(এটা একটা সম্পুর্ন কাল্পনিক চরিত্র আর কাহিনী। যার বাস্তবের সাথে একটুও মিল নেই। এটাকে সবাই বিনোদন হিসেবে নিবেন। এই উপন্যাসে অনেক জায়গায় বর্ননা আনকমন থাকবে। যার জন্য কেউ প্লিজ আমাকে রোস্ট করবেন না।)
────────────────────────────
"আহহ" মৃদু আর্তনাদ করে মাথায় আঘাত স্থানে হাতে রেখে উঠে বসে একটা ১৬ বছরের কিশোরী। কিশোরী টার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত হয়ে আছে। কিশোরী টা চারিদিকে এক বার নজর গুলিয়ে নেয়। তারপর মনে করার চেষ্টা করে তার সাথে কি হয়েছিল। সে একটা উঁচু পাহাড়ে উঠেছিল তারপর কেউ একজন তাকে ধাক্কা দিয়ে পাহাড় থেকে ফেলে দিয়েছিল। সে পাহাড় থেকে একটা নদীতে পড়ে গিয়েছিল। আর আর মনে নেই কিশোরী টার।
সূর্য এতক্ষণে পশ্চিম আকাশে অবস্থান করেছে। মেয়েটি মাথার ক্ষত স্থানে হাত রেখে উঠে দাড়িয়ে মাথায় থাকা কালো রঙের হিজাব টা আস্তে আস্তে খুলে ফেলে। গায়ের বোরকা টাও এখনো ভেজা। মেয়েটা হিজাবের দিকে ভালো করে খেয়াল করে দেখে হিজাবে অনেক খানিক রক্ত লেগে আছে। মেয়েটা নিজের কাঁধে থেকে মাঝারি আকারের ব্যাগ টা সামনে নিয়ে এসে খুলে দেখে। মেয়েটা নিজের উপর অনেক গর্বিত হয়। কারণ সে নিজের ব্যাগের ভিতরে প্রতেক টা জিনিস পলিথিন দিয়ে মুরিয়ে রেখেছিল যার জন্য ব্যাগের ভিতরের থাকা জিনিস গুলো পানিতে ভিজে যায়নি। মেয়েটা নিজের গায়ে থাকা কালো ওড়না টা খুলে অন্য একটা ওড়না নেয়। আর রক্ত মাখা ওড়না টা পলিথিনের ভিতর রেখে দেয়।
ততক্ষণে চারিদিকে অন্ধকার হয়ে গিয়েছে। মেয়েটা র এবার ভয় লাগতে শুরু করলেও নিজেকে সাহস দিতে থাকে। ব্যাগে থেকে একটা ফুল চার্জে দেওয়া লাইট বের করে। মেয়েটা ব্যাগে থাকা একটা ৯০ পার্সেন্ট চার্জে টাচফোন বের করে দেখে এখন ৬টা ১০ বাজে। মেয়েটা নিজে সুস্থ রাখার জন্য একটা ভালো স্থান খোঁজে। মেয়েটা একটা গুহা দেখতে পেলে সেখানে যায়। লাইটের আলো জালিয়ে ভিতরে ঢুকে যায়। মেয়েটা গুহার ভিতরে প্রবেশ করার সাথে সাথে গুহার দরজা বন্ধ হয়ে যায়। তাও মেয়েটা নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করে। মেয়েটা চারিদিকে আলো মারতে ই আতকে উঠে। এই গুহার দুই পাশে দুইটা ৪০ ফুটের পাইথন রয়েছে। মেয়েটা মনে মনে ভাবে ওর জানা মনে বাংলাদেশ কেনো পুরো এশিয়ান কান্ট্রির মধ্যে পাইথনের উপস্থিত নেই। মেয়েটা আস্তে আস্তে সামনের দিকে যায় কারণ পাইথন গুলো ফসফস দূরে থাক তার দিকে তাকিয়েও দেখছে না। কিন্তু তাদের নিঃশ্বাসের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। নাহলে মেয়েটা ধরে নিত যে এগুলো কোনো মুর্তি। মেয়েটা কিছু দূর গিয়ে থমকে যায়। সামনে একটা বিশাল বড় গেট যার মাঝখানে বড় বড় ইংরেজি অক্ষরে লেখা " Welcome to the hell village " । মেয়েটা কৌতূহল নিয়ে গেটাতে হাত রাখে এবং গেটা সাথে সাথে খুলে যায়। মেয়েটা গেটের ভিতরে প্রবেশ করে। মেয়েটা বুঝতে পারে সে গুহার বাইরে চলে এসেছে। কারণ চারিপাশে মাঠ দেখা যাচ্ছে। মেয়েটা সামনে পা বাড়াতে ই মেয়েটার মাথা ঘুরে উঠে।
মেয়েটা মাটিতে ই বসে পড়ে। মেয়েটা বুজতে পড়ারে যে এটা
কাঁচা মাটির রাস্তা না এটা একটা পাঁকা রাস্তা। মেয়েটা সাহায্য চাওয়ার জন্য আশেপাশে তাকায় এখানে কাউকে দেখা যাচ্ছে। মেয়েটা একবার সময় দেখে নেয়। এখন বাজে ৭টা ১৫।
মেয়েটা হঠাৎ একটা ছেলে কে দৌড়ে এখানে আসতে দেখে। তারপর তারপর আর কিছুই মনে নেই মেয়েটার।
────────────────────────
সকাল ৬টা,,
নিজেকে একটা ঘরে আবিষ্কার করে নেহা। নেহা দেখে তার ক্ষত স্থান গুলোতে ব্যান্ডেজ করা। নেহা র জ্ঞান হারানোর আগের ঘটনা গুলো সব মন করার চেষ্টা করে আর সেগুলো মনেও পড়ে যায় নেহা র।
হঠাৎ ঘরে একজন নেহা র বয়সের ছেলে আর একজন ২৩ কি ২৪ বছরের যুবক এবং একজন ফিমেল ডাক্তার আসে। নেহা তাদের দিকে তাকায়। এরপর উঠে বসতে চাইলে যুবক এসে বলে-
"আরে আপু উঠবেন না। আপনি এখনো অনেক সিক। প্লিজ আপনি শুয়ে থাকুন।
" ভাইয়া আমি ঠিক আছি।
তারপর ফিমেল ডাক্তার নেহা র ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে যুবক কে নিয়ে চলে যায়।
"হাই, আমি সিকান্দার মাহির।
নেহা র বয়সের ছেলেটা নিজের হাত বাড়িয়ে নিজের নামটা বলে।
নেহা প্রথমে কিছুটা বিব্রত বোধ করে। তারপর সাহস জাগিয়ে নিজের হাত বাড়িয়ে পরিচয় দেয়।
" হ্যালো, আমি সবনম মুস্তারি নেহা ।
"হ্যালো কিউটি, আমি সিকান্দার আনভি।
যুবক টা ঘরের দরজায় দিয়ে নিজের পরিচয় বলল।নেহা একটু উঠে বসে। মাহির আর আনভি বিছানার দুইজন দুইপাশে বসে। আলভি সিরিয়াস হয়ে বলল-
" নেহা ডোন্ট মাইন্ড আমি তোমাকে তুমি করে বলব।
নেহা মৃদু হেসে বলল-
"আমি মাইন্ড করবো না
" আচ্ছা তুমি এখানে আসলে কি করে..?
নেহা নিজের বেপারে বলে পাহাড় থেকে কেউ তাকে ধাক্কা দেওয়া থেকে এই ভিলেজ এ আসা পর্যন্ত। নেহা র কথা শুনে মাহির বলল-
"বাহ তুমি তো দেখছি অনেক সাহসী।
নেহা কিছু বলল না। আনভি কিছু টা চিন্তিত হয়ে বলল
" তুমি জানো নেহা। তুমি আর কখনো এই হেল ভিলেজ থেকে বের হতে পারবে না।
"এখানে কি এমন আছে যে এটা পুরো পৃথিবী থেকে আলাদা..?
" জানি না এখানে কি এমন আছে।
শান্ত কিছু একটা চিন্তা করে বলে
"আমি একটা কথা বলল মন দিয়ে শুনবে।
নেহা মাথা নাড়াই যার অর্থ সে মন দিয়ে শুনবে।
" তুমি কখনো রাত ৭টা ৫০ বাজার পর এই ব্ল্যাক কিং হাউস থেকে বের হবে না। বাহিরে যা কিছুই হয়ে যাক। মনে থাকবে তো।
নেহা মাথা নাড়ে।
"আমি জানি তোমার মাথার ভিতরে অনেক প্রশ্ন কিলবিল করছে। কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর আমি দিতে পারবো। যদি সে অনুমতি দেয়।
নেহা মনোযোগ দিয়ে আনভি কথা শুনছিল।
" এখানে কোন মেয়ে নেই।
আনভি আর মাহির দুইদিকে মাথা নাড়ে। নেহার হা করে তাকায়।
"আমি একা একটা মেয়ে দুইজন ছেলের সঙ্গে থাকবো।
মাহির বত্রিশ টা দাঁত দেখিয়ে বলল
" দুইজন না তিনজন।
"তিন নম্বর জন টা আবার কে..?
" এসএস
নেহা হতাশ হয়ে বলল
"এই এসএস টা আবার কে..?
মাহির কিছু টা গর্ভ করে বলে
" এই হেল ভিলেজ এর মাফিয়া আর সবচেয়ে শক্তিশালী ব্ল্যাক টিম এর লিডার সানভি সিকান্দার।
"ওহ। তিনি এখন কোথায়..?
আনভি ইনোসেন্ট মুখ করে বলল
" দোয়া করো ভাই এখন এখানে নেই।
নেহা সন্দেহ দৃষ্টিতে তাকায় আনভির ইনোসেন্ট ফেস এর দিকে।
"কেনো.? বাড়ির মালিক জানে না যে তার বাড়িতে একা একটা মেয়ে আছে।
" আরে ভাই মেয়ে মানুষ দুই চোখে দেখতে পাড়ে না।
"ওনার কি মেয়ে মানুষে এলার্জি আছে।
" ওরকম কিছুই ধরো।
─────────────────────────
আনভি, মাহির আর নেহা সকালের নাস্তা করে সোফায় বসে নিজের ব্যাপারে গল্প করছিল। হঠাৎ করে হলরুমে একটা সুন্দর মিষ্টি গন্ধ নাকে আসে। নেহা আবেশে চোখ বন্ধ করে নেয়। সে এই মিষ্টি গন্ধ টা আর একবার পেয়েছিল আর এই একবার।
"নেহা তুমি ঠিক আছো? শরীরর খারাপ লাগছে?
আনভি কিছু টা বিচলিত হয়ে বলল।
নেহা মাথা তুলে চারিদিকে নজর গুলালো দিলো। আপনি নেহা কে জিজ্ঞাসা করল।
"কি হয়েছে তোমার.?"
নেহা সহসাই উত্তর দিলো।
"আমার নাকে অনেক সুন্দর একটা স্মেল আসছে। তোমার নাকে আসছে না ভাইয়া..?"
আনভি দুই পাশে মাথা নাড়ালো। নেহা সেসব বাদ দিয়ে গল্প করতে লাগল।
দশ মিনিট পর,, হঠাৎ একটা দমকা হাওয়া বয়ে যায়।
হঠাৎ বন্ধ ঘরে এরকম দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়াই নেহা একটা চিতকার দিয়ে ওঠে কারণ হাওয়ার বেগ টা একটু বেশিই ছিল। মাহির চেচিয়ে বলল-
"আনভি ভাই শাস্তির জন্য প্রস্তুত থাকো। "
আনভি আর মাহির আতংক নিয়ে সদর দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে।
নেহা মাহির দের দৃষ্টি অনুসরণ করে সদর দরজার দিকে তাকালে একজন অতি সুদর্শন পুরুষ কে দেখতে পাই।
দ্যা হেল ভিলেজ এর সবচেয়ে শক্তিশালী ব্ল্যাক গুরুপের লিডার এসএস ওরফে সানভি সিকান্দার। তার আছে রয়েছে এক অশুভ শক্তি।
সানভি রাগি চোখে সকলের দিকে তাকিয়ে আছে। আনভি আর মাহির রাগি চোখে তাকিয়ে থাকা সানভির পানে তাকিয়ে বারবার ঢক গিলছে। বলা তো যায় না কখন কোথা থেকে সাইক্লোন বয়ে আসে।
সানভি এখনও নেহা কে দেখেনি। কিন্তু সে মেয়লি স্মেল পেয়েছে। আর সে একটাও জানে হেল ভিলেজ এ একটা এসেছে।
সানভি দরজার সামনে দাড়িয়ে থেকেই হুংকার করে বলল-
" এই বাড়িতে কোন মেয়ের সাহস হয়েছে ঢোকার..?? "
সানভি র হুংকারে নেহা ভয় পেয়ে গা শিউরে ওঠে। নেহা অপমানিত হয়ে মাথা নিচু করে ফেলে। আনভিও মাথা নিচু করে ফেলে। মাহির রেগে নিজের বড় ভাইয়ের পানে তাকায়।
"ভাইয়া মেয়েটা একটা বিপদে পরেছে বলেই তো ওকে এই বাড়িতে নিয়ে এসেছি। ও তো আর বিপদে না পড়লে নিজের বাড়ি ছেড়ে এখানে আসতো না। "
আনভি চোখ বড় বড় করে মাহিরের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল-
"এই মাহিরের বাচ্চা টাও হয়েছে বড় টার মতো।"
সানভি এবার মেয়েটার দিকে তাকালো। নেহা অপমানিত হয়ে মাথা নিচু করে আছে। নেহার ইচ্ছা করছে এখান থেকে পালিয়ে যেতে। কিন্তু কথায় আছে না হাতি গর্তে পড়লে চামচিকি তেও লাথি মারে। নেহা এইটুকু বুঝতে পেরেছে সে এখন বাংলাদেশের বাহিরে আছে। শুধু বাংলাদেশ না পুরো পৃথিবীর মানচিত্রে বাহিরে আছে সে।