#হেদায়েতের_নুর
#নাফিসা_বিনতে_সুলতান
পর্ব: ০৬
নুর সামনে গিয়ে দেখে সকালের সেই ছেলেটা যার সাথে ভুলে ধাক্কা লেগেছিলো সে অনেকগুলো ছেলের সাথে মারা'মারি করছে। ছেলেটা একাই সবগুলো ছেলেকে কাবু করে ফেলেছে। প্রায় সব গুলো ছেলেই নিচে পড়ে ব্যাথায় ছোটফট করছে। ঠিক সেই সময় সেখানে প্রিন্সিপাল চলে আসে তার সাথে বাকি টিচাররাও আসে।
প্রিন্সিপাল রাগে চিল্লিয়ে উঠেন,
এখানে এসব কি হচ্ছে??
সবাই প্রিন্সিপাল কে দেখে চুপ হয়ে যায়। কেউ কিছুই বলছে না। মেয়েরা চুপ সাদিফ তাদের ক্রাশ সেই জন্য আর ছেলেরা চুপ কারণ ওরা কিছু বললে সাদিফ ওদের ছাড়বে না।
প্রিন্সিপাল আবার জিজ্ঞেস করে,
আমি কিছু জিজ্ঞেস করছি সবাইকে। এখানে কি হচ্ছে??? (রাগ হয়ে)
নুর এগিয়ে যায় স্যার এর কাছে।
- স্যার এই ছেলেটা ওদের সবাইকে মারছিলো।( সাদিফ এর দিকে হাত দিয়ে ইশারা করে)
সাদিফ এতক্ষন ধরে চুপচাপ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়েছিলো। নুরের কথা শুনে ও সোজা নুরের দিকে তাকায়।
প্রিন্সিপাল প্রশ্ন করেন,
সাদিফ এসব আমি কি শুনছি??? তুমি কেনো ওদের কে মারছো?
সাদিফ মাথা নিচু করে বলে,
স্যার ওরাই প্রথমে শুরু করেছে। ওরা আমাকে বার বার রাগিয়ে দিচ্ছিলো।
- তাহলে সেটা তুমি আমাকে এসে জানাতে পারতে। তুমি কেন ওদেরকে মারতে গিয়েছো?? কি হাল করেছো ওদের একবার দেখেছো? এক এক জনকে আধা ম'রা করে ফেলেছো মারতে মারতে। ওদের যদি কিছু হয়ে যেতো? এর দায়ভার কে নিতো? সব কিছু আমার ঘাড়ে এসে পরতো আর আমার ইউনিভার্সিটির নাম খারাপ হতো। তোমার বাবা অনেক বড় বিজনেসম্যান দেখে ভেবো না আমি তোমাকে মাফ করে দিবো।
- স্যার আপনি আমার কথাটা শুনুন।
- আমার যা শোনার তোমার বাবার সামনে শুনবো। আমি এক্ষুনি তোমার বাবাকে ডাকছি। তুমি ১০ মিনিটের মধ্যে আমার কেবিনে আসবে।
এই কথা বলে প্রিন্সিপাল হন হন করে রেগে চলে গেলেন তার কেবিনে। আস্তে আস্তে ভির কমতে থাকলো। নুর ও চলে যাচ্ছিলো সেই সময় সাদিফ ডাক দেয় তাকে,
- এই মেয়ে
নুর আশেপাশে তাকায়,
-আশেপাশে কই তাকাচ্ছো তোমাকেই বলছি।
- আমি ছেলেদের সাথে কথা বলতে পছন্দ করি না। তাই আমি আপনার সাথেও কথা বলতে ইচ্ছুক নই।
- আমারও শখ লাগে নি তোমার সাথে কথা বলার। তুমি প্রিন্সিপাল এর কাছে কেন আমার নামে বিচার দিলে??? (রাগ করে)
- আমি কোন বিচার দেই নি আমি যা সত্যি তাই বলেছি। যা দেখেছি তাই বলেছি।
- সবাই চুপ ছিলো তো তোমাকে কে এত সত্যবাদী হতে বলেছে????
- সবাই যাই করুক না কেন সেটা আমার দেখার বিষয় না। অন্যায় দেখলে আমি বলবোই৷ আমার পরিবার আমাকে তাই শিখিয়েছে।
এই কথা বলে নুর আর এক সেকেন্ড ও দাঁড়ায় নি। সে চলে গেছে সায়মার কাছে ক্যান্টিনে। ক্যান্টিনে থাকার কারনে এতক্ষণের গন্ডগোলের ব্যাপারে সায়মা কিছুই জানে না।
......................
প্রিন্সিপালের অফিসে,
- দেখুন আনিসুর সাহেব আপনি একজন নামকরা কোম্পানীর মালিক আমি জানি কিন্তু আমার ইউনিভার্সিটি তে সবার জন্য এক নিয়ম। ছেলেগুলোর অবস্থা খারাপ করে ফেলেছে আপনার ছেলে। এটা কি মারপিট এর জায়গা???
- জি স্যার আমি বুঝতে পেরেছি৷ আমি অনেক লজ্জিত আমার ছেলের কাজের জন্য৷ আপনি ওকে যা শাস্তি দিতে চান দিন।
- আমি ডিসিশন নিয়েছি যে সাদিফ কে ছয় মাসের জন্য বাস্কেটবল টিম থেকে ব্যান্ড করা হবে।
সাদিফ সাথে সাথে বলে উঠে,
স্যার আর কয়দিন পর আমাদের টিমের ম্যাচ৷ প্লিজ এমন টা করবেন না।
আনিসুর ধমক দিয়ে বলেন,
সাদিফ তুমি একদম কথা বলবে না। তুমি এটারই যোগ্য। (রাগ দেখিয়ে)
প্রিন্সিপালের রুম থেকে বেড়িয়ে আনিসুর রাগে বলেন,
সাদিফ তুমি আজকে আমাকে অনেক লজ্জায় ফেলেছো। এটা আমি তোমার থেকে আশা করি নি। অনেক আদর করি দেখে ভেবো না তোমার ভুলগুলো কে ও আস্কারা দিব।
সাদিফ মাথা নিচু করে বলে,
সরি ড্যাড।
আনিসুর রহমান চলে গেলেন।
ফ্রেড পিছন থেকে চিল্লিয়ে বলে,
কি হিরো কেমন লাগে?? আশা করিস নি তো এই মেয়ে সব বলে দিবে?? ও অন্যদের মতো না আলাদা।
- কিসের আলাদা? সব মেয়েই এক রকম।
- পারলে ওকে পটিয়ে দেখা।
- এটা কোন ব্যাপার হলো?
- বললামই তো এত হাল্কা ভাবে নিস না। ও বাকিদের মতো না।
- আমাকে চ্যালেঞ্জ করছিস?
- হ্যাঁ করছি। সাহস থাকলে ওকে দিয়ে আই লাভ ইউ বলিয়ে দেখা সবার সামনে।
- ঠিক আছে এই কথাই রইলো। কিছুদিনের মধ্যেই ও সবার সামনে আমাকে আই লাভ ইউ বলবে।
- যদি না বলে তখন কি করবি?
- তুই যা বলবি তাই। আর যদি ও বলে তখন তুই কি করবি?
- তুই যা বলবি তাই৷
- ওকে ডিল।
- হুম ডিল।
দুইজন হ্যান্ডশেক করে।
চলবে
কেমন হলো?