ফন্ট সাইজ:
থিম:
একগুচ্ছ শুকতারা

২৯তম পর্ব

লেখক: শারমিন ইরান

একগুচ্ছ শুকতারা

শারমিন ইরান

২৯.

সময় ভীষণ মূল্যবান। সময় কখনো কারোর জন্য থেমে থাকেনা। ধনী-গরিব সকলের ক্ষেত্রেই সময় ন্যায্য কাজ করে। পৃথিবীতে আপাতদৃষ্টিতে ধনীদের মূল্য বেশি। অথচ সময় ধনী-গরিব মানে না। পৃথিবীতে কখনো এমন শোনা যায়নি যে, কোনো বড়লোক অন্ততকাল বেঁচে আছে। এই পৃথিবীর বুকে যেমন গরিবের মৃত্যু হয়েছে, তেমনি ধনীদেরও।

সময় শুধু একা যায়না, নিয়ে যায় মানুষের সুখ, দুঃখের স্মৃতি; কখনো কখনোবা মানুষের জীবন। এই যেমন আজকের সময় নিয়ে গেছে আমিনা বেগমের জীবন।

বিভা, শ্রুতি বসে আছে আমিনা বেগমের মৃতদেহের সামনে। সকাল সকাল এমন খবরে দু'বোন চলে আসে। বিভার সাথে এসেছে মাহাথির। হাসিনা আসতে পারেনি, সিদ্দীক সাহেবের অসুস্থতা বেড়েছে। তাই তাকে হামিমকে দেখে রাখতে বলে এসেছে মাহাথির। শ্রুতির সাথে এসেছে তানহা বেগম, রুমা বেগম। বাকিরা কেউ বাড়িতে নেই। হিয়ার সাথে হিমেল গেছে তার শ্বশুরবাড়িতে। প্রভা-প্রত্যাশা নানুবাড়িতে। পার্থিবের বাবা, চাচা, পার্থিব সবাই একসাথে আছে চট্টগ্রামে। তাই খবর পাওয়া মাত্রই শ্রুতিকে নিয়ে তানহা আর রুমা বেগম চলে এসেছে।

বিভা নির্নিমেষ তাকিয়ে আছে দাদীর ফ্যাকাসে চেহারায়। বার বার মনে পড়ছে তিনদিন আগের বলা কথাগুলো। কথাগুলো যেন কানে বেজে চলেছে,

‘ বু, তোর চেহারাটা তো দেখলাম। এইবার শুতি আর হামিম রে নিয়া একবার ঘুইরা যাইস তো। ওদের কতোদিন হইয়া যায় দেখিনা। ওদের দেখতে ইচ্ছা করতাসে। একবার দেখাইয়া নিয়া যাইস। নয়তো আমারে নিয়া চল।’

দাদী অসুস্থ। বিভা চাইলেও দাদীকে নিয়ে যেতে পারতো না। তাই ভেবেছিল শ্রুতি, হামিমকে নিয়ে খুব দ্রুতই আসবে। কিন্তু দাদীতো তাকে সময়ই দিলোনা। বিভা শ্রুতির দিকে তাকাল। শ্রুতি দাদীর বুকে মাথা দিয়ে চুপ করে আছে। বিভার বুকটা কেঁপে উঠল যেন। বিভা দাদীর মাথার কাছে বসা ছিল। দাদীর কানে কাছে গিয়ে ধীরকণ্ঠে বলল, ‘ দাদীআম্মু, দেখো, তোমার শুতি বুকে মাথা রেখে বসে আছে। চোখ খুলো।’

দাদী চোখ খুলল না। বিভা জানে আর কখনো খুলবেও না। তবুও তার মন কেন চাইছে আর একবার মানুষটা চোখ খুলে তাকাক। বিভা নিজের চোখ বন্ধ করে ফেলল। চোখ থেকে গড়িয়ে পড়তে লাগল উত্তপ্ত অশ্রুকণা। বিভা দাদীর কপালে ভীষণ যত্ন নিয়ে চুমু খেল। মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। যেন বিভা হাত না বুলালে মানুষটার ঘুম ভালো হবেনা। বিভা মুখ দিয়ে গোল করে নিঃশ্বাস নিয়ে কান্না গেলার চেষ্টা করল। মানুষ তো মরবেই, তাতে এতো কাঁদলে চলবে? মানুষের ধর্মই তো ছেড়ে যাওয়া। বিভা নিজের চোখ মুছতে লাগল দুই হাত দিয়ে। মাহাথির হাত বেঁধে গম্ভীর মুখে বিভার কার্যকলাপ দেখল।

দাফনের সময় হয়ে গেছে। সবাই শ্রুতিকে সড়তে বলল। শ্রুতি সড়ছেনা। তানহা, রুমা বুঝাতে লাগল। শ্রুতি যেন কারোর কথা শুনতেই পাচ্ছেনা। বিভা এসে শ্রুতির পাশে বসল। শান্তকণ্ঠে বলল, ‘ এমন করেনা বোন।’

বিভার একটা কথা যেন একশোজনের বলার সমান মনে হলো শ্রুতির কাছে। শ্রুতি উঠে দূরে চলে গেল। দূরে বসে শাহিনা কাঁদছে, তার পাশে তার চারছেলে। শ্রুতি শুনেছিল মেয়ের আশায় নাকি আগের ঘরে তার সৎ মায়ের চার ছেলে হয়েছিল। তারাও চুপ করে বসে আছে মায়ের পাশে। শ্রুতির দেখতে ভীষণ বি শ্রী লাগল। সবচেয়ে বেশি বি শ্রী লাগল আমিন সাহেবের চেহারা। হঠাৎ করেই শ্রুতি উঠে গেল আমিন সাহেবের কাছে। গিয়ে শান্তকণ্ঠে বলল, ‘ আপনি জানাযায় অংশ নিয়েন না, আমিন শিকদার। প্লিজ।’

আমিন শিকদার ভরা মজলিসে এমন কথা আশা করেনি। স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল,

‘ আজকের দিনে অন্তত তামাশা করোনা।’

শ্রুতি তাচ্ছিল্য হাসল, ‘ যেই মায়ের চিকিৎসা করাননি, সেই মায়ের দাফনে অংশ নিতে লজ্জা করবেনা?’

‘ বেশি কথা বলছিস কিন্তু তুই।’ আমিন সাহেব হালকা গ র্জে উঠল।

‘ মিথ্যা কী বলেছি? আপনি জানতেন না, আপনার মা অসুস্থ? একবারো প্রয়োজন মনে হয়নি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার? ছেলে হয়ে যখন দায়িত্ব পালন করেননি, তাহলে এখন দাফনও করতে হবেনা।’

‘ শাহিনা, ওকে ঘরে নিয়ে যাও।’ আমিন সাহেব চেষ্টা করলেন বিষয়টা সামলানোর। শ্রুতি তা হতে দিলনা। চিৎকার করে উঠল,

‘ কোথাও যাবনা আমি। কেন চিকিৎসা করাননি বলুন? উত্তর দিন সবাইকে। সবাই জানুক।’

আমিন সাহেবও আর নিজেকে সামলাতে পারল না, ‘ চিকিৎসা কেন করাব আমি? উনার একার ছেলে আমি? আর ছেলে নেই? সে না করালে আমার কী ঠ্যাকা পড়েছে একা চিকিৎসা করানোর? আমার টাকা কী এতোই সস্তা মনে হয়?’

শ্রুতি ঠোঁট বেঁকিয়ে হাসল, ‘ গ্রামে থাকা চাষী ভাইয়ের সাথে নিজের তুলনা করছেন? যেই ভাই কিনা নিজের পরিবারই ঠিকভাবে চালাতে পারেনা তার সাথে? এতো ছোট মন আমিন শিকদারের? ছিহ!’

বলেই থুথু ফেলল আমিন শিকদারের সামনে। আমিন শিকদার হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলেন। রাগে তার শরীর কাঁপতে লাগল। অন্যদিকে সবাই চুপ করে বাবা- মেয়ের কাহিনী দেখতে ব্যস্ত।

বিভাও চুপ করে আছে। সে জানে সবই। তার দাদী অনেক বছর ধরেই অসুস্থ ছিল। নানা রোগে আক্রান্ত থাকতো। সে অনলাইন বিজনেস করে বছর তিনেক ধরে। টাকা পাওয়ার পর অনেকবারই দাদীকে ডাক্তার দেখিয়েছে, ঔষধ এনে দিয়েছে। সাথে আমিন সাহেবও টাকা দিত কিন্তু তার ভাই গ্রাম থেকে যতো টাকা পাঠাতো ঠিক সেই পরিমাণেই আমিন সাহেবও দিত। না কম, না বেশি। দাদীকে নিয়ে প্রথম প্রথম ডাক্তার দেখাতে গেলেও পরে দাদীকে রাজি করাতে পারতো না বিভা। ডাক্তারের নাম করলেই রাগারাগি শুরু করতো। চিৎকার, চেঁচামেচি করে প্রেশার বেড়ে নতুন কান্ড। তবুও শেষ কয়েকদিন বিভা চেষ্টা করেছিল, তবে বিশেষ লাভ হয়নি। আমিন শিকদারকে প্রথম প্রথম বলতো, এরপর আর বলেনি।

নোং/রা মানুষটার সাথে কথা বলতে তার রুচিতে বাঁধে। তাই কথা বলা তো দূর, বিভা পারলে তাকায়ওনা নিজের বাবার দিকে।

সবার মধ্যে থাকা আমিন শিকদারের ভাইও মাথা নিচু করে ফেলল। মায়ের খবর শুনে সকাল সকালই স্ত্রীকে নিয়ে এসে পড়েছে সে। সন্তানদের আনেনি। এখন এসে ভাইয়ের এই ব্যবহারে তার মরে যেতে ইচ্ছে করছে। তার সাথে তার বড় ভাইয়ের তুলনা চলে?

শ্রুতি আরোও কিছু বলতে গেলেও অন্যান্য মহিলারা তাকে আটকে ফেলল। শ্রুতি চোখ ভরা অশ্রু নিয়ে কেবল বলল, ‘ আল্লাহ আপনাকে ছাড়বেনা আমিন শিকদার। আল্লাহ আপনাকে ছাড়বেনা। কক্ষনও না।’

তানহা বেগম এবং রুমা বেগম ভীষণ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।

এরপর মাহাথিরসহ বাড়ির সব ছেলেরা জানাযায় অংশ নিল।

দাফনের পর পরই বিভা, শ্রুতিসহ অন্যান্য আত্মীয়স্বজন বেরিয়ে গেল নিজেদের বাসার উদ্দেশ্যে। এই বাড়িতে থাকার অর্থ হয়না। বিভা যাওয়ার আগে তানহা বেগমকে বলতে ভুলল না, ‘ শ্রুতির একটু খেয়াল রাখবেন প্লিজ।’

.

বিভা রারান্দায় বসে আছে। একটু আগেই হামিমের সাথে কথা বলে এলো। হামিমকে যখন বলা হলো, দাদী নেই। মারা গেছে। তখন হামিম তেমন বিশেষ প্রতিক্রিয়া দিল না। বিভা আশাও করেনি। সে তো জানে যে তার ভাই স্বাভাবিক নয়, সব বুঝেনা। তাইতো দাদীকে চিনলেও তার মারা যাওয়ার খবর তার ভাইকে বিচলিত করতে পারলনা।

মাহাথির ঘরে ঢুকে অবাক হলো। ঘরে কোথাও বিভা নেই। বাহিরেও তো ছিলনা। মাহাথির ধীর পায়ে বারান্দায় এলো। তার ধারণা সত্যি। বিভা হাঁটু জড়িয়ে ধরে তাতে মাথা হেলিয়ে দিয়ে বসে আছে। মাথাটা অপরপাশ করা। চেহারা দেখা যাচ্ছেনা। মাহাথির এক হাঁটু ছড়িয়ে অন্য হাঁটুতে নিজের হাত রেখে বসল।

বিয়ের পর প্রথমবারের মতো নিজে থেকে ভালোবেসে বিভার মাথায় হাত রাখল। বিভা অবাক হয়ে মাথা তুলল। মাহাথিরকে দেখে তার বিস্ময় বাড়ল শতগুণ।

আদর পেলে আশকারা বেড়ে যায়। বিভার ক্ষেত্রেও তাই হলো। মাহাথিরের শান্ত, করুণ দৃষ্টিতে বিভা যেন আশকারা পেয়ে গেল। মনের সকল দুঃখ গুলো উপচে পড়তে চাইল। বিভার চোখ থেক বড় বড় অশ্রুকণা পড়তেই বিভা দুইহাত দিয়ে মুছতে লাগল। এরপর আবারো হাঁটুতে মুখ গুজে দিল।

মাহাথির শান্ত চোখে বিভাকে দেখে গেল। বিভার শরীরের কাঁপন বুঝিয়ে দিচ্ছে সে কতোটা কষ্ট থেকে কাঁদছে! মাহাথির শান্তভাবে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে চেয়ে রইল বিভার দিকে।

.

শ্রুতি আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। তার দাদীআম্মু চলে গেল। তাও আকাশে দুইটা চাঁদ উঠল না কেন? উঠা তো উচিত ছিল তাইনা? একটা হতো তার মা, একটা হতো তার দাদী। নেই কেন? শ্রুতি বড় করে শ্বাস নিল। সে অনেক বড় হয়ে গেছে। তবুও এই চাঁদ-তারার খেলা থেকে বের হতে পারেনা। থাকুক না কিছু ছেলেমানুষী। ক্ষতি কী? শ্রুতি মাথা নিচু করে চোখের পানি মুছতে গেল। পারল না। তার আগেই শুনতে পেল,

‘ শ্রুতি?’

কারোর ব্যগ্র কণ্ঠে পিছনে ফিরে তাকাল শ্রুতি। পার্থিব দরজার নব ধরে দাঁড়িয়ে আছে। বুঝতে পারল রুমে ঢুকে দরজা খুলেই সে শ্রুতিকে ডেকেছে। শ্রুতি ধীর পায়ে বারান্দা থেকে বারান্দার দরজায় এলো। পার্থিবের দিকে লক্ষ্য করে দেখতে পেল সে ঘরের চারদিকে চোখ বুলাচ্ছে আর জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। হাঁপিয়ে গেছে ভীষণ। নেভি ব্লু ব্লেজার এর নিচের শার্ট ঘামে ভেজা। মুখও ঘেমে আছে।

পার্থিব শ্রুতিকে দেখেই বড় বড় পা ফেলে এসে শ্রুতিকে জড়িয়ে ধরল। হঠাৎ আক্রমণে পিছিয়ে গেল শ্রুতি। পার্থিব এক হাতে শ্রুতির মাথা বুকে চেপে ধরে আছে, অন্য হাত শ্রুতির পিঠে। শ্রুতির নিরব দুঃখরা যেন ডানা ঝাপটে বেরিয়ে এলো। চোখ দিয়ে পড়তে থাকল অশ্রু। ফুঁপিয়ে উঠল শ্রুতি।

অন্যদিকে পার্থিব শ্রুতিকে জড়িয়ে ধরে বলছে, ‘ আই এম সরি, শ্রুতি। আ’ম সরি। আমি জানতাম না এমন কিছু হবে। আ'ম সরি। আমাকে মাফ করে দিন প্লিজ।’

শ্রুতি কিছু বলল না। পার্থিব তার কাছে ক্ষমা চাইতেই থাকল। পার্থিব খবরটা পায় সকাল ১১ টায় যেখানে ১২ টায় জানাযা দেওয়া হয়েছে। তখন অনেকবেশি দেড়ি হয়ে যায়। ইমার্জেন্সি ভাবে আসার চেষ্টা করেছিল, সম্ভব হয়নি। আর এসেও সে জানাযায় অংশ নিতে পারতো না। তবুও, চেষ্টা করেছে যথাসম্ভব দ্রুত চলে আসতে।

পার্থিব শ্রুতিকে জড়িয়ে ধরে জোড়ে জোড়ে শ্বাস নিচ্ছে। শ্রুতির কাঁপনে বুঝতে পারল মেয়েটার কাঁদতে কাঁদতে হিঁচকি উঠে গেছে। পার্থিব শ্রুতির সারামুখে চুমু খেল। কপালে চুমু খেয়ে আবারো জড়িয়ে ধরল। পার্থিবের আদরে শ্রুতির কান্না থামার বদলে বাড়ল। শ্রুতি শান্ত হচ্ছেনা। পার্থিব শ্রুতিকে বসিয়ে পানি খাওয়ালো। হিঁচকি তখনো থামেনি। পার্থিবের কাছে শ্রুতির এই অবস্থা দেখতে ভালো লাগছেনা। সে বিছানায় বসে শ্রুতিকে আবারো নিজের বাহুতে আবদ্ধ করে নিল।

কিছুসময় ওভাবেই অতিবাহিত হয়ে গেল। পার্থিবকে অবাক করে দিয়ে শ্রুতি পার্থিবের বুকেই ঘুমিয়ে পড়ল। পার্থিবও যত্নের সাথে আগলে রাখল। মনে মনে ভীষণ আফসোস হলো। সে কাজের জন্য দূরে না থাকলে, সে নিজেও জানাযায় অংশ নিতে পারতো। দাদীকে যতোটুকু দেখেছিল ভীষণ ভালোমানুষ ছিল তিনি। সাথে বেশ মজার। অল্প পরিচয়েই ভালো সাক্ষাৎ গড়ে উঠেছিল। এরপর চোখের পলকে কোথায় দিয়ে সাড়ে পাঁচ মাস পেরিয়ে গেল পার্থিব বুঝতে পারল না। মাঝে ফোনে কথা অবশ্য হয়েছে, তবুও দেখা তো হয়নি। তার উচিত ছিল দেখতে যাওয়া। ইশ! বড্ড আফসোস হচ্ছে।

আফসোস হয়েও উপায় নেই। মানুষটা চলে গেছে। আর ফিরবে না। একজন মানুষ চলে যাওয়ার পরে রেখে যায় শুধু আফসোস আর আফসোস।

_____

চলবে~

শব্দসংখ্যা - ১৪৮০

#একগুচ্ছ_শুকতারা

#শারমিন_ইরান

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন