#হেদায়েতের_নুর
#নাফিসা_বিনতে_সুলতান
পর্ব: ০৩
নুর প্রায় সময়ই রাতে তাহাজ্জুদ পড়ে। ছোটবেলা থেকে তার বাবা মা তাকে তাহাজ্জুদের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন।
কিয়ামুল লাইল, অর্থাৎ রাত জেগে নামাজ আদায়, হলো মুমিনের মর্যাদার সিঁড়ি, জান্নাতে যাওয়ার অন্যতম মাধ্যম এবং সফলতার চাবিকাঠি। এটি আল্লাহর একান্ত প্রিয় হওয়ার একটি প্রধান উপায়। তাহাজ্জুদের মর্যাদা ফরজ নামাজের পরেই । তাহাজ্জুদ নামাজের সময় মধ্যরাতের পর শুরু হয়ে ফজরের ওয়াক্তের পূর্ব পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। এ সময় আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে নেমে আসেন এবং বান্দার ফরিয়াদ শোনেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য বিশেষ আজান দেওয়া হতো, যা আজও মক্কা ও মদিনায় প্রচলিত আছে। নবী কারিম (সা.) বলেন, ‘তোমরা কিয়ামুল লাইলের প্রতি যত্নবান হও। কেননা তা তোমাদের পূর্ববর্তী নেককারদের অভ্যাস এবং রবের নৈকট্য লাভের বিশেষ মাধ্যম। আর তা পাপরাশী মোচনকারী এবং গুনাহ থেকে বাধা প্রদানকারী।’ (তিরমিজি: ৩৫৪৯)
নবী (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা রাতের শেষ তৃতীয়াংশে কাছের আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন, কে আছো, দোয়া করবে এবং আমি তার দোয়া কবুল করব। কে আছো, আমার কাছে (তার প্রয়োজন) চাইবে এবং আমি তাকে দান করব। কে আছো, আমার কাছে ক্ষমা চাইবে এবং আমি তাকে ক্ষমা করব।’ (বুখারি: ১১৪৫)।
নুর রাতে ৩ টায় ঘুম থেকে উঠে পড়ে। তারপর সুন্দর করে ওযু করে আসে। জায়নামাজ বিছিয়ে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে। নামাজ শেষে বসে আল্লাহর কাছে হাত তুলে দোয়া করে,
- ইয়া আল্লাহ আজ থেকে আমার পরিবারের জীবনের নতুন একটি অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। তুমি এই অধ্যায় টা কে কল্যাণকর করে দাও। আমাদের উপর তোমার রহমত নাযিল করো। বাহিরের দেশে গিয়ে আমরা যাতে হেদায়েত না হারিয়ে ফেলি সেই তৌফিক দান করো। শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে হেফাজত করো আমিন।
নামাজ শেষে নুর বোতল থেকে পানি খেতে গিয়ে দেখে বোতলের পানি শেষ হয়ে গেছে। তাই সে রুম থেকে বের হয় পানি আনার জন্য। তখন সে দেখতে পায় তার বাবা মা ও তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করছে। সে তার ছোট বোনকেও ডেকে তুলে নামাজ আদায় এর জন্য। সবাই একত্র হয়ে আল্লাহর জিকির করতে থাকে। ফজরের আজান দিলে তারা আজকে একত্রে নামাজ আদায় করে। নামাজ শেষে আয়েশা সবার জন্য নাস্তা তৈরি করতে চলে যান। সিকদার আহমেদ দুই মেয়েকে তৈরি হয়ে নিতে বললেন। নাস্তা করেই তারা এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন। ঠিক ৪ঘন্টা পর তাদের ফ্লাইট। এয়ারপোর্টে পৌছে তাদের আরও অনেক কাজ করতে হবে তাই তাড়াতাড়ি যেতে হবে।
এয়ারপোর্টে পৌছে নুর দেখতে পেলো সুমাইয়া তার কথা মতো বিদায় জানাতে এসেছে। নুরের মামা–মামি, চাচা–চাচি, ফুপা–ফুপি, খালা–খালু সবাই এসেছে তাদের বিদায় জানাতে। তারা সবার সাথে কুশল বিনিময় করে এয়ারপোর্টের ভেতর ঢুকে যায়। সব কার্যক্রম শেষ হতে আরও এক ঘন্টা সময় লাগে। অবশেষে তারা প্লেনে উঠে পড়ে৷ কিছুক্ষনের মধ্যেই প্লেন টেক অফ করবে। নুর সহ পুরো পরিবার আল্লাহর নাম নিয়ে তাদের নতুন পথে পারি দেয়।
............................................
অস্ট্রেলিয়ায়
সাদিফ ইউনিভার্সিটি তে প্রবেশ করলো তার বিলাশ বহুল গাড়িতে। চোখে সানগ্লাস, হাতে ব্র্যান্ডের ঘড়ি, সাদা প্যান্টের সাথে আকাশি কালার টিশার্ট পড়া। সব মিলিয়ে যেনো তার সৌন্দর্য কে দ্বিগুণ বাড়িয়ে তুলেছে। গাড়ি থেকে নামতেই পুরো ইউনিভার্সিটি তে মেয়েদের হৈ-হুল্লোড় পড়ে গেলো। সব মেয়েরা দৌড়ে আসছে তাকে এক পলক দেখার জন্য। অবশ্য মেয়েদের এমন পাগলামি সাদিফ অনেক ইনজয় করে। পিছন থেকে সাদিফ এর দুই বন্ধু সিড এবং নিক দৌড়ে তার কাছে আসে।
সিড বলে,
হাই ব্রো। প্রতিদিনের মতো আজকেও লেট। তোর জন্য অপেক্ষা করতে করতে আমরা তো আধা পাগল হয়ে গেলাম। কি বলিস নিক??
নিক সহমত পোষণ করে বলে,
তা নয়তো কি। ওর জন্য প্রতিদিন ম্যাম এর কাছে বকা শুনতে হয়। সাদিফ তুই কি জীবনে ভালো হবি না???
সাদিফ অবাক হওয়ার ভান করে বলে,
আরেহ কি সব বলিস তোরা। আমি খারাপ ছিলাম কবে??? আমার মতো নিষ্পাপ, ইনোসেন্ট, কিউট একটা ছেলেকে তোরা এভাবে বলতে পারলি?????? জনগন কি তোদের মেনে নিবে????
সিড নাক মুখ কুচকে বলে,
নট এগেইন ইয়ার। প্লিজ স্টোপ ইট। তোর এই রোজকার কাহিনী আর ভালো লাগছে না বুঝলি। আজ কি কারণে দেরি হলো সেটা বল?
সাদিফ দায়সারা ভাবে বলে,
আরে কাল অনেক রাত পর্যন্ত গেইমস খেলেছি তাই উঠতে দেরি হয়ে গেছে।
নিক আড়চোখে সাদিফের দিকে তাকিয়ে বলে,
তা সাহেব যে কাল সারারাত গেইমস খেলেছেন স্যার যে এসাইনমেন্ট দিয়েছিলেো সেটা করেছেন আপনি??
সাদিফ চমকে উঠে জিজ্ঞেস করে,
কিসের এসাইনমেন্ট??? আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম।
সিড স্বাভাবিক ভাবে বলে ,
স্যার গতকাল খুব কড়া ভাবে বলে দিয়েছিলেন এসাইনমেন্ট এর কথা। না করলে খবর আছে। এখন তুই কিভাবে কি করবি????
সাদিফ খাপছাড়া ভাব নিয়ে বলে ,
ব্যাপার না। রায়ান ইসলাম সাদিফ এর কাছে সব কিছুই সহজ। চিল ব্রো।
নিক ব্রু কুচকে জিজ্ঞেস করে,
তুই কি করতে চাইছিস বল তো??
সাদিফ চোখে সানগ্লাস পড়ে ভাব নিয়ে বলে,
দেখতে থাক।
তখনই ওদের পাশ দিয়ে এলিনা হেটে যাচ্ছিলো। এলিনা সাদিফ কে অনেক পছন্দ করে। সাদিফ ও সেটা ভালোই বুঝতে পারে। এলিনা কে দেখে সাদিফ জোড়ে জোড়ে বলতে থাকে,
ইয়ার সিড আমার এখন কি হবে বল তো। আমি তো এসাইনমেন্ট করতেই ভুলে গেছি। স্যার কাল যেভাবে বললেন এসাইনমেন্ট না করার জন্য যদি আমাকে ইউনিভার্সিটি থেকে বের করে দেয়?? কি হবে রে এখন??
এলিনা ওদের সামনে ছুটে আসলো। সাদিফকে বললো,
সাদিফ তুমি চিন্তা করো না আমি তোমার এসাইনমেন্ট করে দিচ্ছি। স্যারের ক্লাস আরও ২ ঘন্টা পর। ততক্ষণে হয়ে যাবে কমপ্লিট। তোমাকে কোথাও যেতে হবে না।
সাদিফ কয়েকবার চোখ ঝাপটে প্রশ্ন করে,
সত্যি বলছো?? তোমার কষ্ট হবে না???
এলিনা লাজুক হেসে বলে,
তোমার জন্য তো আমি সব কষ্ট সইতে রাজি আছি।
সাদিফ আহ্লাদি স্বরে চোখ টিপ দিয়ে বললো,
সো সুইট অফ ইউ বেবি।
এলিনা লজ্জা পেয়ে দৌড়ে চলে গেলো।
সাদিফ পিছন ঘুরে বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে বাকা হাসি দিয়ে বললো,
দেখলি তো সাদিফ এর জাদু। কিভাবে কাজ বের করতে হয় তা আমার খুব ভালো ভাবেই জানা আছে।
সিড আর নিক তো পুরা অবাক হয়ে সাদিফের দিকে তাকিয়ে আছে।
চলবে
কেমন লাগছে গল্পটা??? জানাবেন।