ফন্ট সাইজ:
থিম:
মৃগতৃষ্ণা

২৭তম পর্ব

লেখক: মেহরুমা নূর

#মৃগতৃষ্ণা---৩০ (কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ 🚫)

#লেখিকা-মেহরুমা নূর

★পঙ্খির চিৎকার শুনে ধড়ফড়িয়ে উঠলো ইন্ধন। পঙ্খির দিকে তাকিয়ে দেখলো সে চোখ বন্ধ করে ভয়ে কাঁপছে। ইন্ধন ঘাবড়ে গিয়ে পঙ্খির মুখটা ধরে বললো।

--হেই পঙ্খি, কি হয়েছে? চোখ খোল। কি হয়েছে সোনা?

পঙ্খি এবার চোখ খুলে তাকালো। কিন্তু সেই চা,কু বা চা,কুওয়ালা ব্যাক্তি কাউকেই দেখতে পেল না সে। আতঙ্কিত হয়ে এদিক ওদিক তাকাতে লাগলো সে। ইন্ধন আবারও বলে উঠলো।

--কথা বলো পঙ্খি কি হয়েছে তোমার? এমন করছ কেন?

পঙ্খি ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো।

--এ এখানে কেউ চা চাচাকু ধরে ছিলো। তোমাকে মারতে এসেছিল কেউ।

ইন্ধন কপাল কুঁচকে এদিক ওদিক তাকিয়ে বললো।

--কি বলছ? এখানে তো কেউই নেই। তুমি বোধহয় কোন খারাপ স্বপ্ন দেখেছ।

--না না সত্যিই ছিলো এখানে কেউ। কেউ মারতে এসেছিল আপনাকে।আমার কথা বিশ্বাস করুন।

--আচ্ছা আচ্ছা ওঁকে শান্ত হও আগে। টেক এ ডিপ ব্রিথ।

পঙ্খিকে বুকের মাঝে জড়িয়ে নিলো ইন্ধন। মাথায় হাত বুলিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করলো তাঁকে। কলিজা পুড়ছে ইন্ধনের। পঙ্খির এমন করুণ অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে কেউ তাঁর হৃদপিণ্ডে সত্যি সত্যিই শ'খানেক ছু,রি চালাচ্ছে।সবতো ভালোই ছিলো। হঠাৎ কি হয়ে গেল আমার প্রাণটার? এমন অস্বাভাবিক আচরণ কেন করছে সে? পঙ্খির এই হাল যে ইন্ধনের সহ্যশক্তির বাইরে। সে কিভাবে স্বাভাবিক করবে পঙ্খিকে?

কিছুক্ষণ পর পঙ্খি একটু স্বাভাবিক হয়ে এলে ইন্ধন এক গ্লাস পানি এনে পঙ্খিকে খাইয়ে দিলো। তারপর মায়াবী কন্ঠে বললো।

--পঙ্খি তুমি সারাদিন মাথার ভেতর শুধু এইসব অযথা চিন্তায় ডুবে ছিলে তাই হয়তো স্বপ্নেও এসব দেখেছ। তাছাড়া আর কিছুই না। প্লিজ জান এসব চিন্তা ছেড়ে দাওনা। আমার সেই আগের লক্ষী হাসিখুশি বউটা হয়ে যাওনা। তোমাকে এভাবে দেখে আমি এমনিতেই মরে যাবো। তোমার এই অবস্থা আমার জান কেঁড়ে নিবে। এমন করোনা প্লিজ। তোমাকে এইভাবে দেখে ভয় হচ্ছে আমার। তোমাকে হারানোর ভয় হচ্ছে আমার। প্লিজ জান ছাড়োনা এসব অযথা চিন্তা। আমার আগের লক্ষীটি হয়ে যাওনা।

পঙ্খির কপালে চুমু দিয়ে বুকের মাঝে আগলে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে তাঁকে ঘুমা পাড়ানোর চেষ্টা করলো ইন্ধন। কিন্তু ইন্ধনের কোন যুক্তিই পঙ্খির গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস সে কোন স্বপ্ন দেখেনি। কেউ ছিলো এখানে। হয়তো আমার চোখ না খুললে এতক্ষণে সে তার কাজে সফলও হয়ে যেত। ভাবতেই কলিজা চিপে ধরছে। যে করেই হোক ওই শত্রুকে খুঁজে বের করতে হবেই। তবেই আমি আমার ইন্ধন কে রক্ষা করতে পারবো।

__

সারারাত আর দুচোখের পাতা এক করতে পারেনি পঙ্খি। ভোরবেলার দিকে গিয়ে একটু ঘুম নেমেছে চোখে। যার ফলস্বরূপ আজ বেলা করে ঘুম ভেঙেছে পঙ্খির। ঘুম থেকে চোখ মেলে দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো আট টা বেজে গেছে। চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেল পঙ্খির। এতবেলা হয়ে গেছে? তাও ভালো ওর পিরিয়ডের সময় চলছে নাহলে তো নামাজ কাযা হয়ে যেত আজ। তড়িঘড়ি করে উঠতে নিলেই ইন্ধনের বাহুবন্ধনে বাঁধা পড়লো। ইন্ধন কে এখনো ঘুমাতে দেখে একটু অবাক হলো পঙ্খি। রোজতো ইন্ধন এই সময়ে উঠে যায়। সকাল সকাল তাঁর কতো কাজ থাকে। কিন্তু আজ এখনো ঘুমোচ্ছে? হয়তো কালরাতের কারণে ইন্ধনেরও দেরিতে ঘুম এসেছে। তাই হয়তো এখনও জাগনা পায়নি। কাল রাতের কথা মনে পড়তেই মনটা আবারও ভীত হয়ে গেল।ভারী মনে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ইন্ধনকে আলতো করে ঠেলে ডাক দিলো তাঁকে। ইন্ধন একটু নড়েচড়ে হাতের বাঁধন আরও শক্ত করে ঘুম জড়ানো গলায় বললো।

--উমমম,, কি হয়েছে? ঘুমুতে দাওনা।

--ঘুমাবেন মানে? আজ আপনার কাজ নেই কোনো? যাবেন না কোথাও?

--উহুম। আজ আমি কোথাও যাবোনা।

--মানে?

ইন্ধন এবার চোখ মেলে তাকিয়ে পঙ্খির মুখের ওপর ঝুঁকে মায়া ভরা কন্ঠে বললো।

--মানে আজ আমি আমার রাজরানীর সাথে থাকবো। আজকের দিনটা আমার বউটার নামে।ব্যাস্ততার কারণে বউটাকে একটু সময় দিতে পারি না আমি । তাই সব সুদে আসলে পুষিয়ে দেব আজ। আজকের পুরো সময়টা আজ তোমার সাথেই কাটাবো আমি।নো কাজ, অনলি রোমাঞ্চ।

বলতে বলতেই ইন্ধন তাঁর কাজ শুরুও করে দিলো। পঙ্খির গলায় মুখ ডুবিয়ে ছোট ছোট শিহরণে ভরিয়ে দিতে লাগলো। পঙ্খি কেঁপে উঠে বললো।

--কি কিকরছেন? ছাড়ুন। সকাল হয়ে গেছে। উঠতে হবে আমাকে।

--হবেনা উঠতে। আজ সারাদিন এই রুমেই বন্দী থাকবো আমরা। ♬ হাম তুম এক কামরে মে বান্ধ হো, অর চাবি খো যায়ে।

পঙ্খি বুঝলো ইন্ধন এভাবে ছাড়বেনা।দুষ্টু ইন্ধনকে ছাড়াতে নিজেও কিছু দুষ্টু পন্থা অবলম্বন করলো। ইন্ধনের কোমড়ে দুই আঙুল দিয়ে শুরশুরি দিলো। সাথে সাথেই ইন্ধন হেঁসে উঠে মোচড়াতে লাগলো। সেই সুযোগে পঙ্খি ফট করে উঠে গেল। ইন্ধন ব্যাপার টা বুঝতে পেরে পঙ্খির দিকে তাকাতেই পঙ্খি জিব বের করে ভেঙালো ইন্ধনকে। ইন্ধনও ছাড়ার পাত্র নয়। সেও প্রতিশোধ নিতে উদ্যোত হলো। উঠে পঙ্খির দিকে যেতে যেতে বললো।

--তবেড়ে,, দাঁড়াও দেখাচ্ছি মজা।

ইন্ধনকে উঠতে দেখে পঙ্খি বাঁচার জন্য দৌড়ালো। ইন্ধনও দৌড়ালো তাঁর পিছে। দুজন হাসতে হাসতে ঘরের মাঝেই গোল গোল ঘুরে দৌড়াতে লাগলো। সোফার কাছে এসে সোফার ছোট বালিশগুলো উঠিয়ে ইন্ধনের দিকে ছুঁড়ে মারলো পঙ্খি। ইন্ধন সেগুলো এক এক করে ক্যাচ করে নিলো। তারপর আবার ছুটতে লাগলো পঙ্খির পেছনে। পঙ্খি সামনে সামনে আর ইন্ধন পেছনে। একসময় ধরে ফেললো পঙ্খিকে।পেছন থেকে পঙ্খির কোমড় পেঁচিয়ে ধরে তাকে তুলে নিয়ে বিছানায় ফেললো। তারপর পঙ্খিকে ইচ্ছেমতো শুরশুরি দিতে লাগলো। পঙ্খি হাসতে হাসতে ছটফট করতে লাগলো। হাসতে হাসতে একসময় দমই প্রায় বন্ধ হয়ে আসতে লাগলো। ইন্ধন তখন বন্ধ করলো শুরশুরি দেওয়া। হাপাতে লাগলো পঙ্খি । ইন্ধন পঙ্খির কপালে চুমু এঁকে দিলো। এটাই তো ও চাচ্ছিল। পঙ্খিকে হাসিখুশি দেখতে। পঙ্খির এই হাসি মুখটার জন্য সব করতে রাজি ইন্ধন।

ইন্ধনের কথা অনুযায়ী সে আজ সারাদিনই পঙ্খির সাথেই থেকেছে। ইন্ধনের সাথে দুষ্টু মিষ্টি মুহূর্তের মাঝে দিনটা কখন পার হয়ে গেছে বোঝাই যায়নি। হাসি আনন্দে পঙ্খির মনটাও প্রফুল্ল হয়ে গেছে। ইন্ধনের শত্রুর কথাটাও আর মনে আসেনি। এমনকি কাল রাতের ঘটনার কথাও প্রায় ভুলে গেছে সে। যথারীতি রাতের খাবার শেষে নিজেদের রুমে আসে পঙ্খি আর ইন্ধন। রুমে এসে কিছু মেইল চেক করার জন্য ল্যাপটপ নিয়ে বের করে ইন্ধন। পঙ্খির মন ভালো করতে আজ আর কোন কাজে যায়নি ইন্ধন। এমনকি কারোর ফোনও ধরেনি। তাই এখন একটু মেইল চেক করবে, দরকারি কোন মেইল এসেছে কিনা দেখবে । কিন্তু ল্যাপটপ খুলতেই দেখলো ল্যাপটপে চার্জ নেই। ল্যাপটপের চার্জার খুজে চার্জিংয়ে দেওয়ার জন্য প্লাগ লাগাতে গেল সে। ওইমুহূর্তে পঙ্খি কফির মগ হাতে রুমে ঢুকে। ইন্ধন কে কফির মগটা দেওয়ার জন্য এগিয়ে যেতেই দেখলো ইন্ধন যে লাইনে চার্জার লাগাতে যাচ্ছে সেই লাইনের আরেক মাথায় কারেন্টের তার লিক হচ্ছে আছে। আর সেখান থেকে ছিরছির করে হালকা কারেন্ট ফায়ার হচ্ছে। ইন্ধন প্লাগ লাগানোর সাথে সাথেই শক লাগবে তার। এই দৃশ্য দেখেই পঙ্খির হাত থেকে কফির মগ ঠাস করে পড়ে গেল। সে আৎকে উঠে চিল্লিয়ে বললো।

--ইন্ধনননননন........

ইন্ধনের হাত প্রায় প্লাগের কাছাকাছি। তখনই পঙ্খির চিল্লানিতে ঘাবড়ে গিয়ে পেছনে ফিরে তাকালো সে। পঙ্খি দৌড়ে এলো ইন্ধনের কাছে। হাতের চার্জার টা ছিনিয়ে নিয়ে ছুঁড়ে ফেললো ফ্লোরে। পাগলের মতো ইন্ধনের মুখ মাথা হাত চেক করতে করতে আতঙ্কিত কন্ঠে বললো।

--আ আপনি ঠিক আছেন? কিছু হয়নি তো আপনার? লাগেনি তো কোথাও?

পঙ্খির এমন অস্বাভাবিক আচরণ দেখে ইন্ধন চিন্তিত সুরে বললো।

--কি হয়েছে পঙ্খি? শান্ত হও। আর আমার কি হবে? আমিতো একদম ঠিক আছি?

পঙ্খি কারেন্টের তার দেখিয়ে ভয়ার্ত কন্ঠে বললো।

--ও ওওই দেখুন। আপনি প্লাগে চার্জার লাগালেই শক লাগতো আপনার।

ইন্ধন দেখে বললো।

--ওকে ওকে ঠিক আছে। কিন্তু তুমি ভয় পেয়না। দেখ আমিতো ঠিক আছি। তুমি আমাকে ঠিক সময়ে বাঁচিয়ে দিয়েছ। আর ভয় পেয়না ওকে। এখন একটু শান্ত হও।

পঙ্খিকে বুকের জড়িয়ে নিলো ইন্ধন। কিন্তু পঙ্খির মাথায় অন্য চিন্তা ঘুরছে। ওর জানামতে এই তারটা কিছুক্ষণ আগেও ঠিক ছিলো। তাহলে হঠাৎ এটা লিক হলো কেমন করে? তারমানে আমরা যখন খেতে গিয়েছিলাম ওইসময় কেউ ঘরে এসে এই কাজ করেছে। কিন্তু ইন্ধন কে এই কথা বললে ও হয়তো আবারও আমার ভুল ধারণা বলবে। তাই আর ইন্ধনকে কিছু বললোনা পঙ্খি। আগে শত্রুকে খুঁজে বের করতে হবে। তারপরই ইন্ধন ওর কথা বিশ্বাস করবে।

__

সকাল থেকেই পঙ্খি শত্রুকে খুঁজে বের করার প্রচেষ্টায় লেগে পড়লো। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে সে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছে। রান্না করতে এসে চুমকিকে দেখলো পঙ্খি।কিছু একটা ভেবে পঙ্খি চুমকির এমনি নানানরকম কথা বলতে লাগলো। কথার ছলে কৌশলে পঙ্খি জিজ্ঞেস করলো।

--আচ্ছা চুমকি কাল রাতের খাওয়ার সবাই কি ছিলো? নাকি কেউ অনুপস্থিত ছিলো? না মানে কাল সবাই খেয়েছে তো?

চুমকি স্বাভাবিক ভাবেই বললো।

--হ ব্যাহি তো খাইলো ।

পঙ্খি হতাশ হয়ে চলে আসতে নিলে চুমকি আবার বলে উঠলো।

-- ও মনে পইরছে, চেয়ারম্যান চাচা খাইছিলো না কাইল। কইলো হ্যার প্যাটে নাহি গ্যাস্টিক হয়ছে। তাই খাইবো না। আর বড়ো চাচীতো হ্যার ঘর থেহে বাড়ায়ই না। তারে তো যাইয়া খাওন দিয়া আসা লাগে। ছোট চাচী গিয়া হ্যারে খাওয়ায় দিয়া আসে। ব্যাস তাছাড়া আর সবাই একসাথেই খাইছিলো।

চুমকির কথায় পঙ্খির প্রথম সন্দেহ গেল সামছুল মজুমদারের ওপর। তবে কি উনিই মারতে চায় ইন্ধন কে। কিন্তু কেন? না না আগেই কোন সিদ্ধান্তে যাওয়া উচিত নয়। আগে সম্পূর্ণ প্রমাণ পেতে হবে। তারপরই কোন ফয়সালায় যাওয়া উচিত হবে। সারাদিন এভাবে আরও কিছু সূত্র খুঁজলো পঙ্খি। যার দ্বারা আসল অপরাধী পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। কিন্তু তেমন কোনো পোক্ত প্রমাণ হাতে এলো না পঙ্খির। সন্দেহের বেড়াজাল স্পষ্ট হলোনা।

অভ্যাসগত ভাবে বিকালে ছাঁদে এসেছিল পঙ্খি। কিছুক্ষণ প্রকৃতির শীতল পবন অনুভব করে আবারও নিচে নেমে এলো সে। করিডর দিয়ে যেতে নিলে জাহানারার রুমের সামনে এসে থেমে গেল পঙ্খি। জাহানারার একটু খোঁজখবর নেওয়ার জন্য তাঁর রুমে প্রবেশ করলো সে। রুমে ঢুকে দেখলো জাহানারা খাটের কোনায় মাথা এলিয়ে দিয়ে মলিন হয়ে আসে। জাহানারাকে এভাবে দেখে মনটা কেমন খারাপ হয়ে গেল পঙ্খির। শোকে শোকে এই মানুষটার কি হাল হয়েছে। বেঁচে থেকেও যেন মরার মতো হয়ে গেছে সে। চুলগুলো কেমন জটলা পাকিয়ে গেছে। মনে হয় কতদিন চিরুনি দেয়নি চুলে। পঙ্খি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ড্রেসিং টেবিলের ওপর থেকে নারিকেল তেলের বোতল আর চিরুনি নিয়ে এলো। তারপর জাহানারার কাছে এসে বললো।

--নিজের কি অবস্থা করেছেন? আসেন আপনার চুলগুলো একটু গুছিয়ে দেই আমি।

জাহানারা মাথা নেড়ে না করলো। কিন্তু পঙ্খি মানলোনা। জাহানারার হাত ধরে তাকে সোজা করে বসিয়ে দিলো। তারপর মাথায় তেল দিয়ে দিতে লাগলো। তেল দিতে দিতে বললো।

--আর কতদিন এভাবে থাকবেন আম্মা? যে যাবার সেতো চলেই গেছে। তাই বলে কি আপনি নিজেও বেঁচে থাকা ভুলে যাবেন? আপনাকে এভাবে দেখে আমাদের সবারই খারাপ লাগে। একবার ছায়ার কথা ভাবুন। মেয়েটির মা থাকতেও সে কেমন অনাথের মতো হয়ে গেছে। তারজন্য হলেও নিজেকে একটু স্বাভাবিক করার চেষ্টা করুন।

জাহানারা ধরা গলায় বলে উঠলো।

--আমার কেন মওত হয়না? আমি কেন বেঁচে আছি? মা নামের কলঙ্ক আমি। মা হওয়ার জোগ্যাতা নেই আমার। এক ছেলেকে বাঁচাতে পারলাম না। সব জানা সত্বেও কিছু করতে পারলাম না। আর আরেক ছেলেকে অমানুষ হতে ঠেকাতে পারলাম না। যার ফল সে এভাবে পেল। তাহলে মরাতো আমার উচিত। আমি কেন বেঁচে আছি এখনো?

কথাগুলো বলে জাহানারা হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো। পঙ্খি তার মাথায় হাত বুলিয়ে অনেক কষ্টে তাঁকে অনেকক্ষণ পর একটু শান্ত করলো। চুলগুলো আঁচড়িয়ে দিয়ে তাঁকে বিছানায় শুইয়ে দিলো। তারপর বেড়িয়ে আসতে নিলেই হঠাৎ পঙ্খির নজর গেল টেবিলের ওপর রাখা কারেন্টের কাজ করা টেস্টারের দিকে। থমকে গেল পঙ্খি। টেস্টার এখানে কি করছে? তবে কি এইটা দিয়েই কাল কারেন্টের তারের সাথে কারসাজি করেছিল? কিন্তু কে? সামছুল মজুমদার? ঘরটা যেহেতু তার তাহলে তো অন্য কারোর হওয়ার কথা না। তবে কি আমার সন্দেহই ঠিক? উনিই এসবের পেছনে? না না আমাকে আরও পোক্ত প্রমাণের দরকার। তার আগেই কোন সিদ্ধান্তে যেতে পারছিনা। টেস্টার তো এমনিও থাকতে পারে। এটা দিয়ে পরিস্কার কিছু বোঝা যাচ্ছে না। আমাকে শক্ত পোক্ত একটা প্রমাণ বের করতে হবে।

__

রাতে খাবার পর রোজকার অভ্যাস অনুযায়ী পঙ্খি ইন্ধনের জন্য কফি বানাতে এলো। মাথায় ওর এখনো শুধু ওইসব কথায় ঘুরছে। কিভাবে সে ওই শত্রুকে খুঁজে বের করবে সেটাই ভাবছে। হঠাৎ পঙ্খির মাথায় একটা বুদ্ধি এলো। সেদিন কেউ ওর কফিতে মিশিয়েছিলো। তারমানে অপরাধী সবসময় ওদের কার্যকলাপের ওপর নজর রাখে। তাহলে নিশ্চয় এখনো দেখছে আমি কি করছি। সে সুযোগ পেলে আজও একই কাজ করতে চাইবে অবশ্যই। আর তখনই জানা যাবে কে সে। পঙ্খি মনে মনে সেই পরিকল্পনা করলো। সে কফির পাতিল চুলোয় রেখেই ধীরে ধীরে বেড়িয়ে এলো। যেতে যেতে একটু উচ্চস্বরে বললো।

--ওহ হো আমিতো ইন্ধন কে কলেজের কাগজে সই করানোর কথাই ভুলে গেছি। যাই আগে সই করিয়ে আসি। তারপর নাহয় কফি নিয়ে যাবো।

পঙ্খি সেই অজানা ব্যাক্তির উদ্দেশ্যে কথাগুলো শুনিয়ে শুনিয়ে বললো। তারপর নিজের রুমের দিকে গিয়ে আবার এক কোণায় লুকিয়ে রইলো। লুকিয়ে থেকে রান্নাঘরের দিকে নজর রাখলো। দেখলো কে যায় ওখানে। যেহেতু এখন সবাই খাওয়া দাওয়া শেষ করে রুমে চলে গিয়েছে তাই এখন আর অন্য কারোর যাওয়ার দরকার পড়বেনা। শুধুমাত্র সেই ব্যাক্তি ছাড়া। তাই এক কোণায় লুকিয়ে সে অপেক্ষা লাগলো। এবং একটু পরে কেউ ঢুকলো রান্নাঘরে। পঙ্খি ধীরে ধীরে পা টিপে টিপে রান্নাঘরের দরজার বাইরে এসে দাঁড়াল। তারপর উঁকি দিলো ভেতরে। আর যা দেখলো তাতে ওর পায়ের নিচের মাটি সরে গেল। নিজের চোখকে বিশ্বাস হচ্ছে না ওর। পঙ্খি দেখলো সেই কাঙ্ক্ষিত অপরাধীকে। যে আজও কফিতে বিষ মেশাচ্ছে। ইনিই তাহলে সেই ব্যাক্তি? এটা কিভাবে সম্ভব? পঙ্খি ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল রান্নাঘরের ভেতর। পেছন থেকে বলে উঠলো।

--আপনি?????

সেই ব্যাক্তি চমকে পেছনে ফিরে তাকালো। পঙ্খিকে দেখে পিলে চমকে গেল তার। সে ভাবেনি এভাবে ধরা পড়ে যেতে হবে।

চলবে....

গল্পের লেটেস্ট আপডেট পেতে আর গল্প নিয়ে যেকোনো আলোচনা আড্ডা দিতে আমার গ্রুপে জয়েন হওয়ার আমন্ত্রণ রইল। নিচে গ্রুপ লিংক দেওয়া হলো। জয়েন হতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন। 👇

গ্রুপ

https://facebook.com/groups/170529085281953/

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন