ফন্ট সাইজ:
থিম:
একগুচ্ছ শুকতারা

২৭তম পর্ব

লেখক: শারমিন ইরান

একগুচ্ছ শুকতারা

শারমিন ইরান

২৭.

মধ্যরাত।

পার্থিব কপাল কুঁচকে বসে আছে বিছানায়। ঘুম আসছেনা। এই ছয়দিন সে কেমন করে পার করেছে তা কেবল সেই জানে। শান্তিপ্রিয় মানুষটার মনেও আজ কেবল অশান্তি আর অশান্তি।

পার্থিব একটু স্থির হতে চেষ্টা করল। উঠে রুমজুড়ে হাঁটাহাঁটি করল, পানি খেল। তাও যেন স্থির মানুষটার মধ্যে স্থিরতা ধরা দিচ্ছেনা। গত দিনগুলো শ্রুতির বিভিন্ন ছবি দেখে মনকে মানিয়েছে, আজ মন যেন তাতেও মানতে চাইছেনা। সে কী ফোন করবে শ্রুতিকে?

ফোন হাতে নিল। শ্রুতির নাম্বারে হাত স্থির করল। সেভ বলতে শ্রুতির নামের জায়গায় একটি লাভ ইমোজি আর একটি ডাইনির ইমোজি দেওয়া। নিজের করা কান্ডে এইবার পার্থিব নিজেই হেসে দিল। ধীরে ধীরে বলল,

‘ ডা/ইনি। আমার পারসোনাল ডা/ইনি।’

ক্লিক করতে গিয়েও করল না। ফোন টা বিছানায় ছুড়ে ধপ করে বিছানায় শুয়ে পড়ল। নিজের মনকে বুঝাতে চেষ্টা করল যে, আর মাত্র একদিন, এরপরেই দেখা করবে, কথা বলবে। অথচ, একি! তার মনও তার সাথে আজ নাফরমানি করছে।

মেয়েটার মধ্যে কী আছে? আপাতদৃষ্টিতে বলতে গেলে কিছুই নেই। অথচ পার্থিব কেমন মায়ায় পড়ে গেল। যেই মায়া থেকে সে উঠতেই পারছেনা। মায়া এতো ভয়ংকর? বাসার মা থেকে শুরু করে সবার সাথে সে কথা বলে ফেলেছে, শ্রুতির খোঁজখবরও নেয়া শেষ। তবুও মন মানছেনা। মনে হচ্ছে শ্রুতি তার সাথে একটু কথা বললেই তার শান্তি লাগবে, মনে হচ্ছে তার সাথে রাগী গলায় কথা বললে, ঝাঁঝালো কণ্ঠে ঝগড়া করলেই সে শান্তি পাবে। এমন নিরব বিচ্ছেদের থেকে তো শ্রুতির ঝগড়াই ভালো ছিল।

পার্থিব ভ্রু কুঁচকে ফেলল। সে চেয়েছে শ্রুতিকে একটু শাস্তি দিতে। অথচ শাস্তি সে নিজেই পাচ্ছে। এসবের কোনো মানে হয়? শ্রুতি তো নিশ্চয়ই নিজেরমতো আছে। কোনো চিন্তাও নেই তার জন্য। পার্থিব চোখ বন্ধ করল। এমন দ/জ্জাল একটা মেয়েকে তার মা তার জন্য পছন্দ করল কেমন করে? তার মায়ের চেয়েও তো সে বেশি দোষী। এমন মেয়েকে সে ভালোবাসে কেমন করে?

পার্থিব নিজের ফোনে শ্রুতির ছবি দেখতে লাগল; যা ওর থেকে লুকিয়ে তোলা হয়েছে। পার্থিব ছবি দেখতে দেখতে ভ্রু কুঁচকে ফেলল। এরপর থেকে শ্রুতির কণ্ঠটা রেকর্ড করে রাখতে হবে, যাতে ঝগড়া করলেও সমস্যা না হয়। সে যেন কণ্ঠ শুনে নিজেকে স্থির রাখতে পারে। পার্থিব ঘড়ির দিকে তাকিয়ে উঠে গেল। বিছানায় টিকটিকির মতো আটকে থাকার চেয়ে কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা অধিক শ্রেয়।

.

৮ দিন পর পার্থিব আসছে।

কথাটা শ্রুতি শুনেছে সকালবেলা। শ্রুতি লক্ষ্য করছে, না চাইতেও তার মুখটা হাসি হাসি হয়ে যাচ্ছে। অল্পতেই ভীষণ খুশি খুশি লাগছে। এই যে সারা সকাল সে প্রভা-প্রত্যাশা, হিয়া ভাবির সাথে কতো প্রাণখুলে গল্প করল! শ্রুতি অনুভব করছে তার হাত, পা হালকা কাঁপছে। পার্থিব আশায় সে কী বেশি উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছে? সে কী খুব বেশি খুশি হয়ে যাচ্ছে পার্থিব আসবে বলে?

শ্রুতি আয়নার দিকে তাকাল। দেখতে তাকে আহামরি ভালোও লাগছেনা আবার খারাপও লাগছেনা। শ্রুতির ভ্রুতে ভাঁজ পড়ল। অন্যান্যদিন তো ঠিকই মুখটা একটু হলদেটে সুন্দর থাকে, আজ নেই কেন?

শ্রুতি নিজের চুলগুলো ঠিক করে চলে গেল নিচে।

নিচে হামিমকে বসিয়ে রেখে এসেছে। হামিমকে খাওয়ানোর নাম করে বসে থাকবে যেন পার্থিব ঢুকলেই তার চেহারা দেখতে পারে। নিজের চিন্তায় নিজেই ভীষণ অবাক হলো শ্রুতি।

বউয়ের অপেক্ষা দীর্ঘ করল না পার্থিব। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সে বাড়িতে ঢুকল। হাতে ব্যাগপত্র।

শ্রুতি হামিমকে খাওয়ানোর ফাঁকে ফাঁকে লক্ষ্য করতে লাগল পার্থিবকে। গায়ের শার্ট ঘেমে গেছে, মুখেও বিন্দু বিন্দু ঘাম। এসেই সোফায় বসে পড়েছে। কী আশ্চর্য! একবার তার দিকে তাকিয়ে হাসলও না?

হামিমকে খাওয়ানো বাদ দিয়ে বসে আছে শ্রুতি। হামিমকে খাওয়ানো হয়ে গেলে সে এখানে বসে থাকতে পারবেনা। লোকটা ভাববে তাকে দেখার জন্য হয়তো বসে আছে যেটা মোটেও হতে দেওয়া যাবেনা। ভাব বেড়ে যাবে লোকটার। শ্রুতি ঠোঁট বাকিয়ে হামিমের মুখে খাবার দিল।

পার্থিব একটু বিশ্রাম নিয়েই সবার জন্য আনা ছোটখাটো উপহার দিতে লাগল। সবাইকে ডেকে ডেকেই দিল সে। এমনকি উঠে এসে হামিমকেও উপহার দিল। হামিমের জন্য নতুন ক্যানভাস, আর্ট পেপার, রঙ এনেছে সাথে আর্টের প্রয়োজনীয় সামগ্রী। শ্রুতিকে অবাক করে দিয়ে হামিম হেসে দিয়ে পার্থিবের কোমড় জড়িয়ে ধরল। বিনিময়ে পার্থিবও চমৎকার করে হাসল। শ্রুতি আড়চোখে দেখে চোখ নামিয়ে নিল।

সবাইকে গিফট দেওয়া শেষ হতেই পার্থিব উপরে চলে গেল বিশ্রামের জন্য। শ্রুতি তা লক্ষ্য করে নাক ফুলিয়ে ফেলল। সে হয়তো আশা করেছিল পার্থিব তাকেও কিছু দেবে। শ্রুতি নিজেকে গালি দিতে লাগল। সে এতো বোকা কেন? কার জন্য অপেক্ষায় ছিল সে? কার জন্য অপেক্ষা করেছে? কার সাথে একটু গল্প করার আশায় বসে ছিল? এই ফাল/তু মানুষটার জন্য যে কিনা তাকে গ্রাহ্যই করেনা? যার কাছে তার কোনো দামই নেই?

শ্রুতি নিজের দোষ দেখলনা। সব দোষ পার্থিবের ঘাড়ে দিয়ে মনে মনে বকতে লাগল। এই অস/ভ্য মানুষটার জন্য তার ভাইকে সকালের ৯ টার নাস্তা ১১ টায় করালো — ভাবতেই তার ম/রে যেতে ইচ্ছে করছে।

.

বিভা দাদীর সাথে কথা বলে ফোনটা রাখল। ভালো লাগছেনা। দাদীর অসুস্থতায় বিভার মনে হচ্ছে সে নিজেই অসুস্থ। আজ গিয়েছিল ভার্সিটি থেকে ফিরে দাদীর সাথে দেখা করতে। সেখানে গিয়ে দেখতে পেল তার সৎ মায়ের আগের ঘরের ছেলেরা এসেছে। তারা বিভার থেকে বয়সে বড়। বিভা তাদের মোটেও পছন্দ করেনা। তাই যতোদ্রুত সম্ভব দাদীর সাথে কথা বলে চলে এসেছে।

দাদীর শরীরটা মোটেই ভালো যাচ্ছেনা। বিভা আজ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে চাইল, দাদী রাজি হলোনা। হাজার জোড় করেও বিভা মানাতে পারল না। দাদীর এই অবস্থা শ্রুতি শুনলে অযথাই চিৎকার চেঁচামেচি করবে আমিন সাহেবের সাথে, এরপর কান্নাকাটি করে কষ্ট পাবে। শুধুশুধু শ্রুতিকে কষ্ট দিতে বিভা চায়না। তাই এতো অসুস্থতার কথা বলেনি শ্রুতিকে। সে থাকাকালীন শ্রুতি ফোন দিয়েছিল, তখনই কথা বলে নেয় দু'জনে।

বিভা নিজের মাথা চেপে বসে পড়ল। হঠাৎ করেই ভীষণ কান্না পাচ্ছে। নিজের ফোনে মায়ের ছবি বের করে ধীরকণ্ঠে বলল,

‘ আমি পারছিনা, আম্মু। আমি কোনো দায়িত্বই ঠিকভাবে পালন করতে পারছিনা। দাদীর খেয়াল রাখতে পারছিনা, হামিমও আমার কাছে নেই, শ্রুতির পড়ালেখাও আটকে আছে। এক ইয়ার লস হয়ে গেছে ওর। কিছুই সামলাতে পারছিনা আমি।’

শ্রুতির পড়ালেখা আটকে আছে — কথাটা ভুল। শ্রুতি নিজেই ভার্সিটিতে ভর্তি হয়নি নিজের জেদ বজায় রাখতে। বিভার ধমকি-ধামকিতেও কাজ হয়নি। শ্রুতির মতে, একটা বছর সে রিল্যাক্স করতে চায়। এরপর অন্যবছরে ভার্সিটির প্রিপারেশন নেওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে গেল। কারোর কিছু করার রইল না। তবুও এখনো সময় আছে অন্যান্য ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার। একারণেই বিভা দুপুরে কথা বলেছে পার্থিবের সাথে। বিভা নিজেই টাকা দিতে চেয়েছে, কিন্তু পার্থিব খুব বিনয়ীভাবে বিভাকে নাকচ করে দেয়। বিভাও মেনে নেয়। পার্থিবের ফোন রেখেই শ্রুতিকে ফোন করেছিল বিভা। এক দফায় বকা দিয়ে দিয়েছে। বিভার বকা শুনে শ্রুতি চুপ ছিল। এরপর গম্ভীরকণ্ঠে শুধু বলেছে, আচ্ছা ভর্তি হব আমি।

বিভার ভাবনার মাঝেই মাহাথির ঘরে ঢুকল। বিনা বাক্যব্যয়ে ট্রাউজারের পকেট থেকে টাকা বের করে বিভাকে দিল। বিভা তাকিয়ে রইল টাকার দিকে।

টাকা দিয়ে আলমারির কাছে গেল মাহাথির। আলমারি খুলে হঠাৎ করেই লক্ষ্য করল বিভা এখন আর নিজের কোনো জামা আলমারিতে রাখেনা। সব তারই জামা। বিশেষ ভাবল না এই নিয়ে। রাখেনা তার জনই ভালো। বেতনের বাকি টাকা ড্রয়ারে রেখে দিয়ে ঘুরে দেখল বিভা এখনো টাকা হাতে নিয়ে বসে আছে।

মাহাথির ভরাট কণ্ঠে বলল, ‘ আশা করি হাত খরচ এতেই হয়ে যাবে। অন্য মাসের থেকে এইবার দুই হাজার টাকা বেশি আছে।’

বিভা তাকাল মাহাথিরের দিকে। মাহাথির টাকা কেবল আজকে দিচ্ছে তেমন নয়। গত পাঁচ মাস ধরেই দিচ্ছে। বিয়ের দ্বিতীয় মাস থেকে দেওয়া শুরু করেছিল। সাথে ছিল গম্ভীরকণ্ঠের বাণী, ‘ লাখ টাকার চাকরি করিনা। আশা করি এতে তোমার হাত খরচ হয়ে যাবে। আরোও লাগলে বোলো। মোস্ট ইম্পোর্টেন্ট টাকার মূল্য দিও। বড়লোক বাপের মেয়ে হয়ে মধ্যবিত্ত স্বামীর আয় বুঝে খরচ করবে আই থিংক। আর এই টাকার সাথে এইটা ভেবে নিও না যে আমি তোমাকে ভালোবেসে টাকা দিচ্ছি। আমি জাস্ট আমার দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন।’

বিভা নাকচ করেনি টাকা নিতে। কেন করবে? এই টাকায় তার অধিকার আছে। আর তার থেকেও বড় বিষয় সব ব্যাপারে নেতিবাচক চিন্তা আনলে চলবে? সব ব্যাপারে নেতিবাচক চিন্তা না এনে ইতিবাচক চিন্তাও আনা যায়। মাহাথির বিভাকে নিয়ে ভেবেছে, বিভার হাত খরচ নিয়ে ভেবেছে এইটাই কী যথেষ্ট নয় খুশি হওয়ার জন্য? বিভা তো এতেই খুশি। তাছাড়া বিভা যে ছোটখাটো অনলাইন বিজনেস করে তা মাহাথির জানে। জানা সত্ত্বেও নিজের স্ত্রীর হাত খরচের জন্য টাকা আলাদা করে দিচ্ছে ব্যাপারটা প্রতিবারের মতো এইবারেও বিভাকে ভীষণভাবে মুগ্ধ করল। বিভা উঠে গেল মাহাথিরের জন্য চা আনতে।

বিভা ফিরে এলো মিনিট পনেরো পড়ে। এসে দেখল মাহাথির বিছানায় বসে কাগজপত্র নিয়ে ঘাটাঘাটি করছে। এইটাই সময় মাহাথিরকে গিফট দেওয়ার। বিভা চায়ের কাপ খাটের পাশের ছোট টেবিলে রাখল। টেবিলটার কাছেই খাটে বসা মাহাথির।

বিভা গিয়ে নিজের ব্যাগ থেকে একটা সুন্দর ঘড়ি বের করল। আজ ভার্সিটি থেকে আসার পথে বিভা নিজের অজান্তেই কিনে ফেলেছে মাহাথিরের জন্য। বিভা ঘড়িটা নিয়ে চুপচাপ মাহাথিরের পাশে বসল। মাহাথির বুঝেও কিছু বলল না।

বিভা মাহাথিরের হাত থেকে কাগজ রেখে হাত এনে নিজের কোলে রাখল। ভীষণ যত্ন নিয়ে ঘড়িটা পরিয়ে দিল হাতে। এরপর মাহাথিরের কাঁধে মাথা রেখে মিষ্টি কণ্ঠে বলল, ‘ দেখুন মাহাথির, আপনার হাতে কী সুন্দর মানিয়েছে!’

ঘটনার আকস্মিকতায় মাহাথির নিজের হাতের দিকে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইল কেবল। বিভা তার কাঁধে মাথা রাখছে! বিভার থেকে এইসবকিছু আশা করেনি মাহাথির। পুরুষালি কণ্ঠে বলল,

‘ এইসবের মানে কী বিভা?’

‘ গিফট মাহাথির। আপনার জন্য।’

সরল কণ্ঠে বলেই বিভা মাহাথিরের বাহুতে থুতনি রেখে তাকাল তার দিকে, ‘ আপনার পছন্দ হয়নি? আজ ভার্সিটি থেকে ফেরার পথে কিনেছি। হঠাৎ করেই কিনলাম আপনার জন্য।’

‘ এইসব করে কী বুঝাতে চাইছো?’

‘ কিছুই বুঝাতে চাইছিনা মাহাথির। আবার অনেককিছুই বুঝাতে চাইছি। আপনার জানা দরকার আপনাকে কেউ অসম্ভব ভালোবাসে। আপনার জানা দরকার আপনাকে ভেবে কেউ তার পুরো দিন পার করে। কেউ সারাদিন আপনার কথা ভাবে। আপনি যে সকাল-বিকাল উচ্চারণ করেন আপনার কেউ নেই, কেউ নেই। আমি আছি তো মাহাথির। আপনার একান্ত ব্যক্তিগত মানুষ।’

মাহাথির কিছু না বলে গম্ভীরমুখে তাকিয়ে রইল। তা দেখে বিভা ফের বলতে শুরু করল, ‘ এইভাবে তাকিয়ে লাভ নেই। আপনাকে ভালোবাসি তাই প্রকাশ করছি। ভালোবাসলে প্রকাশ করতে হয়। নয়তো আপনি জানবেন কেমন করে?’

কিছুক্ষণ থেমে বিভা আবারো বলতে শুরু করল, ‘ আপনার ব্যাপারে আরোও একটা রহস্য উদঘাটন করলাম। আপনি অযথাই চিল্লান আমাদের বিয়ের ব্যাপারে। অথচ আপনার বিয়ে না মানার কোনো কারণ নেই। বিয়ের শুরুতে বলেছিলেন আমি কালো বলে মানেন না। আসলে এটাও আপনার জন্য কোনো সমস্যা না। সমস্যা হলো আপনার জেদ। আপনি কোনো সম্পর্কে থাকতে চাননি সেই জেদ থেকেই আপনার এমন আচরণ। ঠিক বললাম?’

মাহাথির ঠোঁট বেঁকিয়ে হাসল,

‘ খুব বেশিই চিন্তা করে ফেলেছো আমার ব্যাপারে। তোমার সবগুলো কথাই ভুল বিভা।’

মাহাথির উঠে দাঁড়িয়ে বিভার সামনে গেল,

‘ তোমার আর আমার সম্পর্কটা জাস্ট এন্ড জাস্ট অধিকার আর দায়িত্বের। আর তুমি আমাকে ভালোবাসো কি না বাসো এতে আমার কিছুই যায় আসেনা। আমার জন্য আমিই এনাফ। অন্য কারোর প্রয়োজন নেই। আর রইল তোমার গায়ের রঙ। যেখানে তোমাকেই পছন্দ করিনা সেখানে তোমার রঙ এর ব্যপারে ভাবাও দূরের কথা। তুমি আমি স্বামী-স্ত্রী তাই আমরা সংসার করছি। আজীবন করব। ভবিষ্যতে ভালোবাসা, মায়া যদি হয়’ও তাও জাস্ট হওয়ার জন্য হবে। আই মিন বলার জন্য বলব। তোমার সামনে থাকতে আমি স্বস্তি পাইনা বিভা একারণেই তোমার থেকে দূরে থাকি।’ বলেই মাহাথির গিয়ে বিছানায় বসল। এরপর আবারো বিভার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ বাই দ্যা ওয়ে, ঘড়িটা সুন্দর। হাতে সত্যিই মানাচ্ছে।’

বিভার আজ মন-মেজাজ ঠিক নেই। এই ভালো হচ্ছে তো এই খারাপ। এখনো তাই হলো। রেগে গেল বেশ। ইচ্ছে করল মাহাথিরের সামনে গিয়ে হাত থেকে ঘড়ি খুলে দূরে ছুঁড়ে ফেলতে, সাথে মাহাথিরের গালে একটা চড় লাগাতে। নিজের ইচ্ছেতে ছাঁই দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল বিভা।

.

মায়ের কোলে শুয়ে আছে পার্থিব। মাথায় যত্ন নিয়ে হাত বুলাচ্ছে তানহা বেগম। ছেলের গতিবিধি কয়েকদিন ধরে লক্ষ্য করেছে সে। সাথে নিজের ছেলেরবউ এর'ও। দু'জনের নিরব যু/দ্ধ আর কেউ না বুঝলেও তানহা বেগম ভালোই বুঝতে পারছে। চট্টগ্রাম যাওয়ার দিন হামিম, শ্রুতিসহ তার নিজের যত্ন নিতে বলে গেল। অথচ শ্রুতিকে একবারো ডাকল না। এরপর শ্রুতি এসে তার কাছে পার্থিবের ব্যপারে জানতে চাইল। তাছাড়া চট্টগ্রামে গিয়ে বার বার শ্রুতির কথা জিগ্যেস করা, শ্রুতির নির্লিপ্ততা, আজ বাসায় ফিরে শ্রুতিকে গিফট না দেওয়া, শ্রুতির রাগী, অভিমানী চেহারা সব যেন তাদের যু/দ্ধের চিহ্ন বহন করছে। মনের প্রশ্ন মুখে করল তানহা,

‘ শ্রুতির সাথে ঝগড়া হয়েছে?’

বড় নিঃশ্বাস ছেড়ে উত্তর দিল পার্থিব, ‘ না, মা। ঝগড়া কেন হবে?’

‘ তাহলে মেয়েটার সাথে ভালোভাবে কথা বলছিস না কেন? আবার গিফট’ও দিসনি। আমি কিন্তু সবই লক্ষ্য করেছি।’

‘ উনার মাথা থেকে ভূ/ত নামাচ্ছি, মা।’

তানহা সরল মনের মানুষ। অল্পতে চিন্তিত হয়ে পড়ে। পার্থিবের কথায় আতংকিত হয় গেল,

‘ ভূ/ত নামাচ্ছিস মানে? আসলেই কী বউকে ভূ/তে ধরেছে? তোর বাবাকে আমি বলব?’

পার্থিব মায়ের কোলে ভালোভাবে শুয়ে নির্লিপ্ত ভাবে বলল, ‘ হ্যাঁ মা, বলো। বাবাকে বলো ওঝা ডাকতে। আর ভূতের ডিটেইলস জানতে চাইলে বোলো সন্ন্যাসী ভূতে ধরেছে। যেই ভূত সংসার করতে দিচ্ছেনা তোমার বউমাকে। সন্ন্যাসী বানাতে চাইছে।’

_____

চলবে~

শব্দসংখ্যা - ১৮৬৫

#একগুচ্ছ_শুকতারা

#শারমিন_ইরান

[ আমার মনে হচ্ছে গল্পটা স্লো হয়ে গেছে আর বোরিং তো শুরু থেকেই। মাঝের দুই/তিনটা পার্ট অপ্রয়োজনীয় মনে হতে পারে কিন্তু এইগুলা না থাকলে পড়ে গিয়ে ফাঁকা লাগবে তাই লেখা। এই মাসেই গল্প শেষের চেষ্টা করব। তবুও, ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে ক্ষমা করবেন আশা করি।]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন