পরিচয়
প্রায় এক যুগ আগের কথা।
সময়টা এমন ছিল, যখন আধুনিকতার ছোঁয়া এলেও সবকিছু আজকের মতো এতটা সহজলভ্য হয়ে ওঠেনি। মুঠোফোন ছিল, কিন্তু সারাক্ষণ হাতে নিয়ে থাকার অভ্যাস ছিল না। মানুষের অবসর কাটত পরিবারের সঙ্গে, আর সম্পর্কগুলোও যেন একটু বেশি আপন ছিল।
সেই সময়েই এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে উঠছিল আদিবা সুলতানা আরফিন রহমান। বয়স সবে সতেরো। কিছুদিন আগেই তার এসএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। এখন সামনে নতুন পড়াশোনা আর নতুন স্বপ্নের অপেক্ষা।
আদিবার বাবা কামাল রহমান একজন ছোট ব্যবসায়ী। মা শায়লা বেগম, সংসার সামলান। তাদের দুই সন্তান—আদিবা ও তার ছোট ভাই আদিল। আদিল ক্লাস সেভেনে পড়ে। দুজনের আর কোনো ভাই-বোন নেই।
অন্যদিকে ছিল চৌধুরী পরিবার।
পরিবারের কর্তা রাশেদ চৌধুরী, একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। স্ত্রী মাহিরা চৌধুরী। তাদের তিন সন্তান—একমাত্র ছেলে জারিফ রহমান ইহান চৌধুরী এবং দুই মেয়ে জারিন চৌধুরী ও জারা চৌধুরী।
জারিফ দীর্ঘদিন বিদেশে পড়াশোনা করেছে। পড়াশোনা শেষ করে কিছুদিন আগেই দেশে ফিরেছে।
তার দুই বোন জারিন ও জারা—দুজনেরই বিয়ে হয়ে গেছে। বড় বোন জারিনের একটি ছোট ছেলে আছে, নাম আরহাম। ছোট্ট আরহাম তার মামা জারিফের ভীষণ আদরের।
দুটি পরিবার। জীবনযাপন সম্পূর্ণ আলাদা।
একদিকে সদ্য এসএসসি শেষ করা সতেরো বছরের আদিবা, অন্যদিকে বিদেশ থেকে পড়াশোনা শেষ করে ফিরে আসা জারিফ।
তখনও তারা কেউ জানত না—তাদের অজান্তেই ভাগ্য তাদের দুজনের গল্পের প্রথম পাতাটি লিখে ফেলেছে।