ফন্ট সাইজ:
থিম:
Mr. and Mrs. Talukdar

৪র্থ পর্ব

লেখক: অপূর্বা_মেহরিন

#mr_and_mrs_talukdar 

#অপূর্বা_মেহরীন 
#পর্ব_৪
(কপি করা নিষিদ্ধ 🚫)
সূর্যের আলো ধরনির বুকে ছরিয়ে পড়তেই মানব জীবনে আরো একটি ব্যাস্ত দিনের সূচনা হলো।সুধু মানব জীবনেই সূর্যের আলো ব্যাস্ততা নিয়ে আসে না আসে পুরো প্রকৃতিতে। 
আজ সকাল টা শুরু হলো উর্বীর ভিষণ তারাহুরায়। ঘুম থেকে উঠতে তার আজ দেরি হয়ে গেছে। এটা আর নতুন কি প্রায়ই সময় এমন হয় তার সাথে। 
আজ দেরি হওয়ার মূল কারন উর্বশী। কাল মেয়েটাকে অনেক বকাঝকা করা হয়েছে।তারপর রাতে কান্না করতে করতে ঘুমিয়েছে। সকালে যদি ওই অবস্থায় রেখে যেতো তাহলে সারাদিনেও শান্তি পেতো না উর্বী। তাই তাকে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠিয়ে ভিষন তোশামোদ করে খাওয়ানো হলো। তারপর সুন্দর ভাবে মাথায় দুই ঝুটি করে দিলো।আর বকবে না-ই বা কেনো কালকে কার থেকে না কার থেকে খেলনা কিনে নিয়ে এসেছে, কেনো? অন্যের জিনিস যে নেওয়া ঠিক না ওইটা এই মেয়ে কে বেঝানো যায় না। 
উর্বী কার জন্য রোজগার করছে নিজে জন্য?নিজের থেকে বেশি উর্বশীর জন্য তুবুও মেয়েটা বুঝে না। এমনিতে ও ২৭ বছর বয়সের একটি মেয়েকে-কে ঘরে বসিয়ে খাওয়াবে? সে যাই হোক...
এখন আপাতোতো উর্বশী খাটের উপর খেলনা দিয়ে খেলছে। আর উর্বী খুব তারা হুরোর মাঝে রেডি হচ্ছে।
উজ্জ্বল বর্ণের উর্বীর শরীরে হালকা আকাশি রং এর লেডিস শার্ট যা অফ-হোয়াইট রং এর হাই-ওয়েস্টেড ফর্মাল ট্রাউজারে ইন করে পরা। হাতে নরমাল গোল্ডেন ওয়াচ ।কোমরের উপরের হালকা ব্রাউন কালার চুলগুলো ক্রাল করে সামনে কিছু চুল নিয়ে বাকি চুল পিঠে ছড়ানো। মুখ হালকা করে রেগুলার মেকআপ করা। 
ঠোঁটে নুড কালার লিপস্টিক পরা শেষ করে হাত ঘড়িতে সময় দেখলো।ওমনি জিভে কামড় দেয় উর্বী। তারাহুরো করে স্টাডি টেবিলের উপর থেকে আকাশি রং এর ব্লেজার এবং কাধ ব্যাগ নিয়ে দৌরে ঘর থেকে বের হেতে নিয়ে আবার ফিরে এসে উর্বশীর সামনে এসে তার হাত ও খেলনা নিয়ে নিচে চলে আসে।
উর্বীর মা আসমা শেখ ড্রয়িং রুমে বসে টিভি দেখছে আর পান চিবুচ্ছে। উর্বী দ্রুতপায়ে উর্বশী কে টেনে নিয়ে তার মায়ের পাশো সোফায় বোসিয়ে বললো বললো "মা ওক দেখো কেমন আমি গেলাম" বলেই উর্বী সদর দরজায় দৌড় লাগায়। আসমা শেখ উর্বীর পিছন ডেকে বলে "নাস্তা করে যাবি না"
" না, দেরি হয়ে গিয়েছে এমনিতেই " 
উর্বী সদর দরজার সামনে হাই হিল জুতা পরতে থাকা অবস্থায় উর্বশী এসে তার পাশে দারায়। উর্বীর জুতো পরা হয়ে গেলে সে উর্বশীর দিকে তাকিয়ে তার কপালে ছোট করে একটা চুমু খায়। তারপর তার মাথার চুল ঠিক করে দিতে দিতে বলে "আম্মু কাজে যাচ্ছি, এসে যাতে শুনি আমার উর্বশী গুড গার্ল হয়ে ছিলো। তার নামে যাতে কেও অভিযোগ করতে না পারে। কারন উর্বশীর নামের অভিযোগ তার আম্মু সহ্য করতে পারে না "তার পর ডান হাতের এক আঙুল দিয়ে নিজ বুকের বাম পাশে ছুয়িয়ে ইনোসেন্ট ফেস করে বলে "ঠিক এখানে ব্যাথা করে"
তারপর পরই হেসে আবার উর্বশীর এক গালে চুমু দিয়ে বলে "আসছি আম্মু"
উর্বী বেরিয়ে যায় বাসা থেকে। উর্বশী পিছন থেকে দাড়িয়ে হাত নাড়িয়ে বলে "আমু টা টা" 
উর্বী হাটতে থাকা অবস্থায় সেও হাত নাড়িয়ে টা টা দেয়।
---------------------------
রিকশা থেকে নেমে তার ভাড়া পরিশোধ করে অফিসে প্রবেশ করতে করতে কাধ ব্যাগ থেকে অফিস আইডি কার্ড বেড় করে গলায় ঝুলিয় নেয়।
তারপর ব্লেজার শরীরে জরিয়ে নিজেকে একবার ঠিকঠাক ভাবে দেখে নেয় উর্বী।
.....
অফিসের সারিবদ্ধ ডেস্কগুলোর মধ্যে থেকে উর্বী নিজ আসোনে গিয়ে বসে পরে।উর্বী তার ডেস্কে জিনিস সুন্দর ভাবে সাজিয়ে রাখছিলো এমন সময় তার ডান পাশের ডেস্ক থেকে রুহানি তার দিকে উকি দিয়ে এক বার নিজের ঘড়িতে সময় দেখে বলে "তুমি আজ ও লেট উর্বী"
উর্বী দীর্ঘশ্বাস ফেলে। আসহায় মুখ করে চায় রুহানীর দিকে।
এবার উর্বীর বা পাশ থেকে উকি দেয় সাজ্জাদ বলে"উর্বী তোরার প্রেজেন্টেশন ফাইল টা আমাকে একটু দিবে? আসলে আমার ফাইল টায় মনে হচ্ছে কোথাও গোর মেল আছে!!"
হঠাৎ ই উর্বী কিছু মনে পরে যাওয়ার ভঙ্গিতে চোখ বড় বড় কর তাকায় সাজ্জাদে দিকে। উর্বীর এমন চাহনিতে সাজ্জাদ কিছুটা ঘাবরে যায়।
উর্বী এবার কেঁদেই দিবে মনে হচ্ছে। তার এতো তারাহুরোই আসল জিনিই আনতে ভুলে গিয়েছে।
উর্বী এবার তারাতারি ব্যাগ থেকে ফোন বের করতে গিয়ে ব্যাগে থাকা সকল জিনিস পরে যায়। তবুও ওই সব তোয়াক্কা না করে ফোন বের করে কল লাগায় আসমা খেশ এর কাছে।একবার দুইবার তিনবারের সময় কল ধরলো আসমা শেখ। উর্বী রাগী স্বরে বললো
 
"ফোন ধরতে এতোক্ষন লাগে?" বলেই কথা বলতে বলতে লেডিস ওয়াশরুমের দিকে চলে গেলো।
উর্বী যেতেই রুহানি ও সাজ্জাদের বুঝতে বাকি রইলো না যে উর্বী প্রেজেন্টেশন ফাইল আনেনি। কথাটা ভেবেই দুইজনই দীর্ঘশ্বাস ফেললো। রুহানি উর্বীর ব্যাগ থেকে পরে যাওয়া সকল জিনিস উঠাতে লাগলো। তখনি সে খানে উপস্থিত হলো তরিকুল ইসলাম এই ফ্লোরের ম্যানেজার।
সে এসেই গমগমা শুরে বললো "মিস উর্বী শেখ কোথায়?"
রুহানি একটু ভিতু স্বরে বললো "ওয়াসরুম গিয়েছে"
লোকটির মুখে এবার বিরক্তির আভাস দেখা দিলো বললো
"সে আসলে বলবে যাতে সে স্যারের সাথে দেখা করতে যায়"
"ওকে স্যার"
তাদের সম্মতি পেয়ে তরিকুল ইসলাম সেখান থেকে প্রস্থান করেলেন।
সে যেতেই রুহানি হাপ ছেড়ে বাঁচে। লোকটা ভিষন গম্ভীর তার গলার টোন শুনে যেকেও ভয় পেয়ে যেতে পারে। তাকে হাসতে খুব কম দেখা য়ায় আবার যায় না বললেও হয়। 
রুহানি উর্বীর সকল জিনিস গোছগাছ করে উঠে দাড়ায় খেয়াল করে সাজ্জাদ এখনো তার দিকে তাকিয়ে আছে।সে তাঁকাতেই দুইজনেরই চোখাঁচুখি হয়ে যায়। রুহান তাকে মুখ ভেংচি কাঁটে তা দেখে সাজ্জাদ দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তারপর যে যার কাজে মন দেয়।
তারও কিছুক্ষন পরে উর্বী নিজের ডেস্কে উপস্থিত হয়। তাকে দেখে রুহানি নিজ কম্পিউটারে কাজ করতে করতে বলে "স্যার তোমাকে ডেকেছে"
উর্বী স্বাভাবিক কন্ঠে বললো "কাকে?"
সে কিছুটা জোর দিয়ে বললো "তোমাকে"
উর্বী হতাশার শ্বাসফেলে না জানি চাকরি থেকে বের করে দেয় এবার।
এইসব ভাবতে ভাবতেই উপস্থিত হয় এই ডিপার্টমেন্টের হেড এর কেবিন রুমের সামনে। কেবিনের দরজায় বড় করে লিখা Mr. Apurbo Talukdar। 
উর্বী দরজায় নক করে জিজ্ঞাসা করে 
" may I come in sir? "
ভেতর থেকে শব্দ ভেসে আসে " yes!!! coming"
উর্বী আস্তে করে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। দেখে পায় অপূর্ব টেবিলে বসে কিছু ফাইল চেক করছে আর সাইন করছে।
উর্বী টেবিলের সামনে দাড়িয়ে জিজ্ঞাসা করে"আপনি ডেকেছিলেন স্যার?"
ফইলে মনোনিবেশ করেই ছোট করে জবাব দিলো "হুম"
তাকে ফাইলে মনোজগি দেখে উর্বী আর কিছু বললো না। ভাবল তার কাজ শেষ হয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাক। তাই সে পুরো কেবিনে চোখ বুলাতে লাগলো। এমন না যে সে আজ প্রথম এই কেবিনে প্রবেশ করেছে। এর আগেও অসংখ্য বার আসা হয়েছে এখানে।
কেবিন টা হোয়াইট এন্ড ব্লু রং এর মিশেলে রং করা।কেবিনের দেয়ালে অসংখ্য ছোট বড় ছবি কি সব হাবি-জাবি লিখা ফ্রেম টাঙ্গানো। প্রবেশ দরজার ঠিক অপজিট সাইডে সম্পূর্ণ দেয়াল টা কাচের তৈরি যা দ্বারা কড়া আলো আচড়ে পরছে পুরো কেবিনে। দেয়ালের সাথে ফিট করা কয়েকটি বড় বড় কাঠের সেল্ফ যাতে বিভিন্ন ফাইল সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। যেখান টায় অপূর্ব স্যার বসে আছে তার পিছনের দেয়ালে বড় করে লাইটিং করে তার নাম লিখা হয়েছে।
পুরো কেবিন পর্যবেক্ষণ করা শেষ হলে উর্বী অপূর্বের দিকে তাকেলে দুইজন এর চোখাচুখি হয়ে যায়।
অপূর্ব এতোক্ষন তাকে পর্যবেক্ষণ করছিলো আর সে পুরো কেবিন। অপূর্বকে তার দিকে তাকিে থাকতে দেখে সে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পরে।
অপূর্ব তাকে প্রশ্ন করে "আপনার সমস্যা টা কি?"
"জি.. জ্বি স্যার?"
অপূর্বের এবার বিরক্ত লাগতে শুরু করেছে "আমি বলছি আপনার সমস্যা টা আসলে কি? প্রতিদিন কেনো আপনি লেট করে অফিসে আসেন? আপনার কাছে কি চাকরি টা মজা মনে হচ্ছে?"কথাগুলো বলতে বলতে অপূর্ব রেগে যায়।
উর্বী মাথা নিচু করে দাড়িয়ে থাকে কোন উত্তর করে না।
"কি হলো উত্তর দিচ্ছেন না কেনো?"
"......."
"শুনুন আপনার যাদি চাকরি টা করতে ভালো না লাগে তো রিজাইন করুন। আর রিজাইন যদি না করতে চান তবে অফিসের রুলস মেনে চলুন। কারন আমার অফসের রুলস সবচেয়ে মেন। তাও যদি না পারেন তাহলে আমি আপনাকে অফিস থেকে বের করে দিতে বাধ্য হবো"এক নাগারে কথাগুলো বলে থামলো অপূর্ব।
উর্বীর এতোগুলো ঝাজালো কথা শুনে কান দিয়ে গরম ধোয়া বেরহচ্ছে। সে আস্তে ও ছোট করে জবাব দিলো "সরি স্যার আর এমন হবে না, পরের বার থেকে খেয়াল রাখবো"
এবার অপূর্বের ফোন শব্দ করে বেজে উঠলো সে ফোন রিসিভ করতে করতে হাত ঘড়িতে একবার সময় দেখে নিলো ৯:৩০মিনিট ১০টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং রয়েছে তাই উর্বীর কে বললো "এখন যান মিটিং এর জন্য প্রস্তুতি নিন গিয়ে। আর খেয়াল রাখবেন পরের বার থেকে একই ভুল যাতে না হয়।"
উর্বী তাকে ধন্যবাদ যানিয়ে বেরিয়ে গেলো কেবিন থেকে।
চলবে.....
কেমন হয়েছে জানাবেন সবাই।সবাই রেসপন্স করবেন। 

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন