#ক্ষমতার_নেশা
#সাদিয়া_আফরিন
[কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ]
পর্ব ৬
গাজীপুরের সুবাতাসে এখন একটাই নাম ভাসছে, কিন্তু সেই নামকে ঘিরে শহরজুড়ে তৈরি হওয়া জল্পনা-কল্পনা যেন কিছুতেই থামার নাম নিচ্ছে না। দিন যতই গড়াচ্ছে, মানুষের কৌতূহল আর ফিসফাস ততই ডালপালা মেলছে।
আজও কলেজের করিডোর, গুঞ্জনমুখর ক্যানটিন, সিঁড়ির ধাপ, এমনকি ব্যস্ত শ্রেণীকক্ষের ফাঁকা সময়গুলোতেও ওই একই নাম ঘুরেফিরে আসছে—জারিপ রেহান তালুকদার। কেউ রাজনীতিতে তার প্রভাব আর ক্ষমতার গভীরতা নিয়ে রসালো আলোচনা করছে, কেউ আবার এত কম বয়সে তার এমন বিশাল সফলতা আর দাপট দেখে অবাক বিস্ম প্রকাশ করছে। আবার কলেজের তরুণীদের একটা বড় অংশ স্রেফ তার পুরুষালি গাম্ভীর্য আর চেহারার আকর্ষণ নিয়ে মাতোয়ারা হয়ে রয়েছে।
সাদিয়া এসব অগভীর আলোচনা আর অহেতুক মাতামাতি শুনে প্রতিবারই ভেতর থেকে ভীষণ বিরক্ত হয়ে উঠছে। তার মনে হচ্ছে, একটা সাধারণ প্রজেক্ট ভিজিটকে কেন্দ্র করে পুরো শহরের মানুষ কেন যে নিজেদের কাজকর্ম ফেলে এভাবে পাগল হয়ে উঠেছে, তা তার বোধগম্যের বাইরে।
তবে আজকের দিনটা অন্য যেকোনো দিনের চেয়ে কিছুটা আলাদা। কারণ আজ সে এমন একজন মানুষের সাথে বার্তা আদান-প্রদান করতে যাচ্ছে, যে অজান্তেই তাকে এই পুরো ঝড়ের কেন্দ্রবিন্দুটির আরও কাছে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
দুপুরের সোনালী রোদ তখন কলেজের শ্রেণীকক্ষের বারান্দায় এসে পড়েছে। ক্লাস শেষ হতেই সাদিয়া নিজের সিটে বসে ব্যাগ থেকে ফোনটা হাতে তুলে নিল। কয়েক মিনিট আগেই তার দীর্ঘদিনের অনলাইন ফ্রেন্ড জায়ানের মেসেজ এসেছে। জায়ানের সাথে সাদিয়ার সম্পর্কটা বেশ অদ্ভুত। সামাজিক মাধ্যমে পরিচয় হলেও দুজনের মধ্যে বন্ধুত্বের টানটা বেশ চমৎকার। দুজন দুজনের সুখ-দুঃখ আর প্রাত্যহিক জীবনের নানা ছোটখাটো ঘটনা শেয়ার করে।
জায়ান মেসেজে লিখেছে, "আজ কলেজের কী অবস্থা বল তো? তোদের ওই শান্ত শহরে নাকি খুব তোলপাড় চলছে?"
সাদিয়া ফোনের স্ক্রিনে বার্তাটা দেখে বিরক্তিভরা একটা নিঃশ্বাস ফেলে দ্রুত রিপ্লাই দিল, "আর বলিস না ভাই! পুরো কলেজে ওই একটা নাম ছাড়া আর কোনো দ্বিতীয় কথা নেই। সকাল থেকে কান পচে গেল।"
ওপাশ থেকে জায়ান যেন মজা পাওয়ার ভঙ্গি নিয়ে লিখল, "কার নাম নিয়ে এত মাতামাতি?"
সাদিয়া আরও বিরক্ত হয়ে কীবোর্ডে আঙুল চালিয়ে লিখল, "তুই আবার জানিস না বুঝি? ওই যে তোদের চট্টগ্রামের ক্ষমতাধর বিজনেসম্যান জারিপ রেহান তালুকদার! তাকে নিয়ে পুরো কলেজ মনে হয় পাগল হয়ে গেছে।"
মেসেজটা পাঠানোর পর ওপাশ থেকে কিছুক্ষণ কোনো রিপ্লাই এল না। কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর স্ক্রিনে ভেসে উঠল জায়ানের সংক্ষিপ্ত উত্তর, "ওহ, তাই নাকি?"
সাদিয়া আবার লিখল, "হ্যাঁ রে! সে নাকি খুব শিগগিরই কলেজে বা প্রজেক্ট সাইটে ভিজিট করতে আসবে, আর তা শুনেই সবাই কেমন যেন অদ্ভুত আচরণ করছে। মানুষের এত কাজকামহীন মাতামাতি দেখে আমার তো অসহ্য লাগছে।"
ফোনের ওপাশে বসে জায়ান নিজের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে রহস্যময় ও দুষ্টুমিভরা হাসি ফুটিয়ে তুলল। সাদিয়া তো ঘূণাক্ষরেও জানে না যে, সে যার সাথে এত সহজ আর সাবলীলভাবে প্রতিদিন নিজের মনের কথা শেয়ার করে, সেই জায়ান আসলে আর কেউ নয়—স্বয়ং জারিপ রেহান তালুকদার নিজের ছোট ভাই!
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম তালুকদার কর্পোরেট ভবনের বিশ তলায় নিজের ব্যক্তিগত অফিসে গম্ভীর মুখে বসে ছিলেন জারিপ রেহান তালুকদার।
তার সুবিশাল কাঠের ডেস্কে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বিজনেস ফাইল স্তূপ হয়ে আছে। ল্যাপটপের আলো তার তীক্ষ্ণ চোখে প্রতিফলিত হচ্ছে, আর অন্যপাশে রাখা রয়েছে চুক্তির কিছু স্পর্শকাতর দলিল। সাধারণ সময়ে কাজের টেবিলে বসলে জারিপের মন অন্য কোনো ভাবনায় বিচলিত হয় না। তার সমস্ত মনোযোগ থাকে শুধুই ব্যবসার লাভ-ক্ষতি আর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর।
কিন্তু আজ অদ্ভুতভাবে তার মন পুরোপুরি কাজে বসছে না। বারবার একটা শহরের নামই তার অবচেতন মনে উঁকি দিচ্ছে—গাজীপুর।
সে নিজের অজান্তেই ল্যাপটপের ওপর থেকে চোখ সরিয়ে ফোনটা হাতে তুলে নিল। ঠিক সেই মুহূর্তে অফিসের দরজার দিকে তাকাল সে। সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল জায়ান, যে নিজের ফোনে মনোযোগ দিয়ে কিছু একটা টাইপ করছিল আর মুচকি হাসছিল।
জারিপ কড়া চোখে ছোট ভাইয়ের দিকে তাকাল। কাজের সময় এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ তার একদম পছন্দ নয়। তার জোড়া ভ্রূ কুঁচকে গেল।
"এই ছেলে সারাদিন ফোন নিয়ে কী এমন মূল্যবান কাজ করে?"
কিছুক্ষণ পর জায়ান বেশ আয়েশি ভঙ্গিতে ভাইয়ের অফিসে এসে ঢুকল। জারিপ ফাইলের ওপর থেকে মাথা না তুলে অত্যন্ত শান্ত কিন্তু গম্ভীর গলায় বলল, "তুই সারাদিন ফোন নিয়ে পড়ে থাকিস কেন বল তো?"
জায়ান এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল, তারপর চেহারা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রেখে বলল, "কই? আমি তো কিছু করছি না ভাইয়া।"
জারিপ এবার ফাইল থেকে চোখ তুলে কড়া দৃষ্টিতে ছোট ভাইয়ের দিকে তাকাল, "আমি নিজের চোখে দেখছি। সারাদিন কার সাথে এত বার্তা আদান-প্রদান করা হয়?"
জায়ান হালকা হেসে অনায়াসে চেয়ারে বসে বলল, "তুমি ইদানীং আমার ওপর খুব বেশি খেয়াল রাখছ না ভাইয়া?"
"তুই যদি কাজের সময় ফাইলপত্র ছেড়ে ফোন নিয়ে বসে থাকিস, তবে অবশ্যই খেয়াল রাখব। এটা কোনো খেলার জায়গা নয়।"
জায়ান আর কথা বাড়াল না, কিন্তু তার মুখের সেই রহস্যময় হাসিটা মিলিয়ে গেল না। জারিপ সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে ভাইয়ের মুখের এই পরিবর্তন লক্ষ করল।
"কী নিয়ে এত একা একা হাসিস বল তো? তোর মাথায় যে আবার নতুন কোনো অদ্ভুত পরিকল্পনা ঘুরছে, তা আমি খুব ভালো করেই বুঝতে পারছি।"
জায়ান বলল, "বিশেষ কিছু না।"
জারিপ ফাইলটা সশব্দে বন্ধ করে বলল, "তুই যখনই বলিস কিছু না, তখনই আমি নিশ্চিত হই যে পেছনে বড় কিছু একটা আছে।"
জায়ান একটু সামনের দিকে ঝুঁকে হালকা কৌতুকভরা গলায় বলল, "ভাইয়া, তুমি এত চিন্তা না করে আমার একটা ছোট পরামর্শ শোনো।"
"কী পরামর্শ?"
"একবার গাজীপুর ঘুরে এসো না! প্রজেক্টের কাজটা নিজের চোখে দেখে আসলে মনের সব অস্থিরতা কেটে যাবে।"
জারিপ এবার সত্যি সত্যি চরম বিরক্ত হয়ে ছোট ভাইয়ের দিকে তাকাল, "আবার গাজীপুর! তুই কাল থেকে বারবার আমাকে ওখানে পাঠানোর জন্য এত ব্যস্ত হয়ে পড়েছিস কেন বল তো?"
জায়ান হাসতে হাসতে হাত দুটো পকেটে পুরে বলল, "হ্যাঁ, গাজীপুরই তো বলছি। যদি তোমায় যেতেই হয়, তবে আর দেরি করছ কেন? গিয়ে প্রজেক্টটা শেষ করে আসাই তো বুদ্ধিমানের কাজ, তাই না?"
জারিপ মাথা নেড়ে আবার ফাইলের দিকে মনোযোগ দেওয়ার ভান করল, "তুই এখান থেকে যা। আমাকে শান্তি মতো কাজ করতে দে।"
জায়ান উঠে দাঁড়িয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেল। তবে কাঠের ভারী দরজাটা পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আগে সে একবার পেছনে ফিরে নিজের বড় ভাইয়ের গম্ভীর মুখের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি এক চিলতে হাসল।
সন্ধ্যা নেমে আসার পর গাজীপুরের আবহাওয়া বেশ শান্ত হয়ে উঠল। সাদিয়া বাড়ি ফিরে নিজের ঘরে পড়ার টেবিলে বসেছিল। হাতে ফোন নিয়ে সে আবারও জায়ানের সাথে মেসেজে কথা বলছিল। আজকের কলেজের সব ঘটনা, শিক্ষকের কড়া নির্দেশ আর চারপাশের মাতামাতি সে বিস্তারিতভাবে লিখছিল।
সাদিয়া লিখল, "আজ ক্লাসে আমাদের প্রধান শিক্ষকও বললেন, সবাইকে নাকি প্রস্তুত থাকতে হবে। উনি নাকি যেকোনো দিন কলেজ আর আশপাশের প্রজেক্ট এরিয়া ভিজিট করতে পারেন। পুরো কলেজ সাজানো হচ্ছে।"
জায়ান কীবোর্ডে টাইপ করল, "তুইও কি সেদিন উপস্থিত থাকবি?"
সাদিয়া কিছুক্ষণ চিন্তা করে জবাব দিল, "অবশ্যই থাকব। কলেজ তো আর মিস দেওয়া যাবে না, উপস্থিতি তো বাধ্যতামূলক।"
জায়ান ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তার মনে এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ খেলে গেল। সে লিখল, "তাহলে তো খুবই ভালো!"
সাদিয়া সঙ্গে সঙ্গে কৌতূহলী হয়ে প্রশ্ন করল, "কী ভালো? তুই হঠাৎ এত ভালো ভালো করছিস কেন?"
জায়ান চট করে বিষয় পরিবর্তন করে ফেলল, "কিছু না রে। তুই ওসব ছাড়, এখন পড়তে বস। তোর তো আবার পড়ার অনেক চাপ।"
সাদিয়া কৃত্রিম রাগ দেখিয়ে লিখল, "তুই সবসময় আমাকে পড়তে বসতে বলিস কেন বল তো? তুই কি আমার শিক্ষক নাকি?"
জায়ান মুচকি হেসে লিখল, "কারণ তুই এখন না পড়লে পরে রেজাল্ট খারাপ করে আমার কাছে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কান্নাকাটি করবি, আর আমাকেই তখন অভিযোগ শুনত হবে।"
সাদিয়া ফোনের ওপাশে নিজের হাসি আর ধরে রাখতে পারল না। সে হেসে ফেলে লিখল, "আচ্ছা বাবা, যাচ্ছি পড়তে!"
ফোনের ওপাশে বসে জায়ানও হালকা হাসল। কিন্তু তাদের এই সহজ ও স্বাভাবিক বন্ধুত্বের অন্তরালে যে কত বড় এক সত্য লুকিয়ে আছে, তা এখনও একজনের কাছে সম্পূর্ণ অজানা। সাদিয়া বিন্দুমাত্র জানে না যে অনলাইন বন্ধু জায়ান আসলে কে! আর অন্যদিকে জায়ান খুব ভালো করেই জানে যে, তার কড়া ও প্রভাবশালী বড় ভাই খুব শিগগিরই সেই সাধারণ মেয়েটার মুখোমুখি হতে চলেছে, যার সাথে সে এতদিন ধরে ইন্টারনেটে কথা বলে আসছে।
রাতের আলোয় তালুকদার রেসিডেন্স তখন শান্ত হয়ে এসেছে। জায়ান রাতে নিজের ঘরে যাওয়ার আগে দেখল, জারিপ তখনও স্টাডি রুমে বসে গভীর মনোযোগ দিয়ে গাজীপুর প্রজেক্টের নীল নকশা পর্যবেক্ষণ করছে।
জায়ান দরজার কাছে এসে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ডাকল, "ভাইয়া।"
জারিপ নকশা থেকে চোখ না তুলেই সংক্ষিপ্ত উত্তর দিল, "কী?"
"একটা কথা জিজ্ঞেস করব?"
"বল।"
"তুমি কি সত্যিই গাজীপুর যাওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ফেলেছ?"
জারিপ এবার হাতের কাজ থামিয়ে নকশাটা একপাশে সরিয়ে রাখল, "হ্যাঁ। বিকেলেই ড্রাইভারকে গাড়ি রেডি রাখতে বলেছি। কাল সকালেই বের হব।"
জায়ানের চোখেমুখে মুহূর্তের মধ্যে এক আনন্দ আর উত্তেজনার উজ্জ্বলতা ফুটে উঠল, "সত্যি বলছ ভাইয়া?"
জারিপ কড়া ও সন্দেহের চোখে ছোট ভাইয়ের দিকে তাকাল, "তুই এত খুশি হচ্ছিস কেন বল তো? গাজীপুরে এমন কী সোনা ফলছে যে তুই এত আনন্দ পাচ্ছিস?"
জায়ান একটু থমকে গিয়ে নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, "এমনিই বলছি ভাইয়া। অনেকদিন পর তোমার সাথে শহরের বাইরে কোথাও যাওয়া হবে, তাই একটু ভালো লাগছে।"
জারিপ শান্ত গলায় বলল, "ঠিক আছে। তবে একটা কথা মনে রাখবি, ওখানে আমার কাজের মাঝে তুই কোনো ধরনের শিশুসুলভ ঝামেলা করবি না। আমি একদম শান্তিতে কাজ শেষ করতে চাই।"
জায়ান হেসে জবাব দিল, "আমি আবার কখন ঝামেলা করলাম?"
জারিপ সঙ্গে সঙ্গে বলল, "তুই প্রায় সবসময়ই কোনো না কোনো ঝামেলা পাকাস।"
জায়ান আর কথা না বাড়িয়ে হাসতে হাসতে মাথা নেড়ে নিজের রুমের দিকে চলে গেল।
গভীর রাতে নিজের বিশাল রুমের বারান্দায় এসে দাঁড়াল জারিপ। চট্টগ্রাম শহরের রাতের ঠান্ডা বাতাস ধীরে ধীরে তার চুলগুলোকে ছুয়ে যাচ্ছে। শহরের হাজারো বাতির আলো তার চোখের সামনে জ্বলজ্বল করছে, কিন্তু তার চিন্তার জগতে এখন শুধুই একটা অজানা গন্তব্য।
গাজীপুর।
তার কাছে এটা শুধুই একটা সাধারণ বিজনেস ট্রিপ। ব্যবসার আটকে থাকা কাজ উদ্ধার করা আর প্রজেক্টের তদারকি করা—এর বাইরে অন্য কোনো উদ্দেশ্য তার নেই। অন্তত এখন পর্যন্ত সে সেটাই সত্যি বলে জানে। সে ঘূণাক্ষরেও টের পাচ্ছে না যে, এই সফরটা কেবল একটা ব্যবসায়ী সফর হয়ে থাকবে না। সে যেটাকে নিছক কাজের ভ্রমণ ভাবছে, তার চেয়েও বড় ও গভীর কোনো নিয়তি তার জন্য ওই অচেনা শহরে অপেক্ষা করে আছে।
আর গাজীপুরের অন্য এক শান্ত কোণে—নিজের ছোট ঘরে সাদিয়া তখন একদম নিশ্চিন্তে ঘুমে আচ্ছন্ন। সে স্বপ্নঘোরেও জানতে পারছে না যে, তার অনলাইনের বন্ধুর দাপুটে ও কঠোর বড় ভাই খুব শিগগিরই তার একদম সামনে এসে দাঁড়াতে চলেছে, আর বদলে দিতে চলেছে তার পুরো জীবনের গতিপথ।
দুজনের পৃথিবী এখনও পুরোপুরি আলাদা ও সমান্তরাল। কিন্তু সেই ব্যবধান আর বেশিদিন স্থায়ী হবে না। ভাগ্য তাদের খুব দ্রুত একসূত্রে বাঁধতে চলেছে।
(চলবে...)