#taekookff
#His_Dark_Obsession
#princess_Anna
#Part_2
_____________________ ( DO NOT COPY 🚫 )
__________( এটি একটি কাল্পনিক কাহিনী, বাস্তবতার সাথে কোনো মিল নেই। দয়া করে কেউ সিরিয়াসলি ভাবে নিবেন না। )
*********
হুট করেই কয়েকজন লোক এসে Tae-এর হাত-পা ও চোখ শক্ত করে বেঁধে ফেলল। Tae প্রাণপণে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছিল, কিন্তু কোনোভাবেই পারছিল না।
হঠাৎ কেউ একজন Tae-এর বাহু শক্ত করে চেপে ধরল। এতটাই কাছে যে তার উষ্ণ নিশ্বাস Tae-এর মুখে এসে লাগছিল।
Tae বুঝতে পারল—লোকটা তার খুব কাছেই দাঁড়িয়ে আছে। মনে হলো, হয়তো এটা Jungkook...
Tae কাঁপা গলায় বলল,
Tae : "Jungkook... এটা কি আপনি?"
Tae-এর কথা শুনে লোকটা মৃদু হেসে উঠল। তারপর নেশা ধরানো কণ্ঠে বলল,
Jungkook : "বাহ! তুমি তো দেখি বেশ স্মার্ট। মাত্র একদিনের পরিচয়েই আমাকে চিনে ফেললে?"
Tae : "দেখুন, বাজে কথা বন্ধ করুন। একজন পুলিশ হয়ে এমন কাজ করতে আপনার একটুও লজ্জা করে না?"
Jungkook-এর ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটে উঠল।
Jungkook : "কই? এখনো তো কিছুই করিনি। তবে চাইলে..."
Tae বিরক্তি আর ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নিল।
Tae : "ছিঃ! আপনি একটা নির্লজ্জ, বেহায়া মানুষ। সেটা আপনি জানেন?"
Jungkook : "আলবাত জানি।"
কিছুক্ষণ চুপ থেকে Jungkook আবার বলল,
Jungkook : "একটা কথা বলো তো... তোমার স্বামী তোমাকে ছেড়ে চলে গেল কেন? এত সুন্দর একটা মানুষকে কেউ কীভাবে ছেড়ে যেতে পারে?"
Tae কোনো উত্তর দিল না। Jungkook-এর কণ্ঠ আরও নিচু হয়ে এল।
Jungkook : "তবে ভালোই হয়েছে। ও চলে গেছে বলেই তো তোমার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে।"
Jungkook-এর কথাগুলো শুনে Tae-এর শরীর ঘৃণায় শিউরে উঠল। প্রচণ্ড রাগ হচ্ছিল তার। কিন্তু সে জানত, এখন Jungkook-কে যতই কিছু বলুক, সে থামবে না। বরং আরও ভয়ংকর কথা বলবে।
তাই নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করে Tae বলল,
Tae : "Jungkook, প্লিজ... আমার বাঁধনগুলো খুলে দিন। আমাকে যেতে দিন। আমার ছেলে আমার জন্য অপেক্ষা করছে। প্লিজ..."
এবার Jungkook কিছু বলল না। ধীরে ধীরে Tae-এর কাছ থেকে সরে যেতে লাগল সে। আর তাতেই Tae-এর ভয় যেন আরও বেড়ে গেল।
Tae : "Jungkook! প্লিজ আমাকে ছেড়ে দিন। আমার ছেলে আমাকে ছাড়া বেশিক্ষণ থাকতে পারে না। প্লিজ... আমাকে যেতে দিন!"
Tae বারবার অনুরোধ করেও কোনো লাভ হলো না। প্রতিবারের মতো এবারও সে ব্যর্থ। হঠাৎ Tae অনুভব করল, গাড়িটা থেমে গেছে। পরক্ষণেই মনে হলো—সে যেন মাটি থেকে উঠে গেছে। কেউ তাকে কোলে তুলে নিয়েছে।
Tae নড়াচড়া করার চেষ্টা করতেই কেউ তার মুখের কাছে একটি কাপড় ধরল। মুহূর্তের মধ্যেই তার শরীর দুর্বল হয়ে আসতে লাগল।
হাত-পা নাড়ানোর শক্তিটুকুও যেন হারিয়ে গেল। কথা বলার ক্ষমতাও ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে এলো।
কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই চোখের পাতায় ভারী ঘুম নেমে এলো। তারপর সবকিছু অন্ধকার।
---
কতক্ষণ পর জ্ঞান ফিরেছে, Tae জানে না। চোখ মেলতেই নিজের ঘর দেখতে পেল সে।
কিছুক্ষণ স্থির হয়ে চারপাশে তাকানোর পর পাশেই বসে থাকা ছোট্ট ছেলেটাকে দেখতে পেল, Tehan-এর চোখে পানি।
ছেলেটাকে দেখেই Tae-এর বুকটা হালকা হয়ে গেল।
"আমার ছেলে আমার সঙ্গে আছে..."
এই একটা চিন্তাই যেন তাকে অদ্ভুত এক শান্তি দিল। কিন্তু পরক্ষণেই মাথায় প্রশ্নটা ফিরে এলো—
"আমি এখানে কীভাবে এলাম?"
Jungkook তাকে কোথায় নিয়ে গিয়েছিল?
আর তাকে আবার এখানে ফিরিয়ে আনল কে?
Tae কিছু ভাবার আগেই Tehan তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। কাঁদতে কাঁদতে বলল,
Tehan : "কোথায় গিয়েছিলে মা? জানো, আমি কত কান্না করেছি? এভাবে আর কোথাও যাবে না, কেমন? নাহলে কিন্তু তোমার সঙ্গে কথা বলব না!"
Tae ছেলেকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।চোখের কোণে পানি জমে গেল তার।
Tae : "আর কখনো যাব না মা তোকে রেখে।"
কিছুক্ষণ মা-ছেলে এভাবেই একে অপরকে জড়িয়ে রইল।
একসময় Tae খেয়াল করল, Tehan তার বুকের ওপর মাথা রেখেই ঘুমিয়ে পড়েছে। Tae ধীরে ধীরে তাকে পাশে শুইয়ে দিল।
ঠিক তখনই দরজার দিকে চোখ পড়তেই দেখল—Jisoo দাঁড়িয়ে আছেন। Tae ধীরে ধীরে উঠে মায়ের কাছে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরল।
কেন যেন বুকের ভেতর অজানা একটা ভয় কাজ করছে। মাকে হারানোর ভয়। আর নিজের ছোট্ট ছেলেটাকে হারানোর ভয়। আজ কেন যেন চোখের পানি কিছুতেই থামছে না।
হঠাৎ Jisoo অবাক হয়ে বললেন,
Jisoo : "কি হয়েছে Tae? কাঁদছিস কেন?"
Tae মায়ের কাছ থেকে একটু সরে এসে চোখের পানি মুছে বলল,
Tae : "কেন জানি না মা... আজ খুব কষ্ট লাগছে। তাই কান্নাটা আটকাতে পারলাম না।"
Jisoo কিছুক্ষণ মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। মায়ের চোখ এড়িয়ে যাওয়া কঠিন। গম্ভীর কণ্ঠে তিনি জিজ্ঞেস করলেন,
Jisoo : "সত্যি করে বল তো Tae, তোর কী হয়েছে? সন্ধ্যার দিকে কয়েকজন লোক তোকে বাসায় দিয়ে গেছে। তারা বলল, তুই নাকি রাস্তায় মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলি।"
Tae চুপ করে রইল। হঠাৎ ঘড়ির দিকে চোখ যেতেই তার বুক ধক করে উঠল। রাত প্রায় বারোটা। সকালে সে বাসা থেকে বের হয়েছিল।আর এখন রাত। এর মাঝখানে কী ঘটেছে, তার কিছুই মনে নেই। তাহলে কি Jungkook-এর সঙ্গে সত্যিই...
Tae সঙ্গে সঙ্গে নিজের চিন্তা থামিয়ে দিল।
Tae মনে মনে— "না... না! আমি এসব কী ভাবছি? কিন্তু... যদি সত্যিই কিছু হয়ে থাকে?"
তার ভাবনায় ছেদ ঘটিয়ে Jisoo আবার বললেন,
Jisoo : "Tae, সত্যি করে বল। কোথায় ছিলি তুই? তোর সঙ্গে কি কোনো খারাপ কিছু হয়েছে?"
Tae কিছুক্ষণ মায়ের দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর জোর করে একটা স্বাভাবিক হাসি এনে বলল,
Tae : "আসলে মা... আজ অনেকগুলো চাকরির ইন্টারভিউ দিয়েছি। তাই মাথার ওপর অনেক চাপ ছিল। হয়তো সেজন্যই মাথা ঘুরে রাস্তায় পড়ে গিয়েছিলাম।"
Jisoo-এর মুখ দেখে বোঝা গেল, তিনি পুরোপুরি বিশ্বাস করেননি। তবুও আর কিছু জিজ্ঞেস করলেন না। চুপচাপ ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।
---
রাত প্রায় একটা।
বারান্দায় একা দাঁড়িয়ে ছিল Tae। বারবার চেষ্টা করেও আজকের দিনের কোনো ঘটনাই মনে করতে পারছে না। শুধু Jungkook-এর কণ্ঠটা বারবার কানে বাজছে।
হঠাৎ কেউ তার হাত ধরে এক টানে তাকে ঘুরিয়ে দিল। Tae চমকে সামনে তাকাল।
Jungkook!
অন্ধকারে তার চোখে অদ্ভুত এক দৃষ্টি। ঠোঁটের কোণে সেই পরিচিত বাঁকা হাসি। Tae কিছু বলার আগেই Jungkook তার খুব কাছে এসে নিচু গলায় বলল,
Jungkook : "আজকের দিনটা কিন্তু বেশ সুন্দর ছিল, Kimchi!"
কথাটা শুনেই Tae-এর বুক কেঁপে উঠল।
Jungkook-এর কথার মানে কী?
তাহলে কি সে যা ভাবছে... সেটাই সত্যি?
চোখের কোণে পানি জমে উঠল Tae-এর।
কিন্তু সে চোখের পানি পড়তে দিল না।
কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর Tae Jungkook-কে নিজের কাছ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করল।
কিন্তু Jungkook-এর শক্তির সঙ্গে সে পেরে উঠল না।
শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে Tae Jungkook-এর হাতে জোরে কামড় বসিয়ে দিল।
Jungkook— "আহ!"
সুযোগ বুঝে Tae দ্রুত ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করল।
কিন্তু Jungkook মুহূর্তের মধ্যেই তাকে থামিয়ে দিল।
তারপর বাঁকা হেসে বলল,
Jungkook : "থ্যাংকস ফর দ্য লাভ bite, বেব। আই জাস্ট লাভ ইট।"
Tae আতঙ্কিত চোখে Jungkook-এর দিকে তাকিয়ে রইল। আজকের দিনের হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিগুলো যেন আরও ভয়ংকর হয়ে উঠতে শুরু করল তার কাছে।
#চলবে ....
#taekook
#yoonmin