#এক_মুঠো_অপূর্নতা পর্বঃ৭
#ফাতেমা_তুজ_জোহরা
রুশমিতা গভীর ঘুমে পাশেই বসে আছে ইসরাত। তার চোখ দুটো নিবদ্ধ রুশমিতার মুখের দিকে। একহাত বাড়িয়ে রুশমিতার চুলে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো। রোকেয়া বেগম আর রবিন কিয়তক্ষন আগেই বাড়ি চলে গিয়েছে। রোকেয়া বেগমের আবার হাই পেসার বেড়ে গিয়েছে। তাই ইসরাত জোর করে তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।
এরইমধ্যে কেবিনে টলতে টলতে প্রবেশ করলো রাশেদ। যেন কেউ পেছন থেকে ধাক্কা দিলে মুখ থুবড়ে নিচে পড়ে যাবে। মুখটা বেজায় ফ্যাকাশে হয়ে আছে। কানের কাছে এখনো ডাক্তারের কথাগুলো বেজে যাচ্ছে তার।
ইসরাত কারো পায়ের শব্দ পেয়ে পিছন ফিরে তাকাতেই দেখলো রাশেদ এগিয়ে আসছে তাদের দিকে। রাশেদের অবস্থা দেখে ইসরাতের সন্দেহ হলো। এরইমধ্যে রাশেদ হাঁটুমুড়ে বসে পড়লো মেঝেতে। এইটুকু পথ যেন তার কাছে
হাজার মাইলের মতো মনে হলো। তার সবটুকু শক্তি নিঃশেষ হয়ে গেল মুহূর্তেই।
ইসরাত রাশেদ কে নিচে পড়ে থাকতে দেখে বেড থেকে নেমে এসে আকড়ে ধরলো স্বামীকে। রাশেদ একরাশ অসহায়ত্ব নিয়ে তাকালো তার অর্ধাঙ্গিনীর দিকে।
ইসরাত অস্থির কন্ঠে বলল," কি হয়েছে তোমার এইভাবে নিচে কেন বসে পড়লেন?
ইসরাতের কথা শুনে রাশেদের দুইচোখ যেন বাঁধ ভাঙলো অচিরে। ইসরাতকে জড়িয়ে ধরে শব্দ করে কেঁদে উঠল এক পিতা। আজকে তার পুরো পৃথিবীটা ধ্বং*স হয়ে গেছে।কত আশা, কত স্বপ্ন নিমেষেই ডুবে গেছে অন্ধকার এ।
ইসরাত বেগম রাশেদ কে কাঁদতে দেখে হকচকিয়ে গেল। সে বলল," কি হলো আপনি কাঁদছেন কেন? রুশমিতা ঠিক আছে তো!
রাশেদ কাঁদতে কাঁদতে বলল, " ভালো নেই আমার আম্মু? ইসরাত ? আমরা পারিনি তাকে র*ক্ষা করতে।
ইসরাত বুকের ভেতরটা ভারি হয়ে গেল রাশেদের কথাগুলো শুনে। রুশমিতার কিছু হয়নি তো,। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে ইসরাতের চোখ দিয়ে অবিরাম অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে । সে রাশেদ কে তার থেকে সরিয়ে কান্না জমানো গলায় বলল, " কি হয়েছে রুশমিতার?
রাশেদ কিছুই বলতে পারলো না। তার মেয়েটা মা হতে চলেছে।
ইসরাত উত্তর না পেয়ে বুকের ভেতর ভর করলো অযাচিত ভ*য়। পরক্ষণেই রা*গে ক্ষো*ভে রাশেদের শার্টের কলার ধরে চিৎকার করে বলল,"কি হয়েছে তুমি বলবে আমায়, নাকি আমি ডাক্তারের কাছে যাবো?
একটা হুংকারে পুরো কেবিন নিস্তব্ধতা নেমে এলো। রাশেদ মুখ দিয়ে একটা কথা ও বের হলো না সে একভাবে তাকিয়ে রইলো ইসরাতের রা*গান্বিত চেহারার দিকে। স্ত্রীর এমন রুপ আগে দেখেছে কিনা মনে নেই।
ইসরাত কলার থেকে হাত সরিয়ে রাশেদের হাত দুটো আকড়ে ধরে আকুতি স্বরে বলল," কি হয়েছে বলো, আপনি আমার ক*ষ্টটা দেখতে পাচ্ছো না। আমার মেয়েটার কি হয়েছে বলো। আর চুপ করে থাকবেন না আল্লাহর দোহাই লাগে " কথাগুলো বলতে বলতে ইসরাতের চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো।
রাশেদ হাতের কনুই দিয়ে চোখের পানি গুলো মুছে ইসরাতকে বুকে জড়িয়ে ধরে রইলো কিয়তক্ষন। ইসরাত কিছু বলল না স্বামীর বক্ষে মাথা দিয়ে রাখলো। কিন্তু মনের মধ্যে চলতে লাগলো অদৃশ্য বিশাল কালবৈশাখী ঝড়। ইসরাত চোখ বন্ধ করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে লাগলো।
রাশেদ ভাঙা কন্ঠে বলল, " আমরা কি রুশমিতার বাবা মা হয়ে উঠতে পারিনি ইসরাত?
ইসরাত চোখ বন্ধ করে বলল, " আমরাই ওর বাবা মা তুমিতো বলো? তাহলে এগুলো কেন বলছো!
রাশেদের চোখ দিয়ে একফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো গালে সে পুনরায় বলল," আমরা তো পারিনি অন্য বাবা মায়ের মতো নিজের সন্তানকে রক্ষা করতে?
ইসরাত কিছু বলল না। সে শক্ত করে আকড়ে ধরলো রাশেদের শার্ট। এরপরের কথাগুলো শোনার জন্য। া
রাশেদ গলায় কান্নাগুলো এসে দলা পাকিয়ে যাচ্ছে তার। তবু কোনরকমে বলল," আমাদের রুশমিতার পেটে বাচ্চা ইসরাত। আমরা পারিনি তাকে বাইরের পৃথিবী থেকে র*ক্ষা করতে। আসলে আমরা ওর অযোগ্য বাবা মা।
ইসরাত একদম স্থির হয়ে গিয়েছে ।যে মেয়ের বি*য়ে হয়নি তার পে*টে কিভাবে বাচ্চা হতে পারে। ইসরাতের কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে রাশেদ বলল, " কি হলো ইসরাত!
সম্বিৎ ফিরে পেল সে, ছিঁটকে চলে এলো স্বামীর বুক থেকে তারপর বলল,"এগুলো কি বলছেন, মাথা ঠিক আছে আপনার? বলেই তার স্বামীর দিকে তাকায়।
রাশেদ ইসরাতের গালে হাত দিয়ে বলল," আমি ও প্রথমে বিশ্বাস করতে চায়নি ইসরাত কিন্তু!
ইসরাত বলল," কি কিন্তু!
রাশেদ বলল," রিপোর্টে জ্বলজ্বল করে দেখা যাচ্ছে রুশমিতা চার সপ্তাহের প্রেগ*নেন্ট?
ইসরাতের চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগলো মনে পড়লো একমাস আগের ছবি গুলোর কথা। সে তো ভেবেছিলো ছবি গুলো ন*ক*ল রুশমিতাকে ফাঁ*সা*নো হচ্ছে। কিন্তু না ছবি গুলো সত্যি তার প্রমান রুশমিতার পেটে বা*চ্চা।
রাশেদ ইসরাত কে বলল, " এখন কি করবো আমরা?
ইসরাত চোখের পানি মুছে বলল," মনে আছে একমাস আগের ছবিগুলোর কথা?
ইসরাতের কথায় শুনে রাশেদ ভাবনায় পড়লো। হ্যাঁ তার মনে আছে ছবি গুলোর কথা। কিভাবে ভুলবে সে তো নিজের হাতে ছবি গুলোকে পুরিয়েছে। রাশেদ মাথা ঝাকিয়ে
হ্যাঁ বোঝালো!
ইসরাত নিস্পভ কন্ঠে বলল," ছবি গুলো সব সত্যি ছিলো!
রাশেদ বলল," এখন কি করবো?
ইসরাত কাটকাট গলায় বলল, " বা*চ্চা ন*ষ্ট করতে হবে? কার না কার পা*প কেন আমাদের মেয়ে বয়ে বেড়াবে। আমি কিছুতেই একজন মা হয়ে সন্তানের এমন দূ*র্গ*তি দেখতে পারবো না" কথাগুলো বলতে গিয়ে ইসরাতের মনে হলো কেউ তার গ*লা*টা শ*ক্ত ভাবে চেপে ধরে আছে। কত আশা ছিলো রুদ্র দেশে ফিরে এলে তার সাথে রুশমিতার বিয়ে দিয়ে আজীবনের জন্য নিজের কাছে রেখে দিবে। তাদের ঘর আলো করে আসবে নতুন অতিথি। ছোট ছোট পা পুরো বাড়িতে দৌড়ে বেড়াবে। কিন্তু সব কিছু শে*ষ।
ইসরাত চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে কথাগুলো ভেবে।
রাশেদ হতবাক হয়ে ইসরাতের দিকে তাকায়?আর কি বা বলার আছে কিছুমাস পর যখন সবাই জানতে পারবে তখন নানা রকমের ঝড়ঝাপটা বয়ে যাবে ছোট মেয়েটার উপর দিয়ে । কেউ কেউ তো বলেই দিবে মায়ের মতো তৈরি হয়েছে তাই রাশেদের কাছে ইসরাতের কথাগুলো যুক্তিযুক্ত মনে হতে লাগলো।
রাশেদ কপালে গাঢ় ভাঁজ ফেলে বলল, " হুম
ইসরাত বলল," এখন উঠো নিজেকে শক্ত করো এটা আবেগ দেখানোর সময় না বিবেক দিয়ে কাজ করতে হবে । আপাতত যেমনটা চলছে সেই রকম চলতে দাও" বলেই উঠে দাঁড়িয়ে রুশমিতার বেডের দিকে এগিয়ে গেল।
রাশেদ ও উঠে এলো পিছু পিছু।
দুজনেই ঘুমন্ত রুশমিতার কাছে গিয়ে বসে পড়লো।
রাশেদ মাথায় হাত দিয়ে চিন্তিত অবস্থা বসে আছে। আর ইসরাতের চোখ নিবদ্ধ রুশমিতার উদরে যেখানে ছোট একটি প্রান বেড়ে উঠছে। ইসরাত তার ডান হাত রুশমিতার উদরে ঠেকিয়ে মনে মনে বলল," আমাকে ক্ষ*মা করো সোনা, আমি বেজায় স্বা*র্থ*প*র তোমাকে আগলে রাখতে পারলাম না। কিন্তু কি করবো বলো তো আমি অপারগ,তোমাকে আটকানোর সাধ্য আমার নেই।
****
নাইট ক্লাব,,ক্লাবের মধ্যে বাঁধ ভাঙা মিউজিক । সেই মিউজিকের সাথে উঠতি বয়সি ছেলে মেয়ে গুলো পুরো ডায়াস কাঁপিয়ে কোমড় দুলিয়ে নাচ করছে।আবার কিছু কিছু ছেলে মেয়ে একে ওপরের সাথে জড়াজড়ি করে নাচ করতে ব্যাস্ত। প্রত্যেকের হাতে ওয়া*ইনের গ্লাস। এরইমধ্যে ক্লাবে প্রবেশ করলো ইয়াশ আরোবিন। একজন মেয়ের সাথে জড়াজড়ি করে। ইয়াশের পরনে কালো শার্ট,কালো প্যান্ট, চুল গুলো সুন্দর করে সেট করা আছে। তার পাশের মেয়েটার পরনে টপস, জিন্স,চুল গুলোকে পিঠে ছড়িয়ে রাখা আছে। মুখ ভর্তি মেকাপের আস্তরন মেয়েটার। দুজনের মুখে মুচকি হাসি। মেয়েটা হাত নেড়ে নেড়ে কিছু বলছে আর ইয়াশের শরীরের হেলে পড়ছে। ইয়াশ ও মেয়েটার কে বুকে আগলে ক্লাবে প্রবেশ করলো।
একজন ছেলে দৌড়ে এসে ইয়াশের পথ আগলে দাঁড়ালো। ছেলেটার পরনে লাল কালারের হুডি।ইয়াশ থমকে গেল কপালে চামড়া গুটিয়ে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বলল," কি হলো সামনে দাঁড়িয়ে পড়লি কেন?
ছেলেটা পকেটে থেকে হাত বের করে মেয়েটাকে আপাদমস্তক পরোক্ষ করে বলল," নতুন নাকি?
ইয়াশ ছেলেটার প্রশ্ন শুনে বিরক্ত হলো, সে মেয়েটার হাত ধরে পাশকাটিয়ে যেতে নিলেই। ছেলেটা বলল," সাজেকের মেয়েটা কই?
ইয়াশ মেয়েটার হাত ছাড়িয়ে ছেলেটার সামনে দাঁড়িয়ে বলল," কেন?
ছেলেটা মুচকি হেঁসে বলল, " ও আরকি এমনি জানতে চাইছিলাম। কিয়তক্ষন থেমে আবার বলল, " তোদের বিয়েতে সাক্ষী হিসেবে সিগনেচার করেছি। আজকে আবার নতুন মেয়ে নিয়ে ক্লাবে আসলি তাই ভাবলাম মেয়েটাকে ছেড়ে দিয়েছিস নাকি,না হলে…..
ইয়াশ বলল," না হলে….
ছেলেটার ক্রুর হেঁসে বলল," মেয়েটা বোবা হলে ও সেই ফি*গা*র দোস্ত। তাই বলছিলাম আমাকে একবার টেস্ট কর…. বাকি কথা বলতে পারলো না ছেলেটা আ*ছরে পড়লো কাঁচের টেবিলের উপরে।
মুহূর্তের মধ্যে ক্লাব জুড়ে নিস্তব্ধতা নেমে এলো। কালার ফুল লাইট নিভিয়ে জ্বলে উঠলো সাদা এলইডি লাইট।
ইয়াশ তেড়ে গিয়ে ছেলেটার না*ক বরাবর ঘু*ষি বসিয়ে চিৎকার করে বলল," তোর এত বড় সাহস কু*ত্তার বাচ্চা আমার কিটেন কে নিয়ে খারাপ মন্তব্য করিস তুই " বলেই ছেলেটার নাকে মুখে অনবরত ঘু*ষি বসাতে লাগলো।
ক্লাবের ম্যানজার সহ আরো কয়েক জন এগিয়ে এসে ইয়াশের হাত দুটো ধরে আটকানোর চেষ্টা করছে। ইয়াশ হাত দিয়ে না পারলে ও পা অনবরত লা*থি বসাতে লাগলো ছেলেটার পেটে,উরুতে ছেলটা দুইহাত দ্বারা ইয়াশ কে সরা*নোর বৃথা চেষ্টা করছে।
ইয়াশের ফর্সা মুখ লাল টকটকে বর্ণ ধারন করেছে। বুকটা রা*গে*র তোড়ে অস্বাভাবিক ভাবে কেঁপে উঠছে,গলার নীল রগ গুলো স্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠছে। রক্তবর্ণ চোখ নিয়ে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে আছে।
ইতিমধ্যে ক্লাবের ম্যানাজার ছেলেটাকে সরিয়ে নিয়ে গেছে।
ইয়াশ লোকগুলোকে নিজের থেকে ধাক্কা মে*রে দূরে সরিয়ে প্রচন্ড রা*গে কাঁপতে কাঁপতে ক্লাবের কাঁচের টেবিল গুলোকে ভে*ঙে চু*রমার করতে লাগলো। পুরো ক্লাব জুড়ে ঝনঝন শব্দ তে কেঁপে উঠলো। ক্লাবের ম্যানজার এগিয়ে আসার সাহস পেল না। ইয়াশ আরোবিন কে না চিনে। বাংলাদেশের আরবিন গ্রুপের মালিক ইয়াসিন আরোবিনের ছেলে। এই ভাঙা চেয়ার টেবিল লিস্ট আরোবিন গ্রুপে দিয়ে দিলেই তারা চেক দিয়ে দেবে।
কবির সবার আড়ালে দাঁড়িয়ে ইয়াশ এর কর্মকান্ড গুলো দেখছে,ঠোঁটে বাঁকা হাসি তার । কবির ক্লাবে প্রবেশ করতেই ইয়াশের কথাগুলো শুনতে পেয়েছে। ইয়াশের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বলল, " এই কথাটুকু শুনে এতটা রা*গ করলি ইয়াশ। অথচ যার জন্য এগুলো করছিত তাকেই তুই এক আকাশ পরিমাণ ক*ষ্ট দিলি। বোবা মেয়েটাকে ঠ*কি*য়ে তুই ভালো করিস নি।আই অ্যাম সিওর আজকে মেয়েটা যতটা ক*ষ্ট পাচ্ছে তার থেকে বেশি ক*ষ্ট তুই একদিন পাবি " কথাগুলো বলে কবির চলে গেল বাইরে।
*****
সকাল ১১,,
আরে শুনছো তুমি কালকে তারা রিয়ার সাথে ইয়াশের বিয়ে দিয়ে ঘরে তুলতে চাই। আমি বললাম বাড়ির বড় মেয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন না করলে হয়। ওরা বলল কালকেই বিয়ে হবে,আর কোন কথা শুনতে চাইছে না। আর বিকালে ওই বাড়ি থেকে হলুদ মাখাতে আসবে রিয়াকে …. কথাগুলো এক নাগারে বলল আমেনা বেগম তার স্বামী রবিন কায়সারের উদ্দেশ্য।
রবিন হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। একদিনের মধ্যে কিভাবে এতগুলো আয়োজন করবে সে। তার উপরে রাশেদ টা বাড়িতে নেই হাসপাতালে আছে। সে থাকলে না হয় ভেবে দেখা যেত।
রবিন চায়ের কাপটা হাত থেকে রেখে বলল,"একদিনের মধ্যে কি সব আয়োজন করা যায় আমেনা। তুমি তাদের মানা করো।
আমেনা রাগি কন্ঠে বলল," আমার বাপের বাড়ীর সবাইকে খবর দিয়ে দিয়েছি। আর রিয়া কেনা কাটা করতে চলে গেছে। এখন তুমি বাকিটা সামলাও আমি কোন কথা শুনতে চাই না বলেই মুখ ঝামটা মে*রে রান্না ঘরে চলে গেল।
#চলবে…..