ফন্ট সাইজ:
থিম:
সে ছিল আমার কল্পনায়

১২তম পর্ব

লেখক: নাবিলা আহমেদ সেহরিশ

#সে_ছিল_আমার_কল্পনায়

#পর্ব_বোনাস
#লেখিকা_নাবিলা_আহমেদ সেহরিশ
বিশাল আকৃতির শুকনো পাতায় পা পড়তেই কড়মড় শব্দ কানে পৌঁছাল অভ্যুদয়ের। চোখের পাতা খুলতেই সে নিজেকে আবিষ্কার করল অন্ধকারে ডুবে থাকা এক ঘরে। আবারও চোখ গেল নিজের পায়ের দিকে। চারপাশজুড়ে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য শুকনো পাতা। কপালে ভাঁজ পড়ল তার। কৌতূহলী দৃষ্টি নিয়ে সামনের দিকে তাকাতেই ধীরে ধীরে অন্ধকার কেটে যেতে শুরু করল।
যা একটু আগেও একটি ঘর বলে মনে হচ্ছিল, কুয়াশা সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার প্রকৃত রূপ স্পষ্ট হয়ে উঠল। ঘন কালো জঙ্গলের উঁচু উঁচু গাছের ফাঁক গলে উঁকি দিচ্ছে সদ্য উদিত সূর্য। মাথা যেন কাজ করছে না অভ্যুদয়ের। আবারও চারপাশে তাকাল সে। যতদূর চোখ যায়, ততদূর শুধু গাছ আর গাছ।
এক পা এগিয়ে সামনে যেতেই আচমকা চমকে উঠল অভ্যুদয়। দু-কদম পিছিয়ে এল সে। কয়েক কদম দূরেই একটি খাট দেখা যাচ্ছে, আর তার ওপর বসে আছে কেউ একজন। অবয়বটুকু যতটা বোঝা যাচ্ছে, তাতে নারী বলেই মনে হচ্ছে।
অভ্যুদয়ের সামনে ঠিক কী ঘটছে, তা যেন সে নিজেও বুঝে উঠতে পারছে না। দ্বিধাগ্রস্ত পায়ে গুনে গুনে এগোতে লাগল সে। পায়ের নিচে শুকনো পাতা চূর্ণ হতেই আবারও সেই কড়মড় শব্দ ভেসে এল কানে।
বিছানায় বসে থাকা অচেনা নারীটির দিকে তাকালেই চোখ আটকে গেল অভ্যুদয়েদ। নারীটির চেহারা দেখা না গেলেও, একটি ধূসর রঙের কাপড়ে পুরো শরীরটা ঢাকা তার। কাপড়টি খুব হালকাও নয়, আবার একেবারে ভারীও নয়। ভোরের হালকা মেলা আলো-আঁধারিতে সেই কাপড়ের নিচ থেকেই তার শরীরের প্রতিটা ভাঁজ স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে।
​কাপড়ের আলতো পরশের নিচে স্পষ্ট হয়ে উঠছে তার সুঠাম ও আকর্ষণীয় শারীরিক গঠন। সরু ও মোলায়েম কাঁধ থেকে নেমে এসেছে কাঁচা সোনার মতো মসৃণ দুটি হাত। পিঠ থেকে কোমর পর্যন্ত নেমে যাওয়া অংশটিতে রয়েছে এক অদ্ভুত প্রলুব্ধকর বক্রতা—একদম খোদাই করা শিল্পকর্মের মতো। তার কোমরটি অবিশ্বাস্য রকমের সরু, যা নিতম্বের কাছে এসে এক গভীর ও কামুক বাঁক সৃষ্টি করেছে।
​বিছানায় স্থির হয়ে বসে থাকা নারীটির উরু ও পা দুটির সুগঠিত বাঁধন কাপড়ের আড়াল থেকেও এক অদ্ভুত আকাঙ্ক্ষা ছড়াচ্ছে। সেখানে কোনো ঢিলেঢালা ভাব নেই, যেন প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিখুঁত মাপে গড়া। পুরো অবয়বজুড়ে এমন এক তীব্র আকর্ষণ লুকিয়ে আছে, যা দেখে মন চঞ্চল হয়ে ওঠে। কোনো উন্মুক্ততা ছাড়াই, কেবল কাপড়ের ছায়া আর শরীরের এমন আবেদনময়ী রূপ দিয়ে সে যেন এক গভীর, নেশাক্ত ও কামুক রহস্যে নিজের কাছে ডেকে নিতে চাইছে অভ্যুদয়কে।
হতবাক অভ্যুদয় সঙ্গে সঙ্গে চোখ ফিরিয়ে নিল। নিজের জায়গাতেই স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। কী দেখছে সে? তাও আবার এই জঙ্গলের মাঝে! সে এখানে এল কীভাবে? কেন কিছুই মনে পড়ছে না তার? আর কে-ই বা এই নারী?
আমি একা হয়ে বসে আছি,
বিরহী মনের সূক্ষ্ম হাসি...
আমি শুধু চেয়েছি তোমাকে শুরু থেকে...
হঠাৎ মৃদুস্বরে ভেসে আসা গানের সুর কানে পৌঁছাতেই দ্রুত মাথা তুলে তাকাল অভ্যুদয়। এই কণ্ঠ তার ভীষণ চেনা। এই কণ্ঠ সে ভুলবে কী করে?
তার দৃষ্টি গিয়ে থামল বিছানায় বসে থাকা নারীটির দিকে। সেদিক থেকেই ভেসে আসছে গান।
“নওশীন?” সংকোচ মিশে রইল অভ্যুদয়ের কণ্ঠে।
আমি শুধু চেয়েছি তোমাকে শুরু থেকে,
জানি আসবে না তো আজ...
আবারও ভেসে এল গানের সুর। বিছানায় বসে থাকা মেয়েটি ধীরে ধীরে নিজের হাত বাড়িয়ে দিল, যেন অভ্যুদয়কে নিজের দিকে আহ্বান করছে।
এই কণ্ঠে কী আছে, তা জানা নেই অভ্যুদয়ের। সেবারের মতো আজও সে যেন এক অদ্ভুত নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। চারপাশে কী ঘটছে, সে জানে না; জানার আগ্রহও নেই। তার সমস্ত দৃষ্টি গিয়ে স্থির হয়েছে কেবল বিছানায় বসে থাকা মেয়েটির ওপর।
অভ্যুদয়ের পা আপনাআপনি এগিয়ে যেতে শুরু করল। প্রতিটি কদমের সঙ্গে নওশীনের অবয়ব আরও স্পষ্ট হতে লাগল। অথচ অদ্ভুত এক বিষয় তার চোখ এড়িয়ে গেল না। কপালের ভাঁজ মুছে যাওয়ার বদলে যেন আরও গভীর হয়ে উঠল। কাপড়ের পুরুত্ব ভেদ করে নওশীনের শরীরের অবয়ব স্পষ্ট বোঝা গেলেও, সেই একই কাপড়ের আড়াল ভেদ করে তার মুখটি দেখা গেল না। এ কেমন অদ্ভুত রহস্য?
হাঁটতে হাঁটতে অভ্যুদয় খাটের পাশে এসে দাঁড়াল। নওশীন তখনও বিছানায় বসে আছে। মুখটা তার দিকেই, মাথা সামান্য উঁচু করে যেন তাকিয়ে আছে তার দিকে। অথচ অভ্যুদয় কোনোভাবেই দেখতে পাচ্ছে না নওশীনের মুখ।
“তুমি নওশীন?” প্রশ্ন করল অভ্যুদয়।
কোনো উত্তর এল না। তবে মেয়েটি ধীরে ধীরে নিজের হাত তুলে গলার কাছের কাপড়ের অংশটুকু সরিয়ে দিল। উন্মোচিত হলো একটি ছোট্ট তিল। একদৃষ্টিতে সেদিকেই তাকিয়ে রইল অভ্যুদয়।
“নওশীন।” এবার আর অভ্যুদয়ের কণ্ঠে দ্বিধা বা প্রশ্নের সুর নেই। সে নিশ্চিত এটাই নওশীন।
 নওশীন হাত বাড়ালো; আলতো করে ধরলো অভ্যুদয়ের হাত। সেদিকে তাকাতেই নজরে এলো নওশীনের সুবিন্যস্ত হাত। কিন্তু সেই হাতও কাপড়ের আড়ালে ঢাকা, দেখা যাচ্ছে না। পরক্ষণেই অভ্যুদয়ের দৃষ্টি নেমে এলো নওশীনের দেহের দিকে। এক অচেনা শিহরণে শিউরে উঠলো সে—নওশীনের সেই আবৃত শরীরটি যেন কামুকতারই অপর নাম। মুহূর্তের মধ্যে এক অদ্ভুত উষ্ণতা ছেয়ে গেল অভ্যুদয়ের পুরো শরীরে। দ্রুত চোখ সরিয়ে নিল সে। ঘন ঘন দীর্ঘশ্বাস পড়ছে তার, হুট করেই চারপাশ যেন অসহ্য রকমের গরম ঠেকছে।
​এসব কী হচ্ছে তার সাথে? নওশীন তো বরিশালে ছিল, সে এখানে এলো কীভাবে?
​কিছু ভাবার অবকাশ পেল না অভ্যুদয়। ভাবনার ঘোর কাটতেই নিজেকে আবিষ্কার করলো বিছানায় বসা অবস্থায়। সংশয় আর সন্দেহের দৃষ্টিতে এদিক-সেদিক তাকালো সে—কখন বসলো সে এখানে? নাকি নওশীনই তাকে টেনে বসিয়েছে?
​"তু..." কথাটি শেষ করতে পারলো না অভ্যুদয়। তার আগেই নওশীনের কোমল হাত এসে থামলো তার ঠোঁটের ওপর, থামিয়ে দিল তাকে। অভ্যুদয় অনুভব করলো নওশীনের স্পর্শ কতটা তুলতুলে ও কোমল! পুরুষের শক্ত হাতের মতো নয়। নারী আর পুরুষ দেহের পরশে কতই না পার্থক্য!
​একদৃষ্টিতে নওশীনের অবয়বের দিকে তাকিয়ে রইলো সে। মনে হচ্ছে, সেই পুরু কাপড়ের আবরণ ভেদ করেই যেন তারা একে অপরের চোখের ভাষায় ডুবে যাচ্ছে।
​নওশীনের স্পর্শ ঠোঁট থেকে গড়িয়ে ধীরে ধীরে অভ্যুদয়ের গালে এসে নামতেই, নিজের অজান্তেই চোখ দুটি বন্ধ হয়ে এলো তার। এক অপূর্ব আবেশে আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছে সে—খারাপ লাগছে না একটুও। এই অনুভূতিটা পৃথিবীর যেকোনো অনুভূতির চেয়ে আলাদা, একদম ভিন্ন। নিজের ১৮ বছরের জীবনে কখনো এমন মাতাল করা শিহরণ অনুভব করেনি সে।
​ধীরে ধীরে নওশীনের হাত এসে থামলো অভ্যুদয়ের এডামস অ্যাপেল-এর ওপর। অভ্যুদয়ের নিঃশ্বাস ভারী থেকে ভারী হতে লাগলো, যেন বুকভরে শ্বাস নেওয়ার পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাচ্ছে না সে। শুকিয়ে যাওয়া ঠোঁট দুটোকে জিব দিয়ে ভিজিয়ে নিয়ে পরপর কয়েকবার ঢোক গিললো সে।
​নওশীনের হাত তখনও তার কণ্ঠনালিতে স্থির। বন্ধ চোখের আড়ালে অভ্যুদয় তখন ভেতরে ভেতরে ঘামছে। এরপর নওশীনের হাত তার চওড়া কাঁধ বেয়ে সুঠাম বাহু ছুঁয়ে গড়িয়ে যেতে লাগলো নিচের দিকে, যা গিয়ে থামলো অভ্যুদয়ের শক্ত কব্জির কাছে।
নওশীন অভ্যুদয়ের হাত নিয়ে উঁচু করতেই চোখ খুললো অভ্যুদয়।
“হোয়াট দা ফা'ক!”—নিজের হাত নওশীনের কোমরের দিকে নেমে যেতেই যেন শক্ খেয়ে লাফিয়ে উঠল অভ্যুদয়। দ্রুত কিছুটা পিছিয়ে গেল সে। কী করছে এই মেয়েটি? পাগল হয়ে গেছে নাকি? তার হাত কোথায় নিয়ে যাচ্ছিল!
“টাচ মি...” নওশীনের কোমল অথচ নিচু স্বরের আহ্বান অভ্যুদয়কে এক নিমেষে মাতাল করে দিল। যেন তীব্র কোনো নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে। নওশীন আবার নিজের কোমর শক্ত করে চেপে ধরাল অভ্যুদয়ের হাতটা। সেই স্পর্শ পাওয়ার পর অভ্যুদয় যেন ছুঁয়েও ছুঁল না তাকে; তার ব্যাকুল চোখ দুটি কেবল নওশীনের দিকেই নিবদ্ধ।
“শো মি ইউর ফেস!” হুট করেই তীব্র কণ্ঠে বলে উঠল অভ্যুদয়।
“টাচ মি...” এবার অভ্যুদয়ের হাতের ওপর আরেকটু বেশি চাপ প্রয়োগ করল নওশীন, যেন এই আলতো ছোঁয়ায় তার মন ভরছে না।
“শো মি ইউর ফেস, নওশীন!” অভ্যুদয়ের কণ্ঠে চরম তাড়না আর ব্যাকুলতা ফুটে উঠেছে। নিজের অজান্তেই সে কিছুটা এগিয়ে এল।
“টাচ মি...” নওশীনের সেই অবাধ্য চাপের তোড় সামলাতে পারল না অভ্যুদয়। মুহূর্তের মধ্যে কামড়ে ধরার মতো করেই তার আঙুলগুলো খামচে ধরল নওশীনের নরম কোমরের নরম মাংস। আকস্মিক এই শক্ত বাঁধনে নওশীনের গলা দিয়ে বেরিয়ে এলো এক মৃদু, আকুল গোঙানির শব্দ।
“শো মি ইউ... হোয়াট? নো, নো, নো!” হঠাৎই নওশীন কোমরের ওপর থেকে হাতটা সরিয়ে নিয়ে নিজের বুকের ওপর এনে রাখল। বিদ্যুতের ঝিলিকের মতো ঝটকা দিয়ে নিজের হাত গুটিয়ে নিল অভ্যুদয়।
“টা—”
“স্টপ! স্টপ... নো, নো, নো, স্টপ!” নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে পিছিয়ে গেল অভ্যুদয়, যতটা সম্ভব দূরে সরে গেল। নওশীন কেন এসব করছে, সে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। আর তার সাথেই কেন?
নওশীন সামান্য এগিয়ে এসে অভ্যুদয়ের হাত ধরতে উদ্যত হতেই কাঁপা কাঁপা গলায় বাধা দিল অভ্যুদয়-
 “নওশীন, স্টপ! ইটস নট রাইট... ইটস নট রাইট! তুমি বয়সে বড়, এসব... এসব একদম ঠিক নয়!”
নওশীন থমকে দাঁড়াল। সোজা হয়ে বসতেই বুক চিরে দীর্ঘশ্বাস বের হলো অভ্যুদয়ের। হয়তো মেয়েটি আর এগোবে না—এই স্বস্তিতে। তবে নিজের ভেতরেও এক অচেনা, অদ্ভুত অনুভূতির তোলপাড় শুরু হয়েছে। না চাইতেও আড়চোখে একবার দেখে নিল নওশীনকে।
নওশীন ধীরে ধীরে হাত ওঠাতে শুরু করল। অভ্যুদয় কপালে ভাঁজ ফেলে ভ্রূ কুঁচকাল। মেয়েটি আলতো করে আবার গলার পাশের সেই রহস্যময় তিলটা উন্মুক্ত করে দিয়েছে। অভ্যুদয়ের চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেল, সারা শরীরে যেন হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ খেলে গেল এক নিমিষেই! ওই তিলটা দেখলেই কেন যেন সে আর কোনোভাবেই নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে না। পরক্ষণেই স্বসংবরণ করতে শক্ত করে দাঁতে দাঁত চাপল সে।
“কাম... কিস মি।”
“নওশীন, স্টপ!”
“কিস মি হেয়ার...” নওশীন আঙুল দিয়ে গলার ঠিক সেই তিলটির দিকে ইঙ্গিত করল।
শরীরে রক্তস্রোত জমে যাওয়া অভ্যুদয় বিছানার চাদরটা মুষ্টিবদ্ধ করে শক্ত হাতে আঁকড়ে ধরল। এই তিলটার দিকে তাকালেই যেন পুরো পৃথিবীটা তার কাছে শূন্য হয়ে যায়। ভুলে যেতে ইচ্ছে করে নওশীন তার চেয়ে বয়সে বড়, ভুলে যেতে ইচ্ছে করে এ পর্যন্ত সে কখনো নওশীনের মুখটা দেখেনি, ভুলে যেতে ইচ্ছে করে এসব করার পক্ষে সে বড্ড ছোট! কিন্তু ওই একটি তিল—তাকে একদম উন্মাদ করে দিচ্ছে।
মনের গহিনে জমে থাকা এক সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা, নওশীনকে ছোঁয়ার দুর্নিবার ইচ্ছা, তাকে নিবিড়ভাবে কাছে পাওয়ার চরম তৃষ্ণা—সবকিছুর সামনে পৃথিবীর সমস্ত নিয়ম-কানুন ও সামাজিক নীতি এক মুহূর্তে মূল্যহীন মনে হলো তার। ঘন ঘন বড় শ্বাস নিতে নিতে অভ্যুদয় আবার আড়চোখে তাকাল; আবারও তার চোখ আটকে গেল সেই বিপজ্জনক তিলে।
“ইউ ক্যান কিস মি...”
“ডোন্ট ডু দিস, প্লিজ!”
“কিস মি...”
“প্লিজ... আমি কিন্তু সব শেষ করে দেব!”
“কিছুই হবে না।”
“প্লিজ!” না, এটা অভ্যুদয়ের মিনতি না; তার এই কাঁপা গলায় মিশে আছে এক গোপন ও চরম সতর্কবার্তা।
নওশীন তার কথা পাত্তা না দিয়ে আরও একটু এগিয়ে এলো। তিলটি অভ্যুদয়ের চোখের সামনে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। কাপড়ের ফাঁক গলে বের হয়ে আসা কয়েক গুচ্ছ কোঁকড়ানো চুল খেলা করছে তিলের আশপাশে।
অভ্যুদয়কে অবাক করে দিয়ে নওশীন এবার আর তিলের কাছে থামল না; জামার গলার অংশটায় স্পর্শ করতেই তা হালকা সরে গেল। মুহূর্তের মধ্যে তার অনাবৃত কাঁধ আর ক্লিভেজ উন্মুক্ত হয়ে পড়ল অভ্যুদয়ের চোখের সামনে।
আর নিজেকে সামলে রাখা সম্ভব হল না অভ্যুদয়ের পক্ষে। প্রথমবার সে এমন কোনো নারীদেহ এত কাছ থেকে দেখছে—তা-ও এমন একজন মানুষের, যার শুধু গলার স্বর শুনেই সে পাগল হয়ে গিয়েছিল, যার গলার ওই ছোট্ট তিলটা তাকে উন্মাদ করে তুলেছিল! হঠাৎই এক পৈশাচিক ক্ষিপ্রতায় এগিয়ে গিয়ে দুহাত দিয়ে নওশীনের দুই গাল শক্ত করে চেপে ধরল অভ্যুদয়। যদিও সে নওশীনের মুখ দেখতে পাচ্ছে না, তা-ও তার মনে হলো নওশীন হয়তো বাকা হেসে তার দিকেই তাকিয়ে আছে।
“সব তুমি শুরু করেছ...” দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করল অভ্যুদয়। 
“কিন্তু এর শেষ হবে আমার ইচ্ছায়। বুঝতে পারছ? সম্পূর্ণ আমার ইচ্ছায়!”
কথাটা শেষ করতেই এক অদ্ভুত হাসিতে অভ্যুদয়ের মুখটা ভরে গেল—যেন সে চূড়ান্ত বাস্তবতাকে মেনে নিয়েছে, এরপর যা-ই ঘটুক না কেন, তাতে আর কিছুই যায়-আসে না!
“আহ্...”
নিবিড় অরণ্যের সমস্ত নীরবতা চিরে নওশীনের মুখ থেকে এক বুকচেরা ব্যথার গোঙানি ভেসে এলো। অভ্যুদয় এমন কিছু করে বসেছে, যা সে নিজে কখনো কল্পনাও করতে পারেনি। ভেবেছি সে হয়তো শান্তভাবে তিলটায় একটি অনুতপ্ত চুমু আঁকবে—কিন্তু সে তা করেনি। নওশীনের গাল থেকে হাত সরিয়েই সে এক হিংস্র আকুলতায় কামড়ে ধরল গলার সেই তিলটি!
নওশীনের গলায় ঠোঁটের স্পর্শ লাগতেই তীব্র অনুভূতির এক ঝটকা খেল অভ্যুদয়। এতক্ষণ ধরে তার মধ্যে জেগে থাকা ভালোমানুষির শেষ চিহ্নটুকুও ছাই হয়ে গেল। এক পরম উন্মাদের মতো দুহাতে নওশীনের কোমর চেপে ধরে এক টানে তাকে নিজের কোলে এনে বসাল সে।
যেখানে একটু আগে কামড় দিয়েছিল, ঠিক সেখানেই উন্মত্তের মতো চুমু খেতে শুরু করল অভ্যুদয়। তার তপ্ত, গরম নিঃশ্বাস নওশীনের সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তেই নওশীন ঘাড় বাকিয়ে তাকে আরও সুযোগ করে দিল।
“উম্মম...” জিভ দিয়ে তিলটি ভিজিয়ে দিতেই নওশীনের গলা দিয়ে এক অস্ফুট শব্দ বেরিয়ে এলো, যা অভ্যুদয়কে আরও বহুগুণ বেশি পাগল করে তুলল। সে থামল না—তিল থেকে শুরু করে একের পর এক ব্যাকুল চুমু নামতে লাগল নওশীনের কাঁধ আর পোশাকের খোলা অংশের দিকে।
“আই ওয়ান্ট টু ফিল ইউ!” হঠাৎই গোঙানির মতো করে বলে উঠল অভ্যুদয়। ঠোঁট তখনও নওশীনের গলায় অবিরাম চুমু খেতে ব্যস্ত।
“অভ্যুদয়...”
“আই ওয়ান্ট টু ফিল ইউ, বেবি!”
“অভ্যুদয়...”
“বেবি!” নওশীনের কোমর থেকে এক হাত সরিয়ে নিল অভ্যুদয়।
নওশীনের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে মন্ত্রের মতো আওড়াতে লাগল-
“ইউ আর মাইন... ইউ আর মাইন... ইউ আর মাইন!” তার হাত তখন ব্যস্ত প্যান্ট থেকে বেল্ট খুলতে।
“অভ্যুদয়?”
“অভ্যুদয়!”
“অভ্যুদয়??”
“অভ্যুদয়?!”
“নওশীন—!”
এক তীব্র আর্তচিৎকার করে এক লাফে উঠে বসল অভ্যুদয়! বুকটা হাঁপরের মতো ওঠানামা করছে, হাপাতে হাপাতে চারপাশে তাকাতেই চোখে পড়ল নিজের চিরচেনা ঘরটি। মাথাটা কাজ করতে শুরু করতেই নিজের হাতের দিকে তাকাল সে—থরথর করে কাঁপছে আঙুলগুলো।
হাঁপাতে হাঁপাতেই বিছানার পাশে তাকাল অভ্যুদয়। পাশের জায়গাটা একদম খালি, সেখানে কেউ নেই—যেন কোনোদিন কারোর থাকার কথাই ছিল না!
“অভ্যুদয়?”
অনামিকা চৌধুরীর কণ্ঠস্বরে ব্যাকুল ঘোর ভাঙল তার। দেয়ালঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখল সকাল ৮:৩০টা বাজে। এতক্ষণ ধরে সে ঘুমাচ্ছিল? তবে... তবে এতক্ষণ যা ঘটল, তার সবটাই কি স্বপ্ন ছিল?
নওশীন কি শুধুই তার কল্পনা? তাকে এভাবে ছুঁয়ে দেখা, তার আকুলতা—সবটাই কি তবে একটা অলীক স্বপ্ন? কিন্তু হুট করে নওশীন তার স্বপ্নে কেন আসবে? এসব দেখার অর্থ কী?
গতরাতে হয়তো সে বড্ড বেশিই ভেবে ফেলেছিল নওশীনের কথা, বড্ড বেশি কল্পনা করে ফেলেছিল তার গলার ওই তিলটা নিয়ে। আর তাই, অবচেতন মনের সেই নিষিদ্ধ ফ্যান্টাসিই স্বপ্নে রূপ নিয়ে হাজির হয়েছিল নওশীন হয়ে! মনে মনেই বলে উঠলো-
'সে ছিল আমার কল্পনায়'
চলবে....
সবার জোরাজোরিতে পেইজে দিলাম। ভালো না লাগলে বলবা আমি ডিলিট করে দিবো, কিন্তু কেউ আজাইরা ক্যাচাল করবা না। আমার ক্যাচাল একদম পছন্দ না🙂। যারা গল্প গ্রুপে দেন, তারা এইটা দিবেন না। এটা শুধু পেইজের পাঠকদের জন্য।
ছেলেরা খুব সহজেই ফ্যান্টাসি করতে পারে, উঠতি বয়সী ছেলেদের ক্ষেত্রে এসব অনেকটা নর্মাল। এই পর্ব লেখার উদ্দেশ্য - অভ্যুদয়ের নওশীনের প্রতি আকর্ষণটা কীভাবে আরও বাড়ছে তাই দেখানো।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন