ফন্ট সাইজ:
থিম:
সে ছিলো অন্যরকম

৯ম পর্ব

লেখক: পুষ্পিতা মেহরীন তিশা

#সে_ছিলো_অন্যরকম

#পুষ্পিতা_মেহরীন_তিশা

#পর্ব- ৯

"হেই মিস লারা, আপনাকে কি দিয়েছে শয়তানে লাড়া? হুয়াই ইউ করতে চায়িং রিজাইন ফর্ম আমাদের কোম্পানি?"

লারা রুদ্রর ডেস্কের সামনে থাকা চেয়ারটাতে বসতে বসতে বলল,,

"রিজাইন করতে চাইবো না তো কি করবো বল? ওই শালা রাহাদ আমার জীবনটা জ্বালিয়ে খেয়ে দিলো।"

"জীবন কোনো লাকড়ি নাকি যে, সেটাকে জ্বালিয়ে খেয়ে দিবে? জীবন হলো সোফাসেট যেটাতে বসে আরামছে চা খাওয়া যাবে।"

হুইলচেয়ারে নিজের মাথাটা এলিয়ে দিতে দিতে ধীর কন্ঠে কথাটা বলল রুদ্র। লারা তাকে নাক সিটকে উত্তর দিলো।

"দূরে গিয়ে মুড়ি খা শালা।"

"হাটট, কি তখন থেকে তুই-তুকারি আর শালা, শালা করছিস? বস হই আমি তোর সম্মান দিয়ে কথা বল মহিলা।"

"দাঁড়া, দিচ্ছি তোর সম্মান।"

লারা নিজের চেয়ার থেকে উঠে রুদ্র সামনে গিয়ে দাড়ালো। রুদ্র তখনো, মাথা এলিয়ে রেখেছিলো, লারাকে দেখে সে মাথা তুলে, পরপর দু'বার ভ্রু নাচালো। আর ওমনি লারা কোনো আগাম বার্তা না দিয়ে, টুপ করে রুদ্রর ডান গালে একটা চুমু খেয়ে বসলো।

"এই নে তোর সম্মান। সম্মানের একেবারে ৫নং আসনে বসিয়ে দিলাম তোকে।"

লারা চুমু দেওয়া মাত্রই রুদ্রই লাফিয়ে উঠে পকেট থেকে টিস্যু বের করে নিলো। ডান চোয়ালটা টিস্যু দিয়ে ভালোভাবে ঘষতে ঘষতে লারার উদ্দেশ্য বলল,,

"চ্যাহঃ কি করলি এটা? চাইলাম সম্মান দিলি চুমু? সকাল সকাল অপবিত্র করে দিলি আমায়। চরিত্রে কালি মেরে দিলি শালি।"

রুদ্রর কথায় লারা হেঁসে দিলো। রুদ্র চেয়ার ছেড়ে উঠতে উঠতে আবার বলল, "যাহ! সামনে থেকে সর মহিলা।"

এমন সময় তার কেবিনে টোকা পড়লো, একজন এমপ্লয়ি বলল,,

"স্যার! আসবো?"

"হ্যাঁ, এসো!"

"স্যার! কনফারেন্স রুমে সবাই অপেক্ষা করছে। মিটিং এর আর মাত্র ৫মিনিট সময় বাকি আছে।"

"লারা! ফাইল গুলো নিয়ে জলদি আমার সাথে আয়।" কেবিন থেকে বের হতে হতে বলল রুদ্র।

"আমি কেন? আমি তো রিজাইন কর..!"

লারার কথা শেষ করার আগেই রুদ্র দাঁড়িয়ে গেলো। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,,

"তোর রিজাইনের কাঠে ইংলিশ। জলদি ডকুমেন্টস গুলো নিয়ে আমার সাথে আয় মহিলা।"

-

সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়েছে। হিয়া ড্রয়িং রুমে সোফায় হাত ছড়িয়ে বসে বসে পুডিং খাচ্ছে আর টিভিতে কার্টুন দেখছে "ঠাকুমার ঝুলি"। তার ঠিক পাশেই সোফার ওপর হা ঠেকিয়ে তাতাে মাথা রেখে বসে আছে ছকিনা খালা। মাঝে মাঝে ঘুমের কারণে, হাত সরিয়ে পড়ে যাচ্ছেন তিনি।

" ও খালা! এভাবে ঝিমাচ্ছ কেন? রাতে কি ঘুমাওনি? চুরি করতে গেছিলে নাকি?"

"চুরি করতে যাবো ক্যান মাইয়া। কইল রাইতে তোর খালু, খুব দেরী কইরা বাড়ি আইছিলো বুঝলি। তহন, হয়তো রাইত দুই আড়াইটা হবে, লোকটা ম*দ খাইয়া আইছে। আইসা, আমার লগে তুলকালাম বাঁধাই দিছে। গায়ে হাতও তুলছে। তারওপর আমার শরীরটা আবার ভালো আছিলো না, সবকিছু মিললা কাইল রাইতে আর শুইতে পারি নাই রে। এর লাইগা এহন, ঘুম আইতাছে।"

কথাগুলো বলার সময় ছকিনা খালার চোখে পানি টলমল করছিলো। তিনি চোখের পানি মুছে আবার বললেন,

"রাস্তাঘাটে এতো মানুষ মরে, ওনার যে ক্যান মরন হয়না বুঝি না। হেতি মরলে একটু শান্তি পাইতাম আমি।"

ছকিনা খালার কথাগুলো শুনে কেন জানি হিয়ারও খুব মন খারাপ হলো। সে ছকিনা খালার মাথায় হাত রেখে শান্ত স্বরে বলল,,

"খালা তুমি বরং বাসায় চলে যাও। গিয়ে শান্তিতে একটু ঘুমাও। আজকে তোমাকে আর থাকতে হবে না।"

"ও কি কস মাইয়া। নীল বাবাজি বাসায় নাই আমিও চইলে গেলে তুই একা একা কেমনে থাকবি? ডর করবে না তোর?"

"আমার কিচ্ছু হবে না গো খালা। আমি পারবো থাকতে। সমস্যা নাই। তুমি যাও।"

ছকিনা খালা যেতে না চাইলেও, অবশেষে হিয়ার জোরাজুরিতে সে বাসায় চলে গেলো। এখন হিয়া পুরা বাসায় একা। যদিও সে বলেছিলো, তার ভয় লাগবে না। কিন্তু সত্যি তো এটাই, হিয়া এখন ভয় পাচ্ছে।

হিয়া একবার ব্যাকলিতে যাচ্ছে তো একবার রুমে। একবার কিচেনে গিয়ে কিছু চড়াচ্ছে তোর আবার টিভিঅন করে ডান্স করছে। কিন্তু, এতো কিছুর মাঝেও তার বিরক্ত লাগছে। বারবার মনে হচ্ছে, কে জানি চুরি নিয়ে এসে তার গলাটা কেটে দিবে। ফ্রিজ খুললেই তো কারো কাটা হাত তার সামনে এসে পড়বে। বেডের নিচে থেকে হয়তো কোনো কাটা হাত এসে তার পা টা খপ করে চেপে ধরবে।

নাহ! এতো টেনশন আর নেওয়া যাচ্ছে না। তারথেকে ভালো হিয়া বাইরে থেকে ঘুরে আসুক। যদিও তার বাসা থেকে বের হওয়ার কড়া নিষেধ আছে। কিন্তু এই মুহুর্তে তার প্রাণটাই আগে। কি এমন হবে যদি সে একটু বাইরে যায়।

-

মিটিং শেষ করে কিছুসময় আগেই রুদ্র এসে বসেছে তার কেবিনে। সেখানে রাহাদ, লারা সহ তার আরও কয়েকজন স্টাফ রয়েছে। নিজেদের মাঝে কিছু একটা আলোচনা করছে তারা। এমন সময় একজন লোক এসে বলল,,

"স্যার! বাইরে একজন ডেলিভারি ম্যান এসেছে। বলছে আপনার নামে নাকি কোনো পার্সেল আছে।"

লোকটার কথায় রুদ্র ভ্রু কুচকে তাকালো। সন্দীহান ভাবে বলল,,

"পার্সেল? আমার নামে? কিন্তু আমি তো কোনো অর্ডার দেয়নি!"

রাহাদ : "তাহলে কি ভুল ঠিকনায় আসলো?"

লোকটা আমতা আমতা করে বলল, স্যা..র!"

রুদ্র বুঝতে পারলো তার কথায় হয়তো লোকটা ইতস্তত বোধ করছে। আসলেই তো রুদ্র কিছু অর্ডার করেছে নাকি করেনি, সেটা তার স্টাফ কিভাবে বলবে?

রুদ্র : "আচ্ছা ঠিক আছে তুমি লোকটাকে ভেতরে আসতে বলো।" এরপর বাকিদের উদ্দেশ্য বলল,,

"আচ্ছা তোরা এখন যা। এটা নিয়ে পরে কথা হবে।"

লারা : নো ওয়ে! আগে তোর পার্সেল দেখবো তারপর যাবো। হুহ!"

রুদ্র : আরে ভাই! আমি কোনো পার্সেল অর্ডার দিলে তো দেখবি?"

তাদের এসব কথার মাঝেই সেখানে, ডেলিভারি ম্যান হাজির হলো। মাথাটা হালকা ঝুঁকে সম্মানার্থে বলল,

"হ্যালো স্যার! হ্যালো ম্যাম!"

ডেস্কের ওপরে প্যাকেট টা রেখে পুনরায় বলল,,

"স্যার! এই যে আপনার প্রোডাক্ট। পুরা ৩৬টা মালই আছে। আপনি ৩৬টা কালার চেয়েছিলেন, কিন্তু আমরা ৩০রকমের কালার দিতে পেরেছি। অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি বাকি ৬টা কালার আমি কালেক্ট করতে পারি নাই।"

রুদ্র : এই এক মিনিট! এক মিনিট! কি তখন থেকে ৩৬ টা মাল ৩৬টা কালার করে যাচ্ছেন। আমি তো কোনো অর্ডারই দেয়নি ভাই।"

ডেলিভারি ম্যানের হাসি-খুশি মুখটা যেন রুদ্রর এক কথায়ই চুপসে গেলো। সে মুখটা একটু স্যাড করে বলল,

"কি বলছেন স্যার! আপনি অর্ডার দেন নাই?"

"আরে না ভাই! আপনাদের হয়তো কোথাও ভুল হচ্ছে।"

"আপনি রুদ্রনীল চৌধুরী তো? চৌধুরী গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রি এর ডিরেক্টর?"

"জ্বি!"

ডেলিভারি ম্যান এবার পূর্ণ আত্নবিশ্বাস নিয়া বলল,, "আমার কোনো ভুল হচ্ছে না স্যার। অর্ডারটি আপনিই কনফার্ম করেছেন। দেখুন..!"

লোকটা রুদ্রকে তাদের রেজিস্ট্রি খাতা আর অর্ডার কনফার্মের চ্যাট লিস্ট দেখায়। যেটা প্রমাণ করে অর্ডারটা সে-ই করেছে। অগত্যা কোনো উপায় না পেয়ে রুদ্র রেজিস্ট্রারে সাইন করে, প্রোডাক্ট গুলো নিয়ে নেই। যদিও এখনো সে জানে না, ভেতরে আসলে কি আছে।

কিন্তু, কাহিনী এখানেই শেষ হলো না, লোকটা তবুও সেখানে দাড়িয়ে থাকতে দেখে রুদ্রর মেজাজ যেন তুঙ্গে উঠে গেলো। একে তো তাকে দিয়ে জোর করে পণ্য নেওয়ালো, তারপর এখানে এখনো দাড়িয়ে আছে। সে একটু রাগী গলায় বলল,,

"এখনো এখানে দাড়িয়ে আছেন কেন? কি চাই? আরও কোনো অর্ডার করেছি নাকি আমি? করলে সেটাও বলুন, সাইন করে টাকার পুঙ্গায় আগুন লাগাই।"

লোকটা হয়তো কিছুটা লজ্জা পেলো। কিন্তু চাকরি তো চাকরিই। তাই সে নম্র হয়ে বলল,,

"স্যার! জিনিসগুলো যদি একটু খুলে দেখতেন এখনই। মানে যদি কোনো সমস্যা হয় বা সাইজে না হয়, তাহলে আমাকে সেটা চেঞ্জ করে দিতে হবে তো। তাই বলছিলাম আরকি।"

"আবে শালা....!"

রুদ্র রেগে যাচ্ছে বুঝতে পেরে, পাশ থেকে লারা বলল,,

"আচ্ছা! আচ্ছা! তুই এতো হাইপার হোসনা। আমি দেখছি ভেতরে কি আছে।"

রাহাদ : মনে হয় কোনো কাপড় আছে। বেডা আমাগো দিতে চায় না বলে রংতামাশা লাগাই দিছে।"

লারা প্যাকেট টা খুলে, ভেতর থেকে একটা প্রোডাক্ট বের করলো। প্রথমে সে স্বাভাবিক ভাবে বের করলেও, জিনিসটা দেখার পর তার চোখ-মুখ কুঁচকে গেলো। কোনো রকমে হাতের দু'আঙুল দিয়ে সে জিনিসটার দুই প্রান্ত ধরে, নাক কুচকে বলল,,

"রুদ্রর বাচ্চা এটা কি....?"

রুদ্র আর রাহাদ এক সাথে তাকালো। নাক কুচকে একসাথে বলে উঠলো,,, "জাঙ্গিয়া...!"

লারা : ছ্যাঃ এসব কি রুদ্র। অফিসে এসব!" বলেই সে হাত থেকে লাল রঙের জাঙ্গিয়া টা ফেলে দিলো ডেস্কের ওপর।

রুদ্রর রাগে হাত মুষ্টি বন্ধ হয়ে আসছে। চোখগুলো অলরেডি লাল হয়ে গেছে। সে কোনো রকমে দাঁতে দাঁত চেপে আছে।

ভেলিভারি ম্যান : স্যার এবার যদি আপনি সাইজ টা..."

লেকটার কথা শেষ হওয়ার আগেই, রুদ্র তার দিকে তেড়ে গিয়ে, রাগী কন্ঠে বলল,,

"ওরে চদুর বান্ডেল। বলিস তো এখন প্যান্ট খুলে জাঙ্গিয়া পড়ে তোকে সাইজ দেখাই। দেখবি আয়।"

পাশ থেকে রাহাদ বলে উঠলো, "ভাই তুমি এখন বাঁচতে চাইলে ভাগো।"

লোকটা চলে যেতেই লারা রাহাদ অট্টহাসিতে ফেঁসে পড়লো। রাহাদ বললো,

"৩৬টা? তাও আবার ৩৬কালার। এতো গুলো একসাথে কি করবি ভাই। চাস তো আমাকে কয়টা দান করিস।"

দরজার বাইরে থেকে কিছু এমপ্লয়ি একসাথে বলে উঠলো,, "আমাদের ও কিছু ভিক্ষা দিবেন স্যার!"

রাগে রুদ্রর কপালে একাধিক ভাজ পড়লো। এতো বড়ো অপমান সে এর আগে কখনো ফিল করেনি। মান সম্মান সব শেষ করে দিলো মেয়েটা। সে দাঁত চেপে বল,,

"হিয়ার বাচ্চাাাাাা....!"

#চলবে~

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৯ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন