#হেদায়েতের_নুর
#নাফিসা_বিনতে_সুলতান
পর্ব: ২৬
খাওয়া দাওয়া পর্ব শেষ করে বরযাত্রীতে আশা সকল মেয়েরা নূরকে তার রুমে এসে দেখে যাচ্ছে। সাদিফ ছাদে বরের জন্য তৈরি করা স্টেজে বসে আছে। এখনো তার নূরের সাথে দেখা হয় নি। কিছুক্ষন পর সাদিফকে নিচে নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে নূরকে বসানো হয়েছে। সাদিফ যতটা রুমের কাছে যাচ্ছে ততটাই তার হার্টবিট বাড়ছে। হয়তো এখন তার আশেপাশের মানুষগুলোও তার হার্টবিট স্পষ্ট শুনতে পারবে। ফাইনালি সে এবার নূরকে দেখবে তার স্ত্রী হিসেবে। সাদিফ যখন রুমের দরজায় এসে দাঁড়ায় সবাই হইহুল্লোড় শুরু করে জামাই এসেছে জামাই এসেছে। এই কথা কানে যাওয়ার সাথে সাথে নূরের শরীর ঝাঁকি দিয়ে উঠে। সাদিফ এসেছে? নূরের চোখ তুলে সাদিফের দিকে তাকানোর সাহস হয় না। নূর তার পরিহিত গাউন হাত দিয়ে খামচে ধরে। মাথাটা আরও নিচু করে ফেলে। সাদিফ সালাম দিয়ে রুমে প্রবেশ করে। সাদিফকে নূরের পাশে বসানো হয়। সাদিফ নূরকে পাশে ঘুরে দেখার সাহস পাচ্ছে না। লজ্জায় সেও মাথা নিচু করে বসে আছে। বড়রা সবাই তাদের দুইজনকে দোয়া দিচ্ছেন । দুইজন মানুষ যারা কিনা সদ্য বিবাহিত স্বামী স্ত্রী একে ওপরের পাশাপাশি বসে আছে অথচ এখনো কেউ কারো দিকে তাকাই নি। এখনো তাদের মধ্যে এক ধরনের দ্বিধা লজ্জাবোধ কাজ করছে। এক এক করে সবাই দোয়া দেয়ার পর এবার নূরের বাবা আসে তাদের সামনে। তিনি নূরের হাতটি সাদিফের হাতে দেন। নুর এবং সাদিফের হাত স্পর্শ করার সাথে সাথে তারা দুইজনই কেঁপে উঠে। তাদের প্রথম স্পর্শ। হালাল স্পর্শ। দুইজনই দুইজনের কাপনি অনুভব করতে পারে। এবার সাদিফ নূরের দিকে এবং নূর সাদিফের দিকে তাকায়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তারা তাদের নজর ফিরিয়ে নেয় একে অপরের থেকে। নূরের বাবা সিকদার আহমেদ দুইজনের হাত শক্ত করে ধরে সাদিফকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
আমার আমানত আজ থেকে তোমার আমানতে পরিণত হলো। আমার মেয়ের দায়িত্ব আজ থেকে তোমার। দোয়া করি তোমরা সবসময় একে অপরের পাশে থাকো। সুখে দুঃখে পাশে থাকো। আল্লাহর দ্বীনের পথে সঠিকভাবে চলতে পারো আল্লাহ তোমাদের সেই তৌফিক দান করুক আমিন ।এক অপরের খেয়াল রাখবে সবসময়।
সাদিফ: ইন শা আল্লাহ।
আনিসুর রহমান: আপনি চিন্তা করবেন না ভাই। আমরা বউ নিয়ে যাচ্ছি না আমাদের মেয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা সবাই নূরের খেয়াল রাখবো। ইন শা আল্লাহ। আমাদের বাড়িতে নূরের কোনো সমস্যা হবে না।
আনিসুর রহমান এবং সিকদার আহমেদ একে অপরকে জড়িয়ে ধরলেন। আয়েশা আক্তার এক কোণায় দাড়িয়ে কান্না করছেন । তার মেয়েকে বিদায় দেয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে। কিভাবে সে মেয়েকে বিদায় দিবে? তার এত আদরের মেয়ে। আজ তার কান্না বাধ মানছেনা কোনো। নাজমা আক্তার আয়েশা আক্তারের পাশে বসলেন।
নাজমা আক্তার : ভাবি এভাবে কান্না করলে কি চলবে বলুন তো? আপনার যখন মন চাবে আপনি চলে আসবেন মেয়েকে দেখতে। সাদিফও নূরকে আপনার সাথে দেখা করতে নিয়ে আসবে। আপনি এভাবে ভেঙে পড়বেন না। আপনারা এভাবে ভেঙে পড়লে নূরকে সামলাবে কে বলুন ?
আয়েশা আক্তার কান্না থামিয়ে সহমত প্রকাশ করলেন।
সাদিফ এবং নূরের সামনে আয়না ধরা হয়েছে। সবাই নূরকে প্রশ্ন করছে সে আয়নায় কি দেখতে পাচ্ছে? কিন্তু নুর কোনো উত্তর দিচ্ছে না। কয়েকবার জিজ্ঞেস করার পরও নুর কোনো উত্তর দেয় নি। মাথা নিচু করে বসে আছে। কি উত্তর দিবে সে? এই পরিস্থিতিতে তার কি উত্তর দেয়া উচিত সেটা তার জানা নেই । তাই চুপ করে বসে আছে। নুর কিছু বলছে না দেখে সবাই এক প্রকার হাসাহাসি শুরু করে যে নুর লজ্জার কারণে কিছু বলতে পারছে না। সাদিফ নূরের উত্তরের অপেক্ষায় ছিলো কিন্তু নূরকে কিছু বলতে না দেখে সে দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে । ম্যাডাম এখনো রেগে আছে। এসব চিন্তার মাঝেই এবার সবাই সাদিফকে জিজ্ঞেস করে সে আয়নায় কি দেখতে পাচ্ছে? সাদিফ আয়নার দিকে তাকায় । নুর মাথা নিচু করে বসে আছে। সাদিফ মুচকি হাসে।
সাদিফ: আমি আয়নায় আমার জীবনের আলো কে দেখতে পাচ্ছি।
সবাই একত্রে চিল্লিয়ে উঠে: ওওওওওওওওওওওওওও।
সাদিফ আবার বলতে শুরু করে,
নূর অর্থ হলো আলো। তার নামের মতো সে আমার জীবনে প্রবেশ করে আমার জীবনটাকে আলোকিত করে দিয়েছে। আমার খাপছাড়া, বেপরোয়া জীবনটাকে সুন্দর করে গুছিয়ে দিয়েছে। আমার অন্ধকার জীবনটাকে আলো দিয়ে আলোকিত করে তুলেছে। তাই সে আমার জীবনের আলো। সাদিফ কথা শেষ করে নূরের দিকে তাকায়। নূর ও তার দিকেই অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলো। তাদের চোখাচোখি হয়ে যায়। নুর সাথে সাথে চোখ ফিরিয়ে নেয়।
সাদিফ এগুলো কি বললো? কেনো বললো? উনি কি কথা গুলো মন থেকে বলেছেন? নানা ধরনের প্রশ্ন নূরের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
নূরকে বিদায় দেয়ার সময় চলে এসেছে। নুর তার বাবা মা এবং বোনকে জড়িয়ে ধরে প্রচুর কান্না করে। সবাই নূরকে বুঝিয়ে গাড়িতে বসিয়ে দেয়। সবার থেকে বিদায় নেয়ার পর গাড়ি চলতে শুরু করে। নুর এখনো কান্না করছে। সাদিফ তার দিকে একটি রুমাল বাড়িয়ে দেয়।
সাদিফ : চোখের পানি গুলো মুছে নাও। আর কান্না করো না। তোমার যখন মন চায় মা বাবার সাথে দেখা করে আসবে। শান্ত হও। সে নূরের হাতে একটি পানির বোতল ও বাড়িয়ে দেয়।
নুর পানি খেয়ে চোখ মুছে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করে।
***************************************
কিছুক্ষন আগে তারা বাড়িতে পৌঁছেছে। সবাই নূরকে ফুল ছিটিয়ে বরণ করে নিয়েছে। নূরকে একটি রুমে বসিয়ে দেয়া হয়েছে। আত্মীয় স্বজন এবং এলাকার মহিলারা নতুন বউকে এক এক করে দেখে যাচ্ছেন। সাদিফ বাহিরে সবার সাথে বসে আছে। কিছুক্ষন পর সায়মা নূরকে তার রুমে নিয়ে গিয়ে কিছু খাইয়ে দেয়। তার পর নূরের হাতে সবুজ রঙের একটি সুন্দর থ্রিপিস দেয় আর বলে ফ্রেস হয়ে পড়ে নিতে। নুর ফ্রেস হয়ে ওযু করে আসে । থ্রিপিসের ওড়না দিয়ে মাথায় ঘোমটা দেয়। কিছুক্ষন পর নাজমা আক্তার আসেন।
নাজমা আক্তার: মা শা আল্লাহ। তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে মা।
নুর তার প্রতিউত্তরে মুচকি হাসি দেয়। নাজমা আক্তার খাটের উপর কিছু গহনার বক্স রাখেন । সেখান থেকে তিনি একটা স্বর্ণের চেইন, একজোড়া ছোট কানের দুল, একজোড়া চুরি বের করে নূরকে পরিয়ে দেন।
নাজমা আক্তার: যেহেতু তুমি নতুন বউ তাই এগুলো পরিয়ে দিচ্ছি। কিছুদিন পড়ে থাকো। তার পর যদি তোমার কোনো সমস্যা হয় তাহলে খুলে ফেলো কেমন?
নূর: জ্বি আচ্ছা।
তিনি নূরের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে চলে যান। কিছুক্ষন পর সায়মা এসে নূরকে সাদিফের রুমে দিয়ে আসে। রুমে ঢুকেই নূরের শরীর ঝাঁকি দিয়ে উঠে। পুরো রুম এবং খাট কাঁচা ফুল দিয়ে সাজানো। রুম জুড়ে ফুলের সুবাস ছড়িয়ে আছে। একটু পর সাদিফ রুমে আসবে ভাবতেই নূরের শরীর পুনরায় ঝাঁকি দিয়ে উঠলো। নুর খাটের এক কোণায় চুপ করে বসে।
কিছুসময় পর সাদিফ নিজের রুমে আসে। দরজার সামনে সায়মা এবং বাকি কাজিনরা দাড়িয়ে আছে।
সায়মা: আমাদের টাকা দিয়ে রুমে যেতে পারবে নাহলে না।
সাদিফ : কিসের টাকা?
সায়মা: ওমা কিসের টাকা মানে? এত সুন্দর করে তোমার রুম সাজিয়ে দিলাম বকশিস দিবে না আমাদের???
সাদিফ : কত টাকা লাগবে?
সায়মা: ৩০ হাজার।
সাদিফ ব্রু কুচকে ওদের দিকে তাকায়।
সাদিফ : এত কেনো??
সায়মা: অনেক পরিশ্রম হয়েছে সাজাতে । সেই হিসেবেই চেয়েছি।
সাদিফ: আচ্ছা তাই ? আচ্ছা আমাকে দেখতে দে কি সাজিয়েছিস। পড়ে দেখা গেলো আমি এতগুলো টাকা দিলাম কিন্তু ভিতরে গিয়ে দেখলাম আহামরি কিছুই করিস নি তাহলে আমি ঠকে যাবো না???? তাই আগে দেখতে দে।
সায়মা: বললেই হলো? তুমি দেখার বাহানা করে ভিতরে চলে গেলে তখন তো আমরা আর টাকা পাবো না । এসব হচ্ছে না । টাকা দিয়ে একেবারে ভিতরে যাও।
বাকি কাজিনরা ও সায়মার সাথে এক মত প্রকাশ করে।
সাদিফ: তোদের কি আমার উপর বিশ্বাস নেই??
সায়মা এবং বাকি সবার সোজাসাপ্টা উত্তর - না।
সাদিফ : তোরা আমার মুখের উপর এভাবে বলতে পারলি ?
কাজিনরা: হ্যাঁ পারলাম।
সাদিফ পকেট থেকে টাকা বের করে ওদের হাতে দেয়।
ওরা গুণে দেখে ২০ হাজার টাকা।
কাজিনরা: ২০ হাজার কেনো? আমরা তো ৩০ হাজার চেয়েছি।
সাদিফ : এখন আমার কাছে আর টাকা নেই। এই দেখ খালি পকেট। যা ছিলো সব তোদের দিয়ে দিয়েছি।
সায়মা: এটা কিন্তু ঠিক হলো না ভাইয়া।
সাদিফ: তোদেরকে কিছু দিন পর আমি ট্রিট দিবো । ঠিক আছে?
সবাই খুশি মনে সাদিফকে ভিতরে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে দেয়। সাদিফ রুমে ঢুকে গেইট লক করে দেয়। রুমে চোখ বুলিয়ে দেখতে পায় নূর জড়োসড়ো হয়ে খাটের কোণায় বসে আছে। পরনে তার সবুজ থ্রিপিস। হাতে,কানে,গলায় স্বর্ণের গহনা। মাথায় ঘোমটা দেয়া । একদম সদ্য বিবাহিত বউ তার। অপরূপ সুন্দর লাগছে দেখতে। সাদিফ বাথরুমে চলে যায় ফ্রেশ হতে । কিছুক্ষন পর একদম ওযু করে বের হয়। দুইটা জায়নামাজ বিছিয়ে সে নূরকে হাতের ইশারায় নিজের কাছে ডাকে। নুর হিজাব পড়ে সাদিফের পিছনে জায়নামাজে দাঁড়ায়। তারা দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে। নতুন জীবন তারা আল্লাহর ইবাদতের মধ্য দিয়ে শুরু করতে চায়। নামাজ শেষে মোনাজাত নেয়। তারপর নুর আবার বিছানায় গিয়ে বসে। সাদিফ এবার নূরের পাশে বসে। নূরের হাতে একটি স্বর্ণের ব্রেসলেট পরিয়ে দেয়।
সাদিফ : আমার পক্ষ থেকে এটা তোমার প্রথম উপহার। নুর নিজের হাতটি সাদিফের থেকে ছাড়িয়ে নেয় আর মাথা নিচু করে ।
সাদিফ: এখনো রাগ করে আছো আমার উপর?
নুর কোনো উত্তর দেয় না।
সাদিফ: আমাকে কি মাফ করা যায় না? আমি আমার পুরোনো ব্যবহারগুলোর জন্য অনুতপ্ত।
নুর এখনো নিশ্চুপ। সাদিফ কিছুক্ষন নূরের দিকে তাকিয়ে থেকে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে।
সাদিফ: অনেক রাত হয়ে গিয়েছে। আর আজকে যা ধকল গিয়েছে সারাদিন। নিশ্চই তুমি ক্লান্ত ? ঘুমিয়ে পরো। এই বলে সাদিফ পাশ থেকে বালিশ হাতে নিয়ে উঠতে যায়। তখন নুর তাকে জিজ্ঞেস করে,
আপনি কোথায় যাচ্ছেন?
সাদিফ : সোফায়। তুমি খাটে আরাম করে শুয়ে পরো ।
নুর: আপনি খাটে শুতে পারেন। সোফায় যাওয়ার দরকার নেই। আপনি চাইলে আমার কাছেও আসতে পারেন। আপনি আমার স্বামী। এটা আপনার হক। আমি আপনাকে বাধা প্রদান করলে গুনাহগার হবো ।
সাদিফ নূরের কথায় মুচকি হাসে। সাদিফ নূরের দিকে ঝুঁকে বলে,
তুমি যে পর্যন্ত আমাকে মাফ না করছো আর আমাকে মন থেকে না মেনে নিচ্ছো আমি তোমার কাছে আসবো না। যেদিন তুমি আমাকে মাফ করে দিবে নিজের কাছে টেনে নিবে সেদিনই আমরা এক হবো। আমার বিশ্বাস সেই দিন খুব শীঘ্রই আসবে ইন শা আল্লাহ। আমি সেই দিনের অপেক্ষায় রইলাম। ঘুমিয়ে পড়ো।
সাদিফ নূরকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে খাটের অন্য পাশে শুয়ে পড়ে । কিছুক্ষণের মধ্যে ঘুমিয়েও পরে। নুর আর কিছু বললো না। সেও শুয়ে পড়লো। খাটের দুই প্রান্তে দুইজন মানুষ তাদের মাঝখানে বিশাল দুরত্ব। নুর সাদিফের ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবে,
আপনাকে ক্ষমা করতে চাই আমি কিন্তু যখনই আপনি আমার সামনে আসেন আমার সেই পুরোনো স্মৃতিগুলোর কথা মনে পড়ে যায় এবং আমার মনে আপনার জন্য অভিমান তৈরি হয়। আমি হাজার চেষ্টা করেও আপনাকে ঘৃণা করতে পারি নি। কিন্তু আপনার প্রতি আমার মনে রয়েছে গভীর অভিমান, ক্ষোভ, কষ্ট। আপনি সামনে আসলেই আমার সেই ছলনার কথা গুলো মনে পড়ে যায়। আপনার প্রত্যেকটি পদক্ষেপ এখনো আমার কাছে ছলনা মনে হয়। আপনি যদি আমার মনে আপনার জন্য বিশ্বাস তৈরি করতে পারেন সেদিন আমি মন থেকে আপনাকে কাছে ডাকবো। এসব ভাবতে ভাবতেই নূর ঘুমিয়ে পড়ে। সাদিফ ঘুমের মধ্যেও অনেক সতর্ক ছিলো যেনো নূরের সাথে তার কোনধরনের স্পর্শ না লাগে। নূরের যেনো কোনোভাবে আনকমফোর্টেবল ফিল না হয় সেদিকে সম্পূর্ণ খেয়াল রেখেছে সাদিফ। ফজরের আযানের সাথে সাথে দুইজনেরই ঘুম ভেঙে যায়। সাদিফ ফ্রেশ হয়ে ওযু করে মসজিদে চলে যায় এবং নুর ঘরে নামাজ পড়ে ।
সকালে নুর নিচে যায়। তাকে নাস্তা করতে বসানো হয়। আজকে তাদের ওয়ালিমা হবে। সবাইকে দাওয়াত দেয়া হয়েছে। নূরের ফ্যামিলি ও আসবে। নাস্তা করে নূরকে গোসল সেরে নিতে বলা হয় পার্লার থেকে মেয়েরা আসবে তাকে সাজাতে। গোসল করে নুর রুমে এসে চুল মুছছিলো । সাদিফ হঠাৎ নূরকে দেখে থমকে দাঁড়ায়। কিছুক্ষন পর সে নিজেকে সামলিয়ে বাথরুমে চলে যায়। নুর চুল আচড়াচ্ছিলো হঠাৎ গলার চেইনের সাথে নূরের চুল আটকিয়ে যায়। নুর অনেকক্ষণ ধরে চেষ্টা করছে ছড়ানোর জন্য কিন্তু পারছে না। এমন সময় সাদিফ বাথরুম থেকে বের হয়। সাদিফ নূরের এই অবস্থা দেখে এগিয়ে আসে ।
সাদিফ: দাও আমি হেল্প করে দিচ্ছি।
সাদিফ নূরের চুলে হাত দিতে গেলে নুর পিছিয়ে যায়।
নুর: লাগবে না। আমি নিজেই পারবো।
চুলে টানদিয়ে চেইন থেকে ছাড়িয়ে নেয় নুর। নূরের কাহিনী দেখে সাদিফ মুচকি হাসি দিয়ে একটু পিছিয়ে যায়। তারপর নূরের দিকে তাকিয়ে গেয়ে উঠে,
কাছে এলে যাও দূরে সরে
কত দিন রাখবে আর একা করে
মনে টেনে নেও
আমি তোমার ওই হাতে হাত রেখে
তুমি আমার এই হাতে হাত রেখে
এসো এগিয়ে যাই, শুধু
ভালোবাসা দাও ভালোবাসা নাও
ভালোবাসা দাও ভালোবাসা নাও
আমি তোমাকে আরো কাছে থেকে
তুমি আমাকে আরো কাছে থেকে
যদি জানতে চাও, তবে
ভালোবাসা দাও ভালোবাসা নাও
ভালোবাসা দাও ভালোবাসা নাও
সাদিফ নূরকে চোখ টিপ দিয়ে হেসে রুমের বাহিরে চলে যায়। নুর হতভম্ব হয়ে সাদিফের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে।
চলবে।