ফন্ট সাইজ:
থিম:
আকস্মিক আগমন

৩য় পর্ব

লেখক: samia akther nadia

#আকস্মিক_আগমন

#সামিয়া
#পর্ব_০৩
মাহা একদৃষ্টে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে রইলো যতক্ষণ তাকে দেখা যায়। তারপর অয়নের দিকে তাকালো। ছেলেটা অনার্সের পাশাপাশি IELTS করছে। ওর স্বপ্ন সে ইউরোপে যাবে। মাহার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করবে। বাবাকে আর কষ্ট করতে দিবেনা। আয়াশকে সেইসব সুখ দিবে যা ওও নিজে টাকার অভাবে করতে পারেনি। একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি হবে তার পরিবারে। ওর পিছনে ব্যয়কৃত অর্থ এবং পরিশ্রম যেকোনো ভাবেই হোক বৃথা দেয়া যাবেনা। ট্রেন আবার চলতে শুরু করে তার গন্তব্যে। মাহা আবার বাইরে মন দেয় দিয়ে ভাবনায় বুদ হয়।
--------------------------*************----------------------------
ইশা আর পিয়াল তাদের বাসার দিকে যাত্রা করে। আর উমায়ের এর বাসা স্টেশন থেকে কাছে হওয়ায় সে হেটেই চলে আসে। উমায়ের বাসায় কাউকে জানায় না তার আসার কথা। ওর মেডিক্যাল থেকে তিনদিনের বন্ধ দিয়েছে। মেডিক্যালের স্টুডেন্টদের জন্য এই তিনদিনের বন্ধ ঈদের থেকে কম না। তাই ভাবলো বাসায় এসে বাবা মাকে চমকে দেওয়া যাক। বাসার সামনে একটা এম্বুলেন্স দেখে ওও অবাক হয়ে ভাবে তাদের বাড়িতে অসুস্থ হলো কে? ঐ মূহুর্তে উমায়ের তার বাবা মায়লান সুহাইবকে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসতে দেখে সাথে সাথে ওও ব্যাগ রেখে দৌড়ে সেখানে যায়। গিয়ে দেখে ওর মা সামহানা সায়মা এম্বুলেন্সে শোয়া। উমায়ের থমকে যায়। কি বলবে বা করবে বুঝতেছে না। 
শুধু বাবাকে জিজ্ঞেস করে,
---মায়ের কি হলো?
মায়সামের বাবা ওকে দেখে কয়েক মিনিট স্থির হয়ে যায়। পরে দেরি না করে মায়সামকে তাড়া দেয় এম্বুলেন্সে উঠতে। ওও কিছু না বুঝলেও এতটুকু বুঝলো যে গুরুতর কিছু হয়েছে। তাই দেরি না করে এম্বুলেন্সে উঠে বসে। ওর সন্দেহ হচ্ছে হয়তো ওর মা হার্ট এট্যাক করেছে। মা সায়মা হয়তো উমায়েরকে কিছু বলতে চাচ্ছে কিন্তু বলতে পারছে না। উমায়ের এই মূহুর্তে নিজেকে খুব অসহায় বোধ করছে। এত এত রোগী ওও হসপিটালে দেখে কিন্তু আজকে ওর মনে হচ্ছে ওকে কেউ ভেঙ্গে দিচ্ছে। ওও মায়ের হাত ধরে মাকে বুঝাবার চেষ্টা করলো,
---আমি এখানে। তুমি কথা বলো না। সব ঠিক হয়ে যাবে।
কিন্তু সায়মা তার কথা শুনলো না। বলতে চাইলো,
---মা....মায়.....সাম তু.......মি.......
আর কিছু বলতে পারলো না। এক মূহুর্তের জন্য উমায়ের ভাবলো তার মা কি আর নেই? তারপর পালস চেক করে দেখলো তা খুব ধীরে ধীরে চলছে। ওও ড্রাইভারকে তাড়া দিয়ে বললো দ্রুত চলতে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরপর জ্যামের কারণে এম্বুলেন্স দাড়িয়ে যাচ্ছে। উমায়ের পারছে না কান্না করে দেয়। হঠাৎ বাবার কথা মনে পড়লে দেখে ওর বাবা অজ্ঞান হয়ে গেছে। এবার উমায়ের দিশেহারা হলো। তার মতো শক্ত মনের অধিকারী ছেলে যেন আজকে টললো। ফর্সা চেহারা লাল বর্ণধারণ করলো বলে মনে হলো। আজকের মতো অসহায় উমায়ের নিজেকে কখনো অনুভব করেনি। হাতের ব্যাগ খুঁজে পানির বোতল বের করে বাবার মুখে পানি ছিটালো। ভাগ্যিস এম্বুলেন্সে উঠার আগে সে ব্যাগটা আবার তুলে নিয়েছিলো। বাবার হুশ ফিরলে বাবাকে শুধু এতটুকুই বললো,
---সবাই যদি প্যানিক করি তবে মাকে হসপিটালে নিবো কীভাবে বাবা? তুমিই তো এখন তার ভরসা। তুমি মায়ের হাতটা ধরে ভরসা দাও। তাকে জাগানোর চেষ্টা করো। তাকে সামলাও।
বলেই উমায়ের ফোন বের পিয়ালকে কল করলো। পিয়ালও এই মূহুর্তে ফোন ধরছে না। তাই ওও বারবার চেষ্টা করলো কিন্তু পিয়াল ফোন ধরছেই না। এবার উমায়ের এর নেত্র থেকে একফোঁটা অশ্রু গড়াল। তার মনে হচ্ছে আজকে তার মায়ের কিছু হলে সে বাঁচবে কী করে? তার মা তার জন্য পুরো জীবন স্যাক্রিফাইস করেছে। তার মায়ের বিয়ের পাঁচ বছর পর্যন্ত যখন বাচ্চা হচ্ছিলো না তখন তার মা একটা বাচ্চার জন্য প্রতি সপ্তাহে তিনদিন রোজা রাখতো। একটা বাচ্চার জন্য কান্না করতে করতে ওর মায়ের নাকি চোখের পানি শুকিয়ে গিয়েছিলো। এসব কথা ওর দাদি ওকে বলতো। উমায়ের জন্মের পর ১০০ রাকাত নফল নামাজও নাকি ওর মা আদায় করেছিলো। ওর কলেজ দূরে হবার কারণে ওর মা দুবছর ওর জন্য বাবার থেকে আলাদা হয়ে ভাড়া বাসায় থেকেছিলো যাতে ওর খাবারে কষ্ট না হয়। এমনকি একবার উমায়ের এর বয়স যখন ৬ বছর ছিলো তখন ওও তার নানুর বাসায় গিয়ে নদীতে পরে যায়। আর তার মামারা তাকে নদী থেকে তুলে হসপিটালে নেয়। আর ভাগ্যক্রমে সেদিন ওও বেঁচে যায়। হুশ আসার পর দেখে তার মাও একই হসপিটালে ভর্তি। সুস্থ হবার পর আর বহু বছর ওর মা ওকে নানুর বাসায় নিতে হবে বলে নিজের বাবার বাড়ি যায়নি। আর ওর বড় হবার পর গেলেও সারাক্ষণ ওকে কাছে কাছে রাখে। এতবড় হবার পরেও ওর মা এসব ই করে। এসব ভাবছে আর পিয়ালকে ফোন দিচ্ছে। ইতোমধ্যে তারা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চলে আসে। তারপর দ্রুত ধরাধরি করে নিয়ে ওনাকে হসপিটালের ইমার্জেন্সি ইউনিটে নিয়ে যায়। ওকে আর ওর বাবাকে বাইরে অপেক্ষা করতে বলা হয়। উমায়ের এবার মায়লান সাহেবকে জড়িয়ে ধরে বলে,
---বাবা ভেবো না আমি দুর্বল। কিন্তু মা আমার দুর্বল জায়গা যে কারণে আমি সহ্য করতে পারছি না।
মায়লান সাহেব বলে,
---জানি বাবা। আমি তোমাকে দুর্বল ভাবছি না। বরং এই মূহুর্তে তোমাকে পাশে পেয়ে আমি নিজেকে শক্তিশালী অনুভব করছি।
চলবে.........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন