#আমি_সেই_নীতু
#পর্ব_২১
#আনাবিয়া_বৃষ্টি
আপনারা.................
মোরশেদ : হো আমরা রাজকন্যা , তোমারে আনোনের লাগি তোমাগো বাড়ি গেলাম পাইলাম না , আর তুমি এইহানে? ভালোই হইছে , তা তুমি এইনে কি করো ?
নীতু : দেহেন আমায় যাইতে দেন,আপনারা এই হানে কেন ? এইটা তো রূপগঞ্জ মনে হইতাছে না ,
মোরশেদ : এইটা রসুলপুর রাজকন্যা , এই জায়গায়ই আমাদের রাজত্ব , আর আজকে তুমি এই রাজত্বের রানী, হাহাহাহাহা (বিশ্রী ভাবে হাসতে থাকে )
বিল্লাল: আমরা তোমার কোনো ক্ষতি করুম না , শুধু একটু ( বিশ্রী অঙ্গভঙ্গি করে )
নীতু ভয়ে নিজের ব্যাগ শক্ত করে ধরে,মনের ভিতর ভয়েরা বাসা বাঁধে, তাহলে কি আজই তার শেষ দিন ? সে কি আর এই পৃথিবীর সকালের আলো দেখতে পারবে না ? তার বাবার খু*নির শাস্তি কি আর হবে না ? কেও কি নাই তার সাহায্য করার ? তাকে রক্ষা করার ? এদের হাতেই কি তার সতীত্ব হরণ হবে ?তার শেষ রক্ষা কি আর হবে না ?
________________________
এইদিকে বাড়িতে নীতুকে খোজার জন্য সবাই মরিয়া হয়ে উঠেছে , বিশেষ করে ফাইজুল ভাই নীতুকে পাগলের মত খুজে বেড়াচ্ছে , বাড়ির প্রতিটা কোনায় কোনায় তাকে খুজে বেড়াচ্ছে,তাকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না , পাবে কি করে ? সে তো বাড়িতেই নেই ,
ফাইজুল : বাবা খুজে পেলে নীতুকে ?
বড় চাচা: না বাপ , কোথায় গেলো মাইয়া ডা ?
ফাইজুল : আমি জানি এইটা মোরশেদের কাজ
মেজো চাচা: কি ? মোরশেদের এই কাজ কেন করব ?
ফাইজুল : সন্ধ্যায় যখন রিমিকে খুজে পাওয়া যাচ্ছিল না তখন মোরশেদ আসে,মোরশেদ জানায় রিমি নাকি দুই দিন ধরে মোরশেদের কাছে গিয়ে নীতুরে তুইল্যা নিতে বলে , আজকেও নাকি গেছে , মোরশেদ রিমিরে আটকাইয়া রাখছে আর কইছে যদি নীতুরে ওর হাতে তুইল্যা না দেই রিমিরে ছাড়বো না , ( নীতু যে সব জানে তা আর কাউকে বলে না ফাইজুল ভাই ।বলেনি তারা যদি জানতে পারে নীতু সব জানে তারা নীতুকেও মেরে ফেলবে , ফাইজুল ভাইয়ের সন্দেহ হয় নীতু একা পালিয়েছে আর না হয় মোরশেদ তাকে নিয়ে গিয়েছে )
বড় চাচা: তাইলে মোরশেদরে খুইজা আনো যাও , আমার বাড়ির মাইয়ার দিকে ওর নজর পড়ছে , ওর চোখ তুলে ফেলবা যাও সামাদ( মেজো চাচা)
মেজো চাচা: আচ্ছা
ফাইজুল : আমার নীতুর যদি কিছু হয় আব্বা আমি আপনার মাইয়ারে জেন্তো কবর দিমু কইয়া দিলাম ,
এই বলে ফাইজুল ভাই চলে যায় নীতুকে খুঁজতে ,,, রূপগঞ্জ ওলিগলি খুজে বেড়াচ্ছে ফাইজুল কোথাও নীতুর হদিস মিলছে না,তাকে খুঁজতে খুঁজতে পাগল প্রায় ফাইজুল ভাই, ফাইজুল ভাইয়ের লোক মোরশেদকে খুজে বেড়াচ্ছে,
____________
এইদিকে নীতুকে সবাই ঘিরে রেখেছে, কোথাও যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই ,সে পালানোর রাস্তা খুজে যাচ্ছে,তার ভীষন ভয় করছে এই বুঝি তার জান গেলো বলে ,,নীতু পালানোর জন্য রাস্তা খুঁজছে সেই সময় তার হাত টা মোরশেদ ধরে,নীতুর বুকটা কেঁপে উঠল সেই সময়,তাকে টেনে কোথায় যেন নিয়ে যাচ্ছে,নীতু চিৎকার করে উঠে...,
নীতু : কেও আছো??? বাঁচাও আমারে , কেও কি আছো ?????
বিল্লাল : এইখানে কেও আইবো না তোমায় বাঁচাইতে , রূপসী, তোমারে আমাগো লগেই যাইতে হইবো (বিশ্রী অঙ্গভঙ্গি করে)
নীতু : আমায় ছাড়েন কইতাছি , ভালো হইব না কইতাছি , ছাড়েন আমায় , আমি কি ক্ষতি করছি আপনাগো ? (নিজের হাত ছাড়াতে ছাড়াতে)
মোরশেদ : তোমার হাত কি ছাড়ার লাইগা ধরছি ? আগে আমাগো কাজ শেষ হোক তার পর না হয় ভাইবা দেখুম
নীতুকে একটা জঙ্গলের ভিতর নিয়ে যায় , ওদের হাতে মশাল জ্বালিয়ে রেখেছে , তাই নীতু কিছুটা দেখতে পেয়েছে..একটা পুরনো বাড়ি দেখা যাচ্ছে , খুবই ভয়ংকর দেখতে, বাড়িটির চারপাশে মশাল জ্বালানো, তাকে বাড়ির ভিতরে নিয়ে যায়,তাকে একটা ঘরে ছুঁড়ে মারে , ঘরের চারদিকে মাটির কারুকাজ করা , ঘরের চারপাশে মশাল জ্বালানো, দেয়ালের বিভিন্ন জায়গায় রাজা বাদশাদের হাতের তলোয়ার যেমন হয় তেমনি কত গুলো তলোয়ার দেয়ালে লাগানো , ঘরের বিভিন্ন জায়গায় রক্ত লাগানো , অনেক বাজে গন্ধ এখানে,গা গুলিয়ে আসছে তার, এই সব দেখে ভয়ে গলা শুকিয়ে যাচ্ছে,তার হাত পা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে ,
মোরশেদ : কি ভাবতাছো ? এই জায়গা বাসরের জন্য পছন্দ হইতাছে না বুঝি ? কি করুম কও , এর থাইকা আর ভালা জায়গা এইহানে নাই রাজকন্যা , আজ যে আমাগো এইহানেই বাসর হইব হাহাহা........
নীতু : আমায় ছাইড়া দেন আপনাগো দোহায় লাগে আমায় ছাইড়া দেন , আমার লগে এমন কইরেন না আপনারা, আমি আপনাগো পায়ে পড়ি আমায় ছাইড়া দেন (হাত জোর করে )
বিল্লাল : আর পায়ে পরণ লাগবো না তোমার জায়গা আমগো বুকে রূপসী, আমাগো কাজ হইলে তোমারে ছাইড়া দিমু
মোরশেদ : এই তোরা আয় আমারা মাল নিয়া আহি , আজ আমগো খুশির দিন , আইজ আমগো রঙ্গলীলা হইব (বিশ্রী নজরে আমার দিকে তাকিয়ে)
সবাই ঘর থেকে চলে গেলে,নীতু দৌড় দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে , ঘর থেকে দুপা সামনে আগায় আবার এক পা পিছনে দেয়,নীতুর চোখ খুজে বেড়াচ্ছে ওই মানুষ রূপী রাক্ষসদের,সে যেহুতু এই বাড়ীর কিছুই জানে না , তাই রাস্তা খুজে পাচ্ছে না , কিছুটা দূরে যেতেই মানুষের পায়ের শব্দ পায়, ধীরে ধীরে তাদের কথার শব্দ তার কানে আসে ,, মোরশেদরা আসছে,নীতু ওদের শব্দ পেয়ে একটা দেয়ালের পিছনে লুকিয়ে পরে , ওরা সেই ঘরে চলে যায় , এই বাড়ি হয়তো জমিদার বাড়ি , এই বাড়ির কোনায় কোনায় মশাল জ্বালানো , তাই সব কিছু দেখা যায়,তাকে যে ঘরে রেখে ছিল সেই ঘর থেকে কথার শব্দ আসছে,তাকে না পেয়ে , বাহিরে আসে ওরা , আর বলে
মোরশেদ :বিল্লাল তোরা এই দিকে যা ( বাম দিকে ইশারা করে ), আর তোরা আমার লগে আয়...
বিল্লাল: আইচ্ছা
সবাই তাকে খুঁজতে শুরু করেছে,নীতু ভয়ে বের হতে পারছে না,সে এখনো সেই দেয়ালের পেছনে , কাউকে দেখতে না পেয়ে সে বের হয়ে যেই পা বাড়াবে তখন তার পেছন থেকে হাসির শব্দ আসে , এত জোড়ে হাসছে পুরো বাড়ি কেঁপে উঠল সাথে তার হৃদয়ও , আর বুঝি শেষ রক্ষা তার হলো না , পিছন থেকে মোরশেদ বলে
মোরশেদ : কই পালাও , এইহান থাইকা পালানোর কোনো রাস্তা নাই , আইজ আমগো হাত থাইকা তোমায় কেও বাঁচাইতে পারবো না ,
সেই সময় মোরশেদের সকল লোক চলে আসে , নীতু দৌড় দিতেই সবাই তাকে ধরে নিচে ফেলে দেয় , সবাই নীতুর দিকে ক্ষুধার্থ পশুর মত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে , এই বুঝি তাকে গিলে ফেলবে , সবাই তার ওপর হামলে পরে সে চিৎকার দিয়ে উঠে...
লাল ভাই.............................
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, চলবে ? ,,,,,,,,,,,,,,,