#সে_ছিল_আমার_কল্পনায়
#পর্ব_১৫
#লেখিকা_নাবিলা_আহমেদ সেহরিশ
“হামিদের বাচ্চাটা বলেছিলো আজ মসজিদে বিরিয়ানি দিবে, দিল কী? দুইটা জিলাপি। আরে ভাই, জিলাপির জন্য এতো দূর কেন যাব আমি? বাড়ির পাশেই তো জিলাপি দিচ্ছিলো আজ" দ্রুত মেসেজ পাঠালো অভ্যুদয়। রাগে তার গা টা জ্বলছে। তার পাশেই বিছানায় পড়ে আছে দুটো জিলাপি।
নওশীন রিপ্লাই পাঠালো। কোনো স্বান্তনার কথা নয়, বরং হাসির ইমুজি। অনেক গুলো ইমুজি।
“নামাজ পড়তে যাও নাকি বিরিয়ানি খেতে?" নওশীনের রিপ্লাইয়ের সাথে আবারও ইমুজি আসলো অনেক গুলো।
“হাসবে না। আমার কষ্ট তো বুঝো না, পারো শুধু হাসতে"
“ওকে আর হাসবো না” মেসেজটা দেখতেই বিছানায় চিত হলো অভ্যুদয়। মিনিট দুয়েক পার হওয়ার সময় দিল না নওশীন। মেসেজ আসতে শুরু করে একেক করে। অভ্যুদয় মেসেজ দেখতেই থমকে যায়।
“🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣"
“😂😂😂😂😂😂😂🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣"
“লোভি অভ্যুদয় ছ্যাকা খেয়েছে🤣🤣🤣🤣🤣"
“তোমার কপাল ভালো তুমি আজ আমার সামনে নেই, তা না হলে আজ কিছু একটা হয়ে যেত" দাঁতে দাঁত চেপে মেসেজ পাঠালো অভ্যুদয়।
“আচ্ছা তাই নাকি? কী হতো শুনি?"
“শুনবে?”
“হুম হুম"
“না থাক, তখন আবার ভয় পেয়ে যাবে। ছোট মানুষ তো তুমি তাই”
“আচ্ছা, তাই নাকি? ঠিক সময়ে বিয়ে করলে তোমার মতো একটা ছেলে থাকত আমার।”
কথাটা পড়তেই অভ্যুদয়ের ঠোঁটের কোণের হাসিটা যেন মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল। কয়েক সেকেন্ড আগেও যে মুখে দুষ্টু আনন্দের ছাপ ছিল, সেখানে ধীরে ধীরে জমল বিরক্তি। আর সেই বিরক্তি এক নিমিষেই রূপ নিল রাগে।
“বালের কথা বলো?”
“বাল।”
“ধুর! ব্লক খাও।”
আর এক মুহূর্তও সময় নিল না অভ্যুদয়। নওশীনকে কোনো উত্তর দেওয়ার সুযোগ পর্যন্ত না দিয়ে সরাসরি ব্লক করে দিল। তারপর ফোনটা পাশে ছুড়ে দিয়ে সোজা হয়ে বসলো বিছানায়।দাঁতে দাঁত চেপে ধরেছে সে। কী ধরনের ফাইজলামি এসব? তার বয়সী একটা ছেলে থাকত!
ভাবনাটা মাথায় আসতেই অভ্যুদয়ের মুখটা আরও তেতো হয়ে গেল। বিরক্তিতে দ্রুত মাথা ঝাঁকাল সে। নাহ, এই মেয়েটার সঙ্গে কথা বললেই তার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।
“তুমি একটা বাল, নওশীন। বেয়াদব মেয়ে।” নিজের মনেই বিড়বিড় করল অভ্যুদয়।
“ঠক ঠক।” দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে ভাবনার জগৎ থেকে ফিরে এলো সে। বিছানা ছেড়ে দরজার দিকে এগিয়ে গিয়ে খুলতেই সামনে রুমিকে দেখা গেল। ঠোঁটের কোণে মিষ্টি এক চিলতে হাসি। রুমিকে দেখেই অভ্যুদয়ের মুখেও হাসি ফুটে উঠল।
“তোমাকে খেতে ডাকছেন আন্টি। তাড়াতাড়ি চলো।”
“কী রান্না করেছ?” অভ্যুদয়ের কণ্ঠে কৌতূহল।
“গরুর মাংসের রেজালা।” শুনেই অভ্যুদয়ের মুখটা উজ্জ্বল হয়ে উঠল। রেজালা তার ভীষণ পছন্দের। আর আজ এতদিন পর সেটা রান্না হয়েছে!
“আচ্ছা, আমি আসছি।” রুমি আর দাঁড়াল না। হালকা পায়ে চলে গেল।
দরজা বন্ধ করে অভ্যুদয় আবার নিজের ঘরে ফিরে এলো। পরনের কালো পাঞ্জাবিটা খুলতে গিয়েও হঠাৎ থেমে গেল। ‘তার বয়সী ছেলে?’
নওশীনের কথাটা আবারও কানে বাজল।
মুহূর্তেই মুখটা কেমন তেতো হয়ে গেল তার।
রেজালার কথা মনে পড়তেই যে মনটা একটু আগে ভালো হয়ে গিয়েছিল, এখন খাবারের রুচিটাই যেন চলে যাচ্ছে।
অভ্যুদয় ধীরে ধীরে আলমারির সামনে গিয়ে দাঁড়াল। আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। সে কি সত্যিই এতটা ছোট? নিজেকে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করল সে। উচ্চতা, চেহারা, গড়ন—কোনোটাই তো এমন নয় যে তাকে দেখলে ছোট ছেলে মনে হবে!
তাহলে? নওশীনের কিছুই কি অনুভূত হয় না তাকে নিয়ে? এতদিন ধরে তার সঙ্গে কথা বলে, তার এত কথা শুনেও কি একটুও কিছু অনুভব করে না মেয়েটা? তাহলে এমন কথা কেন বলে? অজান্তেই ভ্রু কুঁচকে গেল অভ্যুদয়ের।
হঠাৎ আয়নার সামনে দাঁড়িয়েই মোবাইলটা হাতে নিল সে। মুখের বেশ খানিকটা অংশ মোবাইল দিয়ে আড়াল করে একটা সেলফি তুলে ফেলল। ছবিটা কয়েক সেকেন্ড দেখল। কেন তুলল, নিজেই জানে না।
“অভ্যুদয়!” বাইরে থেকে ভেসে এলো ইকরামুল চৌধুরীর গম্ভীর কণ্ঠ। চমকে উঠল সে। দ্রুত মোবাইলটা পকেটে ঢুকিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো।
খাবার টেবিলে আজ যেন ছোটখাটো উৎসব বসেছে। টেবিলজুড়ে হরেক রকমের খাবার। বেশির ভাগই ইকরামুল চৌধুরীর পছন্দের। জাপান থেকে গতকাল রাতেই ফিরেছেন তিনি। দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফেরায় অনামিকা চৌধুরী যেন স্বামীকে পছন্দের সব খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করার আয়োজন করেছেন। কিন্তু এতসব খাবারের মাঝেও অভ্যুদয়ের চোখ গিয়ে আটকাল এক জায়গাতেই।
গরুর মাংসের রেজালা। তরকারির গাঢ় রঙ দেখেই তার মনটা আবার খানিকটা ভালো হয়ে গেল।
চেয়ারের পাশে দাঁড়িয়ে রইল অভ্যুদয়। বসার আগে একবার চারপাশে চোখ বুলিয়ে নিল। কেউ আছে? নাহ। ইকরামুল চৌধুরী ছাড়া আপাতত আর কাউকে দেখা যাচ্ছে না। তিনিও খবরের কাগজে মুখ গুঁজে বসে আছেন।
সুযোগ বুঝে অভ্যুদয় দ্রুত পকেট থেকে মোবাইল বের করল। টেবিলে সাজানো হরেক রকম খাবারের কয়েকটা ছবি তুলে ফেলল পরপর।নওশীনকে দেখাবে। মেয়েটা না জানি কী বলবে!
হঠাৎ পেছন থেকে রুমির কণ্ঠ ভেসে এলো—
“পিচ্চি আজকে মনে হয় খুব খুশি। খুশি হবেই বা না কেন, অনেকদিন পর যে রেজালা রান্না হয়েছে!”
‘পিচ্চি’ শব্দটা কানে যেতেই অভ্যুদয়ের আঙুল থেমে গেল। ধীরে ধীরে মাথা তুলে তাকাল সে।
রুমির দিকে। রুমি তখন সালাদের বাটিটা টেবিলের ওপর রেখে মৃদু হাসছে। তারপর আর কিছু না বলে রান্নাঘরের দিকে চলে গেল।
অভ্যুদয়ের চোখ আটকে রইল তার পেছনে। পিচ্চি! আজ হঠাৎ রুমি তাকে পিচ্চি বলল কেন?
অদ্ভুত একটা শিহরণ বয়ে গেল মেরুদণ্ড বেয়ে।
রুমি কি তাহলে—
নওশীন? না! না, না, না! দ্রুত মাথা ঝাঁকাল অভ্যুদয়। নিজের চিন্তাটাকেই যেন নিজে ধমক দিল। এটা কীভাবে সম্ভব? সামনের চেয়ারটা টেনে নিয়ে তাড়াতাড়ি বসে পড়ল সে। কিন্তু মাথার ভেতরের প্রশ্নটা আর থামল না। রুমি যদি সত্যিই নওশীন হয়? তাতে সমস্যা কোথায়? নিজেকেই প্রশ্ন করল অভ্যুদয়। কিছুক্ষণ নীরব থেকে উত্তরটাও নিজেই দিল। নাহ। কোনো সমস্যা নেই।
নওশীন যেই হোক, তাতে তার কিছু যায় আসে না। সে তো শুধু নওশীনের সঙ্গে কথা বলে। প্রতিদিনের কথাবার্তা, খুনসুটি—এসব ছাড়া আর কী-ই বা আছে তাদের মধ্যে? সে তো নওশীনকে পছন্দ করে না। একদমই না। তাহলে রুমি নওশীন হলে তার এত অস্থির লাগছে কেন?
প্রশ্নটার উত্তর সে নিজেকেও দিতে পারল না।
অভ্যুদয়ের পা অস্বাভাবিক দ্রুততায় নড়তে লাগল। আঙুলগুলোও অস্থিরভাবে টেবিলের ওপর ঠুকতে শুরু করল। তার দৃষ্টি বারবার আটকে যাচ্ছে রান্নাঘরের দরজার কাছে।
মাঝেমধ্যে সেখান থেকে রুমির মুখটা দেখা যাচ্ছে।
সে রুমিকে চিনতে পারেনি। কিন্তু রুমি? রুমি তো তাকে চেনে। তাহলে? নওশীন কি সত্যিই রুমি?
নাকি অন্য কেউ? নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যেন বুকের ভেতরটা শান্ত হচ্ছে না।
হঠাৎ আর থাকতে না পেরে মোবাইলটা হাতে তুলে নিল অভ্যুদয়। লক খুলে সরাসরি মেসেঞ্জারে ঢুকল। কয়েক সেকেন্ড নওশীনের নামের দিকে তাকিয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত ব্লক অপশনটা সরিয়ে দিল। বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। কী করছে সে নিজেই জানে না। হৃদস্পন্দন যেন মুহূর্তের মধ্যে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। নিজের বুকের শব্দ নিজেই শুনতে পাচ্ছে অভ্যুদয়।মেসেজ বক্স খুলে কিছু লিখতে গিয়েও থেমে গেল।
শেষ পর্যন্ত কোনো কথা না লিখে শুধু একটা ইমোজি পাঠিয়ে দিল।
“*****” মেসেজ পাঠানোর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই—
টুং! রান্নাঘরের ভেতর থেকে মেসেঞ্জারের নোটিফিকেশনের শব্দ ভেসে এলো। অভ্যুদয়ের বুকের ভেতরটা যেন হঠাৎ থেমে গেল। ধীরে ধীরে রান্নাঘরের দিকে তাকাল সে। রুমি নিজের মোবাইলটা হাতে তুলে নিয়েছে। অভ্যুদয়ের চোখ সরল না। তাহলে কি সত্যিই—
“মনোযোগ কোথায় তোমার?” অনামিকা চৌধুরীর ধমকের সুরে অভ্যুদয় চমকে উঠল। দ্রুত চোখ নামিয়ে নিল সে। কিন্তু তার বুকের ভেতর তখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—
রুমি কি সত্যিই নওশীন?
চেয়ার টেনে অনামিকা চৌধুরী বসতেই ইকরামুল চৌধুরীও পাশের চেয়ারটায় গিয়ে বসলেন।
অভ্যুদয় মাথা নিচু করে বসে আছে। বাইরে থেকে তাকে যতটা শান্ত দেখাচ্ছে, বুকের ভেতরটা ঠিক ততটাই অশান্ত। সেখানে যেন একসঙ্গে হাজারটা প্রশ্নের ঝড় উঠেছে।
খাবার টেবিলে নেমে এসেছে নীরবতা। রুমি একে একে সবার প্লেটে খাবার তুলে দিচ্ছে। আর অভ্যুদয় বসে আছে নিজের ভেতরের অদ্ভুত এক জগতের মধ্যে ডুবে। গভীর চিন্তায় মগ্ন সে। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন সমস্ত চিন্তা অন্যদিকে মোড় নিল।
মনের কোণে অদ্ভুত এক আনন্দের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ল। অবশেষে! অবশেষে সে নওশীনকে খুঁজে পেয়েছে।
এতদিন যার অস্তিত্ব ছিল কেবল একটা নাম, একটা কণ্ঠ, কিছু কথোপকথন আর অসংখ্য কল্পনার মধ্যে—আজ সেই মানুষটা তার এত কাছে! কিন্তু পরক্ষণেই আনন্দের মাঝেও একটা প্রশ্ন মাথা চাড়া দিয়ে উঠল।
রুমি তাকে এত এত মিথ্যে বলেছে কেন?
আর সবকিছু জানার পরও কেন নিজের পরিচয় তার কাছ থেকে লুকিয়ে রেখেছে? অভ্যুদয় ধীরে ধীরে মাথা তুলল। ঠিক তখনই রুমির সঙ্গে চোখাচোখি হয়ে গেল। অভ্যুদয়ের ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল মিষ্টি এক হাসি। রুমির কপালে সঙ্গে সঙ্গে ভাঁজ পড়ল। সে যেন বুঝতেই পারছে না, হঠাৎ অভ্যুদয়ের এমন হাসির কারণ কী।
“টুং!” মেসেঞ্জারের নোটিফিকেশনের শব্দ।
এক মুহূর্তে টেবিলে থাকা সবার দৃষ্টি গিয়ে আটকাল অভ্যুদয়ের দিকে। ইকরামুল চৌধুরী ও অনামিকা চৌধুরীর চোখেমুখে স্পষ্ট বিরক্তি। অভ্যুদয়ের সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। সে একবার রুমির দিকে তাকাল। ঠোঁটের কোণে আবারও ফুটিয়ে তুলল অতি ক্ষীণ একটা হাসি। তারপর ধীরে ধীরে পকেটে হাত ঢুকিয়ে মোবাইল বের করল।
স্ক্রিনে নওশীনের মেসেজ।
“ব্লক দিয়ে বেশিক্ষণ থাকতে পারলে না?” মেসেজটা দেখে অভ্যুদয় একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। এক মিনিটও হয়নি নওশীন মেসেজটা পাঠিয়েছে। আর রুমি? সে তো এখনো তার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে। তার মানে—
রুমি আর নওশীন আলাদা মানুষ।
অভ্যুদয়ের বুকের ভেতরটা কেমন যেন হালকা হয়ে গেল। এতক্ষণ যে উত্তেজনা নিয়ে সে অপেক্ষা করছিল, তার একটা অংশ যেন মুহূর্তেই মুছে গেল। বাম হাতে দ্রুত টাইপ করল সে—
“কী করছো দেখাও। রাইট নাও।” মেসেজটা পাঠিয়ে দিল।
“খাবার টেবিলে এখন মোবাইল চালানো হয়?” ইকরামুল চৌধুরীর গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে এলো।
কিন্তু অভ্যুদয়ের কানে যেন কথাটা পৌঁছালই না।
তার সমস্ত মনোযোগ আটকে আছে মোবাইলের ছোট্ট স্ক্রিনটায়। এক মিনিটও পেরোয়নি। আবার নোটিফিকেশন। একটা ছবি এসেছে। ছবিতে একটা হাত।
হাতের তালুতে অর্ধেক পর্যন্ত মেহেদি দেওয়া। দেখে মনে হচ্ছে, মেহেদি দেওয়ার মাঝপথেই হুট করে ছবিটা তুলে পাঠিয়েছে নওশীন। ছবির নিচে লেখা—
“মেহেদি দেই, দিবে? আসো, দিয়ে দেই।” নিচের ঠোঁটটা অজান্তেই কামড়ে ধরল অভ্যুদয়। তার মনে হলো, স্ক্রিনের ওপাশে নওশীনকে সে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে। ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি, চোখেমুখে চেনা দুষ্টুমি—হাতের ইশারায় যেন তাকে ডাকছে।
‘আসো, দিয়ে দেই।’ কথাটা বারবার মনে পড়তেই বুকের ভেতর কেমন একটা অদ্ভুত অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল।
“আরেক পিস রেজালা দাও, রুমি আপু।” রুমির দিকে তাকিয়ে কথাটা বলল অভ্যুদয়। রুমি কোনো কথা না বলে আরেক পিস রেজালা তুলে দিল তার প্লেটে।
অনামিকা চৌধুরী আর ইকরামুল চৌধুরী দুজনেই এবার রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকালেন অভ্যুদয়ের দিকে। অভ্যুদয়ের অবশ্য সেদিকে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই। সে আপনমনে খেতে শুরু করল।
মুখে খাবার, হাতে চামচ—অথচ মনটা যেন পড়ে আছে অন্য কোথাও। মনে হচ্ছে, তার কানের কাছে কেউ একটা গান বাজিয়ে চলেছে। অদৃশ্য কোনো সুর। যে সুরের তালে তালে তার নাচতে ইচ্ছে করছে। হঠাৎ করে এত খুশি লাগছে কেন তার? এতটা আনন্দের কারণই বা কী?
খাওয়া শেষ হতেই অভ্যুদয় আর এক মুহূর্তও দেরি করল না।দ্রুত নিজের ঘরে ফিরে এসে দরজা বন্ধ করল। তারপর লক করে দিয়ে প্রায় ছুটে গিয়ে বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ল। পকেট থেকে মোবাইল বের করল সে। আবারও খুলে দেখল নওশীনের পাঠানো ছবিটা। আজ আর ছবিটা ডিলিট করল না।
বরং মনের এক কোণে ছবিটা সেভ করে রাখার ইচ্ছে জেগে উঠল। কিন্তু অনুমতি ছাড়া এমন কিছু করতেও মন সায় দিল না। তাই শুধু ছবিটা বড় করে দেখল। একবার। দুবার। বারবার।
হঠাৎ তার চোখ আটকে গেল নওশীনের মধ্যমা আঙুলের দিকে। আঙুলের মাথাটা সামান্য বাঁকা।
কৌতূহলী হয়ে উঠল অভ্যুদয়। শেষ পর্যন্ত আর নিজেকে আটকে রাখতে পারল না। মেসেজ টাইপ করল—
“আঙুলে কী হয়েছিল? নাকি জন্মগতভাবেই এরকম?” মেসেজ পাঠানোর কিছুক্ষণ পরেই উত্তর এলো।
“গোয়েন্দা নাকি তুমি?” অভ্যুদয়ের ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠল।
“এই আঙুলে কী সমস্যা জানি না, তবে এটা বাঁকা করতে পারি আমি।” নওশীনের পরের মেসেজটা আসতেই অভ্যুদয় হেসে ফেলল।
“অনেক সুন্দর করে মেহেদি দিতে পারো।” কয়েক মুহূর্ত কোনো মেসেজ এল না। তারপর স্ক্রিনে ভেসে উঠল মাত্র তিনটি শব্দ—
“থ্যাংক ইউ পিচ্চি।” অভ্যুদয়ের হাসিটা এবার আর লুকিয়ে রাখা গেল না।
‘পিচ্চি।’ শব্দটা আজ আর বিরক্তিকর লাগল না।
বরং অদ্ভুতভাবে ভালো লাগল।
এতটাই ভালো যে, সে নিজেও বুঝতে পারল না—কখন তার চোখের কোণে মায়ামাখা এক হাসি এসে বসেছে।
চলবে...
গতকাল রাত থেকে কারেন্ট ছিলো না। একটু আগেই এসেছে, আমি ইডিট করে পোস্ট করলাম।
জুনিয়র অভ্যুদয়ের জন্য এতো পাগল সবাই? তাহলে পড়ে ফেলুন জুনিয়র নোয়াকে। #অদ্বিতীয়া ইবুকে নোয়া কিন্তু জুনিয়র। মূল্য মাত্র ৩০ টাকা।