#সে_ছিলো_অন্যরকম🥀
#পুষ্পিতা_মেহরীন_তিশা
#পর্ব- ১৭
হিয়া হাস্যউজ্জ্বল চোখে তাকালো ছেলেটার দিকে। তার চোখে ফুটে উঠলো, একচিলতে স্বস্তি আর অদ্ভুত প্রশান্তি। সে মুচকি হেঁসে বলল,
"আহনাফ ভাই!"
আহনাফ! যে এই ভার্সিটির অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। নিজের মেধা এবং সৌন্দর্যের জন্য ভার্সিটেতে তার একটা আলাদাই কদর। এখানে প্রায় অনেক মেয়েই তার ওপর ক্রাশড। আহনাফের গায়ের রংটা একেবারে উজ্জ্বল ফর্সা। মুখে হালকা চাপ দাঁড়ি। জোড়া ভ্র'টা বেশ চওড়া। যেটা সে এই মুহূর্তে কুঁচকে রেখে তাকিয়ে আছে সামনের ছেলে গুলোর দিকে। হঠাৎ হিয়ার ডাকে ঘাড় ঘোরালো সে। শান্ত স্বরে জিজ্ঞেস করলো,,
"তুমি ঠিক আছো তো হিয়া? তোমার কোথাও লাগেনি তো?"
"আমি একদম ঠিক আছি আহনাফ ভাই!"
আহনাফ হালকা হেঁসে চোখ ফেরালো হিয়ার থেকে। মুখটা কঠিন করে ছেলেগুলো কে উদ্দেশ্য করে বলল,,
"কি করছিলি এখানে? নতুন কাউকে দেখলেই টিজ করতে মন চায় তাই না? দাঁড়া আজই তোদের একটা ব্যবস্থা করবো। আমি এখনই কল করছি প্রক্টর অফিসে।"
আহনাফ পকেট থেকে ফোন করে কল করতে নিলো। তখনই ছেলেগুলো কাতর স্বরে ক্ষমা চাইতে শুরু করলো। "তারা এমন কাজ আর করবে তো অবশ্যই তবে এই মেয়ের সাথে আর কখনো অসভ্যতামি করবে না।" আহনাফ ভ্রু সটান করে বলল,,
"যেটা বললি সেটা মনে থাকবে তো?"
"হ, হ, অবশ্যই ভাই। আমরা বাপ দাদার নাম ভুলে যাবো কিন্তু, এই মেয়ে সরি আপুদের কথা ভুলবো না।"
"আচ্ছা ঠিক আছে যাহ! আজকের মতো ছেড়ে দিলাম। ফারদার যেন আর এদের সাথে অসভ্যতামি করতে না দেখি।"
আহনাফ ছেড়ে দিলো ছেলেগুলোকে। এরপর তারা দ্রুত হেঁটে প্রস্থান করলো সেখান থেকে। আহনাফ হাত ঝাড়া দিয়ে পেছন ফিরতেই, মোমো কপালে ভাজ ফেলে তীক্ষ্ণ কন্ঠে বলল,,
"আপনি ওদের কে ছেড়ে দিলেন কেন ভাইয়া?"
আহনাফ শার্টের হাতা গোটাতে গোটাতে বলল, "তাহলে কি ওদের ধরে রাখার ছিলো?"
"ওরা বলেছে! ওরা হিয়া আর আমাকে বাদে অন্যদের টিজ করবে..."
"হ্যাঁ, তো?" ভ্রু কুঁচকে বলল আহনাফ। তার এমন খাপছাড়া কথায় মোমো যেন অবাক হলো। আহনাফ কিছুটা সময় নিয়ে আবার বলল,,
"দেখো মোমো, এই মারামারি, রেসারেসি আমার একটুও পছন্দ না। আমি ভাই শান্তি প্রিয় একটা মানুষ। ক্ষমা করা আমার জেনেটিক সমস্যা। কারণ, আমি সব সময় ঝামেলাহীনভাবে থাকতে চাই।"
তার কথায় মোমো হতাশ হয়ে ঘাড়টা নিচু করলো। আহনাফ এতো সময়ে খেয়াল করলো, মোমোর পাশে হিয়া নেই। সে মোমোকে জিজ্ঞেস করলো,,
"হিয়া কোথায় মোমো!"
মোমো মাথা তুলে পাশে তাকাতে তাকাতে বলল,,
"এই তো এখানেই তো ছিলো.."
-
হিয়া ধীর পায়ে হেঁটে এসে দাঁড়ালো সেই ছেলেটার সামনে। যাকে কিছুক্ষণ আগেই ওই ছেলেগুলো টিজ করছিলো। ছেলেটা এখনো সেই ঘাসের ওপরেই বসে আছে। কোনো নড়চড় নেই। হিয়া খেয়াল করে দেখলো—
ছেলেটার গায়ে ধূসর রঙের সুতির পাঞ্জাবি—যেটা এখন মাটির ছোপে খানিকটা ধূলো মাখা। চেহারাটা একেবারে পরিষ্কার, ক্লিন শেভ করা ফর্সা মুখটা ঘেমে একাকার। চোখে একটা মোটা ফ্রেমের চশমা—যেটা তাকে দেখতে একরকম বইয়ের পোকা টাইপের বোকাসোকা ছেলের মতো লাগায়।
তাকে দেখে সবাই-ই প্রথমে মনে হতে করবে ছেলেটা সহজ-সরল, একটু হাবাগোবা। কিন্তু ভালো করে তাকালেই বোঝা যায়—চেহারার গভীরে কোথাও একধরনের মায়াবী কোমলতা লুকিয়ে আছে, যা অজান্তেই মন ছুঁয়ে যায়।
হিয়া বেশ অনেকটা সময় নিলো দেখলো ছেলেটাকে। এরপর ডান হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল,,
"উঠে আসুন!"
ছেলেটা মাথা তুলে তাকালো হিয়ার দিকে। শীতল সেই চাহনি, বড়ো বড়ো চোখ দুইটা তার ছোট বাচ্চাদের মতো বিস্ময়ে ভরা। যেন কিছু একটা বুঝতে চেয়েও বুঝতে পারছে না। হিয়া আবারো বলল,,
"কি হলো? হাতটা ধরুন, উঠে আসুন।"
ছেলেটা হিয়ার থেকে চোখ সরিয়ে নিলো। তার সাহায্য না নিয়ে নিজেই মাটিতে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়ালো। হিয়া হালকা হেঁসে হাতটা সরিয়ে নিলো। অসস্তি বোধ করলো মনে হয়।
"আচ্ছা, আপনার নামটা কি জানতে পারি? কোন ইয়ারে পড়েন আপনি?"
হিয়ার এতোগুলো প্রশ্ন শুনে ছেলেটা ঘাবড়ে গেলো। শুষ্ক ঢোক গিলে, কাঁধের ঝোলানো ব্যাগটা চেপে ধরে হাঁটতে শুরু করলো। হিয়া একটু চেঁচিয়ে বলল,,
"আরে মিস্টার আপনার নামটা তো বলে যান। নাম বললে খেয়ে ফেলবো নাকি আপনাকে?"
ততোক্ষণে ছেলেটা বেশ অনেকটা এগিয়ে গেছে। আহনাফ আর মোমো এসে দাঁড়ালো তার পাশে। হিয়া কোমরে হাত রেখে বিরক্তি নিয়ে বলল,,
"আজব মানুষ তো! আমার মতো একটা সুন্দরী মেয়ে এসে সাহায্য করতে চাইলো, অথচ তাকে ইগনোর করে চলে গেলো? সামান্য নাম টুকুও বললো না!"
"নীল!" পাশ থেকে শ্বাস ছেড়ে বলে উঠলো আহনাফ। হিয়া ভ্রু কুচকে বলল,,
"হুহ?"
"বলেছি ছেলেটার নাম নীল।"
"নীল কেন? লাল খয়েরী হলো না কেন?" মুখ চেপে হেঁসে বলল মোমো। অন্যদিকে, তীক্ষ্ণ স্বরে জিজ্ঞেস করলো হিয়া,
"নীল? শুধু নীল? আগে পরে কিছু নেই আহনাফ ভাই?"
"সেটা তো জানি না। ভার্সিটির অনেকে দেখি ওকে, লাল, কালো, গোলাপি, সবুজ, এসব বলে ডাকে। ওদেরকে একদিন আমি জিজ্ঞেস করায় বলেছিলো, তার নাম নাকি নীল তাই তারা ব্যঙ্গ করে এসব বলে।"
একটু থেমে আবার বলল, "কিন্তু, তুমি হঠাৎ ওর নাম জানতে চাইলে? কিছু কি হয়েছে?"
"না কিছু হয়নি! আসলে ছেলেটা কেমন জানি বোকাবোকা। এতোগুলো ছেলে মিলে ওকে র্যাগিং করছিলো আর ও চুপচাপ সেখানে বসে ছিলো। যেন এসব তার খুব অভ্যাস আছে।"
"আছেই তো! ছেলেটা আস্ত একটা বোকা, গ্রামের ক্ষ্যাৎ যাকে বলে। গত তিন বছরে ধরে এই ভার্সিটিতে পড়ে, রোজ ওকে টিজ করা হয়। এমনকি, ওর জুনিয়ররাও ওকে টিজ করে। কিন্তু, ও কিছুই বলে না। উল্টা হাতে পায়ে ধরে মাফ চায়!"
হিয়া আর মোমো দুজনেই অবাক হলো। মুখ হা করে একে-অপরের দিকে তাকালো। একসাথে বলে উঠলো,,
"এইটা কি পোলা, নাকি খালি কাগজের ঠোঙা।"
হিয়া আর মোমোর হাসির রোল পড়লো যেন। আহনাফ ও সঙ্গ দিলো তাতে। হঠাৎ কোথা থেকে সৌরভ আর শরিফ দৌড়ে এলো।
শরিফ : আরে তোরা এখানে? আর আমরা সেই কখন থেকে তোদের খুঁজে চলেছি!"
মোমো : কেন রে? তোদের আবার কোথায় টান পড়ছে যে হন্যে কুত্তার মতো আমাদের খুজতেছিস?"
সৌরভ হেয়ালি করে বলল, "টান আমাদের পড়েনি। টান পড়েছে শরিফুল রাজের। তার লেকচার শোনার জন্য ছাত্রীদের অভাব পড়েছে কিনা। তাই তোদের মতো পেত্নীদের ডাক পড়েছে।"
সৌরভের কথায় হিয়া চোখ বড়ো করে হাতে থাকা ঘড়ির দিকে তাকালো, ৯:২১ বাজে এখন। অথচ, তাদের ফার্স্ট পিরিয়ড শুরু হওয়ার কথা ছিলো ৯:২০তে। হিয়া "ও মাই গশ!" বলে মোমোর হাতটা ধরে লাগালো এক ছুট। উদ্দেশ্য ক্লাসে হাজির হওয়া।
-
পরপর দুইটা ক্লাস করে ক্লাসরুম থেকে বের হিয়া আর মোমো। মাথা ধরে গেছে তাদের লেকচার শুনতে শুনতে। হিয়া শুনেছিলে, ভার্সিটিতে নাকি অনেক সুন্দর আর সুদর্শন লেকচারার থাকে। যাদের দেখতে নাকি মাথা ঘোরে। যাদেরকে দেখার জন্য মন তৃষ্ণার্ত হয়ে থাকে, আর সেই তৃষ্ণার্ত মন ছাত্রীদেরকে রোজ ভার্সিটিতে টেনে আনে।
হিয়া ভেবেছিলো তার সাথেও হয়তো এমন কিছু হবে। সেও, হয়তো কারোর ওপর ক্রাশ খাবে। সেই জন্যই তো হিয়া আজ ১৩দিন পর সে ভার্সিটিতে এসেছে। কিন্তু, কোথায় কি? তার দেখা নজরে তো সবগুলো লেকচারারই টাকলা আর বুইড়া।
মোমো : কিরে এতো কি ভাবছিস তুই?"
হিয়া : দূুর! আমার এখানে আসাটাই বৃথা হয়ে গেলো। এইখানে সব টিচার আমার আব্বার লাহান দেখতে। যে কইছিলো, ভার্সিটির প্রফেসররা চান্দের লাহান দেখতে। তাগোরে আমার এক বালতি অভিশাপ!"
মোমো হিয়ার কাঁধে হাত দিয়ে তাকে নিজের দিকে টেনে নিলো। আফসোসের সুরে বলল,,
"আরে দূর! প্রফেসর নেই তো কি হয়েছে। সিনিয়র তো আছে।" হিয়ার মুখটা ধরে অন্যদিকে ঘুরিয়ে বলল, দেখ ওদিকে!"
মোমো দেখালে হিয়াকে একটা সুদর্শন ছেলেকে। কিন্তু, হিয়া দেখলো অন্যকিছু— ক্যাম্পাসের নিরিবিলি এককোণে, একটা ছায়াঘেরা বেঞ্চে বসে আছে সকালের সেই চশমা পরা ছেলেটা। হাতে একটা এগ রোল। যেটা গভীর মনোযোগ দিয়ে খাচ্ছে সে। হঠাৎ কিছু মেয়ে এসে তার সেই রোলটা কেড়ে নিলো। ছেলেটা মুখ হা করে তাদের দিকে তাকালো।
রিমি : "কি বড়োভাই! আমাদের রেখে একা একা খাচ্ছেন। এটা কি ঠিক করছেন বলুন?"
ইতি : "ছোট বোনদের রেখে নিজে গান্ডিপিন্ডি গিলছেন। পেটে দানা পড়বে তো আপনার। হজম করতে পারবেন না কিন্তু!"
ছেলেটা মাথা নিচু করলো। মেয়েগুলোর দিকে না তাকিয়ে বলল, "দেখুন! আমার খাবারটা দিয়ে দিন। আমার খুব ক্ষুধা পেয়েছে। সকাল থেকে কিছু খায়নি আমি!"
মিম : "আরে তুমি খাওনি তো কি হয়েছে? আমরা তো খেয়েছি!"
হুট করে একটা মেয়ে ছেলেটার চশমাটাতে হাত দিলো। ব্যাস! হিয়া আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলো না। মোমোকে ছাড়িয়ে এক ছুট দিলো। তবে সে সেখানে পৌঁছাতে পৌঁছাতে মেয়েগুলো প্রস্থান করলো।
ছেলেটা কাঁধের ব্যাগটা একহাতে চেপে ধরলো। অন্যহাতে চশমার নিচে চোখ মুছতে মুছতে সামনের দিকে পা বাড়ালো। হাঠাৎ হিয়া ডেকে উঠলো,,
"শুনুন!"
হিয়ার ডাকে ছেলেটা থমকে দাঁড়ালো। পিছনে ফিরে কান্না আটকানোর চেষ্টা করলো। যার দরুণ, নিচের ঠোঁটটা বারবার ফুলে উঠছিলো সে আবার সেটা দাঁত দিয়ে চেপে ধরছিলো। একেবারে ছোট বাচ্চাদের মতো করে ঠোঁট ফুলাচ্ছিলো ছেলেটা। ব্যাপারটা হিয়ার কাছে বেশ ইন্টারেস্টিং লাগলো। সে শান্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলো,,
"নাম কি আপনার?"
ছেলেটা কোনো উত্তর দিলো না। শুধু বাচ্চাদের মতো ড্যাবড্যাব করে তাকালো। হিয়া একটু রেগে বলল,,
"আপনি কি বোবা? কথা বলতে জানেন না?"
ছেলেটা পরপর দু'বার উপর নিচ মাথা নাড়ালো। মুখের খাবারটা তাড়াতাড়ি শেষ করে বলল,,
"পারি!" তার কন্ঠটা কেমন জানি বাচ্চাদের মতো নির্মল শোনালো। পূর্ন পৌরুষত্বের ভাবটা প্রকাশ পেলো না তার কন্ঠে।
"তো বলুন! নাম কি আপনার?"
"নীল!"
"শুধুই নীল? মানে আগে পড়ে কিছু নেই? কোনো সারনেইম ও নাই?"
"হুম! আছে! রুদ্র। রুদ্রনীল চৌধুরী আমার পুরা নাম!"
হিয়া আপনমনে, একবার বিড়বিড় করলো, "রুদ্রনীল চৌধুরী!" মুখে বলল,
"বাহ! আপনার নামটা তো খুব সুন্দর। তা এতো সুন্দর নাম থাকতে সবাই আপনাকে শুধু নীল বলে ব্যঙ্গ করে কেন?"
নীল কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,, "আমি একটু বোকা তো। আর রুদ্র নামটা নাকি অনেক স্মার্ট। আমার স্বভাবের সাথে যায় না। তাই সবাই আমাকে বোকা বোঝাতে, নীল লাল,কালো,বলে ডাকে!"
হিয়া মুচকি হেঁসে কপাল চুলকাতে চুলকাতে বলল, "আপনি ভাই একটু না পুরাটাই বোকা!"
"আপনি কি আমাকে কিছু বললেন?"
"কই নাতো!"
"ওওওও!"
হঠাৎ হিয়া ওপরে তাকালো সেখানে মোমো তাকে হাত নেড়ে ডাকছে। তাদের পরবর্তী ক্লাসের সময় হয়ে গেছে। কিন্তু, হিয়ার তো একটুও ক্লাস করতে ইচ্ছে হচ্ছে না।তার এখন ইচ্ছে হচ্ছে ছেলেটার সাথে একটু গল্প দিতে। সে হাত দিয়ে মোমোকে বোঝালো ক্লাসে যেতে সে এখন যাবে না।
তাকে হাত নাড়তে দেখে নীলও ওপরে তাকালো। মোমোর পাশাপাশি ডিজিটাল ঘড়ির দিকে তার চোখ যেতেই সে বলল,,
"আচ্ছা বোন। আমি তাহলে এখন যাই।"
"কোথায় যাবেন?" তড়িঘড়ি করে জিজ্ঞেস করলো হিয়া।
"ক্লাসে।"
"একদিন ক্লাস না করলে কিছু হয় না। আপনি আসুন আমার সাথে।"
হিয়ার নীলের হাতটা ধরতেই নীল চোখ বড়ো করে তাড়াতাড়ি তার হাতটা ছাড়িয়ে দিলো। আতঙ্কিত হয়ে বলল,,
"আমার হাত ছাড়ুন।"
"ওহ সরি!"
"আর কখনো আমার হাত ধরবেন না বলে দিলাম।" হাতটা পরিষ্কার করতে করতে বলল নীল।
হিয়া ভ্রু কুঁচকে বলল, "কেন?"
"আম্মু বলেছে মেয়েদের থেকে দূরে দূরে থাকতে। তারা পুরুষদের জন্য বিপদ সংকেত!"
হিয়ার খুব হাসি পেলো নীলের কথায়। সে ঘাড় ঘুরিয়ে একটু হেঁসে নিলো। এরপর বলল,,
"ওহ আচ্ছা! তা আর কি কি বলেছে আপনার আম্মু?"
"সেটা আপনাকে কেন বলব?" ঘাড় বাঁকিয়ে বলল নীল।
"আচ্ছা বলতে হবে না। আপাতত আমার সাথে আসুন!"
হিয়া নীলকে তার পিছনে নিলো। তবে দ্বিতীয় বার হাত ধরার সাহস পেলো না। ছেলেটার মেয়েতে ভয় আছে। ভয় নেই শুধু অপমানিত হতে।
#চলবে~