জীবনের কিছু গল্প খুব সাধারণভাবে শুরু হয়। সেখানে কোনো বড় ঘটনা থাকে না, থাকে না কোনো সিনেমার মতো দৃশ্য। থাকে শুধু একটা নতুন সকাল, নতুন স্কুল, নতুন কিছু মুখ আর অচেনা কিছু মানুষের সঙ্গে পরিচয়। কিন্তু সময় যখন এগিয়ে যায়, তখন সেই সাধারণ দিনগুলোর কথাই একদিন সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে।
স্কুলজীবন মানুষের জীবনের এমনই একটি সময়, যেটা একবার চলে গেলে আর ফিরে আসে না। নতুন বইয়ের গন্ধ, ক্লাসরুমের জানালা দিয়ে আসা সকালের আলো, বেঞ্চে বসে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করা, শিক্ষকের বকা খাওয়া, টিফিনের সময় মাঠে ছুটে যাওয়া—সবকিছু মিলিয়ে স্কুলজীবন হয়ে ওঠে অসংখ্য স্মৃতির ভাণ্ডার।
কখনো কখনো স্কুলে তৈরি হওয়া কিছু সম্পর্ক এতটাই গভীর হয়ে যায় যে, স্কুল শেষ হয়ে গেলেও সেই সম্পর্কের স্মৃতি থেকে যায় বহুদিন।
এই গল্পটাও তেমন কিছু মানুষকে নিয়ে।
গল্পের নায়ক ইয়াসিন। খুব সাধারণ একজন ছেলে। পড়াশোনা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, হাসি-ঠাট্টা আর নিজের মতো করে দিন কাটানো—এই ছিল তার জীবন। সে তখনও জানত না, স্কুলের সেই সাধারণ দিনগুলো একদিন তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিতে পরিণত হবে।
ইয়াসিনের বন্ধু ছিল রায়হান, দেব, তাহমিদ, আখলাক ও ঈশান। ছয়জনের বন্ধুত্ব ছিল এমন, যেখানে একজনের দুষ্টুমিতে সবাই জড়িয়ে পড়ত, একজন বিপদে পড়লে বাকিরা পাশে দাঁড়াত, আর একজনের মন খারাপ হলে বাকিরা হাসানোর চেষ্টা করত।
ইয়াসিনের ছোট ভাই নিবিরও ছিল তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ। ভাই হলেও তাদের সম্পর্ক ছিল বন্ধুর মতো। কখনো ঝগড়া, কখনো খুনসুটি, আবার কখনো একসঙ্গে বসে গল্প—ভাইয়ের সম্পর্কের সেই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোও ইয়াসিনের জীবনের অংশ ছিল।
আর গল্পের অন্যদিকে ছিল মিম্মা।
মিম্মার নিজের একটা ছোট্ট জগৎ ছিল। সেই জগতের সবচেয়ে কাছের মানুষ ছিল তার বন্ধুরা—ময়না, আয়শা, দিঘী ও মিম। তাদের মধ্যে দিঘী ও মিম ছিল মিম্মার সবচেয়ে কাছের বন্ধু, তার বেস্ট ফ্রেন্ড। মিম্মার হাসি, রাগ, অভিমান কিংবা কোনো ছোট্ট চিন্তা—সবকিছুতেই দিঘী আর মিমকে পাশে পাওয়া যেত।
তখন ইয়াসিন আর মিম্মা একে অপরের কাছে সম্পূর্ণ অচেনা।
তারা কেউ জানত না, সামনে তাদের জীবনে কতগুলো দিন আসতে চলেছে।
তারা জানত না, একটি সাধারণ স্কুলের দিন কতগুলো স্মৃতির জন্ম দিতে পারে।
তারা জানত না, পরিচয় কখনো কখনো শুধু পরিচয় হয়ে থাকে না—একটা পরিচয় থেকেই তৈরি হয় জীবনের দীর্ঘ গল্প।
আর সেই গল্পের প্রথম পাতাটি খুলেছিল স্কুলের প্রথম দিন।
---