#সে_ছিল_আমার_কল্পনায়
#পর্ব_১৪
#লেখিকা_নাবিলা_আহমেদ সেহরিশ
“তুমি কী করো?”
ঘড়ির কাঁটা আটটার ঘরে পৌঁছেছে। এর মধ্যেই অনলাইনে হাজির নওশীন। অন্যদিনের মতো আজ আর অভ্যুদয়কে রাত এগারোটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলো না। বই নিয়ে পড়তে বসেছিল সে। হুট করেই মেসেঞ্জার থেকে নোটিফিকেশনের শব্দ শুনতেই হামিদের অহেতুক কথাবার্তা ভেবে তা এড়িয়ে গেল।
মিনিট দশেক পড়ার পর আবারও নোটিফিকেশনের শব্দ হলো। এবার না চাইতেও মোবাইলটা হাতে তুলে নিল অভ্যুদয়।
স্ক্রিনে আলো জ্বলতেই থমকে গেল সে।
এতক্ষণ যাকে হামিদ ভেবে ইগনোর করে যাচ্ছিল, সে হামিদ নয়—নওশীন!
চোখের সামনে যেন সবকিছু মরীচিকার মতো লাগল তার। দ্রুত মাথা ঝাঁকিয়ে ঘড়ির দিকে তাকাল। আটটা এখনো বাজেনি, অথচ এর আগেই হাজির নওশীন!
“কী করো, পিচ্চি?”
পাঁচ মিনিট পরও কোনো রিপ্লাই না দেওয়ায় আবারও মেসেজ এল।
“কী ব্যস্ত? রিপ্লাই দিল না!”
“পিচ্চি?”
অভ্যুদয় বারবার নওশীনের মেসেজটার দিকে চোখ বুলাতে লাগল। এই মেয়েটা কি তাকে পিচ্চি ছাড়া আর কিছু ডাকতে পারে না? আঠারো বছর বয়সী কোনো ছেলে কি পিচ্চি হয়?
“পড়ছিলাম।”
“তুমি কী করো?”
মেসেজটা পাঠাল অভ্যুদয়। কখন যে পড়ার টেবিল ছেড়ে জানালার কাছে এসে বসেছে, নিজেও জানে না।
নওশীন অনলাইনে আছে। তবে মেসেজটা সঙ্গে সঙ্গে সিন করল না।
মনটা অকারণেই খারাপ হয়ে গেল অভ্যুদয়ের। হয়তো সে এত দেরি করেছে বলেই নওশীন অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
হঠাৎ করেই একটা চিন্তা বিদ্যুতের মতো মাথায় ঝলকে উঠল—
❝ব্যস্ত নাকি অন্য কারও সঙ্গে চ্যাটিং করছে?❞
চিন্তাটা মাথায় আসতেই দাঁতে দাঁত চেপে ধরল অভ্যুদয়। হাতের মোবাইলটায় এমনভাবে চাপ প্রয়োগ করল যে স্ক্রিনের ভেতর থেকে কড়মড় শব্দ বেরিয়ে এল।
মাথাটা অস্বাভাবিক রকম গরম হয়ে উঠেছে। মুখটা তেতো তেতো লাগছে। অথচ কেন এমন হচ্ছে, সে নিজেই বুঝতে পারছে না।
হঠাৎ করেই বিরক্ত লাগছে। অস্থির লাগছে। নড়েচড়ে বসল অভ্যুদয়। চেষ্টা করল মনটা অন্যদিকে সরিয়ে নিতে।
চারপাশে চোখ বুলাল।
বই।
টেবিল।
জানালা।
ঘড়ি।
কিছুতেই মন বসছে না। নাহ, ধ্যান অন্যদিকে গেল না। বরং সেই একই প্রশ্ন বারবার মাথার ভেতর ঘুরপাক খেতে লাগল।
নওশীন কি অন্য কারও সঙ্গে কথা বলছে?
কার সঙ্গে?
কোনো ছেলের সঙ্গে?
প্রশ্নটা যতবার মনে পড়ছে, বুকের ভেতরটা ততবারই কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠছে।
শেষ পর্যন্ত আর নিজেকে সামলাতে পারল না অভ্যুদয়। বিদ্যুতের গতিতে ফেসবুকে ঢুকল। সার্চলিস্টে ‘সাদিয়া সুলতানা’ লিখতেই নওশীনের আইডি শো করল। দ্রুত সেখানে ক্লিক করল সে।
আইডিটা ভালো করে দেখতে লাগল অভ্যুদয়। কপালের ভাঁজ এখনো অটুট। জানালার ওপর বসেই অস্বাভাবিক গতিতে পা নাড়িয়ে যাচ্ছে।
নাহ, অ্যাবাউটে নতুন কিছুই নেই। যা আছে, সবই তার জানা। তবুও কেন যেন মনে হচ্ছে, এই মুহূর্তে নওশীনের আইডির প্রতিটা অক্ষর তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
মোবাইলটা এমনভাবে ধরে আছে সে, যেন যেকোনো মুহূর্তে সেটাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলবে। একটু আগেই এত জোরে চেপে ধরেছিল যে স্ক্রিনে ফাটল পর্যন্ত ধরেছে। অথচ সেদিকে কোনো নজর নেই তার।
তার সমস্ত মনোযোগ এখন শুধু একটা মানুষের দিকে।
নওশীন।
কোনো কিছু না ভেবেই লাস্ট পোস্টে ক্লিক করল অভ্যুদয়।
আনুমানিক দুই মাস আগের পোস্ট। নওশীন তার প্রোফাইল পিকচার আপলোড করেছিল। এরপর আর কিছুই পোস্ট করেনি। আগের পোস্টগুলোও একই রকম। কয়েকটা ছবি আপলোড আর দু-একটা পোস্ট শেয়ার করা ছাড়া আইডিতে তেমন কিছুই নেই।
প্রোফাইল পিকচারে মাত্র চারটা রিয়েক্ট।
কৌতূহলটা আর দমিয়ে রাখতে পারল না অভ্যুদয়।
রিয়েক্টে ক্লিক করতেই একে একে চারজনের নাম শো করল।
তিনজন মেয়ে। আর একজন ছেলে। বুকের ভেতরটা আচমকা ছ্যাঁৎ করে উঠল অভ্যুদয়ের।
একটা অদ্ভুত শূন্যতা যেন মুহূর্তেই বুকের ভেতর জায়গা করে নিল। চোখ আটকে রইল সেই ছেলেটার নামের ওপর।
ছেলেটা কে?
নওশীন কি তাকে চেনে?
তার সঙ্গেও কি কথা বলে?
ছেলেটার সঙ্গেও কি ঠিক তার মতোই কথা বলে?
তার সঙ্গেও কি এভাবে ছবি শেয়ার করে?
প্রশ্নগুলো একটার পর একটা মাথায় আঘাত করতে লাগল। অভ্যুদয়ের বুকের ভেতরটা যেন কেউ মুঠো করে চেপে ধরেছে। অদ্ভুত এক জ্বালা ছড়িয়ে পড়ছে শরীরজুড়ে। নিজের কাছেই নিজেকে অসহ্যকর মনে হলো তার।
এতক্ষণ যে মেয়েটার একটা মেসেজ পাওয়ার জন্য তার বুকের ভেতর আনন্দের ঢেউ উঠছিল, সেই মেয়েটাই অন্য কারও সঙ্গে কথা বলতে পারে—এই সামান্য সম্ভাবনাটুকুও সে সহ্য করতে পারছে না।
কেন?
নওশীন তো তার কেউ নয়। তার ওপর কোনো অধিকারও নেই অভ্যুদয়ের। তাহলে এতটা রাগ হচ্ছে কেন? এতটা কষ্টই বা হচ্ছে কেন?
মাথা খারাপ হয়ে এল তার। ইচ্ছে করছে মোবাইলটা হাত থেকে ছুড়ে ফেলে ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিতে। ঠিক তখনই—
“টুং!”
নওশীনের রিপ্লাই এসেছে। আগের মতো এক্সাইটেড অনুভব করল না অভ্যুদয়। বরং রাগ হলো। চোখ বন্ধ করল সে। দাঁতে দাঁত চেপে ধরেছে। মনে হচ্ছে, নওশীন বুঝি কারও সঙ্গে চ্যাটিং করেই তার কাছে এসেছে। আচ্ছা, এতক্ষণে কি সেই ছেলেটা চলে গেছে বলেই তার সঙ্গে চ্যাট করতে এসেছে?
ভাবনাটা মাথায় আসতেই বুকের ভেতরটা আবারও জ্বলে উঠল। যদি সত্যিই তাই হয়?
যদি নওশীনের কাছে সে শুধু আরও অনেকের মতোই একজন হয়?যদি তার সঙ্গে যে কথাগুলো নওশীন বলে, সেগুলো অন্য ছেলেদের সঙ্গেও বলে?
যদি এই মায়াবী মেয়েটার কাছে অভ্যুদয়ের কোনো আলাদা জায়গাই না থাকে? বুক ফুলিয়ে দীর্ঘশ্বাস নিল অভ্যুদয়। এই অনুভূতিটা সে আগে কখনো অনুভব করেনি।
কী অদ্ভুত এই ফিলিংস!
মনে হচ্ছে, কেউ যেন শত শত কাঁটা তার শরীরে বিঁধিয়ে দিচ্ছে। অথচ কোথাও কোনো ক্ষত নেই, র'ক্ত নেই—শুধু অসহ্য একটা ব্যথা। খোলা আকাশের দিকে তাকাল অভ্যুদয়।
এখনো পুরো শহর জেগে আছে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের জানালায় আলো জ্বলছে। দূর থেকে ভেসে আসছে শহরের চেনা কোলাহল।
জানালা খুলে দিল অভ্যুদয়।
এসি রুমের শীতল বাতাসও তার মনটা ঠান্ডা করতে পারছে না। ভেতরে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে। মনে হচ্ছে, পৃথিবীর কোনো কিছুই তাকে এখন শান্তি দিতে পারবে না।
জানালা খুলতেই ভ্যাপসা গরম বাতাস এসে ছুঁয়ে গেল তাকে। এসির ঠান্ডা বাতাসের তুলনায় এই বাতাসটা একটু বেশিই উষ্ণ।
অভ্যুদয় নিচের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।
কী দেখছে, নিজেও জানে না। দু-হাত মেলে দিল সে। যেন এই নতুন অনুভূতিটাকে ছুঁয়ে দেখতে চাইছে।
চোখ বন্ধ করল নিমিষেই। কিন্তু অন্ধকার কাটতে সময় লাগল না।
নওশীনের সেই ছবিটা ভেসে উঠল চোখের সামনে।
পরমুহূর্তেই মনে পড়ে গেল নওশীনকে নিয়ে দেখা সেই স্বপ্নটা। তার কোমল কণ্ঠটা...তার সেই তিলটা..
“নওশীন...” বিরবির করে উঠল অভ্যুদয়।সঙ্গে সঙ্গেই চোখ খুলে ফেলল।
উফ! কী অসহনীয় সেই যন্ত্রণা!
এক লাফে জানালা থেকে নেমে এল অভ্যুদয়। জানালা লাগিয়ে দিয়েই খাটের ওপর গিয়ে বসল। তারপর মোবাইলের লক খুলে ঢুকে পড়ল নওশীনের ইনবক্সে।
“খেজুর খাই, খাবে?” মেসেজটার পরেই একটা ছবি পাঠিয়েছে নওশীন।
ছবিতে থাকা ঘরটায় মৃদু হলুদ আলো জ্বলছে। জানালার পর্দার পাশেই একটা বুকশেলফ। তাতে বেশ কিছু বই রাখা। অন্য পাশে থাকা টেবিলের ওপর ল্যাম্পের কিছু অংশ ছবিতে এসেছে। ল্যাম্পের পাশেই একটা ফটো অ্যালবাম রাখা।
অভ্যুদয় জুম করল। ছবিতে কারা আছে, তা দেখার চেষ্টা করল। কিন্তু জুম করতেই ছবিটা ঝাপসা হয়ে গেল। কিছুই বোঝা গেল না।
বিছানায় আধশোয়া হয়ে আছে নওশীন। পায়ের ওপর পা তোলা। হাতে একটা খেজুর, যার কিছুটা অংশ হয়তো একটু আগেই কামড়ে খেয়েছে সে।
অভ্যুদয়ের চোখ আটকে গেল তার হাতের দিকে। জুম করতেই হাতের সামনের দিকে দু-চারটে চুড়ি দেখা গেল। বেগুনি রঙের। কালোর মধ্যে সাদা আর গোলাপি ফুলের একসেট জামা পরা নওশীন।
এত কিছুর মধ্যেও অভ্যুদয়ের চোখ গিয়ে আটকাল ছবিতে থাকা নওশীনের অল্প একটু পায়ের অংশে।
পায়ের ওপর পা তুলে শোয়ায় ডান পায়ের কিছুটা অংশ ছবিতে এসেছে।
জুম করল অভ্যুদয়। নওশীনের পায়ে নুপুর। নুপুর নাকি পায়েল? জানে না সে। আসলে এই মুহূর্তে তার মাথাই ঠিকমতো কাজ করছে না।
নিজের অজান্তেই হাত বাড়িয়ে ছবির ওপর থাকা নুপুরটাকে স্পর্শ করল অভ্যুদয়। এক অদ্ভুত মোহ কাজ করছে তার ভেতর। মনে হচ্ছে, এই ছবিটার দিকে সে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকতে পারবে।
“নাই?” আবারও নওশীনের মেসেজ এসেছে।
নিজেকে আর দমিয়ে রাখতে পারল না অভ্যুদয়। দ্রুত মেসেজ পাঠাল—
“তুমি নুপুর পরো নাকি পায়েল?”
“হোয়াট দ্য ফুচকা!” নওশীনের মেসেজ এল সঙ্গে সঙ্গে।এর কয়েক সেকেন্ড পরেই ছবিটা অদৃশ্য হয়ে গেল অভ্যুদয়ের চোখের সামনে থেকে।
দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল অভ্যুদয়। হতাশা, নাকি অন্য কোনো অনুভূতি—নিজেই বুঝতে পারল না।
“আমি যদি আগেই সেভ করে ফেলি, তাহলে তোমার ডিলিট করে কোনো লাভ হবে?” কথাটা জিজ্ঞেস না করে আর থাকতে পারল না অভ্যুদয়।
মাঝেমধ্যে মনে হয়, নওশীন কী করে, তা সে নিজেও জানে না। ছবি পাঠিয়ে কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই এমনভাবে ডিলিট করে দেয়, যেন ছবি পাঠানোটা জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হয়ে গেছে।
“*********” নওশীন চুপ। শুধু কয়েকটা ইমোজি পাঠিয়েছে।
“সেভ করেছ তুমি?”প্রশ্ন এল নওশীনের কাছ থেকে।
“অনুমতি ছাড়া কারও ছবি সেভ করি না আমি।”
রিপ্লাই পাঠিয়েই বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ল অভ্যুদয়। আফসোস হচ্ছে খুব। মনে হচ্ছে, ছবি দুটো সেভ করে রাখা দরকার ছিল। কেন যে সে সেটা করতে পারে না! নওশীন কি জানত, যদি সে না জানিয়ে ছবিগুলো সেভ করে? জানত না।
তবুও মন চায় না নওশীনের অনুমতি ছাড়া এমন কিছু করতে। মন চায় না নওশীনের কাছে মিথ্যা বলতে।
“সত্যি?”
“স্ক্রিন রেকর্ড করে গ্যালারি আর বিন দেখাবো?”
“না থাক, লাগবে না। তোমার মধ্যে এই কমনসেন্সটা আছে শুনে খুব খুশি হলাম।”
“এবার বলো, পায়েল নাকি নুপুর?”
“নুপুর।”
“সব সময় পরো? নাকি অকেশনালি?”
“সব সময়। আমার নুপুর খুব পছন্দ।”
“আর কী কী পছন্দ তোমার?”
“পিচ্চিটার আজকে পড়া নেই? এই সময়ে এত কথা বলছে যে!”
“তুমি এই সময়ে আসলে কী আর করার?”
“আমি এসে বুঝি পড়া নষ্ট করে দিলাম? আচ্ছা ঠিক আছে। এখন চলে যাচ্ছি। রাতে আসব। এখন পড়ো।”।নওশীনের মেসেজটা দেখতেই শোয়া থেকে লাফিয়ে উঠল অভ্যুদয়।
“ওয়েট।” মেসেজটা পাঠাতেই দ্বিধা ভেসে উঠল তার চেহারায়। আদৌ তার মনের মধ্যে জেগে ওঠা প্রশ্নটা করা উচিত কি না, বুঝতে পারছে না সে। কিন্তু প্রশ্নটা না করেও যে শান্তি পাবে না, সেটা সে জানে।
“কী?”
“তুমি কি...” পুরোটা একসঙ্গে পাঠাতে পারল না অভ্যুদয়। নিজেকে কেমন যেন বেহায়া মনে হলো তার। কিন্তু সবটা না জেনে তার শান্তিও লাগবে না।
“আমি কী?” নওশীনের মেসেজ এল।
“তুমি কী সবার সাথেই এভাবে কথা বলো? সব ছেলেদের সাথেই?” মেসেজটা পাঠিয়েই যেন নিশ্বাস বন্ধ করে রাখল অভ্যুদয়। নওশীনের উত্তর যদি ‘হ্যাঁ’ হয়? তাহলে? সে জানে না কী করবে। তবে একটা কিছু করতেই হবে। তার এই উদ্ভট আচরণ বন্ধ করতে হবে। কেন জানি না, কিন্তু নওশীনের সঙ্গে অন্য কোনো ছেলের এমন ঘনিষ্ঠতা সে মেনে নিতে পারছে না।
“এভাবে মানে? এভাবে মানে কীভাবে?”
“রাগ করো না। এভাবে মানে... ফ্রি মাইন্ডে... আমার সঙ্গে যেমন বলো আর কী। তারপর এভাবে ছবি দেওয়া...” অস্থিরতা দমাতে নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরেছে অভ্যুদয়। এতটাই জোরে যে কিছুক্ষণ পর ঠোঁটে রক্তের নোনতা স্বাদ পেল সে।
“পাগল নাকি তুমি? তোমাকে দিই কারণ তুমি পিচ্চি। তোমাকে আমি বিশ্বাস করি। তাই বলে অন্যদেরও দেব? আর দেবই বা কাকে? তুমি ছাড়া আমি আর কারও সঙ্গে কথাই বলি না।” নিশ্বাস ছাড়ল অভ্যুদয়।
নওশীনের কথাটা যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না।
বারবার মেসেজটার দিকে চোখ বুলাল। সে কি সত্যিই বলল—‘তুমি ছাড়া আর কারও সঙ্গে কথাই বলি না’?
মুহূর্তের মধ্যেই বুকের ভেতর জমে থাকা অস্বস্তিটা যেন একটু একটু করে গলে গেল। অথচ তার জায়গায় অন্যরকম একটা আনন্দ এসে বসেছে।
“লায়ার।” অভ্যুদয়ের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল।
“মিথ্যা বলার কী আছে? তুমি কি আমার বয়ফ্রেন্ড যে মিথ্যা বলব? নাকি তোমাকে আমি পটাতে চাইছি, তাই ইমপ্রেস করতে মিথ্যা বলব?”
“সত্যিটাই বললে?”
“হ্যাঁ ভাই, সত্যিটাই বলেছি। এবার পড়তে যাও।”
“ভাই? আমি তোমার ভাই?”
“তুমি তো আমার ছোট, তাই ছোট...” মেসেজটা পুরোটা পাঠাতে পারল না নওশীন। এর আগেই অভ্যুদয় মেসেজ পাঠিয়ে দিল—
“আমি তোমার কোনো ভাই-টাই না। আমার আম্মা কি তোমার আব্বাকে বিয়ে করছে? নাকি আমার আব্বা তোমার আম্মাকে বিয়ে করছে? এই বালের ভাই-টাই ডাকবা না।” নওশীনের মেসেজ দেখেই মেজাজ বিগড়ে গেছে অভ্যুদয়ের।
ভাই?
তাই বলে ভাই?
যে মেয়েটার একটা মেসেজের জন্য সে এতটা অস্থির হয়ে থাকে, যে মেয়েটার অন্য কারও সঙ্গে কথা বলার সম্ভাবনাতেই তার বুক জ্বলে ওঠে, সেই মেয়েটাই তাকে ভাই বলে ডাকবে? না, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
“মুখে একটু লাগামও নাই তোমার। আচ্ছা, আর ভাই ডাকব না।”
“গুড গার্ল।” একটু থেমে আবার লিখল—
“চাইলে আরেকটা জিনিস ডাকতে পারো।”
“কী?” জানতে চাইল নওশীন।
“ছাইয়া... হি হি হি।”
চলবে...
অভ্যুদয়কে পাঠানো ছবিটার একটা নমুনা কমেন্টে দেওয়া হল।