একগুচ্ছ শুকতারা
শারমিন ইরান
৩০.
মির্জা গালিবের কাব্যানুবাদে একটা কথা আছে — সন্ধ্যা কাটে না, অথচ বছর কেটে যায়। কথাটা হয়তো শতভাগ অংশে সত্যি। আমরা মানুষ প্রজাতিরা একটা সন্ধ্যা পার করতে হিমশিম খাই, কীভাবে সময় কাটাব ভেবে উঠতে পারিনা। অথচ কোথায় দিয়ে বছর চলে যাচ্ছে — সেই খবরও আমাদের রাখা হয়ে ওঠেনা। দিনের হিসাব করতে গেলে বোধহয় মিলাতেও পারব না। আচ্ছা কোথায় দিয়ে যায় সময়?
এই যে পার হয়ে গেল ১৫ দিন। চোখের পলকে। কাল বাদে পরশু বিভা-মাহাথির, শ্রুতি-পার্থিব এর বিয়ের ৬ মাস পড়বে। অথচ ভাবতে গেলে মনে হয় — দুইদিন আগে না বিয়ে হলো?
মাহাথির বের হলো অফিস থেকে। তাকে কিছুটা উদাসীন দেখাচ্ছে। সাথে চিন্তিতও। মাহাথির অফিস থেকে বের হয়েই এদিক-ওদিক তাকিতুকি করতে লাগল। কাঙ্ক্ষিত জিনিসটা হয়তো পেল। বড় বড় পা ফেলে এগিয়ে গেল শপে। আশেপাশে আর কোনো দোকান নেই এখানে। তাছাড়া তার বাড়ির সামনে থেকে যে কিনবে সেখানেও নেই। মাহাথির শপ থেকে এক বক্স আইসক্রিম কিনে ফেলল। আইস্ক্রিম কিনে কপালের ভাঁজ আরোও দৃঢ় ভাবে ফেলল। বিভা কী চকলেট ফ্লেভার পছন্দ করে আদৌও? মাহাথির বক্সের দিকে তাকালে দেখল সেখানে দু'ফ্লেভার মিক্স করা আইস্ক্রিম। অর্ধেক চকোলেট, অর্ধেক মিল্ক ফ্লেভার, উপরে ছোট ছোট চকলেট চিপ্স। মাহাথির পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করে দেখল পকেটে আরোও তিনশো টাকা অবশিষ্ট আছে। সে ঘুরে যেতে নিলেই শুনতে পেল,
‘ আইস্ক্রিমের বক্স বুঝি আমার জন্য কিনলি?’
মাহাথির পাশে তাকিয়ে কিছুটা হকচকিয়ে গেল। আনাস কখন এলো? সে নিজের মনের ভাবটা গলায় প্রকাশ করল,
‘ তুই?......বাড়ি যাসনি?’
‘ উহুম! যাইনি। আসলে আমার বন্ধুকে কোন ভূ তে ধরল সেটা দেখতেই এসেছিলাম। তুই কবে থেকে আইস্ক্রিম খাওয়া শুরু করলি মাহাথির? আইস্ক্রিম খেলে না তোর ঠান্ডা লাগে?’
মাহাথির চুপ করে গেল। পলক ফেলল বার কয়েক। এই আনাস কতোক্ষণ ধরে তাকে লক্ষ্য করছে? সে আনাসকে লক্ষ্য করল না কেন? সে কি এতোই উদাসীন ছিল? একদম দিন দুনিয়া ভুলে যাওয়ার মতো উদাসীন? কিন্তু কার জন্য? বিভার জন্য?
‘ কিরে বল?’
‘ হামি…বি..বিভার জন্য। আব…নিলাম আরকি।…. বাসায় একা….। মেয়েমানুষ…। খাবে..আরকি।’ মাহাথির কী বলবে ভেবে পেল না। মাথা এদিক-ওদিক ঘুরিয়ে থেমে থেমে অগোছালো কথা দিয়ে নিজের উত্তর শেষ করল। সে মিথ্যা বলতে পারে না। তার মুখ দিয়ে মিথ্যা বের হতে গেলে সত্যরা প্রতিযোগিতা করে আগে বের হয়ে যায়। ঠিক যেমনটা এখন হলো। হামিম উচ্চারণ করতে গিয়েও বিভা উচ্চারণ করে ফেলল। মাহাথির চারদিক তাকিতুকি করে উশখুশ করতে লাগল।
আনাস মাহাথিরের অবস্থা দেখে অন্যদিকে তাকিয়ে মুখ হা করে দুই হাত দিয়ে নিজের গাল চেপে ধরল। উদ্দেশ্য নিজের হাসি থামানো। নিজেকে স্বাভাবিক করে মাহাথিরের দিকে ফিরল আনাস। নিজের সাথে যু দ্ধ করে কেবল মুখ দিয়ে বের করল, ‘ ওহ! আচ্ছা।’
কথা বলতে গেলেই হাসি বের হচ্ছে। মহা ঝা মেলায় পড়ল তো আনাস। আনাস নিজের হাসি প্রকাশ করে মাহাথিরকে অস্বস্তি দিতে চাচ্ছে না। নিজের হাসিও আটকাতে পারছেনা। তাই বলল, ‘ বন্ধু, বাড়ি গেলাম।’
মাহাথির মাথা নেড়ে সায় দিয়ে অন্যদিকে ঘুরল। আনাস তা দেখে বলল, ‘ কিরে! ওই দিকে আবার কই যাস?’
মাহাথির আগের মতোই অস্বস্তি নিয়ে নিজের হাত উঁচু করে বক্স দেখিয়ে বলল,
‘ স্ট্রবেরি ফ্লেভার কিনতে যাচ্ছি।’
‘ এটা ফিরিয়ে দিবি?’
‘ না। দুটোই নিব। কোনটা খায়..জানি না আরকি। এটা না খেলে টাকা নষ্ট না?’
‘ হ্যাঁ, তাই তো, তাই তো।’ বলেই আনাস মুখ ফিরিয়ে নিল। মাহাথিরের লজিক শুনে হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারল না। হেসেই দিল। প্রাণোচ্ছল হাসি। তার বন্ধু সত্যিই একটা গর্দ ভ। যাক! আল্লাহ তাও সুবুদ্ধি দিচ্ছে — এই বা কম কী?
.
বাইক চলছে স্বাভাবিক এর থেকে একটু বেশি গতিতে। শাঁ শাঁ আওয়াজ তুলে রিকশা, সিএনজি পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে মাহাথির। সে ভীষণভাবে চিন্তিত। তবে সে জানে যে, সে বেহুদা চিন্তায় সময় নষ্ট করছে। তবুও, চিন্তা চিন্তাই হয়। চিন্তা কখনো যৌক্তিক বা অযৌক্তিক চিন্তা হয়না। সে চিন্তার কথা মাথা থেকে ধা ক্কা মেরে বের করার চেষ্টা করল। হয়তো সফল হলো। রাস্তায় মনোযোগ দিল। তবে মানসপটে ভেসে উঠল নতুন দৃশ্য — আজ সকালে সে যখন ঘর থেকে বের হতে নিল, বিভা এগিয়ে এলো। প্রতিদিনের মতো ফুঁ দিয়ে দিল। ঠিক তখনি ঘটল বিপত্তিটা। মাহাথির যখন চোখ তুলে তাকাল, দেখতে পেল বিভার কপালের দুপাশ পেয়ে দু'ফোঁটা ঘাম পড়তে পড়তে গলায় এসে ঠেকল। এরপরই সে বের হয়ে গেল ঘর থেকে। অথচ বিভার মুখটা ভুলতে পারল না। আশ্চর্যজনকভাবে সে বিভার কথাই ভেবে গেল সারাটা সকাল, সারাটা দুপুর, সারাটা সন্ধ্যা। একারণেই তো আইসক্রিম কেনা। গরমে আইস্ক্রিম খেলে ঠান্ডা লাগবে।
বলা বাহুল্য তার কিছুক্ষণ আগের চিন্তাও ছিল বিভাকে নিয়ে। তবে সে তো বিভাকে ভাবতেই চায়না, ভাবছে কেন তাহলে?
দরজা খুলল বিভা। খুলেই সড়ে গেল পাশে। মাহাথির হাতের ব্যাগ বাড়িয়ে দিল। পলিথিনে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে আইস্ক্রিম। বিভা চোখ তুলে তাকাল,
‘ এসব কার জন্য?’
আবারো অস্বস্তিকর প্রশ্ন! মাহাথিরের মাথায় জেদ চাপল। বলল,
‘ কার জন্য আবার? সবার জন্য। এতো টাকা নেই যে স্পেসিফিকভাবে জনে জনে আনব।’
বিভা ঠোঁট চেপে চলে গেল।
মাহাথিরের রাগ আরোও বেড়ে গেল। আগের চিন্তা আবারো মাথাচাড়া দিতেই ঘরে গেল। ঘরে ঢুকেই বিভার ফোন খুঁজতে লাগল সে। আল্লাহ হয়তো সহায় হলো, খুব সহজেই পেয়ে গেল টেবিলের ওপর। সে গিয়ে ফোন তুলতেই দেখল ফোনে লক। আরোও বিরক্ত হলো।
খাটে বসল মাহাথির। গায়ের শার্ট খুলল ভীষণ রকমের বিতৃষ্ণা নিয়ে।
বিভা ঘরে ঢুকে দেখতে পেল মাহাথির ফ্যান না ছেড়ে বসে আছে। অবাক হয়ে ফ্যান ছেড়ে দিল। পানির গ্লাস বাড়িয়ে ধরল মাহাথিরের দিকে। মাহাথির পানির গ্লাস নিল। বিভা যেতে নিলে মাহাথির স্বাভাবিক কণ্ঠে ডাকল,
‘ বিভা, ফোনে কী কিছু হয়েছে? মানে ডিসপ্লে প্রবলেম বা সামথিং….?’
বিভা এমন প্রশ্নে তাকিয়ে রইল। বলল,
‘ না। কেন?’
‘ এমনি। যাও তুমি।’
তারমানে ফোনে সমস্যা হয়নি কোনো। তাহলে? তাহলে কী ব্যালেন্স ছিল না নাকি? মাহাথির নিজের ফোন অন করল। বিকাশে ঢুকে বিভার ফোন নাম্বারে রিচার্জ করে দিল ১০০ টাকা, সাথে দিল ১২০ মিনিট।
কাজ শেষ করেই বিছানায় চিত হয়ে শুয়ে পড়ল। তাকিয়ে দেখতে লাগল তিন পাখার ঘূর্ণন।
মাহাথির বিয়ের এক সপ্তাহ পর থেকে অফিস জয়েন করে। আর বিভা মাহথিরের অফিস জয়েনের পর থেকে প্রত্যেকদিন ফোন দেয়। গুণে গুণে তিনবার ফোন দেয় তিন প্রয়োজনে। সকাল নয়টা বাজে দেওয়ার কারণ ফোন করেই জিগ্যেস করে — ভালোভাবে পৌঁছেছেন মাহ্থির? দুপুর দুইটা বাজে দিয়ে বলে — মাহ্থির খাবার দিয়েছি। খেয়ে নিয়েন প্লিজ। খাবারের ওপর রাগ দেখাবেন না। সন্ধ্যা ছয়টায় দিয়ে বলে — সাবধানে আসবেন। বাইক বেশি জোড়ে চালাবেন না। আপনার জন্য কেউ অনেক চিন্তা নিয়ে অপেক্ষায় থাকে।
তিন ফোনে বাড়তি কোনো কথা বিভা বলেনা। আগে যখন বাসা থেকে খাবার দিত না, তখন শুধু বলত খেয়ে নিতে।
বিভা যতটুকু বলার ততটুকু বলে ফোন কেটে দেয়। অথচ আজ প্রথমবারের মতো বিভা তাকে ফোন দেয়নি। ভাবতেই মাহাথিরের মনে হলো তার বুকে কোনো ভারি বস্তু দিয়ে চাপ দেওয়া হলো।
প্রথমত বিভার ঘর্মাক্ত মুখ, দ্বিতীয়ত ফোন না দেওয়া — সব মিলিয়ে দিনটা কাটল জ/ঘন্য, বিষা/ক্ত, তেঁতো। অথচ নিজের এমন অবাঞ্ছিত কষ্টের কারণ মাহাথির খুঁজে পেল না। সে বিভার জন্য চিন্তা করছে ভাবতেই মনে হলো সে মাহাথির নয়, অন্যকেউ। আচ্ছা তাকে কী জ্বী/ন-ভূ/ত ধরল? গ্রামে শুনেছিল খারাপ বাতাস লাগে। তারও লেগেছে নিশ্চিত। নয়তো সামান্য ব্যাপারে কেউ এতোটা উদ্বিগ্ন হয়? ফোন না করাতে কারোর বুকে চাপ সৃষ্টি হতে পারে? এমন মানুষও আছে নাকি দুনিয়াতে? আচ্ছা, সে কী পাগল হয়ে গেল? নয়তো এইসব কী হচ্ছে তার সাথে।
মাহাথির নিজের চুল খামছে ধরল। সে নিজেকে চিনতে পারছে না, নিজেকে বড্ড অচেনা লাগছে। সে মাহাথির হতে পারে না, একদমই পারেনা।
রাতে খাওয়ার সময় মাহাথির জানতে পারল হামিম আজ অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। মুখ নীলবর্ণ ধারণ করেছিল। শুনে মাহাথির প্রচন্ড অবাক হয়ে গেল। আরোও জানতে পারল বিভা সারাদিন হামিমের পেছনেই ছিল। মাহাথির আড়ালে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। বিভা তাহলে এইকারণে তাকে ফোন দিতে পারেনি? মাহাথির ভাবল হামিমকে দ্রুতই অপা/রেশন করানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
খাওয়ার পরে উঠে মাহাথির হামিমের ঘরে গেল। হামিমের ঘর বলতে আগে মাহাথির এই রুমটাকে স্টোর রুম বানিয়েছিল। এরপর যেদিন হামিম এলো, সে নিজেই সবকিছু পরিষ্কার করে, ধোঁয়া-মোছা করে ঝকঝকে নতুন রুম বানিয়ে দিল। এরপর আনা হলো নতুন একটা সরু খাট।
একটা খাট, খাটের পাশে ক্যানভাসসহ কিছু সামগ্রী, একটা/দু'টো কৃত্রিম গাছ। সব মিলিয়ে ছিমছামভাবে রুমটা সুন্দর। বড় জানালা থেকে আলো এসে রুমটাকে আরোও প্রকৃতির সৌন্দর্যে ভরিয়ে তুলে।
মাহাথির তাকাল হামিমের ঘুমন্ত মুখের দিকে। ছোট টুল টেনে বসল খাটের পাশে। কপালে ভাঁজ ফেলে বলল, ‘ তুমি অসুস্থ কেন হতে গেলে ব্রাদার? তোমার জন্য তোমার আপা আমাকে ফোন করতে পারল না। আর আমি চিন্তায় চিন্তায় ভাবলাম ফোন খারাপ টারাপ হয়ে গেল কিনা, নাকি ফোনের ব্যালেন্স শেষ। অথচ সে ছিল তোমার পিছনে। এইসবের মানে হয়?’
কথাগুলো বলার পর মাহাথির হতভম্ব হয়ে গেল নিজের কথায়। সে এসব কী বলছে আশ্চর্য! সে খাওয়ার পর ভাবল হামিমকে দেখে ঘুমাবে। ভালো মন নিয়ে এলো। অথচ মুখ থেকে এসব কী বের হয়ে গেল! সে কী আসলেই পাগল হয়ে গেল? নিজেকে নিয়ে চিন্তায় মাহাথিরের মুখ শোচনীয় হয়ে উঠল।
.
শ্রুতি বসে আছে। এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে মেঝের দিকে। পার্থিবকে সে গত দশদিন থেকে এড়িয়ে চলছে। যেই সেই এড়িয়ে চলা নয়, ভয়ং/কর রকম এড়িয়ে চলা। পার্থিব খেতে বসলে সে পরে খায়, পার্থিব কথা বলতে এলে ঘুমের অজুহাত দেখিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে আবার রাতে পার্থিব ঘুমানোর পর চোরের মতো রুমে ঢোকে। এইসব এড়িয়ে চলার পিছনের কারণ — সে পার্থিবকে ভীষণ লজ্জা পাচ্ছে।
দাদী মারা গেছে পনেরো/ষোলো দিন হয়। সে যখন দাদীর মৃত্যুটা কোনোভাবে সামলে উঠল তখনি তার মাথায় কেবল ঘুরতে লাগল পার্থিবের স্পর্শগুলো। এর আগেও পার্থিব তার কাছে এসেছে। হাত ধরেছে, পেছন থেকে জড়িয়ে ধরেছে, দুষ্টুমি করেছে। কিন্তু ওইদিনের জড়িয়ে ধরা, চুমু খাওয়া — সব ভাবতেই শ্রুতির গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে। কী ভয়ংকর লোক!
পার্থিব রুমে ঢুকতেই শ্রুতি চমকে উঠে দাঁড়াল। ইশ! আজকে ভুলে হয়ে গেল। উনি ঘুমানোর পরে ঢোকা উচিত ছিল। ভেবেই আবার বসে পড়ল।
পার্থিব শ্রুতির সামনে এসে দাঁড়িয়ে রইল। কিছু না বলেই কেবল শান্ত চোখে দেখে গেল। শ্রুতি নিজের লজ্জা সামলে রাগী কণ্ঠে ধমক দিল,
‘ এইভাবে তাকিয়ে আছেন কেন? ঘুমাতে যান।’
‘ আমার সাথে ঘুমাতে চাচ্ছেন?’ পার্থিবের নির্লিপ্ত কণ্ঠে শ্রুতি মনে মনে চমকে গেল। উনার সাথে ঘুমাবে কেন শ্রুতি? শ্রুতি আবারো ধমকে উঠল,
‘ অস ভ্যের মতো কথা না বলে শুয়ে পড়ুন। রাত হয়েছে। আপনার জন্য রাত বসে থাকবে না। রাতের কাজ শেষ হলে রাত দিন হয়ে যাবে।’
‘ আপনি আমার জায়গায় বসে আছেন শ্রুতি। তাই বলছি, আপনি কী আমার সাথে ঘুমাবেন? আমার কোলে ঘুমাতে চাচ্ছেন? না চাইলে আমি আপনার কোলে ঘুমাই? আমার সমস্যা নেই।’
শ্রুতি হতভম্ব হয়ে উঠে গেল। সাথে ভীষণ লজ্জাও পেল। সে খেয়াল করেনি যে সে পার্থিবের খাট নামক উঁচু তোষকে বসে ছিল। শ্রুতি বিছানায় চলে যেতে নিয়েও গেল না। পার্থিবের দিকে তাকিয়ে নিজের দোষ পার্থিবের ঘাড়ে চাপিয়ে দিল,
‘ আমি এখানে বসেছি বলে তাতে কী হয়েছে শুনি? যখন দেখলেন আমি এখানে বসে আছি, আপনার কী উচিত ছিল না খাটে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়া? না ঘুমিয়ে এখানে দাঁড়িয়ে থেকে আবার বড় বড় কথা বলছেন!’
ঝাঁঝালো কণ্ঠের কথা শেষ করে খাটে উঠে কাঁথা মুড়ি দিল শ্রুতি। পার্থিবের দিকে তাকাতে লজ্জা করছিল, তবুও অনেক কষ্টের রাগ ঝেড়ে এলো সে।
অন্যদিকে পার্থিব ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইল তোষকের দিকে। এমন আহা/ম্মক বউ তারই হতে হলো? হ্যাঁ, তারই হতে হলো। শ্রুতি শুধু তারই বউ। তার মেহমান বউ। ভেবেই নিজের ঠোঁটে হাসি ফোটাল পার্থিব। তবে চিন্তাও আছে, শ্রুতি কী কখনো তার আপন বউ হওয়ার চেষ্টা করবেনা? সারাজীবন মেহমান বউ হয়েই থেকে যাবে?
____
চলবে~
শব্দসংখ্যা - ১৬৩৬
#একগুচ্ছ_শুকতারা
#শারমিন_ইরান
[মাহাথির বেচারার জন্য দুঃখ লাগছে সামনের দিনের কথা ভেবে।]
[গল্পে বড় করতে চাইছিনা তবুও কাহিনীর জন্য হয়ে যাচ্ছে। এতোটুকু না হলে পড়ে আমার কাছেই মনে হবে খাপছাড়া। চেষ্টা এবং আশা থাকবে ৪৫ এর মধ্যে শেষ করার।]