#হেদায়েতের_নুর
#নাফিসা_বিনতে_সুলতান
পর্ব: ০৫
সাদিফ বেশ অবাক হয়েছে নুরের ব্যবহারে। আর হবে নাই বা কেনো সে তো এই রকম ব্যবহারের সাথে পরিচিত নয়। সে বুঝতে পারছে মেয়েটা যে এই ইউনিভার্সিটি তে নতুন। আগে কখনো দেখা হয় নি। কিন্তু যেকোনো মেয়ে তাকে প্রথম দেখায় পছন্দ করে ফেলে তার জন্য পাগল হয়ে যায়। আর এই মেয়ে কি করে গেলো। বসে বসে এসব নিয়ে গভীর মনোযোগ দিয়ে ভাবছিলো সাদিফ। সামনে থেকে সায়মা ভাইয়া বলে দৌড়ে আসলো। সায়মা কে দেখেই সাদিফের ঠোটে হাসি ফুটে উঠে। সে এগিয়ে যায় বোনের কাছে।
- ভাইয়া আমি কি বেশি লেট করে ফেললাম?? আজকে আমার ইউনিভার্সিটির প্রথম দিন আর আজকেই লেট হয়ে গেলো তাই না?? কাদো কাদো হয়ে কথা গুলো সায়মা সাদিফকে বললো।
- তুই সব সময় ছোট ছোট বিষয় নিয়ে কান্নাকাটি জুড়ে দিস কেন বলতো। তুই রায়ান ইসলাম সাদিফের ছোটবোন। তোর হাবভাব থাকবে অন্যরকম। এটিটিউড নিয়ে চলবি। তা না সারা দিন কান্নাকাটি জুড়ে বসে থাকিস। আমার প্রশ্ন তুই এত পানি পাস কই? সারাবছর তোর চোখে পানি রেডি থাকে কিছু হলেই টুপ করে চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে আজব।
- তুমি এখানেও শুরু হয়ে গেলে ভাইয়া??? আজকে আমার ইউনিভার্সিটির প্রথম দিন এমনি আমার নার্ভাস লাগছে। আর তুমি সেই তখন থেকে বকেই যাচ্ছো।
- আচ্ছা সরি। তোকে কে দিয়ে গেলো?
- ড্যাড দিয়ে গেলো অফিসে যাওয়ার পথে। তুমি তো অনেক তাড়াতাড়ি চলে এসেছো। তখন আমি সবেমাত্র ঘুম থেকে উঠেছি ফ্রেশ ও হইনি। তাইতো তোমার সাথে আসতে পারলাম না।
- সমস্যা নেই। কাল থেকে আমার সাথে আসবি প্রতিদিন। সব ফর্মালিটিস পূরণ করেছিস?
- হ্যাঁ ভাইয়া আগেই সব কমপ্লিট করে রেখেছি যাতে প্রথম দিন এসেই ঝামেলা পোহাতে না হয়।
- খুব ভালো করেছিস। দে তোর কার্ডটা দে। তোর রুম বের করে দেই।
সায়মা সাদিফকে কার্ড দিলে সাদিফ সায়মা কে নিয়ে ক্যাম্পাসের ভিতরে প্রবেশ করে আর তাকে তার ক্লাস রুমে পৌছে দেয়।
- একদম ঘাবড়াবি না। আমি আছি। কোন কিছুর প্রয়োজন হলে আমাকে জানাবি। মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করবি৷ আমি এখন আসি আমার ক্লাসের সময় হয়ে গিয়েছে।
- ওকে ভাইয়া।
সায়মা ক্লাসে ঢুকে দেখতে পায় প্রায় সব সিট ফুল হয়ে গেছে। এক একটা সিটে দুই জন করে বসার নিয়ম। সায়মা চারিদিকে চোখ বুলাতে বুলাতে তার চোখ যায় একটা মেয়ে সিটে চুপ করে শান্ত হয়ে বসে আছে। সায়মা এগিয়ে যায় তার দিকে।
- এক্সকিউজ মি। আমি কি এখানটায় বসতে পারি?
- হ্যাঁ অবশ্যই বসো।
সায়মা সুন্দরমতো নুরের পাশে বসে পড়ে। আরাম করে বসে নিজের ব্যাগ গোছগাছ করে সে নুরের দিকে তাকিয়ে তার হাত বাড়িয়ে দেয়।
- হাই। আই এম সায়মা। সায়মা ইসলাম।
- আসসালামু আলাইকুম৷ আমার নাম মেহেরিমা সিকদার নুর।
- ওয়ালাইকুম আসসালাম। তুমি মুসলিম?
- আলহামদুলিল্লাহ হ্যাঁ। তুমিও কি মুসলিম?
- হ্যাঁ। তোমাকে দেখে তো এখানকার মনে হচ্ছে না?
- হ্যাঁ আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি স্কোলারশীপ নিয়ে।
- ও ওয়াও। আমিও বাংলাদেশী। আমি যখন ছোট ছিলাম তখন আমার পরিবার এখানে সিফট হয়।
- ওহ। যাক এত এত অচেনার ভিড়ে একজন বাংলাদেশীকে পেয়ে অনেক খুশি হলাম আলহামদুলিল্লাহ।
- তাহলে আমরা কি বন্ধু হতে পারি?
- হ্যাঁ অবশ্যই। আজকে থেকে আমরা ফ্রেন্ডস।
- হ্যাঁ ফ্রেন্ডস। স্যার এসে গেছে চলো ক্লাসে মনোযোগ দেই।
........................
ক্লাস শেষে নুর আর সায়মা ক্যান্টিনে যাচ্ছিলো। মাঝ রাস্তায় নুরের ডাক পড়ে প্রিন্সিপালের রুমে। কিছু ফর্মালিটিস কমপ্লিট করা বাকি তার এখনো। নুর সায়মা কে গিয়ে খাবার ওর্ডার করে তার জন্য অপেক্ষা করতে বললো সে কিছুক্ষণের মধ্যেই আসছে বলে চলে গেলো।
সাদিফ ওর বন্ধুদের সাথে বসে ছিলো। হঠাৎ করে অনেক জোড়ে একটা বাস্কেটবল ওর মাথায় লাগে৷ সাদিফ সামনে তাকিয়ে দেখে ফ্রেড ওর দলবল নিয়ে ওর দিকেই এগিয়ে আসছে৷ সাদিফ ওদের কে আসতে দেখে দাঁড়িয়ে গেলো সাথে ওর বন্ধুরাও।
- উপস সাদিফ বলটা কিভাবে কিভাবে যেনো তোমার গায়ে এসে পড়লো। আমরা তো কত দূরে খেলছিলাম। বেশি ব্যাথা পেয়েছো? বাকা হাসি দিয়ে বললো ফ্রেড।
- বলটা যে তুই ইচ্ছে করেই আমাকে মেরেছিস তা আমি জানি। তাই নাটক কম কর। বিরক্ত হয়ে বললো সাদিফ।
- এর জন্যই তোকে আমার অনেক ভালো লাগে বুঝলি। তুই অল্পতেই সব কিছু বুঝে যাস।
সাদিফ আর ফ্রেড একে ওপরের শত্রু৷ ওরা কেউ কাউকে সইতে পারে না।
- মাথা গরম করবি না ফ্রেড। এখান থেকে যা। এই বলে সাদিফ সামনে হাটা দেয়।
ফ্রেড পিছন থেকে বলে উঠে,
শুনলাম তোর ছোট বোন নাকি এই ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে?
সাদিফ তেড়ে এসে ফ্রেডের কলার চেপে ধরে,
- খবরদার আমার বোনের দিকে চোখ দিবি না। নাহলে তোর চোখ খুলে ফেলবো আমি।
- তুই তো আমাকে চিনিস আমাকে যেটা করতে মানা করা হয় সেই কাজ আরও মন দিয়ে করি আমি। বাকা হেসে বলে ফ্রেড।
সাদিফ এবার ফ্রেড কে অনেক জোড়ে ঘুষি মারে যার তাল সামলাতে না পেরে ফ্রেড নিচে পড়ে যায়। ঠোট দিয়ে র'ক্ত পড়া শুরু হয়ে যায়। সাথে সাথে ফ্রেড আর ওর দল ঝাপিয়ে পড়ে সাদিফের উপর। সাদিফ একাই সবার সাথে লড়াই করছে। পুরো ভার্সিটি জমা হয়ে গেছে আশেপাশে ইতিমধ্যেই। মেয়েরা আবার একদফা ক্রাশ খেয়েছে সাদিফ কে মারা'মারি করতে দেখে৷ ওরা এতজন মিলেও সাদিফের সাথে পেরে উঠছে না। নুর প্রিন্সিপালের রুম থেকে বের হয়ে ক্যান্টিনের দিকে যাচ্ছিলো চিল্লাচিল্লি আর এত মানুষের ভিড় দেখে ও এগিয়ে যায় দেখার জন্য যে কি হচ্ছে ওখানে।
চলবে
কেমন লাগছে কমেন্টে জানাবেন।💝