ফন্ট সাইজ:
থিম:
দ্যা হেল ভিলেজ

২য় পর্ব

লেখক: আলিশা খান

#𝙏𝙝𝙚 𝙝𝙚𝙡𝙡 𝙫𝙞𝙡𝙡𝙖𝙜𝙚

#আলিশা খান
#পাঠ ২
 🚫কপি করা নিষিদ্ধ🚫
সানভির এবার চোখ পড়লো নেহা উপর। যে এখন মাথা নিচু করে সোফা তে বসে আছে। সানভি নেহার মুখটা এখনো পুরোপুরিভাবে দেখতে পারিনি। সানভি গিয়ে নেহার সামনে দাঁড়ালো। 
"এ্যাই মেয়ে স্টান্ডআরআপ আপ। "
নেহা সেইভাবে বসে রইলো। নেহা কে উঠতে না দেখে সানভি বজ্র কন্ঠে বলল-
" I say stand up..! "
সানভির এমন কন্ঠ শুনে নেহা সহসাই উঠে দাঁড়ালো। নেহার উঠে দাঁড়াতে গিয়ে মাজা আর পায়ে অনেক ব্যাথা পেলে সেটা চোখ মুখ খিচে বন্ধ করে নিল। 
"এ্যাই মেয়ে তুমি জানো না এই ব্ল্যাক কিং হাউজের বিষয়ে.? এ্যাই সানভি সিকান্দার এর বিষয়ে কিছু জানো না.? এই ব্ল্যাক গ্যাংস্টার এসএস এর বিষয়ে কিছু জানো না..? একটা ছেলে তোমাকে নিয়ে আসলো আর তুমিও নাচতে নাচতে চলে আসলে..? সাহস কি করে হয় তোমার..? "
নেহা বদলে মাহির কিছু বলতে গেলে সানভি ওকে থামিয়ে সে উপরে নিজের রুমের দিকে হাঁটা ধরে। 
নেহা চোখ তুলে সানভির দিকে তাকাই। ৬ ফুট দীর্ঘ, ঋজু এক শরীরী গঠন। চওড়া কাঁধ আর সুঠাম গড়নের কারণে যেকোনো সাধারণ পোশাকও তার গায়ে জড়িয়ে অলৌকিক আভিজাত্য পায়। তার প্রতিটি পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে এক শান্ত, ধীর এবং রাজকীয় আত্মবিশ্বাস, যা এক পলকেই যে কারও দৃষ্টি কেড়ে নিতে বাধ্য।
আল্লাহ তায়ালা নিজ হাতে গড়া ভাস্কর্য
​তার মুখশ্রী যেন এক টুকরো স্ফটিক। নিখুঁত V-shaped চোয়ালের রেখা (Jawline) এতটাই তীক্ষ্ণ আর গম্ভীর । গায়ের রঙ দুধ-আলতা, যাতে এক ফোঁটা কালির দাগও নেই।
 এক জোড়া গভীর মায়াজাল
​তার সবচেয়ে বড় রহস্য লুকিয়ে আছে তার চোখে। ঘন, কালো পাপড়ির নিচে ঢাকা এক জোড়া কাজল কালো, গভীর চোখ। সেই চোখের দিকে তাকালে মনে হয় কোনো শান্ত অথচ অতল সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকা। যখন সে তাকায়, মনে হয় সে সরাসরি আত্মার ভেতরে প্রবেশ করছে। আবার যখন সে মৃদু হাসে, তার চোখ দুটো ছোট বাঁকা চাঁদের মতো হয়ে যায়। 
​ বসন্তের প্রথম চেরি ফুল
​তার ঠোঁট দুটো সহজাতভাবেই হালকা গোলাপী ও চেরি লাল রঙের। ঠোঁটের কোণে সবসময় জমা থাকে এক চিলতে রহস্যময় হাসি। সেই হাসিতে আছে বেড়া জাল, সেই হাসি যে দেখবে সে এক নিমিষেই ভয় পেয়ে যাবে। 
​ রেশমের মতো কালো মেঘ
​মাথার চুলগুলো রেশমের মতো নরম আর কুচকুচে কালো। কখনো কখনো সেই চুলের অবাধ্য কিছু গোছা আলতো করে এসে পড়ে তার কপালে, ঢেকে দেয় চোখের ভ্রুর একাংশ। সে যখন আপন মনে আঙুল দিয়ে সেই অবাধ্য চুলগুলো পেছনের দিকে ঠেলে দেয়, সেই সাধারণ দৃশ্যটাও দেখার মতো এক মোহময়ী রূপ নেয়।সানভি চলে যায় নিজের রুমে। 
সানভি যেত ক্ষণ নিজের রুমে না যায় সেতক্ষণ নেহা হা করে তাকিয়ে ছিল।
সানভি রুমে চলে যেতেই নেহার ধ্যান ভেঙে যায়। আর সানভির অপমান জনক কথাগুলো মনে পড়ে যায় সে আবার মাথা নিচু করে ফেলে। সে তো জানে সে এখান থেকে বের হতে পড়বে না। নেহার চোখ থেকে একফোঁটা পানি গাল বেয়ে পায়ের উপর পড়ল। 
আনভি নেহার কাছে এসে তাকে সোফায় বসাই। মাহির এক গ্লাস পানি নিয়ে এসে নেহা কে দেয়। নেহা নেয় না গ্লাস টা। নেহা কিছু না বলে তাকে যেই ঘরে রাখা হয়েছিল উঠে সেই ঘরে গেল। আনভি আর মাহির মনে করে হয়তো ক্লান্ত বা সানভি র কাছে অপমানিত হয়েছে বলে ঘরে গিয়েছে। 
কিছুক্ষণ পর,, 
নেহা বোরকা পড়ে নিজের ব্যাগটা নিয়ে বাহিরে আসে। নেহা ড্রয়িং রুমে এসে দেখে কেউ নেই। নেহা একটা বিষাদময় হাসি দিয়ে সদর দরজার দিকে হাঁটা ধরে। নেহা বাহিরে এসে দেখে আকাশটা কেমন কালো গুমট ধরে আছে। নেহা অনেক ভয় করছে। আশেপাশের পরিবেশ টা দেখে। তাও সে নিজেকে সাহস দিচ্ছে। নেহা বাহিরের মেন গেট খুলে বের হতে গেলে কারোর কন্ঠ শুনে থেমে যায়। 
"এই মেয়ে এত সাহস কিন্তু ভালো না।"
নেহা বুঝতে পারে না এটা কার কন্ঠ। কারণ আনভির কন্ঠ আর সানভির কন্ঠ একদম এক। দেখতেও কিছু টা একরকম। নেহা পিছনে না ঘুরেই ব্যাথাতুর কন্ঠ বলল-
"সরি,, ভাইয়া আমার জন্য আপনি আর মাহির ওই এসএস এর কাছে অনেক কথা শুনেছেন। তাই আমি এখান থেকে চলে যাচ্ছি। "
"এখান থেকে কোথায় যাবে..? "
"একটা কথা জানেন আমার জন্মের পর থেকে একটাও নির্দিষ্ট ঠিকানা ছিল না। আমি একটা অনাথ আশ্রমে থাকলে গত পাঁচ দিন আগে আমাকে সেখান থেকে বের করে দিয়েছিল। তারপর থেকে না খেয়ে থেকে দিন রাত ছোট খাটো একটা কাজ খুঁজছিলাম কিন্তু পায়নি। গতকাল একটা লোক এসে বলে একটা পাহাড় থেকে একটি গাছ এনে দিতে তার বদলে আমাকে পাঁচশো টাকা দিবে। আমি রাজি হয়ে যায়। কারণ আমার টাকার দরকার ছিল।কিন্তু কে জানতো যে আমাকে কেউ মেরে ফেলার ধান্দা করবে। আমাকে যেই পাহাড়ের ঠিকানা দেওয়া হয় আমি সেই পাহাড়ের চূড়ান্তই উঠি। তারপর কেউ আমাকে পিছন থেকে ধাক্কা দিয়ে ওই পাহাড় থেকে ফেলে দেয়। কিন্তু আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রাখে। আল্লাহ যদি আমাকে সেইদিন নিজের কাছে নিয়ে নিতো। কিন্তু সে আমাকে নেয়নি। ভাইয়া বিশ্বাস করেন আমি এসএস এর কথা একটুও অপমানিত হয়নি। এর আগেও মানুষ রা আমাকে অনেক বাজে কথা বলেছে। আমি কখনো অপমানিত বোধ করিনি। একটা কথা আছে না যার কেউ নেই তার আল্লাহ আছে। আমারও কেউ নেই কিন্তু আল্লাহ আছে। আমার সাথে সবসময়। ভাই আমি যায়। যদি বেঁচে থাকি আবার দেখা হবে। আর যদি না থাকি তাহলে আর কি দেখা হবে না। মারা গেলে ভালোই হবে। পৃথিবী থেকে একজন অব্যধ সন্তান চলে যাবে। "
বলে নেহা চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়ালে। নেহা কিছু একটা মনে করে দাঁড়িয়ে যায়। নেহা পিছনে না ঘুরেই কিছুটা দ্বিধা নিয়ে বলল-
"আনভি ভাইয়া আমার একটা কাজ করে দিবেন.? আমি যদি কখনো মারা যায় তাহলে আমাকে সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে রেখে দিও।"
এই বলে নেহা তার পা থেকে একটা নুপুর খুলে রেখে যায়। যেনো তাকে সে চিনতে পারে। নেহা তার চোখের পানি টা দেখাতে চাই না কাউকে। তার জন্য সে দেখতেও পারল না পিছনে থাকা বিষ্মিত আর অসহায়ের মতো চোখ জোড়া। 
﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏
সন্ধ্যা ৭:৩০,, 
মাহির নিজের ঘরের থেকে বের হয়ে নেহার ঘরের দিকে যায়। মাহির নেহা র ঘরে গিয়ে দেখে ঘর একদম ফাঁকা। তা দেখে মাহির আনভি কে ডাকে। আনভি এই ঘরে এসে ঘর ফাঁকা। আনভি কপালে হাত দিয়ে বলল-
"হায় আল্লাহ এই মেয়েটা এখন কোথায় গেল..? "
মাহির অসহায় দৃষ্টি ফেলে বলল-
"এভি খুঁজতে যাবে ওকে..? "
আনভি মাহিরের দিকে তাকিয়ে বলল-
"এখন কয়টা বাজে..? "
"৭টা ৩৫ "
"চল তাহলে"
আনভি আর মাহির ড্রয়িং রুমে এসে দেখে সানভি আরাম করে সোফার উপর বসে আপেল খাচ্ছে। আনভি সানভি কে কিছু না বলে চলে যেতে নিলে সানভি আপেল খেতে খেতে বলে উঠল-
"এই blood night এ কোথায় যাচ্ছি..? আজকে তো আমাদের কোনো শত্রুদের মারার কথা নেই..? "
আনভি রাগি দৃষ্টিতে তাকালো তার বড় ভাইয়ের দিকে। কিন্তু জোর গলায় কিছু বলতে পারলো না চার বছরের বড় বলে। আর বড় না হলেও পারতো না কারণ সে একজন সাধারণ মানুষ বলে। তাই সে কন্ঠ নরম করেই বলল-
"মেয়েটাকে খুঁজতে যাচ্ছি। "
সানভি হেয়ালি কন্ঠে বলল-
"কোন মেয়েটা..? "
"এসভি আমার এখন মজা করতে ভালো লাগছে না.! "
"বাহ। একদিনের পরিচয়ে আমাকে আর ভালো লাগছে না। "
"এভি আমাদের দেড়ি হযে যাচ্ছে। "
"চল.. "
"ওকে খুঁজে কোনো লাভ নেই..!"
আনভি আর মাহির দুইজনেই প্রশ্ন দৃষ্টিতে সানভির দিকে তাকায়। সানভি..? সে তো আরামে আপেল খাচ্ছে। ওদের দুইজন কে নিজের দিকে তাকাতে দেখে সানভি একটা বাঁকা হাসি দেয়। আনভি কে কিছু বলার আগেই সানভি বলল-
"ওকে কেউ কিডন্যাপ করে নিয়ে গিয়েছে..! "
এই কথাটা শুনে আনভি আর মাহিরের মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পড়ল। আনভি কে কিছু বলার আগেই সানভি বলল-
"ওকে কেউ কিডন্যাপ করে নিয়ে গিয়েছে..! "
এই কথাটা শুনে আনভি আর মাহিরের মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পড়ল।  
"কী...? "
"কি এমন রিয়েক্সন দিচ্ছি কেনো..? মনে হচ্ছে বাহিরের একটা মেয়ে না নিজের বউ হারিয়ে গিয়েছে.. "
এই কথা শুনে আনভি দাঁতে দাঁত চেপে বলল-
"আমি ওকে বোনের নজরে দেখি। "
সানভি বাঁকা হেসে বলল-
"ওও। কেমন বোন..? "
আনভি সানভির চোখে দিকে তাকিয়ে সানভির মতো করেই বাঁকা হেসে বলল-
"দেবর রা যেমন বড় ভাবি কে দেখে তেমন করে..। "
এই বলে আনভি আর সেখানে দাঁড়াল না মাহির কে নিয়ে ভো দৌড়। জানে সে এখানে আর এক সেকেন্ড দাঁড়ালে তার দেহে থেকে মাথা আলাদা হয়ে যাবে।
সানভি রাগি দৃষ্টি তে তাকায় না কেমন একটা শীতল দৃষ্টি তে সে তাকায়। তার মাথার ভিতর অনেক প্রশ্নরা কিলবিল করছে। সে ওই মেয়েটার চেহারা দেখিনি। কিন্তু পায়ের একটা নুপুর সেটা তার বহু বছরের চেনা। 
﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏
হেল ভিলেজের রাস্তার চারিদিকে রক্ত আর রক্ত। মানুষেরা মারামারি খুনাখুনি করছে। কেউ একেরপর কে আঘাত করছে। আবার কেউ জান বাঁচানোর জন্য পালাচ্ছে। এর ভিতরেই আনভি আর মাহির ছয় ঘন্টা ধরে পুরো হেল ভিলেজ তন্নতন্ন করে নেহা কে খুঁজেছে কিন্তু পায়নি। মাহির কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল-
"ওও এভি নেহা কে আমরা কোথায় খুঁজব..? ছয় ঘন্টা ধরে পুরো জায়গা খুঁজে ফেল লাম কিন্তু ওকে পেলাম না।"
"আমরা পুরো জায়গায় খুঁজেছি বাট কারোর বাসায় দেখিনি.? "
"বাট যদি কেউ ওকে মেরে ফেলে..? "
"ওর বয়স এখনো ১৬ হয়নি..? তাই ওই ভয় টা নেই। কিন্তু ভয় তো অন্য জায়গায়। "
মাহির যা বুঝার বুঝে গিয়েছে। এখন বর্তমানের পৃথিবীতে মেয়েরা কোথাও সুরক্ষিত নয়। 
নেহা কে খুঁজে না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে চলে যায়। 
﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏
গভীর রাত্রে,, এখন বাজে রাত দুইটা।এই সময় নিরিবিলি রাস্তাতে মানুষ ভয় পায়। সেখানে হেল ভিলেজের সবচেয়ে গহিন গভীর জঙ্গলে একটা লোক কালো রঙের হুডি পেন্ট আর ফেস মাক্স পড়ে ফোন টিপতে টিপতে গভীর জঙ্গলের দিকে হাটছে আর গান গায়ছে। 
" সারারাত ভোর... চোখের ভিতর... 
স্বপ্নে তোমার... আনাগোনা... 
নেমে আসে ভোর... 
থাকে তবু ঘোর... 
হাওয়াই হাওয়াই... জানাশোনা..!!"
লোকটা ফোনটা পেন্টের পকেটে রেখে দেয়। তারপর হুডির পকেট থেকে এক পায়ের নুপুর বের করে যেটা নেহার ছিল। নুপুর টার দিকে তাকিয়ে লোকটা আগের থেকে একটু জোরে আবার গেয়ে উঠল-
"তুমি দেখা দিলে তাই...
মনে জাগে প্রেম প্রেম কল্পনা... 
আমি তোমার হতে চাই... 
এটা মিথ্যে কোনো গল্প না..! "
হুডি পড়া লোকাটা জঙ্গলে ভিতর হাঁটতে হাঁটতে একদম ভিতরে চলে আসে। (এখানে সংক্ষিপ্তে হুডি পড়া লোকটাকে হুডিম্যান বলব) হুডিম্যান হঠাৎ থেকে যায়। অনেক গুলো মুন ফ্লাওয়ার্সের সামনে হুডিম্যানের থেমে যায়। রাতের আঁধারে সাদা-বেগুনি, সাদা-গোলাপি, হলুদ সাদা রঙের মুন ফ্লাওয়ার গুলো কেমন ঝলমল করছে। যা দেখতে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। হুডিম্যান পকেট থেকে ফোন টা আবার বের করে এগুলোর কয়টা ছবি তুলে নেয়। হুডিম্যান ডানদিকে তাকায়। সেখানে পাঁচ রকমের কালারের বাগানবিলাস গাছ রয়েছে। যার উপর জোনাকি পোকা রা নিজেদের আলো ছড়িয়ে জায়গাটাকে আরো অতি সুন্দর করে তুলছে। হুডিম্যান সেগুলোরও ছবি তুলে নেয়। নিয়ে বামদিকে একটা বড় শিউলী ফুল গাছের নিচে যায়। হুডিম্যান পকেট থেকে একটা ব্যাগ বের করে তাতে অনেক ফুল সংরক্ষণ করে। 
হঠাৎ করে হুডিম্যান শিউলী ফুল গাছের গোড়ায় লাথি মারে। লাথি মারলে নিচে মাটি থেকে একটা গেট উপরে ওঠে আসে। হুডিম্যান গেটে একটা পাসওয়ার্ড লিখে ভিতরে চলে যায়। হুডিম্যান ভিতরে ঢোকার সাথে সাথে গেট টা মাটির সাথে মিলিয়ে যায়। 
 〰︎〰︎〰︎〰︎〰︎〰︎〰︎〰︎〰︎〰︎〰︎〰︎〰︎〰︎〰︎〰︎
চেয়ার এর সাথে বান্দা অবস্থায় পড়ে আছে একটা মেয়ে। মেয়েটার মাথার চুল এলোমেলো হয়ে সামনে পড়ে আছে। পায়ের গোড়ালি তে রক্ত লেগে আছে। কপালের ডানপাশে রক্ত লাল হয়ে আছে। 
হুডিম্যান এসে রক্তাক্ত মেয়েটার দেখে একটা মুচকি হাসি দেয়। যেটা মুখোশের আড়াল থেকে দেখা গেল না। 
হুডিম্যান মেয়েটার কানের কাছে এসে লো ভয়েসে বলল-
"আমার অলকানন্দা চোখ খুলো দেখো কে এসেছে.? "
মেয়েটা পিট পিট করে চোখ খুলে। কিন্তু চোখের সামনে সব কিছু ঝাপসা দেখতে পায়। চারপাশে শুধু অন্ধকার আর ভেজা মাটির গন্ধ। বাতাসে শিউলী ফুল আর রক্তের মিশ্র গন্ধ ভাসছে। 
জায়গাটা একটা পাতাল ঘর। দেয়াল গুলো পাথরের। ছাদের থেকে ফোঁটা ফোঁটা পানি পড়ছে। টপ টপ শব্দটা পুরো ঘরে প্রতিধ্বনি হচ্ছে। ঘরের মাঝখানে একটা লোহার চেয়ার। সেই চেয়ারের সাথেই শক্ত দড়ি দিয়ে বাঁধা আছে *নেহা*।
নেহার মুখটা ফ্যাকাশে। কালো বোরকার একপাশ ছিঁড়ে গেছে। কপালের ডানপাশ কেটে রক্ত জমে কালো হয়ে আছে। পায়ের নুপুর একটা নাই। অন্য পায়ে একটা নুপুর ঝুলছে। নেহার নিঃশ্বাস খুব দ্রুত। ওর বুক কাঁপছে। 
ওর সামনে দাঁড়িয়ে আছে একটা ছায়া। লম্বা। কালো হুডি। কালো প্যান্ট। মুখে কালো মাস্ক। মাথার হুডটা কপাল পর্যন্ত নামানো। শুধু চোখ দুটো দেখা যাচ্ছে। চোখ দুটো গাঢ় বাদামি। কিন্তু সেই চোখে মায়া নাই। আছে শীতলতা।
হুডিম্যান। 
হুডিম্যান আস্তে করে হাঁটু গেড়ে নেহার সামনে বসলো। ওর হাতে একটা ছোট কাঁচের শিশি। শিশির ভিতরে স্বচ্ছ তেল। নেহার কপালের কাটা জায়গায় আলতো করে তেল লাগিয়ে দিলো। নেহা ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠলেও কোনো শব্দ করলো না।
হুডিম্যানের নিঃশ্বাস ভারী। সে নেহার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,  
"আমার অলকানন্দা... অবশেষে তোমাকে পেলাম।"
নেহা ঝাপসা চোখে সামনের মানুষটাকে দেখার চেষ্টা করলো। সব ঘোলা। শুধু বুঝলো সামনে কেউ আছে। নেহার গলা শুকিয়ে কাঠ। সে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,  
"কে... কে আপনি? আমাকে... ছেড়ে দিন।"
হুডিম্যান হাসলো। মাস্কের আড়ালে সেই হাসি দেখা গেলো না। শুধু চোখ দুটো একটু বাঁকা হলো।  
"ছাড়বো? তোমাকে তো আমি ৫ বছর ধরে খুঁজছি নেহা। তুমি পাহাড় থেকে পড়ে গিয়ে আমার কাছেই আসবা আমি জানতাম।"
নেহা চমকে উঠলো। "আপনি আমার নাম জানলেন কিভাবে?"
হুডিম্যান উঠে দাঁড়ালো। ঘরের এক কোণে একটা টেবিল। টেবিলের উপর অনেক গুলো ছবি। সব ছবিতে একটাই মেয়ে। ছোট নেহা। ১০ বছর বয়সী নেহা। ১২ বছর বয়সী নেহা। সব ছবি চুপচাপ তোলা।
হুডিম্যান একটা ছবি হাতে নিয়ে নেহার সামনে ধরলো।  
"চিনো? এটা তুমি। অনাথ আশ্রমের পেছনে। যেদিন তুমি একটা শিউলী ফুল কুড়াচ্ছিলা।"
নেহার শরীরের রক্ত হিম হয়ে গেলো। ওর মনে পড়লো। ৪ বছর আগে ও সত্যিই একা একা শিউলী কুড়াচ্ছিলো।
হুডিম্যান নেহার থুতনি ধরে মুখটা উপরে তুললো। ওর স্পর্শ বরফের মতো ঠান্ডা।  
"তুমি ভাবছো আমি খারাপ? আমি তোমাকে বাঁচাতে চাই নেহা। এই Hell Village থেকে। এই সানভি সিকান্দার এর হাত থেকে।"
"সানভি...?" নেহা নামটা শুনে কেঁপে উঠলো। সানভির সেই রাগি চোখ, সেই হুংকার মনে পড়ে গেলো।
হুডিম্যান নেহার পায়ের দিকে তাকালো। একটা নুপুর নাই।  
"তোমার নুপুরটা কোথায়?" 
নেহা চুপ। ও তো নুপুরটা ব্ল্যাক কিং হাউজের গেটে রেখে এসেছে।
হুডিম্যান দীর্ঘশ্বাস ফেললো। "ওই নুপুরটা আমি ৫ বছর ধরে খুঁজছি। তুমি ওটা ফেলে দিলা?"
বাইরে হঠাৎ জোরে বজ্রপাতের শব্দ। পুরো পাতাল ঘর কেঁপে উঠলো। হুডিম্যানের ফোন বেজে উঠলো। স্ক্রিনে লেখা "UNKNOWN"।
হুডিম্যান ফোন রিসিভ করলো। ওপাশ থেকে গম্ভীর, ভারী, বরফের মতো ঠান্ডা একটা কন্ঠ ভেসে আসলো।  
"আমার জিনিসে হাত দিছিস? সাহস তো কম না তোর।"
সানভি সিকান্দার।
হুডিম্যানের চোখের মনি ছোট হয়ে গেলো। সে ফোন কেটে দিয়ে নেহার দিকে তাকালো।  
"সময় শেষ অলকানন্দা। ওরা চলে আসছে।"
বলে হুডিম্যান নেহার বাঁধন খুলতে লাগলো।
﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏ 
রাত ২:১৭। 
পাতাল ঘরের বাতাস ভারী। বাইরে থেকে কুকুরের ডাক আর বজ্রপাতের শব্দ আসছে। 
হুডিম্যানের আঙুল কাঁপছে। সে নেহার হাত-পায়ের দড়ি খুলছে। দড়ির গিট এত শক্ত যে ওর আঙুল লাল হয়ে গেছে। 
নেহা ব্যাথায় দাঁত চেপে আছে। ওর সারা শরীর কাঁপছে। জ্বর আসছে মনে হয়।
"উঠতে পারবে?" হুডিম্যানের গলা নিচু। রুক্ষ কিন্তু অস্থির।
নেহা মাথা নাড়লো। "পারবো না। পা... পা ব্যাথা।"
হুডিম্যান এক সেকেন্ডও দেরি করলো না। সে নেহাকে কোলে তুলে নিলো। নেহা হালকা। একদম পালকের মতো। কিন্তু ওর শরীর গরম। জ্বর।
হুডিম্যানের বুকের কাছে নেহার মাথা। নেহা অজ্ঞান অজ্ঞান ভাব। তবুও ওই মিষ্টি গন্ধটা পাচ্ছে। সেই গন্ধটা... যেটা ব্ল্যাক কিং হাউজেও পেয়েছিল।
"আপনি... আপনি কে?" নেহা ফিসফিস করে বলল।
হুডিম্যান জবাব দিলো না। সে দ্রুত পাথরের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছে। এক হাতে নেহা, অন্য হাতে দেয়াল ধরে ব্যালেন্স করছে।
উপরে উঠতেই সেই শিউলী গাছের নিচের গেট। চারপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার। শুধু জোনাকির আলো। আর দূরে... গাড়ির ইঞ্জিনের শব্দ।
হুডিম্যানের চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো। "ওরা চলে আসছে।"
সে নেহাকে নিয়ে দৌড়ালো। মুন ফ্লাওয়ারের বাগান পেরিয়ে, কাঁটা ঝোপ পেরিয়ে। নেহার চুলে পাতা আটকাচ্ছে। হুডিম্যান থামছে না।
হঠাৎ নেহা ওর গলা জড়িয়ে ধরলো। ভয়ে।  
"আমাকে ফেলে দিবেন না প্লিজ।"
হুডিম্যান থমকে গেলো ১ সেকেন্ডের জন্য। তারপর নেহার কপালে ওর মাস্ক পরা কপাল ঠেকালো।  
"ফেলবো না অলকানন্দা। তোমাকে বাঁচানোর জন্যই তো ৫ বছর অপেক্ষা করছি।"
নেহার চোখে পানি। "আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?"
"নিরাপদ জায়গায়। যেখানে ওই সানভি সিকান্দার এর ছায়াও পড়বে না।"
সামনে একটা পুরনো জিপ দাঁড়ানো। কাদা মাখা। হেডলাইট অফ। 
হুডিম্যান নেহাকে পেছনের সিটে শুইয়ে দিলো। নিজে ড্রাইভিং সিটে বসলো। 
ঠিক তখনই... 
*টাঁইইইই!* 
গুলিগুলি।
পেছন থেকে ৩টা কালো SUV আসছে। সামনের গাড়িতে বসা লোকটার চোখ লাল। রাগে কাঁপছে। 
*সানভি সিকান্দার।*
হুডিম্যান জিপ স্টার্ট দিলো। কাদা ছিটিয়ে জিপ ছুটলো জঙ্গলের ভিতর দিয়ে। 
পেছনে সানভির গাড়ি। দূরত্ব কমছে।
নেহা ভয়ে সিট চেপে ধরলো। "ওরা... ওরা আমাদের মেরে ফেলবে।"
হুডিম্যান এক হাতে স্টিয়ারিং, অন্য হাতে নেহার হাত শক্ত করে ধরলো।  
"ভয় পেও না। আমি থাকতে তোমার গায়ে একটা আঁচড়ও পড়বে না।"
জিপ একটা সরু ব্রিজের উপর উঠলো। নিচে খরস্রোতা নদী। 
পেছন থেকে আবার গুলি। জিপের কাঁচ ভেঙে গেলো। কাঁচের টুকরা নেহার গালে লেগে রক্ত বের হলো।
হুডিম্যান রেগে গর্জে উঠলো। "সানভিইইই!"
সে জোরে এক্সিলেটরে চাপ দিলো। জিপ ব্রিজ পেরিয়ে একটা ঘন জঙ্গলে ঢুকে পড়লো। রাস্তা নাই। শুধু গাছ আর গাছ।
১৫ মিনিট পর। 
গুলিগুলির শব্দ থেমে গেছে। সানভির গাড়ি জঙ্গলে ঢুকতে পারেনি।
﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏
হুডিম্যান জিপ থামালো একটা ঝর্নার পাশে। চারপাশে নিস্তব্ধতা। শুধু ঝর্নার শব্দ।
সে নেমে এসে নেহাকে কোলে নিলো। নেহা ততক্ষণে অজ্ঞান। জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে।
হুডিম্যান নেহার কপালে হাত রাখলো। তারপর আকাশের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করলো,  
"পেয়ে গেছি তোকে। এবার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।"
ঝর্নার পানির ছাট এসে দুইজনের গায়ে লাগছে। দূরে ব্ল্যাক কিং হাউজের দিকে তাকিয়ে সানভির চোখ দুটো আগুনের মতো জ্বলছে।
রাত ৩:৪০। 
জায়গাটা পাহাড়ের গুহার ভিতর। বাইরে ঝর্না। ভিতরে উষ্ণ আলো।
দেয়াল জুড়ে শিউলী ফুল, মুন ফ্লাওয়ার আর বাগানবিলাস ঝুলানো। মাঝখানে একটা বড় কাঠের খাট। সাদা চাদর। 
সেই খাটে শুয়ে আছে নেহা। জ্বরে গা পুড়ছে।
হুডিম্যান মাস্ক খুলে নাই। শুধু হুডটা একটু পেছনে। ওর হাতে ভেজা কাপড়। সে খুব যত্নে নেহার কপাল, গাল, হাত মুছে দিচ্ছে। 
ওর চোখে পানি। "অলকানন্দা... চোখ খোলো।"
টেবিলের উপর নেহার সেই একটা নুপুর। পাশে ২০টা ছবি। সব নেহার।
﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏
রাত ৪:০৫। 
পুরো ব্ল্যাক কিং হাউজ অন্ধকার। শুধু ড্রয়িং রুমে লাল আলো।
সানভি সিকান্দার সোফায় বসা। গায়ে কালো শার্ট। হাতের আঙুলে রক্ত। নিজের না। শত্রুর।
ওর সামনে হাঁটু গেড়ে বসে আছে ৮ জন ব্ল্যাক টিমের ছেলে। সবাই কাঁপছে।
সানভির চোখ দুটো রক্তের মতো লাল। চোয়াল শক্ত। সে টেবিলের উপর একটা ঘুষি মারলো। কাঁচের টেবিল চূর্ণ।
"৬ ঘন্টা। একটা ১৬ বছরের মেয়ে। আর তোরা ওকে খুঁজে পেলি না?" ওর কন্ঠ নিচু। কিন্তু প্রতিটা শব্দে বরফ।
আনভি মাথা নিচু করে দাঁড়ানো। মাহিরের চোখ লাল। 
সানভি উঠে দাঁড়ালো। ৬ ফুট ২ ইঞ্চির শরীর থেকে অশুভ শক্তি বের হচ্ছে। 
"কাল সকালের মধ্যে ওই হুডিম্যানের লাশ চাই। আর নেহাকে চাই জ্যান্ত। যে আনতে পারবে না... ওর জানাজা আমি নিজে পড়াবো।"
বলে সে উপরে নিজের ঘরে চলে গেলো। দেয়ালে একটা ছবি। ১০ বছরের একটা ছোট মেয়ে। গলায় নুপুর।
সানভি ছবিটা বুকের সাথে চেপে ধরলো। "আবার হারিয়ে গেলি তুই? এবার আর না।"
﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏﹏
সকাল ৭:১০। 
ঝর্নার আলো গুহার ভিতর আসছে। 
নেহা চোখ মেললো। মাথা ভারী। গায়ে কম্বল। 
সামনে হুডিম্যান বসা। হাতে এক বাটি সুপ।
নেহা ভয়ে পিছিয়ে গেলো। "আপনি... আপনি আমাকে কিডন্যাপ করছেন কেন?"
হুডিম্যান বাটি পাশে রাখলো। "খেয়ে নাও। জ্বর কমবে।"
"খাবো না।" নেহা জেদি গলায়।
হুডিম্যান হঠাৎ নেহার পায়ের দিকে তাকালো। একটা নুপুর নাই। 
সে ধীরে নেহার হাত ধরলো। ওর হাত বরফের মতো ঠান্ডা।
"নেহা। আমি তোমাকে মারবো না। আমি তোমাকে বাঁচাতে চাই ওই সানভির কাছ থেকে।"
নেহা অবাক। "সানভি ভাইয়া তো... তো আমাকে বাঁচাইছে।"
হুডিম্যান তেতো হাসলো। "বাঁচাইছে? ও তোমাকে নিজের জন্য আটকাবে। তুমি জানো না নেহা। তুমি কে।"
"আমি কে?" নেহার চোখে পানি।
হুডিম্যান নেহার গলার কাছে একটা ছোট লকেট দেখালো। নেহার নিজেরও মনে নাই এটা কবে থেকে আছে। 
"এই লকেট। এটা Hell Village এর রাজকুমারীর চিহ্ন। আর রাজকুমারীকে বিয়ে করতে পারে শুধু একজনই... ব্ল্যাক কিং।"
নেহার মাথা ঘুরছে। "মানে?"
হুডিম্যান নেহার চোখের দিকে তাকালো। "মানে সানভি তোমাকে ভালোবাসে না। ও তোমাকে নিজের রাজত্বের জন্য চায়। আর আমি... আমি তোমাকে ভালোবাসি। ৫ বছর ধরে।"
বাইরে হঠাৎ গুলিগুলির শব্দ। 
হুডিম্যানের মুখ শক্ত হয়ে গেলো। "ওরা চলে আসছে।"
সে নেহাকে কোলে তুলে নিলো। "পালাতে হবে অলকানন্দা।"
নেহা অসহায় চোখে ওর দিকে তাকালো। দূরে পাহাড়ের উপরে একটা কালো ছায়া দাঁড়ানো। 
লম্বা। কালো কোট। হাতে পিস্তল। 
*সানভি সিকান্দার।*
ওর চোখ সোজা নেহার উপর। আর মুখে একটা শীতল হাসি।
﹏
চলবে.. 

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন