ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি আমার সেই প্রিয়সী

১৪তম পর্ব

লেখক: শ্যামলী রহমান

#তুমি_আমার_সেই_প্রিয়শী

লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান

পর্ব:১৪

সারাটাদিন কেটে গেছে এখন রাত প্রায় এগারোটা। রাতের অন্ধকারে রুমের লাইট অফ করে মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে আছে রুহি চোখ দিয়ে পানি ঝরছে। মনে মনে বুলি আউড়াচ্ছে,

"আপনি কেন এমনটা করলেন?কেন দূরত্ব বাড়াতে বাঁধ্য করলেন আমায়? এখন না পারবো আপনাকে ছাড়া থাকতে আর না পারবো আপনার কাছে যেতে। ভালোবাসার বদলে ঘৃণা করতে বাঁধ্য করলেন। বাবা মা,র বিরুদ্ধে গিয়ে আপনার হতে চেয়েছিলাম কিন্তু না আমি ভুল ছিলাম, আমার ভুল ছিলো শত্রুর ছেলে কে ভালোবাসা।

এদিকে রাফিয়া রোহান কে একের পর এক ফোন দিয়ে চলছে কিন্তু রোহানের ধরার নাম নেই বার বার কেটে দিচ্ছে। রোহান বিষন্ন মনে বেডে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে পাশে ফোনটা বাজছে এবার সহ্য করতে না পেরে ফোনটা ধরে।

" কি সমস্যা তোমার?দেখছো না ফোন ধরছি না তার পর ও বার বার কল দিচ্ছো কেন?

রোহানের ধমকে ফোনের ওপাশ থেকে রাফিয়া ভয় পেয়ে যায়।

'আপনি এভাবে রেগে কথা বলছেন কেন? কি হয়েছে?

"কি হয়েছে জানোনা? তোমার অসভ্য ভাই কি করেছে শোনোনি?

'আপনাদের কোথাও ভুল হচ্ছে ভাইয়া এমন করতে পারে না।

" ভুল হচ্ছে মানে কি?আমি নিজে চোখে দেখেছি?

'অনেক সময় চোখের দেখা ভুল হয়।

"আমি এতো কথা শুনতে চাই না তুমি আমাকে আর কখনো কল দিবে না।

রাফিয়া চমকে ওঠে জিজ্ঞেস করে,

'কেন?

" মির্জা বাড়ির সাথে চৌধুরী বাড়ির সম্পর্ক হওয়া সম্ভব নয়।

'তাহলে সেদিন সপ্ন দেখালেন কেন?

"সেদিন তো জানতাম না রিশাদ মির্জা এতোটা নিচু মনের অসভ্য যে বাবার বয়সি মানুষের সাথে এমন করতে পারে।

রাফিয়ার এবার ভাইয়াকে বাজে বলায় গায়ে লাগে রুক্ষ কন্ঠে বলে,

'একদিন ভাইয়া প্রমাণ করে দিবে সে কিছু করেনি সেদিন আপনার ভুল ভেঙে যাবে কিন্তু আমি দূরে চলে যাবো। আজকের বলা কথা গুলো আমার মনে থাকবে ভালো থাকবেন বলে কল কেটে দেয়।

প্রথমের কথা গুলো রুট ভাবে বললেও শেষের কথা বলতে গিয়ে কন্না দলা পেকে যায় কোনো মতো ফোন রেখে রাফিয়া হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে।

রোহান রাগের মাথায় অনেক কিছু বললেও নিজেও কষ্ট পাচ্ছে তার চোখের কোনে জল চিকচিক করছে।

" পেয়েও কি তবে হারিয়ে ফেলতে হবে? কেন তৈরি হলো এমন পরিস্থিতি সবই ঠিক ছিলো।

রিশাদ কাউকে ফোন করে,

"দুই দিনের মধ্যে আমার সমস্ত ইনফরমেশন চাই অ্যান্ড খোরশেদের উপর সম্পূর্ণ নজর রাখবি।

কেটে গেল আরো একদিন সবকিছু চুপচাপ হয়ে গেছে। চারদিক নিস্তব্ধতা মনে হচ্ছে সম্পর্কে জড়িয়ে থাকা মানুষ গুলো নিশ্চুপ হয়ে আছে।

সকাল বেলা মিজানুর চৌধুরী হাঁটতে বাহির হয় রাস্তার দিকে সেখানে যেতেই পিছন থেকে কেউ সালাম দেয়,

" আসসালামু আলাইকুম চাচা কেমন আছেন?

মিজানুর চৌধুরী পিছনে তাকিয়ে একটা ছেলেকে দেখতে পায় পাশে আছে প্রতিবেশী সেলিম সাহেব।

"ওয়ালাইকুম আসসালাম। তুমি কে ঠিক চিনতে পারলাম না।

সেলিম সাহেব এগিয়ে আসে,

" চেয়ারম্যান সাহেব চিনতে পারছেন না?ও আমার ছেলে সাদিব। এতোদিন বিদেশে লেখা পড়া করতে গেছিলো কালকে রাতে এসেছে।

'ওহ আচ্ছা এবার বুঝতে পেরেছি তা বাবা এখন কি করবে ভাবছো?

"আংকেল পড়াশোনা তো শেষ ভাবছি আব্বুর বিজনেসের হাল ধরবো আব্বু একা আর কত সামলাবে।

'ভালো ডিসিশন নিয়েছো তা একদিন আমাদের বাসায় এসো রোহান আছে দেখা হবে।

" জ্বী চাচা নিশ্চয়ই যাবো। বলে মিজানুর চৌধুরী অন্য দিকে চলে এলেন আসতে নিলেই।

সেলিম সাহেব বলেন,

" চেয়ারম্যান সাহেব আপনার সাথে আমার কিছু কথা ছিলো একদিন যে আপনার মেয়ে আমার ছেলের বিয়ের বিষয়ে বললাম আপনি বললেন আগে দেশে আসুক। এখন তো এসেছে আপনার মতামতটা জানাবেন?

'আজকে আমি বাসায় যাই আগে রোহান ওর মা এর সাথে কথা বলে জানাবো আপনাকে।

"ঠিক আছে। চলেন তাহলে চা খাই

'অন্য কোনোদিন খাবো আজ যেতে হবে ওদিকে একটু কাজ আছে।

তখনি সেলিম সাহেব বলে ওঠেন,

" মির্জা সাহেব কেমন আছেন? আজকাল দেখা যায় না আপনার ছেলের নামে কিসব শুনছি।

মিজানুর চৌধুরী রাস্তার পাশে রশিদ মির্জা কে দেখে বলে,

"বুঝলেন সেলিম সাহেব সবাই ছেলে মানুষ করতে পারে না কারো কারো সন্তান অভদ্র আর বেয়াদব হয় যে বড়দের সম্মান করতে পারে না।

রশিদ মির্জা বুঝতে পারছে কথা গুলো তাকে বলছে ভেবে উনিও বলেন,

'বুঝলেন সেলিম সাহেব মানুষ তাদের কাছে খারাপ হয় যাদের খারাপ কাজে বাঁধা দেয় তারা তো খারাপ বলবে মানুষের ভালো করা যদি হয় অভদ্রতা আর বেয়াদবি তাহলে এরকম সন্তান পেয়ে আমি খুশি এরকম সন্তান বা কয়জনের হয়।

মিজানুর চৌধুরী অপমানিত বোধ করে সেখান থেকে চলে আসে বাড়ি।

রিশাদের দিন যাচ্ছে অতন্ত্র খারাপ প্রিয় মানুষটা ভুল বুঝেছে এতে মনমানসিকতা ভালো নেই চোখে নেই ঘুম চোখ বন্ধ করলেও তার কান্নারত মুখটা ভেসে ওঠছে শুনতে পাচ্ছে ঘৃণা করি কথাটা। এসব ভাবতেও প্রচন্ড মাথা ব্যাথা করছে এক পর্যায়ে বাসা থেকেবেরিয়ে পড়ে প্রিয়শীকে বোঝাতে।

রুহির মনমানসিকতা ভালো নেই তাই কালকে কলেজে যায়নি রাফিয়া ফোন করলেও ধরেনি কিন্তু আজকে কলেজে যেতে হবে সামনে টেস্ট পরীক্ষা আছে না গেলে সমস্যা হবে এই ভেবে হাজারো মন খারাপ নিয়ে কলেজের উদ্দেশ্য বেরিয়ে পড়ে। রাস্তায় রিশাদ কে দেখতে পায় কিন্তু দেখেও না দেখার ভান করে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। রিশাদ রুহির মুখোমুখি দাঁড়ায় অতঃপর বলে,

" রিকশা থেকে নামো কথা আছে।

'না আমি নামবো না আপনার সাথে আমার কোনো কথা নেই চলে যান।

রিশাদ রুহির কথা শোনোনা হাত ধরে রিকশা থেকে নামায় রুহি হাত ছাড়াতে চাচ্ছে আর বলছে,

"হাত ছাড়ুন।

'ছাড়বো না আগে কথা শুনবে তার পর আমি কলেজে দিয়ে আসবো।

রুহি ঝটকা দিয়ে হাত ছাড়িয়ে নেয় চিৎকার করে বলে,

" আপনার মতো মানুষের সাথে কথা বলতে আমার রুচিতে বাঁধছে আপনি এমন কখনো ভাবতে পারিনি আপনি এতো নোংরা কালকে বুঝেছি আপনি একটা মেয়ের সাথে ছি...

রিশাদ রুহিকে জিজ্ঞেস করে আমি একটা মেয়ের সাথে কি বলো?

রুহি বলে না কালকে রাতে রুহির ফোনে একটা আননোন নাম্বার থেকে কয়েকটা ছবি আসে যেখানে রিশাদের সাথে একটা মেয়ের ঘনিষ্ঠ ভাবে জড়িয়ে ধরে আছে। একে বাবার সাথে ঘটা ঘটনা সাথে ছবিগুলো সব মিলিয়ে রুহির মনে রিশাদের জন্য আরো বেশি ঘৃণা জন্মেছে।

রুহি সে কথা চেঁপে যায় কি দরকার থাক যে যার মতো ভেবে অন্য কথা বলে,

"যে আমার বাবাকে সম্মান করতে পারে না তার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই বলে রুহি আবার আসতে নেয়

রিশাদ আবার হাত টেনে ধরে এবার রুহি রেগে গিয়ে থাপ্পড় মেরে বসে রিশাদের গালে।

বললাম না হাত ছাড়েন আপনার সাথে আমার কোনো কথা নেই আমি আপনাকে ঘৃণা করি যে আপনাকে পাগলের মতো ভালোবাসতাম ভেবেছিলাম সব কিছু বিরুদ্ধে যেতে হলেও যাবো কিন্তু না আপনি তো ভালোবাসার যোগ্য না আপনি হলেন ঘৃণার যোগ্য।

কথাগুলো বলে রুহি চোখের পানি মুছতে মুছতে চলে আসে রিকশায় বসে রওনা দেয় কলেজের উদ্দেশ্যে পিছন থেকে নিস্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে সামনের মানুষটার যাওয়ার পথে হয়তো সে ভাবেনি রুহি এমনটা করবে।

ভালোবাসায় অবিশ্বাস একটি জটিল বিষয়। যখন বিশ্বাস ভেঙে যায়, তখন সম্পর্কের ভিত নড়বড়ে হয়ে যায়।

রুহির চোখে দেখা ঘটনা বিশ্বাস করছে সম্পর্কে দেখা দিয়েছে ফাঁটল।

রিশাদ মনে মনে আওড়ায়,

" সত্য কি তা জানবে আর একদিনের অপেক্ষা।

রিশাদ গাড়ি নিয়ে স্থান থেকে চলে যায় তখন আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে একজন মানুষ ফোনে তোলা রিশাদ আর রুহির হাত ধরা ছবি পাঠায় আরেকজনকে সেই ছবি দেখে হেঁসে ওঠে মানুষটা আর বলে,

"ছবির একশন প্ল্যান একটু পর শুরু হবে আর রাতে হতে চলেছে বড় ধামাকা।

চলবে.........?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন