#আমি_সেই_নীতু
#পর্ব_২২
#আনাবিয়া_বৃষ্টি
লাল ভাই....................
মোরশেদরা ছয় থেকে সাত জন ছিল , সবাই নীতুর ওপর হামলে পরে,তার দম বন্ধ হবার জোগাড় , তাদের পশুর মত হাত গুলো দিয়ে তাকে ছুঁয়ে দিলো , কেউ তার পা ধরে রেখেছে কেউ বা তার মুখ আবার কেও হাত , হিংস্র ক্ষুধার্থ জানোয়ারের মতো তাকে ধরে রেখেছে , এই বুঝি খেয়ে ফেলবে,নীতু ছোটাছুটি করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে,তার শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে তাদের নখের আঘাতে , যেই তাকে তারা গভীর ভাবে ছুঁতে যাবে কোথা থেকে যেনো বিকট শব্দ কানে আসে...
সবাই সেদিকে তাকাতেই তাদের হাতের বাধন হালকা হয়ে যায়,নীতু এই সুযোগ নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়,কিন্তু বেশি দূর যেতে পারে না,তাকে সবাই ঘিরে ধরে,সে এদিক সেদিক তাকিয়ে দেখছে কিছু পায় কিনা,তার পিছনেই একটা তলোয়ার পায় , তা দিয়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে, যখন আবার তারা তাকে ধরতে আসবে আবার একটা শব্দ কানে আসে সবাই সেই দিকে তাকাতেই নীতু আবার সেখান থেকে পালাতেই তার হাতে লেগে আগুন জ্বালানো মশাল নীচে পরে যায়,হঠাৎ আগুন দাও দাও করে জ্বলতে শুরু করে, নীতু বুঝে উঠতে পারছে এইভাবে দাও দাও আগুন কিভাবে লেগে যায় , ধীরে ধীরে আগুন সব জায়গায় ছড়িয়ে যায়,নীতুর ওড়নায় আগুন লেগে যায় , মোরশেদরা তার পিছনে ছুটে চলছে,সে দৌড়ানোর সময় পিছন থেকে একটা মেয়ের চিৎকারের শব্দ পায়,কিন্তু তার সেখানে যাওয়ার অবস্থা নেই নীতু ওড়না সেখানেই ফেলে বাহিরে চলে আসে , নিজের প্রাণ বাঁচানোর জন্য দৌড়াতে থাকে,তার পিছনে মোরশেদের আর খুজে পায়নি , হয়তো সেই মেয়ের শব্দ পেয়ে সেই দিকেই গিয়েছে তারা ...
__________
এই দিকে পুরো রূপগঞ্জ খুজে বেড়াচ্ছে ফাইজুল , কোথাও নীতুর হদিস মিলছে না, সেই সময় পরান ভাই বলেন
পরান : ফাইজুল !!! বিট্টু কইলো ওর বাপ নাকি রসুলপুর থাইকা আহনের সময় মোরশেদ গো একটা মাইয়ারে তুইল্যা নিয়া যাইতে দেখছে, বিট্টুর বাপ ভাবছে এইটা আর নতুন কি ? ওরা হয়তো আবার কোনো এক মাইয়ারে নিয়া যাইতাছে তাই কিছু কয় নাই...
ফাইজুল : নীতুর মুখ দেখে নাই ? ( চিন্তার চাপ নিয়ে )
পরান : না মাইয়াডা নাকি লাল ভাই কইয়া ডাকতাছিল ,
ফাইজুল: লাল ভাই ??? লাল ভাই তো নীতু ফাইয়াজরে কয় ,
পরান : আরে হো আমি তো ভুইলাই গেছিলাম , এখন কি হইব ফাইজু ?? নীতু কি এখনো .............
ফাইজুল : আমার ধ্বংসবতীর যদি কিছু হয় , ওই মোরশেদ গো আইজ শেষ দিন (রাগি কণ্ঠে )
পরান:এহন কি করবি ?
ফাইজুল : ওরা যেহূত রসুলপুর আছে নিশ্চই ওরা পুরান বাড়ি নিয়া গেছে নীতুরে , সবাইকে বল আমরা রসুলপুর যাবো , নীতুর খবর পাওয়া গেছে ,
পরান : কিন্তু ফাইজুল ঐটা যে আমগো অস্থানা সবাইরে কেমনে কমু ? সবাই গেলে আমগো ক্ষতি .......
ফাইজুল : আমার মাথা কিছু কাজ করতাছে না পরান , আমার নীতুরে চাই,,, চাই চাই ,,, আমার ধ্বংসবতী শুধুই আমার , আমার নীতুর কিছু হইলে আমি যে বাঁচুম না পরান (কান্না ভেজা চোখ ) নীতু আমার জান ,নীতু আমার পরান , আমার অস্তিত্ব শুধু নীতুর জন্য ... ওরে ছাড়া আমি বাঁচুম না..
পরান : তাইলে আর দেরি করিছ না , চল আমরা যাই , পরে নাইলে তোর আব্বাগো জানান যাইবো , আগে আমরা যাই ........
ফাইজুল : হুম চল .........
________________
পুরো বাড়ি ধীরে ধীরে আগুনে জ্বলছে , মোরশেদ রা নীতুকে খুজে বেড়াচ্ছে,তাকে না পেয়ে হাল ছেড়ে দেয় , তারা বের হওয়ার সময় শেষবার সে যেই ঘরে ছিল তার দরজার সামনে তার ওড়না একটু খানি টুকরো খুজে পায় , তারা একটু সামনে যেতেই কারো শব্দ পায় সেদিকে গিয়ে দেখতে পায় একটা মেয়ে , তার গায়ে আগুন লেগে পুরো শরীর ঝলসে গেছে , হাত বাড়িয়ে ডাকছে , যেনো তারা মেয়েটাকে বাঁচায় , মেয়েটা ইশারা করতে করতে ধুম করে নীচে পরে যায় , মেয়েটা শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে , মেয়েটার মুখ দেখে বোঝার উপায় নেই এই মেয়ে টা আদো নীতু নাকি অন্য কেউ , মেয়েটার পুরো শরীর ঝলসে গেছে, মোরশেদরা মনে করে এই মেয়ে টা হয়তো নীতু,কারণ এখানে মোরশেদ এর লোক আর নীতু ছাড়া কেও ছিল না ,
বিল্লাল : মাইয়াডা মইরা গেল মোরশেদ , ফাইজুল জানলে আমগো মাইরা লাইবো রে মোরশেদ , (ভয়ে পেয়ে)
মোরশেদ: আমিও এইডাই ভাবতাছি , এতখন মাইয়াডা বাইচা আসিল ভয় করে নাই এহন তো নীতু পুইড়া ছাই হইয়া গেলো , ফাইজুল জানতে পারলে আমগো আর বাঁচাইয়া রাখবো না , আগুন ও বারতাসে ভাগ তোরা ........
ফাইজুল আর পরান জমিদার বাড়ি পৌছে দেখে বাড়ির ভিতরে আগুন জ্বলছে , তারা কিছু বুঝতে না পেরে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে , কাউকে দেখা যাচ্ছে না , ফাইজুল ভাইয়ের মনে সন্দেহ বাঁধে
ফাইজুল : পরান আমার নীতু কি ভিতরে ? নীতুর কিছু হয় নাই তো ? এই বাড়িতে আগুন কেন? আমার নীতু কই ? নীতুরে এই জায়গায় আনছে ? কই আমার ধ্বংসবতী ? কই ......
তার চিৎকারে যেনো পুরো এরিয়া কেঁপে উঠে ....
পরান : কিছুই তো বুঝতাছি না , মোরশেদ গো তো দেখতাছি না (এদিক ওদিক তাকিয়ে)
ফাইজুল : আমি ভিতরে যামু , আমার নীতু আমার জন্য অপেক্ষা করতাছে .... আমার ধ্বংসবতী হয়তো আমায় খুজতাছে ....
পরান : পাগল হইয়া গেছস ফাইজুল , আগুন পুরা বাড়ি ছড়াইয়া গেছে কেমনে ঢুকবি ? আর ঢুকলে খুঁজবি কই ? এত বড় বাড়ি ।
ফাইজুল : আমি আমার নীতুর জন্য সব পারি , আমি আমার নীতুরে খুইজা বাইর করমুই, নীতুর নিশ্বাস আমার চেনা , ওর গায়ের গন্ধ আমার চেনা , ওরে চিনতে আমার ভুল হইব না , ছাড় আমারে ......
সেই সময় মোরশেদ ও মোরশেদের এর লোক জমিদার বাড়ি থেকে বের হয় ,
পরান : ফাইজুল দেখ মোরশেদরা বাড়ি থাইকা বাইর হইতাছে ....
ফাইজুল আর পরান মোরশেদের সামনে গিয়ে দাড়ায় , ফাইজুলকে দেখে মোরশেদরা ভয় পেয়ে যায়। ভয়ে কাপতে থাকে.. বার বার ধোগ গিলে...
মোরশেদ : ফাইজুল .........
ফাইজুল : আমার নীতু কই মোরশেদ ? (শার্টের কলার চেপে, রাগি চোখে তাকিয়ে)
মোরশেদ : আ... আমি জানি না নীতু কই (আমতা আমতা করে)
পরান : আমরা জানি তোরা নীতুরে তুইল্যা আনসোছ , ভালোয় ভালোয় কইয়া দে নীতু কই ? আর এই বাড়ির ভিতরে আগুন কেন ?
ফাইজুল মোরশেদকে ছেড়ে দিয়ে কিছু দূর গিয়ে একটা গাছের ডাল নিয়ে আসে মোরশেদের খুব মারে , মারতে মারতে রক্তাক্ত করে ফেলেছে ,
ফাইজুল : বল আমার নীতু কই ? বল
বিল্লাল : নীতু আগুনে পুইড়া মইরা গেছে ফাইজুল ভাই (ভয়ে ভয়ে মুখ ফসকে বলে ফেলে)
ফাইজুল : কী...............
____________
এইদিকে নীতু দৌড়াতে দৌড়াতে অনেক দূর চলে যায় , এই জায়গাটাও তার পরিচিত না,সে জানে না সে কোথায় এসেছে?নীতুর গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে এসেছে,সে পানি পানি বলে ডাকতে থাকে , কেও নেই আসে পাশে , থাকবে কি করে এখন যে গভীর রাত, কয়টা বাজে ঠিক নেই,সে আরো কিছুটা দুরে গিয়ে একটা গাড়ির সাথে ধাক্কা লাগায় পরে যায় , একজন লম্বা সুঠাম দেহের একজন পুরুষ গাড়ি থেকে নেমে আসে,তাকে কেনো যেনো মনে হচ্ছে তাকে নীতু চেনে , কিন্তু মনে করতে পারছে না,সে লাল ভাই বলেই অজ্ঞান হয়ে যায়,তার আর কোনো সাড়া শব্দ নেই , লোকটি তাকে তার বাহুতে নিয়ে নীতুর মুখ তার দিকে ঘুরিয়ে , চুল গুলো মুখ থেকে সরিয়ে জোরে চিৎকার করে বলে উঠে....
বউ.................
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, চলবে ? ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,