ফন্ট সাইজ:
থিম:
হেদায়েতের নুর

৪র্থ পর্ব

লেখক: নাফিসা বিনতে সুলতানা

#হেদায়েতের_নুর

#নাফিসা_বিনতে_সুলতান

পর্ব: ০৪

নুররা অস্ট্রেলিয়ায় পৌছে এয়ারপোর্ট থেকে টেক্সি নিয়ে ওদের নতুন বাড়ির জন্য রওনা দেয়। সিকদার আহমেদের অফিসের লোকজন তার জন্য নতুন বাড়ির ব্যবস্থা করে রেখেছে। গতকাল তারা আসার আগে বাড়ির সব পরিষ্কার পরিপাটি করে রাখা হয়েছে। বাড়ির ফার্নিচার সিকদার আহমেদ আর আয়েশা আক্তার নিজে পছন্দ করে ভিডিও কলে সিলেক্ট করেছেন। দীর্ঘ ১ ঘন্টা পার করে তারা নতুন বাড়িতে প্রবেশ করলো। বাড়িতে প্রবেশ করেই আয়েশা মুগ্ধ নয়নে বাড়িটা ঘুরে ঘুরে দেখলো । বাড়িটা সিকদার আহমেদ কিনে নিয়েছেন। দুইতলা বাড়ি। একতলার সাথে দ্বিতীয় তলা এটাচড করা। প্রথম তলায় রয়েছে বিশাল বড় বসারঘর তার পাশে রয়েছে ডাইনিং স্পেস। তার পাশ দিয়েই রান্নাঘর। নিচ তলায় একটা স্টোর রুম আর একটা বেড রুম রয়েছে। দুই তলায় ৩ টা বেড রুম সাথে বাথরুম আছে। বেডরুম গুলোর মধ্যে দুইটা বেড রুমে বারান্দা আছে। দুই বোন বারান্দা সহ বেডরুম গুলো নিলো। আর সিকদার আর আয়েশা নিলেন বারান্দা ছাড়া নরমাল বেড রুম টা। সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারা যে যার রুমে ফ্রেশ হতে চলে গেলেন। ফ্রেশ হয়ে সবাই ওজু করে একত্র হলো। তারপর একসাথে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করলো। নামাজ শেষে সবাই যার যার রুমে বিশ্রাম নিতে চলে গেলো।

..................................

এলিনা তার কথা মতো সাদিফের এসাইনমেন্ট কমপ্লিট করে তার কাছে নিয়ে আসে।

- সাদিফ নাও তোমার এসাইনমেন্ট কমপ্লিট হয়ে গিয়েছে। আমি সুন্দরভাবে করে দিয়েছি।

- ও এলিনা ডারলিং থ্যাংকস এ লট। তুমি না থাকলে আমার যে কি হতো? তুমি আমাকে আজ বড় বাচা বাচালে সুইটহার্ট।

- আমি থাকতে তোমার কিচ্ছু হতে দিবো না। তুমি এত টেনশন কেনো করো? আর কক্ষনো টেনশন করবে না। কিছু হলে আমাকে বলবে আমি সমাধান করে দিব।

- হ্যাঁ হ্যাঁ অবশ্যই। তুমি থাকতে আর কিসের চিন্তা। চোখ টিপ দিয়ে।

এলিনা লাজুক হাসি দিয়ে চলে গেলো। এলিনা যাওয়ার পরই ইয়ানা এসে সাদিফ কে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে।

- আমার পাখি টা কি করছে????

- আমার পাখিকে মিস করছিলাম।

- তাই তুমি আমাকে মিস ও করো???

- অবশ্যই করি। আমার চেহারা দেখে বুঝা যাচ্ছে না?????

- তুমিও না। আচ্ছা বাদ দাও। আমার ক্লাসের সময় হয়ে যাচ্ছে আমি যাই। বাই বেইবি পরে দেখা হবে।

- বাই লাভ ফ্লাইং কিস দিয়ে।

এইসব কাহিনী এতক্ষন যাবত সিড আর নিক দেখছিলো। ইয়ানা চলে যেতেই ওরা সাদিফের পাশে এসে দাঁড়ায়।

সিড বলে উঠে,

আচ্ছা সাদিফ এই পর্যন্ত দেখে আসছি কয়দিন অমুকের সাথে কয়দিন তমুকের সাথে তুই সমানে ফ্লাট করিস। তুই কি আদৌ তাদের কাউকে পছন্দ করিস???

সাদিফ মাছি তাড়ানোর মতো করে হাত নাড়িয়ে বলে,

ধ্যাত কি বলোস। ওদের আমি ভালবাসতে যাবো কেন? ওদের সাথে আমি এমনি টাইম পাস করি। আসলে আমার কোন মেয়ে মানুষকেই কয়েক দিনের বেশি আর ভালো লাগে না বুঝলি?

পাশ থেকে নিক প্রশ্ন করে,

যদি এমন কোন মেয়ে পেয়ে যাস যাকে তোর আজীবনের জন্য পছন্দ হয়ে যাবে???

সাদিফ বলে,

এমন কোন মেয়ে নেই যাকে আমার আজীবন ভালো লাগবে।

সিড উত্তর দেয়,

সেটা তো সময়ই বলে দিবে।

...................................

নুর তৈরি হচ্ছে আজ তার ইউনিভার্সিটির প্রথম দিন। নুর একটি ব্রাউন কালার বোরকা সাথে নুড কালার হিজাব পড়ে রেডি হয়ে নিল। হাতে ঘড়ি, পায়ে সাদা কেডস পড়ে সে তৈরি। সকালের নাস্তা করে মা বাবার থেকে দোয়া নিয়ে বাবার সাথে গাড়িতে ইউনিভার্সিটিতে পৌছালো নুর। বাবাকে বিদায় দিয়ে ইউনিভার্সিটির ভিতরে প্রবেশ করলো সে। সাদিফ ওর বন্ধুদের সাথে বিল্ডিং এর বাহিরে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছিল। নুর ভিতরে প্রবেশ করতে যাবে ঠিক সেই সময় কিছু ছেলেমেয়েরা হৈ-হুল্লোড় করে দৌড়াচ্ছিলো৷ ভুলবসত তাদের সাথে নুরের ধাক্কা লেগে নুরের সাথে সাদিফের ধাক্কা লেগে যায়। নুর হক চকিয়ে যায়। সাথে সাথে সোজা হয়ে দাঁড়ায় আর আস্তাগফিরুল্লাহ পড়তে থাকে। নুর সাদিফকে বলে,

আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। আমি ইচ্ছা করে করিনি। আমাকে মাফ করবেন।

এই বলে নুর চলে যায়।

আর যেতে যেতে আস্তাগফিরুল্লাহ পড়তে থাকে।

নুর– আল্লাহ আমি ইচ্ছা করে করি নি। তুমি আমাকে মাফ করে দাও। নুরের চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে গিয়েছে।

সাদিফ পুরা থ হয়ে আছে। এই মাত্র কি হলো তার সাথে? সব তার মাথার উপর দিয়ে গেলো। যেখানে মেয়েরা তার জন্য পাগল তার কাছাকাছি আসার জন্য পাগল৷ সেখানে এই মেয়ে সামান্য ধাক্কা লাগার কারণে কান্না করে দিলো? আজব!

চলবে

কেমন লাগছে গল্পটা?????

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন