ফন্ট সাইজ:
থিম:
অন্তহীন প্রেম আমার

৬২তম পর্ব

লেখক: Afifa Afnan

#অন্তহীন_প্রেম_আমার

#আফীফা_আফনান

#পর্ব_৪৮(গ)

[কপি করা নিষিদ্ধ]

বাড়িময় তখন কলতান সাথে হৈ-হুল্লোড় পরিবশ। সেই সাথে হাসাহাসি ও আড্ডায় মুখরিত প্রতিটি মানুষ। কিন্তু রুহির মেজাজ আজ ভিন্না পর্যায়ে অবস্থান করছে। এইতো মাএ মায়ের সাথে রাগ দেখিয়ে রান্নাঘর থেকে গজগজ করতে করতে বেরিয়ে গিয়েছিলো সে। কিন্তু মনটা যেন তার শান্ত হলো না। হঠাৎ কী ভেবে সে আবার উল্টো পথে ঘুরে রান্নাঘরে গিয়ে দাঁড়াল। সেখানে তখন নাসরিন বেগম ছিলেন না তবে তানজিনা বেগম খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মাকে না দেখে রুহি সোজা গিয়ে সেই ইলিশ মাছের কড়াইটার সামনে দাঁড়াল। তার চোখে তখন গোয়েন্দার মতো অনুসন্ধানী দৃষ্টি।

​সে আঙুল উঁচিয়ে গুনতে লাগল কড়াইতে আর কয় পিস মাছ বাকি আছে। হিসেব করে দেখল মোট আট পিস। আর এদিকে বাড়ির মহিলাদের মধ্যে চারজন, আর পিয়াস ও কাব্য—মোট ছয়জনের খাওয়া বাকি। অর্থাৎ, মাছ এখনো যথেষ্ট আছে।

এদিকে ​রুহিকে ওভাবে কড়াইয়ের সামনে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তানজিনা বেগম কৌতুকভরে তার দিকে ধীরালয়ে এগিয়ে এলেন। এসেই তিনি রুহির কাঁধে হাত রাখতেই রুহি রীতিমতো লাফিয়ে উঠল। ভেবেছিল বোধহয় নাসরিন বেগম আবারও বকা দিতে এসেছেন। কিন্তু পেছন ফিরে বড় মাকে দেখে তার ভয়টা কেটে গেল। সাথে সে একটু অপ্রস্তুত হয়ে হাসল।

অন্যদিকে ​তানজিনা বেগম হেসে বললেন, "কী দেখছিস রে মা? কড়াইতে কি এখনো মন পড়ে আছে? আরও এক পিস ইলিশ খাবি নাকি? তোর জন্য কি তুলে রাখব?"

এদিকে তানজিনা বেগমের কথা শুনে ​রুহি এবার একটু লাজুক হেসে মাথা নাড়ল। "তুলে রাখো, কিন্তু আমার জন্য নয় বড় মা। শাহাজ ভাইয়ের জন্য।"

রুহির কথা শুনে ​তানজিনা বেগম অবাক হয়ে তাকালেন। তানজিনা বেগমকে এভাবে তাকাতে দেখেই রুহি তার কাঁধ জড়িয়ে আদুরে গলায় বলতে লাগল, "দুপুরে তো উনি নিজের ভাগের মাছগুলো সব আমাকেই খাইয়ে দিলেন। নিজে তো কিছুই খেতে পারেননি। তুমি তো জানোই শাহাজ ভাই ইলিশ মাছ খুব পছন্দের। তাই তুমি ওনার জন্য এক পিস ভালো দেখে তুলে রাখো। রাতে যখন উনি আবার খাবেন, তখন ওনার পাতে আস্তে করে দিয়ে দিও।"

​রুহির এমন বাচ্চা সুলভ কিন্তু দরদী কথা শুনে তানজিনা বেগম আকস্মিক হোহো করে হেসে উঠলেন। এবার রুহি একটু গাল ফুলিয়ে বলল, "কী গো বড় মা, হাসছ কেন? শাহাজ ভাই আমার কারনে মাছ খেতে পারে নি তা নিয়ে আমার কতো দুঃখ আর তুমি হাসছ? রাখো না ওনার জন্য এক পিস!"

​"রাখব রে পাগলী, রাখব। অত অস্থির হতে হবে না," তানজিনা বেগম হাসি থামিয়ে বললেন।

​কিন্তু রুহি দমার পাত্র নয়। সে নাছোড়বান্দা হয়ে বলল, "না, তুমি এখনই তুলে রাখো আমার সামনে। আমি তোমাকে পছন্দ করে দিচ্ছি কোন পিসটা তুমি ওনার জন্য রাখবে।"

​অগত্যা তানজিনা বেগম রুহির জেদের কাছে হার মানলেন। এদিকে রুহি খুব মন দিয়ে কড়াই থেকে সবচেয়ে বড় আর সুন্দর পিসটা বেছে দিল। তানজিনা বেগমও সেটি যত্নে একটা আলাদা বাটিতে তুলে রাখলেন। শুধু শাহাজ নয়, পিয়াস আর কাব্যের জন্যও তিনি মাছ আলাদা করে রাখলেন। অন্যদিকে বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সমাপ্ত হওয়ার পরে রুহি যেন এবার নিশ্চিন্ত হলো।

তার 'প্রিয়তম' মানুষটা অন্তত রাতে তৃপ্তি করে এক পিস মাছ খেতে পারবে—এই ভেবেই তার সারা দিনের সব ক্লান্তি আর মায়ের বকুনি যেন এক নিমেষেই হাওয়া হয়ে গেল। তাই সে একগাল হাসি নিয়েই নিজের রুমের দিকে পা বাড়াল।

অপরদিকে শীতের রাতটা বেশ জাঁকজমকভাবেই কাটছিল সবার। সন্ধ্যার পর থেকেই বাড়ির উঠোনে মুগ্ধের বায়নাতে ছোটখাটো এক বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করে ফেলেছিল কাব্য। তাতে অবশ্য রুবিরাও সাহায্য করেছে। সময়ের সাথে সাথে আগুনের ওম আর পোড়া মাংসের সুগন্ধে পুরো বাড়ি যেন ম ম করছিল। বাড়ির ছোট-বড় সবাই সেখানে আড্ডা জমালেও পিয়াসকে কোথাও দেখা গেল না; অফিস থেকে ফিরেই সে কোনো এক অজানা কারণে নিজেকে সবার থেকে গুটিয়ে নিজের ঘরেই বন্দি করে রেখেছে। এদিকে শাহাজ আর ফাহিম সন্ধ্যার দিকে জরুরি কাজে বেরিয়েছিল, ডিনারের সময় হয়ে গেলেও তাদের ফেরার নাম নেই।

​একসময় খাওয়ার সময় হলো। সিমির শ্বশুরবাড়ি থেকে গাড়ি চলে আসবে বলে আগেভাগেই সিমির জন্য পরিবেশন করা হলো। সৌজন্যের খাতিরে রুহি, রুবি, রিমুও মুগ্ধ এক সাথে টেবিলে বসল। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে চার বোন মিলে ঠিক করল রুবির রুমে গিয়ে কিছুক্ষণ গল্প করবে, যতক্ষণ না ফাহিম ফেরে।

ভাবনা মতোই ​সিঁড়ি দিয়ে রুবি আর রিমু আগে আগে উপরে উঠে গেল। পেছনে ছিল সিমি আর রুহি। হঠাৎ মাঝপথে সিমি রুহির হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে তাকে থামিয়ে দিল। হঠাৎ সিমির এমন কাজে রুহি কিছুটা অবাক হয়ে তাকাল। এদিকে সিমি আসার পর থেকেই রুহির সাথে কথা বলার সুযোগ খুঁজছিল, কিন্তু ভিড়ের চাপে তা হয়ে ওঠেনি। এখন একটু নির্জনতা পেতেই সে রুহিকে এক প্রকার টেনে নিয়ে সিঁড়ির আড়ালে করিডোরের এক কোণে দাঁড় করাল।

​সিমির চোখেমুখে আজ এক গভীর অপরাধবোধের ছাপ। রুহি কিছুটা ঘাবড়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, "কী হয়েছে আপু? ওভাবে দাঁড়িয়ে পড়লে যে? আমরা তো রুবি আপুর রুমে যাচ্ছিলাম।"

অতঃপর ​সিমি মাথা নিচু করে ধরা গলায় বলল, "রুহি, আমাকে ক্ষমা করে দিস । আমি... আমি তোর কাছে অনেক বড় অপরাধী। আমি আসলে... রাগের চোটে সেদিন অনেক বড় একটা অন্যায় করে ফেলেছি , সেটা আমি আজ স্বীকার করতে চাইছি । আমি নিজের স্বার্থে আঘাত পেয়ে তোকে অনেক বড় কষ্ট দিয়ে ফেলেছি বোন। আসলে আমি ওইদিন তোর........... "

সিমি ইতস্তত করে নিজের করা অন্যায় টুকু স্বীকার করতে চাইছিলো, কিন্তু তার আগেই রুহি হঠাৎ তাকে অবাক করে দিয়ে বলে উঠলো, "আমার বাগনটা তুমি নষ্ট করেছ তাই না আপু?"

​সিমি যেন হোচট খেলো, সে তো ভেবেছিল রুহি তার মুখ থেকে সত্যিটা জানলে হয়তো রেগে যাবে কিংবা কান্নাকাটি করবে, কিন্তু হলো সব উল্টোটা। এদিকে সিমিরযখন ভাবনাতে মত্ত তখনই রুহি স্থির দৃষ্টিতে সিমির দিকে তাকাল। অতঃপর তার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে ম্লান কিন্তু পরিষ্কার হাসি ফুটে উঠল। সে সিমির কাঁধে হাত রেখে খুব শান্তভাবে বলল, "আপু, মানুষ ভুল করে। কিন্তু সেই ভুলটা স্বীকার করার মতো সাহস কজনের থাকে বলো? তুমি ভুল করেছো আর সেটা এখন স্বীকার করছো, এতেই আমি খুশি। বিশ্বাস করো, তোমার প্রতি আমার কোনো রাগ বা অভিমান আজ আর অবশিষ্ট নেই।"

​রুহির গলার স্বরে এমন এক অদ্ভুত নির্লিপ্ততা আর ক্ষমা ছিল যে সিমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। রুহি আবারও বলল, "তুমি আর অনুশোচনা করো না। যা হয়েছে তা অতীত, ওসব ভুলে গিয়ে নতুন জীবনে মন দাও। চলো এখন, রুবি আপু আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।"

​এই বলে রুহি নিজেই সিমির হাত ধরে রুবির রুমের দিকে পা বাড়াল। এদিকে এক কঠিন স্বীকারোক্তির পরে সিমির মনের ভেতরটা আজ সত্যিই অনেক হালকা হলো। সেই সাথে সে বুঝতে পারল, শাহাজের মতো বিশাল বটবৃক্ষ যার ছায়া হয়ে আছে, তার কাছে ছোটখাটো এই অভিমানগুলোর আর কোনো মূল্য নেই। যা রুহির পরিবর্তনেই পরিষ্কারভাবে বোঝা যাচ্ছে।

~~~~~ এদিকে রাত বাড়ার সাথে সাথে শীতের তীব্রতা যেন আরও জাঁকিয়ে বসল। শাহাজ আর ফাহিম যখন ফিরল, তখন তারা বেশ ক্লান্ত। ফাহিম ফিরতেই সিমিকে নিয়ে রওনা হওয়ার তাড়া দিল, কারণ তাদের বাড়ি পৌঁছাতে অনেকটা সময় লাগবে। কিন্তু মমতাজ বেগম নাছোড়বান্দা; তিনি কোন মতে নাত জামাইকে ছাড়তে নারাজ। অন্তত একটু মিষ্টি মুখ না করে তিনি কাউকে যেতে দেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন । তাঁর আন্তরিক অনুরোধে ফাহিম আর না করতে পারল না, কিছুটা পায়েস খেতে রাজি হলো সে।

অপরদিকে ​শাহাজ সদর দরজা দিয়ে ঢুকেই চারপাশে একবার নজর বুলাল। ড্রয়িংরুমে সবাইকে দেখলেও সেখানে রুবিরা সহ রুহি কেউ নেই। তাই সে ধীরপায়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে এল। দোতলায় পৌঁছাতেই রুবির রুম থেকে ভেসে আসা মেয়েদের সমবেত হাসি আর আড্ডার শব্দে সে নিশ্চিত হলো রুহি ওখানেই আছে। অতঃপর শাহাজ একবার ওদিকে যেতে চেয়েও থমকে গেল। কী ভেবে সে আবারও নিজের রুমের দিকে পা বাড়াল। রুমের সামনে দাঁড়িয়ে হঠাৎই সে ইচ্ছা করেই নিজের রুমের দরজাটা বেশ শব্দ করে খুলল। দরজার বাইরে টাঙানো নতুন ঝালর আর ছোট ছোট ঘণ্টাওয়ালা ঝাড়বাতিটা সেই ধাক্কায় দুলে উঠল, আর তার টুংটাং শব্দ নিস্তব্ধ করিডোর পেরিয়ে রুবির রুমে প্রতিটি মানুষের কানে পৌঁছে গেল।

​রুহি এই শব্দটা চেনে। সে বুঝল তার ‘শাহাজ ভাই’ ফিরেছে। তাইতো একসময় সে রুবির রুম থেকে বেরিয়ে সোজা শাহাজের রুমের সামনে এসে দাঁড়াল। উঁকি দিয়ে দেখল শাহাজ রুমে নেই, তবে বাথরুম থেকে পানির শব্দ আসছে। বুঝলো শাহাজ বাথরুমে তাই রুহি অনধিকার চর্চার মতোই গুটিগুটি পায়ে ভেতরে ঢুকে শাহাজের বিছানায় গিয়ে বসল। একটু পরেই শাহাজ চুল মুছতে মুছতে ভেতর থেকে বেরিয়ে এল। এসেই রুহিকে ওভাবে বসে থাকতে দেখে তার ঠোঁটের কোণে মায়াবী এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল। অতঃপর সে রুহিকে কিছু না বলেই ল্যাপটপটা নিয়ে খাটের একপাশে রুহির সামনে বসল।এদিকে শাহাজ রুহিকে দেখেও কিছু বলছে না দেখে রুহিই তার সাথে কথা বলার প্রচেষ্ঠা চালালো, তাই ​রুহি শাহাজকে জিজ্ঞেস করল,

"খাবেন না শাহাজ ভাই?"

রুহির প্রশ্নের বিপরিতে শাহাজ ল্যাপটপের স্ক্রিনে চোখ রেখেই বলল, "বাইরে খেয়ে এসেছি।"

"কী খেয়েছেন?" রুহির গলায় জেরা।

"নাস্তা করেছি।"

"নাস্তা করলে কি পেট ভরে?" রুহি গাল ফুলিয়ে বলল।

"হ্যাঁ, ভরে।" শাহাজের সংক্ষিপ্ত উত্তর।

"কিন্তু আমার যে ভরে না!" রুহির এমন উল্টো যুক্তিতে শাহাজ এবার ল্যাপটপ থেকে নজর সরিয়ে ওর দিকে তাকাল।

"খাসনি তুই?"

"খেয়েছি, কিন্তু.... ।"

"কী খেয়েছিস?"

"নান আর মাংস।"

"খিদে পেয়েছে?" শাহাজ আবারও প্রশ্ন করল।

এবার রুহি মাথা নেড়ে জানাল যে তার খিদে পায়নি। শাহাজ অবাক হয়ে বলল, "তাহলে?"

রুহি খুব নিচু স্বরে কিন্তু আবদারের সুরে বলল, "আমি আপনার জন্য এক পিস ইলিশ মাছ রেখেছি, খাবেন না?"

​"দুপুরে খেলাম না?" শাহাজ কৌতুক করল।

"কোথায় খেয়েছেন! সবটাই তো আমাকে খাইয়ে দিয়েছেন।" রুহির কণ্ঠে অভিমান।

এবার শাহাজ ওর চোখের দিকে তাকিয়ে খুব শান্ত গলায় বলল, "তুই খেলে আমার পেট ভরে যায় রুহি। আলাদা করে খেতে হয় না।"

রুহি এবার যেন লজ্জায় পড়ে গেল, কিন্তু সে দমল না। "মোটেও না! আমি খেলে আপনার পেট কীভাবে ভরবে? সবই তো আমার পেটে গেল, আপনার পেটে কখন গেল?"

রুহির কথাতে শাহাজ একটু হাসলো কিন্তু ল্যাপটপে আবারও মন দিয়ে বলল, "ওটা দেখা যায় না, অনুভব করতে হয়।"

শাহাজের এমন কথাতে আকস্মিক রুমজুড়ে নিরবতা নেমে এলো। কিন্তু ​খানিক নীরবতার পর শাহাজ হঠাৎ ল্যাপটপটা একপাশে সরিয়ে বলল, "আচ্ছা যা, আমার জন্য অল্প একটু ভাত নিয়ে আয়। একদম।অল্প আনবি কিন্তু।"

এদিকে শাহাজের এমন কথাতে রুহির মুখটা খুশিতে এক নিমিষেই ঝলমল করে উঠল। সে কোনমতে এক দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে সোজা রান্নাঘরে ছুটল। বড় মাদের অগোচরে খুব সাবধানে বাটি থেকে সেই পছন্দের ইলিশের টুকরো আর ভাত নিয়ে মাইক্রোওয়েভে গরম করে নিল সে। সবটাই সে করল অতি সতর্কতায়, যাতে কেউ টের না পায়।

অতঃপর ​রুহি নিচ থেকে প্লেট নিয়ে ফিরে এসে শাহাজের সামনে রাখল। "নিন শাহাজ ভাই, খেয়ে নিন।"

রুহি আসতেই শাহাজ একবার প্লেটের দিকে তাকিয়ে আবারও ল্যাপটপে নজর দিল। রুহি প্লেটটা ধরে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু শাহাজের কোনো হেলদোল নেই। রুহি অধৈর্য হয়ে বলল, "কী হলো শাহাজ ভাই? নিচ্ছেন না কেন? গরম থাকতে থাকতে খেয়ে নিন, ঠান্ডা হয়ে যাবে তো।"

​শাহাজ এবার ল্যাপটপ থেকে চোখ না সরিয়েই খুব স্বাভাবিক গলায় বলল, "খাইয়ে দে।"

শাহাজের এমন কথাতে ​রুহির চোখ দুটো যেন বড় বড় হয়ে গেল। সে কি ঠিক শুনেছে? যে শাহাজ মোস্তফাকে সে চেনে সে তো এমন না। এ সে কাকে দেকছে সে কিনা আজ তাকে খাইয়ে দিতে বলছে?

তাই রুহি নিজের বিষ্ময় কাটাতে আবারও কাঁপাকাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল, "আ... আপনি কী বললেন?"

শাহাজ এবার স্থির চোখে রুহির দিকে তাকালো অতপর বললো, "বললাম খাইয়ে দিতে। যদি খাইয়ে দিতে পারিস তবে থাক, নাহলে এখান থেকে বিদায় হ। আমার অনেক ইম্পটেন্ট কাজ আছে বিরক্ত করিস না।"

​রুহির মনে হলো সে একটা বড়সড় ধাক্কা খেল। জীবনে এই প্রথম শাহাজ এমন আবদার করল। তাই সে আর কথা না বাড়িয়ে খাটের ওপর গুছিয়ে বসল। প্লেট থেকে ভাতের ধোঁয়া তখনও উড়ছে। যে রুহি নিজে কাঁটা বেছে খেতে পারে না, সে আজ পৃথিবীর সমস্ত একাগ্রতা দিয়ে মাছের ক্ষুদ্রতম কাঁটাগুলো বেছে ভাতের প্রথম লোকমা তৈরি করল। এবং লোকমাটা শাহাজের মুখের সামনে তুলে ধরে সে বলল, "হা করুন।"

এবার ​শাহাজ ল্যাপটপ বন্ধ করে রুহির দিকে তাকাল। শাহাজের সেই গভীর, মনমোহন চাহনি যেন রুহিকে একদম আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলল। রুহি লজ্জায় আরষ্ট হয়ে চোখ নামিয়ে নিল প্লেটের দিকে।

এদিকে রুহিকে এমন দেখে শাহাজ এবার তার ভরাট আর গম্ভীর কণ্ঠে বলল, "আমার দিকে তাকা রুহি।"

রুহি মাথা নেড়ে বোঝাল সে তাকাতে পারবে না। শাহাজ এবার একটু জেদ মিশিয়ে বলল, "তাহলে আমি খাব না, নিয়ে যা প্লেট।"

​অগত্যা রুহি নিজের সমস্ত লজ্জা একপাশে ঠেলে শাহাজের চোখের দিকে তাকাল। সেই পলকহীন দৃষ্টির মাঝেই শাহাজ রুহির হাত থেকে লোকমাটা নিজের মুখে পুরে নিল। পুরোটা সময় শাহাজের অপলক দৃষ্টি ছিল রুহির মুখের ওপর নিবন্ধ। এদিকে রুহি পরম মমতায় একের পর এক লোকমা শাহাজকে খাইয়ে দিল। আজ এক অদ্ভুত ম্যাজিক হলো—যে মেয়ে নিজে কাঁটা বেছে খেতে ভয় পায়, সে আজ নিখুঁতভাবে মাছ বেছে তার প্রিয়তমকে খাইয়ে যেন তৃপ্তি পেল।

​প্লেটের শেষ ভাতটুকু যখন শেষ হলো, তখন হঠাৎ বাইরে থেকে রুবি আর রিমুর গলা শোনা গেল। সিমি চলে যাওয়ার সময় হয়েছে, তারা সেটাই বলাবলি করছে। অন্যদিকে শাহাজের সেই নেশাতুর চাহনি আর সহ্য করতে না পেরে রুহি তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়াল। "শাহাজ ভাই, সিমি আপু চলে যাবে, আমি একটু আসছি কেমন?" বলেই সে প্রায় দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে এল।

এদিকে করিডোর পেরিয়ে ​সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সিমি। নিজের ব্যাগ ভুলবসত রুবির রুমে ফেলে আসার ফলে আবারও তাকে ওপরে উঠতে হয়েছে। কিন সিঁড়ির কাছে পৌছাতেই তার দেখা হলো পিয়াসের সাথে। পিয়াস তিনতলা থেকে নেমে আসছিল। সিমিকে একাকি হাটতে দেখেই পিয়াস তাকে ডাক দিলো। এদিকে আকস্মিক পিয়াসের ডাকে সিমি দাঁড়িয়ে পড়লো। তার চোখে মুখে কৌতুহল হঠাৎ দাড় করানোর কারন বোঝার চেষ্টা করছে সে।

এদিকে পিয়াস এগিয়ে এসেই হালকা হাসি দিয়ে একদম স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে সিমিকে বলল, " কেমন আছিস সিমি। নতুন সংসার, সুখে আছিস তো। নাকি মনের মতো বর পাসনি। কথাটি বলেই পিয়াস হাসলো, অতঃপর আবারও বললো, মনের মতো বর না পেলেও এখন কি করার বল, অন্যের বউ হয়ে গেলি। এখন আর কিছু করা নেই। তাই মানিয়ে নিস। আর হে শোনো, যদি তোর মনে আমার জন্য এখনো কিছু থেকে থাকে, তবে সেটা মন থেকে ঝেড়ে ফেলো। কারন আমি চাইনা আমাকে কেন্দ্র করে কারো সংসারে সমস্যার সৃষ্টি হোক।"

কথাগুলো বলে পিয়াস থামলো। আর এদিকে সিমি এদৃষ্টিতে সামনের মানবটির ​দিকে তাকিয়ে ছিলো। অতঃপর সিমি এক সময় নজর সড়ালো, এক চিলতে তাচ্ছিল্যের হাসি ঠোঁটে ফুটিয়ে হাসল।

সে এবার পিয়াসের দিকে তাকিয়ে খুব দৃঢ় গলায় বলে উঠলো, "আমার মনে এখন কারো জন্যই কিছু নেই পিয়াস ভাই। এখন আমার মনে শুধু একজনই আছে, সে আমার স্বামী। আমি আসলে বড় বোকা ছিলাম তাই মরীচিকার পেছনে দৌড়েছি । কিন্তু সৃষ্টিকর্তা যে আমার ভাগ্যে ‘হীরা’ লিখে রেখেছিলেন, সেটা জানতাম না।"

সিমি আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার নজর আটকে গেল শাহাজের রুমের দিকে। সেখান থেকে এক হাতে খালি থালা নিয়ে বের হয়ে আসছে রুহি। রুহির লাজুক হাসি আর অগোছালো ওড়না বলে দিচ্ছিল—ভেতরে এক অন্যরকম ভালোবাসার গল্প মাত্র সমাপ্ত হয়েছে। শাহাজের রুম থেকে রুহিকে এভাবে হাসিমুখে বেরিয়ে আসতে দেখেই ঠোঁটের কোণে এক চিলতে রহস্যময় হাসি ফোটালো সিমি। রুহি যখন সিঁড়ির দিকে এগিয়ে আসছে, তখনই সিমি নিজের নজর পিয়াসের ওপর স্থির রেখে খুব শান্ত গলায় বলতে শুরু করল:

​"একটা কথা জানিমো পিয়াস ভাই? আমরা জীবনে যা-ই করি না কেন, ঘুরেফিরে আমাদের কর্মফল আমাদের কাছেই ফিরে আসে। হোক সেটা ভালো কিংবা মন্দ। ফল ভোগ থেকে কেউ রেহাই পায় না। এই যেমন আমাদের ভাবনা যেখানে শেষ হয়, সৃষ্টিকর্তা সেখান থেকেই আমাদের ভাগ্যের পাতাটা নতুন করে লিখতে শুরু করেন। কারণ ভবিষ্যতে আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে, সেটা একমাত্র তিনিই জানেন।"

​সিমি একটু থামল, পিয়াসের বিস্মিত চোখের দিকে তাকিয়ে আবারও ধীরস্থিরভাবে বলল, "কাউকে অনর্থক কষ্ট দিয়ে, কাউকে কাঁদিয়ে যদি কেউ মনে করে সে পার পেয়ে যাবে—তবে সে বড় ভুল করছে। আজ হয়তো কেউ তোমার কারণে কাঁদছে, কিন্তু কাল হয়তো তোমাকেই তার চেয়ে বেশি কাঁদতে হবে। সময় বড় অদ্ভুত পিয়াস ভাই, বলা তো যায় না সামনে কী হয়! তাই সবাধানে পা ফেলবেন, পাছে না আছাড় খেয়ে বসেন।"

কথাগুলো বলেই ​সিমি মুচকি হাসল। এদিকে পিয়াস যেন একদম পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। সিমির কথাগুলোর অর্থ তার মাথার ওপর দিয়ে গেলেও বুকের ভেতরটা অজানা এক আশঙ্কায় মোচড় দিয়ে উঠল। সিমি যেন তাকে তার অতীতের করা অন্যায়ের আয়না দেখাচ্ছিল এবং ভবিষ্যতের কোনো এক ঝড়ের আগাম বার্তা দিচ্ছিল।

এদিকে ​পিয়াস যখন কিছু জিজ্ঞেস করার জন্য মুখ খুলবে, ঠিক তখনই সিমি একপ্রকার পিয়াসকে শুনিয়েই পাশ দিয়ে যাওয়া রুহিকে উদ্দেশ্য করে বলল, "আরে রুহি! তোর হাতে খালি প্লেট কেন? কোথায় গিয়েছিলি রে?"

​রুহি সৌজন্যমূলক মিষ্টি হাসি দিয়ে স্বাভাবিক গলায় বলল, "শাহাজ ভাইয়ের জন্য খাবার নিয়ে গিয়েছিলাম আপু। উনি তো দুপুরে কিছু খাননি, তাই এখন খাইয়ে দিয়ে এলাম।"

​রুহির এই সহজ স্বীকারোক্তি আর শাহাজের প্রতি ওর এই গভীর অধিকারবোধ শুনে পিয়াসের পায়ের তলার মাটি যেন সরে গেল। সে দেখল রুহি খুব স্বাচ্ছন্দে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে যাচ্ছে। রুহি আর শাহাজের এই অদৃশ্য সুতোর টান পিয়াসের চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে ধরা দিল। আজ সে অনুভব করতে পারল—যে রুহি একসময় তার ছায়ার পেছনে ঘুরে বেড়াত, আজ সেই মেয়েটিই সবার সামনে অকুতোভয়ে অন্য কারোর সেবায় মগ্ন। পিয়াস বুঝতে পারল, রুহি আর মরীচিকা হয়ে তার নাগালে নেই; সে এখন শাহাজের সেই ধ্রুবতারা, যাকে ছোঁয়ার অধিকার পিয়াস নিজ হাতেই বিসর্জন দিয়েছে।

ঠিক সেই মুহূর্তে শাহাজ তাঁর রুম থেকে বেরিয়ে ধীর পায়ে সিঁড়ির কাছে এসে দাঁড়ালো। তাঁর উপস্থিতিতে করিডোরের আবহাওয়া যেন এক নিমেষেই বদলে গেল। সিঁড়ির মাঝপথে দাঁড়িয়ে থাকা সিমি আর পিয়াস—দুজনেরই নজর এখন শাহাজের ওপর। রুহি তখন প্রায় সিঁড়ির শেষ ধাপে পৌঁছে গেছে।

​হঠাৎ করেই শাহাজ রুহিকে ডাক দিলো। আজ তাঁর কণ্ঠে কোনো দ্বিধা নেই, নেই কোনো শাসনের কঠোরতা। আজ সর রুহিকে তাঁর আসল পরিচয়ে ডাকলো না, বরং নিজের দেওয়া সেই মায়াবী নামে সম্বোধন করলেন—"চঞ্চলা!"

​শব্দটা কানে পৌঁছানো মাত্রই রুহি বিদ্যুৎবেগে উপরের দিকে তাকাল। শাহাজের চোখের সাথে চোখ পড়তেই রুহির ঠোঁটে এক অনাবিল মিষ্টি হাসি ফুটে উঠল। সে নিচ থেকেই উত্তর দিল, "আপনার কিছু চাই শাহাজ ভাই?"

​শাহাজ তাঁর স্বাভাবিক কিন্তু গভীর কণ্ঠে বললেন, "আমার জন্য এক কাপ চা দেওয়া যাবে?"

​রুহি চটপটে গলায় উত্তর দিল, "অবশ্যই! এখনই আনছি শাহাজ ভাই।" বলেই সে প্রজাপতির মতো ডানা মেলে রান্নাঘরের দিকে ছুটে গেল। শাহাজ যেভাবে এসেছিলেন, ঠিক সেভাবেই ধীরস্থির পায়ে নিজের রুমের দিকে ফিরে গেলেন।

​শাহাজের এই সাধারণ এক কাপ চায়ের আবদার আর রুহির সেই ব্যাকুলতা—সবটাই সিমি আর পিয়াসের নজর এড়াল না। সিমি লক্ষ্য করল, শাহাজের চোখের সেই ‘চঞ্চলা’ সম্বোধনটা কেবল একটা নাম নয়, ওটা ছিল রুহির ওপর তাঁর একচ্ছত্র অধিকারের ঘোষণা। সিমি হালকা হাসল। অতঃপর নিচে সোফায় বসে থাকা ফাহিমের দিকে সে তাকাল, যে কি না হাসিমুখে মুরুব্বিদের সাথে গল্পে মেতেছে। এবার সিমি শেষবারের মতো পিয়াসের দিকে ফিরে চাইল। তাঁর ঠোঁটের কোণে একরাশ তাচ্ছিল্য ফুটিয়ে তুলে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে ফিসফিস করে বলল:

​"পৃথিবীটা সত্যিই অদ্ভুত! চার অক্ষরের ছোট্ট একটা শব্দ ‘ভালোবাসা’, কিন্তু কার জীবনে তা কখন কীভাবে আসবে কেউ বলতে পারে না। মানুষ চিরকাল অযোগ্যদের পেছনেই সময় নষ্ট করে, আর যোগ্যদের চোখের সামনে দেখেও অবহেলা করে যায়।"

​কথাগুলো তীরের মতো পিয়াসের বুকে বিঁধল। সে স্পষ্ট বুঝল, সিমি তাকেই বিঁধিয়ে কথাগুলো বলেছে। লজ্জায় আর অপমানে পিয়াসের ফর্সা মুখটা টকটকে লাল হয়ে উঠল। সে চেয়েছিল সবার সাথে নিচে গিয়ে আড্ডা দেবে, কিন্তু এখন সেই সাহসটুকুও যেন তার হারিয়ে গেল।

একসময় ​দোতলা থেকে পিয়াস দেখল সিমি আর ফাহিম বিদায় নিচ্ছে। অস্বীকার করার উপায় নেই, ফাহিমের পাশে সিমিকে আজ অসম্ভব মানিয়েছে। ঠিক যেন একে অপরের জন্যই তৈরি। ফাহিমের সাথে তার পরিচয় নেই, তবে শুনেছে সে শাহাজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। হঠাৎ পিয়াসের বুকের ভেতরটা কেমন হাহাকার করে উঠল। সিমির কথাগুলো তার মস্তিষ্কে হাতুড়ির মতো বাজতে শুরু করল।

​এমন সময় সে দেখল, চায়ের কাপ হাতে রুহি সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে আসছে। খুব সাবধানে পা ফেলে সে চায়ের গরম কাপটা সামলে নিয়ে উপরে উঠে এল। পিয়াস করিডোরে দাঁড়িয়ে থাকলেও রুহি তাকে বিন্দুমাত্র পাত্তাই দিল না, বরং পিয়াসকে পাশ কাটিয়ে শাহাজের রুমের দিকে এগোতে চাইল।তখনই ​পিয়াস পেছন থেকে ডাক দিল, "রুহি, দাঁড়া।"

রুহি থামল, কিন্তু পেছন ফিরল না। স্থির দাঁড়িয়ে থেকে শান্ত গলায় বলল, "বলুন।"

"তোর সাথে আমার কিছু দরকারি কথা আছে, একটু শুনবি?" পিয়াসের কণ্ঠে আজ একরাশ মিনতি।

"শুনছি, বলুন।"

"এখানে না, আমার রুমে আয়।"

​রুহি এবার একটু ঘুরে দাঁড়াল। তাঁর চোখেমুখে এক কঠোর কাঠিন্য। সে স্পষ্ট স্বরে বলল, "আমার জানামতে আপনার সাথে আমার আহামরি এমন কোনো সম্পর্ক নেই যে আপনার রুমে গিয়ে আমাকে কথা শুনতে হবে। কথা বলতে হলে এখানেই বলুন, আর না হলে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকুন।"

​রুহির এই সপাট জবাবে পিয়াস থতমত খেয়ে গেল। সে আমতা আমতা করে বলল, "আচ্ছা ঠিক আছে, তাহলে চল একটু পাশে গিয়ে দাঁড়াই।"

"আমি কোথাও যেতে পারব না। আমার অনেক কাজ আছে। আপনার যা বলার তাড়াতাড়ি বলুন," রুহির কণ্ঠে বিরক্তি স্পষ্ট।

​পিয়াস একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের পূর্বের আচরণের জন্য ক্ষমা চাইতে যাবে, ঠিক তখনই শাহাজের রুম থেকে সেই পরিচিত গম্ভীর কণ্ঠস্বর ভেসে এল— "চঞ্চলা, কোথায় তুই? চা কি এখনো তৈরি হয়নি?"

ব্যাস ​রুহি আর এক মুহূর্ত পিয়াসকে কিছু বলার সুযোগ দিল না। পিয়াসের ক্ষমা চাওয়ার আকুতিটুকু মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে সে সোজা শাহাজের রুমের দিকে ছুটে গেল। রুহিকে শাহাজের জন্য ওভাবে ব্যাকুল হতে দেখে পিয়াস রাগে আর ঈর্ষায় যেন ফেটে পড়ল। অতঃপর সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে শাহাজের রুমের দিকে এগিয়ে গেল।

​দরজার সামনে দাঁড়িয়ে পিয়াস যা দেখল, তাতে তার কলিজা যেন শুকিয়ে গেল। দেখল, খাটের ওপর পাশাপাশি বসে আছে দুজন। শাহাজ এক হাতে চায়ের কাপ ধরে আয়েশ করে চা খাচ্ছে, কিন্তু তাঁর দৃষ্টি নিবন্ধ হয়ে আছে রুহির মুখের ওপর। আর রুহি? সে শাহাজের ল্যাপটপের স্ক্রিনে থাকা কোনো একটা ছবি দেখে খিলখিল করে হাসছে। শাহাজের সেই গভীর চোখের চাহনি আর রুহির পরম নিশ্চিন্তে তাঁর পাশে বসে থাকা—এই দৃশ্য বলে দিচ্ছিল, পিয়াস পৃথীবির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদটি চিরতরে হারিয়ে ফেলেছে।

একসময় ​শাহাজ চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে রুহির দিকে তাকিয়ে খুব নিচু স্বরে বলে উঠলো, "চা-টা দারুণ হয়েছে। ঠিক যেমনটা আমি চেয়েছিলাম। একদম তোর মতোই মিষ্টি।"

শাহাজের এমন কথাতে ​রুহি শাহাজের দিকে তাকিয়ে মুখ টিপে হাসল। আর অন্যদিকে পিয়াস বাইরে দাঁড়িয়ে অনুভব করল, এই হাসির ভাগীদার সে কোনোদিনই হতে পারবে না।

চলবে,...........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন