#তুমি_আমার_সে_প্রিয়শী
লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান
পর্ব:১৫
মিজানুর চৌধুরী সোভায় বসে আছেন গম্ভীর মুখে রাগে চোখ দিয়ে আগুন ঝরছে। অপেক্ষা করছেন রুহির আসার জন্য। দুপুরে সাদিব যখন রুহি আর রিশাদের ছবি গুলো দেখালো তার পর থেকে চোখে মুখে রাগের ফুলকি রোহান এতো বুঝিয়ে মাথা ঠান্ডা করতে পারছে না।রাগে চিল্লাছে আর বলছে,
"শত্রুর ছেলের এতো সাহস আসে কোথা থেকে আমার মেয়ের হাত ধরে আর তুই কি করিস দেখে রাখতে পারিস না?তাড়াতাড়ি রুহিকে বাসায় আসতে বল।
রোহানকে বললেও রোহান চুপ করে যায় সে না জানলেও কিছুটা বুঝতে পেরেছিলো বটে।
মিজানুর চৌধুরী রোহানকে বলে ,
" আসতে বললি নাকি আমি নিতে যাবো?
'আব্বু মাথা ঠান্ডা করো রুহি হয়তো ক্লাসে আছে তাই ফোন ধরছে কিছু সময়ের মধ্যে ক্লাস শেষ হলে তো চলপ আসবে আর তুমি ওকে আগে কিছু বলিও না আগে ওর থেকে শুনতে হবে।
রুজিনা বেগম ভয়ে আছেন তবুও রোহানের সাথে তাল মিলিয়ে বলে হ্যাঁ আগে ওর থেকে শুনতে হবে ছোট মানুষ ভুল করতেও পারে।
মিজানুর চৌধুরী রুজিনা বেগমের দিকে তাকালে তিনি মাথা নিচু করে নেয়।
"মা ছেলে আমায় কিছু বলতে আসবে না আমার কি করা দরকার তা আমি ভেবে নিয়েছি।
_থ্যাঙ্কিউ সো মাচ সুইটি তুমি আমাকে অনেক বড় সাহায্য করলে। তুমি ছবি গুলো তুলে পাঠিয়িলে বলে কাজটা হলো যদিও আমাদের প্ল্যান আগে থেকে ছিলো।
"থ্যাঙ্কিউ দেওয়ার কিছু নেই আমি রিশাদকে পাওয়ার জন্য সব করতে রাজি আছি। ওকে নিজের করে নিবো সাথে রাজত্ব করবো মির্জা বাড়িতে।
_আমার তো রাজকন্যা রাজত্ব সবই হতে চলেছে।
"বেশি খুশি হইয়ো না রুহি কিন্তু রিশাদকে ভালোবাসে হয়তো ভুলবোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে বলে ঘৃণা করে বলছে কিন্তু ভালোবাসা ঠিকই।
_মিজানুর চৌধুরী আছে না উনাকে যা বুঝার আব্বু আর মিলে বুঝিয়ে দিয়েছি এখন যা করার উনি করবেন।আমি জানি মিজানুর চৌধুরী জীবনেও রিশাদের হাতে তুলে দিবে না।
"ওকে সব আমাদের প্ল্যান মাফিক হলে ভালো।
_হুম তুমি শুধু রিশাদের উপর নজর রাখো।
" রিশাদ তো আজকে অফিসে আসেনি।
সাদিবের ভ্রু কুচকে আসে সুইটিকে বলে,
_এই রিশাদ আবার নতুন কোনো প্ল্যান করছে না তো?
"জানিনা করতেও পারে মাথায় কি চলে সে জানে।
_যেই প্ল্যান করুক লাভ হবে না আজকে তো ধামাকা হবে সেটা রিশাদ মির্জা জানতে পারবে কিন্তু কিছু করতে পারবে না।
তুমি এবার যাও আমার আরো কিছু কাজ আছে।
সুইটি চলে যায় সাদিবের মুখে হাঁসির রেখা। মনে মনে বলে,
_মিস্টার রিশাদ মির্জা তুমি আমাকে এতো বোকা ভাবো?
কি ভেবেছিলে খোরশেদ কে ধরে সব সত্যি বাহির করবে কিন্তু আফসোস খোরশেদ কে খুঁজে পাবে না।
রুহি কলেজ শেষ করে রিকশা থেকে নেমে বাসার ভিতরে আসতেই দেখে মিজানুর চৌধুরী ও রোহান বসে আছে পাশে দাঁড়িয়ে আছে রাশেদা মির্জা।
মিজানুর চৌধুরী গম্ভীর মুখ দেখে রুহি এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে আব্বু?
এই কথা বলতে দেরি সাথে সাথে রুহির গালে পড়ে এক থাপ্পড় রুহি নিজেকে সামলাতে না পেরে দুকদম পিছিয়ে যায়। বুঝতে পারছে না থাপ্পড় মারার কারণ কি?
মিজানুর চৌধুরী গালে আরো দুটো থাপ্পড় মারে আর বলে,
" তোমাকে আমও এসব করতে কলেজে পাঠাই? আমার ভালোবাসা আর বিশ্বাসের মূল্য এই দিলে?
রুহি এখনো বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে ও জিজ্ঞেস করে, -কি করেছি আমি?
রোহান ওকে ছবি গুলো দেখা।
বাবা কথা অনুযায়ী ফোনে থাকা ছবি গুলো দেখায়,আর বলে এসব কি রুহি?
রুহি ছবি গুলো দেখে চমকে যায়। মনে মনে বলে এগুলো কিভাবে পেলো কেইবা তুললো।
;কি হলো বল এগুলো কি?
রুহির উত্তর দেওয়ার আগে মিজানুর চৌধুরী আবার মারতে আসলে রুজিনা বগেম রুহিকে জড়িয়ে ধরে সরিয়ে নেয়।
মেয়ের গায়ে হাত তুলতে নেই।
"মেয়েকে ভালোবাসা দিয়ে এমব করেছি ও কি করে পারলো শত্রুর ছেলের সাথে সম্পর্ক করতে ও কি জানেনা মির্জা বাড়ির সাথে আমাদের শত্রুতার কথা। একবারো ভাবেনি আমার কথা। যে ছেলে আমাকে অসম্মান করে ধ্বাক্কা দেয় তাকে..... আমার ভাবতে রাগ লাগছে এই ভালোবাসার মূল্য দিলো আমার মেয়ে।
রুহির নিজেকে পুস্তত করে নেয় আর উত্তর দেয়,
-ভালোবেসেছিলাম ঠিকই শত্রুতা এসব নিয়ে ভাবিনি তবে ভালোবাসা চাঁপা পড়ে গেছে দুইদিন আগে যখম উনি তোমার গায়ে হাঁত দিয়েছিলেন আর দেখেছিলাম কিছু সত্য। ভালো আমি তোমাকেও বাসি বাবা আর আজকে যে ছবি গুলো দেখছো তোমরা যেগুলো তখন আমি আমার হাত ছাড়িয়ে নিতে চাচ্ছিলাম।
"মিজানুর চৌধুরী মেয়ের কথা শুনে বলে,
" ঠিক আছে আমি সব মানলাম তবে আজকে সাদিবের তোমার বিয়ে হবে।
বিয়ের কথা শুনে রুহি চমকে যায়। রিশাদ কে ছাড়া কখনো কাউকে নিয়ে ভাবেনি যতই মুখে বলি ভালোবাসি না কিন্তু মন জানে তাকে ছাড়া কতটা অসহায় ভালোবাসি কতটা।
'আব্বু আমি এখন বিয়ে করতে চাচ্ছি না।
মিজানুর চৌধুরী আবারো রেগে যায়।
"এখন বিয়ে করবে না কেন?ওই শত্রুর ছেলের জন্য? তাহলে শোনো এরকম যদি ভেবে থাকো তাহলে যাও আমার দরজা খোলা আছে তুমি দরজা দিয়ে বাহির হবে আর আমার লাশ দেখবে কিছু সময় পর। শত্রুর ঘরে যাবে মানুষ নানান কথা বলবে আমার সম্মানে আঘাত হানবে এটা দেখার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।
রুহি কান্না চোখে তাকায় বাবার দিকে অঝড়ে পড়ছে চোখের পানি।
'আমি তো বললাম উনার কাছে যাবো না।
" তাহলে বিয়ের জন্য তৈরি হও রাতে বিয়ে।
-ঠিক আছে আমি রাজি তোমরা ব্যবস্থা করো বলে রুহি দৌড়ে উপরে চলে যায়। রোহান মনে মনে ভাবছে রিশাদ আব্বুর সাথে এমনটা না করলে আমি নিজে সাহায্য করতাম। ভালোবাসার মানুষ কে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করা কত কঠিন রুহির মতো আমাকেও কি তেমন করতে হবে? আমি কি পাবো না তাকে? মনের প্রশ্ন মনে থাকে ফোনের স্কিনে রাফিয়ার ছবিটা দেখে সেদিন কল কেটে দেওয়ার পর থেকে রাফিয়া আর কল দেয়নি আর না দিয়েছে রোহান।
মিজানুর চৌধুরী সাদিব ও ওর বাবাকে জানিয়ে দেয় রুহি রাজি হয়েছে রাতে বিয়ে হবে কয়েকজন লোক নিয়ে শুধু বিয়ে পড়ানো হবে আর পরে বড় করে অনুষ্ঠান করা হবে।
রুহি রুমে গিয়ে বেডে শুয়ে কান্না করতে থাকে আর ভাবে৷ তার জায়গায় অন্য কাউকে কি করে মেনে নিবো। না পারবো অন্য কাউকে মেনে নিতে আর পারবো উনাকে মেনে নিতে কেন আমাকে ঠকালেন? আমার ভালোবাসায় আমি বেহায়া ছিলাম পরে আপনিও কেন শায় দিলেন ভালোবাসি বলে অন্য কারো সাথে.....
কথা শেষ করতে পারে না কান্নার জন্য সব দলা পাকিয়ে যাচ্ছে।
আব্বুর জন্য বিয়ে করবো তাকে ভালোবাসতে না পারলেও মানিয়ে নিতে হবে। তাকে আর সত্যি পাওয়া হলো কপালে লেখা ছিলো না তার ভালোবাসা।
যদি নাই থাকে তাহলে ভালোবাসায় শায় দিশে ঠকালেন কেন?এরকম হাজারো অভিযোগ মনে।
না আর ভাববো না তাকে নিয়ে উনি ভালো থাক আমি ভালো রাখি।
বিয়ে করলে আব্বু খুশি ভালো থাকবেন আমার ভালো না থাকলেও চলবে বলে চোখের পানি মুছে নেয়।
রুজিনা বেগম একটা শাড়ি দিয়ে যায় রুহিকে আর বলে এটা একটু পর পরে রেডি হয়ে নিস বলে তিনি মেয়ের মলিন মুখের দিকে তাকিয়ে চলে যায়। তার যে কিছু করার নেই।
রুহির বিয়ের কথা এখনো রিশাদের কানে পৌঁছায়নি।
রিশাদ দুইদিন খোরশেদ কে তন্ন করে খুঁজেছে কিন্তু পায়নি। কোথায় যেতে পারে সেসব ভেবে মাথা কাজ করছে না।
আকাশ পাশ থেকে বলে,
"এতো চিন্তা করিস না খোরশেদ আমাদের কাছে না থাকলেও প্রমান তো আছে এই যে সিসি টিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে খোরশেদ তোর পিছন থেকে মিজানুর চৌধুরী কে ধ্বাকা দিয়েছে।
'খোরশেদ কে পেলে ভালো হতো আমার মনে মনে হচ্ছে ওর সাথে আরো কেউ আছে যে এসব করতে বলছে।
" তোর কেন মনে হচ্ছে এর পিছনে আরো কেউ আছে?
'কারণ মিজানুর চৌধুরীর কাছে আমাকে খারাপ করে মোরশেদের কোনো লাভ নেই তাহলে ও এটা করবে কেন?তার গুডাউনে আগুন দিয়ে,উনাকে ধ্বাকা দিয়ে আমার দোষ দিয়ে তার লাভ কি?
"হ্যাঁ তাই তো আমি এটা ভেবে দেখিনি এর পিছনে তাহলে আছে কে?কার সাথে তোর শত্রুতা?
'সেটা তো খুঁজে বাহির করতে হবে তাহলে পুরো প্রমাণ পাওয়া যাবে।
রিশাদ আর আকাশের কথা বলার মাঝে রিশাদের ফোনে কল আসে রিশাদ ফোনে ধরে অপর পাশের ব্যক্তির কথা শুনে বলে অস্থির হয়ে যায় কল কেটে তাড়াহুড়ো করে বাহির হতে চায় আকাশকে বলে চল এখনি যে তে হবে না হলে সর্বনাশ হয়ে যাবে।
" কি হয়েছে আগে বলবি তো?
রিশাদ সমস্ত ঘটনা খুলে বলে।
আকাশ বলে,
"রুহি অন্য কাউকে বিয়ে করতে রাজি হলো?
'ভুলবোঝাবুঝিতে ঘৃণা করে আমায় এজন্য রাজি হয়েছে তবে আমি আমার ভালোবাসা শেষ হতে দিবো না যে করে হোক বিয়ে আটকাবো তাতে যদি যুদ্ধ লেগে যায় তাবুও লড়বো।
" শোন মাথা গরম করিস না এখন রুহি তোর কথা শুনবে না আর না শুনবে মিজানুর চৌধুরী তোর বাবা জানলেও মানবে না।
"সেসব নিয়ে আমি এখন ভাবছি যা করার তাড়াতাড়ি করতে হবে রাতে বিয়ে এখন সন্ধ্যা হতে চলেছে।
'ঠান্ডা মাথায় ভাবতে হবে সব শোন আমি যা বলছি তাই করা ছাড়া উপায় নেই রুহি ও রাজি না ও রাজি থাকলে না হয় নিয়ে আসা হতো।
আকাশ আর রিশাদ প্ল্যান করে নেয় কিভানে কি করবে।
প্ল্যান শেখ রিশাদ বাঁকা হেঁসে বলে,
" আমি আসছি অপেক্ষা করো জীবন থাকতে অন্য কারো হতে দিবো না। ভুলবোঝাবুঝি যত হোক তবুও তোমাকে আমার চাই। তুমি রেডি হও বউ হওয়ার জন্য তবে অন্য কারো নয় এই রিশাদ মির্জা মিসেস মির্জা হওয়ার জন্য।
চলবে...................?
[কালকে বিয়ে সবার দাওয়াত রইলো আসবেন কিন্তু ]