মানে আমি যাব! এটা আমার ফাইনাল ডিসিশন। কেন? ভয় পাচ্ছিস নাকি রে সিআইডি ম্যাডাম?"
​নূর থতমতো খেয়ে নিজেকে সামলে বলল—
"না! ভয় পাব কেন?! আমি কি কোনো চোর-ডাকাত নাকি যে আপনাকে ভয় পাব?!"
​বাঁধন নূরের একদম মুখোমুখি এসে এক কদম বাড়িয়ে মুচকি হেসে বলল—
"তো ভয় না পেলে সমস্যা কোথায়? আমার শ্বশুরবাড়ি, আমি তো যাবই! নাকি তুই সারা জীবন বাপের বাড়ি এড়িয়ে এখানেই থাকবি?"
​নূর মুখে কিছু না বললেও মনে মনে যেন অভিশাপের ঝড় বইয়ে দিল। তার ভেতরের রগগুলো চড়চড় করে উঠল। সে মনে মনে বলতে লাগবে –
'জীবনেও তোকে আমি নিজের জামাই ভাবি না, শয়তান মাফিয়া! তুই আবার শ্বশুরবাড়ির দাবি করিস?! তোকে আমি কিছু করতে পারি না বলেই বেঁচে আছিস! তুই কোনো সাধারণ লোক হলে এতদিন তোকে টেনেহিঁচড়ে জেলের ভাত খাওয়াতাম! আমার পুরো জীবনটা নিয়ে তুই ছেনালিপনা শুরু করেছিস!'
​নূরের ভেতরের এই নীরব গালিগালাজ আর ক্ষোভ বাঁধনের অভিজ্ঞ চতুর চোখের চোখ এড়িয়ে গেল না। নূরের মুখের ভাবভঙ্গি দেখেই বাঁধন বুঝতে পারল মেয়েটি মনে মনে তাকে ১০৮টি গালি দিয়ে ফেলেছে!
​বাঁধন একগাল হেসে রসিকতার সুরে বলে উঠল—
"তোর মনে মনে আমাকে দেওয়া গালিগুলো শেষ হয়ে থাকলে এবার রেডি হ! নিয়ে যাই তোকে তোর বাপের বাড়ি!"
​নূর চরম চমকে উঠল! এই লোকটা কি জিন-পরী নাকি?! সে কীভাবে টের পেল যে নূর তাকে মনে মনে গালি দিচ্ছে?! নূর অবাক চোখে বাঁধনের দিকে তাকাল।
​বাঁধন হেসেই বলল—
"তোর এই হা করে তাকানোর কিছু নেই নূর। তোর মুখে যে জীবনে আমার কোনো প্রশংসা আসবে না, তা আমি খুব ভালো করেই জানি! তুই সারাজীবন আমার বদনামই করে যাবি। সো, রেডি হ এখন!"
​নূর আর কথা বাড়ানোর সাহস পেল না। সে দ্রুত নিজের পোশাক পরিবর্তনের জন্য ড্রিসিং রুমে চলে গেল। কারণ এই মাফিয়ার সাথে কথা বলা মানেই নিজের মাথা খারাপ করা! বাঁধন একজন আন্তর্জাতিক মাফিয়া—রাজনীতি, আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসা থেকে শুরু করে চাঁদাবাজি ও ক্রাইম ওয়ার্ল্ডের শীর্ষ ডন। অথচ এই লোকটাই নূরের সামনে এলেই এক অদ্ভুত, সাধারণ অথচ অনমনীয় রূপে হাজির হয়!
​কিছুক্ষণ পর নূর রেডি হয়ে নিচে নেমে এল। নূর একটি একদমই সাধারণ সুতির থ্রি-পিস পরেছে। কিন্তু নিচে সোফায় বসে থাকা বাঁধন যখন নূরের এই পোশাকের দিকে তাকাল, মুহূর্তেই তার চোখের মণি দুটো রাগে ও হিংসায় লাল হয়ে উঠল! তবে বাঁধন তার এই চরম রাগ প্রকাশ করল না। রাগ কীভাবে চেপে রাখতে হয়, তা বাঁধনের চেয়ে ভালো কেউ জানে না।
​নূর বাঁধনের থমথমে মুখ দেখে কিছুটা আন্দাজ করতে পেরে জিজ্ঞেস করল—
"কিছু হয়েছে আপনার? আপনি মনে হয় কোনো বিষয়ে রেগে আছেন?"
​বাঁধন নিজের ভেতরের আগ্নেয়গিরি চেপে কড়া কন্ঠে সংক্ষেপে বলল—
"গাড়িতে ওঠ তুই!"
​নূর আর ঘাটাতে না চেয়ে নিঃশব্দে গিয়ে বাঁধনের মার্সিডিজে গিয়ে বসল। গাড়ি চলতে লাগল। তবে নূরের বাড়ির দিকে নয়, বাঁধন গাড়ি ছুটিয়ে নিয়ে গেল ঢাকার সবচেয়ে প্রকাণ্ড ও আলিশান এক শপিং মলের দিকে!
​গাড়ি থামিয়ে বাঁধন নূরকে উদ্দেশ্য করে শান্ত কিন্তু কঠোর গলায় বলল—
"গাড়িতেই বসে থাকবি। আমি আসছি।"
​নূর কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই বাঁধন গাড়ি থেকে নেমে সোজা শপিং মলের ভেতরে ঢুকে গেল। নূর বিরক্তি নিয়ে গাড়ির সিটে হেলান দিয়ে বিড়বিড় করল—
"আমার তাতে কী?! এই শয়তান মাফিয়া জাহান্নামে যাক, আমার তাতে কী যায় আসে!"
​নূর নিজের পকেট থেকে ফোনটা বের করে রিলস দেখতে লাগল। প্রায় দীর্ঘ আধা ঘণ্টা পর বাঁধন ফিরে এল। তার দুই হাতে অন্তত ১০-১৫টি বড় বড় শপিং ব্যাগ! এতগুলো ব্যাগ দেখে নূরের মাথার ওপর দিয়ে সবকিছু চলে গেল!
​বাঁধন ব্যাগগুলো পেছনের সিটে রেখে ড্রাইভিং সিটে বসল। তারপর নূরের দিকে ঘুরে ঝুঁকে এসে নিচু অথচ বরফের মতো ঠাণ্ডা গলায় বলল—
​"সিআইডি ডিউটির পোশাক ব্যতীত, অন্য যেকোনো সময় তুই যদি সাধারণ পোশাকে এভাবে বাইরে বের হস—তবে সেটাই হবে তোর এই খোলা রাস্তায় ঘোরার শেষ দিন আর শেষ রাত! বুঝেছিস?!"
​কথাটা বলেই বাঁধন হাত বাড়িয়ে ৩-৪টি প্যাকেট নূরের কোলে ছুড়ে দিল। নূর কৌতুহল ধরে রাখতে না পেরে প্যাকেটগুলো খুলল। প্যাকেট খুলতেই তার চোখ কপালে ওঠার জোগাড়!
​ভেতরে বেশ কয়েকটি দামি, নিখুঁত কারুকাজের কালো বোরকা আর সুতি ও সিল্কের ম্যাচিং হিজাব!
​নূর তাজ্জব হয়ে জিজ্ঞেস করল—
"এগুলো... এতগুলো বোরকা আর হিজাব কার জন্য?!"
​বাঁধন ঠান্ডা গলায় জবাব দিল—
"তোর জন্য! গাড়ি থেকে নামার আগেই একটা পরে নিবি। নেক্সট টাইম যেন তোকে খোলা পোশাকে বাইরে না দেখি!"
​নূর চিৎকার করে বলল—
"আপনি কি পাগল নাকি?! ভালো কথা বোরকা দিয়েছেন, তাই বলে এতগুলো?!"
​বাঁধন এক চিলতে বাঁকা হাসি দিয়ে নূরের দিকে এগিয়ে এসে বলল—
"তুই যার বউ, তার এইটুকু দেওয়া তো কিছুই না! বাসায় আরও ডেলিভারি পৌঁছে যাবে। মোট ১০০০টি এক্সক্লুসিভ বোরকা আর হিজাব অর্ডার দেওয়া হয়েছে।"
​নূরের চোখ এবার সত্যি সত্যি মাথার ওপর উঠে গেল! একহাজার বোরকা?! এই লোকটার মাথায় কি আসলেই কোনো বড় বড় সাইজের ছিট আছে?!
​নূরের এই হা হয়ে যাওয়া রূপ দেখে বাঁধন নূরের একদম কানের কাছে মুখ এনে গভীর গম্ভীর গলায় বলল—
​"তুই আমার প্রোপার্টি, নূর! তুই আমার আমানত। আর খোলা বা উন্মুক্ত জিনিস আমি কখনো খাই না কিংবা কাউকে দেখতেও দিই না! প্যাকেটে যতদিন ঢাকা থাকবে, ততদিন তা সম্পূর্ণ নিরাপদ আর শুধুই আমার থাকবে!"
​বাঁধনের এই প্রোপার্টি আর ইসলামিক আকীদার সংমিশ্রণে বলা রুক্ষ কথাটার গভীরতা নূর পুরোপুরি বুঝতে পারল না। সে হাঁ করে বলল—
"কী বললেন আপনি?! আমি তো কিছুই বুঝলাম না!"
​বাঁধন গাড়ির গিয়ার টেনে বলল—
"এত বুঝে কাজ নেই। এবার চল তোর বাপের বাড়ি।"
​বাঁধন গাড়ি স্টার্ট দিল। ইতোমধ্যে সে অ্যালবার্ট আর জোসেফকে ফোন করে বাকি শপিং ব্যাগগুলো বাসায় পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। নূরের জন্য শুধু একটি কুচকুচে কালো বোরকা ও হিজাব গাড়িতে রেখেছিল, যা নূর শান্ত হয়ে বাধ্য মেয়ের মতো নিজের গায়ে জড়িয়ে নিল।
​কালো বোরকা আর হিজাবে নূরকে দেখার পর বাঁধনের বুকের ভেতর এক অদ্ভুত শান্তির জোয়ার বয়ে গেল। নূরও গাড়ির কাচে নিজের প্রতিফলন দেখে আনমনে ভাবল—
এই মাফিয়াটা হাজারটা দিক দিয়ে রক্তচোষা শয়তান হতে পারে, কিন্তু নিজের অধিকার রক্ষা আর যত্নের দিক থেকে সে সত্যি অনন্য! সে চরম অপরাধী হলেও নিজের বউকে কীভাবে আবৃত আর সুরক্ষিত রাখতে হয়, তা খুব ভালো করেই জানে! নূরের ঠোঁটের কোণে না চাইতেও একচিলতে মুচকি হাসি ফুটে উঠল।
​তবে গাড়ি চালাতে চালাতে বাঁধন মির্জার মনের ভেতরে অন্য এক ঝড়ের সৃষ্টি হচ্ছিল! সে নিজের অতীত আর বর্তমানের স্মৃতিতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছিল।
​দীর্ঘ ৮টি বছর! দীর্ঘ ৮টি বছর ধরে সে তার নিজের জন্মদাত্রী মা, বাবা আর আসল পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। বাঁধন তো জানে না, আজ যে সে নূরের পরিবারের সাথে দেখা করতে যাচ্ছে—সেই পরিবারের সাথেই তার নিজের অতীতের কতটা গভীর রক্তিম সম্পর্ক রয়েছে! 
​বাঁধন জানত না যে, তার আসল নাম রিয়াদুল বাঁধন মির্জা! একসময় এক মধ্যবিত্ত পরিবারের অত্যন্ত মেধাবী, নিষ্পাপ একটি ছেলে, যার স্বপ্ন ছিল কানাডায় গিয়ে বড় স্কলারশিপ নিয়ে পড়ালেখা শেষ করে নিজের পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করা! কিন্তু সময়ের নিষ্ঠুর পরিহাসে সেই মিষ্টি ছেলেটিই আজ পুরো বিশ্বের ত্রাস, আন্তর্জাতিক ভয়ংকর মাফিয়া সম্রাট—'বাঁধন মির্জা'!
​তার পরিবার তো জানে না যে দুনিয়া কাঁপানো এই মাফিয়া ডন আর কেউ নয়, তাদেরই হারিয়ে যাওয়া সেই ছোট্ট সন্তানটি!
​ভাবতে ভাবতেই বাঁধনের গাড়ি এসে থামল এক সুদৃশ্য তিনতলা বাড়ির সামনে। বাড়িটি খুব বেশি বড় না হলেও বেশ পরিপাটি আর সুন্দর। আগে বাড়িটি বেশ পুরনো ও ছোট ছিল, কিন্তু নূর সিআইডি অফিসার হওয়ার পর নিজের উপার্জনে বাড়িটিকে সুন্দর করে নতুন রূপ দিয়েছে।
​বাঁধন গাড়ি পার্কিং করে বাইরে তাকাল। তার বুকের ভেতরটা অজানা এক আশঙ্কায় কেঁপে উঠল... দীর্ঘ ৮ বছর পর সে এই মাটির কাছাকাছি দাঁড়িয়েছে!

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন