ফন্ট সাইজ:
থিম:
হেদায়েতের নুর

২৭তম পর্ব

লেখক: নাফিসা বিনতে সুলতানা

#হেদায়েতের_নুর

#নাফিসা_বিনতে_সুলতান

পর্ব: ২৭

সায়মার রুমের সোফায় বসে আছে নুর। লাইট পার্পল কালার গর্জিয়াস গাউন, মাথায় ম্যাচিং হিজাব তার উপর দোপাট্টা সেট করা। মুখে মার্জিত মেকআপ। সাথে ম্যাচিং গহনা পড়া। কিছুক্ষন আগে পার্লার থেকে মেয়েরা এসে সাজিয়ে দিয়ে গেছে তাকে। তারপর থেকেই সায়মার রুমে বসা সে। ছাদের উপরে ছেলেদের খাওয়ানো হচ্ছে। সাদিফ ছাদে থেকে সেগুলো দেখাশোনা করছে। সেও নূরের সাথে ম্যাচিং করে লাইট পার্পল কালার কোর্ট পড়েছে। মা চাচীরা বাসার ভেতরে মেয়েদের খাওয়াতে ব্যস্ত। খাওয়া দাওয়া শেষ করে মহিলারা একে একে নূরকে রুমে এসে দেখে যাচ্ছেন। আত্মীয়রা বিভিন্ন ধরনের উপহার দিচ্ছেন নূরকে। নুর হাসি মুখে সবার সাথে কথা বলছে। সকালে নাস্তার পর আর কিছু খাওয়া হয় নি। ব্যস্ততার মাঝে সবাই হয়তো নূরের খাওয়ার কথা ভুলেই গেছে । প্রচুর খিদে পেয়েছে নূরের কিন্তু লজ্জায় চুপ করে বসে আছে। যতই হোক সে নতুন বউ। খাবার চাওয়াটা খুবই লজ্জার ব্যাপার।

দুপুর থেকে সাদিফ ছাদে আছে। নূরের সাথে এখনো তার দেখা হয়নি। বউটা যে সেজেগুজে বসে আছে অথচ সেই তার বউকে দেখার জন্য সময় বের করতে পারছে না । সাড়ে তিনটা বাজে এখন। মানুষের চাপ অনেকটাই কমে গিয়েছে। সাদিফ ছাদ থেকে নিচে এসে রান্না ঘরে যায়। একটা প্লেটে খাবার সাজিয়ে সে সায়মার রুমে প্রবেশ করে। বেশিরভাগ মানুষই খাওয়া দাওয়া করে নূরের সাথে দেখা করে চলে গিয়েছে। সায়মা সারাক্ষণ নূরের পাশেই বসে ছিলো। অনেক বেলা হয়ে গিয়েছে সায়মা ও কিছু খায় নি। নুর জোর করে সায়মা কে খেতে পাঠিয়েছে। সায়মা আগে নূরকে খেতে দিতে চেয়েছিলো নুর মানা করে দিয়েছে যে সে পড়ে খাবে। সায়মা যাওয়ার আগে নূরকে বলে গিয়েছে সে খাওয়া শেষ করে নূরের জন্য খাবার নিয়ে আসবে।

এসি রুমে নুর চুপচাপ বসে ছিলো। হঠাৎ রুমে কেউ নক করে। নুর দরজায় দিকে তাকিয়ে দেখে সাদিফ রুমে প্রবেশ করছে। নুর ও সাদিফকে রেডি হওয়ার পর দেখি নি। মাত্র দেখলো। পার্লার থেকে মেয়েরা আসার পর নূর সায়মার রুমেই রেডি হয়েছে। লাইট পার্পল সুট সাথে ঘড়ি , সেট করা চুল , মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়িতে সাদিফকে মারাত্মক দেখাচ্ছে। নুর সব কিছু ভুলে হা করে সাদিফের দিকে তাকিয়ে ছিলো। সাদিফও কিছুক্ষন চোখ ভরে নূরকে দেখে। কি সুন্দর লাগছে দেখতে। যেনো আকাশ থেকে হুর নেমে এসেছে। সাদিফের হুর। তাকিয়ে থাকার এক পর্যায় সাদিফ খেয়াল করে নূর তার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। সাদিফ বাকা হাসে। হাতের প্লেটটা টেবিলে রেখে চেয়ার টেনে একদম নূরের মুখের সামনে গিয়ে বসে। হঠাৎ সাদিফ এত কাছে এসে সামনা সামনি বসাতে নূর চমকে উঠে ।

নূর: কি সমস্যা? একদম মুখের সামনে এসে বসলেন কেনো?

সাদিফ: তোমার দেখতে কষ্ট হচ্ছিলো তো তাই।

নুর: আমার আবার কি দেখতে কষ্ট হচ্ছিলো?

সাদিফ: আমাকে।

নুর: আপনাকে মানে?

সাদিফ: যেভাবে চোখ বড় করে আমাকে দেখছিলে তুমি । আমাকে বুঝি আজকে একটু বেশী হেন্ডসাম লাগছে?

নুর ঘাবড়িয়ে যায়। সে যে এতক্ষন সাদিফকে দেখছিলো তা টের পেয়ে গেছে। ইস কি লজ্জার ব্যাপার।

নুর: ক কই না তো। আমি কেনো আপনাকে দেখতে যাবো।

সাদিফের মুখের হাসি আরও প্রসারিত হয়।

সাদিফ: আমি নিজ চোখে দেখেছি তুমি আমার দিকে হা করে তাকিয়ে ছিলে। স্বীকার করতে সমস্যা কই?? নিজের স্বামীকেই তো দেখছিলে তাই না? সারাদিন দেখবে। দরকার পড়লে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা দেখবে। আমি তোমার সামনে বসে থাকবো কেমন?

লজ্জায় নূরের গালে লাল আভা ছড়িয়ে পড়ে। ব্লাশ দেয়া গাল যেনো লজ্জায় দ্বিগুণ লাল হয়ে গেছে। সাদিফ এটা খেয়াল করে দুই হাতে নূরের গাল টেনে দেয়।

সাদিফ : বাবাহ্! বউ আমার লজ্জাও পায়? আবার লজ্জায় লাল ও হয়ে যায়। একদম স্ট্রবেরির মতো।

নুর মাথা নিচু করে ফেলে। সাদিফ নূরের লজ্জা বুঝতে পেরে আর কথা বাড়ায় না। দেখা গেলো বেশী লজ্জা পেয়ে আর তার সামনেই আসছে না। সাদিফ কোর্ট টা খুলে সোফায় এক পাশে রাখে। শার্টের হাতার বোতাম খুলে কনুই পর্যন্ত ভাঁজ করে নেয়। বাথরুমে গিয়ে হাতমুখ ধুয়ে এসে নূরের সামনে চেয়ার টেনে বসে এবং হাতে খাবারের প্লেট নেয়।

সাদিফ : নুর হা করো আমি খাইয়ে দিচ্ছি অনেক বেলা হয়ে গেছে। সকালের নাস্তার পর আর কিছু খাও নি তুমি।

নূর: সায়মা আমার জন্য খাবার নিয়ে আসবে বলেছে।

সাদিফ: আনবে না। আমি মানা করে দিয়েছি। তুমি হা করো আমি খাইয়ে দিচ্ছি ।

নূর: আমাকে দিন আমি নিজের হাতে খেতে পারবো।

সাদিফ: জিদ করছো কেনো নুর? তোমার সাজ নষ্ট হয়ে যাবে। তোমার খাবারে হাত লাগাতে হবে না। ভালো মেয়ের মতো হা করো। এক কথা আমার বারবার বলতে ভালো লাগে না।

নুর আর কথা বাড়ায় না। একে বলে কোনো লাভ হবে না এর থেকে চুপচাপ খেয়ে নেয়া ভালো। খিদেও পেয়েছে প্রচুর। নুর হা করে সাদিফ লোকমা তুলে তুলে নূরকে খাইয়ে দেয়। নূর খাওয়ার মাঝে মাঝে সাদিফকে দেখছে। কত যত্ন করে তাকে খাইয়ে দিচ্ছে। সে কি তাকে আসলেই ভালোবাসে? নাকি এর পিছনেও কোনো কারণ আছে? কোনো নতুন বাজি? নূর চেয়েও কেনো সাদিফকে বিশ্বাস করতে পারছে না। নিজের সাথে যুদ্ধ করছে নুর এই নিয়ে।

নুর: আপনি খেয়েছেন?

সাদিফ: না। তোমাকে খাইয়ে দিয়ে তারপর আমি খাবো।

নুর আর কথা বলে না চুপচাপ খেতে থাকে। সাদিফ পরিমাণে অনেক খাবার এনেছে। অর্ধেক খাবার খাওয়ার পর নূর এর খেতে পারে না।

নুর: আপনি এতগুলো কেনো এনেছেন? আমি আর খেতে পারছি না আমার পেট ভরে গেছে। খাবার অপচয় করলে গুনাহ হয়। আপনি কেনো এতগুলো এনেছেন?

সাদিফ: পেট ভরে গেলে তোমার আর খেতে হবে না । খাবার ও অপচয় হবে না। তুমি চিন্তা করো না।

সাদিফ সেই প্লেট থেকেই খাওয়া শুরু করে। নূর চোখ বড় করে সাদিফের দিকে তাকায়।

নুর: একি আপনি কি করছেন এটা? আমার ঝুটা খাবার কেন খাচ্ছেন। আপনার জন্য নতুন খাবার নিয়ে আসুন।

সাদিফ: স্বামী স্ত্রী এক প্লেটে খাবার খাওয়া সুন্নত। আমি তো সুন্নত পালন করছি। এতে ভালোবাসা বাড়ে। আমি ইচ্ছা করেই বেশি খাবার এনেছি এক প্লেটে খাবো বলে। আমি জানতাম তুমি এতগুলো খেতে পারবে না।

স্ত্রীর মুখে খাবারের লোকমা তুলে দেওয়া সুন্নাত। (আবু দাউদ হাদিস ২৮৬৪)

স্ত্রীর মুখের খাবার খাওয়া সুন্নাত। (মুসলিম হাদিস ৫৭৯)

নূর অবাক হয়ে সাদিফকে দেখছে। খুব তৃপ্তি সহকারে খাবার খাচ্ছে সে। নূর পাশের টেবিল থেকে গ্লাসে পানি ঢেলে চুমুক দেয়। সাদিফ নূরের হাত থেকে গ্লাস নিয়ে নূর যেখানে ঠোঁট লাগিয়ে পানি পান করেছে সেই খানেই ঠোঁট লাগিয়ে পানি পান করে। নুর চোখ বড় করে সাদিফকে দেখছে। নূরের এমন চাহনি দেখে সাদিফ মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বলে,

স্ত্রী গ্লাসের যে স্থানে ঠোঁট রেখে পানি পান করে, সে স্থানে ঠোঁট রেখে পানি পান করা সুন্নাত। (মুসলিম শরীফ হাদিস ৫৭৯)।

সাদিফ: তোমার সাথে আমি সব সুন্নত গুলো পালন করতে চাই। আল্লাহ সেই তৌফিক আমাদের দান করুক আমিন।

নূর আনমনেই বলে উঠে আমিন। সাদিফ মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে নূরের কপালে একটা টোকা দিয়ে রুম থেকে চলে যায়।

নূরের মা বাবা বোন সবাই তার সাথে দেখা করে। মাগরিবের পর সবাই সবার বাড়ি চলে যায়। সারাদিন পর নুর তার এবং সাদিফের বেডরুমে আসে। ফ্রেশ হওয়া দরকার তার। সেই দুপুর থেকে ভারী ভারী গাউন গহনা পড়ে আছে সে। ফ্রেশ হয়ে একটি মেরুন রঙের থ্রিপিস পড়ে নেয় নূর। ইশার আযান শেষে নামাজে দাঁড়ায় নুর। বাড়ির সব ছেলেরা মসজিদে গিয়েছে নামাজ পড়তে। মেয়েরা যে যার রুমে ফ্রেশ হয়ে নামাজে দাঁড়িয়েছে । নামাজ শেষে নূর মোনাজাত নেয়। মোনাজাত শেষ করে জায়নামাজ ভাঁজ করছিলো এমন সময় রুমে দরজায় টোকা শুনতে পায়। পিছনে ঘুরে দেখে সাদিফ রুমে ঢুকছে। হাতে তার গোলাপ ফুলের তোড়া। কম করে হলেও এখানে একশটা গোলাপ আছে। সাদিফ নূরের সামনে এসে ফুলের তোড়া টা নূরের দিকে এগিয়ে দেয়।

সাদিফ: তোমার জন্য।

নুর ফুলের তোড়া টা হাতে নেয়।

নূর: জাযাকাল্লাহু খায়রান।

সাদিফ: এই গোলাপ ফুলের তোড়া থেকেও আমার ব্যক্তিগত গোলাপ ফুল বেশি সুন্দর ।

নুর সাদিফের কথার মানে বুঝতে না পেরে অবুঝ চাহনি দিয়ে তাকায়।

সাদিফ : আমার ব্যক্তিগত ফুল তুমি। এই মেরুন থ্রিপিসে সদ্য গোসল করা ছাড়া চুলে তোমাকে সদ্য ফোটা গোলাপের মত লাগছে।

সাদিফের কথায় নুর ভীষণ লজ্জা পেয়ে যায়। তোড়া টা ড্রেসিং টেবিলের উপর রেখে নুর বলে,

আমাকে মনেহয় আম্মু ডাকছে আমি শুনে আসি।

এই বলে নূর দৌঁড়ে রুম থেকে বের হয়ে যায়।

সাদিফ নূরের দৌঁড়ে চলে যাওয়া দেখে এবং হাসি দিয়ে বলে,

আমার লজ্জাবতী।

*************************************

আজ নুররা অস্ট্রেলিয়া চলে এসেছে। সাদিফ নূরের ইউনিভার্সিটি,সাদিফের অফিস অনেক কাজ জমে গেছে। আর থাকা সম্ভব হচ্ছিলোনা । পরীক্ষা শেষ হলে সবাই ফ্রি হলে তারা আবার সবাই বাংলাদেশে বেড়াতে যাবে। সামনে সাদিফের ফাইনাল পরীক্ষা। পড়ার চাপ প্রচুর। এর পাশাপাশি তাকে অফিসেও সময় দিতে হচ্ছে। ইউনিভার্সিটি তে ক্লাস শেষ করে সোজা অফিসে চলে যায় সাদিফ। তার নূরকে রানী বানিয়ে রাখতে হলে তাকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে। সে চায় তার হালাল টাকা দিয়ে নূরের সব দায়িত্ব নিতে।

সাদিফ ফ্রেশ হয়ে নাস্তার টেবিলে আসে। নূর এবং সায়মা আগেই বসেছিলো। তারা টুকটাক গল্প করছিলো। আনিসুর রহমান নিউজ পেপার পড়ছিলেন । নাজমা আক্তার নাস্তা টেবিলে রাখছিলেন। নুর অনেক জোর করার পর ও তিনি এখনো নূরকে রান্নার কোনো কাজ করতে দেন না। তিনি বলেন এটা তো নূরেরই সংসার। একদিন তো তাকেই সব গুছিয়ে নিতে হবে। এখন সে নতুন বউ এখন তাকে এসব করতে হবে না। তিনি পড়ালেখায় মনযোগী হতে বলেন নূরকে।

সাদিফ আসার পর সবাই নাস্তা শুরু করে।

সাদিফ: খাওয়া শেষ হলে তোমরা দুইজন বাহিরে দাঁড়াবে। আমি গাড়ি বের করছি একসাথে যাবো।

সায়মা: একটু তাড়াতাড়ি করো ভাইয়া। তোমার তো আবার কোন গাড়িটা নিবে এটা ভাবতেই অনেক সময় পার হয়ে যায়।

সাদিফ: সময় লাগবে না।

নুর সায়মাকে আস্তে আস্তে বলে,

তোমাদের বাসার গ্যারেজে ঢুকলে মনে হয় কোনো গাড়ির সো রুমে ঢুকেছি। এত এত গাড়ি। তাও এক একটা এক এক ব্র্যান্ডের । একটা মানুষের এত গাড়ি থাকে?

সায়মা: আরে ভাইয়ার গাড়ি অনেক পছন্দ। গাড়ি হচ্ছে ভাইয়ার প্রথম ভালবাসা। যেকোনো নতুন মডেল আসলেই সবার প্রথম ভাইয়াই কিনে সেটা। মানুষের বিভিন্ন ধরনের শখ থাকে কালেকশন থাকে। গাড়ি কালেক্ট করা ভাইয়ার শখ ।

নুর: বড়লোক মানুষের বড়লোকি কারবার ।

সাদিফ ওদের সব কথা শুনছিলো । নূরের এই কথা শুনে সাদিফ নূরের দিকে তাকায়। তাদের চোখাচোখি হয়ে যায়। নুর সাথে সাথে খাবার খাওয়ায় মনযোগ দেয়। তিনজন এক সাথে ইউনিভার্সিটিতে যায়। ক্লাস শেষ করে সায়মা এবং নুর ড্রাইভারের সাথে বাড়িতে এসে পড়ে। সাদিফ ইউনিভার্সিটি থেকে সোজা অফিসে চলে যায়।

রাতে ডিনারের পর সবাই যে যার মতো টুকটাক কাজ করে ঘুমিয়ে পড়ে ।

নূরের ঘুম আসছিলো না তাই সে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকে। সাদিফ নূরের পিছনে দুরত্ব বজায় রেখে দাঁড়ায়।

সাদিফ: ঘুমাচ্ছো না কেনো?

নূর: ঘুম আসছে না।

সাদিফ: বাহিরে হাঁটতে যাবে আমার সাথে?

নুর: যাবো।

সাদিফ: যাও রেডি হয়ে এসো। আমি নিচে অপেক্ষা করছি।

নূর: জ্বি আচ্ছা ।

নূর বোরকা নিকাব পড়ে পায়ে কেডস পরে বের হয়ে সাদিফের কাছে যায়। সাদিফ বাসার নরমাল জামা কাপড়েই বের হয়। কালো প্যান্ট,সাদা টিশার্ট, পায়ে কেডস। রাস্তায় দুইজন হাঁটছে পাশাপাশি। তবুও কয়েক ইঞ্চি দুরত্ব রয়েছে তাদের মাঝে। রাত ১১:৩০ বাজে এখন। রাস্তায় মোটামুটি ভালোই মানুষজন রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় রাতেও মানুষের আনাগোনা লেগেই থাকে। আকাশে আজকে একদম থালার মতো গোল চাঁদ উঠেছে। ভালোই লাগছে নিজের স্ত্রী প্রিয়তমা কে নিয়ে হাঁটতে। সাদিফ ইদানীং খেয়াল করছে তাদের সম্পর্কটা আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হচ্ছে। নুর নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে সাদিফের সাথে। এটা নিয়ে সাদিফ অনেক খুশি। সে বার বার আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছে । হাঁটার এক পর্যায়ে সাদিফ বাস্কেটবল কোর্ট দেখতে পায়। রাত হওয়ায় এখন পুরো ফাঁকা বাস্কেটবল কোর্ট। সাদিফ থেমে নূরকে জিজ্ঞেস করে,

নূর বাস্কেটবল খেলবে আমার সাথে??

নুর তাকিয়ে দেখে কোর্ট খালি তারা ছাড়া আশেপাশে কেউ নেই। নুর মাথা উপর নিচ করে যার মানে হ্যাঁ সে খেলবে।

দুইজন বাস্কেটবল খেলা শুরু করে। বল কারাকারী শুরু হয়ে যায় দুইজনের মধ্যে। কে কয়টা বাস্কেট করতে পারে এই নিয়ে শুরু হয় প্রতিযোগীতা। সাদিফ লম্বা হওয়ার কারণে খুব সহজে বাস্কেট করছিলো। নুর তার থেকে বল ছিনিয়ে নেয়ার সম্পূর্ণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাস্কেটবল কোর্ট দুইজনের হাসির ঝংকারে ভরে উঠে। নুর অনেক চেষ্টার পর বাস্কেট করতে পারে আর খুশীতে লাফাতে থাকে। সাদিফ বুকে দুইহাত গুঁজে সেই দৃশ্য দেখতে থাকে।

সাদিফ মনে মনে বলে,

তুমি এগিয়ে যাও আমি তোমার ঢাল হয়ে তোমাকে রক্ষা করবো। জীবনের প্রত্যেকটা মুহূর্তে তুমি আমাকে তোমার পাশে পাবে ইন শা আল্লাহ্। এভাবেই হাসখুশী ভাবে জীবনের পথ চলা হোক তোমার। দুনিয়া এবং আখিরাতে আল্লাহ তোমাকে সকল সুখ দান করুক আমিন।

চলবে

কেমন লাগলো আজকের পর্ব টা???

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন