ফন্ট সাইজ:
থিম:
মাফিয়া বাঁধন দ্যা সিআইডি অফিসার

৪৬তম পর্ব

লেখক: Ahmed Badhon
​কলমে: আহমেদ বাঁধন
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)
​[৪৬তম খণ্ড —
​চারপাশে স্যাঁতসেঁতে অন্ধকারের মাঝে বন্দি অবস্থায় পড়ে আছে নূর। গোডাউনের চারিপাশে সশস্ত্র গুন্ডারা কড়া পাহারা দিচ্ছে, যেন কোনো মাছিও গলতে না পারে। নূরের শরীরে আর এতটুকু শক্তি অবশিষ্ট নেই। মাথাটা মারাত্মক ব্যথায় ঝিমঝিম করছে। চাবুক মারার মতো চুল টানার তীব্র যন্ত্রণায় চোখে পানি চলে এসেছে তার। নূর নিষ্পাপ চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে শুধু আল্লাহর কাছে দোয়া করতে লাগল, যেন সব ঠিক হয়ে যায়। জীবনের এই প্রতিটি মুহূর্তে যে কী ঘটতে চলেছে, তা কেউ জানে না!
​নূরের নিজের ওপর নিজেরই প্রবল আফসোস হচ্ছে। কেন সে বারবার এভাবে ফেঁসে যায়?! কি করবে সে, কিছুই ভেবে পাচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত নিজের কান্নাভেজা কন্ঠে, চোখের জল ছেড়ে দিয়ে ব্যাকুল মনে বলে উঠল—
​"কই আপনি মিস্টার মাফিয়া?! প্লিজ আমাকে নিয়ে যান এখান থেকে! আমি আর এখানে এক মুহূর্তও থাকতে চাই না, আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে..."
​চোখের জল অনবরত গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে। নূরের অশ্রু আজ কোনো বাধা মানছে না। যে বাঁধন মির্জাকে সে সারাজীবন ধিক্কার জানিয়েছে, সেই বাঁধনের নামই আজ অনবরত নূরের মুখে জপছে! আশেপাশে থাকা গুন্ডারা অবশ্য নূরের এ আকুতি শুনতে পাচ্ছে না।
​কিছুক্ষণের মধ্যে নূরের নিজের ওপর নিজেরই চরম বিরক্তি চলে এলো—
কেন সে এভাবে কাঁদছে?! কেন নিজেকে শক্ত রাখতে পারছে না?!
​এমন সময় নূরকে আটকে রাখা সেই অজানা মেয়েটি বাইরে গেল। মেয়েটির পরিচয় এখনো রহস্যের আড়ালে, নাম-ধাম কিছুই জানা যায়নি। মেয়েটি বাইরে যেতেই পাহারায় থাকা এক গুন্ডা নূরের কাছে এগিয়ে এলো। তার হাতে এক প্যাকেট বিরিয়ানি। পরিস্থিতি যতই খারাপ হোক না কেন, নূরের মনের ভেতরের ঘৃণা ও অহংকার কমেনি। সে ঘৃণ ভরা চোখে গুন্ডাটার দিকে তাকাল।
​গুন্ডাটা বিরিয়ানিটা নূরের সামনে ছুড়ে দিয়ে বলল—
"এই মেয়ে! খেয়ে নে!"
​নূর নিজের মুখ থেকে থুথু ফেলে রাগে চিৎকার করে বলে উঠল—
"তোদের খাবার খাব আমি?! এর চেয়ে আমার মৃত্যু অনেক ভালো!"
​গুন্ডাটা এক কুৎসিত থমথমে হাসিতে ফেটে পড়ে বলল—
"তোর ইচ্ছা! মৃত্যু তো তোর নিজের হাতে, আমার না! খাবি কি না খাবি তোর ব্যাপার!"
​নূর এবার এক মারাত্মক তৃপ্তির বাঁকা হাসি হেসে বলল—
"তুই একটা সার্কাসের গুন্ডা মাত্র! তুই আমার বালটা করবি?! সে যদি একবার আসে, তোদেরকে মৃত্যুর দুয়ার থেকে কেউ বাঁচাতে পারবে না... একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত!"
​নূরের মুখে এমন কটূক্তি আর কড়া কথা শুনে লোকটির মাথা গরম হয়ে গেল। সে বিরিয়ানির প্যাকেটটা নিচে ফেলে দিয়ে হিংস্রভাবে নূরের চুল শক্ত করে টেনে ধরল!
​"আআআহ!" 
নূর যন্ত্রণায় কোঁকাতে লাগল। চোখে জল এলেও সে নিজেকে শক্ত করার চেষ্টা করল। কিন্তু গুন্ডাটা রাগে গজগজ করতে করতে নূরের চুল ধরে টেনে ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে হুংকার দিয়ে বলল—
"তুই নিজেকে কী ভাবিস রে?! তোর ওই মাফিয়া স্বামী আমার কিছুই করতে পারবে না! যতদিন তুই আমার কব্জায় আছিস, তোর মাফিয়া আমাদের বালটাও ছিঁড়তে পারবে না!"
​নূর নিজের কান্না আর আটকে রাখতে পারছে না। কিন্তু গুন্ডাটার সামনে দুর্বল হতে চাইছে না সে। লোকটি যাওয়ার আগে নূরের মুখে বিরিয়ানির প্যাকেট ছিটিয়ে দিয়ে বলল—
"যদি মৃত্যুর ভয় থাকে, তবে খেয়ে নিস!"
​এ কথা বলে গুন্ডাটা সোজা হেঁটে বাইরে চলে গেল। নূর এখন গোডাউনের মেঝেতে পড়ে লড়বে-হুসের মতো কাঁদতে লাগল। তার এই কান্না দেখার মতো আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই। সে কি কোনো অপরাধ করেছে?! তবে তার সাথে কেন বারবার এমন হয়?!
​জীবনে কিছু ভালোবাসা হয়তো গোপনে লুকিয়ে থাকে, আর কিছু ভালোবাসা প্রকাশ পেয়ে ধ্বংসের পথ দেখায়! চুল টানার কারণে মাথার তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে আবার ফুঁপিয়ে কান্না করতে করতে নূর বিড়বিড় করে বলল—
​"প্লিজ কই আপনি, মিস্টার বাঁধন মির্জা?! আমাকে এসে নিয়ে যান... আই সত্যি ভীষণ বিপদে আছি!"
​বলতে বলতে নূরের দুচোখ বন্ধ হয়ে আসলো, আর কান্নার চোঙে সে একসময় সেন্সলেস হয়ে মেঝেই নেতিয়ে পড়ল।
​জ্ঞান হারানোর ঠিক মুহূর্তেও বাঁধনের কথা খুব মনে পড়ছিল নূরের। নিজেকে ভীষণ অপরাধী মনে হচ্ছে—কেন যে সে কখনো বাঁধনের কথা শোনে না?! কেন তাকে হাজবেন্ড হিসেবে মানতে পারে না?! অথচ এই লোকটাই তো তার জন্য পুরো পৃথিবী এক করে দেয়! নূরের যেন মনে হলো, তার মাথার কোন এক গভীর স্মৃতিতে বাঁধনের সাথে এক অদৃশ্য ও অবিচ্ছেদ্য আত্মার সম্পর্ক রয়েছে... কিন্তু কিসের সেই স্মৃতি?! সবকিছু যেন নূরের মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে!
​ওদিকে মেঘলা আকাশের দিকে তাকিয়ে বাঁধন মির্জার চোখ দুটো রক্তজবার মতো জ্বলছে! জীবনের সবটুক রাগ আজ সে উগরে দেবে।
​বাঁধন বসে আছে নিজের রাজকীয় মিলিটারী কপ্টারে। তার পকেটে থাকা ভারী সিলভার গানটি হাতে শক্ত করে চেপে ধরে বাঘের মতো গর্জে উঠল বাঁধন—
​"কুত্তার বাচ্চা! আর কত দেরি লাগাবি?! আর একটু যদি দেরি হয়, সাথে সাথে তোকে কিন্তু এই কপ্টার থেকেই নিচে ফেলে পুঁতে ফেলব!"
​পাইলট ভয়ে থরথর করে কাঁপতে কাাঁপতে বলল—
"জি... জি ভাই! আর সামান্য একটুখানি পথ..."
​বাঁধন তার পকেট থেকে গানটি বের করে কপালে রগ ফুলিয়ে বলল—
"একটুখানি মানে?! আমার মাথা কিন্তু মারাত্মক গরম হয়ে আছে! কুত্তার বাচ্চা, কপ্টার স্পিডে চালা!"
​পেছনে থাকা অ্যালবার্ট আর জোসেফ চোখ চাওয়া-চাওয়ি করছে। জোসেফ কোনোমতে অ্যালবার্টের কানের কাছে মুখ এনে নিচু স্বরে ফিসফিস করল—
"ব্যাটা, আজ ভাই চরম ক্ষ্যাপা ক্ষ্যাপে আছে! কখন যে কপ্টারে ভূমিকম্প এসে পড়ে, কোনো ঠিক নেই!"
​অ্যালবার্ট নিচু স্বরে ধমকে উঠল—
"চুপ থাক! বেশি কথা বললে তোকে আর আমাকে এখনই নিচে ফেলে দেবে!"
​কিন্তু বাঁধনের চতুর কান থেকে কোনো কিছুই এড়ায়নি। সে রক্তচক্ষু নিয়ে দুই জনের দিকে এক পৈশাচিক দৃষ্টিতে তাকাল।
​"আর একবার যদি তোদের মুখ থেকে একটা শব্দ বের হয়, তোদের দুইটাকে কপ্টার থেকে নিচে ফেলে দেব! তোদের সিকিউরিটির ঢিলেমির জন্যই আজ আমার বউকে পাচ্ছি না!"
​দুজনেই ভয়ে ঠোঁটে কুলুপ আঁটল। বাঁধন মির্জার এই মারাত্মক রুদ্ররূপ তারা খুব কম দেখেছে!
​অবশেষে কপ্টারটি এসে থামল এক রহস্যময় ও ভয়ংকর দ্বীপে—যার নাম
 'এজিনাল আইল্যান্ড'!
​পুরো দ্বীপটি এক বিশাল পাহাড়ি অঞ্চল আর ঘন বিষাক্ত জঙ্গলে ঘেরা। দ্বীপের চারপাশে প্রকাণ্ড ও হিংস্র উত্তাল সমুদ্র, যেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে বিষাক্ত হাঙ্গর আর বিশাল সব কুমির! কোনো সাধারণ মানুষের এই দ্বীপে পা রাখার সাধ্য নেই। কিন্তু বাঁধন মির্জার কাছে এসবের কোনো দাম নেই—তার মুখে এখন একটাই নাম... নূর!
​কপ্টারটি নির্জন এক জঙ্গলের মাঝে ল্যান্ড করল। অ্যালবার্ট নিচে নেমে চারপাশটা ট্র্যাকার দিয়ে দেখে নিয়ে বাঁধনকে বলল—
"ভাই... ম্যাডামকে নাকি এই দ্বীপে এনে লুকিয়ে রাখা হয়েছে, আমরা গোপন সূত্রে খবর পেয়েছি!"
​জোসেফ ভয়ে ভয়ে চারপাশে তাকিয়ে বলল—
"ভাই! এই জঙ্গলে কিন্তু অনেক হিংস্র প্রাণী আছে! আর সমুদ্রে বিষাক্ত হাঙ্গর আর কুমিরের উপদ্রব..."
​বাঁধন এক বাঁকা হিংস্র দৃষ্টিতে জোসেফের দিকে তাকাল—
"স্টপ! যা আছে থাক! মাই ওনলি নিড নূর, দ্যাটস ইট!"
​বাঁধন কপ্টার থেকে নেমে গম্ভীর পদক্ষেপে জঙ্গলের ভেতর হাঁটতে শুরু করল। পেছনে অ্যালবার্ট আর জোসেফ গান লোড করে তাকে অনুসরণ করছে। চারপাশটা কেমন নিঝুম, বিষাক্ত আর থমথমে। এজিনাল আইল্যান্ডের এই নিঃশব্দ জঙ্গল যেন মৃত্যুর বার্তা বহন করছে! প্রতিটা পদক্ষেপে বিপদ, কিন্তু বাঁধন মির্জার হৃদয়ে আজ কোনো ভয় নেই। বাঁধন মির্জার ওয়াইফকে কিডন্যাপ করা কোন ফাকিং জোক নাকি?!
​জঙ্গলের মাছপথে গভীর ঝোপঝাড় কেটে এগোতেই তারা একটি সুবিশাল, অন্ধকারাচ্ছন্ন গুহা দেখতে পেল!
​অ্যালবার্ট আর জোসেফ ইশারা করতেই বাঁধন মির্জা ধীর পায়ে গুহার দিকে এগোলো। গুহাটি পুরো নিকষ কালো অন্ধকারে ঢাকা। জোসেফ ও অ্যালবার্ট তাদের পকেট থেকে পাওয়ারফুল ফ্ল্যাশলাইট বের করে গুহার ভেতরে আলো ফেলল।
​সেই আলোর রেখা গুহার বিশাল অন্ধকারের গভীরে গিয়ে মিলিয়ে গেল... কিন্তু এই অন্ধকার গুহার শেষ কোথায়, বা নূরের ভাগ্যে সেখানে কী অপেক্ষা করছে—তা এখনো অজানা!

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন