কলমে: আহমেদ বাঁধন
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)
[স্পেশাল পার্ট —
একটি বিষণ্ণতাভরা রাতের কোল চিরে ভোরের স্নিগ্ধ সূর্য উদয় হয়েছে। পুব আকাশের আলোয় চারপাশটা নতুন এক সজীবতায় ভরে উঠেছে। ঘরের ভেতরে নূর ঘুম থেকে উঠে নিজের মিষ্টি মেজাজে আছে, আর ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে স্বয়ং মাফিয়া সম্রাট বাঁধন মির্জা!
আজ বাঁধনের মুড সম্পূর্ণ ভিন্ন। সকাল থেকেই তার মাথায় এক দুষ্টু অথচ রাজকীয় ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছে—
আজ নূরকে এক একদম ভিন্ন আর ইউনিক স্টাইলে প্রপোজ করতে হবে! নূরকে একটু জ্বালাবে, রাগাবে, তারপর নিজের ভালোবাসায় ভরিয়ে দেবে—
ভেবেই বাঁধনের ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল সেই বিখ্যাত ও মারাত্মক বাঁকা হাসি!
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যালবার্ট আর জোসেফ বসের মুখের এই রহস্যময় হাসি দেখে একে অপরের দিকে তাকাল। অ্যালবার্ট মনে মনে বুঝে গেল—
আজ তাদের ভাইয়ের মাথায় নিশ্চয়ই বড় কোনো প্রেমময় ফন্দি ঘুরছে!
ঢাকা সংলগ্ন কেরানীগঞ্জের মনোরম ও উজ্জ্বল সকাল। চারপাশের রাজকীয় পরিবেশ, ঝকঝকে রোদের আলো রাস্তাঘাটকে যেন এক অপূর্ব সৌন্দর্য এনে দিয়েছে। এমন দিনে যে কারও মন ভালো হয়ে যেতে বাধ্য! আর ঠিক সেই সুন্দর রাজকীয় রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে আছে এক অবিশ্বাস্য সুদর্শন পুরুষ—মাফিয়া ডন বাঁধন মির্জা! তার ক্ষমতা, দাপট আর ব্যক্তিত্বের সামনে দুনিয়ার সবকিছু যেন ম্লান হয়ে যায়।
বাঁধন আর এক মুহূর্ত সেখানে সময় নষ্ট করল না। তার অন্যতম প্রিয় কালোরঙা 'অল-ব্ল্যাক মার্সিকিজ' কারটি পার্কিং থেকে বের করা হলো। বাঁধন আজ নিজেই ড্রাইভিং সিটে গিয়ে বসল। কারণ আজকের দিনটা বিশেষ, বাতাসের আবহাওয়াটা মধ্যকার এক রোমাঞ্চকর অনুভূতির সঞ্চার করছে। পেছনের সিটে বাধ্য ছেলের মতো গিয়ে বসল অ্যালবার্ট আর জোসেফ।
অন্যদিকে 'নূর প্যালেস'-এর বিশাল ড্রয়িংরুমে এক আজব দৃশ্য!
সিসিটিভি ক্যামেরায় চোখ রাখলে কেবল দেখা যাবে—
নূরের মুখে বাঁধন মির্জার নামে অঝোর ধারায় গালিগালাজ চলছে! বয়স বাড়লেও নূরের ভেতরের সেই চঞ্চল ও ছোটবেলার পাগলামিটা বিন্দুমাত্র কমেনি। সোফায় আরামে পা তুলে বসেছে সে, একহাতে পপকর্ন, চিপস আর ফ্রাইড চিকেনের বাটি, আর চোখ আটকে আছে ড্রয়িংরুমের বিশাল এলইডি টিভিতে! মহা আনন্দে জাপানিজ অ্যানিমে সিরিজ 'নারুতো' দেখছে নূর!
চারপাশে অস্ত্রধারী বডিগার্ড আর কাজের লোকরা ভয়ে থরথর করে কাঁপছে, কিন্তু কেউ টু শব্দ করার সাহস পাচ্ছে না। কারণ মেয়েটি যে স্বয়ং মাফিয়া কিং বাঁধন মির্জার অর্ধাঙ্গিনী!
নূর পরনে একটি সাদা ক্যাজুয়াল টি-শার্ট আর বর্তমান ট্রেন্ডের ব্যাগি জিন্স প্যান্ট পরে এক মনে খাবার চিবোচ্ছে আর সোফায় পা দুলিয়ে হেলান দিয়ে অ্যানিমে দেখছে। নিজের আনমনেই সে টিভির দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলে উঠল—
"কেন যে এই মীরজাফর মাফিয়াকে বিয়ে করতে গেলাম?! ইস, এই অ্যানিমের ভেতরে কত সুন্দর সুন্দর হিরো! যদি 'ইতাচি' বা 'নারুতো'কে বাস্তবে পেতাম... আহ! জীবনের সব আশা পূরণ হয়ে যেত!"
ঠিক তখনই বাড়ির গেট দিয়ে প্রবেশ করল ৬ ফুট ৫ ইঞ্চির এক প্রকাণ্ড সুদর্শন পুরুষ!
পরনে একদম ফিটিং ধবধবে সাদা শার্ট, তার ওপর রাজকীয় ব্ল্যাক স্যুট। চোখে ক্লান্তির হালকা ছাপ থাকলেও সেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রয়েছে মারাত্মক হিপনোসাইজিং এক আকর্ষক জ্যোতি। বাঁধন ধীর পায়ে ভেতরে হেঁটে এসে নূরের এই ছেলেমানুষি কাণ্ডকারখানা দেখে থমকে দাঁড়াল। নিজের অজান্তেই বিড়বিড় করে বলে উঠল—
"আমি কি কোনো পিচ্চি পোলাপানকে বিয়ে করলাম নাকি?! সারাদিন এইসব কার্টুন নিয়ে পড়ে থাকে! আমাকে দেখবে কখন সে?! এই জন্যই তো দিন দিন ত্যাড়ামি বাড়ছে!"
বাঁধন অত্যন্ত নিঃশব্দে হেঁটে গিয়ে নূরের ঠিক পেছনের সোফার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। নূর তো অ্যানিমের মধ্যে এতটাই ডুবে আছে যে বাঁধনের উপস্থিতি বিন্দুমাত্র টের পায়নি! সে পপকর্ন মুখে পুরে নিজের মনেই বাঁধনকে গালি দিয়ে বলে উঠল—
"ইস! আমি যদি কোনোদিন অ্যানিমে ওয়ার্ল্ডে যেতে পারতাম রে! অ্যানিমে থেকে জাদুকরী সব পাওয়ার এনে এই শয়তান মাফিয়াটাকে মাটিতে গেঁথে তার ওপর নাগিন নাচ নাচতাম!"
কথাটা বাঁধনের কানে পৌঁছানো মাত্রই সে সোফার ওপর সামান্য ঝুঁকে পড়ে, নূরের কানের কাছে ঠোঁট নিয়ে অত্যন্ত শান্ত ও গভীর ফিসফিসানি কণ্ঠে বলল—
"শুধু মাটিতে গাড়লে হবে?! চাইলে তো তাকে একদম উলঙ্গ করে পুরো রাস্তায় ঘুরাতে পারতে, কিংবা তার মাথার সব চুল কেটে টাকলা বানিয়ে দিতে পারতে... বুদ্ধিটা কেমন বলো তো?!"
নূর তো বাঁধনের এই কথা শুনে নিজের মনেই হেঁসে উঠল। সে তখনও বুঝতে পারেনি কণ্ঠটা কার! নূর বেশ বাহবা দিয়ে বলে উঠল—
"বুদ্ধিটা কিন্তু একদম ফার্স্ট ক্লাস দিয়েছ ভাই! এত সুন্দর বুদ্ধি দেওয়ার জন্য তোকে নোবেল প্রাইজ দেওয়া উচিত...!"
বলতে বলতেই নূর কৌতুহল নিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকাল। আর পেছনে ৬ ফুট ৫ ইঞ্চির মাফিয়া ডন বাঁধন মির্জাকে নিজের দিকে কুটিল চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে নূরের কলিজা নিমেষে শুকিয়ে গেল!
সোফা থেকে চমকে উঠে এক লাফ দিতে গিয়ে হাত-পা হারিয়ে ধপাস করে মেঝের ওপর গিয়ে আছড়ে পড়ল সে! নূর মেঝেকে হাত দিয়ে চেপে ধরে চিৎকার করে উঠল—
"এমমা রে! এই মাফিয়া মীরজাফরটা তো আমাকে একদিন হার্ট অ্যাটাক করিয়ে মেরেই ফেলবে! আপনার সমস্যাটা কী শুনি?! আমাকে কি জ্যান্ত মেরে ফেলার প্ল্যান করছেন নাকি?!"
বাঁধন কিছুটা নরম হয়ে নূরের দিকে নিজের সুঠাম হাতটা বাড়িয়ে দিল তাকে তোলার জন্য। কিন্তু নূরের সেই একই ঘাড়ত্যেড়ামি! সে বাঁধনের বাড়ানো হাত এক ঝটকায় সরিয়ে দিয়ে বলল—
"আপনার সহানুভূতি আমাকে দেখাতে আসবেন না!"
একাই ওঠার চেষ্টা করতে গিয়ে পিছলে আবার ধপাস করে পড়ে গেল নূর! এবার নিজের কপাল চেপে ধরে আফসোস করে বলতে লাগল—
"হায়রে কপাল! সিআইডি অফিসার হতে চেয়েছিলাম, আর শেষে এসে জুটল এই কুখ্যাত পৈশাচিক মাফিয়া ডন! আমার জীবনটাই তেজপাতা হয়ে গেল!"
এবার আর বাঁধন কোনো কথা শুনল না। এক ঝটকায় নূরের কব্জি ধরে তাকে টেনে সোজা দাঁড় করিয়ে দিল! বাঁধন কড়া ও গম্ভীর গলায় নূরের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল—
"একটু বড় হ নূর! মাথার ভেতরের মেধাটা এবার একটু কাজে লাগা! তোর বয়সের মেয়েরা পুরো ঘরসংসার সামলায়, স্বামীর খেয়াল রাখে, রান্না শেখায়... আর তুই সারাদিন কার্টুন আর চিপস নিয়ে পড়ে আছিস!"
নূর চোখ দুটো গোল গোল করে তাকাল। মনে মনে ভাবল
—এই মীরজাফর মাফিয়া জ্যোতিষী নাকি রে?! কীভাবে বুঝল সে রান্নাবান্না কিছুই জানে না?!
নূর মুখ বাঁকিয়ে বুক চিতিয়ে বলে উঠল—
"রান্না?! হাঃ! আপনার জন্য আমি জীবনেও কোনোদিন এক কাপ চা-ও বানাব না! আর আমি কী পারি না পারি, ওটা আমার ব্যাপার! আপনার মাথা না ঘামালেও চলবে, বুঝলেন?!"
বাঁধন এক দীর্ঘ হতাশাময় শ্বাস ফেলল। যে মাফিয়া ডনের এক হুংকারে বড় বড় দেশের প্রেসিডেন্ট আর মাফিয়া সম্রাটরা ভয়ে থরথর করে কাঁপে, সেই বাঁধন মির্জা আজ নিজের পুতুল সদৃশ এক পিচ্চি বউয়ের কাছে পুরোপুরি পরাস্ত!
দূরে দাঁড়িয়ে পুরো দৃশ্যটা দেখছিল অ্যালবার্ট আর জোসেফ। অ্যালবার্ট জোসেফের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে অত্যন্ত রসিকতার সুরে বলল—
"একটা কথা কি জানিস জোসেফ ?! একটা ছেলে বাইরের দুনিয়ায় যতই রাজা বা মাফিয়া ডন হোক না কেন, বসের ওপর কেবল বউয়ের হুকুমই চলে! আর তার জলজ্যান্ত প্রমাণ হলো আমাদের এই হিংস্র ভাই!"
জোসেফ দাঁত বের করে হেসে বলল—
"একদম এক শ তে এক শ খাঁটি কথা বলছিস ব্যাটা!"
অ্যালবার্ট আর নিজের হাসি চেপে রাখতে পারল না। সে বাঁধনের দিকে তাকিয়ে, বেশ সুর মিলিয়ে গুনগুন করে একখানা গান গাইতে শুরু করল—
> "আমার ঘরে আমি মেম্বার...!!
> আমার বউ চেয়ারম্যান...!!"
> "আমার ঘরে আমি মেম্বার...!!
> আমার বউ চেয়ারম্যান...!!"
গানের সুরটা বাঁধনের কানে পৌঁছানো মাত্রই বাঁধন হিংস্র রাগে চোখ দুটো বড় বড় করে অ্যালবার্টের দিকে তাকাল! অ্যালবার্ট আর জোসেফ বুঝতে পারল ভাইয়ের চোখে এখন আগ্নেয়গিরির আগুন ফুটছে, আর এক সেকেন্ড এখানে দাঁড়ালে তাদের লাশও খুঁজে পাওয়া যাবে না! তারা হাসতে হাসতে এক দৌড়ে সেখান থেকে চম্পট দিল!
রাত আনুমানিক ৮টা থেকে ৯টা:
আকাশের মেঘগুলো বেশ ভারী হয়ে এসেছে। বৃষ্টির আগাম আভাস মিলছে বাতাসে।
নূর আজকে সিআইডি-র এক বিশেষ জরুরি কাজের অনুমতি নিয়ে বাঁধনের সেই নিজস্ব কালোরঙা মার্সিডিজ কারটি নিয়ে বাইরে গিয়েছিল। বাঁধন সচরাচর তার নিজস্ব কোনো জিনিসে কাউকে হাত দিতে দেয় না, কিন্তু নূরের বেলায় যে মাফিয়া আইনের সব নিয়ম বাতিল!
কাজ শেষে নূর গাড়ি চালিয়ে রাজপথ দিয়ে ফিরছিল। মাঝ রাস্তায় আচমকা এক হুডখোলা প্রফেশনাল স্পোর্টস বাইক এসে নূরের মার্সিডিজের ঠিক সামনে ব্রেক কষে রাস্তা আটকে দাঁড়াল!
নূর বিরক্ত হয়ে গাড়ির হর্ন বাজাল। কিন্তু বাইক রাইডার সরার কোনো নামই নিচ্ছে না! নূর রাগে গাড়ি থেকে নেমে চিৎকার করে উঠল—
"হে ভাই! আপনার সমস্যা কী?! কার অনুমতি নিয়ে সিআইডি অফিসারের রাস্তা আটকেছেন?! হোয়াট দ্য হেল ইজ দিস?!"
বাইকে থাকা লোকটির পরনে অল-ব্ল্যাক চামড়ার রেসিং স্যুট, মাথায় ব্ল্যাক গ্লাস হেলমেট। লোকটি কোনো কথা না বলে নিজের বাইক থেকে নামল। তার হাতে একটি রক্তরাঙা তাজা লাল গোলাপ!
লোকটি ধীর পায়ে এগিয়ে এসে নূরের দিকে গোলাপটি বাড়িয়ে দিল।
নূর তো সম্পূর্ণ অবাক! এক অচেনা বাইকার তাকে এভাবে মাঝরাস্তায় প্রপোজ করছে?! নূর একজন শক্ত মেজাজের সিআইডি অফিসার, তাই সে কোনো কথা না শুনে এক ঝটকায় ফুলটি হাত থেকে কেড়ে নিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়ে পায়ে পিষে দিল!
"অসভ্য কোথাকার! নিজের চেরা চেহারা না দেখিয়ে প্রপোজ করতে এসো না!"
বলেই নূর নিজের গাড়িতে উঠে মার্সিডিজ স্পিডে চালিয়ে সেখান থেকে চলে গেল।
নূর চলে যাওয়ার পর বাইকার লোকটি হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসে পড়ল। সে মাথায় পরা কালো হেলমেটটি খোলামাত্রই বেরিয়ে এলো স্বয়ং মাফিয়া বাঁধন মির্জার রাগে রগে ফুলে ওঠা সেই রক্তচক্ষু ও পৈশাচিক চেহারা!
বাঁধন পিষে যাওয়া গোলাপটির দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে গর্জে উঠে বলল—
"ওয়েটিং টু নূর! তুই আমার এই ভালোবাসার রোমান্টিক প্রপোজাল রিজেক্ট করলি?! ওকে... নাউ লেটস সি মাই রিয়েল গেম!"
বাঁধন এক ঝটকায় হেলমেটটা পরে নিয়ে তার কাস্টমাইজড ৮০০ সিসির আর-ওয়ান-ফাইভ (R15) বাইকে উঠে বসল। বাইকের ইঞ্জিনের ভয়াল গর্জনে পুরো রাজপথ কেঁপে উঠল!
ঠিক তখনই আকাশ ভেঙে তুমুল বৃষ্টি শুরু হলো!
বাঁধন বাইকের এক্সিলারেটর পুরোটা টেনে দিয়ে ঝড়ের গতিতে ছুটল নূরের গাড়ির পিছু পিছু! কয়েক মিনিটের মধ্যে নূরের মার্সিডিজের পাশে এসে নিজের বাইকটি নিয়ে একদম পাশাপাশি রাইডিং শুরু করল বাঁধন।
নূর গাড়ির সাইড মিরর (Side Mirror) দিয়ে দেখতে পেল—এক উন্মাদ বাইকার বৃষ্টির ভেতরে ঝড়ের গতিতে তার গাড়ির সাথে সাথে বাইক নাচাচ্ছে আর স্টিয়ারিং ঘোরাচ্ছে! নূর ভয়ে জানালার গ্লাস সামান্য নামিয়ে চিৎকার করে বলল—
"আপনি কে?! কেন আমার পেছনে লেগেছেন?!"
বাইক চালাতে চালাতেই হেলমেটের ভেতর থেকে বাঁধন মির্জার সেই পরিচিত, গভীর ও রহস্যময় ধাঁধাময় কণ্ঠ ভেসে এলো—
> "চেনা জিনিসের গন্ধ বেশি, আর না চেনা মানে অন্ধ!
> তুই চিনবি ঠিকই, কিন্তু বুঝবি না সে কী...!!"
>
ছন্দটা শোনামাত্রই নূরের মাথার ভেতর এক ঝিলিক বিদ্যুৎ খেলে গেল! এই ধরনের ছাইপাশ অদ্ভুত ধাঁধা মার্কা কথা এই দুনিয়ায় কেবল একজনই বলতে পারে—তার সেই মীরজাফর শয়তান মাফিয়া জামাই বাঁধন মির্জা!
নূর চোখ বড় বড় করে বিড়বিড় করল—
"ইশ! এই লোকটা হেলমেট পরে বাইক নিয়ে আমার সাথে মজা করছিল?!"
নূর রাগে গাড়ির গতি বাড়িয়ে দিল। কিছুক্ষণের মধ্যে নূর প্যালেসের বিশাল ড্রাইওয়েতে গাড়ি এসে থামল। নূর গাড়ি থেকে নামতেই বাঁধনও বাইক থামিয়ে হেলমেটটা এক ঝটকায় খুলে ফেলল।
বাঁধনের ভিজে যাওয়া চুল থেকে জলের ফোঁটা গড়িয়ে পড়ছে, ঠোঁটের কোণে সেই ভয়ংকর রোমান্টিক পৈশাচিক হাসি! বাঁধন ধীর পায়ে নূরের দিকে এগিয়ে এসে কানের কাছে ফিসফিস করে বলল—
"তুই আমাকে চিনলি না?! আমার ভালোবাসার গোলাপ ফুল মাটিতে ফেলে দিলি?! আজ রাতে তোর কোনো ক্ষমা নেই নূর... আজ তোকে ভালোবাসার এমন এক কঠিন শাস্তি দেব, যা তুই জিন্দেগিতেও ভুলবি না!"
"' তোর সাথে পাঁচ নাম্বার বাসর হবে আমার ""
কথাটা শুনে নূরের বুকের ভেতর ঢিপঢিপ করে উঠল! সে শুকনো ঢোক গিলে পেছন ফিরে এক দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করল—
"না না! বাঁধন শুনুন... আমি তো বুঝতে পারিনি ওটা আপনি ছিলেন!"
কিন্তু মাফিয়া বাঁধন মির্জার কাছ থেকে পালানো কি এতই সহজ?! বাঁধন এক চুটকিতে নূরকে কোমর ধরে পাঁজাকোলা করে নিজের বিশাল চওড়া বুকে তুলে নিল! নূর হাত-পা ছুড়ে চিৎকার করতে লাগল, কিন্তু বাঁধন সেদিকে বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করে এক টানে তাকে কোলে নিয়ে সোজা দোতলার মাস্টার বেডরুমের দিকে হাঁটা দিল।
রাত তখন গড়িয়ে দুটো বেজে গেছে। বৃষ্টির শব্দে মুখরিত চারপাশ। বাঁধন বেডরুমের দরজায় সজোরে লাথি মেরে লক করে দিল। তারপর নূরকে বেডে ফেলে দিয়ে নিজেই তার ওপর ঝুঁকে পড়ল।
নূরের চঞ্চল চোখ দুটো বাঁধনের ভালোবাসার গভীরতায় স্থির হয়ে গেল। বাঁধন নূরের ভেজা ঠোঁটে নিজের অধর ডুবিয়ে দিয়ে, ভালোবাসার এক অতল মহাসমুদ্রে দুজনে একসাথে তলিয়ে গেল... যেখানে শুধুই বাঁধন মির্জা আর তার প্রাণপ্রিয় একমাত্র 'নূর'-এর একচ্ছত্র অধিকার!
(স্পেশাল পার্ট )