ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক মুঠো অপূর্ণতা

১১তম পর্ব

লেখক: ফাতেমা তুজ জোহরা

#এক_মুঠো_অপূর্নতা পর্বঃ১১

#ফাতেমা_তুজ_জোহরা 
একটি শো*ক সংবাদ,একটি শো*ক সংবাদ। রাইয়ান কায়সারের মেয়ে রুশমিতা কায়সার গত রাত দুইটার দিকে রোড এ*ক্সি*ডেন্টে মা*রা যায়। সকলে বলুন ই*ন্না লি*ল্লা*হি ওয়া ই*ন্না ই*লা*ইহি রা*জি*উ*ন। তার জা*না*জা*র নামাজ অনুষ্ঠিত হবে রাত দশটা দিকে মসজিদ মাঠে। জানাজার নামাজের পর তাদের পারিবারিক ক*ব*র*স্থানে দা*ফ*ন করা।ব্রি*দেহী আত্মার মাগফেরাতের জন্য সকলের দোয়া কামনা করছি। সবাইকে জা*না*জা*য় শরিক হওয়ার অনুরোধ রইলো।
পুরো কায়সার ভিলায় কান্নার রোল পড়ে আছে। ইসরাতের চিকিৎসা চলছে। রাশেদ কায়সার আর রবিন রুশমিতা আর রাইয়ানের লা* র কাছে বসে আছে।তার থেকে কিছুদুরে রাইয়ান স্থির হয়ে বসে আছে। চোখ দিয়ে ঝরঝর করে পানি গড়িয়ে পড়ছে তার। চারদিকে মানুষের ঢল, সবাই মাথা উঁচিয়ে লা* দেখতে ব্যস্ত। রুশমিতার মুখ পুরোটাই সাদা কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখা আছে। রবিন কায়সার ডাক্তার ডেকে এনে এইকাজটা করেছে। সবার থেকে দূরে দাঁড়িয়ে আছে রিয়া আর তার মা। দুজনের মুখটা বেজায় বেজার। আমেনা বেগম থাকতে না পেরে আস্তে আস্তে বলছে আজকের দিনেই এই মুখপুরীরে ম*র*তে হলো। মেয়েটার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর ম*র*তি। তাহলে জামাইটা ও আ*কা*লে চলে যেত না। 
ইয়াশকে নিয়ে গিয়েছে বরযাত্রীর লোকজন গুলো। সবাই বলেছিলো ছেলেটা কত ভালোবাসে মেয়েটাকে না হলে কয়জন মৃ*ত স্ত্রীর পা ধরে এমন কান্না করতে পারে। এদের দুজনকে একসাথে ক*ব*র দেওয়া হোক। তখন রাশেদ বাঁধা দিয়ে বলে যে ছেলের জন্য তার মেয়েটা মা*রা গেল সে আর যাই করুক ভালোবাসেনি। না হলে এমন করে বউ বাচ্চা রেখে কেউ দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারে। সবাই রাশেদের যুক্তিতে পুনরায় সায় দিয়ে ইয়াশকে তার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। 
রাত দশটার দিকে রুশমিতা কে মাটি দেওয়া হবে। সে মোতাবেক খাটিয়া,কা*ফনের কাপড়,গরম পানি সব কিছু তৈরি করা শুরু হয়েছে। রাশেদ অনুভূতি হীন ভাবে সেদিকে তাকিয়ে আছে। না চোখ দিয়ে পানি পড়ছে, না কোন কথা বলছে।
এরইমধ্যে অনেকগুলো মেয়ে এসে রুশমিতাকে নিয়ে গেল আলাদা ঘরে শেষবারের মতো গোসল দিতে। যারা একটু সাহসী তাদেরকেই গোসল করানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতটা বি*ভ*ৎ*স লা* ধোয়া চারটে খানিক ব্যাপার না। তার উপরে রবিন বলে দিয়েছে মু*খের কাপড়টা খুলে, মুখটা ধুয়ে আরেকটা নতুন সাদা কাপড় বেঁধে দিতে। মেয়েগুলো তাতে সায় জানিয়ে রুশমিতাকে নিয়ে গেল। 
রুশমিতাকে ঘরে নিয়ে যাওয়ার পর রাশেদ আর নিজেকে সামলাতে পারলো না। এতক্ষণ পাথরের মতো বসে থাকা মানুষটা কাঁপতে কাঁপতে উঠে দাড়ালো। কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে যে ঘরে রুশমিতাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে গোসলের জন্য সে ঘরের দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। রাশেদের বুকের ভেতরটা মোচর দিয়ে উঠলো। পা দুটো আবার শক্তিহীন হয়ে এলো তার। ধপ করে বসে পড়লো সেখানে। 
প্রায় আধঘন্টা বাদে রুশমিতার লা* টাকে বের করে আনলো ঘর থেকে। পুরো শরীরে কা*ফনের কাপড় জড়ানো। আতর,সুরমা, কি ঘ্রান আসছে তার নিথর শরীর থেকে। দুজন মেয়ে এসে লা* টাকে সযত্নে রেখে দিলো খাটিয়া। আর কিয়তক্ষন পরেই লা* নিয়ে বেরিয়ে যাবে দা*ফ*নে*র উদ্দেশ্য। 
রাইয়ান তার চোখের পানি গুলো মুছে কাঁপতে কাঁপতে রুশমিতার কা*ফন মোড়ানো দে*হের কাছে এসে বসলো। এতদিন যে মুখটা সে দেখতে চাইতো না, আজকে সে মুখটাই শেষবারের মতো দেখার জন্য তার বুক ফেটে যাচ্ছে। 
রাইয়ান কাঁপা হাতে কা*ফনের কিনারা ছুঁয়ে ফুপিয়ে উঠলো সে। রাইয়ানের থেকে কিছুদূরে রবিন দুইহাতে মুখ গুঁজে কেঁদেই যাচ্ছে। রাইয়ানের চোখের পানি গুলো কা*ফনের কাপড়ের উপরে পড়তে লাগল। রাইয়ান ভাঙা কন্ঠে বলতে লাগলো, "আমি বাবা হয়ে সবচেয়ে বড় অ*ন্যায়টা করেছি। তুই আমার র*ক্ত,আমার মেয়ে হয়ে ও আমি তোকে কখনো স্বীকার করেনি। তোর ছোট বুকটা কতবার ভে*ঙেছি, একবার ও তোকে বুঝেনি। কিন্তু ভাগ্য দেখ আজকে বুঝছি,আর তুই কিছুই শুনতে পারছিস না। রাইয়ান কথাগুলো বলে নিজের গালে নিজেই থা*প্প*ড় মা*র*তে মা*র*তে আবারো বলল," আমার এই হাত গুলো পা*পী, এই মুখটা পা*পী। যে মুখে তোকে অস্বীকার করেছি। আজকে সেই মুখে মা বলে ডাকছি। কিন্তু আল্লাহ আমাকে সে অধিকার দিলো না" রাইয়ান হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। রবিন ছোট ভাইয়ের আ*র্ত*না*দ শুনে এগিয়ে এসে রাইয়ানকে বুকে আগলে নেয়। 
রাইয়ান রবিনকে জড়িয়ে ধরে বলল," আমার স*হ্য হচ্ছে না ভাই। আমার ছোট মেয়েটার কি এমন দো*ষ ছিলো যার কারনে আল্লাহ তাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিলো। আমার ছোট রুশমিতা মা, মা হওয়ার সুখটুকু অনুভব করতে পারলো না ভাই। আমি জী*বিত অবস্থা মেয়েটাকে এতিম বানিয়েছি, তার শাস্তি দিয়ে আমাকে মেয়েটা ছেড়ে চলে গেল। রাইয়ান শেষবারের মতো ফিসফিস করে বলল," আমার মতো পা*পী*কে ক্ষমা করবি না মা, ওপারে দেখা হলে শুধু একবার আব্বু বলে ডাকিস আমার মা…..
***
দেখতে দেখতে পাঁচদিন কেটে গিয়েছে। এখনো কায়সার ভিলায় আগের মতোই অবস্থা হয়ে আছে। শুধু রিয়া আর আমেনার জীবন ব্যাতিক্রম। দুজনে খাচ্ছে আর আরামে দিন যাপন করছে। রিয়ার আনন্দ আরো বেড়েছে ইয়াশ আর নেই শুনে। সে থাকলে হয়তো তাকে জে*ল যাওয়া থেকে কেউ আটকাতে পারতো না। তাই রিয়ার বিয়ে না হওয়াতে যতটুকু ক*ষ্ট না হয়েছে, তার থেকে ইশাশ বেঁ*চে নেই শুনে আনন্দ যেন ধরছে না। বেঁচে থাকলে এরকম হাজারটা ছেলে পাবে। আপনি বাঁচলে নিজের নাম। 
আর ইসরাতের অবস্থা আগের থেকে ভালো হয়েছে কিন্তু খাওয়া দাওয়া চলছে স্যালাইনের মাধ্যমে। আর রাশেদ নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যতটুকু খাওয়া দরকার ততটুকু খাচ্ছে। রোকেয়া বেগম কে তার বোনের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসরাতের করুন অবস্থা দেখে রোকেয়া যেন আরো ভেঙে পড়ছে। রুদ্র বিদেশ থেকে নিয়মিত ফোন করে তার আব্বুকে। তাকে বলা হয়েছে রুশমিতার মৃ*ত্যু*র সমন্ধে। রুদ্র এই খবর শুনে বিদেশ থেকে চলে আসতে চেয়েছিলো কিন্তু রবিন তাকে বারন করে আর মাত্র তিনমাস থেকে একবারেই চলে আসবে। 
***
সময় কারো জন্য থেমে থাকে না। সে আপন গতিতে চলতে থাকে। কেটে গেছে আরো পাঁচটি বছর,, 
রুপসী চলেছে একা পথে সঙ্গী হলে দোষ কি তাতে…. ছেলেটা কথাগুলো বলার পর তার গালে আছড়ে পড়লো জোড়ালো থা*প্প*ড়। এতটা জোরে পড়ছে যার জন্য ছেলেটা তার হেংলা পাতলা শরীরটা নিয়ে গড়িয়ে পড়লো ড্রেনের মধ্যে। 
মেয়েটি কোমড়ে ওড়নাটা গুঁজে ঝাঁঝালো স্বরে বাকি ছেলেদের উদ্দেশ্য বলল," পৃথিবীতে মেয়ে না থাকলে তোদের জন্ম হতো না, আর সেই মেয়েকে টিজ করসি " কথাগুলো দাঁতে দাঁত চেপে বলে মেয়েটা পাশ থেকে বড় লোহার দান্ডা তুলে ছেলে গুলোর দিকে এগিয়ে গেল। 
ছেলে গুলোর মধ্যে সবাই মুখ চাওয়াচাওয়ি করে দিলো ভৌ দৌড়। মেয়েটার ঠোঁটে ফুটলো ক্রু*র হাসি। এই ছেলেদের কিভাবে শিক্ষা দিতে হবে সে খুব ভালো করে জানে। ওড়নাটা। মেয়েটা কোমড় থেকে ওড়নাটা খুলে সামনে ঘুরতেই মেয়েটাকে একটা ছোট বাচ্চা আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে বলল," খুব ভালো হয়েছে মাম্মাম, প্রতিদিন আমাদের খাওয়ার খেয়ে নেয় লোকগুলো। আর বলে এই পার্কটা নাকি তাদের 
এরইমধ্যে আরেকটা ছোট বাচ্চা ছেলে মেয়েটাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে বলল," মাম্মা তোমাল অনেক তাহুস (সাহস), আমি অনেক মুজা পাইছি? 
#চলবে….

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন