ফন্ট সাইজ:
থিম:
অন্তহীন প্রেম আমার

৬৯তম পর্ব

লেখক: Afifa Afnan

#অন্তহীন_প্রেম_আমার

#আফীফা_আফনান

#পর্ব_৫৩(ক)

[কপি করা নিষিদ্ধ]

খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে নিত্যদিনের কাজ শেষ করে রুহি আজ ড্রয়িংরুমের সোফাতে বেশ আয়েশ করে বসেছে। বাইরে তখন হাড়কাঁপানো শীত, ঘরের ভেতরেও হিমেল হাওয়ার দাপট। তাইতো শীতের হাত থেকে বাঁচতে রুহি একটা পাতলা কম্বল দিয়ে নিজেকে মুড়ি দিয়ে রেখেছে। একটু পরপরই তার উৎসুক দৃষ্টি দেয়ালের বিশাল ঘড়িটার দিকে যাচ্ছে। আজ রুহি বিশেষ কারো একজনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। কখন সময় হবে, কখন কাঙ্ক্ষিত সেই মানুষটি তার সামনে আসবে—তা নিয়ে তার অস্থিরতার শেষ নেই। বারবার সে দোতলার সিঁড়ির দিকে তো আবার বাহিরের দিকে উঁকিঝুঁকি মারছে।

​গতকালের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঝড়-ঝাপটার পর বাড়ির গুমোট পরিবেশ এখন কিছুটা শান্ত। এদিকে ড্রয়িংরুমে রুহি একা থাকলেও রান্নাঘরে তখন তিন রমণীর ব্যস্ততা তুঙ্গে। রুহির এই অস্বাভাবিক উঁকিঝুঁকি আর অস্থিরতা রান্নাঘর থেকে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছিলেন তানজিনা বেগম, ইয়াসমিন বেগম ও নাসরিন বেগম। শীত যতই পড়ুক, গৃহিণীদের কাজ তো আর থেমে থাকে না। প্রতিদিনের মতো আজকেও তাঁরা সকালের নাস্তা তৈরিতে ব্যস্ত। তবে সাতসকালে রুহিকে এভাবে কম্বল মুড়ি দিয়ে সোফায় বসে থাকতে দেখে তিনজনই বেশ অবাক হচ্ছেন।

​তানজিনা বেগম রান্নায় মনোযোগ দিলেও ইয়াসমিন ও নাসরিন বেগম রুহির এই অকাল উপস্থিতি নিয়ে ফিসফিস করে কথা বলছেন। ইয়াসমিন বেগম ভ্রু কুঁচকে হাতের কাজ থামিয়ে বললেন, "কিরে নাছু, রুহির আজকে কী হলো? এত সকাল সকাল এভাবে মূর্তির মতো বসে আছে কেন? ওকে তো প্রথম দেখে আমি রীতিমতো ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলাম!" তাঁর বলার ভঙিমায় একরাশ বিস্ময় ও কিছুটা আশঙ্কা ঝরে পড়ল।

ইয়াছমিন বেগমের কথা শেষ হতেই ​নাসরিন বেগমও দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "বুঝতে পারছি না মেজ ভাবি। এক এক দিন মেয়েটার মাথায় যে কী চলে, একমাত্র ওই জানে আর ওর খোদা জানেন। রুহি এত সকালে উঠলে হয় পড়তে বসে, না হয় ছাদের বাগানে যায়। নিজে থেকে ড্রয়িংরুমে এসে তো বসে থাকার কথা নয়। আজ হলোটা কী মেয়েটার?"

​ইয়াসমিন বেগম আবার বললেন, "আমার তো মনে হচ্ছে নির্ঘাত মাথায় কোনো কুবুদ্ধি চলছে। তা না হলে এভাবে ওত পেতে বসে থাকার মানে কী?"

​রান্নাঘর থেকে তাঁদের এসব কথা তানজিনা বেগমের কানে আসতেই তিনি বলে উঠলেন, "আহা, ও এত সকালে উঠে এখানে কী করছে তা নিয়ে তোরা জল্পনা না করে সরাসরি জিজ্ঞেস করলেই তো পারিস ও কি করছে আর কিছু খাবে কি না। এমন ভাবে বলছিস যেন ও বাহিরের কেউ, মেয়েটার নিজের বাড়ি, নিজের ঘর, নিজেদের সোফায় বসে আছে—তাতে তোদের এত মাথা ব্যথা কেন? সেই আমাদের ওঠার পরপরই ও উঠে এখানেই বসে আছে, কেন বসে আছে তা জিজ্ঞেস না করে তোরা কৌতূহল মেটাতে ব্যস্ত!"

​তানজিনা বেগমের কথা শুনে নাসরিন বেগম কিছুটা তপ্ত স্বরে বললেন, "বড় ভাবি, তুমিই তো মেয়েটাকে আদর দিয়ে মাথায় তুলেছ! নিজে তো বকো না, আমাদেরও বকতে দাও না। তোমার আদরের মেয়েকে একবার জিজ্ঞেস করো তো, ওখানে বসে সে কী করছে? যদি খিদে পেয়েও থাকে, তবে রান্নাঘরে না এসে ওখানে ধর্ণা দিয়ে বসে থাকার মানে কী?"

​অগত্যা তানজিনা বেগম রুহিকে ডাকলেন, "রুহি মা, এদিকে আয় তো একটু।"

​রুহির মনোযোগ এতক্ষণ বাহিরের দিকেই ছিল। কিন্তু বড় মার ডাক শুনে সে কম্বলটাকে গায়ের সাথে ভালো করে পেঁচিয়ে নিয়ে গুটিগুটি পায়ে রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে এল। কিচেন কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, "হ্যাঁ বড় মা, ডাকছিলে?"

রুহি আসতেই ​তানজিনা বেগম এক চিলতে মিষ্টি হাসি দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "আজ এত সকালে উঠলি যে মা? খিদে পেয়েছে?"

​রুহি এবার সরাসরি বলেই ফেলল, "অপেক্ষা করছি বড় মা, অপেক্ষা।"

​পাশ থেকে নাসরিন বেগম অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "তুই এত ভোর থেকে কার জন্য অপেক্ষা করছিস?"

"শাহেব চাচ্চুর জন্য। হয়তো ভোরে নামাজ পড়তে চলে গেছেন, এখন তো হেঁটে বাসায় ফিরবেন। ওনাকে ধরার জন্যই আমি এখানে বসে আছি।"

​ইয়াসমিন বেগম আকাশ থেকে পড়লেন, "শাহেবকে দিয়ে তোর আবার কী কাজ? ওকেই বা ধরার জন্য ওত পেতে আছিস কেন?"

​"ওটা আমার আর শাহেব চাচ্চুর সিক্রেট। তোমরা বুঝবে না।" রুহি রহস্যময়ী হাসি দিয়ে সরে যেতে চাইল, কিন্তু হঠাৎ কী মনে করে সে বড় মার দিকে ফিরে তাকাল। খুব ধীর অথচ গম্ভীর গলায় প্রশ্ন করল, "বড় মা, রুপাঞ্জলি হাসান আমাদের ছোট মা হন, তাই না? তোমরা তো কোনোদিন আমাদের এ কথা বললে না! এতো বড় কথা লুকিয়েছিলে কেন? হুম!"

​আকস্মিক রুহির মুখে এই নাম শুনে তিন রমণীর হাতের কাজ যেন মুহূর্তেই থেমে গেল। নাসরিন বেগম তড়িঘড়ি করে মেয়ের মুখ চেপে ধরলেন। অন্যদিকে ইয়াসমিন বেগম আড়চোখে চারপাশে একবার দেখে নিলেন শাশুড়ি মা অর্থাৎ মমতাজ বেগম আশেপাশে আছেন কি না। মমতাজ বেগমকে দেখতে না পেয়ে তিনি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। অন্যদিকে নাসরিন বেগম রুহিকে রীতিমতো ধমক দিয়ে বললেন, "এই অসভ্য! তোকে এত কথা বলতে কে বলেছে? কালকে বাড়িতে কী রণক্ষেত্র হয়েছে ভুলে গেছিস?"

​তানজিনা বেগম এবার শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করলেন, "তুই এ কথা কার কাছে জানলি? কে বলেছে তোকে রুপাঞ্জলি তোর ছোট মা হয়?"

এদিকে ​রুহি বিরক্ত হয়ে মায়ের হাত সরিয়ে দিয়ে বলল, "মা, যখন তখন ছোট বাচ্চার মতো মুখ চেপে ধরো না তো! আমি কি আর ছোট্ট আছি?" এরপর সে তানজিনা বেগমের দিকে ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল, "আমাকে শাহাজ ভাই সব বলেছে। আর শুধু বলেনি, আমি ছোট মার সাথে দেখাও করেছি।"

​খবরটা শুনে তিনজনেরই মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। শাহাজ বলেছে এবং দেখাও করিয়েছে! তানজিনা বেগম তড়িঘড়ি করে রুহিকে রান্নাঘরের এক কোণে টেনে নিয়ে গেলেন এবং অস্ফুট স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, "তোকে সত্যি শাহাজ বলেছে? আর দেখাও করিয়েছে?" রুহি মাথা নেড়ে সায় দিল।

​ইয়াসমিন বেগম এবার কৌতূহল সামলাতে না পেরে জিজ্ঞেস করলেন, "ও কি তোকে চিনতে পেরেছে?"

"হ্যাঁ মেজ মা, চিনেছে। শুধু তাই নয়, তোমাদের সবার কথাই জিজ্ঞেস করেছে উনি।"

​তানজিনা বেগম আরও কিছু জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই বাইরে থেকে মোস্তফা কামাল ও বাকিদের গলার আওয়াজ পাওয়া গেল। তিনি তৎক্ষণাৎ চুপ হয়ে গেলেন এবং রুহিকে সাবধান করে দিলেন যেন এই কথাগুলো আপাতত বাড়ির আর কাউকে না বলে। রুহিও বাধ্য মেয়ের মতো মাথা নেড়ে আশ্বস্ত করল এবং চটজলদি ড্রয়িংরুমের দিকে পা বাড়াল।

নামাজ শেষে ভাইদের সঙ্গে নিয়ে বাহিরে হাঁটাটা শীত এসেছে ধরে মোস্তফা কামালের অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। তাই আজও তার ব্যতিক্রম হয় নি। এদিকে ভাইদের সাথে কথা বলতে বলতে শাহাবুদ্দিন সাহেব যখন বাড়িতে প্রবেশ করলেন। তখন দীর্ঘক্ষণ হাঁটার কারণে তাঁর শরীর থেকে একটা ফ্রেশ ভাব ঠিকরে বেরোচ্ছে। জুতোজোড়া খুলে তিনি যেই না নিজের রুমের দিকে পা বাড়ালেন, অমনি কোত্থেকে যেন এক অদ্ভুত মূর্তির মতো রুহি এসে তাঁর পথ আটকে দাঁড়াল।

​ভোরবেলার হাড়কাঁপানো শীতে রুহি নিজেকে একটি পাতলা কম্বলে এমনভাবে পেঁচিয়ে রেখেছে যে শুধু তার উৎসুক চোখ দুটো দেখা যাচ্ছে। শাহাবুদ্দিন নিজের সামনে রুহিকে এমন ‘পোটলা’র মতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে হোহো করে হেসে উঠলেন। তিনি হাসতে হাসতেই বললেন, “কী রে আম্মা! তোর এই অবস্থা কেন? শীত কি আজ একটু বেশিই জেঁকে ধরেছে তোকে?”

​রুহি কোনো কথা না বলে কম্বলের ভেতর থেকেই পুতুলের মতো মাথা নেড়ে ‘হ্যাঁ’ বোঝালো। তাঁর এমন গম্ভীর ভঙ্গি দেখে শাহাবুদ্দিন আবারও হাসলেন। এরপর তিনি রুহিকে পাশ কাটিয়ে নিজের ঘরে যেতে চাইলেন, কিন্তু রুহি আবারও চট করে তাঁর সামনে এসে ঢাল হয়ে দাঁড়াল।

​শাহাবুদ্দিন এবার একটু অবাক হয়ে বললেন, “কী হলো রে মা? যেতে দিবি না?”

রুহি জেদ ধরে বলল, “না, একদম যেতে দেব না।”

“কিন্তু কেন?” শাহাবুদ্দিনের কণ্ঠে কৌতুক।

​রুহি এবার কম্বলের বাঁধনটা একটু আলগা করে চাচ্চুর খুব কাছে গিয়ে দাঁড়াল। ডাগর ডাগর চোখে তাকিয়ে আদুরে গলায় আবদার করল, “শাহেব চাচ্চু, আজ সন্ধ্যায় আমাকে নিয়ে একটু বাইরে ঘুরতে যেতে হবে। একদম না বলবে না কিন্তু!”

​শাহাবুদ্দিন কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেলেন অতঃপর বললেন, “আজ তো একটু মুশকিল রে মা। সন্ধ্যায় দপ্তরে জরুরি কিছু কাজ আছে আমার। বরং আগামীকাল নিয়ে যাই?”

​কিন্তু রুহি আজ নাছোড়বান্দা। সে কোনোমতেই হার মানতে রাজি নয়। সে বড় বড় চোখ করে মাথা নেড়ে বলল, “না, আগামীকাল না, আজ মানে আজই! কাজ তো রোজই থাকে চাচ্চু, আজ না হয় ওসব ছুটি।”

ইদানিং রুহি তার কাছে খুব একটা আবদার করে না তাই ​শাহাবুদ্দিন রুহির এই একগুঁয়েমির কাছে বেশ নরম হয়ে এলেন, তবুও কাজের কথা ভেবে দোটানায় ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে তানজিনা বেগম রান্না ঘর থেকে হাঁক ছাড়লেন, "শাহেব সেই ভোর থেকে তোমরা বের হবার পর থেকেই এভাবেই এখানে বসে আছে এখন বুঝলাম কেন। এর পর রুহিকে ইঙ্গিত করে, "তাহলে এটাই তোর সিক্রেট রুহি?"

এদিকে এমন কথা শুনে মোস্তফা কামাল সাহেব পাশ থেকে হেসে দিয়ে বললেন, “নিয়ে যাও শাহেব। কাজ নিয়ে এত চিন্তা করো না, ওসব আমরা দেখে নেব। মেয়েটা সেই ভোর থেকে তোমার জন্য ধর্ণা দিয়ে বসে আছে, এখন না নিলে কি আর রক্ষা আছে?”

​বড় ভাইয়ের অভয়বাণী আর রুহির এই মায়াভরা জেদের কাছে অবশেষে শাহাবুদ্দিন সাহেব হার মানলেন। তিনি রুহির মাথায় হাত রেখে স্নিগ্ধ হাসিতে বললেন, “আচ্ছা বাবা আচ্ছা, হার মানলাম তোর কাছে। আজ সন্ধ্যায় তৈরি থাকিস, তোকে নিয়ে আমি ঘুরতে যাব।”

এদিকে ​কাঙ্ক্ষিত জয় পেয়ে রুহির যেন খুশির সীমা রইল না। সে এক লাফে গিয়ে শাহাবুদ্দিন চাচ্চুকে জড়িয়ে ধরল। তাঁর গায়ের সাথে লেপটে থেকে রুহি মুচকি হেসে বিড়বিড় করে নিজেকেই শোনাল, “হাফ প্ল্যান সাকসেসফুল! এবার শুধু বাকি অর্ধেকটা সামলাতে পারলেই হলো।”

অপরদিকে ​শাহাবুদ্দিন সাহেব বুঝতেই পারলেন না যে, এই সাধারণ ঘোরার আবদারের আড়ালে রুহি আসলে কোন সুনিপুণ পরিকল্পনা সাজিয়ে বসে আছে। বাড়ির বাকিরাও রুহির এই বাঁধভাঙা হাসি দেখে তৃপ্তির নিঃশ্বাস ফেললেন, যেন কালকের সেই মেঘলা বিষাদ আজ রোদেলা আনন্দে মিলিয়ে যাচ্ছে।

শাহাবুদ্দিন সাহেব রাজি হয়ার পরে যে যার রুমে যাওয়া মাত্রই রুহির খুশির বাঁধ ভেঙে গেল। সে আর এক মুহূর্ত নিচে দেরি না করে একছুটে সিঁড়ি ভেঙে ছাদের দিকে উঠে গেল। ছাদে তখন কুয়াশার মাঝেও হালকা মিঠে রোদের মাঝে শাহাজ খুব যত্ন করে রুহির পছন্দের গাছগুলোর পরিচর্যা করছিল। মাটির সাথে তার সখ্যতা সবসময়ই একটু গভীর।

একসময় রুহি ছাদে পৌছালো, ​রুহি হাপাচ্ছে, কিন্তু তার চোখেমুখে বিজয়ের হাসি। সে শাহাজের একদম কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে বেশ আনন্দিত স্বরে বলে উঠল, "কাজ হয়ে গেছে শাহাজ ভাই! চাচ্চু শেষ পর্যন্ত রাজি হয়েছেন। আজ সন্ধ্যায় তিনি আমাকে নিয়ে ঘুরতে বেরোবেন।"

​শাহাজ এতক্ষণ গাছের গোড়ায় নিড়ানি দিতে ব্যস্ত থাকলেও, রুহির কণ্ঠ শুনে এবার উঠে দাঁড়াল। হাতে লেগে থাকা আলগা মাটিগুলো ঝেড়ে সে রুহির উজ্জ্বল হয়ে থাকা মুখটার দিকে তাকাল। তার ঠোঁটের কোণে একটা তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল। সে শান্ত গলায় বলল, "সাবাশ! তাহলে সময় মতো বিকেলে তৈরি থাকিস, আমরা বের হবো।"

শাহাজের কথা শুনে ​রুহি এবার একটু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, "বিকেলে? আমরা বিকেলে কোথায় যাব শাহাজ ভাই? বিকেলে না তো চাচ্চুকে তো আমি সন্ধ্যার কথা বলেছি।"

কিন্তু ​শাহাজের সাঝে কোন হেলদোল দেখা গেলো না বরং সে রহস্য ধরে রেখে ছোট করে উত্তর দিল, "গেলেই দেখতে পাবি। সারপ্রাইজ সবসময় আগে থেকে জানতে নেই।" সে কথাটি শেষ করে ধীরপায়ে ছাদের দরজার দিকে এগোতে লাগল।

​ঠিক তখনই রুহি একটু দুষ্টুমির ছলে শাহাজকে পেছন থেকে ডাক দিয়ে বলে উঠল, "আচ্ছা শাহাজ ভাই, আমরা কি তবে আজ 'ডেট'-এ যাব? যাকে বলে সারপ্রাইজ ডেট!"

​শাহাজ সবে মাএ দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়েছিলো, কিন্তু আকস্মিক রুহির এমন কথাতে সে যেন থমকে গেল। সে একবার পেছন ফিরে তাকাল, রুহির চোখের সেই চঞ্চলতা আর দুষ্টুমিমাখা হাসিটা পরখ করল। তারপর ঘাড় ঘুরিয়ে সাবলীল ভঙ্গিতে বলে উঠল, "ধরে নে তাই।"

​কথাটা বলেই শাহাজ নিচে নেমে গেল, আর রুহি সেখানে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। 'ডেট' শব্দটা সে নিছক মজা করে বললেও শাহাজের এই সোজাসাপ্টা স্বীকারোক্তি তার বুকের ভেতর এক অজানা দোলা দিয়ে গেল। হিমেল বাতাসে রুহির গাল দুটো যেন মুহূর্তেই রক্তিম হয়ে উঠল। সে বুঝতে পারল, আজ বিকেলের পরিকল্পনাটা যতটা না শাহাবুদ্দিন চাচ্চুর জন্য, তার চেয়েও হয়তো বেশি কিছু হতে যাচ্ছে রুহির নিজের জীবনের জন্য।

★★★

এদিকে শাহাজের কথা মতো বিকেল হতেই রুহি একদম তৈরি হয়ে গেল। পরনে তার নেভি ব্লু রঙের একটি স্টাইলিশ স্কার্ট আর হালকা রঙের টপস। শীতের আমেজ থাকায় উপরে জড়িয়ে নিয়েছে সাদা রঙের একটি পাতলা সোয়েটার। গলার কাছে অবিন্যস্তভাবে প্যাঁচানো হালকা গোলাপি রঙের একটি কাশ্মীরি শাল, যা তার সাজে এক ধরনের স্নিগ্ধতা যোগ করেছে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কাজল কালো চোখে এক চিলতে কাজল আর ঠোঁটে হালকা লিপস্টিকের ছোঁয়া দিয়ে সে নিজের সজ্জা শেষ করেছে। চুলে কোনো বাড়তি কারুকাজ না করে তা খোলা রাখাতেই যেন তাকে বেশি মানাচ্ছে।

​সকালেই রুহি তার মা নাসরিন বেগমকে জানিয়ে দিয়েছিল যে, বিকেলে সে শাহাজের সাথে একটু জরুরি কাজে বের হবে। আর শাহাবুদ্দিন চাচ্চুকেও ফোনে মনে করিয়ে দিয়েছে যে, কাজ শেষ হলে যেন তাকে ফোন দেন। সাথে এও বলে শাহাজও সাথে থাকবে। এদিকে রুহির কথামতো শাহেব চাচ্চু বেশ নিশ্চিন্ত মনেই সম্মতি দিয়েছেন।

বর্তমানে রুহি এখন বাড়ির সামনের বাগানে দাঁড়িয়ে শাহাজের জন্য অপেক্ষা করছে। মুগ্ধ বাড়িতে নেই, সে টিউশনিতে গিয়েছে; থাকলে নির্ঘাত যাওয়ার জন্য বায়না ধরে রুহির পরিকল্পনা মাটি করে দিত। তাই এখন সে মনে মনে বেশ স্বস্তি বোধ করছে।

এদিকে ​একটু পরেই শাহাজ বেরিয়ে এল। পরনে তার অফ-হোয়াইট কালারের একটি স্লিম ফিট শার্ট আর তার সাথে ম্যাচিং করা গাঢ় রঙের প্যান্ট। কবজিতে দামী ঘড়ি আর হালকা সুগন্ধির ঘ্রাণে তার ব্যক্তিত্বে এক গম্ভীর আভিজাত্য ফুটে উঠেছে। শাহাজ সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে গেইটের সামনে থাকা রুহিকে এক পলক দেখেই থমকে দাঁড়াল। রুহি তখন আপন মনে ঘাসের ওপর পা দিয়ে নকশা কাটছিল, তাই শাহাজের সেই বিমুগ্ধ দৃষ্টি সে লক্ষ্য করেনি।

অতঃপর শাহাজ নিজেকে সামলে নিয়ে রুহির সামনে গিয়ে একদম ধীর গলায় ডাক দিল, “চল।”

অগত্য রুহি শাহাজের সাথে হাঁটতে শুরু করল। তার মনে একরাশ আশা ছিল—শাহাজ হয়তো তার আজকের এই ভিন্নধর্মী সাজের কোনো প্রশংসা করবে। কিন্তু শাহাজ একদমই চুপচাপ। বেশ কিছুক্ষণ কোনো সাড়া না পেয়ে রুহি নিচু স্বরে বিড়বিড় করে বলে উঠল, “নিষ্ঠুর!”

​রুহি ভাবল কথাটি শাহাজ শুনতে পায়নি, কিন্তু শাহাজের ঠোঁটের কোণে তখন হালকা হাসির রেখা। শাহাজ সামনে আর রুহি তার একটু পেছনে হাঁটছে, তাই তার সেই মুচকি হাসিটুকু রুহির আড়ালেই রয়ে গেল। তারা মেইন গেটের সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই রুহি কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করল, “আমরা কি বাইকে যাব না শাহাজ ভাই?”

তখনই ​শাহাজ বাইকের চাবি পকেটে রেখে হাত বাড়িয়ে সামনের একটি খালি রিকশাকে দাঁড় করাল। চোখের ইশারায় রুহিকে রিকশায় ওঠার সংকেত দিল। রুহি কিছুটা অবাক হলেও মনে মনে বেশ খুশি হলো। এই পড়ন্ত বিকেলে খোলা রিকশায় শাহাজের পাশে বসে যাওয়ার বিলাসিতাটুকু তার একদমই অপছন্দ নয়, বরং এটিই যেন সে মনে মনে চেয়েছিল।

​রিকশা চলতে শুরু করলে বাতাসের ঝাপটায় রুহির গায়ের সেই গোলাপি শালটা উড়ছিল। শাহাজ একবার আড়চোখে রুহির দিকে তাকাল। অতঃপর গাম্ভীর্য সরিয়ে খুব নিচু স্বরে বলল, “আজ তোকে সত্যিই খুব মিষ্টি লাগছে।”

​অপ্রত্যাশিত এই প্রশংসা শুনে রুহির সারা শরীরে যেন এক পশলা বসন্ত বাতাস বয়ে গেল। সে কিছুটা থতমত খেয়ে গেল, পরক্ষণেই চেহারায় একরাশ লাজুকতা ফুটিয়ে রুহি মাথা নিচু করে নিজের শালের কোণা মোচড়াতে শুরু করল। শাহাজের এমন সোজাসাপ্টা মুগ্ধতা তার বিকেলের আনন্দকে যেন শতগুণ বাড়িয়ে দিল।

মাঘের সেই মায়াবী সন্ধ্যাটি ছিল বেশ ছিমছাম। এদিকে রুহিদের কাজ শেষ করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে এসেছে।আকাশের নীলচে আভা মুছে গিয়ে কেবল গাঢ় অন্ধকারের প্রলেপ পড়তে শুরু করেছে। চারপাশটা একদম পরিষ্কার, মেঘের ছিটেফোঁটাও নেই, কিন্তু হাড়কাঁপানো উত্তুরে হাওয়া যেন তীরের মতো বিঁধছে গায়ে। শাহাজ আর রুহি নিস্তব্ধ পথ ধরে পাশাপাশি হাঁটছে।

​রুহির পরনে একটা হালকা গোলাপি রঙের কাশ্মীরি শাল। শালের ভাঁজে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েও শীতের কামড় থেকে রেহাই পাচ্ছে না সে। ঠাণ্ডায় ওর নাকের ডগাটা লাল হয়ে উঠেছে। বার বার নিজের দুই হাতের তালু ঘষে গালে চেপে ধরে একটু উষ্ণতা পাওয়ার বৃথা চেষ্টা করছে সে। রুহির এই ছোট ছোট অস্থিরতাগুলো শাহাজের চোখ এড়ায়নি। সে নিঃশব্দে নিজের গায়ের ভারী জ্যাকেটটা খুলল। রুহি কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক পরম মমতায় জ্যাকেটটা ওর কাঁধের ওপর জড়িয়ে দিল শাহাজ। আর রুহির সেই হালকা গোলাপি শালটা নিজের গলায় পেঁচিয়ে নিল সে। শাহাজের শরীরের ওম মেশানো জ্যাকেটটা গায়ে জড়াতেই রুহির সারা শরীরে যেন এক প্রশান্তির ঢেউ খেলে গেল।

​তারা যে পথ দিয়ে হাঁটছে, তার পাশেই বড় একটা পার্ক। পার্কের ভেতরে নিভু নিভু আলোয় দেখা যাচ্ছে অসংখ্য যুগলকে। কেউ বেঞ্চে বসে নিচু স্বরে গল্পে মশগুল, কেউবা প্রিয়জনের কাঁধে মাথা রেখে সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে একটু শান্তির খোঁজ করছে তো কেউ বা পাশাপাশি বসে ভবিষ্যৎ নিয়ে কল্পনায় মত্ত। চারদিকের এই ভালোবাসার আবহের মধ্যেই হঠাৎ থমকে দাঁড়াল রুহি। তাদের ঠিক সামনেই একটা আইসক্রিমের ভ্যান।

অতঃপর ​রুহি চপল চোখে শাহাজের দিকে তাকিয়ে আবদারের সুরে বলে উঠল, "শাহাজ ভাই, একটা আইসক্রিম খাওয়ান না!"

হঠাৎ রুহির এমন কথাতে ​শাহাজ কপালে ভাঁজ ফেলে অবাক হয়ে বলল, "এই প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় আইসক্রিম ? পাগল হয়েছিস?"

এদিকে ​রুহি একদম নিষ্পাপ একটা চেহারা করে দুহাত জড়ো করে বলল, "আরে, ঠাণ্ডার মধ্যেই তো আইসক্রিম খাওয়ার আসল মজা। প্লিজ, প্লিজ... একটা দিন না!" ​রুহির ওই মায়াবী মুখের আবদার ফেরানোর সাধ্য শাহাজের নেই।

অতঃপর সে জিজ্ঞেস করলো কোন ফ্লেভার, রুহি তৎক্ষনাৎ বলে উঠলো ভ্যানিলা।

ব্যাস অবশেষে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে শাহাজ আইসক্রিম কিনতে এগিয়ে গেল। শাহাজ চলে যেতেই রুহির দৃষ্টি থমকে গেল পার্কের ভেতরের এক বৃদ্ধ দম্পতির ওপর। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া মানুষ দুটি একে অপরের হাত শক্ত করে ধরে হাঁটছেন। হাতে একটা ছোট তোয়ালে, যা দিয়ে বৃদ্ধ পরম যত্নে তাঁর স্ত্রীর কপাল আর মুখের ঘাম মুছে দিচ্ছেন। তাদের চোখেমুখে যে নির্ভরতা, তা যেন কোনো প্রেমগাঁথার চেয়ে কম নয়।

​রুহি মুগ্ধ হয়ে দৃশ্যটা দেখছিল। এমন সময় শাহাজ হাতে দুটি আইসক্রিম নিয়ে ফিরে এল। অতঃপর রুহির দিকে আইসক্রিম এগিয়ে দিলো কিন্তু রুহি নিলো না। শাহাজ কিছু বলবে তখনই দেখলো রঁহি সমনে কিছু একটার দিকে তাকিয়ে। এবার শাহাজ রুহি আনমনা দৃষ্টি অনুসরণ করে সেও তাকাল ওই বৃদ্ধ দম্পতির দিকে। হঠাৎই শাহাজের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল। সে খুব নিচু স্বরে বলল, "দৃশ্যটা খুব সুন্দর না?"

​রুহি শাহাজের দিকে ফিরলো অতঃপর মুগ্ধ চোখে শাহাজের দিকে তাকিয়ে বলল, "হুম। এমন ভালোবাসা কজনের ভাগ্যে জোটে! কতো সুন্দর অনুভূতি, কতো পবিত্র এক বন্ধন। এসব দেখতেও কতো ভালো লাগে, মনে হয় যেন প্রাণটা জুড়িয়ে যায়।"

​খানিক সময় বিরতি নিয়ে রুহি অদ্ভুত এক কৌতুহল নিয়ে আবার জিজ্ঞেস করল, "আচ্ছা শাহাজ ভাই, আপনার সবচাইতে পছন্দের অনুভূতি কোনটা?"

​শাহাজ এতক্ষণ ধরে তন্ময় হয়ে রুহির কথা বলার ভঙ্গি, তার ঠোঁটের মৃদু কম্পন আর সেই স্নিগ্ধ হাসিটাই অবলোকন করছিল। এবার রুহির প্রশ্ন শুনে সে খানিকটা ঝুঁকে এলো তার কানের কাছে। অত্যন্ত নিবিড় আর গভীর স্বরে সে বলল:

​"আমার সবচাইতে পছন্দের অনুভূতি হলো—যখন তুই আমার দিকে গভীর আবেশে তাকিয়ে থাকিস, আর ঠিক সেই মুহূর্তেই আমি তোর দিকে তাকালে তুই খুব লজ্জা পেয়ে যাস। তোর সেই ধরা পড়ে যাওয়ার লজ্জা আর ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠা ওই মিষ্টি মুচকি হাসিটুকু... ওটাই আমার পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দর অনুভূতি।"

আকস্মিক শাহাজের এমন স্পষ্ঠ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রুহির ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটে উঠল—যে হাসিতে ছিল এক অদ্ভুত তৃপ্তি, অস্তিত্বে জুড়ে থাকার অমোঘ টান। কিন্তু পরক্ষণেই শাহাবুদ্দিন চাচ্চু আর রুপাঞ্জলির সেই বিদীর্ণ ভালোবাসার কথা মনে পড়তেই রুহির মনটা বিষণ্ণতায় ভারী হয়ে এল। সে এক গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে সামনের দিকে চেয়ে ধীর গলায় বলল, "হুম। সাথে এমন ভালোবাসাই বা কজনের ভাগ্যে জোটে! কজনই বা এভাবে একসাথে জীবন কাটাতে পারে? যার কপালে জোটে, সে সত্যিই খুব ভাগ্যবতী বা ভাগ্যবান।"

​শাহাজ লক্ষ্য করল রুহির চেহারাটা কেমন কালো হয়ে উঁটলো সে বুঝলো তার প্রানপ্রিয়ার মনের কোণে হুট করে মেঘ জমেছে। সে চাইল না আজকের এই সুন্দর বিকেলটা বিষাদে ঢাকা পড়ুক। অতঃপর রুহির কথা শেষ হতেই শাহাজ একটু ঝুঁকে এল তার দিকে। একদম রুহির কানের কাছে মুখ নিয়ে, তার উষ্ণ নিঃশ্বাসের পরশ বুলিয়ে ফিসফিস করে বলল, "তাহলে তো বলতে হয়, তুমিও অনেক ভাগ্যবতী।"

হঠাৎ এমন কথাতে ​রুহি কিছুটা অবাক হয়ে শাহাজের দিকে তাকাল। শাহাজ থামল না; সরাসরি রুহির ডাগর চোখের দিকে তাকিয়ে গভীর অনুরাগে বলতে লাগল, "এই যে এই শাহজাদা মোস্তাফা—সে তার জীবনে আজ পর্যন্ত কোন মেয়ের দিকে চোখ দেয় নি। কোন পর নারীকে চোখ তুলে দেখার দুঃসাহসিকতা দেখায় নি। সেই আমিই কিনা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তোমার সাথে কাটানোর স্বপ্ন দেখে। তোমার সাথেই সে বৃদ্ধ হতে চায়। জীবনের প্রতিটি মিনিট, প্রতিটি সেকেন্ড শুধু তোমার নামেই উৎসর্গ করতে চায়।"

শাহাজের চোখের সেই গভীর চাহনি যেন রুহির হৃদয়ের একদম গভীরে গিয়ে বিঁধল। সে রুহির খুব কাছে এগিয়ে এসে, তার কাঁধের ওপর জ্যাকেটটা আরও একটু টেনে দিয়ে খুব মায়াবী স্বরে বলতে শুরু করল:

​"শুধু বৃদ্ধ হওয়া নয় রুহি, আমি তোমার সাথে একটা ছোট সংসার সাজাতে চাই। সেই সংসারে খুব দামি কিছু না থাকলেও চলবে, শুধু তোমার উপস্থিতি থাকলেই সেটা আমার কাছে রাজপ্রাসাদ। আমি চাই সারাদিনের ক্লান্তি শেষে যখন বাড়ি ফিরব, দরজায় তোমার ওই হাসিমুখটা দেখব। আমি সেই দিনটার স্বপ্ন দেখি, যখন আমাদের চুলে পাক ধরবে, চামড়া কুঁচকে যাবে—তবুও আমাদের ভালোবাসাটা থাকবে একদম সতেজ।"

​এতক্ষণ রুহি যেন এক ঘোরের মধ্যে ছিল। কিন্তু কথাগুলো শুনতে শুনতে হঠাৎ তার টনক নড়ল। শাহাজ তাকে ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করেছে! এই প্রথম শাহাজের মুখে নিজের জন্য ‘তুমি’ ডাক শুনে রুহির বুকের ভেতরটা যেন ওলটপালট হয়ে গেল। এক অদ্ভুত শিহরণে আড়ষ্ট হয়ে সে অস্ফুট স্বরে কেবল বলতে পারল, "শাহাজ ভাই! আপনি..... আপনি আমাকে তুমি! তুমি বলছেন?"

​শাহাজের চোখে তখন শ্রাবণ মেঘের মতো গভীর মমতা আর নির্ভরতা। শাহাজ আর কিছুই বললো না শুধু মাএ রুহির হাত ধরে ধীর কদমে হাটতে শুরু করলো। তার চোখেমুখে এক অদ্ভুৎ প্রাপ্তির ঝিলিক। এই মুহুর্তে তার পুরো পৃথিবীটা যেন রুহি নামের এই মেয়েটির চারপাশেই আবর্তিত হচ্ছে। সে জানে, এই পথচলা হয়তো দীর্ঘ , কিন্তু রুহির হাত ধরে সে সহস্র বছর এভাবেই কাটিয়ে দিতে পারে। শাহাজের এই ভালোবাসা কোনো সাময়িক আবেগ নয়; বরং এক পবিত্র অঙ্গীকার, যা কেবল রুহিতেই শুরু আর রুহিতেই শেষ।

চলবে...........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন