#আকস্মিক_আগমন
#সামিয়া
#পর্ব_০২
তখন ই ট্রেন ছেড়ে দেয়। মাহা উমায়েরকে বলে,
---খুব ই ইউনিক নাম তোমার। তবে আমি মায়সাম বলেই ডাকবো।
---আমার মা আমাকে এই নামে ডাকে।
এভাবে ওদের কথোপকথন চলতে থাকে। দিশা ওদের দিকে বারবার তাকাচ্ছে আর উশখুশ করছে। পিয়াল রেগে বলে,
---কি সমস্যা তোর?
---দেখেছিস, উমায়েরটা কত কথা বলছে?
---হুম আমিও তাই ভাবছি।
---এবার কিন্তু আমার জেলাস ফিল হচ্ছে।
---কেন? পছন্দ টছন্দ করিস নাকি?
---এ কারণেই বলি তুই টুকে চান্স পেয়েছিস। এইটা হলো বন্ধুগত জেলাসি।
---ওও।
পেয়ালকে এসব বললেও দিশার একটু মন খারাপ লাগছে বটে। এত সুন্দর করে তো উমায়ের ওর সাথেও কথা বলে না। তারপর আবার বারবার ঐ মেয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলছে যা রীতিমতো ওকে কষ্ট দিচ্ছে। কিন্তু তাও সিনিয়র আপু বলে ওও নিজেকে শান্তনা দেয়। তখন ই মাহা ওর দিকে তাকালে ইশা একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে বাইরে তাকায়। আশেপাশের গাছপালা গতিশীল। ইশা সেসব ই দেখতে থাকে। ওদিকে পিয়াল সিটেই ঘুমিয়ে পড়ে।
মাহা ইশার থেকে চোখ ফিরিয়েই উমায়েরকে বলে,
---ফ্রি এডভাইজ ভাবতে পারো যা তোমাকে সিনিয়র হিসেবে দিচ্ছি।
---কী?
---ইশার চোখ দেখে মনে হচ্ছে ওও তোমাকে অনেক পছন্দ করে। মেয়ে হয়ে ওর চোখের ভাষা বোঝা আমার জন্য কঠিন না।
---আমি জানি। তবে ওকে বুঝতে দেইনা যে আমি বুঝি। আমি আমাদের বন্ধুত্ব নষ্ট করতে চাই না। ওকে আমি আমার তাকদীর মানে আমার জীবনসঙ্গী হিসেবে চাই না।
---তো কাকে চাও?
---কাউকে না।
---বিয়ে করবে না নাকি?
---করবো।
---তবে?
তখন ই বিমানবন্দর স্টেশনে ট্রেন থামে। আশেপাশে অনেক শোরগোল। মানুষ এদিক সেদিক ছুটতে থাকে। হকাররা তাদের জিনিসপত্র বিক্রির জন্য ছুটোছুটি করছে। মাহা সেসব দেখতেই বুদ হয়ে যায়। অয়ন সামনে থেকে মাহাকে জিজ্ঞেস করে কিছু খাবে কি না। মাহা বারণ করে। অয়ন একটু পর পর বোনের দিকে নজর রাখে যে তার বোন ঠিক আছে কি না। কিছুক্ষণ পর আবার ট্রেন যাত্রা শুরু করে।
তখন উমায়ের বলে,
---আমার সারপ্রাইজ গিফট খুব ভালো লাগে। যখন ই কেউ আমাকে কোনো গিফট দেয় আমি ভাবি না এর ভেতরের বস্তুটা কত টাকার, আমি ভাবি এটা খুললে আমি কি পাবো।
---তো এর সাথে লাইফ পার্টনারের কি সম্পর্ক?
---যেখানে আমি মানুষের দেয়া সারপ্রাইজে এতখুশি সেখানে আমি আল্লাহর দেওয়া সারপ্রাইজ টা কীভাবে মিস করি?
---মানে?
---মানে হলো আমি এমন কাউকে আমার জীবনে চাই যাকে আমি আগে থেকে চিনবো না। চেনা তো দূর নামটা অব্দি জানবো না। বিয়ের দিন কবুল বলার পূর্ব পর্যন্ত অজানা থাকবে সে আমার কাছে।
---এটা কেমন কথা? যদি সে ভালো না হয়? তুমি যার সাথে তোমার পুরো জীবন শেয়ার করবে তার সম্পর্কে তুমি কিছুই জানবে না?
---না। কারণ এইটাই আমার আল্লাহ প্রদত্ত গিফট। সে আমার তাকদীর হবে বলেই আল্লাহ তাকে আমার জীবনে পাঠাবে। নাহলে দুনিয়াতে এত মেয়ে থাকতে সে কেন আমার তাকদীর হবে?
---নাইস পয়েন্ট।
---আমি আল্লাহকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করি। আমি জানি আমার রব আমাকে তাকেই দিবে যে আমার জন্য সর্বোত্তম। এমন কি যদি সে খারাপও হয় তবুও আমি খুশি।
মাহা অবাক হয় ছেলেটার কথা শুনে। কৌতুহলে পুনরায় প্রশ্ন করে,
---কেন?
---কারণ সে নিকৃষ্ট হলেও সে আমার জন্য সর্বোত্তম তাই আল্লাহ্ তাকে আমার তাকদীর বানিয়েছেন।
---তারমানে তুমি অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ করবে।
---আমরা সবাই ই তো আল্লাহর করা অ্যারেঞ্জেই ম্যারেজ করি। সে হিসেবে দেখতে গেলে অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ ই বলতে পারেন।
সত্যি বলতে আমি কারো সাথে এত কথা বলি না। আপনাকে বলছি কারণ আপনি বড়। তারসাথে আপনার সাথে আমার আর কখনো দেখা হবেনা। মন হালকা করার জন্য আপনাকে বললাম।
---কীভাবে জানো দেখা হবে না? এ পর্যন্ত তো দুবার দেখা হলো।
---সেটা তো আকস্মিক।
---হুম।
ইতোমধ্যে ট্রেন নরসিংদী স্টেশনের কাছাকাছি চলে আসে। উমায়ের আর ওর বন্ধুরা নেমে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়া শুরু করে। যাবার আগে উমায়ের বলে,
---একটা কথা বলি?
---হুম।
---আপনার ভাই যথেষ্ট দায়িত্বশীল। তিনি তার জায়গায় বসে কতবার যে আপনার দিকে তাকিয়ে আপনার সুবিধা অসুবিধা নিশ্চিত করেছেন তা আমি লক্ষ্য করেছি।
ছেলেটা এতকিছু খেয়াল করলো কখন? মাহা অবাক হয়ে উমায়ের এর দিকে তাকালো কিন্তু কিছু বলতেই পারলো না। তার আগেই ট্রেন থেমে যায় স্টেশনে। আর মাহাকে বিদায় জানিয়ে ওরা নেমে পড়ে।
চলবে.......