ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রনয়ের প্রলয়

১২তম পর্ব

লেখক: মেহরিমা সারা

#প্রনয়ের_প্রলয় 

#কলমে_মেহরিমা_সারা 
#পর্বঃ১২
--" রাইদা চৌধুরী সব কিছুই কেমন কাকতালীয় ভাবে ঘটে যাচ্ছে তাই না "
রাহা তীক্ষ্ণ চোখে সামনে দাঁড়ানো বলিষ্ঠ শরীরের একত্রিশ উর্ধ্ব এক পুলিশ কর্মকর্তার গতিবিধি লক্ষ্য করছে। মাহিন রাহার চাহনি দেখে বুঝতে পারছে ওই মেয়ে তার চোখ পড়ার চেষ্টা করছে, হয়তো পড়েও ফেলেছে। মাহিন ফিচেল হেসে বলে,
--" তা সব কিছুই কেমন যেন ঘুরে ফিরে তোমার পর্যন্ত গিয়েই থেমে যায় "
রাহা বেশ কিছুক্ষণ চুপ থেকে আশেপাশে তাকিয়ে জোড়ালো শ্বাস ছেড়ে বলে,
---" আমি পরে তোমার সাথে যোগাযোগ করবো "
সকালে শান এর কল পেয়ে রাহা খান ম্যানশনে যায়। রাহা যাওয়ার আগেই নীল জ্ঞান হারায়। আদি শান মিলে হসপিটাল নিয়ে আসে। এখন স্যালাইন চলছে। রুবিনা খান তো আদরের ছেলের জ্ঞান হারানো দেখে নিজেও ঢলে পরেন। শিরিন খান ওনাকে নিয়ে বাসায় ছিলেন জ্ঞান আসার পর এক মিনিট ও বাসায় না থেকে হসপিটাল এ চলে এসেছেন। ডক্টর কেবিনে ভিড় করতে নিষেধ করায় এখন সবাই কেবিনের বাইরে নীল এর জন্য অপেক্ষা করছে। ডক্টর জানিয়েছে নীল কোনো ব্যাপারে অনেক স্ট্রেস, তাই এমন জর এসেছে। ওকে যেন একটু স্ট্রেস মুক্ত রাখে নয়তো পরবর্তীতে বড় কোনো সমস্যা হতে পারে। এর আগেও অগনিত বার নীল হসপিটালাইজড হয়েছিল স্ট্রেস এর কারনে। ডক্টর এর কথা শুনে রুবিনা খান আবার হায়হুতাশ করে উঠলেন তার ছোট ছেলের এই বয়সে কিসের এতো স্ট্রেস উনি জানেন না। এই তো সারাদিন ঘুরে ফিরে আর পড়াশোনা করে এ ছাড়া তো কোনো কিছুর প্রেশার ও দেন না তবুও ছেলেটা এমন হলে আর কি করবেন।
সাজিদ খান দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে পুরনো দিনের কথা মনে করেন তিনিও তো একসময় এমন ছিলেন। কিন্তু ওনার তো নীল কে দেখে মনে হয়না নীল এর ক্ষেত্রে এমন কিছু হতে পারে। আল্লাহ জানে তার ছেলেটার কী হবে, উপরে যতোই শক্ত থাকুক মনের দিক দিয়ে তার ছেলেটা একটা বাচ্চা। নাহ এবার ছেলেটার সাথে কথা বলতেই হবে। সাজিদ খান সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন যেন তার ছেলেকে আর কখনো হসপিটালে আসতে না হয়।
আদির শরীর ভালো না থাকায় ওকে জোর করে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে। আরমান চৌধুরী এসে কিছুক্ষণ থেকেই চলে গিয়েছেন, দুপুরে ওনার মেডিসিন আছে। বাকি যারা আছে তাদের জন্য রাহা আর শান ক্যান্টিনে গিয়েছিল কিছু অর্ডার করতে, মাঝপথে মাহিন কে দেখে রাহা শান কে চোখের ইশারায় চলে যেতে বললে শান চলে যায়। 
মাহিন কিছুক্ষণ রাহাকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত পরোখ করে। রাহা একটা কালো কুর্তির সাথে জিন্স পড়েছে। মাহিন এর দৃষ্টিতে রাহা সামান্য বিব্রত হয়ে খোলা চুল গুলো সামনে এনে রাখে যদিও মাহিন কে রাহা চিনে লোকটা এমন নয় তবুও বাঙালি মেয়েদের খচখচানি তো থাকেই, এতোকাল বিদেশে থেকে ড্রেস আপ চেন্জ করতে পারলেও নিজের মধ্যে থাকা বাঙালি নারীদের সংস্কার রাহা ভুলেনি। সকালে তাড়াহুড়োয় স্কার্ফ নিতে পারেনি, মাঝে মধ্যেই এমন হয় স্কার্ফ ছাড়া বেরিয়ে পড়ে হয়তো বিদেশীদের প্রভাব পড়েছে মস্তিষ্কে তাই মাঝে সাঝে ভুল হয়ে যায়।
মাহিন রাহার গতিবিধি লক্ষ্য করে সামান্য হেসে নেয়। কে বলে রাইদা চৌধুরী রাহা ছাব্বিশ বছর বয়সী এক কন্যা! তার চোখে তো এই রাহা কে সেই আট বছর বয়সী মেয়ে লাগছে যাকে মাহিন প্রথম বার দেখেছিল, হিংসুটে এক মেয়ে।
রাহা পুনরায় মাহিন এর দিকে তাকিয়ে ভ্রু বাকিয়ে গম্ভীর স্বরে বলে,
--" মাহিন আমি পরে এ ব্যাপারে আলোচনা করবো। আর যদি ফল্ট আমার তরফ থেকে হয়ে থাকে তাহলে আমি সমাধানে তোমার হেল্প করবো যেভাবে তুমি আমার হেল্প করছো "
মাহিন ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বলে,
--" প্রতিদান দিবে?"
রাহা সাবলীল কন্ঠে জবাব দেয়,
--" ইয়েস "
রাহা চলে যেতে নিলে মাহিন ওর পথ আটকে বলে,
--" তা খান বাড়ির ছোট ছেলের কি অবস্থা? শুনলাম কাল পার্টিতে ওই ছেলেটাও ছিল, রাতারাতি অসুস্থ কীভাবে হলো "
রাহা তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে বলে,
--" ডোন্ট ইভেন ট্রাই ইট "
রাহা ধুপধাপ হিলের আওয়াজ তুলে চলে যায়। মাহিন মুচকি হেসে মনে মনে বলে উঠে,
--" ইশশ পরিবারের কাউকে টানলেই কেমন জ্বলকানি দিয়ে উঠে, এমন একজন পরিবারে থাকলে মন্দ হয় না "
___________________________________
নীল এর জ্ঞান ফিরলে একে একে সবাই দেখা করে নেয়। জরে শরীর দুর্বল থাকায় ডক্টর বলেছে রাতে ডিসচার্জ দিবেন এখন স্যালাইন চলুক। শান সবাই কে বললো সবাই যেন বাসায় চলে যায় শুধু শুধু এখানে না থাকাই ভালো হবে। 
---" আমি থাকি পরে আদি ভাইয়া আসলে আমরা দুজন মিলে নীল কে বাড়িতে নিয়ে যাবো "
শান এর কথায় কিয়ারা দ্বিমত করে জানায় সে ছোট ভাইয়ার সাথেই থাকবে। রূবিনা খান দোনামোনা করলে সাজিদ খান এর ধমকে চলে যেতে বাধ্য হন, এখানে থাকলে দেখা যাবে কিছুক্ষণ পর ছেলের চিন্তায় নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়বে। বাড়িতে গিয়ে একটু বিশ্রাম নিলে ভালো লাগবে। নীল সব কিছুতেই একদম নিরব ভূমিকা পালন করেছে। সবাই চলে গেলে রাহাও চলে যাওয়ার জন্য উদ্যত হতেই নীল সিলিং এর দিকে তাকিয়ে শান্ত স্বরে বলে,
--" মিস রাহা আপনার সাথে আমার কথা আছে "
তারপর কিয়ারার দিকে তাকাতেই কিয়ারা ঘামতে শুরু করে। ছোট ভাইয়ার কি হয়েছে কিয়ারা জানে না তবে কিছু তো একটা আছে এটা কিয়ারা আজ সকালেই শিউর হয়েছে। সকালে ভাইয়ার মাথার কাছে যখন কিয়ারা বসে ছিল তখন কিয়ারা শুনেছিল ভাইয়া অজ্ঞান হওয়ার আগে বিরবির করে বলেছিল, " রাহামনি সামিন কে ঘরে নিয়ে যেতে পারলে আমাকে কেন হসপিটাল নিতে যেতে পারছে না " তারপর আরো কিছু বলেছিল কিন্তু কিয়ারা ভালো করে শুনতে পায়নি। কিয়ারা এখনো বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে।
শান নীল এর দিকে উৎসুক হয়ে চেয়ে আছে। কিয়ারা শান কে বলে,
--" শান ভাই চলো ছোট ভাইয়ার মেডিসিন গুলো নিয়ে আসি। ততক্ষন ভাইয়া আর আপু কথা বলুক! আমরা আসলে না হয় আপু যাবে "
রাহা চুপচাপ নীল এর দিকে চেয়ে আছে, কি বলবে এই ছেলে! শান একবার বোনের দিকে একবার নীল এর দিকে তাকিয়ে নিশ্চুপ কিয়ারা কে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। রাহা নীল এর উদ্দেশ্যে বলে,
--" বলো কি বলবে !"
নীল রাহার দিকে তাকিয়ে মলিন হেসে নিজের ডান সাইড ইশারা করে বলে,
--" আমার ফোন টা বালিশের পাশ থেকে নিয়ে দিন আগে তারপর বলছি, হাতে ক্যানোলা লাগানো আমি নিতে পারছি না "
রাহা নীল এর দিকে কিছু সময় তাকিয়ে বেশ স্বাভাবিক ভাবেই ওর কথা অনুযায়ী এগিয়ে গিয়ে নীল এর উপর দিয়ে ওপাশে হাত দিয়ে ফোন নিতে নিলেই নীল ওর বাম হাত দিয়ে রাহাকে ধাক্কা মেরে নিজের উপর ফেলে দেয়। কয়েক সেকেন্ডে কি হলো রাহা বুঝতে পারার আগেই ঘাড়ের দিকে সামান্য সুচ ফুটার মতো অনুভব করে। 
হালকা আওয়াজ করে ঘাড়ে হাত দিয়ে হতভম্ব হয়ে নীল এর দিকে তাকায়, তারপর উঠতে চাইলে নীল জোর দিয়ে ধরে রাখে। রাহা চোখ গরম করে তাকালে নীল ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে। রাহা নীল চড় মারতে উদ্যত হওয়ার আগেই নীল এর গায়ে ঢলে পরে। নীল বাকা হেসে বাম হাত দিয়ে ডান হাতে থাকা ক্যানোলা টান মেরে খুলে নার্স বলে ডাক দিলে বাইরে থেকে হুড়মুড় করে একজন নার্স ভীত চেহারা নিয়ে ভিতরে ঢুকে।
নীল এর দিকে তাকিয়ে ভয়ে আমতা আমতা করে বলে,
--" স্যার কেউ জানতে পারলে আমার চাকরি চলে যাবে "
নীল শোয়া থেকে উঠে রাহা কে ধরে আগে বেডে শুইয়ে দেয়। তারপর নার্সের হাত থেকে একটা চাদর নিয়ে ওর শরীর ঢেকে নার্সের দিকে তাকিয়ে বলে,
--" কেউ জানতে পারবে না যদি আপনি না বলেন, আর দেখবেন সন্ধ্যার আগে যেন কেউ এমুখো না হয়। আ'ম টায়ার্ড রেস্ট করবো। আমার জন্য ড্রেস এর ব্যবস্থা করতে বলে ছিলাম "
নার্স ইতিউতি করে সাথে করে আনা শপিং ব্যাগ নীল এর দিকে বাড়িয়ে দেয়। নীল ব্যাগ নিয়ে বলে,
--" আমার কথা মতো কাজ না হলে চাকরি তো যাবেই সাথে বিশ হাজার টাকাও খোয়াবেন,আর মেডিসিন চুরির অপরাধে জেল ও হবে "
নীল এর কথা শুনে নার্সের মুখটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়। নার্স যাওয়ার আগে একবার বেডে থাকা মেয়েটির দিকে তাকিয়ে ভাবে, " ইশশ মেয়েটা কি সুন্দর, এই পাগল মেয়েটার সাথে খারাপ কিছু করবে না তো "
নীল নার্সের দিকে চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে আছে। নার্স নীল এর তাকানো দেখে ভয় পায় তবুও সুন্দর মেয়েটার জন্য একটু সাহস জোগাড় করে মিনমিন করে বলে,
--" বলছি এই ইঞ্জেকশন কিন্তু অনেক ক্ষতিকর স্বাস্থ্যের জন্য "
--" আমি যা যা বলেছি সব অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে নয়তো জানে মেরে ফেলবো, গো "
নীল বিরক্ত হয়ে ধমকে উঠলে বেচারী জান বাঁচিয়ে পালায়। নীল এবার রাহার দিকে তাকিয়ে ক্ষীণ স্বরে বলে,
--" আমাকে জালিয়ে একটুও ভালো করোনি, এবার তুমিও জলবে "
--" আমি দয়ালু প্রেমিক নই, যে তোমাকে ভালো রাখতে গিয়ে নিজেকে শেষ করে ফেলবো "
ড্রেস নিয়ে ওয়াশ রুমে চলে যায়। মিনিট বিশেক পরে শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে দেখে রকি বসে আছে।
নীল কে দেখে রকি উঠে হাতের পেপার এগিয়ে দিয়ে বলে,
--" নীল এটা কি ঠিক হচ্ছে? এই সামান্য পেপারে আদো কিছু হবে "
নীল পেপার হাতে নিয়ে বিরস মুখে বলে,
--" এই সামান্য পেপার আমাকে শান্তি দিবে। আমার ভালো থাকার একমাত্র পন্থা "
রকি নীল এর কাঁধে হাত দিয়ে বলে,
--" যা করছিস বুঝে করিস "
নীল ওর কথা না শোনার ভান করে একে একে প্রতিটি পেপারে রাহার হাতের ছাপ নিয়ে নেয়। এরপর পেপার গুলো রকি কে দিয়ে দরজা খুলে ঠেলে বের করে পুনরায় দরজা লক করে দেয়।
এরপর রাহার দিকে তাকিয়ে লাজুক হেসে মাথা চুলকায়। কিছুক্ষণ ব্লাশ করে নীল নিজেকেই নিজে বলে,
--" আমি কি ব্লাশ করছি মেয়েদের মতো! "
পুনরায় হেসে রাহার দিকে এগিয়ে যায়। ধীরে ধীরে মাথা রাহার দিকে ঝুঁকিয়ে বলে,
--" উফফ তোমার জন্য একদিন আমি পাগল হয়ে যাবো রাহামনি!"
তারপর সিলিং এর দিকে তাকিয়ে দুই হাত উঁচু করে নাটকীয় ভঙ্গিতে বলে,
--" আম্মি দেখছো তো তোমার রাহামনি আমাকে পাগল করে দিয়েছে "
--" তোমার মেয়ে আমার সব নিয়ে নিল। এখন শুধুমাত্র আমার ইজ্জতটাই বাকি আছে "
বলেই লাজুক হেসে রাহার শরীর থেকে চাদর সরিয়ে ওর উপর আধশোয়া হয়ে রাহার চুল গুলো ঘাড় থেকে সরিয়ে ধীরে ধীরে উন্মুক্ত ঘাড়ে নাক ঘষে। তারপর নেশালো কন্ঠে রাহার উদ্দেশ্যে বলে ওঠে,
--" এ্যাই! এ্যাই মেয়ে! এতো নরম কেন তুমি! আদর করতেও তো ভয় লাগে যদি ব্যাথা পাও "
--" তুমি একদম পিওনির মতো নরম কোমল আর সুন্দর। ইচ্ছে করে সারাদিন চেপে ধরে আদর দেই "
--" যখন আমি তোমাকে পাগলের মত আদর করবো তখন তুমি আমার পাগলামি সহ্য করতে পারবে তো পিওনি! "
উন্মাদের মত ঘাড়ে নাক ঘষে উল্টাপাল্টা বলে যাচ্ছে নীল যেন ছেলেটা নিজের হুশেই নেই। কিছুক্ষণ পর ঘাড় থেকে মুখ উঠিয়ে রাহার চোখের সামনে আসা চুল গুলো ফুঁ দিয়ে সরিয়ে চোখ বন্ধ করে নেয়। নীলের চোখে ভেসে ওঠে রাহা যখন ওর উপর দিয়ে টপকিয়ে ফোন নিতে যাচ্ছিল তখন রাহার কুর্তির গলা ফাক হয়ে গিয়েছিল আর তখনই তো নীল এর সর্বনাশ হয়েছিল। 
--" আজ একটা মারাত্মক কাজ করবো তুমি রাগ করো না প্লিজ "
নীল ঢোক গিলে কাঁপা কাঁপা গলায় বলেই রাহার গলার ভাঁজের অনেক নিচে কুর্তি টেনে মুখ দাবিয়ে দেয়। কিছুসময় নীল জীবনের স্বর্গীয় সুখ অনুভব করে বড় বড় শ্বাস ফেলে রাহার থেকে দূরে সরে যায়। নীল এর শরীরের প্রতিটি স্নায়ুকোষ অশান্ত হয়ে গেছে, মাথা কেমন ঝিমঝিম করছে।
নীল বেডের পাশের কাউচে বসে বড় বড় শ্বাস ফেলে চোখ বন্ধ করে বলে,
--" নীল শান্ত হ প্লিজ! এভাবে কিছু হলে তুই ফিল পাবি না তো "
নিজেকে বুঝিয়ে নীল চোখ মেলে রাহার দিকে তাকিয়ে বোকা বোকা কন্ঠে বলে,
--" শুধুমাত্র ফিল পাওয়ার জন্য ছেড়ে দিলাম "
চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন