#হেদায়েতের_নুর
#নাফিসা_বিনতে_সুলতান
পর্ব: ০৭
সাদিফ কিছুক্ষণ আগেই বাসায় ফিরেছে। কারো সাথে কোন রকমের কথা না বলে ধুপ ধাপ পা ফেলে নিজের রুমে প্রবেশ করে। এখন তার শাওয়ার নেওয়া অনেক প্রয়োজন। রাগে মাথা গরম হয়ে ধুয়া বের হচ্ছে। টাওয়াল টা হাতে নিয়ে বাথরুমে ঢুকে গেলো সে।
.......................
নুর ইউনিভার্সিটি থেকে বাসায় ফিরে সবাইকে সালাম জানায়। কাধের থেকে ব্যাগ নামিয়ে সোফায় বসে। তার মা আয়েশা তার জন্য শরবত বানিয়ে আনে। বিসমিল্লাহ বলে শরবত টা তিন নিশ্বাসে পান করে।
সিকদার মেয়েকে জিজ্ঞেস করেন,
আমার মার ইউনিভার্সিটির প্রথম দিন কেমন কাটলো?
- আলহামদুলিল্লাহ ভালো কেটেছে আব্বু। সেখানের পরিবেশটাও মা শা আল্লাহ ভালো।
- আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ তোমার সহায় হোক।
আয়েশা পাশ থেকে বলেন,
ফি আমানিল্লাহ। আল্লাহ আমার দুই মেয়ের জীবনেই সফলতা আর রহমত নাজিল করুন।
নুর বলে,
আমিন। আমার আম্মু আব্বুর উপর ও আল্লাহ রহমত নাজিল করুন।
সবাই – আমিন।
সিকদার এবার ছোট মেয়েকে জিজ্ঞেস করেন,
মরিয়ম মামণি তোমার ও তো আজকে স্কুলের প্রথম দিন ছিলো। তোমার দিন কেমন কাটলো?
- আলহামদুলিল্লাহ আব্বু আমারও ভালো কেটেছে।
- মা শা আল্লাহ। যাও তোমরা ফ্রেশ হয়ে আগে নামাজ আদায় করো। তারপর আমরা সবাই একসাথে খেতে বসবো ইন শা আল্লাহ।
ওরা বাবা কে সম্মতি জানিয়ে রুমে চলে গেলো। শাওয়ার নিয়ে নুর ও মরিয়ম নামাজে দারিয়ে মাগরিবের নামাজ আদায় করে। নামাজ শেষে দুই রাকাত নফল শুকরিয়ার নামাজ আদায় করে। দুই বোন কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে নিচে যায় মা বাবার কাছে রাতের ডিনার করার জন্য।
...................................
সাদিফ বসে বসে চিন্তা করছে কিভাবে নুরকে ওর প্রেমের জালে ফাঁশাবে। এক দেখায় এইটুকু ও ঠিকই বুঝতে পেরেছে নুর অন্য মেয়েদের থেকে আলাদা। যেখানে সব মেয়েরা ওর জন্য পাগল সেখানে এই মেয়ে ওকে পাত্তাই দিলো না। ও স্পষ্ট নুরের চোখে ওর প্রতি বিরক্ত লক্ষ্য করেছে। তাই ও চিন্তায় পরে গেছে কিভাবে কি করবে৷ কোনো ভাবেই ফ্রেডের থেকে হারা যাবে না। সাদিফ হারার পাত্র নয়। ও কখনো হারতে শিখে নি। এখন শুধু কালকের অপেক্ষায়।
রাতে হটাৎ করেই নুরের ঘুম ভেংগে যায়। ধরফরিয়ে উঠে ঘুম থেকে। মন টা কেমন যেনো করছে। কেনো যেনো মনে অনেক ভয় কাজ করছে৷ আর এক সেকেন্ড ও দেরি না করে ওয়াশরুমে ছুটে ওযু করার জন্য। ওযু করে এসেই জায়নামাজ বিছিয়ে তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য দাঁড়ায় নুর। সেজদায় কান্না করে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে থাকে। তার অশান্ত মনকে শান্ত করার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকে। কিছুক্ষন পর নুরের মন শান্ত হয়। সে দুই হাত তুলে চোখের পানি ফেলে আল্লাহকে বলে,
- ইয়া আল্লাহ আমি তোমার কাছে কখনো কিছু চেয়ে নিরাশ হইনি। তোমার প্রত্যেকটা নেয়ামতের জন্য হাজার হাজার শুকরিয়া। সকল প্রশংসা তোমার নামে।
নুর বসে বসে যিকির করতে থাকে ফজরের আজানের জন্য অপেক্ষা করে। আজান শুনে বোনকে ডেকে তুলে। দু বোন মিলে নামাজ আদায় করে কিছুক্ষন আবার বিশ্রাম নেয়।
............................
আজকে সাদিফ সকাল সকাল রেডি হচ্ছে ইউনিভার্সিটির জন্য। সাদা প্যান্ট সাথে কালো শার্ট পরেছে সে। হাতে ঘড়ি পড়ে চুল সেট করছে জেল দিয়ে। সব কিছু কমপ্লিট করে চোখে কালো সানগ্লাস পড়ে গাড়ির চাবি হাতে রুম থেকে বের হয়। নিচে ডাইনিং এ বসে নাস্তা করার জন্য। বাবা তার দিকে তাকাচ্ছেন ও না। ও বুঝতেই পারছে এখনো রাগ করে আছে ওর উপর। ও ভাবে বাসায় এসে বাবার রাগ ভাংগাতে হবে। নাস্তা করে বোনকে নিয়ে গাড়ি তে রওনা দেয়। সাদিফ চুপচাপ ড্রাইভ করছিলো। হঠাৎ সায়মা বলে উঠে,
- তুমি কালকে কি কান্ড ঘটিয়েছো ভাইয়া??? বাবা তোমার উপর কি পরিমানে রেগে আছে সেই খেয়াল আছে তোমার??
- বাসায় ফিরে বাবার রাগ ভাংগাবো। আর যা করেছি তাতে আমার আফসোস নেই। কারণ ওরা বাজে কথা বলেছে সেই শাস্তি তো ওদের পেতেই হতো।
সায়মা চুপ করে যায় সে বুঝে তার ভাইকে কোন কথা বলে লাভ নেই কারণ সে শুনবে না।
নুর নাস্তা শেষ করে রুমে যায় রেডি হওয়ার জন্য। প্রথমে ওযু করে বের হয়। সে সব সময় বাসার থেকে বের হাওয়ার আগে ওযু করে। আলমারি থেকে একটা কালো কালার বোরকা বের করে তার সাথে ম্যাচিং কালো হিজাব পড়ে। চোখে হালকা সুরমা দেয়। হাতে ঘড়ি পরে ব্যাগ কাধে নিয়ে বের হয় ইউনিভার্সিটির উদ্দেশ্যে। যাওয়ার সময় মরিয়মকেও সাথে নিয়ে যায়। পথে ওকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে সে ইউনিভার্সিটিতে যাবে।
চলবে।
লেখায় ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।