#মৃগতৃষ্ণা----২১ (কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ 🚫)
#লেখিকা-মেহরুমা নূর
★বাড়ির এই গুমোট ভাবটা আর ভালো লাগছে না পঙ্খির। সে রান্না ঘরের উদ্দেশ্যে গেল। দুদিন ধরে কেউ ঠিকমতো খাওয়া দাওয়াই করছে না। তাই কিছু রান্না বান্না করতে চাইলো সে।ইন্ধনও এখন বাসায় নেই। ওর ইলেকশনের কাজে বাইরে গেছে। তাই এটাই ভালো সুযোগ। রান্না ঘরে এসে দেখলো চুমকি বেসিনে থালাবাসন মাজছে। চুমকিকে দেখে তখনকার কথা মনে হলো পঙ্খির। তখনকার থেকেই কেমন যেন চুপচাপ আছে ও। অন্যসময় তো বকবক করতে থাকে। আজ কি হলো? ও কি কিছু জানে নাঈমের ব্যাপারে? প্রশ্নে টা মনে আসতেই চুমকির কাছে এগিয়ে গিয়ে বললো।
--কি করছিস চুমকি?
--এইতো ভাবি থালবাটি মাইজত্যাছি। আপনের কুনু কাম আছিল?
--হ্যাঁ কাজ তো ছিলো। আচ্ছা বলতো, তুই কি কিছু জানিস নাঈমের খু,নের ব্যাপারে?
পঙ্খির কথা শুনে চুমকির হাত থেকে প্লেট পড়ে গেল। হড়বড়িয়ে গেল কেমন যেন। আমতাআমতা করে বললো।
--কি কি কইতাছেন ভাবি? আমি কেবো হইরা জানমু? কি যে কন্না ভাবি?
চুমকির কথায় আস্বস্ত হলোনা পঙ্খি।বরং তার সন্দেহ আরও বেড়ে গেল। সে চুমকির হাত ধরে নিজের রুমে নিয়ে এলো। রুমের দরজা আটকে দিয়ে চুমকিকে নিয়ে এসে বিছানায় বসালো পঙ্খি। তারপর বলে উঠলো।
--দেখ চুমকি কিছু জেনে থাকলে ভালোই ভালোই বলে দে। নাহলে কিন্তু পুলিশকে বলে দিলে জেলে ঢুকিয়ে দেবে। তারপর দেখিস কি হয়।
ভয়ে কাঁপতে লাগলে চুমকি। হাত জোর করে কাঁদো কাঁদো গলায় বললো।
--না না ভাবি এবা কইরেন না। আপনের পায়ে পড়ি পুলিশরে কিছু কয়েন না। আমি জেলে যাইব্যার চাইনা।
--আচ্ছা বলবোনা। তবে তোরও বলতে হবে কি জানিস তুই।
--ঠিক আছে ভাবি কইত্যাছি। আসলে হেইদিন কলিম শহরে গেছিলো কুনু কামে। আর আমার হওড়িও(শাশুড়িও) তার ভাইয়ের বাড়ি গেছিলো। বাড়িতে একলা একলা আমার ভয় লাইগত্যাছিলো। হেইজন্যি আমি হেদিন রাইতে এই বাড়িতিই থাকছিলাম। আমার আবার মাঝে মইদ্যে রাইতে খিদা লাগে। হেদিনও খিদা লাগছিলো তাই আন্দুনঘরে (রান্নাঘরে) গেছিলাম কিছু খাইবার। তহনই দেহি নাঈম ভাইজান সিঁড়ি বাইয়া তিন তলার দিকে উঠাতাছিলো। আমি পয়লা ভাবলাম হয়তো হে ছাঁদে যাইতাছে। আমার এল্লা চিন্তা ওইলো। তাই আমি তাঁর পিছে গেলাম। আর যাইতেই দেখলাম নাঈম ভাই তিনতলার ওই বন্ধ থাহা ভুত আলা ঘরে ঢুকলো। ওইতা দেহেই আমার ভয়ে হাত আত্মা উড়ে গেল। আমি তহনই দৌড় দিয়া ঘরে চইলা গেছি। তারপর আর কিছু জানি না আমি। বেয়না(সকালে) যহন নাঈমের ভাইয়ের মরা লা,শ দেইখলাম তহন ভয় পাইয়া গেছিলাম আমি। তাই ভয়ে কাওরে কিছু কইনাই আমি।
--কিন্তু শাকিল ভাই যখন জিজ্ঞেস করলো কেউ কিছু জানেন নাকি তখন বললি না কেন এই কথা?
--ভয় পাইয়া গেছিলাম ভাবি। পড়ে যদি আমারেই খু,নি ভাইবা ধইরা নিয়া যায়। ভাবি কসম লাগে আমি যে এইডা দেখছি এই কথা আপনি কাওরে কইবেন না। আপনের পায়ে পড়ি ভাবি। আমরা গরীব মানুষ। কাম কইরা খাই। এইসব কেস কাহিনির মধ্যে পইড়বার চাইনা।
চুমকি কাঁদতে কাঁদতে পঙ্খির পা জড়িয়ে ধরলো। পঙ্খি চুমকির হাত ধরে বললো।
--আরে আরে কি করছিস এসব? আচ্ছা ঠিক আছে আমি বলবো না কাউকে কিছু। তুই কান্না বন্ধ কর। যা গিয়ে তোর কাজ কর।
চুমকি মাথা ঝাকিয়ে চলে যেতে নিয়ে আবার ফিরে এসে পঙ্খিকে বললো।
--ভাবি একখান কথা কমু?
--হ্যাঁ বল।
--ভাবি আমার মনে হয় ওই বন্ধ ঘরের ভুতই নাঈম ভাইজানরে মারছে।
কথাটা বলেই চুমকি চলে গেল। চুমকির কথা হাস্যকর শোনালেও কিছু একটা তো রহস্য আছেই।ছোটবেলায় ওসব ভুতের কথায় বিশ্বাস করে ভয় পেলেও, পড়াশোনার বদৌলতে এতটুকু জ্ঞান তো হয়েছে যে, ভুত টুত বলতে কিছুই নেই দুনিয়ায়। তাহলে কি আছে ওই বন্ধ ঘরে? আর নাঈমই বা এতরাতে ওখানে কেন গিয়েছিল? ওই ঘরে কি কেউ আছে? সেই কি মেরেছে নাঈম কে? এতো প্রশ্নের ধূম্রজাল। কিন্তু উত্তর কোথায় পাবো। নাঈমের হ,ত্যার রহস্য তো উদঘাটন করতেই হবে। আমার উপর যে মিথ্যে আরোপ লাগিয়েছে দাদি। সেটা যে ভুল প্রমান করতে হবে। নাহলে আজ দাদি বলেছে। কাল হয়তো অন্য কেউ বলবে। একমাত্র আসল খু,নিকে খুঁজে বের করে আনলেই আমার ওপর আঙুল ওঠা বন্ধ হবে। আর সন্দেহকারীর মুখও বন্ধ হবে।
__
খাবার টেবিলে খাবার বাড়ছে পঙ্খি। তবে এখনো খেতে আসেনি কেউ। বাড়ির এমন এ অবস্থা কিভাবে ঠিক হবে সেটায় ভাবছে সে। একটু পরে রাবেয়া এলো ওখানে। পঙ্খির দিকে তাকিয়ে বললো।
--কি ব্যাপার কেউ খেতে আসেনি?
পঙ্খি মলিন সুরে বললো।
--না মা কেউতো এলোনা। এভাবে কতোদিন চলবে? আম্মা তো আজ দুদিন হলো কিচ্ছু মুখে দেয়নি। কিছু না খেলে উনাকেই তো বাঁচানো যাবে না।
রাবেয়া দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন।
--হুম সেটাতো জানি। কিন্তু কি করবো? চেষ্টা তো কম করলাম না। মায়ের শোক যে বড়ো শোক। এত সহজে কমার নয়। এই ব্যাথা আমিও জানি।
পঙ্খি বুঝতে পারলো রাবেয়া নিশ্চয় তাঁর মেয়ে ঈশিতার কথা স্মরণ করছে। উনার মাঝে এতবড় কষ্ট কিভাবে চেপে থাকেন উনি? সন্তান বেঁচে থেকেও তাঁর জন্য মৃ,ত হয়ে গেছে। কিভাবে সহ্য করেন উনি? কি সুন্দর সবার সামনে হাসিমুখে থাকেন।
--আচ্ছা ইন্ধন কোথায়?
রাবেয়ার কথায় ধ্যান এলো পঙ্খির। সে বললো।
--না ফেরেননি। বলেছিলো তো নয়টার আগেই চলে আসবে।
--ও তাহলে হয়তো আসছে। আচ্ছা আমি ভাবির খাবার নিয়ে যাচ্ছি। দেখি বলে কয়ে কিছু খাওয়ান যায় নাকি। তুমি বাকিদের ডেকে খেতে দাও।
--ঠিক আছে মা।
পঙ্খি সবাইকে ডাকলো খাওয়ার জন্য। এক এক করে আসলো সবাই খেতে। ততক্ষণে ইন্ধনও এসে পড়েছে। পঙ্খি ইন্ধনকে ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে আসতে বললো। ইন্ধনও সায় জানিয়ে রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে এলো। খাবার টেবিলে খেতে খেতে জুবায়েদ ইন্ধনের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো।
--কোথায় ছিলি ইন্ধন? মিটিং তো অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল।
ইন্ধন বললো।
--হ্যাঁ বাজারে শাকিলের সাথে দেখা হয়ে গিয়েছিল। তাই ওর সাথে কেসের কোন আপডেট আছে নাকি তাই নিয়ে কথা বলছিলাম। তাই দেরি হয়ে গেছে।
জুবায়েদ খোঁচা মেরে বললো।
--কি ব্যাপার কেস নিয়ে মনে হয় একটু বেশিই টেনশন করছিস? কোন কিছু নিয়ে ভয় পাচ্ছিস নাকি?
জুবায়েদের কথায় ইন্ধন ভ্রু কুঁচকে তাকালো ওর দিকে। বাকিরাও খাওয়া বন্ধ করে ওর দিকে তাকালো। জুবায়েদ তখন হেঁসে উঠে বললো।
--আরে ভাই মজা করছিলাম। এতো সিরিয়াস হচ্ছিস কেন?
ইন্ধন কিছু বলতে গিয়েও আর বললো না। তবে জুবায়েদের এমন কথা পঙ্খির পছন্দ হলো না। এটা আবার কেমন ধরনের ইয়ার্কি?
জুবায়েদ মনে মনে সয়তানি হাসলো। সে যা করতে চেয়েছিল তা কাজে লাগছে। সবার মনে কিছুটা হলেও ইন্ধনের প্রতি সন্দেহ ঢুকেছে।
খাবার শেষে রুমে এসেই পঙ্খির কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে পড়লো ইন্ধন। পঙ্খিকে বললো
--মাথাটা মাসাজ করে দাওনা একটু। অনেক মাথাব্যথা করছে।
পঙ্খি মুচকি হেসে ইন্ধনের চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো।
--মাথায় মেয়ে মানুষের মতো এতো লম্বা লম্বা চুলের বাহার রাখলে তো মাথাব্যাথা করবেই। চুল কেটে ছোট কেন করেন না?
--খবরদার আমার চুল কাঁটার কথা মুখেও আনবেনা। আরে এমন চুলের জন্য মানুষ কতো তপস্যা করে। আর তুমি বলছ কেটে ফেলতে? ইটস কল্ড স্টাইল।
পঙ্খি বিড়বিড় করে বললো।
--স্টাইল না ঘোড়ারডিম। আমাদের পাড়ার মফিজ পাগলেরও এরচেয়ে বড়ো বড়ো চুল আছে। তাহলে কি তারটাও স্টাইল?
--কি বললে?
--কিছু না।
কিছুক্ষণ পর ইন্ধন চোখ বুজে থেকেই বললো।
--বাহ্ তোমার হাতে তো যাদু আছে। মাথা ব্যাথা একেবারে গায়েব হয়ে গেছে।
পঙ্খি মনে মনে ভাবলো এটাই সঠিক সময়। ও যে কথাটা বলতে চায় এখুনি বললে ভালো হবে। ভাবনা মোতাবেক পঙ্খি বলে উঠলো।
--আচ্ছা কথা জিজ্ঞেস করবো আপনাকে?
--দুটো জিজ্ঞেস করো।
--বলছিলাম যে, আপনি কি তিনতলার ওই বন্ধ রুম সম্পর্কে কিছু জানেন?
ইন্ধন এবার ঠাস করে নেত্রপল্লব মেলে তাকালো। এক ঝটকায় উঠে বসে বললো।
--হঠাৎ এই কথা কোথাথেকে আসলো?
--হঠাৎ না। অনেক আগে থেকেই ওই রুমের কথা আমার মাথায় ঘুরছিলো। কিন্তু ভয় আর দ্বিধায় কাউকে জিজ্ঞেস করতে পারিনি। বলুন না আপনি কি কিছু জানেন? কি আছে ওই ঘরে?
--দেখ ওই ঘরে কি আছে না আছে সেটা নিয়ে তোমার মাথা ঘামানোর দরকার নেই। এসব খুঁটতে যেওনা তুমি। ওসব থেকে যেতো দূরে থাকো ততই ভালো।
--তারমানে আপনি জানেন ওখানে কি আছে? প্লিজ বলুন না আমাকে। দেখুন যে যতোই বলুক ওখানে ভুত আছে। তবে আমার তা মনে হয় না। আমার মনে হয় ওই ঘরে কেউ আছে। কারণ আমি কয়েক বার কারোর কান্নার আওয়াজ শুনেছি। আসল কথা না জানা পর্যন্ত আমার শান্তি হবে না। দয়া করে বলুন আমাকে কি জানেন আপনি?
ইন্ধন ফোঁৎ করে একটা নিঃশ্বাস ছেড়ে বললো।
--হ্যাঁ জানি। আমি যেদিন বিদেশ থেকে এসেছিলাম সেইদিনই আমার ওই বন্ধ রুম দেখে সন্দেহ হয়েছিল।কারণ আমি বিদেশ যাওয়ার আগে ওই রুম সাধারণ রুমের মতোই ছিলো। আর ওই রুম থেকে আওয়াজ আমিও শুনতে পেয়েছিলাম।আমি মাকে এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে বললো,"সে কিছু জানেনা। ওই ঘর নাকি চাচা বন্ধ করিয়েছে।বলেছিল ওই রুমে নাকি অশুভ ছায়া আছে। যা উনি তন্ত্রমন্ত্র দ্বারা ওই ঘরে আটকে রেখেছে। আর সবাইকে ওই দিকে যেতে মানা করেছে। সেইজন্য কেউ আর ওইদিকে যায়না।" তখন আমার আরও সন্দেহ বাড়লো।কারণ এইসব ভুতটুত সব মিথ্যে কথা। আমি বুঝতে পারলাম এই বিষয়ে শুধু চাচার কাছ থেকেই জানা যাবে। তাই আমি চাচাকে জিজ্ঞেস করলাম ওই ঘরে কি বা কে আছে। চাচা শুধু আমাকে জানালো, "ওই ঘরে যা আছে তা আটকা থাকলেই এই বংশের মর্যাদা অটুট থাকবে। নাহলে বংশের মর্যাদা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। তাই ওই ঘর বন্ধ থাকাই সবার জন্য ভালো। আর কেউ ওই ঘর খোলার চেষ্টা করবেনা। আর না এই বিষয়ে জানার চেষ্টা করবে"। বাচ এতটুকুই বলেছিল। আমিও তাই আর এই বিষয়ে ঘাটিনি। চাইলে আমি ওই ঘর খুলে সব দেখতে পারতাম। তবে এতে চাচার অসম্মান হবে। আর সবচেয়ে বড়ো কথা তখন বাবা মায়ের সাথে এই নিয়ে অনেক রাগারাগি করবে। যা আমি সহ্য করতে পারবোনা। বাড়িতে তখন বিশাল বড়ো আকারে ক্লেশ শুরু হয়ে যাবে। এসবের মাঝে মা সবচেয়ে বেশি সাফার করবে। তাই আমি আর ওই বিষয়ে ঘাটিনি।
সব শুনে পঙ্খি আরও ভাবনায় পড়ে গেল। এখন তো ওর ধূম্রজাল আরও বেড়ে গেল। কি এমন আসে ওই ঘরে? যার জন্য বংশের মর্যাদা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে? ইন্ধন পঙ্খির দুই হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বললো।
--দেখ পঙ্খি তুমি প্লিজ এসবের মাঝে পড়োনা। এই বাড়িটা একটা রহস্যপুরী। এসব ঘাটতে গেলে তুমি নিজেই এর গহ্বরে তলিয়ে যাবে। আর তোমাকে আমি কিছুতেই হারাতে পারবোনা। আমাকেও এরা কোন এক কারণে জোর করে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল। যে কারণ আজপর্যন্ত আমি জানতে পারিনি। এখন আমি চেষ্টা করাও ছেড়ে দিয়েছি। অনেক কিছু সন্দেহজনক হলেও তা আনদেখা করে দেই। সত্যি বলতে আমার এবাড়িতে থাকার মোটেও ইচ্ছে হয়না। তবে শুধু মায়ের জন্য যেতে পারিনা। মা শুধু আমার জন্যই বেঁচে আছে। এক সন্তানকে তো হারিয়েছে। এখন আমিও যদি উনার কাছে না থাকি তাহলে মা বাঁচবে কিভাবে? আর মা তাঁর সংসার ছেড়ে আমার সাথে চলে যেতেও কখনো রাজি হবে না। তাই মাকে ছেড়ে আমিও যেতে পারি না। মা আর তুমিই তো আমার সব।
পঙ্খি আবেগপ্রবণ হয়ে ইন্ধন কে জড়িয়ে ধরে বললো।
--আপনার সন্তান পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। আর আপনার মতো স্বামী পাওয়া তো আমার জন্য সাত জনমের তপস্যার ফলের চেয়েও বেশি কিছু পাওয়া।
ইন্ধন মুচকি হেঁসে বললো।
--হ্যাঁ সেটাতো অবশ্যই। আমার মতো হাসব্যান্ড তো গুগলে সার্চ দিলেও পাওয়া যাবে না।
হেঁসে দিল পঙ্খি। তবে মনে মনে চিন্তাও হচ্ছে তাঁর। ইন্ধন তো ওকে মানা করলো এসব ঘাটতে। কিন্তু ও যে খু,নিকে খোঁজার পণ করেছে সেটাতো আর বলতে পারছেনা ইন্ধন কে। তাই এখন থেকে যা করার নিজেই করতে হবে।
--আচ্ছা তোমার এই মহান স্বামীকে কি এক কাপ কফি খাওয়ানো যাবে রাণী সাহেবা?
পঙ্খি মুচকি হেঁসে বললো।
--জ্বি মহারাজ এখুনি আনছি।
পঙ্খি হাসিমুখে উঠে বাইরে গেল কফি বানাতে। করিডরে আসতেই কারোর কান্নার আওয়াজ ভেসে এলো। আওয়াজ নাঈমের ঘর থেকে আসছে। পঙ্খি বুঝতে পারলো এটা নিশ্চয় জাহানারার কান্নার আওয়াজ। পঙ্খি চিন্তিত হয়ে সেদিকে এগিয়ে গেল। নাঈমের ঘরের দরজায় এসে দেখলো জাহানারা নাঈমের বিছানা হাতড়াচ্ছে আর কাঁদছে । জাহানারাকে এভাবে দেখে পঙ্খির মনটাও কেমন কেঁদে উঠলো। সে এগিয়ে গেল তাঁর কাছে। মাথায় হাত বুলিয়ে শান্তনা দিয়ে বললো।
--বাচ করেন আম্মা আর কতো কাঁদবেন? এতে যে আপনার ছেলের আত্মা আরও কষ্ট পাবে। আপনি কি চান সে কষ্ট পাক? কবরে আজাব পাক?
জাহানারা এবার পঙ্খিকে জাপ্টে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বললো।
--দুনিয়াতেই তো এতো আজাব পাইলো আমার ছেলেটা। ও কেন ফিরে এলো? ও ফিরে না আসলেই তো ভালো থাকতো। এখানে এসেই মরতে হলো ওকে। আমার ছওয়াল ডা কতো কষ্ট পাইয়া মরলো।
জাহানারার আহাজারি শুনে পঙ্খির চোখেও পানি চলে এলো। সে জাহানারার মাথায় হাত বুলিয়ে তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করলো। অনেকসময় পর একটু শান্ত হলেন তিনি। তখনই ছায়া ওখানে এলো। পঙ্খি ছায়াকে বললো জাহানারাকে তাঁর রুমে নিয়ে যেতে। ছায়া মাথা ঝাকিয়ে জাহানারাকে ধরে নিয়ে গেল বাইরে। পঙ্খিও দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে উঠতে নিলেই কিছু একটা তাঁর চোখে পড়লো। জিনিস টা দরজার পর্দার সাথে আঁটকে আছে। পঙ্খি ভ্রু কুঁচকে সেদিকে এগিয়ে গিয়ে জিনিস টা ছাড়িয়ে হাতে নিলো। কিছুক্ষণ অবলোকন করতেই সে জিনিস টা চিনে গেল। আর চিনতে পেরেই চমকে উঠলো সে। এটা এখানে কি করে এলো? তবে কি উনিই এসব করেছে? ভাবনাগুলো মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগলো পঙ্খির।
রাত ১২ টা। শুনশান নীরব সারাবাড়ি। কালো আধারের মাঝে, কালো চাদরে মুড়ে কেউ একজন মৃদু পায়ে চোরের মতো হেঁটে আসছে। চাদরের নিচ দিয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখছে কেউ আছে না। পা টিপে টিপে সেই ব্যাক্তি নাঈমের ঘরের দিকে এলো। মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে মেঝেতে কিছু একটা হন্যে হয়ে খুঁজছে সে। তখনই পেছন থেকে আওয়াজ এলো।
--এটা খুঁজছেন ভাবি?
আওয়াজ শুনে পিলে চমকে উঠলো কনিকার। সে ভয়ার্ত চোখে ফিছে ফিরে তাকালো। পেছনে পঙ্খি দাঁড়িয়ে ছিলো। তাঁর হাতে থাকা কানের টপ দেখিয়ে বললো।
--এটাই খুঁজছিলেন না ভাবি?
ভয়ে জমে গেছে কনিকা। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো।
--তু তুতুমি এখানে??
--হ্যাঁ আমি। কারণ আমি জানতাম আপনি আপনার এই দুল খুঁজতে অবশ্যই আসবেন। তাই আমি আপনার অপেক্ষা করছিলাম। তো বলুন এটা এখানে কি করে এলো? তাহলে কি আপনিই মেরেছেন নাঈম কে?
চলবে....
(গল্প এখন থেকে দুই পর্ব পরপর একদিন করে গ্যাপ যাবে। রোজ রোজ বলে দেওয়া সম্ভব না। তাই আগেই বলে দিলাম।
রিচেক করিনি। ভুল ত্রুটি মার্জন করবেন)
গল্পের লেটেস্ট আপডেট পেতে আর গল্প নিয়ে যেকোনো আলোচনা আড্ডা দিতে আমার গ্রুপে জয়েন হওয়ার আমন্ত্রণ রইল। নিচে গ্রুপ লিংক দেওয়া হলো। জয়েন হতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন। 👇
গ্রুপ
https://facebook.com/groups/170529085281953/