#mr_and_mrs_talukdar
#অপূর্বা_মেহরীন
#পর্ব_৭
(কপি করা নিষিদ্ধ 🚫)
"কি করেছ তুমি, আদিব এর ঘরে?"
কয়েকবার চোখের পাপরি ঝাপটিয়ে ঠোঁট ফুলিয়ে বললো
"কি কলচি?"
উর্বী ভাতের ছোট লোকমা টি উর্বশীর সামনে ধরে বললো
"তুমি জানোই না তুমি কি করেছে?"
উর্বশী গাল ফুলিয় বললো "না"
পাশ থেকে ইয়াস খাবার মুখে ফুলো গালে জোরিয়ে যাওয়া শ্বরে বললো "ও মিথ্যে বলছে ফুপু, ও-ই কিছু একটা করেছে। নয় তো ছোট চাচ্চু এতে রেগে যাবে কেনো? তুমি জানো না ও কতো দুষ্টু!"
বলেই ইয়াস উর্বশীর দিকে তাকিয়ে একটা মুখ ভেঙচি দিলো।
উর্বশী রাগে নাক মুখ কুচকে তাকিয়ে রইলো। এই পর্যায় উর্বশীর চোখ টলমল করে উঠলো। সে উর্বীর দিকে চেয়ে ঠোঁট চেপে কান্না আটকে রাখার চেষ্টা করে অভিযোগ এর শুরে বললো "মা ইয়াস দুষ্তু বলচে,আমি দুষ্তু নয়। ইয়াস দুষ্তু"বলেই হেচিকি তুলে কাদঁতে লাগলো।
উর্বী উর্বশীর দিকে বা-হাত এগিয়ে দিলো বোঝালো কোলে আসতে। উর্বশী ও গুটিগুটি পায়ে উর্বশীর কোলে গিয়ে বসলো। উর্বী ইয়াসের দিকে তাকাতেই দেখতে পায় ইয়াস মুখ ভোতা করে বসে আছে। উর্বী ইয়াস কে ডেকে বললো "ইয়াস ফুপির কাছে এসো"
এবার ইয়াস ও বেড থেকে নেমে উর্বীর পিছনে গিয়ে গলা জরিয়ে ধরলো।
উর্বশী ইয়াস কে ঠেলে দূরে সরিয়ে দিতে চেয়ে বললো"শলো তুমি, তুমি আমাল মাকে ধলবে না, শলো"
ইয়াস উর্বীর গলা জরিয়ে রেখেই বললো "সরি উর্বশী" বলেই মুচকি একটা হাসি দিলো।
উর্বশী কিছুক্ষন গাল ফুলিয়ে বোসে থেকে হঠাৎ ই ফিক করে হেসে দিলো তারপর বললো "আত্তা থিক আছে"
উর্বী এদের মাঝ থেকে উঠে রান্না ঘরে চলে গেলো খাবারে বাটি রাখতে।
উর্বী নিজ রুমে ফিরে এসে দেখলো ইয়াস ও উর্বশী বিছানা কোন রকমের ঠিকঠাক করে নিজ-নিজের জায়গায় সুয়ে বিছানার মাঝখানে উর্বীর জন্য জায়গা করে অপেক্ষা করছে।
ইয়াস বেশির ভাগ দিনগুলোতেই উর্বীর সাথে ঘুমায়। আর এর মূল কারণ হচ্ছে গল্প শুনা।
বলতে গেলে উর্বশী ও ইয়াসের নিত্তদিনের একটি অভ্যেস রাতে গল্প শুনে ঘুমানো। আজো তার ব্যতিক্রম হলো না। উর্বী এসে তাদের মাঝে সুতেই দুইপাশ থেকে দুজোনে জাপ্টে জোরিয়ে ধরে বায়না করলো গল্প শুনবে। উর্বী আর কি তাদের বায়না ফেলতে পারে তাই সেও নিজ মন মতো রাজপুত্র-রাজকুমারীর গল্প বলতে লাগলো।
আর উর্বশী ও ইয়াস মনোযোগী শ্রোতার নয় তা শুনতে লাগলো।
-------------------------------------
"কোথায় তুমি? আমার ফোন কেনো ধরছো না?"
"আমি কোথায় সেটা জেনে তুমি কি করবে? আর বারবার কল-ই বা কেনো করো? দেখছো না আমি কল রিসিভ করছি না তো তোমার বুঝে কি এতোটুকু আসছে না যে এর মানে আমি তোমার সাথে কথা বলতে চাই না?" ঝাঁজালো শ্বরে কথা গুলো বলেই থামলো ফোনের উপর প্রান্তের মেয়েটি।
"কিন্তু কেনো কথা বলতে চাও না? কি সমস্যা টা কি তোমার সেটা তো বলো আমাকে?হুট করে এমন আজোব বিহেভিয়ার কেনো করছো তুমি?"বেশ উত্তেজিত কন্ঠে বলেই থামলো ছেলেটি।
"আমি আজোব বিহেভিয়ার করছি! আমি!!!ওওও...
এখন তো আমার ব্যবহার আজোব লাগবেই তো। আমি তো এখন তোমার কাছে অসহ্য হয়ে যাচ্ছি দিনকে-দিন"প্রথম কথা গুলো আগুনের মতো তিব্র হলেও শেষ এর কথাটা খুবই শিতল শোনা গেলো।
ছেলেটি কিছু বলার আগেই আবার মেয়েটি ফের বলে উঠলো "আমি যখন আজোব-ই তখন আর আমার সাথে কোন সম্পর্ক রাখার প্রয়োজন নেই। কারণ আমি তো আজোব তাই না? তুমি তোমার মতো ভালো থাকো, আমি আমার মতো থাকবো। ব্যাস!"
তারপর ছেলেটি কিছু বুঝে উঠার আগেই মেয়েটি কল কেটে দেয়।
ছেলেটি বুঝতে না পেরে মেয়েটির নাম ধরে ডাকে "রুহানি, রুহানি"যখন বুঝতে পারে মেয়েটি কল কেটে দিয়েছে। তখনি রাগে ফোনটি বিছানায় ছুড়ে মারে।
তারপর আস্তে করে বিরবিরায় " stupid girl"
------------------------------------------
অপূর্বের ভোরে উঠার অভ্যেসটা ছোট বেলার থেকেই। আজও তার অভ্যেস এর ব্যতিক্রম হলো না। ভোর ৬:০৫ ঘুম থেকে উঠে পরে অপূর্ব।
এরপর বাহিরে হাটতে বের হয়। বাড়ি ফিরতে ফিরতে ৭টা অলরেডি বেজে যায়।
সে বাসায় পৌঁছাতেই রিমা হাতে এক মগ কফি নিয়ে উপস্থিত হয় ড্রয়িংরুমে।
অপূর্ব তার হাত থেকে কফির মগটি নিয়ে সোফায় বসে।(রিমা এই বাড়িতে থেকেই কাজ করে প্রায় দুই বছর যাবোত। রিমার বসয় মাত্র ১৭। রিমাকে এখানে )তখনি সেখানে উপস্থিত হয় আমেনা বেগম।
আমেনা বেগম সোফায় বসতে বসতে প্রশ্ন করেন "কালরাত কয়টায় বাড়ি ফিরে ছিলে দাদু-ভাই?"
অপূর্ব ছোট করে উত্তর দিলো "২টায়"
"তা বউমাকে কবে বাড়ি নিয়ে আসবে?"
"আজই, কাজের জন্য তিনদিনের সফরে যাবো পরশু তাই ভেবেছি মাকে ও সাথে করে নিয়ে যাবো।"
আমেনা বেগম উদাসীন কন্ঠে বললো "হ্যাঁ ভালো করেছো, আমার ছেলেটা যাওয়ার পর তো হসপিটাল ও বাড়র চারদেয়ালে বন্ধি হয়ে পরেছে। যদি বাহির থেকে একটু ঘুরে আসে তো মন ও শরীর দুইটাই ভালো লাগবে।"বলতেই তার চোখ অশ্রুতে ভরে উঠলো।
অপূর্ব ও সহমত পোশন করলো। তারপর প্রশ্ন করলো "দাদান কেমন আছে এখন? পায়ের ব্যাথা টা কমেছে কি?"
আমেনা বেগম চোখের জল মুছতে মুছতে জবাব দিলো "হ্যাঁ, এখন কিছুটা কমেছে "
অপূর্ব এবার সোফা ছেড়ে উঠে বললো "ওওও আচ্ছা, ভালো ভাবে খেয়াল রাখবে তার। এখন আমি অফিস এর জন্য তৈরি হতে গেলাম।"
বলেই সে চলে গেলো।
চলবে.....
#mr_and_mrs_talukdar
#অপূর্বা_মেহরীন
#পর্ব_৮
কপি করা নিষিদ্ধ 🚫
অপূর্ব হাতঘড়ি পরতে পরতে ইউভানকে কল করল। কল রিসিভ হতে বেশ কিছুটা সময় লাগল।
ইউভান ফোন কানে চেপে বলল, "হ্যাঁ বল, শুনছি।"
"কোথায় তুই?"
"ওয়াশরুমে।"
অপূর্ব ভ্রু কুঁচকে বলল, "মানে???"
"মানে! মানে আবার কী? আমি ওয়াশরুমে, আর কী?"
"ও, কিন্তু কথা এটা না। কথা, তুই এখন যেখানেই থাক না কেন, আমার বাসায় আয় জলদি, কাজ আছে।" কথাটা বলেই ইউভানকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে কল কেটে দেয়।
এরপর আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজেকে একবার দেখে নেয়।
অপূর্বের পরনে আজ একটি ব্ল্যাক প্যান্ট ও গ্রে রঙের শার্ট, যা ইন করা ও হাতা ফোল্ড করা। যা শক্ত সুঠাম দেহে খুব মানিয়েছে। বা-হাতে একটি সাধারণ ঘড়ি, যা আরহাম তালুকদার অপূর্বকে তার ২৮তম জন্মদিনে উপহার দিয়েছিলেন।
অপূর্ব একজন সুদর্শন ব্যক্তি। ছয় ফুট ইঞ্চির একটি সুগঠিত শক্তপোক্ত শরীর। প্রতিনিয়ত ডায়েট ও শরীরচর্চার কারণে শরীরে কোনো মেদ নেই। শার্টের ওপরেও তার মাংসপেশির গড়ন বোঝা যায়। ঘন ভ্রু, পুরু ঠোঁট এবং তীক্ষ্ণ চিবুক। কালো কুচকুচে চুল।
আয়নাতে নিজেকে পর্যবেক্ষণ করার সময়কালীন অপূর্ব গাড়ির শব্দ শুনতে পায়।তার আর বুঝতে বাকি থাকে না যে বান্দাকে সে তলব করেছিল, সে বান্দা হাজির। ইউভানদের বাড়ি অপূর্বদের বাড়ি থেকে মাত্র ১৫ মিনিটের দূরত্ব, যার কারণে অত সময় লাগেনি।
অপূর্ব তার ব্ল্যাক কলার ব্লেজার নিয়ে নিচে গিয়ে সোজা ডাইনিং টেবিলে বসে পড়ে সকালের নাস্তা করার জন্য।
এরই মধ্যে বাড়ির সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করে ইউভান। ভিতরে এসে ড্রয়িংরুমে আমেনা বেগমকে বসা দেখে প্রথমে তাকে সালাম দেয়।
আমেনা বেগম তার সালামের জবাব নিয়ে বললেন,
"আরে, ইউভান দাদাভাই যে! কেমন আছো তুমি?"
"জি, দাদী। আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আপনি কেমন আছেন?"
"হ্যাঁ, আছি ভালোই। অপূর্ব নাস্তা করতাছে, তুমিও যাও নাস্তা কইরা নেও গিয়া।"
ইউভানও আর কিছু না বলে ডাইনিং রুমে চলে যায়।সেখানে গিয়ে অপূর্বের পাশের একটি চেয়ারে নিজের জায়গা করে নেয়। এরপর রিমাকে বলে তাকেও নাস্তা দেওয়ার জন্য।
তারপর অপূর্বকে জিজ্ঞাসা করে কিসের জন্য এত জরুরি তলব তাকে দেওয়া হয়েছে?
"উমমমমম...."
ইউভান ভ্রু কুঁচকে তাকায় অপূর্বের দিকে।
"কী উমমমম করছিস! কী জন্য ডেকেছিস, আমি তোকে সেটা জিজ্ঞাসা করছি?"
"এমনি, তোর গাড়িতে আজকে লিফট দরকার ছিল।" খুব ভাবলেশহীনভাবে জবাব দিল অপূর্ব।
ইউভান বোকা বনে গেল। এর মাঝে রিমা টেবিলে নাস্তা দিয়ে গেল।
ইউভানও আরও কিছু বলল না। নিজ নাস্তায় মনোযোগী হলো।
বেশ কিছুক্ষণ পর অপূর্ব বলল, "আমি ভেবেছি এই বিজনেস ট্রিপে মাকে সঙ্গে করে নিয়ে যাব। এতে করে মায়ের মন যদি ফ্রেশ হয়।"
"হ্যাঁ তো যা, খারাপ কী আছে তাতে? বরং আন্টির খুব ভালো লাগবে এতে।"
"হুম, আমিও তাই তো বলছি। কিন্তু ওইখানে গেলে মাকে দেখাশোনা করার জন্য তো একজনকে লাগবে? তো এখন আমি এমন মানুষ কোথায় পাব, তার পরামর্শ চাইছি তোর কাছে।"
ইউভান এখন আর চোখে চাইল অপূর্বের দিকে। এরপর বলল, "ওওওও, এই কথা তো তুই আমাকে অফিসে গিয়েও বলতে পারতিস। তাই না?"
অপূর্ব এবার তার খাবারের প্লেট নিয়ে রান্নাঘরে যেতে যেতে বলল, "আমি আজকে লাঞ্চে থাকব না অফিসে, আর অফিস গেলে তো আর কথা বলার সময় পাব না। তার জন্য তোকে এখানে ডাকা।"
"ওওও আচ্ছা, আচ্ছা। এই ব্যাপার? এটা তো খুব সহজ সমাধান আছে আমার কাছে।"
------
প্রতিবারের মতো আজকেও উর্বী অফিসে লেট। নিত্যদিনের অভ্যাস হয়ে উঠেছে হয়তো তার এটা। উর্বী নিজের ডেস্কে বসে নিজেদের সকল কলিগদের দিকে একবার নজর বুলাল।
আটতলা এই বিল্ডিংয়ের সাতটি ডিপার্টমেন্ট রয়েছে। আর উর্বী কাজ করেন সাত নম্বর ফ্লোরে।তাদের ডিপার্টমেন্টে মোট আটজন সদস্য রয়েছে। তাদের মধ্যে উর্বীকে নিয়ে তিনজন মেয়ে ও বাকি পাঁচজন ছেলে।মোটামুটি সবার সাথেই তার সুসম্পর্ক, কিন্তু সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক তো রুহানির সাথে।
কিন্তু আজ অফিসে এসে তাকে দেখতে না পেয়ে উর্বী একটু অবাকই হলো। কারণ সচরাচর এমন হয় না। তাই সে সাজ্জাদকে জিজ্ঞাসা করল, "এই সাজ্জাদ? রুহানি কোথায়?"
সাজ্জাদ এবার ঘুরে তাকাল তার দিকে, কিন্তু কিছু বলল না। সে আবার তার কাজে মনোযোগ দিল।
উর্বী যেই না এবার কিছু বলার জন্য মুখ খুলল, অমনি সাজ্জাদ রাগী স্বরে বলল, "ও কোথায়, আমি কীভাবে বলব? আমাকে কেন জিজ্ঞাসা করছো তুমি???"
উর্বী অবাক হয়ে গেল তার এমন ব্যবহারে। সে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ডিপার্টমেন্ট ম্যানেজার তাকে বলল, বস তাকে ডেকে পাঠিয়েছেন। তাই আর উর্বী কিছু না বলে চলে গেল।
-------
দরজায় দুইবার নক করতেই কেবিনের ভেতর থেকে অনুমতি ভেসে এলো। উর্বী কেবিনে প্রবেশ করতেই অপূর্ব বলল, "আপনি আজও লেট, মিস উর্বী!"
উর্বী কিছু বলতে পারল না, মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল শুধু মাত্র।
অপূর্ব আবার বলল, "এরকম চলতে থাকলে তো হয় না! এটা অফিস। এখানে সব এমপ্লয়িজ সমান। আপনি প্রতিদিন লেট করে আসলে তো এটা সবার চোখে বাধবে। এরপর তারাও আপনার মতোই কাজে ফাঁকি দেওয়া শুরু করবে, তাই না? আপনার যদি কোনো ধরনের সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে আপনি রিজাইন করতে পারেন।"
প্রতিটা কথা উর্বী মাথা নিচু করে শুনে গেল। তারপর আস্তে করে জানাল, "সরি স্যার, আর এমন ভুল হবে না।"
অপূর্ব কিছু বলল না। এই কথাটা সে আরও অনেকবার শুনে ফেলেছে।
স্যারকে কিছু বলতে না দেখে উর্বী ঘুরে যেই না কেবিন থেকে বেরিয়ে যাবে,
অমনি পিছন থেকে অপূর্ব গমগমে স্বরে বলল, "দাঁড়ান, আমি কি আপনাকে যেতে বলেছি?"
চলবে.....