ফন্ট সাইজ:
থিম:
His Dark Obsession

১ম পর্ব

লেখক: Princess Anna

‎#taekookff

‎#His_Dark_Obsession
‎#princess_Anna
‎#Part_1
‎
‎_____________________ ( DO NOT COPY 🚫 )
‎__________( এটি একটি কাল্পনিক কাহিনী, বাস্তবতার সাথে কোনো মিল নেই। দয়া করে কেউ সিরিয়াসলি ভাবে নিবেন না। )
‎
‎*********
‎
‎
‎“২০ বছর বয়সী মেয়েদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করার মজাই আলাদা। তোমার তো ২০ বছর, তাই না? তাছাড়া একবার বিয়েও হয়েছে, একটা ছেলেও আছে। সো, তুমি আমার বেড পার্টনার হিসেবে একদম পারফেক্ট... তাই না?”—কথাটা বলে Jungkook বাঁকা হাসল।
‎
‎সামনে থাকা ব্যক্তির এমন নির্লজ্জ কথা শুনে Tae রাগে ফেটে পড়ার বদলে কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল।
‎
‎একজন অবিবাহিত ছেলে, তার অতীত সবকিছু জানার পরও তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে দেখতে এসেছে। তার ওপর ছেলেটির বাবা দেশের একজন নামকরা ব্যবসায়ী, আর সে নিজে একজন পুলিশ অফিসার। Tae কিছুতেই বুঝতে পারছিল না—একজন পুলিশের মুখের ভাষা এতটা নিচু কীভাবে হতে পারে!
‎
‎Tae-কে চুপ থাকতে দেখে Jungkook আবার বলল—
‎
‎Jungkook: “কী? ঠিকই তো বললাম, তাই না?”
‎
‎Tae গভীর শ্বাস নিয়ে নিজেকে সামলে বলল—
‎
‎Tae: “দেখুন, মিস্টার Jungkook... আপনি আমাকে এমন বাজে কথা কেন বলছেন, আমি সত্যিই বুঝতে পারছি না। তার ওপর আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে এখানে এসেছেন। কেন?”
‎
‎Jungkook ভ্রু কুঁচকে কিছুক্ষণ Tae-এর দিকে তাকিয়ে থেকে বলল—
‎
‎Jungkook: “মিস... কী যেন নাম আপনার?”
‎
‎কথাটা শুনে Tae-এর মাথায় যেন রক্ত উঠে গেল।
‎
‎Tae মনে মনে:
‎“আরে! আমার নামই জানে না, অথচ আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে দেখতে এসেছে! কী আজব লোক! ইচ্ছা করছে কথাগুলো মুখের ওপর বলে দিই। কিন্তু লোকটা বড় পজিশনের পুলিশ অফিসার। তাই ইচ্ছা থাকলেও এখন কিছু বলা যাবে না।”
‎
‎মুখে জোর করে হাসি ফুটিয়ে Tae বলল—
‎
‎Tae: “আমার নাম Kim Taehyung।”
‎
‎Jungkook: “ও... Kimchi! তা, যা বলছিলাম—”
‎
‎Tae এবার আর বিরক্তি লুকাতে পারল না।
‎
‎Tae: “এক্সকিউজ মি! আমার নাম Tae, Kimchi না।”
‎
‎Jungkook: “সে যাই হোক। শোনো, আমি তোমার মতো একজন মেয়েকে শুধু আমার বেড পার্টনার হিসেবেই চাই। এর বেশি কিছু না।”
‎
‎Tae অবাক হয়ে তাকাল।
‎
‎Tae: “তাহলে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন কেন?”
‎
‎Jungkook ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বলল—
‎
‎Jungkook: “তোমাকে বিয়ে না করলে সমাজের মানুষ তোমাকে অন্য চোখে দেখবে। আর আমার নামও খারাপ হবে। তাছাড়া তোমরা তো খুব একটা স্বচ্ছল নও। তুমি আর তোমার মা হয়তো তোমার ছেলের দায়িত্ব ঠিকমতো নিতে পারবে না। তাই আমি দায়িত্বটা নেব। এতে তোমারও লাভ হবে।”
‎
‎কিছুক্ষণ থেমে Jungkook আবার বলল—
‎
‎Jungkook: “এখন তুমি নিশ্চয়ই ভাবছ, তোমাকেই কেন বিয়ে করতে চাইছি? Actually... I like your body. তোমাকে আমার ভালো লাগে। প্রতিদিন তোমার কাছাকাছি থাকতে চাই। তাই বিয়ে করব।”
‎
‎কথাগুলো শুনে Tae আর নিজেকে সামলে রাখতে পারল না।
‎
‎লোকটার বেয়াদবি এবার সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
‎
‎রাগে পাশে থাকা কাপটা তুলে Tae সরাসরি Jungkook-এর মুখের দিকে ছুড়ে মারল।
‎
‎Tae: “বের হন আমার বাসা থেকে! এখনই! আর কোনোদিন যেন আপনাকে আমার আশেপাশে না দেখি! বের হন!”
‎
‎Jungkook কিছুক্ষণ স্থির চোখে Tae-এর দিকে তাকিয়ে রইল। তার চোখে তখন প্রচণ্ড রাগ।
‎
‎কিন্তু সে কোনো কথা বলল না।
‎
‎শুধু গম্ভীর দৃষ্টিতে Tae-এর দিকে শেষবার তাকিয়ে নিজের গার্ডদের নিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে গেল।
‎
‎Jungkook চলে যাওয়ার পরও Tae-এর রাগ একটুও কমল না।
‎
‎Tae মনে মনে:
‎“কী ভেবেছে নিজেকে ওই লোকটা? আমি আমার ছেলেকে লালন-পালন করতে পারব না? অবশ্যই পারব! আমার ছেলে আমার পরিচয়েই বড় হবে। ওর দয়া আমার প্রয়োজন নেই। আমাকে কি পতিতা মনে করে? একবার বিয়ে হয়েছে বলেই যা ইচ্ছা তাই বলবে? আসলে মায়ের কথা শুনে ওই লোকটাকে বাসায় আসতে দেওয়াটাই আমার সবচেয়ে বড় ভুল।”
‎
‎হঠাৎ Jisoo-এর ডাকে Tae-এর ভাবনায় ছেদ পড়ল।
‎
‎Jisoo: “কিরে? ছেলেটা এভাবে চলে গেল কেন? কিছু কি উল্টাপাল্টা বলেছিস ওকে?”
‎
‎Tae: “আমি কোনো উল্টাপাল্টা কথা বলিনি মা। ওই লোকটাই আমাকে কত বাজে বাজে কথা বলেছে, তুমি জানো? তোমাকে আমি আগেই বলেছিলাম—আমি এভাবেই থাকতে পারব। আমার ছেলেকে আমি একাই মানুষ করতে পারব। আমার কাউকে প্রয়োজন নেই।”
‎
‎Tae-এর কথা শুনে Jisoo করুণ চোখে মেয়ের দিকে তাকালেন। ধীরে ধীরে তার পাশে বসে কাঁধে হাত রাখলেন।
‎
‎নরম গলায় বললেন—
‎
‎Jisoo: “মাফ করে দে মা। আমি আসলে তোকে এত কষ্টে দেখতে পারছিলাম না। তাই যখন ছেলেটা বিয়ের প্রস্তাব দিল, তখন আর মানা করতে পারিনি। আমি ভাবিনি এমন কিছু হবে। আমাকে মাফ করে দে মা।”
‎
‎কথা বলতে বলতে Jisoo-এর চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল।
‎
‎মায়ের চোখের পানি দেখে Tae-এর মনটাও নরম হয়ে গেল। সে মুচকি হেসে মাকে জড়িয়ে ধরল।
‎
‎Tae: “কেঁদো না মা। Kai যা করেছে, তার শাস্তি সে একদিন না একদিন পাবেই। আর দেখো, আমরাও একদিন সুখে থাকব। একবার আমার চাকরিটা হয়ে যাক, দেখবে আমাদের সব কষ্ট ধীরে ধীরে চলে যাবে। তুমি, আমি আর Tehan—আমরা তিনজন একসাথে অনেক ভালো থাকব।”
‎
‎বলেই Tae মায়ের চোখের পানি মুছে দিল।
‎
‎ঠিক তখনই ছোট্ট Tehan দৌড়ে এসে Tae-কে জড়িয়ে ধরল।
‎
‎Tehan: “মা... তুমি আর নানু কেঁদেছো? তোমাদের চোখে পানি কেন?”
‎
‎Tae সঙ্গে সঙ্গে চোখের পানি লুকিয়ে হাসার চেষ্টা করল।
‎
‎Tae: “কই? না তো! আমরা তো হাসছি। এই দেখো!”
‎
‎বলেই Tae আর Jisoo একসাথে হেসে উঠল।
‎
‎তাদের হাসি দেখে ছোট্ট Tehan-ও খিলখিল করে হেসে উঠল।
‎
‎এই ছোট্ট শিশুটাই যেন Tae-এর পুরো পৃথিবী। এত কিছুর পরও বেঁচে থাকার সাহসটা সে শুধু তার ছেলের জন্যই পায়।
‎
‎Tehan-এর কপালে আদর করে চুমু দিয়ে Tae বলল—
‎
‎Tae: “চকলেট খাবি? আয়, নানু! আমি আর তুই একসাথে চকলেট খাবো আর গল্প করব। কেমন?”
‎
‎Tehan: “হুম! চকলেট খাবো... গল্পও করব!”
‎
‎বলেই Tehan খুশিতে নাচতে শুরু করল।
‎
‎সত্যিই, ছেলেটা ভীষণ দুষ্টু। সারাদিন দুষ্টুমি আর নাচানাচি করেই কাটিয়ে দিতে পারে।
‎
‎আর এই দুষ্টু ছেলেটাকেই ঘিরেই তো Tae-এর পুরো পৃথিবী। এভাবেই হাসি-আনন্দে কেটে গেল দিনটা।
‎
‎কিন্তু রাত নামতেই যেন সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা কষ্টগুলো আবার ফিরে এলো।
‎
‎Tehan ঘুমিয়ে পড়ার পর বিছানায় চুপচাপ বসে রইল Tae। অন্ধকার ঘরের নীরবতায় বারবার Kai-এর কথা মনে পড়তে লাগল।
‎তারপর মনে পড়ল আজকের সেই লোকটার কথাগুলোও।
‎
‎Tae মনে মনে:
‎“আসলেই কি এসব আমার জীবনে হওয়ার কথা ছিল? Kai আর আমি তো ভালোই ছিলাম। তাহলে এমন কেন হলো? কেন সে আমাকে ছেড়ে চলে গেল? কেন?”
‎
‎একসময় চোখের কোণে জমে থাকা পানি গড়িয়ে পড়ল। সেভাবেই কষ্ট আর অশান্তির মধ্যে রাতটা কেটে গেল Tae-এর।
‎
‎---
‎
‎পরদিন সকাল।
‎
‎ঘুম থেকে উঠেই Tae দ্রুত তৈরি হয়ে নিল। আজ তার চাকরির ইন্টারভিউ। Tehan তখনও ঘুমিয়ে।Tae ধীরে ধীরে ছেলের কাছে গিয়ে তার কপালে স্নেহভরা একটি চুমু দিল। এরপর মাকে জড়িয়ে ধরে বিদায় নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ল।
‎
‎...
‎
‎ফুটপাতে দাঁড়িয়ে রিকশার অপেক্ষা করছিল Tae।
‎
‎কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেও একটি রিকশা পেল না। সময়ও দ্রুত চলে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে তাই হেঁটেই রওনা দিল সে।
‎
‎কিছুদূর যেতেই হঠাৎ একটি কালো গাড়ি এসে তার সামনে থেমে গেল। Tae কিছু বুঝে ওঠার আগেই গাড়ি থেকে কয়েকজন লোক নেমে তাকে জোর করে গাড়ির ভেতরে তুলে নিল।
‎
‎Tae: “এই! আপনারা কী করছেন? আমাকে ছাড়ুন!”
‎
‎কিন্তু তার কথা শেষ হওয়ার আগেই লোকগুলো তার হাত-পা ও চোখ কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলল।
‎
‎চোখ বাঁধা অবস্থায় Tae শুধু আতঙ্কিত হয়ে বুঝতে পারল—গাড়ির ভেতরে আরও একজন রয়েছে।
‎
‎চোখের বাঁধনের ফাঁক দিয়ে অস্পষ্টভাবে তাকিয়ে সে দেখল—
‎
‎সামনের সিটে Jungkook এক হাতে জুসের বোতল ধরে শান্তভাবে জুস খাচ্ছে, আর অন্য হাতে ফোনে কিছু একটা দেখছে।
‎
‎Tae-এর বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।
‎
‎Tae মনে মনে:
‎“এই লোকটা আবার এখানে কেন?”
‎
‎Jungkook ধীরে ধীরে ফোন থেকে চোখ তুলে Tae-এর দিকে তাকাল।
‎
‎তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল সেই পরিচিত বাঁকা হাসি। তারপর গাড়ির দরজা বন্ধ হয়ে গেল। গাড়িটি দ্রুতগতিতে অজানা গন্তব্যের দিকে ছুটে চলল।
‎
‎#চলবে....
‎#taekook
‎#yoonmin
‎

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন