ফন্ট সাইজ:
থিম:
মৃগতৃষ্ণা

২১তম পর্ব

লেখক: মেহরুমা নূর

#মৃগতৃষ্ণা----২২ (কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ 🚫)

#লেখিকা-মেহরুমা নূর

★বলুন ভাবি আপনি মেরেছেন নাঈম কে?

--না না পঙ্খি তুমি ভুল বুজছ আমাকে। আমি কাউকে মারিনি।

--তাহলে আপনার দুল এখানে কি করে এলো? আর এটা নেওয়ার জন্য আপনি এমন চোরের মতো কেন এসেছেন? ঘটনা কি ভাবি? সত্যি সত্যি বলুন কি হয়েছে? নাহলে কিন্তু আমি সবাইকে ডাকবো।

কনিকা ভয়ার্ত কন্ঠে আকুতি মিনুতি করে বললো।

--না না পঙ্খি এমন করোনা। তোমার সামনে হাত জোর করছি আমি কাউকে কিছু বলোনা।

--ঠিক আছে তাহলে সত্যি টা বলুন আমাকে।

--বলছি। আগে এখান থেকে চলো। কেউ দেখে ফেলবে। ছাঁদে চলো সব বলছি।

কনিকা পঙ্খিকে নিয়ে ছাঁদে এলো। ছাঁদে এসে পঙ্খি বললো।

--এখন বলুন।

কনিকা একটু দম নিয়ে বলা শুরু করলো।

--আসলে পরশুদিন রাতে আমি কোন কাজে বাইরে গিয়েছিলাম। বাইরে থেকে যখন ফিরি তখন দেখতে পাই নাঈম তিনতলা থেকে নামছে। আর আমিও সিড়ি বেয়ে উঠি। দুজন মুখোমুখি হয়ে যাই। দুজনেই অনেক টা ঘাবড়ে যাই। তখন আমিই প্রথমে বলে উঠি, "নাঈম তুমি এতোরাতে তিনতলায় কেন গিয়েছিলে? বাবা সবাইকে ওখানে যেতে মানা করেছে।" তখন নাঈম উল্টো আমাকে বললো, "তার আগে আপনি আমাকে বলুন আপনি এতরাতে কোথায় গিয়েছিলেন" নাঈমের প্রশ্নে আমি অপ্রস্তুত হয়ে পড়ি। কি বলবো বুঝতে পারিনা। নাঈম আবার বলে, "কি হলো বলুন কোথায় গিয়েছিলেন আপনি? আর জুবায়েদ ভাই জানে আপনি বাইরে গিয়েছিলেন? দাঁড়ান আমি এখুনি বলছি ভাইকে" কথাটা বলে নাঈম জুবায়েদ কে ডাকার জন্য উদ্যত হয়। আমি প্রচুর ভয় পেয়ে যাই তখন। ঘাবড়ে গিয়ে নাঈমের হাত ধরে ওকে টেনে ওর নিয়ে আসি। তারপর ওর সামনে হাত জোর করে আকুতি মিনতি করে বলি। তখন নাঈম বললো "ঠিক আছে বলবোনা। তবে আপনিও কাওকে আমার তিনতলায় যাওয়ার কথা বলবেন না।" আমি নাঈমের কথায় রাজি হয়ে যাই। তারপরই ওখান থেকে চলে আসি আমি। কিন্তু ওইসময়ই হয়তো আমার কানের এখানে পড়ে যায়। আজ সকালে সেটা খেয়াল করি আমি। ওটা পুলিশের হাতে যাওয়ার ভয়ে সেটা খোঁজার জন্যই এসেছিলাম আমি। বাচ এতটুকুই। আর কিছু না সত্যি বলছি।

--ঠিক আছে মানলাম। কিন্তু আপনি সত্যিই এতরাতে কোথায় গিয়েছিলেন? কি লুকাচ্ছেন আপনি?

--সেটা আমি এখন বলতে পারবোনা পঙ্খি। শুধু এতটুকু বলবো আমি কোন খারাপ কিছু করছিলাম না। প্লিজ আমার ওপর ভরসা কর। সময় হলে তোমাকে আমি সব খুলে বলবো।দয়া করে এখন তুমি কাওকে কিছু বলো না।

--কিন্তু ভাবি পুলিশকে তো এসব ইনফরমেশন দিতে হবে। তাহলে হয়তো উনাদের কেস সল্ভ করতে সুবিধা হবে।

--না না পঙ্খি পুলিশকে বললে তখন একথা জানাজানি হয়ে যাবে। আমার জীবনে ঝড় শুরু হয়ে যাবে তখন। তোমার পায়ে পড়ি তুমি কাউকে কিছু বলো না দয়া করে ।

--আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে বলবো না। আপনি চিন্তা করেন না। আচ্ছা একটা কথা বলুন তো, আপনার সাথে যখন নাঈমের দেখা হয়েছিল তখন কয়টা বাজে?

--এইতো রাত একটা বা তার একটু বেশি হবে।

পঙ্খি ভাবতে লাগলো, তখন চুমকি বললো ও যখন নাঈমকে তিনতলায় যেতে দেখে তখন বারোটার আশেপাশে হবে। আর কনিকা ভাবির কথা অনুযায়ী নাঈম একটার পর তিনতলা থেকে নেমে আসে। তারমানে তিনতলার ওই বন্ধ রুমে ওকে কেউ কিছু করেনি। ও ওখান থেকে ঠিকঠাক চলে এসেছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী খু,ন দুইটা থেকে তিনটার মাঝে হয়েছে। তারমানে তিনতলা থেকে আসার পরে কেউ ওকে মেরেছে। কিন্তু কে?

___

এরমাঝে আরও চারদিন পার হয়ে গেছে। সবকিছু একটু একটু স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। নাঈমের শোক কিছুটা কেটে উঠেছে সবাই। যদিও জাহানারার শোক কোনদিন কমার নয়। তবে আগের থেকে একটু স্বাভাবিক হয়েছে সে। কথায়ই আছে "সময় সব জখমের মলম দিয়ে দেয়।" তবে নাঈমের মার্ডা,রের ইনভেস্টিগেট এখনো জারি আছে।

রান্নাঘরে কাজ করতে নিয়ে শান্তি পাচ্ছে না পঙ্খি। পাবে কিভাবে? রান্না ঘরে আসাথেকেই বারবার ইন্ধন রুম থেকে ডেকেই যাচ্ছে ওকে। তাও অযথা। প্রতিবারই অযথা কাজের জন্য ওকে ডাকে। কখনো তাঁর মানিব্যাগ পায়না, কখনো ঘড়ি পায়না তো কখনো তাঁর চশমা পায়না। অথচ সবকিছুই ড্রেসিং টেবিলের সামনে সুন্দর করে গুছিয়ে রেখে এসেছে সে। তবুও শুধু শুধু পঙ্খিকে ডেকে বিরক্ত করছে ইন্ধন। এদিকে রান্নাঘরে শাশুড়ির সামনে লজ্জায় পড়তে হচ্ছে ওকে। চুমকি তো দাঁত কেলিয়ে বলেই দিলো,

--ভাবি ভাইজানের মনে হয় আপনেরে ছাড়া ভাল্লাগে না। হেইজুন্যি তো বারবার ড্যাকতাছে আপনেক হি হি।

শাশুড়ী রাবেয়ার সামনে চরম লজ্জায় পড়ে গেল পঙ্খি। ইন্ধনের ওপর রাগ হচ্ছে তার। সেই রাগে চুমকিকে এক রাম ধমক মেরে দিলো সে। তবে চুমিকির ওপর ধমকের কোনো প্রভাব পড়লো বলে মনে হলো না। বরং সে আরও লাজুক হেঁসে বললো,

--আরে লজ্জার কি আছে ভাবি? জামাই রা তো এমন হরবোই। আমার কলিমও এরাম হরে। আমাক এল্লাও ছাইড়বার চায়না। খালি আঁচল টাইনা ধরে।

পঙ্খির মন চাচ্ছে এই চুমকির মুখে সুপার গ্লু আঠা লাগিয়ে দিতে। বলদি একটা। ওইদিকে ইন্ধন আবারও গলা ফাটিয়ে ডেকে যাচ্ছে পঙ্খিকে। মেজাজ বিগড়ে যাচ্ছে পঙ্খির। রাবেয়া তখন বললো।

--পঙ্খি তুমি যাও দেখো গেদা কি কয়। রান্না আমি দেখছি।

পঙ্খি সবজি কাটছিলো। রাগের মাথায় সে হাতের চাকুটা রেখে যাওয়াও ভুলে গেল। চাকু হাতে নিয়েই ধুপধাপ করে নিজের রুমে গেল সে। ইন্ধন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে এখনো মনের আনন্দে পঙ্খিকে ডেকেই যাচ্ছে। পঙ্খি দাঁতে দাঁত চেপে ইন্ধনের দিকে তেড়ে আসলো। চাকু ওয়লা হাতটা ইন্ধনের সামনে ধরে তেজি সুরে বলতে লাগলো।

--কি? কি? কি হয়েছে হ্যাঁ? সমস্যা কি আপনার হ্যাঁ? এভাবে ষাঁড়ের মতো চিল্লাচ্ছেন কেন? কতোবার ডাকবেন? আর কি লাগবে আপনার? সবতো আপনার চোখের সামনে দিয়ে গেছি।তাও এমন গলা ফাটাচ্ছেন কেন? নিচে মায়ের সামনে আমাকে কতো লজ্জায় পড়তে হয়েছে আমাকে জানেন? আপনি কি ছোট বাচ্চা? এতো জালাচ্ছেন কেন হ্যাঁ?

পঙ্খিকে এভাবে চাকু নিয়ে তেড়ে আসতে ইন্ধন এমনিতেই ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায়। তারওপর পঙ্খির এমন মুখের ওপর চাকু ঘুরানো দেখে ইন্ধন বেচারা ভয়ে পেছনে ড্রেসিং টেবিলের সাথে চেপে গেল। পেছন দিকে মাথা হেলিয়ে নিয়ে ভীতু স্বরে বললো।

--আরে আরে কি করছ? এই সামান্য ব্যাপারে এতো রাগের কি আছে যে,একেবারে মা,র্ডার করতে চলে এসেছ? তোমাকে তো সহজসরল মেয়ে ভেবেছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি কথায় কথায় স্বামীকে খু,ন করে ফেলবে৷ আমার তো এখন ভয় লাগছে। নাজানি কবে খবরের কাগজের শিরোনাম হয়ে যাই। আজকের তাজা খবর, "জালিম বউয়ের হাতে অবলা স্বামী খু,ন"।লোক সকালের চায়ের সাথে এই তরতাজা খবর পড়বে। ভাবতেই আত্মার পানি শুঁকিয়ে আসছে।এই স্বাধীন গনতান্ত্রিক দেশে একজন স্বামী আজ এতো অত্যাচারীত আর অসুরক্ষিত কেন? এ কেমন বিচার?

ইন্ধনের কথায় পঙ্খি কপাল কুঁচকে ফেললো। তারপর ওর হাতের দিকে লক্ষ্য করলে বুঝতে পারলো ইন্ধন কেন এসব বলছে। চাকু ওর হাতে ছিলো এটা তো সে খেয়ালই করেনি। তবে ইন্ধনকে এভাবে ভয় পেতে দেখে মজাই লাগছে পঙ্খির। মনে মনে ভাবলো আরেকটু মজা নেওয়া যাক। পঙ্খি মিথ্যে রাগের ভঙ্গিতে বললো।

--হ্যাঁ ঠিকই বলেছেন? আপনি আসলে জানেনই এই পঙ্খি কতো ভয়ংকর। আমাদের আশেপাশের গ্রামে যখন কারও বাচ্চা রাতে কাঁদত তখন মায়েরা বলতো,কাঁদিস না নাহলে পঙ্খি চলে আসবে। ব্যাস, সাথে সাথে বাচ্চা কান্না বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়তো। ভাবেন কতো ত্রাস আমার। তাই জানের ভয় থাকলে আমাকে বিরক্ত করবেন না। আমার মাথা গরম হয়ে গেলে আপনার কি অবস্থা করবো তা আমি নিজেও জানি না। তাই সবসময় ভদ্রলোকের মতো শান্তশিষ্ট হয়ে থাকবেন বুঝতে পেরেছেন? এখন চুপচাপ লক্ষী ছেলের মতো তৈরি হয়ে খেতে আসুন।

কথাগুলো বলে পঙ্খি উল্টো ঘুরে দাঁড়াল। ঠোঁট টিপে হাসছে সে। আজতো ভীষণ মজা লাগছে উনাকে ভয় দেখিয়ে। হাসিমুখে যেতে নিলেই আটকা পড়ে গেল। ইন্ধন পেছন থেকে পঙ্খির হাত ধরে ফেললো। এক টান দিয়ে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো পঙ্খিকে। পঙ্খির পিঠ গিয়ে ঠেকলো ইন্ধনের বুকে। ইন্ধন পেছন থেকে পঙ্খির পেট জড়িয়ে ধরলো। পঙ্খির কানের কাছে মুখ নিয়ে ধীর কন্ঠে বললো।

--আচ্ছা তাই? তা মৃ,ত ব্যাক্তিকে আর কতবার মারবে শুনি? তোমাতে মরণ তো সেই কবেই হয়ে গেছে। এখন তো আমাতে আমি বলতে কিছুই নেই। আর চাকুই বা চালাবে কোথায়? তোমার নামে চলতে থাকা এই হৃৎস্পন্দনে? নাকি তোমার বসতবাড়ি করা এই বুকে? সবখানেই তো তোমার কবজা। তাহলে চাকু চালাবে কোথা? তবুও তুমি চাইলে হাজার বার তোমার হাতে মরতে পারি।

ইন্ধনের শেষের কথায় পঙ্খি চমকে তাকালো ইন্ধনের পানে। মুহূর্তের ব্যবধানে চোখে জমে গেল পানির ভীড়। কান্না জড়িত কন্ঠে বললো।

--কি বলছেন এসব আপনি? আমিতো শুধু মজা করছিলাম।

ইন্ধন মুচকি হেঁসে বললো।

--কিন্তু আমি মোটেও মজা করিনি। তোমার হাতে মরতে পারাও আমার জন্য সৌভাগ্যের বিষয় তা জানো তুমি?

পঙ্খি হালকা ফোঁপাল। ইন্ধন কে ছাড়িয়ে চলে যেতে লাগলো সে। ইন্ধন বুঝতে পারলো বউ তাঁর রাগ করেছে। হয়তো ওর কথায় খারাপ লেগেছে। ইন্ধন দৌড়ে এসে পঙ্খিকে আবারও পেছন থেকে জড়িয়ে নিলো। পঙ্খি ইন্ধনের বাঁধন থেকে নিজেকে ছাড়াতে লাগলো। কান্না গলায় চেপে বললো।

--ছাড়ুন আমাকে। কাজ আছে আমার।

ইন্ধন আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো।

--আচ্ছা সরি সরি ভুল হয়ে গেছে আমার। আর কখনো এমন কথা বলবোনা। মাফ করে দাওনা বউ।

--সরি বলার কি আছে ? ছাড়ুন, আমার সত্যিই কাজ আছে।

--সরি তো। এখন কি কান ধরে উঠবস করবো? আচ্ছা তুমি বললে তাও করবো। শুধু বাইরে কাউকে যেন বলোনা হ্যাঁ? নাহলে প্রেজটিজ পানচার হয়ে যা...

ইন্ধনের কথার মাঝেই পঙ্খি আচমকা ঘুরে উঠে ইন্ধনকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরলো। পঙ্খির শরীরের কাঁপুনি বলে দিচ্ছে কাঁদছে সে। কান্নার শব্দ না এলেও ফুঁপানোর আওয়াজ আসছে। ইন্ধন বলে উঠলো।

--একটু ভুলের জন্য কি এখন এতবড়ো শাস্তি দিবে আমাকে?

কিছুক্ষণ পর পঙ্খি একটু শান্ত হয়ে এলে ইন্ধন পঙ্খির চোখের পানি মুছে দিয়ে বললো।

--তুমি কিন্তু রুলস ভঙ্গ করেছ। কান্না যে তোমার জন্য মানা মনে নেই? এখন প্যানালটি দিতে হবে কিন্তু। আমিও একটা ভুল করেছি, তুমিও একটা ভুল করলা। তো ভুলে ভুলে শোধবোধ হয়ে গেল এখন। তাই এখন কান্না বন্ধ। আর একটা মতিও যেন নিচে না পড়ে। এমনিতেও অনেক গুলো মতি অপচয় করে দিয়েছ তুমি। আর আমার জিনিসের এমন অপচয় আমি মোটেও মেনে নেবোনা।

পঙ্খি মাথা নিচু করে এখনো নাক টানছে। ইন্ধন এবার বাঁকা হেঁসে বললো।

--বুঝতে পেরেছি তুমি চুমু নিয়েই মানবে তাইতো? তো এটা বললেই তো হয়। এরজন্য এতো কান্নাকাটি করার কি আছে? আসো যতগুলো ইচ্ছে নিয়ে নাও।

কথাটা বলে ইন্ধন পঙ্খির অধরপানে এগুতে লাগলেই পঙ্খি চোখ বড়ো বড়ো করে বলে উঠলো।

--এই না না, আমি মেনে গেছি তো। এই দেখেন আমি হাসছি হি হি.. এখন আমি যাই আমার কাজ আছে।

--আরে বললেই হলো নাকি, চুমু তো তোমাকে নিতেই হবে।

পঙ্খি আর উপায় না দেখে ইন্ধন কে ছাড়িয়ে দিলো এক দৌড়। ইন্ধন পেছন থেকে হাসতে লাগলো। বউটা ওর এত্তো কিউট কেন।

__

ছায়া ওর মায়ের রাজহাঁস গুলোকে খাবার দিচ্ছিল। তখনই পাশের বাড়ির হাফিজা এলো ওখানে। ছায়া ওকে দেখে হাসিমুখে বললো।

--আরে হাফিজা, কেমন আছিস তুই? বিয়ার পরে একেবারে ভুলেই গেছিস আমাদের। তা কবে আসলি?

--এইতো কালই আসলাম।

--দুলাভাই এসেছে?

হাফিজা লাজুক ভঙ্গিতে বললো।

--আইছিলো। আজ চইলা গেছে। এইজন্যই তো আসতে পারলাম তোর সাথে দেখা করতে।

--কেন? দুলাভাই কি তোরে কোথাও যেতে দেয়না?

--আরে না তা কেন হইবো? আসলে নতুন নতুন বিয়া হইছে তো। বুঝবারই তো পারস।

ছায়া ভ্রু কুঁচকে বোকার মতো বললো।

--কি বুঝবো? নতুন বিয়ে হলে কি বাইরে যাওয়া মানা? নাকি বাইরে গেলে নতুন বিয়ে পুরাণ হয়ে যায়?

--আরে ছেড়ি তুই এতো বলদ কেন? বুঝছ না কেন কি কইবার চাই? আসলে উনি আমাকে ছাড়তেই চায়না। সবসময় ধরে রাখে।

--কেন? তোর জামাইর কি হাত পা লুলা নাকি যে,সবসময় তোরে ধরে থাকতে হয়?

হাফিজা এবার মহা বিরক্ত হয়ে বললো।

--ধুরর, তুই আসলেই একটা বলদি। তোর সাথে কথা কওয়াই বেকার। যাই আমি গিয়া একটু চাচির সাথে দেখা করে আসি।

কথাটা বলেই হাফিজা বাড়ির ভেতর চলে গেল।বেচারি ছায়া বুঝতে পারলো না সে কি এমন বললো? তখনই পেছন থেকে পুরুষ কন্ঠে কেউ বলে উঠলো।

--ঠিকই তো বলেছে হাফিজা। তুই একটা ইন্টারন্যাশনাল বলদি। আচ্ছা একটা কথা বলতো, তুই কি জন্ম থেকেই বলদি? নাকি কোন স্পেশাল কোর্স করেছিস?

ছায় পেছনে ঘুরে দেখলো এটা শাকিল। সে তেতে উঠে বললো।

--এই এই খবরদার! বলদ বলবেননা আমাকে।

শাকিল এগিয়ে এসে বললো।

--হ্যাঁ ঠিকই বলেছিস তোকে বলদ বলাটা বলদেরও অপমান। তারা তাও কাজের আছে। তুই তো তাদের চেয়েও অধম। নাজানি বিয়ের পর আমার কপালে কি আছে?

--আরে আজব,এখানে আপনার বিয়ের কথা কোথাথেকে আসলো? আপনার বিয়ের পর কি হবে সেটা জেনে আমি কি করবো? সেটা গিয়ে আপনার বউকে জিজ্ঞেস করুন।

শাকিল দাঁত কিড়মিড় করে বললো।

--এটা বুঝতে পারলে তো কথাই ছিলো। দুঃখ টা তো এখানেই। শালা যার জন্য আমি অনাহারে আছি, তাঁর কিনা এখনো টিউবলাইটই জ্বললো না। কবে সংসারের সুখ পাবো উপরওয়ালাই জানে।

--ও আচ্ছা তো এই কারণ? আগে বলবেন না? আগে বলতেই আমি সব ঠিক করে দিতাম।

শাকিল উৎসুক কন্ঠে বললো।

--তারমানে তুই বুঝতে পেরেছিস?

--হ্যাঁ, অনেক ভালো করে বুঝতে পেরেছি।

--তাহলে তুই রাজি আছিস?

--হ্যাঁ হ্যাঁ আমি রাজি। আমি কালই গিয়ে আপনার মাকে বলবো, চাচি আপনার ছেলে বিয়ে করতে চায়। আর আমাকে সেই কথা বলতে পাঠিয়েছে। আপনারা জলদি তারজন্য মেয়ে দেখা শুরু করুন। কি খুশিতো?

শাকিলের মুখটা ফাটা বেলুনের মতো চুপসে গেল। সে চোয়াল চিবিয়ে বললো।

--তোকে না,, মনটায় চায় একেবারে এনকাউন্টারে উড়াই দি তোরে। তুই একটা দুনিয়ার বোঝা ছাড়া আর কিছুই না। বলদির নানি বলদি।

কথাটা বলে শাকিল বাসার ভেতর চলে গেল। বেচারি ছায়া আবারও ভাবনার সাগরে ডুবে মাছ হাতানোর মতো হাতড়িয়ে খুঁজতে লাগলো সে কও এমন বোকামি করলো। অতঃপর আবারও সব ফাঁকাই পেল।

শাকিল বাড়ির ভেতর এসে সবাইকে ডাক দিলো। সবাই এক এক করে বসার এসে জমা হলো। ইন্ধন বলে উঠলো।

--কি ব্যাপার শাকিল? কেসের কোন আপডেট পেলি?

শাকিল নললো,

--হ্যাঁ সে কারণেই এখানে আসা। আমাদের হাতে একটা ক্লু লেগেছে। আপনাদের সবার ফিঙ্গার প্রিন্টের সাথে একটা ফিঙ্গার প্রিন্ট ম্যাচ হয়েছে, যা নাঈমের জামার ওপর ছিলো। হতে পারে সেই আসল খু,নি।

সামছুল মজুমদার বলে উঠলো।

--কে সে?

--সে আর কেউ না, "জুবায়েদ মজুমদার"।

শাকিলের কথায় সবাই হতবাক হয়ে গেল।

চলবে.....

গল্পের লেটেস্ট আপডেট পেতে আর গল্প নিয়ে যেকোনো আলোচনা আড্ডা দিতে আমার গ্রুপে জয়েন হওয়ার আমন্ত্রণ রইল। নিচে গ্রুপ লিংক দেওয়া হলো। জয়েন হতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন। 👇

গ্রুপ

https://facebook.com/groups/170529085281953/

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন