ফন্ট সাইজ:
থিম:
অন্তহীন প্রেম আমার

৩২তম পর্ব

লেখক: Afifa Afnan

#অন্তহীন_প্রেম_আমার

#আফীফা_আফনান

#পর্ব_২৮(খ)

[কপি করা নিষিদ্ধ]

"উফ রুহি! আমার তো এখনো মাথায় ঢুকছে না রে। তোকে তোর বড় আব্বু এত সহজে মোবাইল কিনে দিল এটা তো রীতিমতো অবিশ্বাস্য! তাও আবার তোর কথা অনুযায়ী নিজে সেধে তোকে ফোন দিয়েছে, তোর না চাইতেই! এটা মিরাকল নাকি?"আইসক্রিমের কাপে চামচ চালাতে চালাতে ছোঁয়া অবিশ্বাসের সুরে প্রশ্ন ছুড়ল।

এই মুহুর্তে কোচিং শেষে রাস্তার ধারের একটি রেস্টুরেন্টটের বাইরের খোলা জায়গায় আড্ডা জমিয়েছে চার বান্ধবী। দুপুরের রোদের তীব্রতা কমলেও চারজনের হাতের আইসক্রিমগুলো যেন দ্রুত গলে যাচ্ছে। আজকের এই রাজকীয় আইসক্রিম ট্রিটটা রুহির পক্ষ থেকে, যা ছোঁয়া আর পড়শী রীতিমতো জোর করে আদায় করে নিয়েছে। উপলক্ষ—রুহির নতুন ঝকঝকে স্মার্টফোন।

​

ছোঁয়ার ​কথা শেষ হতেই বিন্তিও সায় দিয়ে বলল, "একদম! তোর বাড়ির সবাই যা রাগী। আমরা তো ভেবেছিলাম তুই কখনো ফোন চাইলে বাড়িতে ৩ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি হবে। সেখানে না চাইতেই এত দামি একটা ফোন তোর হাতে চলে এল?"

​রুহি একগাল আইসক্রিম মুখে নিয়ে বসে ছিলো, কোন রকমে আইসক্রিম টা গিলে সে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। "তোরা বিশ্বাস কর, আমি নিজেও কল্পনা করিনি হঠাৎ কী হয়ে গেল। আমি তো ভয়ে সিঁটিয়ে ছিলাম যে বড় আব্বু আমাকে হয়তো বকবে, বা নারাজ হবেন। সেখানে হয়ে গেল পুরো উল্টো!

​বিন্তি আইসক্রিম খাওয়া থামিয়ে কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করল, "কিন্তু ভয়ে ছিলি কেন? তুই কি এমন অপরাধ করেছিলি?"

​রুহি এদিক-ওদিক তাকিয়ে গলাটা একটু নামিয়ে নিল। এরপর সেই রাতের সেই রোমাঞ্চকর আর ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা খুলে বলল—কীভাবে সে গভীর রাতে শাহাজের সাথে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিরিবিলি রাস্তায় হাঁটতে গিয়েছিল।

​কথাটা শোনামাত্র ছোঁয়া আর বিন্তির চোখ চড়কগাছ! বিন্তি প্রায় চেঁচিয়ে উঠে বলল, "কীহ! সত্যি বলছিস? শাহাজ ভাইয়ের সাথে মাঝরাতে বাইরে? পাগল হয়েছিস নাকি? আর যদি এমনটা হয়, তবে বড় আব্বু জানলেন কীভাবে?"

​রুহি ম্লান হেসে বলল, "জানবে না কেন? ফেরার পথে তো একদম হাতেনাতে ধরা পড়ে গিয়েছিলাম। বড় আব্বু গেটেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। ভেবেছিলাম সেদিন কপালে অনেক বড় দুঃখ আছে, কিন্তু ওনার ওই শান্ত থাকাটাই আমাকে বেশি অবাক করেছে।"

​ছোঁয়া আর বিন্তি দুজনই নিজেদের মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল। এ কোন দুঃসাহসী রুহিকে দেখছে তারা! এদিকে পড়শীর কোনো কিছুতেই ভ্রুক্ষেপ নেই। সে আপন মনে দুই হাতে দুটো আইসক্রিম নিয়ে মহালেহনে খেয়ে চলেছে।

​ছোঁয়া এবার রহস্যময় হাসি দিয়ে রুহিকে খোঁচা দিল, "শোন রুহি, এত ভয়-ডর উপেক্ষা করে যে মাঝরাতে শাহাজ ভাইয়ের সাথে ঘুরতে গেলি—তার মানে ডাল মে কুছ কালা হ্যায়! তুই নিশ্চিত শাহাজ ভাইকে পছন্দ করিস।"

​রুহি নিজের অনুভুতি দমন করে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করে উঠল, "আরে ধুর! একদম বাজে কথা বলবি না তো। আমি কেন পছন্দ করতে যাব? উনি বড় ভাইয়ার মতো!"

"একদম মিথ্যা বলবি না রুহি! তুই যতই অস্বীকার করিস কিন্তু এটাই সত্য বুঝলি। "

​ছোঁয়া অনড়। দুজনের এই বাদানুবাদের মাঝখানে হঠাৎ শান্ত গলায় মন্তব্য করে বসল পড়শী। সে আইসক্রিম মুখে নিয়েই বলে উঠল, "আমার কী মনে হয় জানিস? শুধু আমাদের রুহি মেডাম না শাহাজ ভাইও রুহিকে পছন্দ করে।"

​আকস্মিক এই মন্তব্যে তিন বান্ধবীই কথা থামিয়ে পড়শীর দিকে হাঁ করে তাকিয়ে রইল। পড়শী নির্বিকারভাবে আইসক্রিম খেতে খেতে বলল, "এভাবে তাকাচ্ছিস কেন? আমি কি ভুল কিছু বলেছি?"

​বিন্তি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, "তুই কীভাবে বুঝলি যে শাহাজ ভাই রুহিকে পছন্দ করে? রুহির মনে ওনার জন্য কিছু আছে সেটা আমি হান্ড্রেড পার্সেন্ট শিওর, কিন্তু শাহাজ ভাই সম্ভব না। উনি যা কঠিন মানুষ সারাক্ষণ তো গম্ভীর হয়ে থাকেন!"

​পড়শী এবার একটু ভাবুক হয়ে হিসাব মেলাতে শুরু করল। সে একের পর এক যুক্তি দিতে লাগল— "একটু ঠান্ডা মাথায় হিসাব করে দেখ তো। শাহাজ ভাই রুহির জন্য যা যা করেন, সত্যিকার অর্থে একজন প্রেমিকই তার প্রেমিকার জন্য এগুলো করে থাকে। রুহির প্রতিটি সমস্যার সমাধান করা, ওর ওপর ছায়ার মতো নজর রাখা, এমনকি ওকে প্রোটেক্ট করার জন্য এলাকার গুন্ডাদের পেটানো—এগুলো কি শুধু ভাই সুলভ আচরণ? আর মাঝরাতে রুহিকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া? কোনো ভাই কি তার বোনকে নিয়ে ওভাবে ঘোরে? শাহাজ ভাইয়ের ওই গম্ভীর চোখের আড়ালে একটা গভীর ভালো লাগা লুকিয়ে আছে, যা আসার মতে উনি লুকিয়ে রেখেছেন ।"

আকস্মিক রুহি পড়শীকে বিচলিত হয়ে জিজ্ঞেস করে ওঠে, " শাহাজ ভাই এলাকার গুন্ডাদের পিটিয়েছে মানে? কি বলছিস তুই এসব?"

পড়শী বাকি আইসক্রিমটুকু গিলে ওড়না দিয়েই হাত মুছতে মুছতে বলে ওঠে, "হুম তোরা কিছুই জানিস না, মনে আছে তোকে একটা বখাটে মতো ছেলে বিরক্ত করতো, এরপরই হঠাৎ রাতারাতি তার ব্যবহার বদলে যায় মনে আছে হু হ......?

রুহি, ছোঁয়া ও বিন্তি তিনজনই মাথা নেড়ে "হ্যাঁ" সূচক জবাব দেয়।

তখনই পড়শী বলতে শুরু করে, " আসলে আমাদের সাথে আমার চাচার একটু পারিবারিক বিরোধ চলছিলো তাই তাদের সাথে যাওয়া আসা ছিলো না বললেই চলে, তো এখন আজ কয়েক সপ্তাহ আগে সব কিছু সমাধান হয়, তো চাচার বাড়িতে দাওয়াত দেয় আমাদের ওখানে যাওয়ার পরেই আমার চাচাতো বোন সুমির সাথে কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে ওর বয়ফ্রেন্ডের কথা জানতে পারি। ওর বয়ফ্রেন্ড ওই বখাটেটার সাথেই ঘুরে ওর থেকেই জেনেছি। আর রুহি ওরা সবাই তোকে চেনে তোর নামও জানে বুঝলি। আর ওই ছেলেকে নাকি শাহাজ ভাই গরছের সাথে ঝুলিয়ে পিটিয়েছিলো।

এদিকে ​পড়শীর দেওয়া এই যুক্তিগুলো রুহির মনের ভেতরটা লণ্ডভণ্ড করে দিল। সে চুপ হয়ে গেল। নিজের অজান্তেই তার হৃদস্পন্দন বেড়ে গেল। ছোঁয়া আর বিন্তি যখন ভাবনাতে ব্যস্ত হয়ে তব্দা খেয়ে তাকিয়ে তখন রুহির চোখে অতীতের ঘটনা গুলো একে একে ভেসে ওঠে। রুহির বুক ধুকপুক করছিলো, অদ্ভুত এক ভালোলাগা ওর সর্বাঙ্গে বিচরণ করতে শুরু করে।শাহাজ ভাইয়ের করা প্রতিটি ছোট ছোট কাজ এখন তার চোখের সামনে ভিন্ন মানে নিয়ে ভেসে উঠতে লাগল।

★★★

কোচিং থেকে ফেরার পর ঘণ্টাখানেক পেরিয়ে গেছে। খন্দকার বাড়ির খাবার টেবিলে দুপুরের খাবারের আয়োজন চলছে। টেবিলে উপস্থিত আছেন মমতাজ বেগম, নাছরিন বেগম, ইয়াসমিন বেগম, তানজিনা আর ছোট মুগ্ধ। মুগ্ধ খবার পাতের দিকে তাকিয়ে আজ একদম চুপচাপ খাচ্ছে, অন্যদিন হলে কথার ফুলঝুরি ছুটতো,কিন্তু আজ চুপ থাকার কারন রেজাল্ট বেরিয়েছে তার আর জনাব তিন সাবজেক্টে ফেল করেছেন। যার ফলে নাছরিন বেগম থেকে এই নাগাদ দু-তিন বার বকাও খেয়ে নিয়েছে।

বড়রা সবাই মিলে যখন গল্পগুজব করে খাচ্ছে, তখন রুহির জগতের তাল আজ একেবারেই আলাদা। ​রুহি তার প্লেটের দিকে তাকিয়ে নিস্পৃহ ভঙ্গিতে ভাতগুলো কেবল এপাশ-ওপাশ করে নেড়ে চলেছে। মুখে এক লোকমা তোলার কোনো নামগন্ধ নেই। তার মনের ভেতর এখনো পড়শীর সেই কথাগুলো হাতুড়ির মতো পিটছে— 'শাহাজ ভাই রুহিকে পছন্দ করে... প্রেমিক ছাড়া কেউ এমন করে না।'

​রুহিকে ওভাবে অন্যমনস্ক হয়ে ভাত নাড়তে দেখে নাসরিন বেগম ভ্রু কুঁচকে বললেন, "কী রে রুহি? ভাতগুলো নিয়ে এমন করছিস কেন? খাওয়ার নাম নেই, শুধু নাড়াচাড়া করছিস। কি সমস্যা তোর?"

​পাশ থেকে তানজিনা বেগম চিন্তিত মুখে রুহির কপালে হাত রাখার ভঙ্গি করে বললেন, "কী হয়েছে রুহি? শরীর খারাপ লাগছে নাকি? মাথা ব্যথা করছে?"

​রুহি চট করে সম্বিৎ ফিরে পেয়ে মাথা নেড়ে ছোট করে বলল, "না না বড় মা, শরীর ঠিক আছে। এমনিতে..."

​ঠিক তখনই ইয়াসমিন বেগম পাবদা মাছের বাটিটা রুহির সামনে এগিয়ে দিয়ে স্নেহমাখা গলায় বললেন, "এই যে তোর প্রিয় পাবদা মাছ! একদম কাঁটা নেই। তোর মেজো মা আজ খুব যত্ন করে রেঁধেছে, খেয়ে দেখ তো সোনা।"

​রুহি ম্লান চোখে মাছের টুকরোটার দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করল, "খেতে ইচ্ছে করছে না মেজো মা। একদম খিদে নেই।"

​কিন্তু ইয়াসমিন বেগম দমবার পাত্রী নন। তিনি উঠে এসে রুহির পাশে বসলেন। "খিদে নেই বললেই হলো? কোচিং করে এসেছিস সেই কবে, এখনো কিছুই খাসনি, আর বলছিস খিদে নেই। না খেলে তো শরীর ভেঙে পড়বে।" কথাটি বলেই তিনি নিজ হাতে রুহিকে পরম মমতায় কয়েক লোকমা ভাত মেখে খাইয়ে দিলেন। রুহি না চাইতেও মুখ খুলল, কিন্তু তার মন পড়ে রইল অন্য কোথাও।

​খাওয়া শেষ করে সে দ্রুত ডাইনিং টেবিল ছেড়ে বসার ঘরের সোফাটায় গিয়ে ধপ করে বসল। টিভির দিকে তাকিয়ে থাকলেও তার চোখের সামনে বারবার শাহাজ ভাইয়ের সেই গম্ভীর মুখটা ভেসে উঠছে।

​রুহি নিজের মনের সাথেই এক কঠিন দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে। শাহাজ ভাই কি সত্যিই তাকে অন্য চোখে দেখেন? নাকি পড়শীর কথাগুলো স্রেফ কল্পনা? কেন তার বুকটা আজ অকারণেই দুরুদুরু করছে? এ কদিনের এই অস্থিরতা আর অজানা ভালোলাগার সংমিশ্রণে রুহি যেন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সে বুঝতে পারছে না তার সাথে ঠিক কী হচ্ছে।

বিকেলের ঝিমধরা শান্তিতে সোফায় হেলান দিয়ে বসে থাকতে থাকতেই রুহির চোখের পাতা ভারী হয়ে এল। তন্দ্রার ঘোরে সে এক অদ্ভুত মায়াবী স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।

​স্বপ্নে দেখল, শাহাজ ঠিক তার সামনে একদম নিবিড় হয়ে বসে আছে। শাহাজের তপ্ত নিঃশ্বাস রুহির মুখে যেন আছড়ে পড়ছে, যা ওর সারা শরীরে এক অবাধ্য শিহরণ জাগিয়ে তুলছে। শাহাজ কোনো কথা বলছে না, শুধু তার সেই চিরচেনা গভীর আর তীক্ষ্ণ চোখের মণি জোড়া দিয়ে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রুহির দিকে। সেই চাহনিতে যেন হাজারো না বলা কথা আর এক সমুদ্র সমান অধিকার। রুহির ঠোঁটের কোণে অজান্তেই এক চিলতে লাজুক হাসি ফুটে উঠল।

​ঠিক তখনই কারো স্পর্শে ধড়ফড় করে চোখ মেলল রুহি। সামনে শাহাজ নেই, বরং তার দাদি মমতাজ বেগম অদ্ভুত এক দৃষ্টিতে নাতনির দিকে তাকিয়ে আছেন। রুহি অপ্রস্তুত হয়ে এদিক-ওদিক তাকাল—কোথাও শাহাজ নেই। নিজের ভুল বুঝতে পেরে ওর বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল; ও যে স্বপ্ন দেখছিল!

​দাদি মুখ রসিকতা করে হেসে জিজ্ঞেস করলেন, "কিরে দাদুভাই! কাকে মনে করে এমন মুচকি হাসছিলি শুনি?"

​রুহি নিজেকে সামলে নিয়ে চট করে সোফা থেকে উঠে দাঁড়াল। কিছুটা আমতা আমতা করে বলল, "না না দাদি, কাউকে না। মনে হয় কিছু একটা স্বপ্ন দেখছিলাম, ঠিক মনে পড়ছে না।" কথাটি বলেই সে দাদিকে পাশ কাটিয়ে দ্রুত বাইরের দিকে পা বাড়াল।

​যাওয়ার পথে অবাধ্য মনটা আবারও টেনশন শুরু করল। সে তার হাতের ফোনটির দিকে তাকালো—না, শাহাজ ভাই এখনো তার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করেনি। মুহূর্তেই যেন রুহির মনটা বিষাদে ভরে উঠলো। একরাশ অভিমান দানা বাঁধল ওর মনে—"এতই কি ভাব আপনার শাহাজ ভাই? একটা রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করতেও কি আপনার যুগ পার হয়ে যায়?"

​মন খারাপ নিয়ে রুহি বাইরের বারান্দার দোলনাটায় গিয়ে বসল। আকাশে তখন বিকেলের নরম আভা ছড়িয়ে পড়ছে। দোলনায় দুলতে দুলতে রুহির ভাবনায় একে একে ভেসে উঠতে লাগল শাহাজের সাথে কাটানো সেই ছোট ছোট মুহূর্তগুলো। কখনো ওর অকারণে শাসন করা, কখনো আবার আড়ালে থেকে ছায়ার মতো আগলে রাখা। পড়শীর সেই কথাগুলো আবারও ওর কানে প্রতিধ্বনি হতে লাগল।

​এমন সময় লাঠিতে ভর দিয়ে খটখট শব্দ করে দাদি মমতাজ বেগম আবার এগিয়ে এলেন। তিনি ধীরপায়ে এসে রুহির পাশে দোলনার এক কোণে বসলেন। সামনের সাজানো বাগানটার দিকে তৃপ্তির দৃষ্টিতে তাকিয়ে তিনি নরম গলায় বললেন, "বাগানটা বেশ সুন্দর করেছিস তো রুহি! কামিনী গাছটাও এখনো ফুলে ভরে আছে। শীতে যখন এখানে আরো রকমারি ফুল ফুটবে, তখন দেখতে আরও ভালো লাগবে।"

​ মায়াবী কণ্ঠস্বরে রুহির গভীর ভাবনার জালটা আচমকা ছিঁড়ে গেল। সে উদাস দৃষ্টি সরিয়ে দাদির দিকে তাকাল। বিকেলের এই মৃদু বাতাসে দোলনায় বসে দাদি-নাতনির মাঝে এক নিস্তব্ধ মায়ার মুহূর্ত তৈরি হলো। দাদি ও নাতনির মাঝে আড্ড্টা তখন বেশ খানিকটা এগোলো।

বিকেলের নরম রোদ তখন বাগানের কোণে এসে পড়েছে। এদিকে মমতাজ বেগম আয়েশ করে দোলনায় বসে, পাশে বসা রুহি। বাতাসের মৃদু দোলায় দোলনাটা হালকা নড়ে চলেছে, আর চারপাশে হালকা সুবাস ছড়িয়ে দিচ্ছে কামিনী ফুলগুলো। বর্ষার বিদায় ঘটেছে বেশ ক-দিন হয়ে গেলো, কিন্তু বাতাসে কামিনির সুবাস যেন এখনো বহমান। রুহি দাদির চুলে বিলি কেটে দিচ্ছে, দুজনার মাঝে কথোপকথন তখন বেশ জমে উঠেছে। হঠাৎ রুহি একটু থেমে দাদির মুখের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল,

---​"দাদি, দাদা তোমাকে অনেক ভালোবাসতেন, তাই না?"

​মুহূর্তেই মমতাজ বেগমের চোখের কোণে এক চিলতে হাসির রেখা ফুটে উঠল। তিনি যেন বর্তমানে থেকেও মুহূর্তে কয়েক দশক পেছনে হেঁটে গেলেন। দৃষ্টিটা বাগানের দিকে স্থির রেখে ধীর গলায় বললেন, "তোর দাদা মানুষটা ছিল একটু অন্যরকম বুঝলি। মুখে খুব একটা ‘ভালোবাসি’ বলত না ঠিকই, কিন্তু তাঁর প্রতিটা কাজ ছিল যত্ন দিয়ে মাখা। বাজারের সেরা মাছটা যখন বাড়িতে আসতো, সে সব সময় মাছের মাথাটা আমার জন্য তুলে রাখতো, কারন আমি মাছের মাথা খুব পছন্দ করতাম। হঠাৎ হঠাৎ আমার জন্য রাস্তার ধারে ফুটে থাকা ফুল এনে খাটের ওপর রেখে দিতো, কিংবা আমার একটু জ্বর হলে সারা রাত কপালে হাত দিয়ে বসে থাকা, জল পট্টি দিতো —এসবের মধ্যেই ছিল আসল টান। মুখে কইতোনা কিন্তু কাজে বোঝাইতো মানুষটা আমাকে কতো ভালাপাইতো। মানুষটারে নিয়ে গর্ব করার মতো অনেক স্মৃতি আছে আমার জানিস রুহি।"

---হঠাৎই মমতাজ বেগম হালকা হেসে বলে উঠেন, "মজার কথা কি জানিস!"

---রুহি কৌতুহল দৃষ্টিতে দাদির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,"কি দাদি?"

---মমতাজ বেগম ঠোঁটের কোনো হাসি ঝুলিয়ে বলে উঠেন, "আমার বড় নাতিটা মানে শাহাজও একদম তোর দাদার মতোই হইছে, একদম চাপা কিন্তু পরানে সবার জন্য ভালোবাসা প্রচুর।"

---​রুহি দাদির কাঁধে মাথা রেখে সব কথা গিলছিলো, সে একটু কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করল, "আচ্ছা দাদি, ভালোবাসার এই অনুভূতিটা আসলে কীভাবে বোঝা যায়? মানে, যদি কারো জন্য মনে অনুভূতি জন্মায়, তবে আমরা নিজেরা সেটা বুঝব কী করে?"

---​মমতাজ বেগম নাতনির দিকে আড়চোখে তাকিয়ে একটু রসিকতা করে বললেন, "কেন রে? কোনো ছোকরার প্রেমে-ট্রেমে পড়লি নাকি?"

---​রুহি যেন থতমত খেলো, স্তব্ধ হয়ে নিজেকে একটু স্বাভাবিক করে, মুখটা লাল করে হড়বড় করে বলে উঠল, "আরে না দাদি! কী যে বলো তুমি! আসলে আমাদের কোচিংয়ে একটা টপিক নিয়ে কথা হচ্ছিল, তাই ভাবলাম তোমাকে জিজ্ঞেস করি। তুমি তো সব জানো বলো না!"

---​মমতাজ বেগম অবাক হওয়ার ভান করে বললেন, "বাহ! আজকাল তোগো কোচিংয়ে এসব প্রেম-ভালোবাসাও শেখায় নাকি? দিনকাল তো দেখছি পাল্টে গেছে! আমাদের আমলে তো এইসব প্রেম ভালোবাসার নাম শুনলেও লজ্জায় মাথা নিচু হওয়া যাইতো।"

দাদির কথায় রুহি নড়েচড়ে বসলো, ​তবে একটু পরেই দাদি গম্ভীর হলেন। অভিজ্ঞতার গভীরতা থেকে তিনি বলতে শুরু করলেন, "শোন দাদুভাই, ভালোবাসা তো কোনো মুখস্থ করা সংজ্ঞা নয়, এটা হলো অনুভব। যখন দেখবে অকারণে কারো কথা মনে পড়লে ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠছে, কিংবা ভিড়ের মাঝেও চোখ শুধু একজনকে খুঁজছে—বুঝবি মনের কোথাও একটা দোলা লেগেছে।"

---​তিনি রুহির হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বললেন, "কারো প্রতি টান অনুভব করলে মানুষটা যা-ই বলুক না কেন, তা সুরের মতো মনে হবে। সে কাছে থাকলে মনে হবে সময়টা যেন ডানায় ভর করে উড়ে যাচ্ছে, আর সে চলে গেলেই পুরো পৃথিবীটা ফাঁকা মনে হয়। এমনকি তার সাথে কাটানো ছোট্ট কোনো মুহূর্ত বা তার দেওয়া সামান্য কোনো কথা যখন মনের আয়নায় বারবার ফিরে আসে, তখনই বুঝবি তোর অজান্তেই কেউ মনের গহীনে জায়গা করে নিয়েছে।"

---​একটু থেমে তিনি আবার হাসলেন, "সবচেয়ে বড় ব্যাপার কী জানিস? ভালোবাসা মানে শুধু পাওয়া নয়, ভালোবাসা মানে কারো কথা ভেবে নিজের অজান্তেই তার মঙ্গল কামনা করা। যদি দেখিস তোর কোনো এক প্রিয় মানুষের খুশিতেই তোর মনটা শান্তিতে ভরে উঠছে, তাকে একটু দেখার ইচ্ছা হৃদয়ে প্রবল হচ্ছে, তাহলে জানবি সেটাই হলো সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি। আর এটাই ভালোবাসা। সত্যিকার ভালোবাসা থাকলে ভাবনাতেও মন খুশিতে গদোগদো হয়ে যায়।"

​রুহি শান্ত হয়ে দাদির কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনছিল। বিকেলের ম্লান আলোয় মমতাজ বেগমের বলি রেখা পড়া মুখটা যেন এক অদ্ভুত মায়ায় ভরে উঠল, যা রুহিকে ভালোবাসার এক নতুন মানে শিখিয়ে দিচ্ছে। সে বুঝলো তার শুপ্ত অনুভূতি গুলো সীমা পেরিয়ে অন্যকিছুতে রুপান্তরিত হয়ে গেছে।

দাদি আর নাতনির শান্ত মুহুর্তের মাঝেই হঠাৎ বাড়ির ভেতর থেকে নাছরিন বেগম আর মুগ্ধর উচ্চবাচ্য শোনা গেল। মুগ্ধ কোনো একটা বিষয় নিয়ে বারবার অনুরোধ করছে, আর নাছরিন বেগম কড়া গলায় তা নাকচ করে দিচ্ছেন। কৌতূহলী হয়ে রুহি দোলনা ছেড়ে উঠে ভেতরের দিকে এগিয়ে গেল।

​রুহিকে দেখামাত্রই মুগ্ধ তার দিকে ছুটে এল। ধরা গলায় আবদার করে বলল, "ও রুহিপু! তুমি একটু মাকে বলো না। আজ আমার বন্ধু অয়নের বার্থডে, ও আমাকে বারবার যেতে বলেছে। কিন্তু দেখো না, মা কিছুতেই যেতে দিচ্ছে না!"

​রুহি একটু নরম দৃষ্টিতে মায়ের দিকে তাকাতেই নাছরিন বেগম ঝাঁঝালো গলায় বলে উঠলেন, "আমি কোথাও নিতে পারবো না। একে তো একা যাওয়া যাবে না, তার ওপর ওর পরীক্ষার রেজাল্টের যে নমুনা! পড়ার নামগন্ধ নেই, শুধু ঘোরাঘুরি। কোথাও যেতে হবে না, যা ঘরে গিয়ে পড়তে বস।"

​মায়ের কড়া ধমক খেয়ে মুগ্ধর মুখটা মুহূর্তেই আষাঢ়ের মেঘের মতো কালো হয়ে গেল। ঠিক সেই সময় রিমু সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে এল। বাড়ির গুমোট পরিবেশ আর মুগ্ধর মলিন মুখ দেখে সে রুহিকে জিজ্ঞেস করল, "কী হয়েছে রে? মুগ্ধ এমন করে দাঁড়িয়ে আছে কেন? আর মা এতো চোটপাট কেন করছে?"

​রুহি সংক্ষেপে সবটা খুলে বলল। রিমু আর রুহি একে অপরের চোখের ভাষা বুঝে নিল। রিমু এগিয়ে গিয়ে মাকে বলল, "মা, ছোট মানুষ তো, যেতে দাও না। আমি আর রুহি ওকে নিয়ে যাবো নে। আমরা সাথে থাকলে তো তোমার আর চিন্তার কিছু নেই।"

​এতক্ষণ দাদি মমতাজ বেগম দরজার কাছে দাঁড়িয়ে সব দেখছিলেন। তিনি ধীরপায়ে এগিয়ে এসে মুগ্ধকে এক হাতে জড়িয়ে ধরলেন। ছেলের বউয়ের দিকে তাকিয়ে প্রশান্তির সুরে বললেন, "সেঝ বউ, যেতে দাও। ছোট মানুষ, বন্ধুদের আনন্দ একটু না করলে হয়? দেখবে, সামনের বার ও আরও ভালো রেজাল্ট করবে। আজকের মতো মাফ করে দাও।"

​শাশুড়ি আর দুই মেয়ের জোরাজুরিতে নাসরিন বেগমের কঠিন বরফ শেষমেশ গলল। তিনি একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মুগ্ধর দিকে তাকিয়ে বললেন, "ঠিক আছে, আম্মা যখন বলেছে আর তোরা আছিস, তবে যা। কিন্তু খবরদার মুগ্ধ! রাত হওয়ার আগেই কিন্তু ফিরে আসবি।"

​মায়ের সম্মতি পেতেই মুগ্ধর মুখে যেন হাজার ওয়াটের বাতি জ্বলে উঠল। সে এক লাফে রুহি আর রিমুকে জড়িয়ে ধরে আনন্দে নাচতে শুরু করল। পুরো বাড়িতে যেন আবার আগের চঞ্চলতা ফিরে এল।

★★★

বহুদিন পরে পিয়াস আজ তার বন্ধুদের সাথে মিলিত হয়েছে। এ যেন এক ছোটখাটো মিলন মেলা। সন্ধ্যার মায়াবী আলোকসজ্জায় পিয়াসের বান্ধবী সোনালীর বাড়ির ছাদটির চারপাশটা আজ অন্যরকম বর্ণিল হয়ে উঠেছে। কৃত্রিম আলোর ঝিলিক পিয়াসের চোখেমুখে পড়লেও, তার মনের ভেতরে বইছে অন্য এক অনুভূতির ঢেউ। বন্ধুদের আড্ডার মাঝেই সিগারেট টানতে টানতে হঠাত পিয়াস বলে উঠল— "আমি মনে হয় রুহিকে ভালোবেসে ফেলেছি রে!"

​পিয়াসের এই আকস্মিক স্বীকারোক্তিতে পাশে থাকা সোনালী আকাশ থেকে পড়ল। ভ্রু কুঁচকে অবাক হয়ে বলল, "কী বলিস এসব পিয়াস? সবকিছু কি এত সহজেই ভুলে গেলি? এক সময় তুই নিজে না ওর সাথে—" কথাটি শেষ না করে সোনালী থেমে গেল, যেন পুরনো কোনো অপ্রীতিকর স্মৃতি তাকে বাধা দিল।

​কাছেই বসা ছিল নয়নও রোমান । সে সজোরে হেসে উঠে টিপ্পনী কাটল, "হাসালি বন্ধু! এবার আবার নতুন কোনো ফন্দি আঁটলি নাকি? আচ্ছা, তোর ওই কাজিন... কী যেন নাম? হ্যাঁ, রুহি! মেয়েটা এক সময় তোর পেছনে পাগল হয়ে ঘুরত। এখন কি আর সেই দিন আছে? আগের মতো হবে নাকি?"

​সোনালী এবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে যোগ করল, "আরে শুধু ঘোরাঘুরি নাকি? পিচ্চি মেয়েটা পিয়াসের জন্য জান দিত। আমিতো পিয়াসের বাড়িতে গিয়ে নিজেই কতোবার স্বচক্ষে দেখেছি। যেদিন জানতে পারলাম পিয়াস ওর সাথে অতটা অন্যায় করেছে, সত্যি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। আর আজ তুই বলছিস তুই ওকে ভালোবাসিস? এটা এখন আমাদের বলতে আসছিস?"

​পিয়াস কিছুক্ষণ আনমনা হয়ে দূরের আলোকসজ্জার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর নিচু স্বরে বলল, "হ্যাঁ রে, আমি সত্যিই ওকে ভালোবেসে ফেলেছি। ইদানীং কোনো কিছুতেই মন বসে না। কেন এমন হচ্ছে খুঁজতে গিয়েই বুঝলাম—কারণটা রুহি। ও যখন সামনে থাকে, নিজের ভেতর এক অদ্ভুত প্রশান্তি কাজ করে। আর চোখের আড়াল হলেই মনটা কেমন যেন আনচান করে। এটা ভালোবাসা ছাড়া আর কী হতে পারে?"

​সোনালী এবার কৌতূহলী দৃষ্টিতে পিয়াসের চোখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল, "ও আগে তোকে ভালোবাসত ঠিক আছে, কিন্তু এখনো বাসে কি না সেটা জানিস? আর তুই ওর সাথে যা করেছিস, তারপরও কি ও তোকে বিশ্বাস করবে?"

​পিয়াসের ঠোঁটের কোণে হঠাত এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল। সেই হাসিতে যেমন ছিল অতীত ভুলের অপরাধবোধ, তেমনি ছিল এক প্রবল আত্মবিশ্বাস। পিয়াস বলল, "আমি ভুল করেছিলাম রে। জেদের বশে, না বুঝে জীবনের অনেক বড় একটা ভুল করে ফেলেছি। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, রুহি আজও আমাকেই ভালোবাসে। ও এখনো আমার প্রতি দুর্বল, শুধু অভিমানে নিজেকে প্রকাশ করতে চাচ্ছে না।"

কথাটা শেষ করেই পিয়াস বারান্দার রেলিং ঘেঁষে নিচের দিকে তাকালো, হাতে তার এখনো জ্বলন্ত সিগারেটটি ধরা, পিয়াস নিচের দিকে তাকাতেই তার হৃদস্পন্দন যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। নিচতলার লবিতে উজ্জ্বল আলোর নিচে দাঁড়িয়ে আছে রুহি। তার ছোট ছোট নরম হাত দিয়ে সে শক্ত করে ধরে আছে মুগ্ধের হাত। পাশে রিমু আর রুবি হাসিমুখে কী যেন বলছে, কিন্তু পিয়াসের দৃষ্টি কেবল একজনের ওপরই স্থির হয়ে রইল।

​রুহির পরনে আজ হালকা পার্পল রঙের একটি কামিজ। রঙটা যেন ঠিক ওর জন্যই তৈরি; গোধূলির শেষ আলোর মতো এক স্নিগ্ধ আভা ছড়িয়ে পড়ছে ওর চারপাশ থেকে। কামিজের সূক্ষ্ম কারুকাজ আর হালকা সাজে ওকে আজ সাধারণের চেয়েও অনেক বেশি অনন্য মনে হচ্ছে। ভিড়ের মাঝেও ও যেন একাকী এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।

​পিয়াস ওপর থেকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। পিয়াসের মনে হলো, রুহিকে সে আগেও হাজারবার দেখেছে, কিন্তু আজকের এই দেখাটা অন্যরকম। ওর শান্ত চাহনি, চুলে বাতাসের দোলা আর ওই আলতো হাসি—সবকিছু মিলিয়ে রুহি যেন এক জীবন্ত কবিতা। পিয়াস নিজের ভেতর এক তীব্র আকর্ষণ অনুভব করল; এক অদ্ভুত ভালোলাগা ওর শিরায় শিরায় বয়ে গেল।

​মুগ্ধের হাত ধরা রুহিকে দেখে পিয়াসের মনের ভেতর অপরাধবোধ আর না পাওয়ার হাহাকার যেন আরও ঘনীভূত হলো। ওর মনে হচ্ছিল, এই মেয়েটিই তো একসময় ওর জন্য পাগল ছিল, আর আজ সে কত দূরে! রুহির এই স্নিগ্ধ রূপ পিয়াসের ভেতরের সুপ্ত ভালোবাসাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। মুগ্ধতা ছাপিয়ে এক গভীর তৃষ্ণা জেগে উঠল ওর মনে—ইচ্ছে হলো এখনই নিচে নেমে গিয়ে ওর সামনে দাঁড়াতে, কিন্তু অতীতের ভুলের বোঝা ওকে ওখানেই পাথর করে দিচ্ছে ।

​সোনালী আর নয়নও পিয়াসের দৃষ্টি অনুসরণ করে নিচে তাকাল। সোনালী অস্পষ্ট সুরে বলে উঠলো, "দোস্ত ওটা কি রুহি? কি মারাত্মক সুন্দরী হয়েছে রে! "

নয়নও হা করে তাকিয়ে আছে, যেন কথা বলতেই ভুলে গেছে সে। পরিবেশটা হঠাত করেই যেন এক ভারী নীরবতায় ছেয়ে গেল। পিয়াস শুধু মনে মনে বিড়বিড় করল, "রুহি, তুই আজও অতটাই সুন্দর আছিস, যতটা আমার স্বপ্নে আসিস। এক সময় তুই আমার জন্য পাগল ছিলি আর এখন ক্ষনে ক্ষনে তুই আমাকে পাগল করছিস!"

চলবে________

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন