#ক্ষমতার_নেশা
#সাদিয়া_আফরিন
[কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ]
পর্ব ১১
ভোরের আলো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়ার আগেই তালুকদার রেসিডেন্সে এক নতুন ব্যস্ততা শুরু হয়ে গেছে।
জারিপ নিজের সুসজ্জিত কক্ষে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত পরিপাটি হয়ে হাতঘড়িটা কবজিতে পরছিল। আজ তার পরনে ধবধবে গাঢ় কালো রঙের ফরমাল শার্ট এবং ম্যাচিং কালো প্যান্ট। তার কঠোর ও মার্জিত মুখে শোভা পাচ্ছে সেই চিরচেনা গম্ভীর অভিব্যক্তি, যার সাথে চমৎকারভাবে মিলে গেছে হালকা ও সুবিন্যস্তভাবে ছাঁটা দাড়ি। তার ব্যবহার করা দামি ব্র্যান্ডের পারফিউমের পরিচিত গাঢ় সুবাসে পুরো ঘরের বাতাস ভরে উঠেছে।
দরজার কাছে এসে দাঁড়াল তার ছোট ভাই জায়ান। সে দরজায় হেলান দিয়ে মৃদু হেসে বলল, "ভাইয়া, গাড়ি কিন্তু একদম তৈরি হয়ে নিচেই অপেক্ষা করছে।"
জারিপ নিজের ঘড়ির দিকে চোখ রেখে সংক্ষিপ্ত গলায় বলল, "হুম, চল।"
জায়ান কিছুক্ষণ গভীর দৃষ্টিতে বড় ভাইয়ের গম্ভীর চেহারার দিকে তাকিয়ে থেকে ঠোঁটের কোণে বিজয়ের মুচকি হাসি ফুটিয়ে তুলল, "তাহলে আবারও গাজীপুর যাওয়া হচ্ছে!"
জারিপ নিজের জোড়া ভ্রূ সামান্য কুঁচকে অনুজ ভাইয়ের দিকে তাকাল, "কী বলতে চাস তুই?"
"কই, না তো! বিশেষ কিছু না।"
"তুই আবার অহেতুক রসিকতা শুরু করিস না তো জায়ান।"
জায়ান এবার হাত দুটি উল্টে বেশ নিষ্পাপ ভঙ্গিতে হেসে উঠে বলল, "আরে ভাইয়া, আমি তো সাধারণ একটা কথা বললাম, কোনো রসিকতা তো করিনি!"
জারিপ আর কোনো কথা না বাড়িয়ে গম্ভীর মুখে রুম থেকে বেরিয়ে সিঁড়ির দিকে পা বাড়াল।
মার্সিডিজ গাড়িটি মহাসড়ক ধরে দ্রুতগতিতে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে।
পুরো যাত্রাপথে জারিপ নিজের ট্যাবলেটে ও ফোনে জমে থাকা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক আর রাজনৈতিক নথি গভীর মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষা করছিল। আজ গাজীপুরের তাদের নতুন প্রজেক্টে বেশ কয়েকজন বড় ব্যবসায়িক প্রতিনিধির সাথে তার আনুষ্ঠানিক সভা রয়েছে। এর পাশাপাশি স্থানীয় দলীয় শীর্ষ কর্মীদের সাথেও একটি স্পর্শকাতর রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার বিস্তর আলোচনা করার কথা।
তার আজকের দৈনিক সময়সূচি অত্যন্ত ব্যস্ত ও আঁটসাঁট।
কিন্তু এতসব গম্ভীর কাজের পরিবেশের মধ্যেও গাড়ির পাশের সিটে বসে থাকা জায়ান বারবার জানালার বাইরের দৃশ্য দেখার ভান করে বড় ভাইয়ের দিকে তাকাচ্ছিল আর মুখ চেপে মুচকি হাসছিল।
একসময় জারিপ আর সহ্য করতে না পেরে বিরক্তিভরে কাজ থামিয়ে জিজ্ঞেস করল, "তুই বারবার এভাবে কিসের দিকে তাকিয়ে দেখছিস বল তো?"
জায়ান জানালার দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে শান্ত গলায় বলল, "ক কই, কিছু না তো ভাইয়া!"
"তাহলে পুরো পথজুড়ে তুই অহেতুক আমার দিকে তাকিয়ে অমন অদ্ভুতভাবে হাসছিস কেন?"
"তোমাকে যখন এমন অতিরিক্ত গম্ভীর ও সিরিয়াস ভঙ্গিতে বসে থাকতে দেখি, তখন কেন যেন আমার খুব হাসি পায়।"
জারিপ নিজের কপাল কুঁচকে জিজ্ঞেস করল, "হাসি পাওয়ার মতো কী ঘটেছে এখানে?"
জায়ান এবার আর নতুন করে কোনো কথা বাড়াল না, কেবল নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরে মিষ্টি করে হাসল।
অন্যদিকে, গাজীপুর সরকারি কলেজে সাদিয়া তখনও ঘূণাক্ষরেও জানে না যে জারিপ রেহান তালুকদার আজ আবারও তাদের এই গাজীপুর শহরে পা রেখেছে।
সে ক্লাস শুরুর আগে করিডোরে মারিয়া আর তানভীরের সাথে দাঁড়িয়ে সাধারণ গল্পগুজব করছিল।
মারিয়া আচমকা সাদিয়ার দিকে ঝুঁকে হালকা কণ্ঠে বলল, "সাদু, তোকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি?"
সাদিয়া নিজের কানের চুলগুলো পেছনে সরিয়ে বলল, "হ্যাঁ, বল।"
মারিয়া চারপাশটা দেখে নিয়ে বলল, "সেই ভিআইপি ভিজিটের দিনের পর থেকে কিন্তু পুরো কলেজে জারিপ রেহান তালুকদারকে নিয়ে চর্চা আর ফিসফাসটা বেশ অনেকটাই কমে এসেছে, খেয়াল করেছিস?"
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তানভীর হেসে উঠে সঙ্গে সঙ্গে বলল, "কমেছে মানে? তুই বোধহয় শোনাসনি, কালকেও তো ক্যানটিনের টেবিলে সবাই ওনার দাপট আর ব্যক্তিত্ব নিয়ে গল্প করছিল!"
সাদিয়া কিছুটা বিরক্ত হয়ে তানভীর আর মারিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল, "তোরা কি প্রতিদিন নিয়ম করে এই একই আলোচনা আবার নতুন করে শুরু করবি?"
মারিয়া মুখ টিপে হেসে বলল, "আচ্ছা ঠিক আছে বাবা, আর বলছি না।"
সাদিয়া হাত থেকে বইগুলো চেপে ধরে ক্লাসরুমের ভেতরে ঢুকে নিজের নির্দিষ্ট বেঞ্চে গিয়ে বসল। কিন্তু ক্লাসে বসার পর নিজের অজান্তেই তার মনের অবচেতন কোণে আবার সেই বিশেষ দিনের স্মৃতিটা জেগে উঠল। জারিপের সেই তীব্র ও ধারালো চোখের দৃষ্টি, আর নিজের লজ্জা পেয়ে চট করে চোখ নামিয়ে নেওয়ার অনুভূতি।
সাদিয়া নিজের ভেতরের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবনায় ভীষণ অস্বস্তি বোধ করে ধীরে ধীরে নিজের মাথা নাড়ল, "ধুর! আমি কেন আবার ওই মানুষটার কথা ভাবছি!"
পাশে বসতে বসতে মারিয়া কৌতূহল নিয়ে প্রশ্ন করল, "কী হলো তোর? নিজের মনে মাথা নাড়ছিস কেন?"
সাদিয়া নিজেকে সামলে নিয়ে উত্তর দিল, "না, কিছু হয়নি।"
দুপুরের ঠিক পরপরই জারিপের গাড়ির বহর গাজীপুরের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকার একটি বহুতল ভবনের সামনে এসে থামল।
সে গাড়ি থেকে ধীরপায়ে নেমে ভেতরে প্রবেশ করল। ভবনের সম্মেলন কক্ষে আগে থেকেই উপস্থিত থাকা কয়েকজন শীর্ষ ব্যবসায়িক প্রতিনিধি তাকে সাদর অভ্যর্থনা জানালেন, "স্বাগতম স্যার!"
জারিপ হালকা মাথা নেড়ে গম্ভীর ও মার্জিত কণ্ঠে বলল, "ধন্যবাদ। চলুন, আমাদের আলোচনা শুরু করা যাক।"
সভার সূচনা হলো। নতুন প্রজেক্টের বাজেট, ভবিষ্যৎ রূপরেখা, আর্থিক বিনিয়োগ এবং ঝুঁকি বিশ্লেষণ নিয়ে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এক গভীর আলোচনা চলল।
ব্যবসায়িক মিটিং শেষ হওয়ার পর জারিপের স্থানীয় রাজনৈতিক সহকর্মীরা কক্ষে প্রবেশ করলেন। তারা আঞ্চলিক রাজনীতির কিছু জটিল সমস্যা ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে জারিপের পরামর্শ চাইলেন।
জারিপ প্রতিটি বক্তব্য অত্যন্ত মন দিয়ে শুনল এবং তারপর নিজের সুচিন্তিত মতামত দিয়ে বলল, "এই স্পর্শকাতর বিষয়টি আমাদের এখনই নিজস্ব শক্তিতে হ্যান্ডেল করতে হবে। কোনো প্রকার গাফিলতি সহ্য করা হবে না।"
স্থানীয় প্রতিনিধি মাথা নিচু করে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে বলল, "জি স্যার, একদম আপনি যেমনটা নির্দেশ দিলেন ঠিক তেমনই হবে।"
"আর আগামী সপ্তাহের যৌথ সভার চূড়ান্ত নোটিশ যেন আজ সন্ধ্যার মধ্যেই সবার কাছে পৌঁছে যায়।"
"জি স্যার, অবশ্যই।"
রাজনৈতিক কর্মী দলটি কক্ষ ছেড়ে বিদায় নেওয়ার পর জারিপ নিজের কবজিতে বাঁধা ঘড়িটির দিকে তাকাল। তারপর সে ধীরপায়ে উঠে গিয়ে অডিটোরিয়ামের বিশালাকার কাচের জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। বাইরে ছড়িয়ে আছে পুরো গাজীপুর শহর।
এই শহরে ব্যবসার কাজে আসার বাইরেও তার মনের একদম গহীন কোণে আরেকটি অচেনা ও অস্পষ্ট টান কাজ করছে, যে টানের কথা সে নিজের মুখ ফুটে কাউকে কোনোদিন বলতে পারবে না।
বিকেলের দিকে সমস্ত কাজ সফলভাবে শেষ করে জারিপ একা গাড়িতে গিয়ে বসল।
জায়ান এখন তার সাথে নেই, সে দুপুরের পর থেকেই স্থানীয় ফাইভ স্টারের তাদের বুকিং করা হোটেল স্যুটে অবস্থান করছে।
গাড়ির ড্রাইভার জারিপকে পেছনের সিটে বসতে দেখে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে জিজ্ঞেস করল, "স্যার, গাড়ি কি সোজা হোটেলের দিকে নিয়ে যাব?"
জারিপ কয়েক সেকেন্ডের জন্য কোনো কথা বলল না, সে চুপচাপ নিস্তব্ধ হয়ে রইল। তারপর সে থমথমে গলায় আদেশ দিল, "না। হোটেলের দিকে এখন যাওয়ার দরকার নেই। আগে অন্য একটা রাস্তার দিকে গাড়িটা নাও।"
ড্রাইভার বিন্দুমাত্র প্রশ্ন না তুলে বলল, "জি স্যার।"
গাড়িটি রাজপথ ধরে এগিয়ে চলতে শুরু করল।
হোটেলের বিলাসবহুল সুইটে নিজের সোফায় বসে ফোন দেখছিল জায়ান।
ঠিক সেই মুহূর্তে তার মোবাইলে সাদিয়ার পক্ষ থেকে একটি নতুন বার্তার নোটিফিকেশন এল।
সাদিয়া লিখেছে, "কী করছিস রে? পড়ালেখা না অন্য কিছু?"
জায়ান কিছুক্ষণ বাদে বার্তাটি পড়ে নিজের ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়ে টাইপ করল, "আর বলিস না, এখন একটা হোটেলে বসে আছি।"
সাদিয়া মেসেজ দেখে ভীষণ অবাক হয়ে দ্রুত উত্তর পাঠাল, "হোটেল মানে? তুই কি হঠাৎ গাজীপুরে এসেছিস নাকি?"
জায়ান লিখল, "হুম, আজ সকালেই এসেছি।"
সাদিয়া বিস্ময় প্রকাশ করে টাইপ করল, "তুই আজই গাজীপুর এলি? আগে তো কিছু বলিসনি!"
জায়ান লিখল, "হুম, ভাইয়ার কিছু অফিশিয়াল কাজ ছিল তাই হুট করে চলে আসতে হলো।"
সাদিয়া আর বেশি কিছু প্রশ্ন করল না, কেবল সংক্ষিপ্ত বার্তায় লিখল, "ওহ, বুঝতে পেরেছি।"
মেসেজ করার পর সাদিয়া ফোনটা বিছানার পাশে রেখে দিল। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড অতিবাহিত হওয়ার পরই সে আবার কৌতূহলী হয়ে ফোনটা হাত তুলে নিল। আজ কোনো অজানা কারণে তার এই অনলাইন বন্ধুটির সাথে কথা বলার একটা তীব্র তাগিদ অনুভব হচ্ছিল, যার সঠিক কারণ সে নিজেও খুঁজে পাচ্ছিল না।
অন্যদিকে, শহরের মূল রাজপথ ছেড়ে কালো মার্সিডিজ গাড়িটি ধীরগতিতে অন্য একটি নির্দিষ্ট এলাকার দিকে মোড় নিল।
জারিপ জানালার গাঢ় কাচের বাইরে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। তার মুখাবয়বে সেই চিরচেনা কঠোর ও গম্ভীর ভাব বজায় থাকলেও ভেতরে কোথাও যেন এক অদ্ভুত তোলপাড় চলছিল।
কিছুক্ষণ পর সে ড্রাইভ করা ড্রাইভারকে নির্দেশ দিল, "সামনের সরকারি কলেজের প্রাঙ্গণ আর গেটের দিকটায় গাড়িটা নিয়ে যাও।"
ড্রাইভার মাথা নেড়ে গাড়িটি কলেজের সীমানা প্রাচীরের দিকে নিয়ে চলল।
কলেজের ছুটির ঘণ্টা বাজতেই ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীদের ঢল নামল গেটের মুখে। সাদিয়া, মারিয়া আর তানভীর একসঙ্গে গল্প করতে করতে কলেজের সীমানা পেরিয়ে রাস্তার দিকে এগিয়ে আসছিল।
মারিয়া সাদিয়ার হাত ধরে চঞ্চল গলায় বলল, "সাদু, চল না আজ কলেজ শেষে সবাই মিলে একটু লেকের পাশ থেকে ঘুরে আসি!"
সাদিয়া মাথা নেড়ে মৃদু হেসে উত্তর দিল, "না রে মারিয়া, আজ একদম সম্ভব নয়। আম্মু বাসায় একা আছেন, আমার জন্য অপেক্ষা করবেন।"
তারা তিনজনই হাসিমুখে কথা বলতে বলতে রাস্তার ফুটপাত ধরে হাঁটতে লাগল।
সাদিয়া সম্পূর্ণ অজ্ঞই থেকে গেল যে, কলেজের প্রধান ফটক থেকে সামান্য দূরে ছায়ার মধ্যে একটি অভিজাত কালো গাড়ি থেমে আছে। আর সেই গাড়ির পেছনে বসে থাকা স্বয়ং জারিপ রেহান তালুকদার জানালার গাঢ় কাচের আড়াল থেকে নিঃশব্দে তাকেই দেখে চলেছে।
জারিপ অপলক দৃষ্টিতে সাদিয়ার হাসিখুশি চঞ্চল মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। তার মুখের কঠিন ও পুরুষালি ভাবটা একইরকম থাকলেও, তার গভীর চোখ দুটিতে এখন সেই রাজনীতির কঠোরতার লেশমাত্র নেই; সেখানে ফুটে উঠেছে এক অজানা মায়া।
সাদিয়া বন্ধুদের সাথে কথা বলতে বলতে রাস্তার অন্যদিকে চলে যাওয়ার পর, জারিপ ধীর গতিতে নিজের চোখ ফিরিয়ে নিল এবং গম্ভীর কণ্ঠে আদেশ দিল, "এবার গাড়ি হোটেলের দিকে চলো।"
ড্রাইভার গাড়িটি স্টার্ট দিয়ে আবার মূল সড়কে উঠে এল।
রাত গভীর হওয়ার পর জারিপ তার সব কাজ শেষ করে হোটেলে নিজের ঘরে ফিরে এল।
জায়ান তখন ল্যাপটপে কিছু একটা দেখছিল। বড় ভাইকে ঘরে প্রবেশ করতে দেখে সে জিজ্ঞেস করল, "ভাইয়া, সব কাজ শেষ হলো আপনার?"
জারিপ নিজের পরিধানের টাইটা সামান্য আলগা করতে করতে বলল, "হুম, শেষ।"
"আজ তো ফিরে আসতে অনেক দেরি করে ফেললে!"
"কিছু জরুরি কাজ জমে গিয়েছিল তাই দেরি হলো।"
জায়ান আর কোনো প্রশ্ন করল না। সে সত্যিই ধরে নিল যে জারিপ হয়তো ব্যবসায়িক কিংবা রাজনৈতিক কোনো জরুরি সভাবৈঠকেই পুরো বিকেলটা ব্যস্ত ছিল।
জারিপ নিজের সুসজ্জিত মাস্টার বেডরুমে গিয়ে প্রবেশ করল। দরজাটা ভেতর থেকে স্বশব্দে বন্ধ করার পর সে বেশ কিছুক্ষণ দরজায় পিঠ ঠেকিয়ে নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
তার চোখের সামনে বারবার ভেসে উঠতে লাগল কলেজের সেই উঁচু গেট, বিকেলের মিষ্টি রোদ, আর বন্ধুদের সাথে হাসতে হাসতে হেঁটে যাওয়া সাদিয়ার সেই মায়াবী হাসিমুখ।
জারিপ নিজের অবচেতন মন থেকেই একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
কেন নিজের এই কঠোর ও কঠিন জীবনব্যবস্থার মধ্যে একটি সাধারণ মেয়ের মায়াবী মুখ তাকে এভাবে ব্যাকুল করে তুলছে—তার সেই উত্তরটি স্বয়ং এই ক্ষমতাধর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কাছেও একদম অজানা।
(চলবে...)