ফন্ট সাইজ:
থিম:
পুতুল বউ

১১তম পর্ব

লেখক: Binti Fariya islam
পুতুল বউ
পর্ব—১১
গভীর রাত
বউভাতের অনুষ্ঠান শেষ হতে হতে অনেক রাত হয়ে গেছে।
খান বাড়ির সবাই একে একে ঘুমিয়ে পড়েছে।
পুরো বাড়িটা নিস্তব্ধ।
ফারিয়াও সারাদিনের ক্লান্তিতে নিজের ঘরে এসে শুয়ে পড়েছে। এখনও তার পরনে সেই সুন্দর শাড়ি। লম্বা কালো চুলগুলো বালিশের ওপর ছড়িয়ে আছে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই গভীর ঘুমে ডুবে গেল সে।
অন্যদিকে জাহিদের চোখে কোনো ঘুম নেই।
বারবার তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে সাফিনের সেই দৃশ্য।
সাফিন ফারিয়ার হাত ধরেছিল।
দৃশ্যটা মনে পড়লেই জাহিদের ভেতরটা জ্বলে উঠছিল।
সে নিজেকেই বোঝাতে পারছিল না, কেন একটা সাধারণ ঘটনায় তার এত রাগ হচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত নিজের অস্থিরতা সামলাতে না পেরে সে নেশা করে ফেলল।
রাত আরও গভীর হলে টলতে টলতে নিজের ঘর থেকে বের হলো জাহিদ।
তার চোখ লাল, মুখে অস্থিরতা।
সে নিজেও জানে না কোথায় যাচ্ছে।
হাঁটতে হাঁটতে একসময় এসে দাঁড়াল ফারিয়ার ঘরের সামনে।
কিছুক্ষণ দরজার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর খুব আস্তে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে গেল।
---
ফারিয়ার ঘরে
ঘরের মৃদু আলোয় ফারিয়া তখন গভীর ঘুমে।
জাহিদ দরজার কাছে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল।
তার চোখে রাগ নেই।
শুধু এক ধরনের অদ্ভুত মায়া আর কষ্ট।
ধীরে ধীরে সে ফারিয়ার বিছানার পাশে গিয়ে বসল।
কিছুক্ষণ চুপ করে তার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর নিচু স্বরে নিজের মনেই অস্পষ্টভাবে বলল,
—“কেন... কেন তোকে অন্য কারও সঙ্গে দেখলে আমার এত কষ্ট হয়?”
ফারিয়া ঘুমের মধ্যেই নিঃশব্দে শুয়ে রইল।
জাহিদ কিছুক্ষণ পর মাথা নিচু করে বসে রইল।
তারপর  ফিসফিস করে বলল,
—“আমি নিজেই তোকে বুঝতে পারছি না...”
তারপর ফারিয়ার কপালে একটা উষ্ণ ছোঁয়া দিলো 
কিছুক্ষণ পর সে উঠে দাঁড়াল।
ফারিয়ার দিকে শেষবারের মতো তাকাল।
তারপর খুব আস্তে ঘরের দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে গেল।
ফারিয়া কিছুই জানল না।
সে গভীর ঘুমেই রয়ে গেল।
---
পরদিন সকাল
সকালের আলো জানালা দিয়ে ঘরে ঢুকতেই ফারিয়ার ঘুম ভাঙল।
সে ধীরে ধীরে উঠে বসল।
কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থেকে হঠাৎ তার মনে হলো—
রাতে যেন দরজা খোলার একটা শব্দ শুনেছিল।
কিন্তু সেটা স্বপ্ন ছিল, নাকি সত্যি—সে বুঝতে পারল না।
ফারিয়া দরজার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর নিজের মনেই বলল,
—“হয়তো স্বপ্ন দেখেছি।”
সে আর বিষয়টা নিয়ে ভাবল না।
কিন্তু অন্যদিকে জাহিদ নিজের ঘরে বসে মাথা ধরে আছে।
গত রাতের অনেক কিছুই তার মনে পরিষ্কার নেই।
শুধু একটা মুখ বারবার তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে—
ফারিয়া।
আর দূরে কোথাও রাশেদ খানের লোক কবির তার ফোনে নতুন একটা বার্তা পেল।
“মেয়েটার ওপর নজর রাখো। সময় খুব কম।”
কবির বার্তাটা পড়ে ফোনটা পকেটে রেখে দিল।
অন্যদিকে ফারিয়া জানতেও পারল না—
তার চারপাশে একসঙ্গে দুটো রহস্য ঘনিয়ে আসছে।
একটা জাহিদের অনুভূতি।
আরেকটা তার নিজের অতীত।
চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন