ফন্ট সাইজ:
থিম:
চলো নিরালায়

৩য় পর্ব

লেখক: তেজরিন উম্মীদ

#চলো_নিরালায়

#তেজরিন_উম্মীদ

৩

🚫কোন প্রকার কপি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ🚫

(রিচেক দি নি ভুল থাকলে ধরিয়ে দিও)

বিকেলের মরা রোদে উমাইজাকে নিয়ে যখন মেহনাজ ঘর থেকে বের হলো, তখন তার মনে রাজ্যের দ্বিধা। গন্তব্য ছোট চাচার বাড়ি। পাওনা কিছু টাকা আদায়ের শেষ চেষ্টা করতেই এই যাত্রা। গত কয়েকদিন অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে সে, কিন্তু ধার হিসেবে কেউ এক পয়সাও দেয়নি। অগত্যা নিজের হকের টাকাটা চাইতেই আজ মান-সম্মান বিসর্জন দিয়ে চাচার বাড়ির পথ ধরা।কথায় আছে অভাব যখন ঘরের দরজায় টোকা নারে, তখন আত্মসম্মানও নুইয়ে পড়ে।কত জনের কাছে চেয়ে, দুটা হাজার টাকা ধার পেল না মেহনাজ।হাহ!অভাব যখন আসে, চারিদিক থেকেই আসে।

শহরের ঘিঞ্জি গলির ভেতর এক চিলতে প্লটের ওপর ছোট চাচার টিনশেড বাড়ি। রিকশায় আসতে প্রায় আধঘণ্টা লেগে গেল। বাড়ির উঠোনে পা রাখতেই মেহনাজ দেখল ছোট চাচি দাঁড়িয়ে আছেন। মেহনাজ বিনয়ের সাথে সালাম দিয়ে কথা শুরু করতেই চাচির কপালে বিরক্তির ভাঁজ পড়ল। মেহনাজকে দেখে তিনি যে খুব একটা খুশি হননি, তা স্পষ্ট। তিনি যে বিরক্ত তাও বুঝা গেল।

মুখ কুঁচকে অনাগ্রহী গলায় চাচি জিজ্ঞেস করলেন, "কী মনে করে?"

মেহনাজ আমতা আমতা করে বলল, "চাচা কোথায়? ওনার সাথে একটু দরকার ছিল।"

চাচির উত্তরটা এল যেন দায়সারাভাবে, "আছে কোথাও, আইসা পড়ব। বসো তুমি।"

মেহনাজ উমাইজাকে নিয়ে ছোটো চাচা কাদের সাঘরের কোণে রাখা পুরনো জীর্ণ সোফাটায় গিয়ে বসল। সময় যেন কাটতেই চায় না। ঘড়ির কাঁটা ঘুরে দুই ঘণ্টা পার হয়ে গেল, অথচ চাচার দেখা নেই। অধৈর্য হয়ে একবার চাচিকে জিজ্ঞেস করেছিল মেহনাজ, "চাচা কখন ফিরবেন?" চাচি কেবল 'আসছে' বলে পাশ কাটিয়ে গেলেন।

রাত তখন আটটা ছুঁইছুঁই। মেহনাজের সামনেই ছোট চাচার পরিবার রাতের খাবার খেতে বসল। পদের ঘ্রাণ নাকে আসতেই ছোট উমাইজা ক্ষুধার্ত চোখে মায়ের দিকে তাকাল। মেহনাজ মেয়ের চোখের ভাষা পড়তে পারে, কিন্তু এই মুহূর্তে তার কিছুই করার নেই। এক লোকমা খাবারের জন্য কেউ তাদের সাধল না পর্যন্ত। বাড়ির মানুষগুলো খাওয়া শেষ করে উঠলে মেহনাজ বিনীত স্বরে চাচিকে ডাকল।

চাচি সামনে এসে দাঁড়ালে মেহনাজ শুকনো গলায় বলল, "চাচি, একটু পানি দেবেন?"

মেহনাজের ছোট চাচির বিরক্তিটা আর গোপন রইল না, তাঁর কুঁচকানো কপালেই তা স্পষ্ট ফুটে উঠল। অনিচ্ছাসত্ত্বেও তিনি জগ থেকে এক গ্লাস পানি এনে মেহনাজের সামনে রাখলেন। মেহনাজ কিছুটা অবাক হলো। সে ভেবেছিল, পানির তৃষ্ণার কথা শুনলে হয়তো সৌজন্যের খাতিরে হলেও চাচি তাদের একবার খাবারের কথা বলবেন। কিন্তু তার সেই ক্ষীণ আশাটুকু নিমিষেই মিলিয়ে গেল। অগত্যা লোকলজ্জার মাথা খেয়েই সে মুখ খুলল,

"চাচি, উমাইজা খুব খিদে পেয়েছে, ওকে কি একটু খাবার দেওয়া যাবে?"

চাচি নির্লিপ্ত, রুক্ষ গলায় জবাব দিলেন, "খাউন শেষ মেহনাজ। যা ছিল সব শেষ।"

অথচ মেহনাজের দৃষ্টি এড়াল না যে, ডাইনিং টেবিলের ওপর সযত্নে ঢাকা দেওয়া থালাবাসনগুলো যেন ওর দিকে তাকিয়ে বিদ্রূপ করছে। অপমানে মেহনাজ আর কথা বাড়াল না। এদিকে চাচার কোনো পাত্তাই নেই। দীর্ঘক্ষণ জীর্ণ সোফাটায় একভাবে বসে থাকতে থাকতে ওর কোমরের হাড়গুলো যেন টনটন করছে। সময় বয়ে যাচ্ছে, রাত বাড়ছে, আর উমাইজার খিদের চাহনি ওকে কুরে কুরে খাচ্ছে।

অবশেষে রাত পৌনে নটা নাগাদ কাদের সাহেবের দেখা মিলল। লুঙ্গির এক কোণা হাতে গুটিয়ে, মুখভর্তি পান চিবোতে চিবোতে তিনি আয়েশি ভঙ্গিতে ঘরে ঢুকলেন। মেহনাজকে দেখেই তাঁর ভ্রু কুঁচকে গেল। মেহনাজ কেন এই অসময়ে হানা দিয়েছে, সেটা বুঝতে তাঁর এক সেকেন্ডও সময় লাগল না।

মেহনাজ উঠে দাঁড়িয়ে জড়তা কাটিয়ে বলল, "চাচা, আমার হাত একদম খালি। আপনার কাছে যে দশ হাজার টাকা পেতাম, তার অন্তত কিছু অংশ কি এখন দেওয়া যাবে? খুব বিপদে পড়ে এসেছি।"

কাদের সাহেব যেন আকাশ থেকে পড়লেন। মুহূর্তেই উত্তেজিত হয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন, "টাকা? কিসের টাকা দেব তোরে আমি?"

মেহনাজ এবারও দমে না গিয়ে শান্ত গলায় মনে করিয়ে দিল, "সেই যে কত বছর আগে আমার কাছ থেকে ধার নিয়েছিলেন চাচা, আমি শুধু সেই পাওনাটাই ফেরত নিতে এসেছি।"

কাদের সাহেব এবার অগ্নিশর্মা হয়ে উঠলেন। গলার স্বর সপ্তমে চড়িয়ে কদর্য ভাষায় বললেন, "টাকা কি ভেড়ার বাল যে চাইলেই দিয়ে দেব? কিসের টাকা পাস তুই আমার কাছে? বললেই হলো আর আমি অমনি টাকা বের করে দেব? যা এখান থেকে!"

মেহনাজ চাচার এমন ব্যবহারে বিন্দুমাত্র অবাক হলো না। কাদের সাহেবের হীনমন্যতা আর ইতর স্বভাব তার নখদর্পণে। মানুষটা আগাগোড়াই লোভী আর জঘন্য প্রকৃতির। পাওনা টাকা সহজে ফেরত দেবেন, এমন আশাও মেহনাজ করেনি। তবুও ক্লান্ত শরীরে শেষ মিনতিটুকু নিয়ে সে বলল,

"চাচা, ওই টাকাটা আমার খুব কষ্টের জমানো পুঁজি ছিল। আমার পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে, দয়া করে টাকাটা ফেরত দিন। যখন আপনার প্রয়োজন ছিল, তখন তো আমিই ছিলাম আপনার আপনজন; আজ নিজের টাকা ফেরত চাইছি বলে পর হয়ে গেলাম?"

কাদের সাহেব হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে হুঙ্কার দিয়ে উঠলেন, "আবার যদি টাকার কথা মুখে আনছিস, তবে তোরে লাথি মেরে বাড়ি থেকে বের করমু! কিসের টাকা পাস তুই আমার কাছে রে? তোর মতো ফকিন্নির কাছে অত টাকা কোত্থেকে আইল? বের হ আমার বাড়ি থেকে!"

চরম অপমানেও মেহনাজ শান্ত থাকল। এই মুহূর্তে তার টাকাটা বড্ড প্রয়োজন। সে দৃঢ় কণ্ঠে বলল, "টাকাটা দিয়ে দিলেই আমি চলে যাব চাচা। ওটা আমার হাড়ভাঙা খাটুনির পয়সা।"

কাদের সাহেবের মুখ দিয়ে এবার বিষ ঝরতে লাগল, "নটিগিরি কইরা টাকা কামাস, এখানে আবার কষ্টের কী আছে?"

মেহনাজের ধৈর্যের বাঁধ এবার ভেঙে গেল। সে গর্জে উঠল, "মুখ সামলে কথা বলবেন চাচা! আমি কোনো নোংরা পথে টাকা রোজগার করি না।"

"জানি জানি, সব জানা আছে আমার। বোরকার আড়ালে কী করে বেড়াস তা কারোর অজানা না। নয়তো ভাতার (স্বামী) ফেলে দেওয়ার পরেও হাত-পা ঝাড়া হয়ে থাকিস কেমনে?"

মেহনাজ দাঁতে দাঁত চেপে বলল, "চাচা, আমি চাকরি করি, নিজের পরিশ্রমে খাই।"

কাদের সাহেব এবার কদর্যভাবে হাসলেন, "হইছে, তোর ওই নুম্বারি কথা আর শোনাস না। কোনখানে গিয়ে বেশ্যাগিরি করিস, আমি সব জানি।"

"খবরদার চাচা! আমাকে নিয়ে একটাও উল্টাপাল্টা কথা বলবেন না!" মেহনাজের কণ্ঠস্বর কেঁপে উঠল অপমানে আর রাগে।

ছোট্ট উমাইজা ভয়ে গুটিসুটি মেরে মায়ের হাতটা শক্ত করে চেপে ধরল। তার শিশুমন বুঝতে পারছে না, সবাই কেন তার আম্মির সাথে এত খারাপ ব্যবহার করছে। মেহনাজ বুঝতে পারল, টাকা না দেওয়ার ফন্দি হিসেবেই চাচা তাকে এভাবে চরিত্রহনন করছেন। সে এবার গলার স্বর সপ্তমে চড়িয়ে চড়াও হলো,

"আমার টাকা ফেরত দিন চাচা, আমি এখনই চলে যাচ্ছি। আপনার এই নোংরা কথা শোনার রুচি আমার নেই!"

কাদের সাহেবের মুখ দিয়ে এবার যেন নর্দমার বিষ উপচে পড়ল। ঘৃণাভরে থুতু ফেলে তিনি গর্জে উঠলেন, "বেশ্যাগিরি করে টাকা কামাইছিস, আবার সেই টাকা আমারে দিয়া ফেরত নিতে আইছস? তোর মতো মাগির টাকার ওপর আমার থু!"

অপমানে মেহনাজের কান ঝাঁ ঝাঁ করে উঠল, কিন্তু সে দমে গেল না। তীক্ষ্ণ গলায় জবাব দিল, "টাকা নেওয়ার সময় তো এই মেহনাজকেই আপনার খুব ভালো লেগেছিল চাচা! তখন তো টাকাটা অপবিত্র মনে হয়নি? এখন ফেরত দেওয়ার বেলায় মেহনাজ খারাপ হয়ে গেল? আমার টাকা আমায় বুঝিয়ে দিন, নয়তো ফল ভালো হবে না।"

কাদের সাহেব এবার হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন। দাঁত কিড়মিড় করে বললেন, "আমার লগে তড়িৎ কথা! জ্যান্ত পুঁতে ফেলমু তোরে, বের হ আমার বাড়ি থেকে!"

"টাকা না নিয়ে আমি এক পা-ও নড়ব না," মেহনাজের কণ্ঠে এবার ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা।

"তোর লগে ভালো কথায় কাম হইব না, দাঁড়া...!"

বলেই কাদের সাহেব বাঘের মতো তেড়ে আসলেন। মেহনাজ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি সজোরে একটা ধাক্কা দিলেন তাকে। মেহনাজ টাল সামলাতে না পেরে ছিটকে মেঝেতে পড়ে গেল। ছোট্ট উমাইজা ভয়ে চিৎকার করে উঠে মাকে জড়িয়ে ধরল। মেহনাজ স্বপ্নেও ভাবেনি যে তার আপন চাচা তার গায়ে এভাবে হাত তুলবেন।

অপমানে রি রি করে উঠল মেহনাজের শরীর। সে টলমল পায়ে উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলল, "কোন সাহসে আপনি আমার গায়ে হাত দিলেন চাচা? আপনাকে তো আমি...!"

কিন্তু কাদের সাহেব থামলেন না, পুনরায় মারমুখী হয়ে তেড়ে আসলেন। মেহনাজ এবার এক চরম অসহায়ত্ব অনুভব করল। এই লোকটার জানোয়ারের মতো শক্তির কাছে সে বড় নগণ্য। এখানে আর এক মুহূর্ত থাকা মানে নিজের আর মেয়ের জীবন বিপন্ন করা। টাকার মায়া ত্যাগ করে সে উমাইজার হাত ধরে দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে এল।

-

রাস্তার অন্ধকার আর ল্যাম্পপোস্টের আবছা আলোয় হাঁটতে হাঁটতে মেহনাজের দুচোখ বেয়ে নোনা জল গড়িয়ে পড়ল। ডিভোর্সের পর থেকে তার জীবনটা যেন এক অন্তহীন কালবৈশাখী ঝড়ের মুখে পড়েছে। সমাজ তাকে 'পরিত্যক্তা' তকমা দিয়ে চারপাশ থেকে খুবলে খেতে চাইছে। আপনজনেরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, আর যাদের ওপর ভরসা করেছিল, তারা ওত পেতে আছে তার চরিত্র হননের নেশায়।

একদিকে পেটের ক্ষুধা, অন্যদিকে সম্ভ্রম বাঁচানোর লড়াই—এই দুটোর মাঝে পিষ্ট হতে হতে মেহনাজ ক্লান্ত। দশ হাজার টাকা হয়তো অনেকের কাছে অতি সামান্য, কিন্তু মেহনাজের কাছে ওটাই ছিল বেঁচে থাকার শেষ খড়কুটো। আজ সেই সম্বলটুকুও হারাল সে, সাথে নিয়ে এল একরাশ গ্লানি। পৃথিবীর সব রূঢ়তা যেন আজ তার একার কাঁধেই সওয়ার হয়েছে। উমাইজার ছোট্ট হাতটার দিকে তাকিয়ে সে শুধু ভাবল—এই দগ্ধ পৃথিবীতে মেয়েটাকে নিয়ে সে কোথায় দাঁড়াবে?

রাত তখন পৌনে এগারোটা। নিস্তব্ধ শহরের রাস্তায় মেহনাজের পায়ের শব্দগুলোও যেন ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ছে। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে যখন সে বাড়ির কাছে পৌঁছাল, তখন উমাইজা খিদের জ্বালায় প্রায় নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। মেহনাজ নিজেও চোখে সর্ষে ফুল দেখছে; গতকাল থেকে পেটে দানাপানি পড়েনি। রিক্ত হাতে আর অপমানে কুঁকড়ে থাকা মন নিয়ে এখন উনুন জ্বালানোর শক্তিটুকুও তার অবশিষ্ট নেই,শক্তি থাকলেও চুলা জ্বলবে কি দিয়ে? দু'দিন ধরে যে গ্যাস শেষ।সাইড ব্যাগে পড়ে আছে মাত্র সাতশো টাকা। এই কটা টাকাই এখন তার মাসের শেষ ভরসা। বেতন হতে ঢের বাকি, অথচ হাত পাতলে চারপাশের মানুষগুলো সাহায্যের বদলে লোলুপ দৃষ্টি মেলে ধরে।

রাতের খাবার বলতে রাস্তার মোড়ের চায়ের দোকান থেকে পঞ্চাশ টাকা দিয়ে তিন পিস রুটি আর দুটো কলা কিনল মেহনাজ। ফেরার পথে পাড়ার মুদি দোকান থেকে সেই পরিচিত লোকটা—তাকে ডাকল। চাচার বাড়ি থেকে পাওয়া সেই বিষাক্ত অপমান তখনও মেহনাজের কানে বাজছে। চরম বিরক্তি আর ঘৃণা নিয়ে সে বাহারাজ এর দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।

"কী বলবি বল, মেজাজ ভালো নেই।" মেহনাজের কণ্ঠস্বরে রাজ্যের অবসাদ।

বাহারাজ দাঁত বের করে এক চিলতে হাসি দিয়ে বলল, "রুটি কিনলে ওই দোকান থেকে, আমার দোকান থেকে কিনলে কী দোষ হতো? আমারটা থেকে তো নিতে পারতি।"

মেহনাজ রুক্ষ স্বরে জবাব দিল, "পয়সা দিয়ে যখন কিনবই, তখন তোর দোকান থেকেই কেন কিনতে হবে? যেখানে খুশি সেখান থেকেই কিনব।"

বাহারাজ তার পিটপিটে চোখে মেহনাজকে মেপে নিয়ে বলল, "তোরে কেমন যেন দেখাচ্ছে রে! কিছু লাগবে তোর?"

"তোকে বলে কী লাভ? তুই তো দিতে পারবি না।" মেহনাজ তাচ্ছিল্যভরে বলল।

"কইয়া দেখই না!"

মেহনাজ সরাসরি বলল, "আমার পনেরোশো টাকা লাগবে, দিতে পারবি?"

বাহারাজ এবার প্যাঁচাল পাড়ল, "টাকা-পয়সা তো সব তোর ভাবীর কাছে থাকে। অন্য কিছু লাগলে ক, দিতে পারি...!"

মেহনাজ এক মুহূর্ত স্থির হয়ে তার দিকে তাকাল, তারপর অবজ্ঞার সাথে বলল, "একটা গ্যাসের সিলিন্ডার লাগবে, পারলে কিনে দিস। কাল থেকে না খেয়ে আছি। থাক, তোকে বলে আর লাভ নেই। তুই তো মানুষ না।"

আর একটা মুহূর্তও সেখানে নষ্ট করল না মেহনাজ।উমাইজাকে নিয়ে উপরে চলে আসল।মাথায় হাজারো চিন্তা, কি খেয়ে বাঁচবে?গ্যাস এর টাকা ম্যানেজ করবে কিভাবে? উমাইজা উপরে উপরে সুস্থ থাকলেও, ভিতরে মেয়েটা অসুস্থ। ভালো কোন ডাক্তার দেখাতে হবে, টাকা পাবে কই?

--

গত রাতে তন্মনা চুপিসারে দরজা খুলে দিলেও আজ দরজা খুললেন রুশমের মা, লতা বেগম। ঘড়িতে তখন রাত দুটোর কাঁটা ছুঁইছুঁই। মাকে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রুশমের শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল। লতা বেগমের তীক্ষ্ণ চাউনি বলে দিচ্ছে—একটু পরেই ছেলের ওপর দিয়ে প্রলয়ংকরী কোনো ঝড় বয়ে যাবে। রুশম পরিস্থিতি হালকা করার জন্য কাঁচুমাচু হয়ে হাসার চেষ্টা করল।

"ভেতরে আসি আম্মা?" রুশমের গলায় স্পষ্ট জড়তা।

"আয়!" দাঁতে দাঁত চেপে জবাব দিলেন লতা বেগম।

রুশম ভেতরে ঢোকা মাত্রই তিনি সশব্দে দরজা বন্ধ করে দিলেন। লিভিং রুমে গিয়ে লতা বেগম বেশ আয়েশ করে পা তুলে গম্ভীর ভঙ্গিতে বসলেন। রুশম চারদিকে তাকিয়ে দেখল, তার ওপর দিয়ে যে এখন টর্নেডো বা ঘূর্ণিঝড় বয়ে যাবে, তা উপভোগ করার জন্য দর্শক সারিতে প্রস্তুত আছেন বাবা রাকিব মারওয়াত এবং বোন তন্মনা। রাকিব সাহেব সোফায় পাথরের মূর্তির মতো গম্ভীর হয়ে বসে আছেন। রুশম বোনের দিকে তাকাতেই তন্মনা চোখের ইশারায় বুঝিয়ে দিল—'আজ তোর কপালে শনি আছে!'

লতা বেগম সোফার দিকে ইশারা করে হুকুম দিলেন, "বসো!"

রুশম বাধ্য ছেলের মতো বসল। লতা বেগম সরাসরি আক্রমণ করলেন, "শুনেছি তুমি নাকি রাস্তাঘাটে মেয়েদের বিরক্ত করে বেড়াও? কথা কি সত্যি?"

রুশমের কণ্ঠনালী যেন শুকিয়ে আটকে গেল। আমতা আমতা করে বলল, "জি আম্মা... কে বলল আপনাকে এসব?"

"আমার প্রশ্নের উত্তর দাও, কথা কি সত্যি না মিথ্যা?" লতা বেগমের স্বর চড়ছে।

"আসলে আম্মা... মানে...!"

"সত্যি নাকি মিথ্যা?" এবার লতা বেগম রীতিমতো গর্জে উঠলেন।

রুশম বুঝতে পারল, মা যেহেতু খবর পেয়ে গেছেন, তাই আর লুকোছাপা করে লাভ নেই। সে কিছুটা গা ছাড়া ভাব নিয়ে সোফায় হেলান দিয়ে বসল। দায়সারা গলায় বলল, "পুরো সত্যিও না, আবার মিথ্যাও না; ফিফটি-ফিফটি। কিন্তু তোমার কাছে এই গোয়েন্দাগিরিটা কে করল? ওই মেয়ে নিজে বলেছে?"

লতা বেগম রাগে ফেটে পড়লেন, "তুমি যাকে বিরক্ত করো, সে ল্যাবরেটরি স্কুলের প্রিন্সিপালের কাছে অভিযোগ করেছে। আর প্রিন্সিপাল সরাসরি আমাকে জানিয়েছেন।"

রুশম শুধু নিস্পৃহ গলায় বলল, "ওহ!"

"তুমি 'ওহ' বলছ? এলাকার একটা মেয়েকে তুমি রাস্তাঘাটে উত্ত্যক্ত করবে, এটা কি কোনো সাধারণ বিষয়? তোমার বাবার একটা মান-সম্মান আছে রুশম! তুমি এভাবে বখাটেপনা করে বেড়াতে পারো না।"

রুশম এবার শান্ত গলায় বোমা ফাটালো, "আম্মি, আমি ওই মেয়েকে পছন্দ করি।"

"কীহ!" তন্মনা আর লতা বেগম একসাথে চিৎকার করে উঠলেন।

রুশম কাউকে পছন্দ করতে পারে—এই খবরটা তাদের কাছে হিমালয় ধসে পড়ার মতোই অবিশ্বাস্য। তাদের এই গগনবিদারী চিৎকার শুনে এবার রাকিব মারওয়াত মুখ খুললেন। শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, "আহা! মাঝরাতে অযথা চিৎকার করছ কেন? রাত হয়েছে, যা বলার ধীরে বলো।"

রুশম বাবার দিকে তাকিয়ে ফোঁড়ন কাটল, "বুঝেছো তো আব্বু? এই মহিলারা হুদাই চিল্লাপাল্লা করে। আমি কি কাউকে পছন্দ করতে পারি না? আজব কারবার!"

ছেলের এমন নির্বিকার উত্তরে লতা বেগম ফেটে পড়লেন, "থাপ্পড় দিয়ে তোর সব দাঁত ফেলে দেব বেয়াদব! নিজের ক্যারিয়ারের কোনো খবর নেই, অথচ উনি রাস্তায় রাস্তায় রোমিওগিরি করে বেড়াচ্ছেন। আজ থেকে সাবধান করে দিচ্ছি, রুশম—আর যদি কোনোদিন শুনি তুই ওই মেয়েকে বিরক্ত করেছিস, তবে...!"

রুশম কথা কেড়ে নিয়ে বাঁকা হাসিতে বলল, "তবে কী? তবে তুমি ওই মেয়েকেই আমার বউ করে ঘরে নিয়ে আসবে, এই তো?"

"রুশম!" লতা বেগমের চিৎকার যেন ছাদ ফুটো করে দেবে।

রুশম কানের কাছে হাত দিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে বলল, "আরে আম্মা, একটু আস্তে কথা বলতে পারো না? সারাক্ষণ এমন খ্যাটখ্যাট করো কেন? এই অযথা চেঁচামেচি না করে কিছু খেতে দাও তো, পেটে ইঁদুর দৌড়াচ্ছে।"

লতা বেগম এবার অভিমানে গলার স্বর খাদে নামিয়ে এনে বললেন, "তুই আর কোনোদিন আমাকে 'আম্মা' বলে ডাকবি না। যে ছেলে রাস্তাঘাটে বখাটেদের মতো মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে, সে আমার সন্তান হতে পারে না। তোর সাথে আমার সব সম্পর্ক আজ থেকে শেষ।"

রুশম যেন এ কথারই অপেক্ষায় ছিল। সে এক গাল হেসে বেলাজের মতো বলল, "আচ্ছা আন্টি, আপনার এই ভাগ্নেটার খুব খিদে পেয়েছে, মেহেরবানি করে কিছু খেতে দিন।"

"রুশম!" লতা বেগম আবার গর্জে উঠলেন।

মা-ছেলের এই অদ্ভুত বাকযুদ্ধ দেখে আড়ালে তন্মনা আর রাকিব সাহেব মুখ টিপে হাসছিলেন। লতা বেগমের নজর পড়তেই তাঁদের সেই হাসি নিমেষেই মিলিয়ে গেল। তিনি রুদ্রমূর্তি ধারণ করে রাকিব সাহেবের দিকে ফিরলেন।

"খুব হাসি পাচ্ছে, না? আশ্চর্য তো! আপনার ছেলে রাস্তাঘাটে বখাটেপনা করে বেড়াচ্ছে আর আপনি তাকে শাসন না করে বসে বসে দাঁত বের করছেন? সারাজীবন কি সব দায় একাই আমার? আপনি কি ছেলেমেয়েদের দিকে একবারও নজর দিতে পারেন না? এই যে আপনার গুণবতী মেয়ে, পড়াশোনার নামগন্ধ নেই, সারাদিন টিভির সামনে পড়ে থাকে। প্রি-টেস্টে ডাব্বা মেরেছে, টেস্টে কী ঘাস কাটবে কে জানে! আর আপনার ছেলের কথা তো না বললেই ভালো। আপনি তাদের মাথায় তুলে রেখেছেন বলেই আজ এই অবস্থা।"

তন্মনা আকাশ থেকে পড়ল। ভাইয়ের বিচার হচ্ছিল, তার মধ্যে সে বলির পাঁঠা হতে গেল কেন? সে ফিসফিস করে বলল, "আরে, আমি আবার কী করলাম?"

রাকিব মারওয়াত কাঁচুমাচু হয়ে বললেন, "বেগম, আমি আর কী বলব? তোমার কণ্ঠের তেজ আর গলার জোরের কাছে কি আমার কথা ধোপে টেকে? তোমার কথার ওপরে কি আর কথা চলে?"

---

"এই যে, দাঁড়ান!"

রুশম হাত বাড়িয়ে পথ আগলে দাঁড়ালেও মেহনাজ থামল না। সে যেন পাথরকুচি মাড়িয়ে হনহনিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাইল। রুশম আবারও ছায়ার মতো তার সামনে এসে দাঁড়াল। মেহনাজ ডানে ফিরলে রুশম ডানে, বামে ফিরলে রুশম বামে। এক অদ্ভুত লুকোচুরি খেলা।

মেহনাজের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছিল। রোজ রোজ এই অহেতুক আপদ তার আর সহ্য হচ্ছে না। জীবনের হাজারো জাঁতাকলে পিষ্ট হতে হতে সে ক্লান্ত, তার ওপর এই উটকো ঝামেলাটা যেন ঘাড়ের ওপর সওয়ার হয়ে বসেছে।

মেহনাজকে নির্বাক দেখে রুশম এবার একটু চড়া গলায় বলল, "আরে, কথার উত্তর দিচ্ছেন না কেন? বোবা হয়ে গেলেন নাকি?"

মেহনাজ আবারও এড়িয়ে যেতে নিলে রুশম এবার রীতিমতো ধমক দিয়ে উঠল, "একদম চুপচাপ দাঁড়ান! কথা কি কানে যায় না? দাঁড়াতে বলেছি, শোনেন না? স্থির হয়ে দাঁড়ান আর আমার প্রশ্নের জবাব দিন।"

মেহনাজ এবার স্থির হয়ে দাঁড়াল। আগুনের মতো চাউনি নিয়ে রুশমের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, "আপনার কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে আমি বাধ্য নই।"

"আপনি অবশ্যই বাধ্য!" রুশমের কণ্ঠে জেদ।

"কিসের বাধ্য?"

"আমি প্রশ্ন করেছি, এটাই আপনার বাধ্য হওয়ার কারণ। বলুন, আমার আম্মার কাছে গিয়ে আমার নামে বিচার দিয়েছেন কেন? প্রিন্সিপালকে নালিশ করার কী দরকার ছিল?"

মেহনাজ এবার ফেটে পড়ল, "তো কী করব? আপনি রাস্তাঘাটে আমাকে এভাবে অতিষ্ঠ করে তুলবেন আর আমি নিজের নিরাপত্তার জন্য অভিযোগও করব না? এজন্য কি আপনার কাছে কৈফিয়ত দিতে হবে? এমন কোনো দিন নেই যেদিন আপনি আমাকে রাস্তার মাঝখানে দাঁড় করিয়ে বিরক্ত করেন না। এসব করে কী পৈশাচিক আনন্দ পান আপনি? মান-সম্মান বা লোকলজ্জা বলতে কি আপনার কিছু নেই? বড়লোকের বখাটে ছেলে তো, তাই অন্যের দুঃখ বোঝার ক্ষমতা আপনার নেই। দিনশেষে বাপের টাকায় আয়েশ করেন, তাই দুনিয়াটা যে কতটা কঠিন তা আপনার চেনা নেই।"

রুশম ভ্রু কুঁচকে বলল, "এসবের মধ্যে আবার বড়লোক-গরিব আসছে কোত্থেকে?"

"আসবে না কেন?" মেহনাজের কণ্ঠে এবার ঘৃণা ঝরে পড়ল। "বড়লোকের ছেলে বলেই তো খেয়েদেয়ে কাজ নেই আপনার। কাজ নেই বলেই রাস্তার একটা মেয়েকে এভাবে পিছু নিয়ে আনন্দ পান। ধিক্কার জানাই আপনাকে! একজন অসহায় মেয়ের পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন আপনি। আচ্ছা, আপনারও তো একটা বোন আছে; তাকে যদি এভাবে কেউ রাস্তায় রোজ রোজ বিরক্ত করত, তবে আপনি কী করতেন? সেই কথাটা ভেবেও কি আমার থেকে দূরে থাকতে পারেন না? গত তিন মাসে আপনি আমার জীবনটাকে জাহান্নাম বানিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ্‌ জানে আপনার মনে কী আছে! আমার চলার পথে আপনি এক বিশাল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। আর কতভাবে বললে আপনি আমার পিছু ছাড়বেন, বলুন তো?"

মেহনাজের দুচোখ অপমানে আর ক্লান্তিতে চিকচিক করে উঠল।নিজের এই রণক্ষেত্রের মতো জীবন নিয়ে চলতে চলতে বড্ড ক্লান্ত মেহনাজ।জীবন থেকে এক ঝামেলা যাওয়ার আগেই আরেক ঝামেলা চলে আসে।মাথায় সারাদিন হাজারও টেনশন নিয়ে ঘুরে, এর মাঝে রুশম সত্যি তার জীবন চলাকে বড্ড কঠিন করে তুলেছে। রুশম ক্ষণিকের জন্য থমকে গেল, হয়তো মেহনাজের ভেতরের এই হাহাকারটুকু সে আশা করেনি।

"আল্লাহর দোহাই লাগে, আমার থেকে দূরে থাকুন!" মেহনাজের কণ্ঠস্বর কান্নায় বুজে এলো। "আমার জীবনটা কতটা কাঁটা বিছানো পথে কাটছে, তা শুধু আমিই জানি। আপনাকে এসব বলে লাভ কী? আপনি কি বুঝবেন? আপনার পেটে অন্ন আছে, আমার নেই। আমার দিন কীভাবে কাটে, সেই হিসাব কি আপনার মতো বিত্তবানের মাথায় ঢোকে? রাস্তা থেকে এক বোতল পানি কিনলেও আমাকে দশবার ভাবতে হয়—মাসের শেষে টান পড়বে কি না। আপনার রোমাঞ্চ আর আমার অস্তিত্বের লড়াই কি এক রুশম সাহেব?"

মেহনাজ একদমে কথাগুলো বলে হাঁপাতে লাগল। তার দুচোখে তখন জমাটবাঁধা মেঘ। সে আবার বলতে শুরু করল, "আপনি যখন বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দেন, আমি তখন ভাবি কাল উমাইজার মুখে কী তুলে দেব। আপনি যখন আয়েশ করেন, আমি তখন ভাবি খালি গ্যাস সিলিন্ডারটা কীভাবে ভরব। আমাদের জগৎ দুটো আলাদা—আপনারটা রঙিন, আর আমারটা কুচকুচে কালো। দুদিন ধরে না খেয়ে আছি, কাউকে বলতে যাইনি। পরিস্থিতির সাথে লড়তে লড়তে আমি আজ বিধ্বস্ত। চারপাশের মানুষের নোংরা কথা শুনতে শুনতে আমি চুরমার হয়ে গেছি। আপনি জানেন, লোকে আমাদের নিয়ে কী সব আজেবাজে কথা রটায়? তারা বলে, আপনি নাকি আমার সংসার চালান! কারণ কী? কারণ আপনি রোজ আমাকে মাঝরাস্তায় দাঁড় করিয়ে কথা বলেন। আমাদের মাঝে কোন বৈধ সম্পর্ক আছে যে আপনি আমার ভরণপোষণ করবেন? ছি! পর্দার আড়ালে আপনার সাথে আমার অবৈধ সম্পর্ক—এই অপবাদ কি কম ছিল? যদি পুরুষ হয়ে থাকেন, তবে একজন অসহায় নারীর অসহায়ত্বকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করবেন না। আমার জীবনটা এমনিতেই ভাঙাচোরা, ওটাকে আর তছনছ করবেন না। আমার চরিত্রটাকে অন্তত সমাজের সামনে এভাবে আর নষ্ট করবেন না।"

রুশম স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।দুপুরের কড়া রোদে মেহনাজের চোখ দুটো আজ বড্ড পাণ্ডুর আর বিষণ্ণ দেখাচ্ছে। মেহনাজের ভেতরের এই অগ্ন্যুৎপাত রুশমকে মুহূর্তের জন্য নির্বাক করে দিল। চারপাশের কোলাহল যেন থেমে গেছে, শুধু মেহনাজের কান্নার ভারী নিঃশ্বাস শোনা যাচ্ছে। রুশম অনেকক্ষণ পর গভীর এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে শান্ত গলায় বলল,

"রাস্তাঘাটে আমি আপনাকে বিরক্ত করি, এটাই তো সমস্যার মূল? তবে চলুন, বিয়ে করি! তখন কি আর সমাজের কারো কিছু বলার সাহস থাকবে?"

মেহনাজ এবার এক চিলতে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল। চোখের জল মুছে রুক্ষ স্বরে বলল, "আপনাকে আমি বিয়ে করব? কী করেন আপনি? নিজের একটা পরিচয় আছে? বাপের টাকায় খান, আবার বউকেও কি বাপের টাকায় খাওয়াবেন? আগে নিজে কিছু করুন, নিজের পায়ে দাঁড়ান, তারপর আমার সামনে কথা বলতে আসবেন। আর যদি কোনোদিন সত্যিই মানুষ হতে পারেন, তবেই আমার পথ আগলাবেন। তার আগে নয়।"

মেহনাজ আর এক মুহূর্ত অপেক্ষা করল না।দ্রুতপায়ে নিজের গন্তব্যে মিলিয়ে গেল। রুশম সেই নিস্তব্ধ রাস্তায় মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইল। তার কানে তখনো বাজছে মেহনাজের সেই শেষ কথাগুলো—"আগে নিজে কিছু করুন।" রুশমের জীবনের চেনা ছন্দটা যেন আজ এক নিমিষেই ওলটপালট হয়ে গেল।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন