ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিস্তব্ধ রাতের কাব্য

২৩তম পর্ব

লেখক: মিথিলা ইসলাম

#নিস্তব্ধ_রাতের_কাব্য

#লেখনীতে_মিথিলা_ইসলাম

#পর্ব_২৩

.

.

.

আজকে মিসবাহর বিয়ে। ইশা সফট সিল্কের একটা শাড়ি পরেছে। দেখতে বেশ সুন্দর লাগছে তাকে। কালকে হলুদে সবাই আসলেও ইশা আর তেহরিদ আসেনি। শরীর ভালো ছিল না বিধায় তেহরিদ না করেছে। কিন্তু আজকে এসেছে তবে এখন একটু-আধটু খারাপ লাগছে, বমি বমি পাচ্ছে। তেহরিদ এতোটা সময় ইশার সাথেই ছিলো। একটু জরুরি থাকায় কোথায় যেনো গেলো বললো ৫ মিনিট লাগবে। কিন্তু এখনো আসার খবর নেই। তেহরিদ আসছে না দেখে পার্স থেকে তেঁতুলের চাটনি বের করে খাওয়া শুরু করে। টক জাতীয় কিছু খেলে ভালো লাগে। আজকেও তেহরিদ আসতে চায়নি এখানে, ইশা জোর করে নিয়ে এসেছে। একটু সময় পর নাবিলা আর সিমরান এসে ইশার পাশে বসে। তেহরিদ কোনো একটা কাজে আঁটকে গেছে তাই তাদের ইশার কাছে বসতে বলেছে।

আজকে সেলিনা চৌধুরীর মুখের হাসি দেখার মতো। এতো বড় বাড়িতে মেয়ে বিয়ে হচ্ছে! ভাবিদের সাথে মেয়ের শশুর বাড়ির প্রসংশায় পঞ্চমুখ। শামিমা সিকদার নাতনির পাশে বসে আছে। ইশা উঠে একটু হাঁটাহাঁটি করে, বসে থেকে তার কোমর ধরে গেছে। নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানের সময় যে কি করবে! ৫ মিনিটের কথা বলে প্রায় আধঘন্টা পর তেহরিদ ফিরে আসে। ইশা বলে সে আর এখানে থাকতে চায়না। বাসায় যেতে চায় খারাপ লাগছে তার। তেহরিদ বাড়ির সবাইকে বলে ইশাকে নিয়ে চলে আসে। গাড়িতে বসে জানালার কাচ নামিয়ে দিলে হুরহুর করে ঠান্ডা বাতাস প্রবেশ করে। ক্লান্তিতে চোখ বুজে পরে থাকে ইশা। তেহরিদ এক হাতে গাড়ি চালায় আর আরেক হাতের মুঠোয় ইশার হাত।

★

সন্ধ্যা ৭:০০

রাস্তা থেকে শুরু করে বাড়ির উঠোন পর্যন্ত হাজারো ছোট ছোট লাইট সাজানো। খুব বড় একটা বিয়ের গেট। আসে পাশের অনেক মানুষ এসে সেখানে ছবি তুলছে। উঠোনে বেশ বড় করে একটা প্যান্ডেল সাজানো হয়েছে। খুব বড় লম্বা একটা স্টেজ তবে সাজানো হয়নি সেটা। উঠোনের এক পাশে চেয়ার এবং বড় বড় হাঁড়ি পাতিল রাখা। বাড়িতে আত্মীয়স্বজনের মিলন মেলা। সব ক'টা রুম ঠাঁসা লোকজন আর তাদের কাপড়ের গাট্টি দিয়ে। কোনো রুমে দম ফেলার মতো জায়গা নেই। আজকে ৭ তারিখ ইশার মেহেন্দী নাইট। তেহরিদ তার নানা বাড়িতে আর ইশা তার বাবার বাড়িতে। পার্লারে যাতায়াত করতে ইশার কষ্ট হবে দেখে তেহরিদ ৩ দিনের জন্য পার্লারের লোক বাসায় এনে দিয়েছে। ইশা নিজের রুমে বসে সাজছে। একটু পরই চারজন মেহেদী আর্টিস্ট আসবে। গ্রীন কালারের কাঞ্জিভরম শাড়ি মুখে হালকা মেকআপ। চুল এখনো বাঁধা হয়নি। অনেক ভাবনা চিন্তার পর ইশা ডিসাইড করে চুল গুলো এক সাইডে সিঁথি করে হালকা টুইস্ট করবে। আর পিছনে নিচের দিকে কার্ল করে ছেড়ে রাখবে। সেই অনুযায়ী হেয়ার স্টাইল করা শেষ হলে মাথায় একটা দোপাট্টা লাগিয়ে দেয়। ইশার সাজ শেষ। পার্লার থেকেও চারজন এসেছে, ইশা আর তাসনিমসহ আরো ৫-৬ জন সেজেছে। ইশার তো ফুপু একটাই। তবে তার বাবা-চাচার কাজিন আর তাদের ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনী সবাই এসেছে। সেখান থেকেই অনেকে সেজেছে। তেহরিদের সাথে শেষ কথা হয়েছিল বিকেল ৫ :০০ টায়। এরপর আর কথা হয়নি।

মুনিরা শেখ জানান মেহেদী আর্টিস্টরা চলে এসেছে। ইশা মুনিরা শেখ কে নাশতা দিতে বলে সবাইকে তাড়াতাড়ি করতে বলে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সবার সাজগোছ শেষ হয়ে যায়।

অল্প সময়ের মধ্যেই আদনান কিছু গাধাফুল আর গোলাপ এনে স্টেজটা নিজের বন্ধুদের নিয়ে সিম্পলভাবে সাজায়। একেবারে খালি থাকলে ভালো লাগবে না আর ছবিও সুন্দর আসবে না। মাদুর বিছিয়ে তার উপর সুন্দর দুইখানা বিছানার চাদর বিছিয়ে দেয়। ঘর থেকে কুশন এনে চারপাশে রাখে। এখন দেখতে খুব সুন্দর লাগছে। বড় দুইটা আপু মিলে মেহেদীর ডালা সাজিয়ে দেয়। মেহেদী গুলো সুন্দর করে রেখে গোলাপ আর গাদাঁফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে দিয়েছে। তাসনিমের হাত ধরে ঘর থেকে বের হয় ইশা। মেহেদী আর্টিস্টরা তাদের মেহেদী কোন রেডি করছে। ততক্ষণে আদনানকে দিয়ে বেশ কিছু ছবি তুলে ইশা আর তাসনিম। ক্যামেরা ম্যান ভাড়া করা হয়েছে তবে সে কালকে আসবে। আজকে ফোনেই ছবি তোলা হবে। যদিও তেহরিদের ক্যামেরা আছে তবে সে আসবে কিনা কিছু বলেনি।

ইশা বসে দুইপাশে দুইহাত দিয়ে রেখেছে, দুজন তার হাতে ব্রাইডাল ডিজাইন আঁকছে। আর দুইজন সেমি ব্রাইডাল করছে তাসনিমের হাতে। ২ ঘণ্টা পর ইশার হাতের নিচের দুই পার্ট শেষ হয়। ৯ টার উপরে বাজে নাসরিন শেখ সবাইকে রাতের খাবার খাওয়ার জন্য ডাক দেয়। ফরহাদ শেখ মেয়েকে যত্নের সাথে ভাত মুখে তুলে দেয়। নীল এসে আপুর পাশে বসে। ফরহাদ শেখ তাকেও খাইয়ে দিতে থাকেন। নীল বোনের সাথে লেপ্টে থাকে। কতদিন পর তার বোন এসেছে। এবার সে যেতেই দিবেনা। রেখে দিবে যেভাবেই হোক না কেনো, রাখবেই।

খাওয়া-দাওয়া শেষে একটু রেস্ট নিয়ে সবাই আবার বসে মেহেদী দিতে। উঠোনে অনেক মানুষ বসে আছে। অনেকে গল্প করছে, মেহেদী দেওয়া দেখছে। আদনানের দুটো মাঝারি আকারের সাউন্ড বক্স আছে। সেগুলো এনে সেট করে গান বাজিয়ে দেয়। তাসনিমের মেহেদী দেওয়া শেষ সে গানের তালে তালে নাচতে শুরু করে এই গানে

🎶 Mehndi hai rachne wali, haathon mein gehri laali

তাসনিমের সাথে আরো কয়েকটা মেয়ে যোগ দেয়। ইশা তো নাচতে পারছে না তবে সবার নাচ উপভোগ করছে। নাচ শেষ হলে সবাই বসে পরে। হটাৎ করে আদনান, তার বন্ধুরা আর বিয়েতে আসা কিছু কাজিন একসাথে গেটের দিকে তাকিয়ে জোরে সিস বাজায়। সবাই অবাক হয়ে গেটের দিকে তাকায়।

গ্রীন পাঞ্জাবি, সাদা পায়জামা এবং বাম হাতে ঘড়ি আর ডান হাতে ক্যামেরা নিয়ে তেহরিদ আসছে। পিছে তার কাজিন আর বন্ধুরাও আছে।তেহরিদ আর বউ অব্দি আসতে পারেনা সবাই তাকে টেনে ঘরে নিয়ে যায় জামাই আপ্যায়ন করতে। বেচারার মুখটা এট্টুখানি হয়ে যায়।

______________

দুইহাত ভরে মেহেদী দেওয়া শেষ। ইশা পোজ দিচ্ছে আর তেহরিদ তার ক্যামেরা ম্যান। সিঙ্গেল পিক তোলা শেষ এবার কাপল পিক তোলা হবে। বেশ অনেক গুলো ছবি তোলার পর তেহরিদ ইশাকে পিছন থেকে জড়িয়ে কানে কিছু বলছে আর ইশা দুইহাতে মুখ অর্ধেক ডেকে রেখেছে। এভাবেই একটা ছবি তোলা হবে। তেহরিদ ইশার কানে কানে বলে...

" বউ তোমাকে স্ট্রবেরির মতো লাগছে, খেয়ে ফেলি?"

ইশা মাথা নিচু করে ফিসফিস করে বলে..

" চুপ করুন অসভ্য লোক। বেশি পকপক করলে মাথায় বাড়ি মেরে অজ্ঞান করে দিবো। "

" কি বলো! কালকে না হলুদ, পরশু বিয়ে। আমি কি ব্যান্ডেজ নিয়ে জামাই সেজে আসবো নাকি?"

" দরকার পরলে তাই করবেন। এখন চুপ থাকুন দয়া করে। "

ভদ্র বাচ্চার মতো চুপ হয়ে যায়। বউ চটেছে, কখন সত্যি সত্যি বারি মেরে দিবে বলা যায় না। পরে মানসম্মান কিছু থাকবে না। উঠোনে, স্টেজে ছবি তোলা হলে রাস্তায় আসে। রাস্তায়ও অনেক গুলো ছবি তুলে। তেহরিদ ইশাকে বলে সে আজ এখানে থাকবে আর নয়তো ইশাকে নিয়ে যাবে। ধমক-টমক দিয়ে ইশা তেহরিদকে পাঠিয়ে দেয়। নিজেও যায় না তেহরিদকেও থাকতে দেয় না।

★

আজ ইশা এবং তেহরিদের হলুদ সন্ধ্যা। আজকে সকাল থেকেই সবাই খুব ব্যস্ত। একটু দম ফেলার ফুরসত পাওয়া যাচ্ছে না। নিজেরা কোনো ঝামেলা না করে বাড়ির মেহমান আর নিজেদের জন্য ভাতমাছ বাবুর্চি দিয়েই রান্না করিয়েছে। এতগুলো মানুষের রান্না নিজেরা করতে গেলে অনেক ঝামেলা পোহাতে হবে। আর রাতে সবার জন্য ৩ হাঁড়ি বিরিয়ানি রান্না করা হবে। হলুদ শুরু হবে সন্ধ্যা থেকে। ইশা গোসল শেষ করে ফ্যানের নিচে বসে চুল শুকচ্ছে। বাইরে কিসের শোরগোল শোনা যায় মনে হচ্ছে কেউ কান্না করছে। ইশা একবার যাবে ভেবেও পরে আর যায় না।

কিছুক্ষণ পর তার বাবার বয়সী একজন আর তার চাচার বয়সী একজন।দুইজন মিলে ইশাকে দুইপাশ থেকে জড়িয়ে ধরে। আরো কয়েকজন মহিলাও আসে। কিন্তু এরা কারা? আগে তো কখনো এদের ইশা দেখেনি। আর সবার চোখে পানি কেনো?

দুজন পুরুষ থেকে একজন বলে...

" কেমন আছো মা আমার?"

#চলবে...?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন