ফন্ট সাইজ:
থিম:
শতাব্দী পেরিয়েও তুমি

৫ম পর্ব

লেখক: জুঁই আক্তার

#শতাব্দী_পেরিয়েও_তুমি 

#পর্ব৫
#লেখিকা_জুঁই_আক্তার
(🚫🚫Trigger alert: প্রাপ্ত মন-মস্তকের জন্য🚫🚫)
(🚫🚫কপি করা নিষিদ্ধ 🚫🚫)
বিষাণের সেই চড়া হুকুমের মতো ডাক শুনে তৃধা ভেতরে ভেতরে একটা শুকনো ঢোক গিলল। সিঁড়ির ওপর তার পা দুটো এক সেকেন্ডের জন্য থমকে গেল।
এদিকে বিষাণ একটা চেনা আত্মবিশ্বাসের ভাব নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার ধারণা, নন্দ্রিতা এখন তার ডাক শুনে ঠিক আগের মতোই গুটিগুটি পায়ে, অপরাধীর মতো মাথা নিচু করে তার সামনে এসে দাঁড়াবে। তারপর একটু বকাঝকা শুনবে, কাঁদবে আর সব আগের মতো ঠিক হয়ে যাবে। নন্দ্রিতা তো চিরকাল তার পেছনে এভাবেই ঘুরেছে!
কিন্তু না, এবার বিষাণের ধারণাকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে একদম অন্য কিছু ঘটল। তৃধা পেছনে তাকানো তো দূরের কথা, বিষাণের দিকে ঘুরে একপলক চোখ তুলে পর্যন্ত চাইল না! সে এক দৌড়ে সিঁড়ি ভেঙে সোজা ওপরের দিকে নিজের রুমের উদ্দেশ্যে চলে গেল।
বিষাণ নিজের চোখকেও যেন বিশ্বাস করতে পারল না! তার পুরো শরীর অপমানে আর বিস্ময়ে শক্ত হয়ে গেল। এই মেয়ে তাকে ইগনোর করছে? তার হুকুম অবজ্ঞা করে চলে গেল? কত বড় সাহস বেড়েছে ওর!
নিজের এই চরম অপমান আর নন্দ্রিতার এই অদ্ভুত বদলে যাওয়া রূপ সহ্য করতে না পেরে বিষাণ রাগে অন্ধ হয়ে গেল। সে দাঁতে দাঁত চেপে, নিজের ভেতরের সমস্ত ক্ষোভ উগরে দিয়ে সামনে থাকা কাঠের চেয়ারটায় সজোরে এক লাথি মারল! চেয়ারটা বিকট শব্দ করে মেঝেতে উল্টে পড়ল, আর বিষাণের চোখ দুটো অন্ধকারের মাঝেই রাগে জ্বলতে লাগল।
—
খেলার ক্লান্তিতে তৃধা আজ অনেক তাড়াতাড়িই ঘুমে তলিয়ে গেল। কত দিন পর মুক্ত বাতাসে পাড়ার মেয়েদের সাথে ধুলোবালি মেখে এমন দৌড়াদৌড়ি করল! ক্লান্তি এতটাই মগজে ভর করেছিল যে, বিছানায় পিঠ ঠেকানোর পর অন্য কিছু ভাবার মতো সুযোগই সে পায়নি।
গভীর ঘুমের ঘোরে হুট করেই তৃধার কানে এক গম্ভীর, পুরুষালি কণ্ঠস্বর ভেসে এলো,
"নন্দ্রিতা!"
তৃধা একটুও নড়ল না, যেন ঘুমের রাজত্ব ছেড়ে আসার কোনো ইচ্ছেই তার নেই। কণ্ঠটা আবার ডেকে উঠল, এবার একটু চড়া সুর,
"তোকে উঠতে বলেছি!"
তৃধা এবারও এক চুল নড়ল না। বিষাণ বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে কিছুটা অবাক হয়ে তাকাল। এই মেয়ে এমন মড়ার মতো ঘুমাচ্ছে কীভাবে? সে কি সত্যিই ঘুমাচ্ছে নাকি মরে গেছে? বিষাণ আবার গলার স্বর চড়িয়ে ডাকল, কিন্তু তৃধার নড়াচড়ার কোনো লক্ষণই দেখা গেল না।
এবার বিষাণের রাগটা হুরহুর করে চড়তে লাগল। সে সামনে ঝুঁকে তৃধার কাঁধ ধরে একটা ঝাকুনি দিল। তৃধা ঘুমের ঘোরে বিরক্তি নিয়ে হাত-পা ছুঁড়ে বিড়বিড় করে বলে উঠল,
 "অসুর... তোর ওই গরুর মতো হাত সরা!"
বিষাণ হা করে দাঁড়িয়ে রইল। এই মেয়ে ঘুমের ঘোরে তাকে কী বলছে? গরুর হাত?
সে এবার আরও জোরে ঝাঁকুনি দিল। তৃধা মুখ দিয়ে ফরফর করে অদ্ভুত একটা শব্দ করল, তারপর কী যেন উল্টাপাল্টা বিড়বিড় করে আবার অন্য পাশে ঘুরে ঘুমানোর উপক্রম করল। বিষাণ এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না যে, সে এতবার ডাকার পরও নন্দ্রিতা এক ইঞ্চিও নড়ছে না! আগে তো তার গলার আওয়াজ পেলেই মেয়েটা লাফিয়ে উঠত!
এবার আর ধৈর্য রাখতে না পেরে বিষাণ চিৎকার করে ডাকা শুরু করল, 
"কীরে? ডাকছি কানে যাচ্ছে না? নন্দ্রিতা! নন্দ্রিতা!"
তৃধা এবার আধো আলো-আঁধারিতে হালকা চোখ খুলল। ঘুমের ঘোর তখনও কাটেনি, চোখ কচলে বিড়বিড় করে বলল, "উফফ... স্বপ্নেও একটু শান্তি নেই! এই অসুরটা স্বপ্নেও হাজির হয়েছে! যা এখান থেকে, ভাগ!"
বিষাণ এক চিলতে বাঁকা হেসে বলে উঠল, 
"এটা স্বপ্ন না, সত্যি!"
তৃধা ঘুমঘোরে ভেঙচি কেটে হেসে বলল, "স্বপ্নেও তোকে দেখতে ভয়ংকর লাগে!"
বিষাণ এবার কড়া ধমক দিয়ে উঠল,
 "উঠতে বলেছি তোকে!"
সেই ধমকের চোটেই তৃধার চোখের ঘুম এক সেকেন্ডে উবে গেল। সে ধড়ফড় করে বিছানায় উঠে বসল। একটা শুকনো ঢোক গিলল,আরে, এটা তো সত্যিই অসুরটা দাঁড়িয়ে আছে! সে দ্রুত ঘরের দরজার দিকে তাকাল। ইস! দরজাটা ভিড়িয়ে দিয়ে ঘুমানো উচিত ছিল, খোলা রেখে ঘুমিয়ে পড়ার ফল এখন হাড়েনাতে টের পাচ্ছে। এই শয়তানটা কখন ঘরে ঢুকে পড়েছে!
তৃধা বুকের ওপর ওড়নাটা ভালো করে পেঁচিয়ে নিয়ে বিরক্তি মাখানো ভাঙা গলায় শুধাল, 
"কয়টা বাজে এখন?"
"একটা পনেরো!!"
"তো এত রাতে আমার রুমে কী? কেন এসেছেন এখানে?"
বিষাণ পকেট থেকে একটা লাইটার বের করে সিগারেট ধরাতে ধরাতে ঠাণ্ডা গলায় বলল, 
"বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে, তাদের এখন ডাকতে পারব না।"
তৃধা ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকিয়ে বলল, 
"তো?"
"তো কি? আমাকে একটা ডিম ভেজে দে!"
"কেন? আজ রাতে তো বেশ ভালো ভালো সবজি রান্না হয়েছিল!"
"আমি সবজি খাই না, তুই জানিস না?"
তৃধা চরম বিরক্তি নিয়ে বিষাণের দিকে তাকাল। তারপর সোজা বলল,
 "তাতে আমার কী? আপনার খিদে পেয়েছে, নিজের ডিম নিজে ভেজে খান!"
বিষাণ সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে তার দিকে অবিশ্বাস্য চোখে তাকাল, "কী বললি?"
"কী বললাম মানে কী? নিজের কাজ নিজে করুন! আপনার হাত-পা নেই?"
"আগে তো আমি ডাকার আগেই তুই বানিয়ে রাখতিস! আজ কেন রাখলি না?"
তৃধা নিজের আলগা হয়ে যাওয়া চুলগুলো দ্রুত খোপা করতে করতে বলল, 
"ফার্স্ট অফ অল, আমি নন্দ্রিতা নই যে ছাগলের মতো আপনার সব কথা শুনব! আর গল্পের শেষ দিনে আপনি আমার গলায় ছুরি ধরলে আমি অভিমানে কাঁদব, এমন মেয়েও আমি নই! আমি তৃধা, বুঝলেন? আমি জানি সেলফ-রেস্পেক্ট কাকে বলে! আমি কারো বাড়ির চাকরানিগিরি করতে আসিনি, আর আপনার বাড়ির তো ভুলেও না! ইউ নো দ্যাট, মিস্টার বিষাণ সরকার?"
বিষাণ চোখের মনি ছোট ছোট করে চরম বিস্ময়ে তৃধার দিকে তাকিয়ে রইল। ঘরের আবহাওয়া থমথমে হয়ে উঠতেই তৃধা একটা ঢোক গিলল। আহারে, রেগে গিয়ে আবার বেশি বলে ফেলল না তো? পরমুহূর্তেই নিজেকে সামলে নিয়ে একদম স্বাভাবিক গলায় বলল, "মানে বলছিলাম... ভাই, বিষাণ ভাই!"
বিষাণ এক গাল ঠাণ্ডা হেসে বলল, 
"নাটক শেষ হলে এবার রান্নাঘরে গিয়ে ডিম ভেজে নিয়ে আয়।"
তৃধা এবার সোজা আঙুল উঁচিয়ে দরজার দিকে নির্দেশ করল, 
"বের হন আমার রুম থেকে! আমি দরজা লাগাব!"
বিষাণ থতমত খেয়ে গেল। এই মেয়ে তাকে তার নিজের ঘর থেকে বের হতে বলছে? এত বড় সাহস এই মেয়ের কীভাবে হয়?
"ডিম ভেজে তারপর দরজা লাগাবি।"
"আমি পারব না! যান তো এখান থেকে!"
"আমার সাথে মুখে মুখে তর্ক করবি না, আগেই বলে দিচ্ছি!"
"তাহলে বের হয়ে যান! আপনি না থাকলে আমি তর্ক করব কার সাথে?"
"তোকে বললাম তো, রান্নাঘরে যা!"
"আমিও তো বললাম আমি ডিম ভাজব না! আপনি নিজে ভেজে খান!"
"আমিও তো বললাম তুই-ই ভাজবি!"
তৃধা এক মুহূর্ত থামল। তারপর বিষাণের দিকে একটু বাঁকা চোখে তাকিয়ে বলল,
 "কেন? ওই দুটোর কী হয়েছে?"
বিষাণ অবাক হয়ে শুধাল, "কোন দুটোর?"
তৃধা শান্ত গলায় ইশারা করে বলল,
 "ওই যে ঝুলে আছে, ওগুলো?"
বিষাণ নিজের দিকে তাকিয়ে আরও অবাক হলো, "কী ঝুলে আছে? মানে কী তোর?"
তৃধা একদম নিষ্পাপ মুখ করে বলল,
 "নিজে সঙ্গে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, আবার আমাকেই প্রশ্ন করছেন? অদ্ভুত তো!"
বিষাণ এবার রাগে চিৎকার করে উঠল, "কী বলতে চাস তুই? কী নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি আমি?"
তৃধা এবার হাত দুটি দেখিয়ে বলল,
 "ওই যে হাত দুটো নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন!"
বিষাণ রাগে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। হাত দুটি? মেয়েটা হাত দুটোর কথা বলছিল? বিষাণ রাগে কিছু একটা বলতে যাবে, অমনি তৃধা চট করে নিজের তর্জনী আঙুলটা ঠোঁটে চেপে ধরে, কোনোমতে ভেতরের হাসিটা চেপে বিড়বিড় করে উঠল,
"ছি ছি, বিষাণ ভাই! আপনি এত ডার্ক মাইন্ডের? কোথায় চিন্তা চলে যায় আপনার!"
"কী? ডার্ক মাইন্ডের?! ওয়াট? তোকে তো আমি.."
তৃধা একটা শুকনো ঢোক গিলে ব্যাকফুটে গিয়ে বলল, 
"উফফ, যান তো এখন!"
বিষাণ এক পা তৃধার দিকে এগোতেই তৃধা তড়িঘড়ি করে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
 "আহা, যাচ্ছি তো রান্নাঘরের দিকে! এত নাটক করার কী আছে?"
বিষাণ মনে মনে হয়তো একটু হাসল, তবে মুখে সেই কঠিন ভাবটা ধরে রাখল। বিষাণ যেই না আগে দরজার বাইরে পা দিয়েছে, তৃধা ওমনি এক ঝটকায় দরজাটা কপাট আটকে ভেতর থেকে খিল তুলে দিল!
বিষাণ বাইরের করিডোরে দাঁড়িয়ে পুরো তাজ্জব বনে গেল!কি করছে এই মেয়ে? তারপর দরজায় সজোরে একটা ধাক্কা দিয়ে ধমকে উঠল,
 "নন্দ্রিতা! দরজা খোল বলছি!"
দরজার ওপাশ থেকে তৃধার খিলখিল হাসি ভেসে এলো,
 "আল্লাহ যখন আপনাকে এত বড় বড় দুটো হাত দিয়েছেন, নিজের হাতে নিজে ডিম ভেজে খান! আর মনে রাখবেন,আপনি ঘাড়তেরা হলে আমি ঘাড়তেড়ি!আল্লাহ হাফেজ!"
"নন্দ্রিতা! আমাকে বাধ্য করিস না লাথি মেরে দরজা ভাঙতে!"
তৃধা এবার বেশ বিরক্ত হয়ে চড়া গলায় বলল,
 "এত খাবারের কষ্ট হলে দয়া করে একটা বিয়ে করে ফেলুন না গিয়ে! তারপর মাঝরাতে বউকে বলবেন,আমি এটা খাব না, ওটা এনে দাও! আমাকে কেন বলছেন? আমি অন্য কারো সম্পদ, অন্য কারো হবু বউ! সো, দূরে থাকুন আমার থেকে! এভাবে মাঝরাতে আরেকজনের বউয়ের রুমে ভুলেও ঢুকবেন না, কথাটা নিজের মাথায় ভালো করে ঢুকিয়ে নিন! লজ্জাহীন পুরুষ একটা!"
বিষাণ আবার রেগে দরজায় আঘাত করতে যাবে, অমনি তৃধা দরজার ওপাশ থেকে চিৎকার করে বলল, "আর শোনেন! আপনি যদি দরজা ভাঙার কথা ভাবেন, তবে আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবে না! আর দরজা ভাঙলে যে বিকট আওয়াজ হবে, তাতে বাড়ির সবাই জেগে উঠে আপনাকে ধরে পেটাবে, বলে দিলাম!"
বাইরে বিষাণের গলার স্বর হুট করেই বদলে গেল। সেই রাগী ভাবটা উবে গিয়ে এক বরফের মতো ঠাণ্ডা কণ্ঠস্বর ভেসে এলো, 
"আমাকে মারবে? এই সরকার বাড়ির লোকজনের সেই সাহস আদৌ আছে বলে মনে হয় তোর?"
তৃধা দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে একটু শুকনো ঢোক গিলল। লোকটার ঠাণ্ডা গলার আওয়াজে একটা অদ্ভুত আতঙ্ক আছে। সে পরিস্থিতি একটু হালকা করার জন্য বলে উঠল,
 "আচ্ছা বাদ দিন! একটা কথা শুনুন আর বিশ্বাস করুন। আপনি বললে আমি আপনাকে শুধু ডিম নয়, দরকার পড়লে নিজের কলিজাটা পর্যন্ত ভেজে দিয়ে দেব!"
বিষাণ ওপাশে ভ্রু কুঁচকে শুধাল, 
"কী কথা?"
তৃধা দরজার কাঠে নিজের একটা আঙুল রেখে একদম সিরিয়াস গলায় বলল, 
"কথাটা হলো... আমি আসলে সেই নন্দ্রিতা নই! আমি হলাম..!"
তৃধা নিজের কথাটা শেষও করতে পারল না, তার আগেই ওপাশ থেকে বিষাণের জুতো জোড়ার শব্দ দূরে সরে যেতে যেতে ভেসে এলো,
 "লাগবে না ডিম, যা গিয়ে ঘুমা!"
তৃধা ছটফট করে বিরক্তি নিয়ে বলে উঠল, 
"আরে, বিশ্বাস করুন না প্লিজ!"
বিষাণের হাঁটার শব্দ একটু থামল। বেশ দূর থেকে তার ঠাণ্ডা আওয়াজ এলো, 
"তাহলে প্রমাণ করে দেখা!"
তৃধা মুখের ওপর হাত দিয়ে স্বগত বলে উঠল, "তবে...!"
তারপরই সে এক মুহূর্তে একদম চুপ হয়ে গেল। নিজের মাথার চুলগুলো টেনে ধরে ভাবল,আসলেই তো! সে কীভাবে প্রমাণ করবে যে সে নন্দ্রিতা নয়, সে ২০২৫ সালের তৃধা? এই ঘরের, এই বাড়ির মানুষগুলো তো তাকে ছোটবেলা থেকে চেনে আর দেখে আসছে। তারা কীভাবে বিশ্বাস করবে যে এই শরীরের ভেতরে অন্য এক যুগের একটা মেয়ে বাস করছে?
তৃধা সাবধানে দরজার খিলটা খুলে হালকা একটু উঁকি দিল। দেখল করিডোর ফাঁকা, বিষাণ নিজের ঘরের দিকে চলে গেছে।
তৃধা আবার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে দরজাটা ভালো করে আঁটকে দিয়ে এসে বিছানায় বসে রইল। হাত দুটি গালে রেখে শূন্য চোখে ভেবে চলল,*এখন আমি কী করব??এ আমি কোথায় ফেঁসে গেলাম!*
—
সকালের নরম রোদ তখন সরকার বাড়ির উঠোনে এসে পড়েছে। খেলার ক্লান্তি কাটিয়ে তৃধা আজ বেশ ফুরফুরে মেজাজে ঘুম থেকে উঠেছে। সারা বাড়ি ঘুরে ঘুরে এই পুরোনো যুগের জিনিসপত্র দেখাটাই যেন তার নতুন অ্যাডভেঞ্চার।
হাঁটতে হাঁটতে সে বসার ঘরে এসে পৌঁছাল। সেখানে গিয়েই তার চোখে পড়ল দাদু অর্থাৎ মফিজুর সরকার সোফায় বসে চোখে মোটা চশমা এঁটে বেশ চিন্তিত মুখে লম্বা একটা খাতার দিকে তাকিয়ে আছেন। মনে হচ্ছে ছোট ছোট আঁকিবুকি লেখাগুলো দেখার জন্য বেশ কসরত করছেন তিনি।
তৃধা ধীরপায়ে দাদুর কাছাকাছি গিয়ে সোফায় বসল। তারপর বেশ কৌতূহল নিয়ে শুধাল, 
"কী দেখছেন দাদু?"
মফিজুর সরকার চশমাটা নাকের ওপর একটু ঠেলে তৃধার দিকে তাকালেন। তারপর মৃদু দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, 
"কালাম আজকে এল না রে মা। ভাবলাম ব্যবসার হিসাবগুলো একটু নিজেই দেখে রাখি। ও তো প্রতিদিনের সব জমা-খরচের খাতা সামলায়। কিন্তু বয়স হয়েছে তো, চোখের চামড়া আলগা হয়ে এসেছে; এত ছোট ছোট লেখাগুলো একদম চোখে ঠেকছে না!"
তৃধা সামনে টেবিলের ওপর রাখা বিশাল খাতাগুলোর দিকে তাকাল। তার মুখে এক গাল উজ্জ্বল হাসি ফুটে উঠল। সে হাত বাড়িয়ে বলল, 
"দিন তো, আমিও একটু দেখি!"
মফিজুর সরকার নাতনির এই উন্মুখ ভাব দেখে বেশ অমায়িক হেসে বললেন, 
"দেখবি? দেখ, তোকে আবার আটকালো কে?"
তৃধা খুশিমনে মোটা খাতাটা নিজের কোলে টেনে নিল। খাতার পাতাগুলো উল্টাতেই তার চেহারা আনন্দে আরও চওড়া হয়ে উঠল। সে দাদুর দিকে তাকিয়ে একপ্রকার অবাক হয়েই বলল,
 "শুধু এই সাধারণ যোগ-বিয়োগের হিসাবগুলোই? আর কিছু নেই?"
মফিজুর সরকার চশমার ওপর দিয়ে অবাক চোখে তাকালেন,
 "আছে তো মা! কেন বল তো?"
তৃধা একদম স্বাভাবিক গলায় বিন্দাস বলে উঠল, "আরে, এগুলো তো আমি এমনিতেই পারি! জলের মতো সহজ হিসাব!"
মফিজুর সরকার এবার আরও বেশি তাজ্জব বনে গেলেন, 
"তুই কী করে পারবি রে নন্দ্রিতা?"
তৃধার মুখে প্রায় চলেই এসেছিল,*‘আরে দাদু, আমি ২০২৫ সালে বিজনেস ব্যাকগ্রাউন্ডে পড়াশোনা করছি! আর বিসনেস নিয়ে পড়ে,এই সামান্য যোগ-বিয়োগ না পারলে আমার অ্যাকাউন্টিং পড়ার ওপর ধিক্কার!’* কিন্তু শেষ মুহূর্তে নিজেকে সামলে নিয়ে মুচকি হাসল।
দাদু যখন কাঠের ম্যানুয়াল ক্যালকুলেটর চেপে হিসাব করার চেষ্টা করছিলেন, তৃধা তার আগেই খাতার পাতায় এক নজর চোখ বুলিয়ে মুখে মুখে চটপট সঠিক হিসাবটা বলে দিল!
মফিজুর সরকার অবাক হয়ে নিজের চশমাটা খসিয়ে ফেললেন। নাতনির মুখের দিকে বিস্ময়ে তাকিয়ে থেকে বললেন,
 "বলিস কী মা! তুই এত দ্রুত এই হিসাব শিখলি কোত্থেকে?"
তৃধা একটু দুষ্টুমির হাসি হেসে বলল, 
"শিখেছি এক জায়গা থেকে! দিন, আগের পাতাগুলোর সব হিসাব আমিই একদম সোজা করে মিলিয়ে দিচ্ছি!"
মফিজুর সরকার নাতনির এই প্রতিভা দেখে বেশ প্রফুল্ল বোধ করলেন। খাতাগুলো তার দিকে এগিয়ে দিয়ে ঠাট্টা করে বললেন,
 "বাহ্! তা তোদের স্কুলে আজকাল দারুণ সব মাস্টারমশাই এসেছেন দেখছি!"
তৃধা দাদুর কথার আর কোনো উত্তর না দিয়ে আগের কয়েক মাসের হিসাবের পাতাগুলো একে একে মেলাতে শুরু করল। ঠিক সেই মুহূর্তে রিধিকা সরকার এক কাপ গরম চা হাতে নিয়ে ঘরে ঢুকল। দাদুর সামনে চায়ের কাপটা রেখে তৃধাকে খাতা নিয়ে বসতে দেখে বেশ বাঁকা চোখে তাকাল। বিষিয়ে ওঠা কণ্ঠে বলে উঠল, 
"কী করছিস তুই খাতা নিয়ে নন্দ্রিতা?"
তৃধা চোখ না তুলে উত্তর দিল, 
"আগের হিসাবগুলো একটু দেখছি।"
রিধিকা বিরক্তি নিয়ে এক গাল ভেঙচে বলল, 
"তুই ওসব ব্যবসা-বাণিজ্যের হিসাবের কী বুঝবি? শুধু শুধু সময় নষ্ট করছিস আর দাদুকে বিরক্ত করছিস! রেখে দে ওসব, নিজের ঘরে যা!"
তৃধা সেদিকে বিন্দুমাত্র পাত্তা দিল না। কিন্তু খাতার একটা নির্দিষ্ট জায়গায় চোখ যেতেই তার ভ্রু কুঁচকে গেল। সে আঙুল দিয়ে একটা কলাম দেখিয়ে দাদুকে বলে উঠল, 
"দাদু, এখানে তো মারাত্মক গড়মিল আছে!"
মফিজুর সরকার ঝটপট চশমাটা আবার চোখে দিয়ে ঝুঁকে এলেন, "গড়মিল? কোথায় রে মা?"
রিধিকার হুট করে বিরক্তিটা বেড়ে গেলো ,দাদুর দিকে তাকিয়ে বলে উঠল,
 "ওর কথায় একদম কান দেবেন না দাদু! ও তো পড়াশোনাই ঠিকমতো করে না, এখন উল্টাপাল্টা কথা বলে কালাম ভাইকে ছোট করতে চাইছে!"
তৃধা চড়া চোখে রিধিকার দিকে তাকাল, তারপর খুব ঠাণ্ডা মাথায় খাতাটা দাদুর দিকে ঘুরিয়ে বলল, "উল্টাপাল্টা বলছি কি না, আপনি নিজেই দেখুন দাদু। এখানে খরচের খাতায় যে সংখ্যা লেখা, আর মোট যোগফলে যা নামানো হয়েছে,তার মাঝে তো লাখ টাকার তফাত!"
মফিজুর সরকার নিজে চোখ কচলিয়ে হিসাবটা দেখলেন। সত্যিই তো! চোখ দুটো বড় বড় করে তিনি গম্ভীর গলায় বলে উঠলেন, 
"ঠিকই তো! এখানে তো বড় রকমের হিসাবের ভুল আছে!"
রিধিকাহ এক মুহূর্তের জন্য ঢোক গিলল। চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে গেলেও সামলে নিয়ে বলল, 
"কী যে বলেন! হয়তো কালাম ভাইয়ের একটু ভুল হয়ে গেছে..."
তৃধা সঙ্গে সঙ্গে তাকে থামিয়ে দিয়ে বলল, 
"শুধু এই একটা পাতায় নয় ভাবি, আমি আগের কয়েক মাসের পাতাতেও একই রকম ভুল দেখতে পাচ্ছি! সব জায়গাতেই টাকা কম দেখানো হয়েছে।"
মফিজুর সরকারের মুখটা ভীষণ চিন্তিত ও গম্ভীর হয়ে গেল। তিনি থমথমে গলায় বললেন, "হুম... কালাম কালকে আসুক, তারপর এই খাতা নিয়ে আমি ওর মুখোমুখি বসব!"
তৃধা দাদুর দিকে মিষ্টি করে তাকিয়ে পরামর্শের সুরে বলল, 
"দাদু, আমার মনে হয় কালাম লোকটা হয়তো এত বড় ব্যবসার হিসাব একা আর সামলাতে পারছে না। আর তা ছাড়া, আমি তো সারা দিন বসেই থাকি! এই সহজ হিসাবগুলো বেশ চটপট করে ফেলতে পারি। আপনি চাইলে উনি যদি না পারেন, আমি কিন্তু আপনার খাতাগুলোর হিসাব রোজ ফ্রিতে করে দিতে পারি!"
মফিজুর সরকার তৃধার মাথায় আদরে হাত রেখে হেসে উঠলেন, 
"কথাটা তো একদম খারাপ বলিসনি ! ঠিক আছে, কালাম আসুক, তারপর তোকেই এই খাতা সামলানোর ভার দেব।"
রিধিকাহ আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না।রান্নাঘরের দিকে চলে গেল। তৃধা বিজয়ের হাসি হেসে খাতাগুলো গুছিয়ে রেখে বাইরে বের হলো শিরিনকে খুঁজতে।সে আগেই জানতো এই হিসাবের খাতায় অনেক টাকা মিসিং! আর এসব করছে ওই যে ভাবি!সেটাও জানবে সবাই তবে এত তাড়াতাড়ি নয়, কাহিনী তো এখন ও শুরু ওই হয় নি!
উঠোনে আসতেই তার নজর গেল সিঁড়ির পেছনের বাগানটার দিকে। ধবধবে সাদা রঙের একটা পুচকে খরগোশ ঘাসের ওপর লাফালাফি করছে! তৃধার চোখ দুটো আনন্দে জলজল করে উঠল। সে তো খরগোশ ভীষণ ভালোবাসে!
কিন্তু কাছে গিয়ে ভালো করে লক্ষ্য করতেই তৃধা তাজ্জব হয়ে গেল,কী অদ্ভুত! খরগোশটার সাদা পিঠের মাঝখানে কে যেন হলুদ রঙ ছিটিয়ে একে একদম অদ্ভুত বানিয়ে রেখেছে! কিন্তু তা সত্ত্বেও খরগোশটা এত তুলতুলে আর মিষ্টি যে তৃধার লোভ সামলানো দায় হলো। সে ওটাকে ধরার জন্য পা টিপে টিপে এগোতে লাগল।
তৃধা যেই না হাত বাড়াল, খরগোশটা এক লাফে দোতলার সিঁড়ির দিকে দৌড় দিল। তৃধাও ছাড়ার পাত্রী নয়! সে-ও পিছু পিছু দৌড়াল। অবশেষে বেশ কায়দা করে খরগোশটাকে দু’হাতে জড়িয়ে ধরে কোলে তুলে নিল সে। খরগোশটা নরম ছানার মতো তৃধার কোলে মুখ গুঁজে বের হতে চাইছিল।
তৃধা ওটাকে নিয়ে সোজা রান্নাঘরে চলে এলো। একটা বাটিতে কিছুটা তাজা গাজর কুচি আর কচি ঘাস এনে খরগোশটার সামনে রেখে দিল। তৃপ্তির সাথে খাবার পেয়ে খরগোশটা ছটফটানো বন্ধ করে শান্ত হয়ে খেতে লাগল।
ঠিক তখনই শিরিন বাইরে থেকে কিছু মশলার কৌটো হাতে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকাল। তৃধার কোলে অত সুন্দর একটা খরগোশ দেখে সে চমকে উঠে বলল,
 "ওমা আফা! এইটা কই পাইলেন?"
তৃধা পরম আদরে খরগোশটার গায়ে হাত বোলাতে বোলাতে বলল, 
"উঠোনের কোণে ঘুরছিল, ওখান থেকেই তো ধরে আনলাম!"
শিরিন চোখ বড় বড় করে বলল, 
"আফা! এতো তো বিষাণ ভাইয়ের পোষা খরগোশ 'মাখন'!"
খবরটা শুনতেই তৃধার হাতের বাঁধন আলগা হয়ে গেল। সে ভয় আর আতঙ্কে এক ঝটকায় খরগোশটাকে কোল থেকে ছেড়ে দিয়ে পিছিয়ে গেল, "কীইই! বলিস কী? কার ছানা এটা?!"
“খরগোশের!”
“ধ্যাত, কার এটা!”
"বিষাণ ভাইয়ের আফা! ওনার রুমেই তো থাকে সারা দিন।"
তৃধা নিজের হাত দুটো জামায় মুছতে মুছতে চোখ কপালে তুলল, 
"ওই খাড়ুস অসুর আবার খরগোশ পালে নাকি? ও তো রক্তচোষা ড্রাকুলা! ওর পেটে আবার এত মায়াদয়া এলো কোত্থেকে?"
শিরিন অবাক হয়ে বলল,
 "কী যে কন না আফা আপনি!"
এদিকে ছাড়া পেতেই খরগোশটা বাটি থেকে মুখ তুলে এক দৌড়ে রান্নাঘরের দরজার দিকে চলে গেল। তৃধা হাঁ করে সেদিকে তাকিয়ে রইল। দরজায় দাঁড়ানো বিষাণের পায়ের কাছে গিয়ে খরগোশটা একদম শান্ত হয়ে বসে পড়ল।
তৃধা নজর তুলে ওপরে তাকাল। দরজায় হাত ভাজ করে দাঁড়িয়ে আছে বিষাণ সরকার। এত রাতে ধমক দেওয়া সেই কঠিন লোকটার পরনে এখন ঢিলেঢালা সাদা ফতুয়া। বিষাণ ধীরপায়ে নিচে ঝুঁকে খরগোশটাকে এক হাতে পরম মায়ায় তুলে নিল। তার চোখেমুখের কঠোর ভাবটা ক্ষণিকের জন্য উবে গিয়ে সেখানে একটা অদ্ভুত শান্ত প্রকাশ ভেসে উঠল। খরগোশটাকে কোলে নিয়ে বিষাণ তৃধার দিকে একপলক ঠাণ্ডা চোখে তাকিয়ে গটগট করে দোতলার দিকে চলে গেল।
তৃধা দরজার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে রইল। মনের অজান্তেই তার ভেতরের কোনো এক কোণে ভেসে উঠল,এই খাড়ুস লোকটার ভেতরেও এত সুন্দর একটা রূপ লুকিয়ে আছে? এই প্রথম লোকটাকে কেমন যেন একটু ভালো লাগল...*
"আফা!",শিরিনের চড়া ডাকে তৃধা হঠাৎ সংবিত ফিরে পেল।
সে বুকে হাত দিয়ে সজোরে একটা শ্বাস নিল। তারপর মনে মনে নিজেকে কড়া ভাষায় বকতে শুরু করল,*‘ছি ছি তৃধা! তুই কি পাগল হয়ে গেলি নাকি? এটা এই নন্দ্রিতার বডি বলেই সব ঝামেলার সৃষ্টি হচ্ছে! কী সব ফালতু চিন্তা মাথায় আসছে আমার! অসুর কখনো সুন্দর হতে পারে? কখনোই না!’*
তৃধা নিজের ঢোক গিলে ধড়ফড় করতে থাকা বুকের ওপর হাত চেপে ধরে বিড়বিড় করে উঠল,
"হেই নন্দ্রিতার মন! শোনো, নিজের এই বেইমান প্রেমিককে দেখলেই তোমার এত কাঁপাকাঁপি শুরু হয় কেন শুনি? তোমার এই আবেগের চক্করে পড়ে আমার ১২টা বাজতে চলেছে! আর একবার যদি ওই অসুরের জন্য এভাবে ধুকপুক করেছ, তবে কিন্তু আমি আর সহ্য করব না, বলে দিলাম!”
—
বিষাণ নিজের ঘরে বসে 'মাখন'কে নিয়ে খেলা করছে। ঠিক তখনই সাদা রঙের ধবধবে পাঞ্জাবি পরা এক লোক ঘরে এসে ঢুকল। তাকে দেখেই বিষাণ ঠোঁটের কোণে হালকা বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বলে উঠল,
"কী ব্যাপার, নেতা সাহেব? হুট করে আমার এই গরিবের আস্তানায়?"
ইশতিয়াক ঘরের ভেতর এসে সরাসরি বিষাণের বিছানায় নিজের গা এলিয়ে দিল। তারপর বেশ হালকা চালে বলে উঠল,
"হুম, মাঝে মাঝে নিজের চামচা-মামচাদেরও তো একটু খোঁজখবর নিতে হয়, নাকি? নাহলে তো বিচারে কষ্ট পাবে!"
বিষাণ মৃদু হাসল, তবে কিছু বলল না। ইশতিয়াক গা ঝাড়া দিয়ে উঠে বসে বিষাণের দিকে সোজা তাকাল। গম্ভীর গলায় শুধাল,
"তা... রিধিকা তো আমাকে বাড়ির সব খবরাখবরই দিল। নন্দ্রিতার ব্যাপারে শেষ পর্যন্ত কী ভাবলি?"
কথাটা শুনে বিষাণ যেন কানেই শুনল না,এমন একটা ভাব করল। খরগোশটাকে নিচে ছাড়তে ছাড়তে বিষয় টা এড়িয়ে গিয়ে বেশ ঠান্ডা গলায় বলে উঠল,
"তোমার ওই দলের অবস্থা কেমন চলছে?"
ইশতিয়াক বিষাণের এই এড়ানোর ভান দেখে এক গাল হেসে ফেলল। তারপর বিছানায় হেলান দিয়ে আরাম করে বলল,
"নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার আগ পর্যন্ত তো বেশ ভালোই কাটছে, বাকিটা দেখি সামনে কী হয়!"
চলবে ....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন