ফন্ট সাইজ:
থিম:
একগুচ্ছ শুকতারা

২৬তম পর্ব

লেখক: শারমিন ইরান

একগুচ্ছ শুকতারা

শারমিন ইরান

২৬.

পেরিয়ে গেছে ৬ দিন।

এই ৬ দিনে নাতো শ্রুতি পার্থিবের দেখা পেয়েছে, আর না কথা বলেছে। সবার থেকে জানতে পেরেছে কাজের জন্য চট্টগ্রাম গেছে। শুনে শ্রুতির মনটা খারাপ হয়েছে কিনা শ্রুতি নিজেই বুঝেনি। সে কী নিজের অবচেতন মনে আশা করেছিল যে পার্থিব তাকে বলে যাবে? নাহ! সে এমন কিছুই আশা করেনি, করতে চায়না। তাদের সম্পর্ক কী স্বাভাবিক যে পার্থিব তাকে ঢোল পিটিয়ে বলে যাবে?

শ্রুতির ভীষণ মন খারাপ হচ্ছে। বর্তমানে সে সকালের নাস্তা করছে। সবাই বসেছে টেবিলে; তবুও মনে হলো তার আশেপাশে কেউ বসেনি। এতোদিন যাবত তার পাশে জলজ্যান্ত একটা মানুষ বসতো আর আজ সে নেই — কোনো মানে হয় এইসবের? গতদিনও ইলিশ মাছ রাঁধা হলো, অথচ শ্রুতি খেল না। অন্যান্যদিন পার্থিব বেছে দেয়, কাল শ্রুতির বাছতে ইচ্ছেই করল না। একারণে খাওয়াও হলোনা।

শ্রুতির বর্তমানে নিজের উপর রাগ চেপে বসছে। মনে হচ্ছে একশো কেজি রাগের বস্তা কেউ তার মাথায় চাপিয়ে দিল। পার্থিব তাকে বলে যায়নি, এরপর যাওয়ার পর ফোন করে কথাও বলছেনা। এরমানে পার্থিব তাকে নিয়ে মোটেও চিন্তিত নয়, তাহলে অযথা সে কেন চিন্তা করছে?

শ্রুতি প্লেটের দিকে তাকিয়ে রুটি গুলো ছিড়ে ছিড়ে মুখে পুরলো অনেকাংশ। এরপর নিজের রাগ রুটির ওপর দিয়ে নাক কিঞ্চিৎ ফুলিয়ে চিবুতে লাগল।

শ্রুতি হামিমের ঘরে ঢুকেই দেখতে পেল হিয়া ভাবির মাকে। ভীষণ অবাক হলো। তাকে এখানে আশা করেনি; অবশ্য হয়তো আশা করা উচিতও ছিলনা। ভদ্রমহিলা এসেছে দুই কী তিন দিন হয়। তিনি এসেছেন নিজের মেয়ের জন্য। হিয়া ভাবি প্রেগন্যান্ট। নিজের মেয়েকে দেখতেই তার এই বাড়িতে আসা।

ভদ্রমহিলা শ্রুতিকে দেখে উঠে এলো। ভদ্রমহিলার চেহারা ভীষণ কোমল; কাঠিন্যতার ছোঁয়া নেই। শ্রুতি ভদ্রতাসূচক হাসল। হিয়া ভাবি ভীষণ মিশুক, শ্রুতিকে যথেষ্ট আদর করে। এখন শ্রুতিরও উচিত তার মাকে সম্মান দেখানো।

‘ কিছু লাগবে আন্টি? হঠাৎ এই ঘরে যে?’ সরল গলা শ্রুতির।

‘ কেন মা? এখানে আসা মানা?’ কোমল গলায় নিজের প্রশ্ন করলেন ভদ্রমহিলা।

‘ না, না। আমি এমনিই বলেছিলাম।’

‘ তোমার ভাই তো প্রতিবন্ধী তাইনা?’

শ্রুতি তার কোমল ধারালো কণ্ঠে চোখ তুলে তাকাল, ‘জ্বী।’

‘ মা, তোমার ভাইকে কিছুদিনের জন্য অন্য বাসায় রাখা যায়না?’

শ্রুতি কথার অর্থ না বুঝে তাকিয়ে রইল। মহিলা শ্রুতিকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন,

‘ জানোই তো হিয়া অনঃসত্ত্বা। এই সময়ে সুন্দর পরিবেশে থাকতে হয়। তারচেয়েও বড় কথা কিছুদিনের মধ্যে ছয়মামে পড়বে। তোমার তো জানার কথা যে ছয়মাসের পর গর্ভবতী মা যা যা দেখে বাচ্চা তেমনই হয়। যেমন আমাদের সময়ে গর্ভবতী মায়েরা বাঁদর দেখতো না, বাচ্চার মুখ বাঁদরের মতো হবে বলে। তাই বলছিলাম যে….. এই কয়েকটা দিন যদি তোমার ভাইকে অন্য কোথাও রেখে আসতে। আর তাছাড়া ছোটভাই বোনের শ্বশুরবাড়িতে পরে আছে, দেখতে কেমন লাগে তুমি বলো?’

শ্রুতি কিছুই বললনা। বুঝল, মহিলাটি চাচ্ছেনা তার ভাই এই বাড়িতে থাকুক। মহিলাটি হয়তো সুযোগ পেলেন, ‘ আমি আসলে চাচ্ছিনা আমার নাতি/নাতনির মুখ বাঁদরমুখো হোক।’

শ্রুতির নাক ফুলে উঠল। মহিলাটি যে তার ভাইকে অপমান করছে তা অনেক আগেই বুঝেছে। এখন কথাগুলো যেন বিঁধে গেল শরীরে। চোখ চোখ রাখল মহিলার। হয়তো কঠিন কিছু শোনাতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই কারো কণ্ঠে শুনতে পেল,

‘ হায়রে দুনিয়া! যুগ পালটালো অথচ মানুষের চিন্তাধারা না। এখনো এইসব কুসংস্কার ধরে বসে থাকলে চলে বেয়াইন? আমাদের সময় তো কতোকিছুই হতো; এখনো কী হয়? জ্ঞানহীন মানুষের মতো মেয়েটাকে কতোগুলো কথা শুনিয়ে দিলেন! কে বাঁদরমুখো শুনি? হামিম? কই আমার চোখে তো বাচ্চাটা কী শান্ত, সরল লাগছে।’

শ্রুতি তার চাচিশাশুড়ির দিকে চেয়ে রইল। তিনি আরোও বললেন, ‘ মেয়ের বাড়িতে এসেছেন। ঘুরুন, ফিরুন। সম্মানের সাথে চলেও যাবেন। তাই বলে সেই বাড়িরই অন্য বউয়ের ব্যাপারে নাল গলাবেন না।

হামিম শ্রুতির ভাই। হামিম নাতো আপনার মেয়ের জামাইর টাকা খাচ্ছে, আর নাতো এই বাড়ির কারোর টাকায় খাচ্ছে। সে খেলে তার দুলাভাইয়ের টাকায় খাচ্ছে। এতে মা ম/রা বাচ্চাটার অধিকার আছে।’

বলেই মিষ্টি হাসল রুমা বেগম। সেই হাসি দেখে ভদ্রমহিলাও সুন্দর হাসল। হয়তো বুঝেছে অতিরিক্ত কথা বলে অপমান হওয়ার চেয়ে অল্প কথায় মেনে নেওয়া ভালো। ভদ্রমহিলা আবারো হেসে বেরিয়ে গেল।

রুমা বেগম শ্রুতির সামনে দাঁড়াল। রয়েসয়ে বলল ‘ কষ্ট পেয়োনা। ভেবনা উনাকে শুধু তোমার ভাইয়ের জন্য বলেছি। উনি আগেও এসেছে এবং নানা ব্যাপারে নাক গলানোর চেষ্টা করেছে। অযথাই। তাই ভাবলাম এইবার বলা দরকার।’

শ্রুতি মাথা নাড়ল। রুমা বেগম হামিমের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ তোমার মা নাই, শ্রুতি। ঘরে সৎ মা। বোন হিসেবে তোমাদের দুইজনের দায়িত্ব হামিমরে দেখা। তাই কারোর কথায় কখনো পিছপা হবানা। আর শোনো মা, ওয়াহাব বাবারে এই ব্যাপারে কিছু বইলো না। ও জানতে পারলে লজ্জা পাব আমি।’

ওয়াহাব পার্থিবের আরেক নাম। পুরো নাম ওয়াহাব মীর পার্থিব। তার চাচিশাশুড়ি যে পার্থিবকে ওয়াহাব ডাকে তা শ্রুতি জানে। তাই হেসে সায় দিল। যার অর্থ সে বলবেনা। রুমা বেগম চলে গেলেন।

শ্রুতি ছোটবেলা থেকেই শ্বশুড়বাড়ি সম্পর্কে নানান নেতিবাচক কথা শুনেছে। অথচ এই বাড়িতে এসে তার ধারণা পুরোটাই পালটে যাচ্ছে। একটা বাড়ির সব মানুষ এতোটা শান্ত, অমায়িক, বিনয়ী হয় কীভাবে?

.

ছোটবেলার জীবনটাকে প্রায় সবাই আমরা যন্ত্রণার ভাবি। ভাবি কবে বড় হব, কবে আমরা সুখের নাগাল পাব। অথচ আমরা বুঝতেই পারিনা সুখের সময়ে থেকেই আমরা সুখ ধরতে চাই। মানুষ যেদিন জন্ম নেয় সেদিন সেই মানুষটার জন্য সবচেয়ে সুন্দর দিন। এরপর ধীরে ধীরে আসতে থাকে সব খারাপ দিন। অথচ বোকা মানুষেরা সুখের আশায় বসে থাকে। তারা বুঝতেও পারেনা অতীতের থেকে সুন্দর দিন আর হয়না।

কথাগুলো ভেবেও মাহাথির মানতে পারল না। সত্যিই কী অতীত, ছেলেবেলা সুন্দর? না, সুন্দর নয়। সবার অতীত, ছেলেবেলা সুন্দর হয়না। এতিম, অনাথের ছেলেবেলা আবার সুন্দর হয় কীভাবে?

মাইগ্রেনের ব্যথা এই কয়েকদিন ধরে ভীষণ বেড়েছে। মাহাথির চোখ বন্ধ করে ফেলল। এরপর নিজে মনে মনে উচ্চারণ করল — আমি অনাথ নই। আমারো বাবা, মা আছে। কিন্তু তারা আমাকে রাখেনি। ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে।

শৈশব মানুষের জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা সময়। তখনকার সব ঘটনাই যেন মস্তিষ্কে বিস্তরভাবে প্রভাব ফেলে। হয়তো

শৈশবে মানুষের মস্তিষ্ক সবকিছু ধারণ করতে পারেনা। তাই সব তাদের মনে না থাকলেও বিশেষভাবে প্রভাবিত ঘটনাগুলো তারা ভুলতে পারেনা। মাহাথির নিজের জীবনের আবছা স্মৃতিগুলো মনে করতে চেষ্টা করলে শুধুই মনে পড়ে — তার স্কুলে যাওয়া, অল্পকিছুতেই তাকে তার বাবা/মায়ের মার দেওয়া, প্রতিনিয়তই ঝগড়া/ঝাটি, মায়ের রাগারাগি, কান্নাকাটি। এরপর, এরপর একদিন তার বাবা তাকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে একটা জায়গায় নিয়ে এলো, তাকে খেলা করতে বলে কোথাও যেন চলে গেল। এরপর যখন মাহাথির তাকে দেখল গেট দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে তখন দৌড়ে গিয়ে ভীষণ ডাকল, চিৎকার করল। অথচ তার বাবা তার ডাক শুনল না। ওই জায়গার কিছু লোক তাকে ধরে ভেতরে নিয়ে গেল। এরপর সেখানেই কেটে গেল তার দুইদিন। এরপরেই তো সে চলে গেল আরেকটা নতুন ঘরে। যেখানে সবাই তার অচেনা, অজানা। মাহাথিরের তখন কেবল মনে হত, তার বাবা-মা তাকে বিক্রি করে দিয়েছে, আর এনারা কিনে এনেছে। তাদের নিজের বাবা-মা মানতেই ইচ্ছেই করতো না। মন খারাপ করে বসে থাকতো জায়গায় জায়গায়। নিরবে কাঁদত। কিন্তু তার নতুন বাবা-মায়ের ভালোবাসায় নিজেকে আটকাতে পারেনি মাহাথির, তাদের বাবা-মা বলে ডাকা শুরু করে। শুরু হয় তার নতুন জীবন। তবুও, তবুও যেন স্মৃতি পিছু ছাড়েনা।

ছোট থেকেই সে অল্পভাষী, এখন পরিস্থিতির চাপে আরোও হয়ে গেছে। কাকে বলবে সে নিজের মনের কথা, কেউ তো তাকে বুঝেইনা। তাই সে আর চেষ্টাও করেনা। সেই তো খারাপ, একারণেই তার বাবা-মা তাকে অনাথ আশ্রমে ছেড়ে দিতে দ্বিধাবোধ করেনি।

মাহাথিরের ভীষণ মন খারাপ হয়ে গেল। চারপাশ অসহ্য লাগতে শুরু করল। মাথাব্যথা যেন ১০ গুণ বেড়ে গেল। সে এইসব কথা মনে করতে চায়না। তবুও বেয়া/দব মন মাঝেমধ্যে চেষ্টা করে তার বাবা-মায়ের মুখ মনে করতে। বাবা-মা? যারা নিজের সন্তানকে ছেড়ে দিতে পারে, তারা আদৌও বাবা-মা? নাহ! তাদের বাবা-মা বলে তার বর্তমান আব্বা-আম্মাকে অসম্মান করতে চায়না মাহাথির। এরা যে সত্যিই ভীষণ ভালো মানুষ।

কপালে নরম হাতের স্পর্শ পেয়ে চোখ খুলল মাহাথির। বিভা। মেয়েটাকে দেখে এখন রাগ হলোনা, ভীষণ মন খারাপ হলো।

বিভাও তাকিয়ে আছে মাহাথিরের দিকে। কপালে ভাঁজ। মনে চিন্তা যে, এইটা তার স্বামী নাকি অন্যকিছু? অল্পতেই মানুষটা এতো অসুস্থ হয়ে কেন পড়ে? হালকা বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর, সর্দি, কাশি হয়ে যায়। বাইরের খাবার খেলে পেট সহ্য করতে পারেনা, গ্যাস্টিকের ব্যথা হয়। এছাড়া সারামাস তো কোনো না কোনো অসুখ-বিসুখ তো লেগে আছেই। সাথে ‘মাইগ্রেন’ যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টির মতো। এতো নাজুক কোনো মানুষ হয়?

বিভাকে অবাক করে মাহাথির বিভার হাত ধরল। বিভা মাহাথিরের চোখের দিকে তাকাল। মাহাথিরের চোখদুটোতে লাল আভা। বিভা ঢোল গিলল, মানুষটার কী শরীর বেশি অসুস্থ?

বিভা তাকিয়ে দেখল মাহাথিরের মুখ বেঁকিয়ে হেসে আছে। হাসিতে কিছুটা বিদ্রুপ, কিছুটা মলিনতা। মাহাথির বলল,

‘ তুমি অনেক ভালো বিভা। আগেও বলেছি, আজকেও বলছি। একজন আদর্শ বউ তুমি। অথচ দেখো তোমার ভাগ্যে কিনা আমার মতো স্বামী জুটল। ইউ ডিজার্ভ বেটার। মোর বেটার দ্যান মি।’

‘ কী বলতে চাচ্ছেন?’

মাহাথির তার উত্তর দিল না। নিজের মতো বলল, ‘ আমার মা-বাবা তোমাকে কীভাবে আমার জন্য ঠিক করল আমি জানিনা। অবশ্য প্রতি বাবা-মাই চায় তাদের পুত্রবধূ ভালো হোক। সেই আশাতেই হয়তো। সেখানে তোমার জীবন নষ্ট হলো কিনা চিন্তাও করলনা। এখন প্রমাণ পেলে তো যে, সব মানুষেরাই স্বার্থপর? আমার আব্বা-আম্মাও কেবল আমার কথা চিন্তা করে তোমায় আমার কাছে বিয়ে দিয়েছে; তোমার কথা চিন্তা করেনি। আ'ম শিওর, তোমার মা বেঁচে থাকলে কখনো আমার কাছে বিয়ে দিতোনা। সে দেখে শুনে অন্য কোনো ভালো ছেলের কাছে বিয়ে দিতো; তুমি ডিজার্ভ করো এমন কেউ।’

মাহাথিরের কথা হাওয়ায় উড়িয়ে দিল বিভা,

‘ আপনার মাথার যন্ত্রণা কমেছে? বাড়লে তো সমস্যা। ডাক্তারের কাছে যাবেন?’

মাহাথিরের রাগ মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। তার কথা এই মেয়ে গায়েই মাখল না? বিভাকে দমাতে বলল, ‘ তোমার স্বামীর জন্ম-পরিচয়ের ঠিক নেই — তোমার ভাবতে খারাপ লাগছেনা? আমি তো কারোর অবৈধ সন্তানও হতে পারি?’

‘ আমার কাছে আপনার সবচেয়ে বড় পরিচয় আপনি আমার হাসবেন্ড। আর আপনার আব্বা-আম্মা আছে মাহাথির। তারা আপনাকে ভালোবাসে। আপনি এইভাবে বলে তাদের ছোট করছেন।’

মাহাথির বিভার হাতের আঙুল নিয়ে খেলছিল। বিভার কথায় চোখ তুলে তাকাল, ‘ আমি আমার আব্বা-আম্মাকে ভালোবাসি। তারা আমাকে ভালোবাসে। এই দু’টো কথা যেমন সত্যি, ঠিক তেমনি সত্যি তারা আমার আপন বাবা-মা নয়। এই পৃথিবীতে মাহাথির নামক মানুষের নিজের একান্ত, আপন বলে কেউ নেই। কেউ না বিভা।’

কণ্ঠটা কী করুণ শোনালো? বিভা তাকিয়ে রইল মাহাথিরের দিকে। মাহাথির উঠে গেল। রুমের লাইট অফ করে ফিরে এলো বিছানায়। বলল,

‘ আমি ঘুমাব। রাতে খাবনা। না মানে না। আশাকরি পতিব্রতা স্ত্রী হয়ে আমাকে ডেকে বিরক্ত করবেনা।’

মাহাথির উল্টো ঘুরে শুয়ে পড়ল। বিভা আগের মতোই বসে আছে। মনে মনে বলল,

‘ এই পৃথিবীতে আপনার আপন বলে কেউ নেই — কথাটা মিথ্যা মাহাথির। আমি আছি না? আপনার আব্বা-আম্মা আপনার আপন নয় এইটা যেমন সত্যি, আমি আপনার স্ত্রী এইটাও তেমনি সত্যি। পৃথিবীর ৮০১ কোটি মানুষের মধ্যে শুধুমাত্র আমি আপনার আপন — ব্যাপারটা কতো সুন্দর! দেখেছেন? শুধু সুন্দর নয়, অসম্ভব সুন্দর।’

_____

চলবে~

শব্দসংখ্যা - ১৬০০

#একগুচ্ছ_শুকতারা

#শারমিন_ইরান

[ গুগলের মতে পৃথিবীর বর্তমান জনসংখ্যা

৮০১ কোটি (প্রায়)।]

[ গল্পটা মাঝে এসে গেছে। মাহাথির বাবা আর দুটা/চারটা আ কাম/কু কাম করে ভালো হয়ে যাবে আশা করা যায়।]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন