#ক্ষমতার_নেশা
#সাদিয়া_আফরিন
[কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ]
পর্ব ১২
গাজীপুর শহরে জারিপ রেহান তালুকদার আগমন করার পর দেখতে দেখতে বেশ কয়েকটা দিন অতিক্রম হয়ে গেছে।
শহরের ব্যস্ত রাজপথ, চায়ের দোকান কিংবা কোল্ড কফি শপগুলোতে এখনও মাঝে মাঝে একটি নাম ভারী হয়ে ভেসে আসে—জারিপ রেহান তালুকদার।
কেউ তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা আর শক্তিশালী পারিবারিক প্রভাব নিয়ে গভীর আলোচনা করছে, কেউ আবার দেশের শীর্ষ কর্পোরেট সেক্টরে তার অল্প বয়সে অর্জিত অভূতপূর্ব ব্যবসায়িক সাফল্য নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করছে। আবার তরুণ প্রজন্মের অনেকেই শুধুই তার আকর্ষণীয় পুরুষালি ব্যক্তিত্ব আর ধারালো চেহারা নিয়ে গল্পগুজব জমিয়ে তুলছে।
কিন্তু জারিপ নিজে এসব চটুল জনশ্রুতি কিংবা প্রশংসার কোনো কিছুতেই বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিচ্ছে না।
তার প্রতিটি দিন কাটছে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুনের ভেতরে—গোপন রাজনৈতিক মিটিং, দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জটিল আলোচনা এবং গাজীপুরের নতুন প্রজেক্টের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তদারকিতে।
তবুও এতসব ব্যস্ততা ও সতর্কতার মাঝেও গত কয়েকদিন ধরে জারিপের মনে একটা অত্যন্ত অদ্ভুত ঘটনা ঘটে চলেছে।
কাজের একদম চরম মুহূর্তেও হঠাৎ করে তার অবচেতন মনের স্ক্রিনে ভেসে উঠছে একটা নিরীহ ও শান্ত মুখাবয়ব।
একটি সাধারণ মেয়ে।
যে মেয়েটি প্রথম দেখার দিন ভিড়ের ভেতর থেকে চঞ্চল চোখে তার দিকে তাকিয়ে ছিল, আর তারপর তাদের দুজনার চোখাচোখি হতেই একরাশ লজ্জা আর সংকোচে চট করে নিজের চোখ দুটি নামিয়ে নিয়েছিল।
সাদিয়া।
জারিপ নিজে একজন প্রচণ্ড বাস্তববাদী ও কঠোর স্বভাবের পুরুষ হওয়া সত্ত্বেও কিছুতেই হিসাব মেলাতে পারছে না—কেন সেই অজানা মেয়েটিকে নিয়ে তার চিন্তাভাবনা বারবার এভাবে খেই হারিয়ে ফেলছে।
হোটেলের আভিজাত্যে ভরা ঘরে সকালের নাশতা শেষ করে জারিপ নিজের সুসজ্জিত সুইটের ড্রেসিং আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হাতঘড়িটা কবজিতে পরে নিচ্ছিল।
আজও তার পরনে একদম নিখুঁত কাটছাঁটের ফরমাল পরিচ্ছদ। সুবিন্যস্তভাবে ছাঁটা হালকা দাড়ি আর থমথমে গম্ভীর মুখাবয়ব তার চেহারায় স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি পরিণত আর দাপুটে এক ছাপ এনে দিয়েছে।
ঠিক সেই মুহূর্তে স্টাডি টেবিলের ওপর রাখা তার ব্যক্তিগত আইফোনটি সশব্দে কেঁপে উঠল।
জারিপ ফোনটা হাতে তুলে নিয়ে ওপাশের ব্যক্তির সাথে সংক্ষিপ্ত কিন্তু কঠোর স্বরে কথা বলল, "হুম। আজকের বিকেলের সভাটা দুঘণ্টা এগিয়ে আনো।"
ওপাশের লোকটি কিছু একটা বিনম্র আর্জি করতেই জারিপ সংক্ষেপে উত্তর দিল, "না, ওখানের স্থানীয় কাউকে দায়িত্ব দিতে হবে না। আমি নিজে যথাসময়ে উপস্থিত হব।"
কথা শেষ করেই সে কলটি কেটে দিল।
ঠিক তখনই সুইটের দরজায় হালকা দুটি নাড়ার শব্দ হলো।
"ভাইয়া, ভেতরে আসব?"
জারিপ ধীরপায়ে এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলে দিল।
বাইরে দাঁড়িয়ে আছে তার ছোট ভাই জায়ান।
"কী ব্যাপার?"
জায়ান ভেতরে এক পা বাড়িয়ে বলল, "আমার ব্রেকফাস্ট শেষ। তুমি কি বের হওয়ার জন্য প্রস্তুত?"
"হুম, তৈরি।"
জায়ান কয়েক মুহূর্ত বড় ভাইয়ের নিখুঁত পোশাক ও থমথমে চেহারার দিকে তাকিয়ে থেকে মৃদু হেসে বলল, "আজকেও কি পুরো দিনটা রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক কাজেই কাটবে?"
"হুম।"
"তাহলে আজ গাজীপুর থেকে চট্টগ্রামে ফেরার কি কোনো সম্ভাবনা আছে, নাকি এখানেই থাকছ?"
জারিপ নিজের ঘড়ির দিকে এক নজর তাকিয়ে নির্বিকার কণ্ঠে জবাব দিল, "এখনও বলতে পারছি না।"
জায়ান নিজের ঠোঁটের কোণে এক রহস্যময় কৌতুকভরা হাসি ফুটিয়ে বলল, "আচ্ছা, বুঝতে পেরেছি।"
জারিপ দুটি ঘন ভ্রূ সামান্য কুঁচকে অনুজ ভাইয়ের দিকে তাকাল, "তুই এভাবে অহেতুক হাসছিস কেন জায়ান?"
"এমনিই তো হাসছি ভাইয়া!"
"তুই দিন দিন বেশ ঝামেলাদায়ক হয়ে উঠছিস।"
জায়ান দুই হাত তুলে নিষ্পাপ ভঙ্গিতে হেসে বলল, "আমি তো কিচ্ছু করিনি ভাইয়া!"
জারিপ আর কোনো কথা না বাড়িয়ে গম্ভীর মুখে রুম থেকে বেরিয়ে লিফটের দিকে পা বাড়াল।
দুপুরের দিকে গাজীপুর শহরের একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও গোপনীয় সম্মেলন কক্ষে রাজনৈতিক সহকর্মীদের সাথে এক জরুরি বৈঠকে বসল জারিপ।
সুবিশাল গোল টেবিলের চারপাশে জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা গম্ভীর মুখে বসে আছেন। আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল গাজীপুরের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করা এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচি রূপায়ণ করা।
দলীয় এক জ্যেষ্ঠ নেতা উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, "স্যার, আগামী সপ্তাহের জনসভার প্রস্তুতি হিসেবে আমাদের মাঠপর্যায়ের তৃণমূল কর্মীদের সাথে আবার নতুন করে বসতে হবে।"
জারিপ টেবিলের ওপর রাখা গোপন দলিলপত্রের দিকে স্থির দৃষ্টি রেখে ধীর কিন্তু স্পষ্ট কণ্ঠে বলল, "নিশ্চয়ই বসবেন। তবে যেকোনো বৈঠক ডাকার আগেই গাজীপুরের প্রতিটি ওয়ার্ডের সুনির্দিষ্ট ও নির্ভুল রিপোর্ট আমার ডেস্কে জমা হওয়া চাই।"
"জি স্যার, অবশ্যই ব্যবস্থা করছি।"
অন্য এক নেতা কিছুটা দ্বিধান্বিত গলায় বললেন, "স্যার, কিছু কিছু স্পর্শকাতর এলাকায় স্থানীয় কর্মীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ আর মনোমালিন্য দেখা দিচ্ছে।"
জারিপ অত্যন্ত শান্ত অথচ বরফের মতো ঠান্ডা কণ্ঠে বলল, "রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। তবে সেই ক্ষোভ বা বিরোধ যেন কোনোভাবেই দলের মূল ভাবমূর্তি কিংবা কাজের ওপর সামান্যতম নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে। জেলা পর্যায় থেকে সিনিয়রদের পাঠিয়ে এখনই বিষয়টা কড়া হাতে সামলান।"
"জি স্যার, একদম তাই হবে।"
বৈঠকের আলোচনা আপন গতিতে এগিয়ে চলল।
জারিপ প্রতিটা তথ্য ও প্রস্তাব মনোযোগ দিয়ে শুনছিল এবং তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দিচ্ছিল।
কিন্তু সভার একটি পর্যায়ে এসে হঠাৎ করেই কয়েক সেকেন্ডের জন্য তার তীক্ষ্ণ মনোযোগ অন্য এক অজানা জগতে হারিয়ে গেল।
তার মনশ্চক্ষে হঠাৎ ফুটে উঠল সেই সবুজ কলেজ প্রাঙ্গণের দৃশ্য। আর গেটের কাছে বন্ধুদের সাথে হেসে হেসে হেঁটে যাওয়া সেই সাধারণ সাদাসিধে মেয়েটি।
জারিপ নিজের অজান্তেই কপাল কুঁচকে ফেলল।
কাজের এই অতি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার মন কেন বারবার এক অচেনা মেয়ের চিন্তায় বিচলিত হচ্ছে?
জারিপ নিজের এই অনাকাঙ্ক্ষিত মানসিক দুর্বলতার ওপর তীব্র বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠল।
অন্যদিকে, গাজীপুর সরকারি কলেজে সাদিয়া তখনও বিন্দুমাত্র আঁচ করতে পারেনি যে জারিপ রেহান তালুকদার আজও এই শহরের বাতাসেই নিঃশ্বাস নিচ্ছে।
সে মারিয়া আর তানভীরের সাথে শেষ পিরিয়ডের ক্লাস শেষ করে দোতলার দীর্ঘ করিডোর দিয়ে ধীরপায়ে হেঁটে নিচে নামছিল।
মারিয়া হঠাৎ সাদিয়ার বাহুতে হালকা ধাক্কা দিয়ে বলল, "সাদু, তুই কি একটা জিনিস খুব ভালোভাবে খেয়াল করেছিস?"
সাদিয়া পাজামার কুঁচি সামলে নিয়ে তাকাল, "কী জিনিস বল তো?"
"পুরো কলেজজুড়ে কিন্তু আজও সেই জারিপ রেহান তালুকদারকে নিয়ে চর্চা বিন্দুমাত্র কমেনি। যেখানেই যাবি, কেবল ওনারই কথা!"
তানভীর পাশে হাঁটতে হাঁটতে হেসে উঠে বলল, "শুধু আমাদের কলেজ প্রাঙ্গণ কেন রে? ক্যাম্পাসের বাইরে চায়ের দোকানে গেলেও তো সবাই ওনার রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলছে!"
সাদিয়া কিছুটা বিরক্ত হয়ে ভারী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, "তোরা কি প্রতিদিন একই অপ্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে কথা না বললে শান্তি পাাস না?"
মারিয়া চঞ্চল কণ্ঠে বলল, "আরে সত্যিই তো! এত কম বয়সে দেশের অত বড় রাজনৈতিক আর ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্ব—কাউকে কৌতূহলী করবে না বল তো?"
সাদিয়া নিজের খাতাগুলো বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরে বলল, "আমার এই ক্ষমতা আর রাজনীতির জগৎ একদম ভালো লাগে না। বড্ড অস্বস্তিকর!"
তানভীর রসিকতা করে বলল, "তোর কাছে তো সাধারণ জীবন ছাড়া পৃথিবীর সব বিষয়ই বোরিং আর জটিল মনে হয়!"
"হ্যাঁ, একদম তাই! কারণ তোদের মতো সারাদিন বিত্তশালী আর ক্ষমতাবান মানুষদের নিয়ে ফালতু চর্চা করতে আমার বিন্দুমাত্র ভালো লাগে না।"
মারিয়া হেসে উঠে বলল, "আচ্ছা ঠিক আছে বাবা, রাগ করতে হবে না!"
সাদিয়া আর কোনো জবাব না দিয়ে শান্ত মনে সামনের দিকে হাঁটতে লাগল।
কিন্তু নিজের মনের অবচেতন কোণকে সে কিছুতেই শাসন করতে পারল না। সেখানে আবার ভেসে উঠল সেই কালো ফরমাল পোশাকে দাঁড়িয়ে থাকা দীর্ঘদেহী মানুষটির অবয়ব।
সেই দাপুটে গম্ভীর মুখ, নিখুঁত ছাঁটা দাড়ি, আর হঠাৎ তাদের চোখের সেই কয়েক সেকেন্ডের নিস্তব্ধ চাহনি।
সাদিয়া চট করে নিজের মাথাটা ঝাঁকিয়ে সেই চিন্তা মন থেকে ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করল, "ধুর! আমি কেন আবার এসব ফালতু কথা ভাবছি!"
মারিয়া সাদিয়ার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, "কী হলো রে তোর? একা একা বিড়বিড় করছিস কেন?"
"না, কিছু না। চল দ্রুত বের হই।"
দিনের সব মিটিং ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজ শেষ হওয়ার পর বিকেল গড়িয়ে যখন সূর্য হেলে পড়েছে, তখন জারিপ নিজের পেছনের সিটে এসে বসল।
ড্রাইভার ইঞ্জিন চালু করতেই জারিপ জানালার বাইরের চলতি পথের দিকে তাকাল।
কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থাকার পর সে বেশ গম্ভীর কণ্ঠে নির্দেশ দিল, "হোটেল বা চট্টগ্রামমুখী রাস্তার দিকে যাওয়ার আগে অন্য একটা নির্দিষ্ট জায়গায় যেতে হবে।"
বিশেষ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা লোক বিনম্র কণ্ঠে বলল, "জি স্যার, কোথায় যেতে হবে বলুন?"
জারিপ কয়েক সেকেন্ড নীরব থেকে জিজ্ঞেস করল, "সাদিয়ার পরিবারের বিস্তারিত ঠিকানা আর তাদের বর্তমান অবস্থান কি সঠিকভাবে বের করা হয়েছে?"
পাশের বিশ্বস্ত লোকটি সঙ্গে সঙ্গে ফাইল খুলে বলল, "জি স্যার, আমরা ওদের বাসার সঠিক বিবরণ এবং পরিবারের সবার তথ্য সংগ্রহ করে নিয়েছি।"
জারিপ নিজের চোখ দুটি সামান্য ছোট করে শান্ত কিন্তু দৃঢ় গলায় বলল, "গাড়ি ওই ঠিকানার দিকে নাও।"
বিকেলের শেষ আলো যখন মিষ্টি সোনা রোদ হয়ে ধরা দিচ্ছে, তখন সাদিয়ার বাড়িতে এক সাধারণ পরিবেশ বিরাজ করছিল।
সাদিয়ার মা সামিরা আফরিন রান্নাঘরে রাতের খাবারের তদারকি করছিলেন।
ছোট বোন সাফা বসার ঘরের সোফায় বসে মোবাইলে স্ক্রোল করছিল।
আর সাদিয়ার বাবা রফিক আহমেদ চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে কিছু জরুরি কাগজপত্র পরীক্ষা করছিলেন।
হঠাৎ করেই শান্ত গলির ভেতর একের পর এক ভারী ও আভিজাত্যপূর্ণ কালো গাড়ির বহর এসে সশব্দে থামল।
সাফা কৌতুহলবশত জানালার পর্দা সামান্য সরিয়ে বাইরে তাকাতেই চমকে উঠে চিৎকার করে উঠল, "আম্মু! শিগগির এসো!"
সামিরা আফরিন দ্রুত রান্নাঘর থেকে হাত মুছতে মুছতে বেরিয়ে এসে বললেন, "কী হয়েছে সাফা? এত চেঁচাচ্ছিস কেন?"
"বাইরে দেখো! কতগুলো বিশাল কালো গাড়ি আমাদের দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে!"
রফিক আহমেদও চশমাটা একপাশে রেখে কিছুটা অবাক হয়ে সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন।
কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তাদের ছোট ঘরের দরজায় নক হলো এবং জারিপের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা ভেতরে প্রবেশ করে পথ সুগম করল।
তারপর ধীর ও দাপুটে পায়ে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করল স্বয়ং জারিপ রেহান তালুকদার।
তার পরনে অত্যন্ত দামি ফরমাল পোশাক। চেহারায় সেই পরিচিত কঠিন ও গম্ভীর শাসন।
তাকে এভাবে সরাসরি নিজেদের ড্রয়িংরুমে উপস্থিত হতে দেখে রফিক আহমেদ মুহূর্তের জন্য স্থাণু হয়ে গেলেন, তবে দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে এগিয়ে এলেন, "আসুন বাবা, ভেতরে আসুন। বসুন এখানে।"
জারিপ শান্তভাবে মাথা নেড়ে বলল, "ধন্যবাদ।" সে ধীরপায়ে সোফায় গিয়ে বসল।
সামিরা আফরিন সম্মানের সাথে কুশল জিজ্ঞাসা করে বললেন, "কেমন আছেন বাবা?"
জারিপ গম্ভীর কিন্তু মার্জিত কণ্ঠে উত্তর দিল, "আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।"
সামিরা আফরিন ব্যস্ত হয়ে বললেন, "আপনি হঠাৎ আমাদের এখানে... আপনার জন্য কি সামান্য কিছু নাস্তার ব্যবস্থা করব?"
জারিপ হালকা হাত উঠিয়ে বিনয়ের সাথে মানা করে বলল, "না, আপ্যায়ন বা নাস্তার এখন কোনো প্রয়োজন নেই।"
কয়েক মুহূর্ত পুরো ঘরে এক শ্মশান নীরবতা নেমে এল।
রফিক আহমেদ পরিস্থিতি কিছুটা অনুধাবন করার চেষ্টা করে দ্বিধাগ্রস্ত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, "আপনি কি বিশেষ কোনো প্রয়োজনে আমাদের এই সাধারণ পরিবারে এসেছেন?"
জারিপ সরাসরি রফিক আহমেদের চোখের দিকে নিজের স্থির দৃষ্টি স্থাপন করল, "জি, অত্যন্ত জরুরি একটি প্রস্তাব নিয়ে এসেছি।"
জারিপের কণ্ঠে এমন এক সুগভীর আভিজাত্য আর দৃঢ়তা ছিল যে ঘরের উপস্থিত প্রতিটি মানুষ নিশ্বাস আটকে তার দিকে তাকিয়ে রইল।
জারিপ বিন্দুমাত্র ভূমিকা না করে স্পষ্ট গলায় বলল, "আমি বানিয়ে কিংবা পেঁচিয়ে কথা বলতে একদম পছন্দ করি না, Mr. Rafiq Ahmed।"
রফিক আহমেদ নিশ্চুপ হয়ে শুনছিলেন।
জারিপ ধীর ও স্পষ্ট উচ্চারণে ঘোষণা করল, "আপনার ছোট মেয়ে সাদিয়াকে আমার প্রথম দেখাতেই ভীষণ পছন্দ হয়েছে।"
কথাটা শোনামাত্রই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাফার চোখ দুটো বিস্ময়ে ছানাবড়া হয়ে গেল!
সামিরা আফরিন পুরো স্তম্ভিত হয়ে জামাতা সমতুল্য এই ক্ষমতাধর তরুণের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
আর রফিক আহমেদ কয়েক সেকেন্ডের জন্য যেন নিজের কানে শোনার ক্ষমতা হারিয়ে ফেললেন!
জারিপ অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে আবার মুখ খুলল, "স্বাভাবিক নিয়মে এই বিয়ের প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়ে আসার কথা ছিল আমার বাবার। কিন্তু তার বর্তমান রাজনৈতিক ব্যস্ততা ও শারীরিক কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি আজ উপস্থিত হতে পারেননি।"
সে একটু থেমে প্রতিটি শব্দে জোর দিয়ে বলল, "আমি সরাসরি আপনার ছোট মেয়ে সাদিয়াকে নিজের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে চাই এবং তাকে বিয়ে করতে চাই।"
ড্রয়িংরুমের থমথমে পরিবেশ এক মুহূর্তের মধ্যে অবিশ্বাস্য এক মানসিক চাপে বদলে গেল।
সাফা ভীতি ও বিস্ময় নিয়ে মায়ের দিকে তাকাল। সামিরা আফরিন দিশেহারা হয়ে স্বামীর মুখের দিকে তাকালেন।
রফিক আহমেদ অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে নিয়ে ধীরগলায় বললেন, "দেখুন বাবা... আপনি দেশের অত্যন্ত সম্মানিত ও প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান..."
জারিপ কোনো কথা না বলে শান্ত দৃষ্টিতে শুনতে লাগল।
রফিক আহমেদ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "কিন্তু আমার মেয়ে সাদিয়া তো এখনও অত্যন্ত ছোট। ও কেবল কলেজে পা দিয়েছে..."
জারিপ শান্ত কিন্তু বরফের মতো শীতল ও দৃঢ় কণ্ঠে জবাব দিল, "আপনার মেয়ে কলেজে পড়ছে, প্রাপ্তবয়স্ক। তাকে আপনার এখনও কিসের জন্য ছোট মনে হচ্ছে?"
রফিক আহমেদ ভীষণ অস্বস্তি আর মানসিক সংকটে পড়ে বললেন, "আমি আসলে এত কম বয়সে ওর বিয়ে দেওয়ার কথা দূরদূরান্তেও চিন্তা করিনি। ওকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন আছে।"
জারিপের মুখের কঠিন অভিব্যক্তিতে কোনো পরিবর্তন এল না, "আমি একজন পিতা হিসেবে আপনার প্রাথমিক মানসিক ধাক্কা ও চিন্তাটা খুব ভালোভাবেই অনুধাবন করতে পারছি।"
রফিক আহমেদ এবার কিছুটা ইতস্তত করে নিজের মূল ভয়ের কথাটা প্রকাশ করলেন, "আর সবচেয়ে বড় আরেকটি মারাত্মক বিষয় রয়েছে বাবা..."
"বলুন, খোলাখুলি বলুন।"
"আমি আমার অতীব সাধারণ মেয়েকে কোনোদিন কোনো রাজনৈতিক পরিবেশ কিংবা ক্ষমতার লড়াইয়ের জটিল জগতের সাথে জড়াতে চাই না। আমরা শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ।"
জারিপ কয়েক মুহূর্ত গভীর নীরবতা বজায় রাখল।
তারপর সে অত্যন্ত দায়িত্বশীল কণ্ঠে বলল, "আমি দেশের মূলধারার রাজনীতি করি, এটি সর্বজনবিদিত সত্য। কিন্তু আমি আপনাকে নিশ্চিত করছি—আপনার মেয়েকে আমি আমার কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে বা সামাজিক প্রচারণায় ব্যবহার করার জন্য বিয়ে করতে চাই না। সে আমার একান্ত ব্যক্তিগত জীবনের রাজকীয় মর্যাদা পাবে।"
রফিক আহমেদ তবুও মাথা নেড়ে বললেন, "কিন্তু আপনার পুরো জীবনটাই তো ক্ষমতা, রাজনীতি আর প্রতিপক্ষের শত্রুতার সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িত! সেখানে আমার সাধারণ মেয়েটি কীভাবে মানিয়ে নেবে?"
জারিপ এবার খানিকটা গম্ভীর হয়ে উঠে দাঁড়াল, "আমার জীবনের ঝুঁকি বা দায়িত্ব সামলানোর ক্ষমতা আমার নিজের আছে। আর সাদিয়ার সার্বিক নিরাপত্তা ও মর্যাদার দায়িত্ব নেওয়াটা আমার অধিকারের মধ্যে পড়ে।"
রফিক আহমেদ অত্যন্ত অসহায় ভঙ্গিতে মাথা নাড়লেন, "তবুও আমি হুট করে এভাবে কোনো সায় দিতে পারছি না বাবা। এটি ওর জীবনের প্রশ্ন।"
জারিপ কিছুক্ষণ রফিক আহমেদের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।
তারপর সে ধীর কিন্তু মারাত্মক এক ক্ষমতার দাপটে ভরা কণ্ঠে বলল, "দেখুন Mr. Rafiq Ahmed, আমি এখানে আপনার সাথে কোনো যুক্তি-তর্ক বা আকুতি প্রকাশ করতে আসিনি।"
রফিক আহমেদ স্তব্ধ হয়ে গেলেন।
জারিপ আবার বলল, "আর সত্যি বলতে, আমি এখানে আপনার কাছ থেকে বিনীতভাবে বিয়ের অনুমতি ভিক্ষা চাইতেও উপস্থিত হইনি।"
সামিরা আফরিন ও সাফা ভীতিপূর্ণ চোখে একে অপরের হাত শক্ত করে চেপে ধরল।
জারিপের কণ্ঠের তীক্ষ্ণতা আর আধিপত্য এবার দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেল, "আমি কেবল আপনাকে আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি জানাতে এসেছি যে—আপনার মেয়ে সাদিয়াকে আমিই বিয়ে করছি।"
রফিক আহমেদ মুখ খুলে কিছু একটা কঠিন কথা বলতে যাচ্ছিলেন।
জারিপ তাকে হাতের ইশারায় থামিয়ে দিয়ে হিমশীতল কণ্ঠে যোগ করল, "আর দয়া করে আমাকে এমন কোনো চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করবেন না, যাতে আমাকে কাল সকালে আপনার মেয়েকে সরাসরি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে কাজী ডেকে বিয়ে করতে হয়।"
কথাটা ড্রয়িংরুমের বাতাসে প্রতিধ্বনিত হওয়ার সাথে সাথে ঘরের প্রতিটি মানুষ একদম জমে হিম হয়ে গেল!
রফিক আহমেদের চেহারার রঙ মুহূর্তে ফ্যাকাশে হয়ে গেল। তিনি খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারলেন—তার সামনে যে তরুণটি দাঁড়িয়ে আছে, সে কেবল দেশের এক দাপুটে উদীয়মান নেতাই নয়, বরং নিজের নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্ত বা জেদকে যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করার মতো অপরিসীম ক্ষমতার অধিকার রাখে সে।
কয়েক মুহূর্তের জন্য পুরো ঘরে এক দমবন্ধ করা নীরবতা বিরাজ করল।
অবশেষে রফিক আহমেদ নিজের সমস্ত মানসিক প্রতিরোধ বিসর্জন দিয়ে এক অতল দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
তিনি অত্যন্ত পরাজয়ের স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, "আপনি... আপনি কি সত্যিই সাদিয়াকে মন থেকে ভালোবাসেন এবং বিয়ে করতে চান?"
জারিপ কোনো প্রকার দ্বিধা বা সংকোচ ছাড়াই সোজা চোখে তাকিয়ে বলল, "জি, একদম সত্যি।"
"আপনি কি তাকে একজন মর্যাদাশীল স্ত্রীর মতো আজীবন সম্মান ও সুরক্ষা দেবেন?"
"জি, কথা দিচ্ছি।"
"ওর অধরা পড়ালেখা আর ক্যারিয়ারের কী হবে?"
জারিপ সংক্ষেপে উত্তর দিল, "বিয়ের পরও তার পড়ালেখা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক নিয়মে চলবে। আমি তাতে কোনো বাধা সৃষ্টি করব না।"
রফিক আহমেদ অনেকক্ষণ নিজের চোখ বন্ধ করে নিস্তব্ধ হয়ে রইলেন।
তারপর তিনি ধীরে ধীরে অত্যন্ত ভারী গলায় বললেন, "ঠিক আছে... আমি এই বিয়েতে রাজি।"
জারিপের স্থির চোখের রাশভারী অভিব্যক্তিতে বিজয়ের এক হালকা আলো ফুটে উঠল।
সামিরা আফরিন বাকরুদ্ধ হয়ে সোফায় বসে রইলেন। সাফা নিজের বাবাকে এভাবে নতি স্বীকার করতে দেখে অবিশ্বাস্য চোখে তাকিয়ে রইল।
রফিক আহমেদ আবার জঘন্য এক ভয় নিয়ে বললেন, "তবে আমার একটিই শর্ত—আমার নিষ্পাপ মেয়েটির যেন আপনার জীবনের কোনো আবর্তে কোনো ক্ষতি না হয়।"
জারিপ গম্ভীর কণ্ঠে কথা দিল, "তার গায়ে একটা আঁচড়ও লাগতে দেব না।"
কথা শেষ করে জারিপ নিজের সুসজ্জিত পোশাকের বোতাম ঠিক করে সোজা হয়ে দাঁড়াল, "তাহলে আমার কাজ শেষ, আমি এখন আসি।"
সামিরা আফরিন শিষ্টাচারের খাতিরে বললেন, "এত তাড়াতাড়ি চলে যাচ্ছেন? অন্তত এক কাপ চা..."
জারিপ মাথা নেড়ে মানা করল, "জি না, আমার কিছু জরুরি অফিশিয়াল কাজ বাকি আছে।"
দরজার দিকে পা বাড়াবার সময় সে একবার থামল। তারপর রফিক আহমেদের দিকে ফিরে বলল, "বিয়ের আনুষ্ঠানিক তারিখ ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে আলোচনার জন্য খুব শীঘ্রই আমার পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা আপনাদের সাথে এসে দেখা করবেন।"
রফিক আহমেদ কেবল মাথা দোলালেন, "ঠিক আছে।"
জারিপ নিজের দাপুটে নিরাপত্তা বহর নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেল। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাইরে রাখা কালো গাড়িগুলোর স্টার্ট নেওয়ার শব্দ ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে আসার পরও সাদিয়ার ঘরের ভেতরে সেই অস্বাভাবিক ও দমবন্ধ করা নীরবতা বজায় রইল।
সাফা অনেকক্ষণ পর নিজের ভয় কাটিয়ে নিচু গলায় জিজ্ঞেস করল, "আব্বু... সত্যি সত্যিই কি জারিপ রেহান তালুকদারের মতো এত বড় ঘরের মানুষ সাদি আপুকে বিয়ে করতে চায়?"
রফিক আহমেদ নিজের দুই হাতে মুখ ঢেকে অত্যন্ত ক্লান্ত কণ্ঠে বললেন, "হ্যাঁ রে মা..."
সামিরা আফরিন চোখ মুছে বললেন, "কিন্তু সাদিয়া তো এর বিন্দুমাত্র কিছুই জানে না! সে তো সম্পূর্ণ অচেনা এক জগতে পা দিতে যাচ্ছে!"
রফিক আহমেদ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "আমি জানি সামিরা, আমি সব জানি..."
"ও এই খবরটা কীভাবে মেনে নেবে বল তো? মেয়েটা যে একদম ভেঙে পড়বে!"
রফিক আহমেদ আর কোনো উত্তর দিতে পারলেন না। কারণ সেই নির্মম প্রশ্নের সঠিক জবাব তার নিজের কাছেও জানা নেই।
ঠিক সেই মুহূর্তে গাজীপুর সরকারি কলেজের ক্লাস শেষ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সাদিয়া।
করিডোরে ব্যাগ গুছানোর সময় মারিয়া বলল, "সাদু, তোর চেহারা এমন ফ্যাকাশে লাগছে কেন রে? শরীর খারাপ নাকি?"
সাদিয়া মাথা নেড়ে মৃদু হেসে বলল, "না রে, হঠাৎ কেমন যেন একটা ক্লান্তি লাগছে।"
তানভীর বলল, "বাসায় গিয়ে ভালোভাবে বিশ্রাম নে।"
"হুম, আমি চলি রে। কাল দেখা হবে।"
সাদিয়া ধীরপায়ে কলেজ গেট পেরিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিল।
সে বিন্দুমাত্র কল্পনাও করতে পারছে না যে—গত কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তার অজান্তে তার জীবনের পুরো গতিপথ পাল্টে দেওয়ার মতো এক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেছে!
সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার পর সাদিয়া নিজের বাড়ির দরজায় চাবি ঘুরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করল।
"আম্মু! আমি এসেছি!"
ভেতর থেকে কোনো উত্তর এল না।
সে ড্রয়িংরুমে এগিয়ে গিয়ে দেখল—তার আব্বু, আম্মু আর ছোট বোন সাফা—তিনজনই সম্পূর্ণ নিস্তব্ধ হয়ে সোফায় বসে আছে। ঘরের আলোও আধো-আঁধারি।
সাদিয়া কপালে ভাঁজ ফেলে প্রশ্ন করল, "কী হয়েছে তোমাজদের? সবাই এভাবে অন্ধকার ঘরে চুপচাপ বসে আছ কেন?"
কেউ কোনো জবাব দিল না।
সাদিয়া এবার খানিকটা ভয় পেয়ে গিয়ে বলল, "কী হয়েছে আব্বু? আম্মু, তুমি কথা বলছ না কেন?"
সাফা অসহায় চোখে মায়ের দিকে তাকাল, আর সামিরা আফরিন নিজের চোখ নামিয়ে নিলেন।
সাদিয়া এবার চূড়ান্ত বিভ্রান্ত হয়ে বলল, "আব্বু... বলো না, কী হয়েছে?"
রফিক আহমেদ অত্যন্ত অপরাধীর মতো নিজের নিষ্পাপ মেয়ের দিকে তাকালেন, কিন্তু মুখ ফুটে চরম সত্যটি উচ্চারণ করার ভাষা যেন তিনি হারিয়ে ফেলেছেন।
সাদিয়া বুঝতে পারল—বিশাল কোনো একটা ঝড় তার জীবনের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে, যার চূড়ান্ত বার্তাটি এখন তার মুখোমুখি হতে চলেছে!
(চলবে...)